·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। একজন ব্যক্তির আহলুস সুন্নাহ থেকে বের হয়ে যাওয়া মানে ওই ব্যক্তির বিদ‘আতী হিসেবে পরিগণিত হওয়া। আর বিদ‘আতী হিসেবে পরিগণিত হওয়া মানে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে খারিজ হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৭২ দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। ❝প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ’র কোনো একটি মূলনীতির বিরোধিতা করে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নিকট সে আহলুস সুন্নাহ থেকে বের হয়ে যায় তথা “বিদ‘আতী” হিসেবে পরিগণিত হয়।❞
·
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মহান ইমাম, শাইখুল ইসলাম আবূ ‘আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল আশ-শাইবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৪১ হি.] বলেছেন,
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মহান ইমাম, শাইখুল ইসলাম আবূ ‘আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল আশ-শাইবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৪১ হি.] বলেছেন,
ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﻼﺯﻣﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﻣﻨﻬﺎ ﺧﺼﻠﺔ –ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﻳﺆﻣﻦ ﺑﻬﺎ– ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻬﺎ.
“আবশ্যকীয় সুন্নাহ’র (মানহাজের) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করবে, তা গ্রহণ করবে না এবং তার প্রতি ঈমানও আনবে না, তবে সে সুন্নাহপন্থিদের তথা আহলুস সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়।” [ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ), উসূলুস সুন্নাহ; পৃষ্ঠা: ৩; ছাপা ও তারিখ বিহীন; ইমাম আল লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ৩১৭; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৪৮; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সন-তারিখ বিহীন]
ইমাম বুখারীর উস্তায, আমীরুল মু’মিনীনা ফিল হাদীস, আশ-শাইখুল ইমাম, আল-হুজ্জাহ আবুল হাসান ‘আলী বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন জা‘ফার বিন মাদীনী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৩৪ হি.]-ও এই কথা বলেছেন। [ইমাম আল লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ৩১৮; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৫৬; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সন-তারিখ বিহীন]
·
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ইমাম রাবী‘ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] ইমাম আহমাদের উক্তিটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন,
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ইমাম রাবী‘ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] ইমাম আহমাদের উক্তিটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন,
ﺍﻧﺘﺒﻬﻮﺍ ﻟﻬﺬﺍ؛ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻔﻘﺮﺓ ﻣﻬﻤﺔ ﺟﺪﺍً، ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﺳﻴﺼﻒ ﻟﻨﺎ ﺃﺻﻮﻻً ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﺷﻴﺌﺎً ﻣﻨﻬﺎ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ؛ ﻳﻌﻨﻲ ﻳﺨﺮﺝ ﻋﻦ ﺩﺍﺋﺮﺓ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺇﻟﻰ ﺩﺍﺋﺮﺓ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﺗﻨﺒﻬﻮﺍ ﻟﻬﺬﺍ.
(ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﻼﺯﻣﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﻣﻨﻬﺎ ﺧﺼﻠﺔ) ﻓﺈﺫﺍ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻛﻠﻬﺎ ﺃﻭ ﻣﻌﻈﻤﻬﺎ ﻓﻬﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﺒﻼﺀ، (ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ) ﻳﻌﻨﻲ ﺃﺑﺎﻫﺎ، (ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﻳﺆﻣﻦ ﺑﻬﺎ - ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻬﺎ) ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻭ ﺍﻟﻀﻼﻝ ﻭ ﺍﻟﻌﻴﺎﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ.
(ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﻼﺯﻣﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﻣﻨﻬﺎ ﺧﺼﻠﺔ) ﻓﺈﺫﺍ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻛﻠﻬﺎ ﺃﻭ ﻣﻌﻈﻤﻬﺎ ﻓﻬﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﺒﻼﺀ، (ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ) ﻳﻌﻨﻲ ﺃﺑﺎﻫﺎ، (ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﻳﺆﻣﻦ ﺑﻬﺎ - ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻬﺎ) ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻭ ﺍﻟﻀﻼﻝ ﻭ ﺍﻟﻌﻴﺎﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ.
“তোমরা এ ব্যাপারে সতর্ক হও! এই অনুচ্ছেদটি খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম আহমাদ আমাদের নিকটে কিছু উসূল (মূলনীতি) বর্ণনা করবেন। যে ব্যক্তি তা থেকে কোনো কিছু পরিত্যাগ করবে, সে আহলুস সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, সে সুন্নাহ’র গণ্ডি থেকে বের হয়ে বিদ‘আতের দিকে চলে যাবে। সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক হও।
আবশ্যকীয় সুন্নাহ’র (মানহাজের) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করবে (তার জন্যই এই কথা)। কিন্তু যে ব্যক্তি তার সকল বা অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করে, তবে সেটা তো (তার জন্য) এক দুর্যোগ।
((তা গ্রহণ করবে না)) অর্থাৎ, সে তা অস্বীকার করবে।