Sunday, 27 September 2026

পুরুষ শিক্ষক কর্তৃক মেয়েদের (অনলাইনে কিংবা অফলাইনে) পাঠদান করার বিধান

 



- সৌদি আরবের দাওয়াহ, গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

প্রশ্ন: সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ফতওয়ায় বলা হয়েছে: “কোনো পুরুষের জন্য মেয়েদেরকে সরাসরি (সামনাসামনি) পাঠদান করা বৈধ নয়। কারণ এতে রয়েছে বিশাল বিপদ ও ভয়াবহ পরিণতি।” [ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ, ১২/১৮২]

এই লেখাটা বা এমন কিছু লেখা কিছু বোন অনলাইনে প্রচার করছে। এই কথার প্রকৃত অর্থ কী?

মেয়েরা কি কোনো পুরুষ আলেমের কাছে ইলম নিতে পারবে যদি পর্দার ব্যবস্থা থাকে বা ফেতনার আশঙ্কা না করে? দয়া করে এর সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে সবাইকে উপকৃত করবেন।

উত্তর: 

সৌদি আরবের সৌদি আরবের দাওয়াহ, গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ)-এর উপরোক্ত ফতওয়াটির মর্মার্থ পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝা যায় তাদের বিস্তারিত ফতওয়ায়। 

তাই এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ ফতওয়াটি প্রদান করা হলো: 

ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ-তে এসেছে:

স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর একে অপরকে দেখা, স্পর্শ, গোসল, কাফন ইত্যাদির বিধান: দূর হোক সমাজের বিভ্রান্তি



প্রশ্ন: মৃত্যুর পর কি স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যান? মৃত্যুর পর একে অপরকে দেখা, স্পর্শ করা, গোসল দেওয়া, কাফন পরানো ইত্যাদির বিধান কী?

উত্তর:

আমাদের সমাজে এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা যে, স্বামী বা স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যান। এর ফলে অনেককেই দেখা যায় যে, মৃত স্বামীকে গোসল করানো বা কবরে নামানোর মতো চূড়ান্ত কাজে স্বামী বা স্ত্রীকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। 

মূলত এটি আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরি প্রমুখ সহ রায় পন্থীদের অভিমত। তাদের যুক্তি হল, স্বামী স্ত্রীকে এ কারণে গোসল দিতে পারবে না যে, মৃত্যুর মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ তারা এখন আর স্বামী-স্ত্রী নয়। কারণ স্বামী এখন চাইলে তার মৃত স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করতে পারবে এবং আরও চার জন নারীকে বিয়ে করার অধিকার লাভ করবে।

কিন্তু যুক্তি চেয়ে দলিল অগ্রগামী। বহু সংখ্যক দলিলের আলোকে প্রমাণিত হয় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পবিত্র সম্পর্ক মৃত্যুর কারণে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয় না বরং মৃত্যুর পরও স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে দেখা, স্পর্শ করা, গোসল করানোর বা কাফন পরানো ইত্যাদির বৈধতা বিদ্যমান থাকে।

 বরং স্বামী বা স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একে অপরকে গোসল দেওয়ার জন্য অন্য সকলের চেয়ে বেশি হকদার। কারণ মৃত্যুর পরও স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য অন্যের চেয়ে বেশি আপন থাকেন। তাই তাঁদের মধ্যে পর্দার জটিলতা থাকে না এবং গভীর ভালোবাসার কারণে তাঁরা মৃত সঙ্গীর যত্নও সবচেয়ে ভালোভাবে নিতে পারেন।

তবে এই বৈধতা ইদ্দত (অপেক্ষা কাল)-এর সাথে শর্তযুক্ত।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...