Showing posts with label সালাফি মানহাজ. Show all posts
Showing posts with label সালাফি মানহাজ. Show all posts

Friday, 16 August 2019

সালাফিয়্যাহ বা সালাফী মানহাজের পরিচয়


·
‘মানহাজ’ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো রাস্তা, সড়ক, সুস্পষ্ট পথ প্রভৃতি (المنهج هو السبيل والطريق الواضح)। [শাইখ মুহাম্মাদ বাযমূল (হাফিযাহুল্লাহ), আল-মানহাজুস সালাফী তা‘রীফুহু ওয়া সিমাতুহু ওয়া দা‘ওয়াতুহুল ইসলাহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪] আর ‘সালাফী’ শব্দটি এসেছে ‘সালাফ’ থেকে। আপনার অগ্রবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ‘সালাফ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, َفَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِيْن “এভাবে আমি তাদেরকে করলাম সালাফ (অতীতের মানুষ), আর পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত।” [সূরাহ যুখরুফ: ৫৬]
ইমাম বাগাউয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে বলেছেন, “পূর্বসূরিদের মধ্যে যাঁরা আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন, তাঁরাই ‘সালাফ’। আমরা তাঁদেরকে আগের মানুষ বানালাম বা অগ্রবর্তী করলাম, যাতে করে তাঁদের দেখে পরবর্তীরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।” [তাফসীরে বাগাউয়ী, খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ১২৮; গৃহীত: ‘আল্লামাহ ‘আব্দুল্লাহ বুখারী (হাফিযাহুল্লাহ), মা হিয়াস সালাফিয়্যাহ; পৃষ্ঠা: ১১; দারুল ইস্তিক্বামাহ, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৩ হি./২০১২ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
নাবী ﷺ তাঁর মৃত্যুর পূর্বে স্বীয় কন্যা ফাত্বিমাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) কে নিজের মৃত্যুক্ষণ এগিয়ে আসার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁকে এ কথা বলেছিলেন, ِفَإِنَّهُ نِعْمَ ﺍﻟﺴَّﻠَﻒُ أَنَا لَك “নিশ্চয় আমি তোমার উত্তম অগ্রগমনকারী (সালাফ)।” [সাহীহ বুখারী, হা/৬২৮৬]
ইমাম নাওয়াউয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এই কথার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, “এর অর্থ হলো, আমি তোমার অগ্রগমনকারী, কিছুকাল পরেই তুমি আমার কাছে পৌঁছবে।” [শারহু মুসলিম, খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ১৬; গৃহীত: ‘আল্লামাহ ‘আব্দুল্লাহ বুখারী (হাফিযাহুল্লাহ), মা হিয়াস সালাফিয়্যাহ; পৃষ্ঠা: ১৩; দারুল ইস্তিক্বামাহ, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৩ হি./২০১২ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
এ তো হলো ‘সালাফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ। কিন্তু ‘সালাফ’ কারা? সালাফদের পরিচয় দিতে গিয়ে সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন,
السلفية: نسبة إلى السلف، والسلف: هم صحابة رسول الله ﷺ وأئمة الهدى من أهل القرون الثلاثة الأولى –رضي الله عنهم– الذين شهد رسول الله ﷺ بالخير في قوله: خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم.
“সালাফদের দিকে নিসবত করে ‘সালাফিয়্যাহ’ বলা হয়। আর সালাফগণ হলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাহাবীগণ এবং প্রথম তিন যুগের সুপথপ্রাপ্ত ইমামগণ। যাঁদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ কল্যাণের সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, “আমার যুগের লোকেরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী।” (সাহীহ বুখারী, হা/২৬৫২)” [ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ, ফাতওয়া নং: ১৩৬১]
·
সালাফগণ যে মানহাজ অবলম্বন করেছেন এবং যে আদর্শ অনুসরণ করেছেন, তাই ‘সালাফী মানহাজ’ বা ‘সালাফিয়্যাহ’। এই মানহাজ স্বয়ং আল্লাহ প্রদত্ত মানহাজ। যে মানহাজের ব্যাপারে সুপথপ্রাপ্তদের ইমাম নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي.
“বানী ইসরাঈল সম্প্রদায় ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহ’র রাসূল, সে দল কোনটি?’ তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবীগণ যে আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত (তার উপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে তারা)।” [তিরমিযী, হা/২৬৪১; সনদ: হাসান]
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

সালাফী কারা?


·
সালাফীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন,
السلفيون: جمع سلفي نسبة إلى السلف، وقد تقدم معناه، وهم الذين ساروا على منهاج السلف من اتباع الكتاب والسنة والدعوة إليهما والعمل بهما، فكانوا بذلك أهل السنة والجماعة.
“ ‘সালাফিয়্যূন’ শব্দটি ‘সালাফী’ শব্দের বহুবচন। সালাফদের দিকে সম্পৃক্ত করে ‘সালাফী’ বলা হয়। ‘সালাফ’ শব্দের অর্থ কিছুপূর্বে গত হয়ে গেছে। যারা কিতাব ও সুন্নাহ’র অনুসরণ করা, এ দুয়ের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং এ দুয়ের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করে, তারাই সালাফী। আর এরূপ অনুসরণের কারণে তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত।” [ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ, ফাতওয়া নং: ১৩৬১]
·
আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ যাইদ বিন হাদী আল-মাদখালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩৫ হি./২০১৪ খ্রি.] বলেছেন,
أصحاب النبي ﷺ هم السلف، ومن جاء بعدهم ونهج نهجهم واتبع أثرهم يلحق بهم؛ فيقال عنه: سلفي، وعقيدته السلفية.
“নাবী ﷺ এর সাহাবীগণ হলেন সালাফ। যে ব্যক্তি তাঁদের পরে এসে তাঁদের পথে চলেছে এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, সেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। তার ব্যাপারে বলা হবে—সে একজন সালাফী, আর তাঁর ‘আক্বীদাহ হলো সালাফী ‘আক্বীদাহ।” [‘আল্লামাহ যাইদ আল-মাদখালী (রাহিমাহুল্লাহ), আল-আজউয়িবাতুল আসারিয়্যাহ ‘আনিল মাসাইলিল মানহাজিয়্যাহ; পৃষ্ঠা: ৭৯; আল-মীরাসুন নাবাউয়ী (আলজিয়ার্স) এবং দারু আদ্বওয়াইস সালাফ (কায়রো) কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৩ হি./২০১২ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
যারা সালাফদের বুঝ অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহ’র অনুসরণ করে, তারাই সালাফী। আর সালাফী দা‘ওয়াতের মর্মার্থও এটাই যে, কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে সালাফদের বুঝ অনুযায়ী।
ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.] কে সালাফী দা‘ওয়াতের মর্মার্থ কী– এরূপ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
مفهوم الدعوة السلفية هو التمسك بالكتاب والسنة على ما فَهِمَ السلف الصالح.
“সালাফী দা‘ওয়াতের মর্মার্থ হলো—ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা।” [মাজমূ‘উ ফাতাওয়াল ওয়াদি‘ঈ, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩৩-৩৪]
·
যারা সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করে তাদের মহা সাফল্যের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
“মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম সারির অগ্রণী, আর যারা তাদের যথাযথ অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশে ঝরনাধারা প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।” [সূরাহ তাওবাহ: ১০০]
·
এই মহান মানহাজের অনুসারীদের ব্যাপারেই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِك.
“আমার উম্মতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। বিরোধীরা তাদের কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। এমনকি এভাবেই কিয়ামত চলে আসবে, আর তারা ওইভাবেই থাকবে।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৯২০; ‘প্রশাসন ও নেতৃত্ব’ অধ্যায় (৩৪); পরিচ্ছেদ- ৫৩]
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

সালাফী মানহাজ অনুসরণ করার বিধান


·
সালাফী মানহাজ অনুসরণ করা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ’র সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান রয়েছে। যেমন: মহান আল্লাহ বলেছেন, وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ “যে আমার অভিমুখী হয়, তুমি তার পথ অনুসরণ করবে। তারপর আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব, যা তোমরা করছিলে।” [সূরাহ লুক্বমান: ১৫]
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন,
كل الصحابة منيب إلى الله تعالى؛ فيجب اتباع سبيله، وأقواله و أفعاله واعتقاداته.
“প্রত্যেক সাহাবীই মহান আল্লাহ’র অনুবর্তী। সুতরাং তাঁদের পথ এবং তাঁদের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের অনুসরণ করা ওয়াজিব।” [ই‘লামুল মুওয়াক্বক্বি‘ঈন, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ১৩০; গৃহীত: ‘আল্লামাহ ‘আব্দুল্লাহ বুখারী (হাফিযাহুল্লাহ), মা হিয়াস সালাফিয়্যাহ; পৃষ্ঠা: ২৮; দারুল ইস্তিক্বামাহ, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৩ হি./২০১২ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا “যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, কতইনা মন্দ সে আবাস!” [সূরাহ নিসা: ১১৫]
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন,
فمن أحب الكون مع السلف في الآخرة، وأن يكون موجودا بما وعدوا به من الجنات والرضوان؛ فليتبعهم بإحسان، ومن اتبع غير سبيلهم؛ دخل في عموم قوله تعالى: وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا.
“যে ব্যক্তি পরকালে (ন্যায়নিষ্ঠ) সালাফদের সাথে থাকতে এবং তাঁদেরকে যে জান্নাত ও সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা নিজের জন্য প্রস্তুত পেতে পছন্দ করে, সে যেন যথাযথভাবে তাঁদের অনুসরণ করে। আর যে তাঁদের পথ ভিন্ন অন্য কোনো পথের অনুসরণ করে, সে আল্লাহ তা‘আলার এই ব্যাপক কথার মধ্যে প্রবেশ করবে, “যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব; কতই না মন্দ সে আবাস!” (সূরাহ নিসা: ১১৫)” [ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ), যাম্মুত তা’উয়ীল, পৃষ্ঠা: ১০; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সনতারিখ বিহীন]

Tuesday, 12 July 2016

আহলুল 'ইলমদের দৃষ্টিতে- "মানহাজ"


আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা হলো আক্বীদা এবং মানহাজ।
কাজেই ধৈর্যসহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো।
:
আক্বীদা মানে বিশ্বাস বা creed বা belief system. আর মানহাজ মানে methodology বা চলার পথ। আভিধানিকভাবে মানহাজ মানে চলার পথ। শরী’আহ-এর পরিভাষায় দ্বীনের ক্ষেত্রে সলফে-সলিহীনগণের অনুসৃত পথে চলার নামই মানহাজ, যাকে আমরা বলে থাকি সলফে-সলিহীনগণের মানহাজ অথবা সালাফী মানহাজ। এক্ষেত্রে দ্বীনের ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে সলফে-সলিহীনগণের নীতিকে মেনে চলাকেই বোঝায়। মানহাজটাই মূলত সীরাতে মুস্তাক্বীম।
আক্বীদাসহ দ্বীনের সকল বিষয়ই মানহাজের মধ্যে শামিল। এছাড়া আরেকভাবে বলা যায় যে, যখন বলা হয় সলফে-সলিহীনগণের মানহাজ, তখন আক্বীদাসহ যা কিছু আছে সব কিছুই মানহাজের মধ্যে শামিল। আর যখন বলা হয় সলফে-সলিহীনগণের আক্বিদা-মানহাজ, তখন সেক্ষেত্রে আক্বীদার বিষয় ছাড়া বাকি সবকিছুই মানহাজের মধ্যে শামিল।
[উস্তায হাম্মাদ বিল্লাহ (হাফিযাহুল্লাহ)-এর লেকচার থেকে সংগৃহীত ও সংযোজিত এবং পরিমার্জিত]
:
এবার তাহলে একটি প্রশ্ন এসে যায় যে, আক্বীদা এবং মানহাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? এছাড়া আরো প্রশ্ন এসে যায় যেমন কেউ আক্বীদায় সালাফী আর মানহাজে ভিন্ন হলে সেক্ষেত্রে তার বিধান কি এবং যারা সলফে-সলিহীনগণের মানহাজের বিরোধিতা করে তাদের বিধান কি। আসুন এই সকল বিষয়েই আমরা বিভিন্ন আহলুল ‘ইলমদের উক্তি থেকে জেনে নিই। এই প্রত্যেকটি ব্যাপারেই নিম্নে বিভিন্ন আহলুল ‘ইলমদের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।
:
==========================================================
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ডে আক্বীদা ও মানহাজের মধ্যে পার্থক্যের ব্যাপারে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হয়। নিম্নে দেয়া হলো,
প্রশ্ন:- আজকাল আক্বীদা এবং মানহাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে মর্মে অনেক কথা শোনা যায়, মানুষ এখন এও বলা শুরু করেছে যে, “অমুক ও অমুকের আক্বীদা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদা” অথবা সালাফীয়্যাহ এর আক্বিদা, তবে তার মানহাজ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মানহাজ নয়। যেমন উদাহরণস্বরূপ, তারা জামাতুত তাবলীগের বা ইখওয়ানুল মুসলিমীনের, অথবা অন্যকোন গ্রুপের কিছু কিছু কথা বলে থাকে। কাজেই, এর কী কোনো মূলনীতি আছে যার দ্বারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বা সালাফিয়্যাহ-এর মানহাজ সম্পর্কে জানা যেতে পারে? এবং আক্বিদা ও মানহাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কী?

Saturday, 31 October 2015

সালফে সালেহীনদের মানহাজে বিদআ’তিদের অবস্থান


১. ছুপা বিদাআ’তী (যে অন্তরে নিজের বিদআ’তকে লুকিয়ে রাখে), এমন লোকদেরকে চেনার সহজ উপায়ঃ
ইমাম আল-আউযায়ী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের কাছে তার বিদআ’তকে লুকিয়ে রাখে, সে কখনো আমাদের কাছে তার সংগীদেরকে লুকিয়ে রাখতে পারবেনা।”
[আল-ইবানাহঃ ২/৪৭৬]
অর্থাৎ যারা নিজেরা বিদাত প্রকাশ করেনা, কিন্তু বিদাতী লোকদের সাথে উঠা-বসা, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রাখে, সে ব্যক্তি ঐ বিদাতীদের মতোই।
_________________________
২. বিদআ’তি কোন ব্যক্তির ওয়াজ বা লেকচার শোনা, তার লেখা বই-পুস্তক পড়া বা তার কাছ থেকে ‘ইলম’ নেওয়ার হুকুমঃ
ইমাম আল-বারবাহারি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “কোন বাক্তির মাঝে বিদআ’ত প্রকাশ পেলে, তুমি তার কাছ থেকে সাবধান থেকো। কেননা, সে যা প্রকাশ করে, তা অপেক্ষা সে যা গোপন করে তা অনেক বেশী ভয়ংকর।”
[ইমাম আল-বারবাহারী, শরাহুস সুন্নাহ]

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...