Showing posts with label হালাল-হারাম. Show all posts
Showing posts with label হালাল-হারাম. Show all posts

Wednesday, 25 February 2015

নারী-পুরুষ সংমিশ্রণের বিধান




নারী-পুরুষ সংমিশ্রণের বিধান

সৌদি আরবের ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে নিম্নবর্ণিত জিজ্ঞাসা করা হয়েছে :
(এক ব্যক্তি এখনো নারী-পুরুষ সংমিশ্রণ সমস্যায় ভুগছে। আপনারা যদি তার মাতা-পিতা ও ভাই-বেরাদরকে এ ব্যাপারে উপদেশ দিতেন যাতে সে তাদের মাতা-পিতার অনুমতি নিয়েই দূরে থাকতে পারে এবং উত্তমরূপে শরিয়তে বিধান চর্চায় সক্ষম হয়? )

উত্তরে তারা বলেছেন:
গায়রে মাহরাম অর্থাৎ যাদের মাঝে বিবাহ বৈধ এমন নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, নারীদের কর্তৃক তাদের চেহারা ও শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করণ অন্যায়, অবৈধ।
আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হুকুম দিয়েছেন তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদেরকে পর্দা করার ব্যাপারে নির্দেশ দেন। ইরশাদ হয়েছে :
﴿ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴾.
( হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ তাদের নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।) [ সূরা আল-আহযাব: ৫৯ ]
আরও ইরাশাদ হয়েছে:
﴿ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ﴾.
(আর তোমরা যখন নবীপত্নীদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। ) [ সূরা আল-আহযাব: ৫৩ ]

এক তালিবে ইল্‌ম নারীদেরকে ইল্‌ম শিক্ষা দিতে গিয়ে নিজে তাদের একজনের সাথে বিশেষ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন


এক তালিবে ইল্‌ম নারীদেরকে ইল্‌ম শিক্ষা দিতে গিয়ে নিজে তাদের একজনের সাথে বিশেষ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন

প্রশ্নঃ আমাদের দেশে একজন তালিবে ইল্‌ম আছে। তাঁর ইল্‌ম ভাল। তিনি আমাদেরকে ইলম অর্জন, তাকওয়া, সুন্নাহর অনুসরণ ও আলেমদের সাথে আদব মেনে চলার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। আমরা তাঁকে হকপন্থী সালাফী হিসেবে জানি। তিনি আমাদেরকে দ্বীনের খুঁটিনাটি যা কিছু শিক্ষা দেন আমরা তাঁকে অনুসরণ করে চলি। কুরআনে কারীম ও রাসূল (সাঃ) এর হাদিস শিক্ষাদানের জন্য তিনি সনদপ্রাপ্ত। যদিওবা আমরা উনার তাকলীদ করি, কিন্তু তিনি আমাদেরকে তাকলীদ না-করার প্রতি উৎসাহিত করেন। তিনি ফতোয়ার ক্ষেত্রে অথবা নারী হিসেবে আমাদের সাথে আচার আচরণের ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌কে ভয় করেন বলে আমি মনে করি। আমি তার জ্ঞান প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা রেখে থাকি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো একজন মহিলা আমাকে অবহিত করেছেন (আমার কাছে তাকে সত্যবাদী মনে হয়) যে, এই নারীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক আছে। সেটা সম্পূর্ণ গোপনে। আমি আবারও বলছি সম্পূর্ণ গোপনে। মহিলাটি জানাচ্ছেন যে, তিনি এ সম্পর্ককে বিয়ের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নিজস্ব কিছু পরিস্থিতির কারণে তিনি সেটা পারছেন না। পরিতাপের বিষয় হলো- তা সত্ত্বেও তিনি এ মহিলার সাথে কথাবার্তা বন্ধ করেননি। তিনি বলছেন যে, তিনি পরিবেশ তৈরী করার চেষ্টা করছেন। এমতাবস্থায়, আমরা কি তার কাছ থেকে ইলেম অর্জনে বিরত থাকব? তার দরসে বসা থেকে বিরত থাকব? শয়তান আমাকে ধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে, আমাকে বলছে- এই আলেম যা বলে তিনি নিজে সে অনুযায়ী আমল করেন না। তার প্রতিটি কথার মধ্যে শয়তান আমাকে সন্দেহে ফেলে দিচ্ছে। নাকি আমরা বলব- মানুষ মাত্রই গুনাহগার। হতে পারে এই গুনার কাছে তিনি হেরে গেছেন। আমাদের সাথে আচার ব্যবহারে তিনি আল্লাহ্‌কে ভয় করেন এটাই তো আমরা জানি। আর এ বিষয়টি একেবারে একটা গোপন বিষয়। গুটিকতক মানুষ ছাড়া এ বিষয়টি কেউ জানে না। আমি যে, এ বিষয়টি জানি তিনি তা জানেন না। নবী ছাড়া তো নিষ্পাপ কেউ নেই।

জবাব:

আলহামদুলিল্লাহ্‌ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।

এ কথা সত্য যে, সকল গুনাহ থেকে মুক্ত এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে না। প্রত্যেক মানুষের গুনাহ রয়েছে। যে গুণার বিষয়টা শুধু সে ব্যক্তি জানে এবং তার রবব জানে। এটাই বনী আদমের প্রকৃত অবস্থা। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 
যে সত্ত্বার হাতে রয়েছে আমার প্রাণ যদি তোমরা গুনাহ না করতে তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে এমন এক কওমকে নিয়ে আসতেন যারা গুনাহ করত, আবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত, তখন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। [সহীহ মুসলিম, ২৭৪৯]

Monday, 23 February 2015

রিযক ও তার অনুমোদিত উপকরণ




بسم الله الرحمن الرحيم
রিযক ও তার অনুমোদিত উপকরণ
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا .. من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، وأشهد أن محمد عبده ورسوله : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ (১০২ سورة آل عمران) . يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (১ سورة النساء) . يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (৭০-৭১ سورة الأحزاب) .

হামদ সালাতের পর...
প্রিয় লোক সকল, সকলেরই জানা যে অর্থ-প্রাচুর্য ও ধন-সম্পদ হচ্ছে জীবনের ভিত্তি ও সৌন্দর্য। মানুষ মাত্রই প্রতিটি সকালকে আলিঙ্গন করে, আর জীবনোপকরণ বিষয়ক ভাবনা থাকে তার অন্তর জুড়ে। মনন ও মানসে শুধু একই চিন্তা বার বার উঁকি দেয়... দৈন্যতাগ্রস্ত প্রয়াসী হয় দৈন্য গোচানোতে আর ঐশ্বর্য্যবান উদ্যোগী হয় প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে। দু'অবস্থার মাঝে তার অবস্থান, হয়ত ধনবান যার ভেতরে থাকে অতুষ্টি আর প্রত্যাশা অথবা নি:স্ব যাকে তাড়া করে বেড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এর মাঝামাঝি কেউ থেকে থাকলে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
পার্থিব জীবনে জীবিকা বিষয়ে মানুষের চিন্তাধারা অভিন্ন নয় আর কর্মপদ্ধতিও প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন। রিয্‌ক ও তার অন্বেষণ বিষয়ে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ ধারণা ও বিশ্বাস অনুযায়ী কর্ম পন্থা ও উপকরণ নিরূপণ করে থাকে। ইরশাদ হচ্ছে,
وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى * إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى (১-৪ سورة الليل )
অর্থাৎ 'কসম রাতের, যখন তা ঢেকে দেয়। কসম দিনের, যখন তা আলোকিত হয়। কসম তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকারের। (সূরা আল-লাইল:১-৪)

রিযকের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর ইচ্ছাধীন



রিযকের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর ইচ্ছাধীন
আল্লাহ তাআলা বলেন :

 বল, ‘আমার রব যার জন্য ইচ্ছা রিয্ক প্রশস্ত করেন অথবা সঙ্কুচিত করেন। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না সূরা সাবা : (৩৬)

আল্লাহ তাআলা নিজ বান্দাদের পরীক্ষা ও পরখ করার জন্য রিযক বৃদ্ধি বা হ্রাস করেন। রিযক বৃদ্ধি যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়অনুরূপ রিযকের সংকীর্ণতা তার অসন্তুষ্টির কারণ নয়। অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়টি জানে না। দুনিয়ার সচ্ছলতা কারো শুভলক্ষণের দলিল নয়কারণ আখেরাতের সাফল্য নির্ভর করে নেক আমলের উপরযা চিরস্থায়ী ও চিরকাল। দুনিয়াতে কখনো আল্লাহ অবাধ্যকে দেন সচ্ছলতাআনুগত্যকে দেন সংকীর্ণতা। আবার কখনো এর বিপরীত করেন। কখনো উভয়কে সচ্ছলতা দেনকখনো দেন সংকীর্ণতা। কখনো অবাধ্য বা আনুগত্য একই ব্যক্তিকে এক সময় দেন সচ্ছলতা,অপর সময় দেন অস্বচ্ছলতা। এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন আল্লাহ তাআলা নিজ প্রজ্ঞা ও হিকমতের ভিত্তিতেযদি সচ্ছলতা সম্মান ও আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ হতোতাহলে এর অধিকারী একমাত্র অনুগতরাই হতোঅবাধ্যরা কখনো এর স্বাদ পেত না। আর যদি সংকীর্ণতা অপমান ও আল্লাহর গোস্বার কারণ হতোতাহলে অবাধ্যরা সদা সংকীর্ণতা ভোগ করতঅথচ বাস্তব এমন নয়। সারকথা সচ্ছলতা বা সংকীর্ণতা অবাধ্য বা অনুগত উভয়ের জন্যই সমান

কতক কাফের সচ্ছলতাকে সামনে রেখে তাদের পক্ষে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ পেশ করেছেযদি আমাদের উপর আল্লাহর অনুকম্পা না হততাহলে তিনি আমাদেরকে সচ্ছলতা দিয়ে সম্মানিত করতেন না। হে রাসূলের অনুসারীগণআল্লাহর নিকট তোমরা তুচ্ছ বলেই বঞ্চিত। বস্তুত সচ্ছলতা বা অস্বচ্ছলতা শুভ লক্ষণ বা অশুভ কোন লক্ষণ নয়হতভাগা বা সৌভাগ্যবান হওয়ারও কোন আলামত নয়। এ পার্থিব জগতে অনেক সচ্ছল ব্যক্তি বিদ্যমান যারা হতভাগাআবার অনেক অসচ্ছল ব্যক্তি রয়েছে যারা সৌভাগ্যবান। অধিকাংশ লোকই তা জানে না। অভাবঅস্বচ্ছলতাপ্রবৃদ্ধিসচ্ছলতা ইত্যাদি আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীলনেককার বা বদকার বলে কোন বিষয় নেই। সম্মান ও মর্যাদার কারণে যেমন কাউকে সচ্ছলতা প্রদান করা হয় নাআবার হীন ও তুচ্ছতার কারণে কাউকে অভাব দেয়া হয় না। সচ্ছলতা কখনো অবকাশ ও সুযোগ হিসেবে প্রদান করা হয়অস্বচ্ছলতা কখনো মর্যাদা বৃদ্ধি ও পরীক্ষামূলক দেয়া হয়

রিযক ও তার অনুমোদিত উপকরণ




بسم الله الرحمن الرحيم
রিযক ও তার অনুমোদিত উপকরণ
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا .. من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، وأشهد أن محمد عبده ورسوله : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ (১০২ سورة آل عمران) . يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (১ سورة النساء) . يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (৭০-৭১ سورة الأحزاب) .

হামদ সালাতের পর...
প্রিয় লোক সকল, সকলেরই জানা যে অর্থ-প্রাচুর্য ও ধন-সম্পদ হচ্ছে জীবনের ভিত্তি ও সৌন্দর্য। মানুষ মাত্রই প্রতিটি সকালকে আলিঙ্গন করে, আর জীবনোপকরণ বিষয়ক ভাবনা থাকে তার অন্তর জুড়ে। মনন ও মানসে শুধু একই চিন্তা বার বার উঁকি দেয়... দৈন্যতাগ্রস্ত প্রয়াসী হয় দৈন্য গোচানোতে আর ঐশ্বর্য্যবান উদ্যোগী হয় প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে। দু'অবস্থার মাঝে তার অবস্থান, হয়ত ধনবান যার ভেতরে থাকে অতুষ্টি আর প্রত্যাশা অথবা নি:স্ব যাকে তাড়া করে বেড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এর মাঝামাঝি কেউ থেকে থাকলে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
পার্থিব জীবনে জীবিকা বিষয়ে মানুষের চিন্তাধারা অভিন্ন নয় আর কর্মপদ্ধতিও প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন। রিয্‌ক ও তার অন্বেষণ বিষয়ে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ ধারণা ও বিশ্বাস অনুযায়ী কর্ম পন্থা ও উপকরণ নিরূপণ করে থাকে। ইরশাদ হচ্ছে,
وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى * إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى (১-৪ سورة الليل )
অর্থাৎ 'কসম রাতের, যখন তা ঢেকে দেয়। কসম দিনের, যখন তা আলোকিত হয়। কসম তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকারের। (সূরা আল-লাইল:১-৪)
অনেক মানুষ আছে প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত অবস্থায় থাকে, ঘুমিয়ে একটু আরাম উপভোগ করার ফুরসত পায় না, দু চোখের পাতা এক করে না... শ্বাসরুদ্ধ হয়ে খাবার-পানীয় গলাধ:করণ করে বরং সহজে গিলতেও পারে না, কারণ রিযকের দুশ্চিন্তা ও ভয় তার ওপর ভয়ানক প্রভাব বিস্তার করে আছে, অন্তরকে ভয়াচ্ছন্ন করে রেখেছে। কোনো প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করতে পারে না সে, আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরকেও স্মৃতিতে জাগরূক করে রাখতে পারে না এবং কোনো রাস্তাতেই নিরাপদ বোধ করে না। নিজেকে কেবল জীবন ও মৃত্যুর মাঝেই প্রত্যক্ষ করে। তাই রিযকের পেছনে জিহ্বা বের করে উর্ধ্ব শ্বাসে দৌড়ায় এতে কোনো বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতির অনুসরণের ধার ধারে না। জীবনোপকরণ জমা করণে বৈধ-অবৈধ সব পন্থাই তার নিকট সমান। গোলমেলে গন্তব্য যতক্ষণ উপকরণকে সমর্থন করে। এ প্রকৃতির লোক রিযকের প্রথমাংশ দেখতে পেলে শেষাংশ পাবার লালসায় জিহ্বার লালা পড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে এমন হয় যে, খাবার খায় কিন্তু তৃপ্তি পায় না, পান করে তবে পিপাসা মিটে না।

ইসলামে হালাল উপার্জন : গুরুত্ব ও তাৎপর্য




ইসলামে হালাল উপার্জন : গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ইসলাম পরিপূর্ণ এক জীবন ব্যবস্থার নাম। এতে মানবজীবনের ব্যক্তিগত পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের যাবতীয় বিষয়ের সমাধানে হিকমতপূর্ণ বিধানের বর্ণনা রয়েছে। এটি মানুষের জন্য যা কল্যাণকর ও হিতকর সে বিষয় বৈধ করত: সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং যাবতীয় অকল্যাণ ও ক্ষতিকর বিষয় হতে মানবজাতিকে সর্তক করেছে। অতএব, ইসলাম মানবজাতির জন্য কল্যাণের আঁধার হিসেবে শান্তির বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। মানবদেহের জীবনীশক্তি হিসেবে রক্তের যে গুরুত্ব রয়েছে, মানবজীবনে অর্থের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও তেমনি তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে অর্থ মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এর জন্য প্রয়োজন মেধা, শ্রম ও সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার। জীবন নির্বাহের এ মাধ্যমটিই পেশা হিসেবে পরিগণিত। মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নির্ধারিত ফরজ ইবাদত (যেমন নামায) সম্পন্ন করার পর জীবিকা অন্বেষনে জমীনে ছড়িয়ে পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব নিজেই জীবিকা অর্জনে ব্রতী হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পরিশ্রম লব্দ উপার্জনকে সর্বোত্তম উপার্জন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে নিশ্চয় উপার্জনের পন্থা শরীয়াত নির্ধারিত পন্থায় হতে হবে। এমন উপার্জনকে ইসলাম অবৈধ ঘোষনা করেছে, যাতে প্রতারনা, মিথ্যা, ধোঁকাবাজি, জনসাধারণের অকল্যাণ সর্বোপরি জুলুম রয়েছে। দুনিয়ার জীবনে অবৈধ পন্থায় উপার্জন করে সুখ-সাচ্ছন্দ লাভ করলেও পরকালীন জীবনে রয়েছে এর জন্য জবাবদিহিতা ও সুবিচার। সে লক্ষে ইসলাম হালাল উপার্জনের অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করেছে। নিম্নে এসম্পর্কে আলোচনা প্রদত্ত হলো:

উপার্জনের গুরুত্ব

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...