Sunday, 11 October 2026

জয়িফ বা দুর্বল হাদিসের পরিচয়, চেনার সহজ উপায় এবং হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মতভেদ হলে করণীয়




প্রশ্ন: দুর্বল হাদিস কাকে বলে? দুর্বল হাদিস চেনার সহজ উপায় কী?

আর কোনো হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাক্কিক আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলে করণীয় কী?

উত্তর:

🔸জঈফ হাদিস কাকে বলে?

উত্তর:

কোন হাদিসে সহিহ বা হাসান হাদিসের এক বা একাধিক শর্ত না পাওয়া গেলে তাকে জঈফ বা দুর্বল হাদিস বলে।

ইবনুস সালাহ বলেন,

الحَدِيثُ الضَّعِيفُ: مَا فَقَدَ أَحَدَ شُرُوطِ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ: أَيْ: كُلُّ حَدِيثٍ لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ شُرُوطُ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ، وَكَذَا لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ شُرُوطُ الحَدِيثِ الحَسَنِ، فَهُوَ ضَعِيفٌ، وَهُوَ أَنْوَاعٌ تَزِيدُ عَنِ الخَمْسِينَ نَوْعًا

"যে হাদিসে সহিহ হাদিসের সব শর্ত পাওয়া যায়নি এবং হাসান হাদিসের শর্তও পূর্ণ হয়নি, সেটিই জয়িফ। জয়িফ হাদিসের প্রকার পঞ্চাশের বেশি।" [মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ, পৃ. ৪১]


🔸জইফ হাদিস চেনার উপায়:


জঈফ বা দুর্বল হাদিস (اَلْحَدِيثُ الضَّعِيفُ) চেনার মূল চাবিকাঠি হলো দুটি বিষয় দেখা: সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়া অথবা বর্ণনাকারীর (রাবির) মধ্যে এমন ত্রুটি থাকা, যার কারণে হাদিসটি বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না।


কোনো হাদিস সহিহ হতে পাঁচটি শর্ত পূরণ করতে হয়:

প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নির্দিষ্ট কোনো পাপের সাথে সম্পৃক্ত করার বিধান:

 



ভূমিকম্প, টর্নেডো, পাহাড়ধস, ভূমিধস, খরা, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, দাবানল বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কোনো জাতির নির্দিষ্ট অন্যায় বা পাপের সাথে নিশ্চিতভাবে জুড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। অর্থাৎ নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, অমুক দুর্যোগ তাদের অমুক পাপাচারের কারণেই ঘটেছে।


কারণ এটি গায়েবের বিষয়, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এর পেছনে আল্লাহর এমন হিকমত রয়েছে, যা আমাদের অজানা। কেউ এমন কথা বললে তা হবে না-জানা বিষয়ে কথা বলার শামিল, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।


আল্লাহ তাআলা বলেন,


وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا


"যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হতে হবে।" [সুরা ইসরা: ৩৬]


🔹কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদা ও ইসলামি সংস্কৃতির অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিম আল-সাগিরি বলেন,

القول بأن الكوارث الطبيعية دائمًا عقاب من الله يعدّ تدخلًا في قدر الله

"প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সবসময় আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি বলা আল্লাহর কদর (সিদ্ধান্ত)-এর ওপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ।"


🔹ইসলাম ওয়েব-এ বিষয়ে বলা হয়েছে,

প্রশ্ন: সহিহ হাদিস কাকে বলে?



উত্তর:

🔸‘সহিহ’-এর পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.) বলেন:

«أَمَّا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ: فَهُوَ الْحَدِيثُ الْمُسْنَدُ الَّذِي يَتَّصِلُ إِسْنَادُهُ بِنَقْلِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ عَنِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، وَلَا يَكُونُ شَاذًّا وَلَا مُعَلَّلًا»

“সহিহ হাদিস হলো সেই মুসনাদ (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদ পৌঁছেছে এমন) হাদিস, যার সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) আদিল (ন্যায়পরায়ণ ও সৎ) ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক আদিল ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত এবং যা শায (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত) বা মুআল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) নয়।”

[মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ]

শব্দগুলোর ব্যাখ্যা:

- মুসনাদ: যার সনদ বা বর্ণনা সূত্র রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। (তবে মুসনাদের সংজ্ঞায় মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে।)

- আদিল: যে বর্ণনাকারী মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, কবিরা গুনাহ ও প্রকাশ্য ফিসক থেকে মুক্ত এবং মুরুআত (ব্যক্তিত্ব ও শিষ্টাচার) বিরোধী কাজ থেকে বিরত।

- শায: কোনো গ্রহণযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী যদি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বা সংখ্যায় বেশি বর্ণনাকারীর বিপরীত বর্ণনা করেন তাহলে সেই বর্ণনা শায।

- মুআল্লাল: যে হাদিসের সনদ বা মতনে এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ত্রুটি (ইল্লত) আছে, যা বাহ্যিকভাবে সহিহ মনে হলেও গভীর অনুসন্ধানে ধরা পড়ে।

🔸 হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন:

«وَخَبَرُ الآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ، مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ: هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ»

 “যে খবরে আহাদ ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারীর মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন সনদ পরম্পরায় বর্ণিত হয় এবং মুআল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) ও শায (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত) নয়, সেটিই সহিহ লি-যাতিহি।”

[নুখবাতুল ফিকার]

উল্লেখ্য যে, হাফেজ ইবনে হাজার নুখবাতুল ফিকার-এ খবরকে প্রথমে মুতাওয়াতির ও আহাদে ভাগ করেছেন। মুতাওয়াতিরের বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত বেশি যে তাঁদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। তাই এর সত্যতা প্রমাণে আদালত, জব্‌ত ইত্যাদি শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজন পড়ে না। এসব শর্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে খবরে আহাদের ক্ষেত্রে। তাই তিনি আহাদের আলোচনায় এই সংজ্ঞা দিয়েছেন। 

🔹মোটকথা: হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য ৫টি শর্ত থাকা আবশ্যক। যথা:

১. অবিচ্ছিন্ন সনদ: হাদিসটি এমন অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়া, যার কোথাও একজন বর্ণনাকারীও বাদ পড়েননি।

২. আদালত: সনদের প্রত্যেক বর্ণনাকারী সততা ও ন্যায়নিষ্ঠায় প্রশ্নাতীত হওয়া।

৩. পূর্ণ আয়ত্তশক্তি (জব্‌ত): বর্ণনাকারী পূর্ণ আয়ত্তশক্তির অধিকারী হওয়া, অর্থাৎ হাদিস সংরক্ষণে কোনো ত্রুটি না থাকা, চাই তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে হোক বা লিখে রাখার ক্ষেত্রে।

৪. শায না হওয়া: বর্ণনাকারীর বর্ণনা তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপরীত না হওয়া।

৫. মুআল্লাল না হওয়া: হাদিস বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সনদ বা মতনে কোনো গোপন ত্রুটি ধরা না পড়া।

— আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল মাদানি

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

Saturday, 10 October 2026

হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া জায়েজ আছে কি?

'image.png' failed to upload. TransportError: Error code = 7, Path = /u/2/_/BloggerUi/data/batchexecute, Message = There was an error during the transport or processing of this request., HTTP status = 0, Unknown HTTP error (HTTP Status: 0) (XHR Error Code: 6) (XHR Error Message: ' [0]')


উত্তর:

হিন্দুরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ করে। তা হল, মূর্তিপূজা। এটি হল, শিরক। শিরক এত ভয়ানক অপরাধ যাতে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হন এবং এই অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না বলে দ্ব্যর্থ হীন ভাবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।" [সূরা নিসা: ৪৮]

সুতরাং কোনও মুসলিমের জন্য জঘন্য শিরকের কাজে কোনও ভাবেই সহায়তা করা বৈধ নয়। অত:এব হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়াও দেওয়া যাবে না।

মোটকথা, পূজার কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনও বস্তু বা উপকরণ তাদের কাছে বিক্রয় করা বা ভাড়া দেওয়া বৈধ নয়। কারণ তা শিরকের কাজে সহায়তার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

"সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।" [সূরা মায়িদা: ২] 

আর এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, মূর্তি পূজা ও শিরক হল, সবচেয়ে বড় পাপ ও সীমালঙ্ঘন।

তবে সিসি ক্যামেরা ভাড়া দেওয়া যেতে পারে। কারণ তা মুসলিম-হিন্দু সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় কিছু স্বার্থান্বেষী অমুসলিম মুসলিম সেজে পূজা মণ্ডপে আক্রমণ চালিয়ে মুসলিমদের উপর তার দোষ চাপিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরা থাকলে হয়ত এমন চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে এতে কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ।

Friday, 9 October 2026

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান



”হে ইমানদারগণ, জুমুআর নামাযের জন্য আযান দেয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে তাড়াতাড়ি ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর।” (সূরা জুমুআ: ৯)

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান

সুপ্রিয় ভাই, আমরা জানি জুমার দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটি অনেক তাৎপর্য বহন করে। এর রয়েছে অনেক ফযীলত ও মর্যাদা। রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। নিন্মে উক্ত বিষয়গুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জানা ও মানার তাওফীক দান করুন। আমীন

সর্বশ্রেষ্ঠ দিন কোনটি এবং কেন?من فضائل يوم الجمعة

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “…সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বাহির করা হয়। আর এই দিন ছাড়া অন্য কোন দিনে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না।” (মুসলিম, তাহ:মিশকাত হা:নং ১৩৫৬)

 জুমার সলাতের গুরুত্ত্ব। وجوب صلاة الجمعة

হযরত আবুল জা’দ জমারী (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,“অলসতা-অবহেলা করে যে ব্যক্তি তিন জুমাহ পরিহার করবে আল্লাহ তায়ালা তার ক্বলবে মহর মেরে দিবেন।” (আবুদাউদ,তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজা, দারেমী, হা:সহীহ, মিশকাত হা:নং ১৩৭১)

Thursday, 8 October 2026

সালাতে মনস্থির রাখার কার্যকরী ১২ টি উপায়



প্রশ্ন: সালাতে মনে বিনয়-নম্রতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং মনস্থির রাখার উপায় গুলো কী কী?

উত্তর:

ভয়ভীতি ও বিনয়-নম্রতা সহকারে স্থিরচিত্তে সালাত আদায় করা মুমিনের চূড়ান্ত সাফল্যের সোপান। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ- الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ 

"মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে যারা ভয়ভীতি সহকারে বিনম্র চিত্তে সালাত আদায় করে।" [সূরা মুমিনূন: ১ ও ২]

নিম্নে সালাতরত অবস্থায় মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি ও মনস্থির রাখার কতিপয় উপায় তুলে ধরা হল:

◈ ১. সালাতের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশান্ত মনে আগেভাগে মসজিদে আসা।

◈ ২. সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা।

আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اذكرِ الموتَ في صلاتِك، فإنَّ الرجلَ إذا ذَكر الموتَ في صلاتِه لحريٌّ أن يُحسنَ صلاتَه

"সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ কর। কেননা মানুষ যখন সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তখন সে তার সালাতকে সুন্দর ভাবে আদায় করতে সক্ষম হয়। ” [সনদ হাসান, সিলসিলা সহীহাহ/২৮৩৯]

প্রতি মাসে কুরআন খতম করা: একটি অবহেলিত সুন্নাহ

 


প্রশ্ন: প্রতি মাসে অন্তত একবার কুরআন কারিম শেষ করা কি সুন্নাহসম্মত?

উত্তর: 

হ্যাঁ, প্রতি মাসে অন্তত একবার পুরো কুরআন খতম করা একটি বরকতময় আমল, যার ভিত্তি সহিহ হাদিসে আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর আগ্ৰহ ও আমলের আধিক্য জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রতি মাসে একবার খতম করার নির্দেশনা দেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَأِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي عِشْرِينَ لَيْلَةً»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ وَلَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ»

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো।" 

আমি বললাম: "আমার এর চেয়ে বেশি পড়ার শক্তি আছে।" 

তিনি বললেন: "তাহলে বিশ রাতে খতম করো।" 

আমি আবার বললাম: "আমার আরও শক্তি আছে।" 

Wednesday, 7 October 2026

খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের সময় সর্বক্ষেত্রে বাম হাত ব্যবহার নিষিদ্ধ :



প্রশ্ন : আমরা জানি হাদিসে বাম হাত দিয়ে পানি পান করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ভাত খেতে খেতে যদি পানি পান করতে হয় তখন তো ডান হাত দিয়ে পান করা যায় না। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

উত্তর : হাদিসে বাম হাতে পানাহার করাকে নিষেধ করার পাশাপাশি এটিকে শয়তানের কর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একাধিক হাদিসে পানাহারের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে।

তাই খাদ্য-পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই বাম হাত ব্যবহার করা জায়েজ নেই। 

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ ডান হাতে খাদ্য গ্রহণের সময় বাম হতে পানি পান করে। কেউ কেউ তো সরাসরি বাম হাতেই খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে। এগুলো সবই হারাম কাজ।

আবার অনেকেই খাদ্য গ্রহণের সময় বাম হাতে গ্লাস ধরে ডান হাতটা সামান্য একটু গ্লাসের সাথে লাগায়। এটাও জায়েজ নেই। কেননা তা মূলত বাম হাতে পান করারই অন্তর্ভুক্ত। কারণ গ্লাসটা তার বাম হাতেই রয়েছে।

তবে প্রয়োজন বোধে এর বিপরীতটা জায়েজ। অর্থাৎ ডান হাতে গ্লাস ধরে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া। এতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ।

সুতরাং ওয়ান টাইম গ্লাস বা ব্যক্তিগত গ্লাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি ডান হাত ব্যবহার করা কর্তব্য। 

কিন্তু যদি একাধিক ব্যক্তি একটি মাত্র গ্লাস ব্যবহার করে এবং ডান হাতে খাবার লেগে থাকার কারণে গ্লাস নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যা অন্যের অরুচির কারণ হতে পারে) তাহলে গ্লাসটা হাতের তালু বা তালুর উপরিভাগে রেখে কিংবা আঙ্গুল ভালোভাবে চেটে পরিষ্কার করে ডান হাত দ্বারা গ্লাস ধরবে।

মোটকথা, সর্বক্ষেত্রে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের সময় ডান হাত ব্যবহার করবে। প্রয়োজন বোধে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া যাবে। কিন্তু বাম হাতে গ্লাস ধরে ডান হাতের একটু সাহায্য নিয়ে পান করা মূলত বাম হাতে পান করারই নামান্তর। সুতরাং তা করা যাবে না।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরো পড়ুন :

পানাহার ও খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত সকল লিংক এক সাথে

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1338532856566256&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

উত্তর প্রদানে :

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। 

বারবার বেড়াতে আসা বন্ধু-আত্মীয়দের মেহমানদারির শরয়ি বিধান

 


প্রশ্ন: হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে।” তাহলে যেসব বন্ধু বা আত্মীয় প্রতি সপ্তাহে বা ঘন ঘন একাধিকবার বেড়াতে আসেন তাঁদের মেহমানদারির ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম কী?

উত্তর:

 মেহমানের সম্মান ও আপ্যায়ন কেবল সামাজিক সৌজন্য বা ভদ্রতার বিষয় নয়; ইসলামি জীবনবিধানে এটি চমৎকার চরিত্র গঠন ও সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধনের এক অনুপম ভিত্তি। শরিয়তের দৃষ্টিতে মেহমানদারি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, একে সরাসরি ইমানের পরিপূর্ণতার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু শুরাইহ আল-খুজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

> "مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ"

 "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের বিশেষ যত্ন ও আপ্যায়ন একদিন ও একরাত, আর সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। এরপরও যা করা হবে, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

অধিকাংশ ফকিহ ও আলেমগণের মতে, মেহমানদারি করা সুন্নত ও একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে দূর থেকে আসা কোনো মুসাফির বা বিপদে পড়া পথিকের জন্য আশ্রয় ও খাবারের সংস্থান করার গুরুত্ব শরিয়তে আরও অনেক বেশি।

হাদিসে একদিন বা তিন দিন আপ্যায়নের যে কথা এসেছে, তা মূলত দূর থেকে আসা মেহমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা মেজবানের বাড়িতে রাত্রিযাপন বা অবস্থান করেন। অন্যদিকে যেসব বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন কাছাকাছি থাকেন এবং কিছুক্ষণের জন্য সাক্ষাৎ করতে এসে চলে যান তাঁদের জন্য প্রতিবারই বিশেষ আপ্যায়ন করা জরুরি নয়। এমন মেহমানদের ক্ষেত্রে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানানো, সুন্দর আচরণ করা এবং ঘরে যা সাধারণ খাবার রয়েছে তা দিয়েই সাধ্যমতো সামান্য আপ্যায়ন করাই মেহমানদারির হক আদায়ের জন্য যথেষ্ট। তবে তারা আত্মীয়-স্বজন হলে মেহমানদারির পাশাপাশি 'সিলাতুর রাহিম' বা রক্ত সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের হক দ্বগুণ। মেহমাদারি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক।

মেজবানের জন্য কৃত্রিম লৌকিকতা বা নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়; বরং ঘরে যা সহজলভ্য আছে তা-ই বিনয়ের সাথে সামনে উপস্থাপন করা সুন্নাত। বারবার আসা-যাওয়ার কারণে মেজবানের যদি সত্যিই কোনো পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা আর্থিক অসুবিধা হয় তবে অসন্তুষ্ট বা বিরক্ত না হয়ে ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় তাঁদের সময় ঠিক করে আসতে বলা কিংবা সাময়িক অসমর্থতার কথা জানিয়ে দেওয়া জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ হবে না।

পাশাপাশি ইসলামি নীতিমালায় মেহমানের ওপরেও কিছু শিষ্টাচার ও দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। মেহমানের উচিত মেজবানের সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখা, না জানিয়ে হঠাৎ উপস্থিত না হওয়া, অসময়ে বা অতি ঘন ঘন যাতায়াত করে মেজবানকে বিব্রত না করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে কাউকে কষ্ট না দেওয়া। হাদিসের অন্য বর্ণনায় মেজবানকে কোনো কষ্টে ফেলা থেকে মেহমানকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

আবু শুরাইহ আল-খুজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

"وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَقِيمَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ"

"আর কোনো মেহমানের জন্য তার মেজবানের কাছে এত দীর্ঘ সময় অবস্থান করা বৈধ নয় যাতে সে মেজবানকে সংকটে বা কষ্টে ফেলে দেয়।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় হাদিসের শেষ অংশটি আরেকটু স্পষ্টভাবে এভাবে এসেছে:

"وَلاَ يَحِلُّ لِلْمُسْلِمِ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يُؤْثِمَهُ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يُؤْثِمُهُ؟ قَالَ: يُقِيمُ عِنْدَهُ وَلاَ شَيْءَ لَهُ يُقْرِيهِ بِهِ"

"কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের কাছে এত দিন থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গুনাহগার করে ফেলে। সাহাবিগণ আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে তাকে কীভাবে গুনাহগার করবে? তিনি বললেন: সে তার কাছে অবস্থান করতেই থাকে অথচ মেজবানের কাছে এমন কিছু থাকে না যা দিয়ে সে তার আপ্যায়ন করবে।" [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

সারকথা হলো, ঘন ঘন আসা বন্ধু-আত্মীয়দের সম্মান ও আপ্যায়ন করা প্রশংসনীয় উত্তম কাজ হলেও প্রতিবার বিশেষ ও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন শরিয়তে বাধ্যতামূলক নয়। মেজবান কৃত্রিমতা বর্জন করে আন্তরিক থাকবেন এবং মেহমানও মেজবানের স্বাচ্ছন্দ্যের বিবেচনা রাখবেন—তাহলেই পারস্পরিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন। 

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব। 

Tuesday, 6 October 2026

বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল আদায় করার বিধান




প্রশ্ন: অনেকে বলে যে, বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল সালাত পড়তে হয়, যাকে 'হালকি নফল' বলা হয়। তারা বলে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাকি বিতর সালাতের পর বসে বসে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন। আমি জানতে চাচ্ছি, এই হাদিসটি কি সহিহ? আমরা কি এর ওপর আমল করতে পারি?

উত্তর:

রাতের সালাতের সাধারণ নিয়ম হলো, বিতরই হবে রাতের সর্বশেষ সালাত। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا

"তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত বানাও।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫১]

তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো কখনো বিতরের পরেও বসে বসে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করেছেন। তবে এটি তাঁর নিয়মিত অভ্যাস ছিল না।


এ প্রসঙ্গে ইমাম নওয়াবি (রাহ.) বলেন,“বিতর পড়ার পরও যে কেউ চাইলে কিছু নফল সালাত আদায় করতে পারে। এর বৈধতা দেখানোর জন্যই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সাধারণ ও নিয়মিত নিয়ম ছিল বিতর পড়ার পর আর কোনো সালাত না পড়া।


একই সঙ্গে, বসে নফল সালাত আদায় করা যে জায়েজ, এই আমলের মাধ্যমে তাও প্রমাণিত হয়। বিতরের পর বসে দুই রাকাত নফল পড়ার এই হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৩৮]

মাইকের মাধ্যমে উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত বাজানো কতটুকু শরিয়ত সম্মত?

 


▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬

প্রশ্ন: বর্তমানে লকডাউন অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব জায়গায় মাইকের মাধ্যমে সারাদিন কুরআন তিলাওয়াত বাজানোা হচ্ছে বা  কুরআন খতম দেয়া হচ্ছে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত বা যৌক্তিক?

উত্তর:

◯ ১) করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে যদি কোরআন খতম করা হয় বা কুরআন তিলাওয়াত চালু রাখা হয় তাহলে তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা বিপদ, বিপর্যয়, রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করা বা উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশনা ইসলামে নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নতুন জিনিষ চালু করল তা পরিত্যাজ্য। (বুখারী, অধ্যায়: সন্ধি-চুক্তি।)

আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে:

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ব্যাপারে আমার নির্দেশ নাই তা প্রত্যাখ্যাত।" (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: বিচার-ফয়সালা)

Saturday, 3 October 2026

ঘরে খেলনার পুতুল থাকলে সালাত আদায়ের সময় করণীয় কী এবং এগুলো ঘরে থাকার দায় কার উপর বর্তাবে?



প্রশ্ন: আমার ছোট ভাই বোন তারা পুতুল দিয়ে খেলা করে কিন্তু পুতুল ঘরে থাকলে তো ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আমি চাইলেও পুতুল গুলো সরাতে পারবো না এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? আমি শুনেছি ফজর এবং মাগরিবের ওয়াক্তে রহমতের ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ করে তাই ঐ সময়ে পুতুল গুলো লুকিয়ে রাখলে যথেষ্ট হবে কি?

আর যে ঘরে নামাজ পড়বো ঐ ঘরে পুতুল থাকলে কি কোনও সমস্যা আছে?

উত্তর:

ঘরে কোন প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রাখা জায়েজ নেই। ঠিক তদ্রূপ বাচ্চাদের খেলনা পুতুলও রাখা জায়েজ নেই। (অবশ্য যদি সেগুলোর নাক, চোখ, মুখ, কান ইত্যাদি অবয়বগুলো মুছে দেওয়া হয় তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ)।। হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, আবু ত্বলহা রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"‏ لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ ‏"

"যে ঘরে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে সেই ঘরে (আল্লাহর রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।” [সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৭৭/ পোশাক, পরিচ্ছেদ: ৭৭/৮৮. ছবি সম্পর্কিত]

তাই অনতিবিলম্বে এগুলো থেকে ঘরবাড়িকে পরিষ্কার করা আবশ্যক। অন্যথায় বাড়ির প্রধান কর্তা ব্যক্তি এ জন্য গুনাহগার হবে। আপনার দ্বারা যদি সেগুলো ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্ভব না হয় তাহলে এতে আপনি গুনাহগার হবেন না ইনশাআল্লাহ। কেননা তা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যে ঘরে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রয়েছে সে ঘরেও সালাত শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উত্তম হলো, এসব থেকে মুক্ত অন্য কোনও ঘরে সালাত আদায় করা। কমপক্ষে সালাতের সময় এসব জিনিস কাপড় বা কোন কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

➤ আর‌ও পড়ুন :

✪ ঘরে প্রাণীর ছবি, কার্টুন, প্রতিকৃতি বা মূর্তি থাকলে সে ঘরে সালাত আদায় করার বিধান

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=403754580044093&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

✪ টিনের চালে গরু, উট, মোরগ ইত্যাদির ছবি থাকলে করণীয় এবং এমন ছবিযুক্ত ঘরে সালাত আদায়ের বিধান

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1157054421380768&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

উত্তর প্রদানে:

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অপরিহার্যতা ও পদ্ধতি

 


প্রশ্ন: কীভাবে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা'আলার জন্য উত্তম উপায়ে শুকরিয়া আদায় করতে পারি? যে নিয়ামতগুলোর মধ্যে আছি, সুন্দরভাবে শুকরিয়া আদায় করলে অন্তর প্রশান্ত হবে? জাযাকাল্লাহু খাইরান।

উত্তর:

আল্লাহতালা অসংখ্য নেয়ামত দ্বারা আমাদের জীবনকে ঋদ্ধ করেছেন। আমরা প্রতি মুহূর্তে তার নেয়ামত ভোগ করছি। তাই আমাদের কর্তব্য, মহান রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা। 

আমরা আল্লাহর যত বেশি শুকরিয়া আদায় করব তিনি তত বেশি আমাদেরকে দান করবেন। কিন্তু অকৃতজ্ঞ হলে রয়েছে কঠিন শাস্তি। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, 

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ

" যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।" [সূরা ইব্রাহিম: ৭]

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তার শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলেন,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

Friday, 2 October 2026

গর্ভবতী নারীর তালাকের ইদ্দত কত দিন?



প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে এবং তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে। মেয়েটি এখন ছয় মাসের গর্ভবতী; সন্তান প্রসবে আরও চার-পাঁচ মাস বাকি। এই অবস্থায় মেয়েটির ইদ্দত কি তিন হায়েজ হবে, নাকি সন্তান প্রসব হলে ইদ্দত শেষ হবে?

উত্তর:

গর্ভবতী নারীর ইদ্দত তিন হায়েজ নয় বরং তার ইদ্দত শেষ হবে, সন্তান প্রসব হওয়ার মাধ্যমে সময় কম বা বেশি যাই হোক না কেন।

সুতরাং প্রসবের আরো চার-পাঁচ মাস বা তারও বেশি সময় বাকি থাকলেও এই বিধানে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ সন্তান প্রসব হওয়ার পরেই ইদ্দত শেষ হবে।

✪ আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَ

"আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।" [সুরা তালাক: ৪]

তিন হায়েজের বিধান হলো যাদের গর্ভ নেই তাদের জন্য। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আয়াতটি সুস্পষ্ট ও সাধারণ (আম)। তাই তালাকপ্রাপ্তা গর্ভবতী নারীও এর অন্তর্ভুক্ত।

✪ হাদিসে এসেছে,

عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ، فَجَاءَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَاسْتَأْذَنَتْهُ أَنْ تَنْكِحَ، فَأَذِنَ لَهَا فَنَكَحَتْ

"সুবাইআ আল-আসলামিয়্যা (রা.) স্বামীর মৃত্যুর কয়েক রাত পরেই সন্তান প্রসব করেন। এরপর তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিবাহের অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন এবং তিনি বিবাহ করলেন।" [সহিহ বুখারি: ৫৩২০]

একটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নত: উপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার এবং নিচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ পাঠ করা:



প্রশ্ন: উঁচু স্থানে উঠার সময় 'আল্লাহু আকবার' এবং নিচু স্থানে নামার সময় 'সুবহানাল্লাহ' পাঠ করা সুন্নত। ঘরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা বা নামার ক্ষেত্রেও কি তা সুন্নত?

উত্তর:

উঁচু স্থানে উঠতে আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ স্বরূপ ‘আল্লাহু আকবার’ এবং নীচে নামতে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা সুন্নত। প্রখ্যাত সাহাবি জাবির রা. বলেন,

كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا وَإِذَا نَزَلْنَا سَبَّحْنَا 

"আমরা যখন উপরের দিকে উঠতাম, ‘আল্লাহু আকবার’ ও যখন নীচের দিকে নামতাম তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতাম।" [বুখারি, হা/২৯৯৩]

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَجُيُوشُهُ إِذَا عَلَوا الثَّنَايَا كَبَّرُوا، وَإِذَا هَبَطُوا سَبَّحُوا  

এক মিনিটে আপনি কি কি আমল করতে পারেন



||||||||||||||||||||||||||||||||||

প্রশ্ন: আমরা অফিসে বা কর্মস্থলে ইবাদত-বন্দেগী ও নেককাজের তেমন কোন সময় পাই না। অফিসের পর বাকী যে সামান্য সময় পাই এর মধ্যে আমরা কি কি আমল করতে পারি এবং এ সময়কে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি?

===============

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।সময় মানুষের জীবন সময়কে কখনো অপচয় হতে বা অকাজে নষ্ট হতে দেয়ার মত নয়। প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার সময়ের সদ্ব্যবহার করে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সময়কে অহেতুক কাজে বা অর্বাচীন কথায় ব্যয় করে না। বরং তিনি সময়কে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও ভাল কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। যে কাজ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং মানুষের উপকার বয়ে আনে। জীবনের প্রতিটি মিনিটে আপনি একটি করে প্রস্তর স্থাপন করতে পারেন যা আপনার মর্যাদার ভবনকে উচ্চকিত করবে এবং যা দিয়ে আপনার জাতি সৌভাগ্যমণ্ডিত হতে পারবে।

আপনি যদি মর্যাদার শিখরে পৌঁছুতে চান এবং আপন জাতিকে সৌভাগ্যমণ্ডিত করতে চান তবে আরাম-আয়েশকে না-বলুন এবং অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করুন।

এক মিনিট সময়ের মাঝে অনেক ভাল কাজ করা যেতে পারে এবং বিশাল সওয়াব পাওয়া যেতে পারে। শুধু আপনার জীবনের এক মিনিট সময় ব্যয় করে আপনি আপনার দানের পরিধি বাড়াতে পারেন, কোন কিছু উপলব্ধি করতে পারেন, কোন কিছু মুখস্থ করতে পারেন, যে কোন নেককাজ করতে পারেন। শুধু এক মিনিটেই আপনার ভালো কাজের আমলনামায় এই আমলগুলো লেখা হয়ে যাবে যদি আপনি জানেন কিভাবে এক মিনিট সময়কে কাজে লাগাতে হয় এবং বাস্তবে কাজে লাগান। কবি বলেন:

“প্রতিটি মিনিটে বৃহত্তর কল্যাণে প্রবৃত্ত হও।

জুমার দিনে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয় ও ফযিলত:

 


1⃣ ১) দুয়া করা:

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: 

يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً ، لَا يُوجَدُ فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ إِيَّاهُ فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ

“জুমার দিনে ১২টি ঘণ্টা রয়েছে। এর মধ্যে এমন একটি ঘণ্টা রয়েছে যেখানে এমন কোন মুসলিম নাই যে, সে যদি তখন আল্লাহর নিকট কিছু চায় আল্লাহ তাকে দিবেন না। আর তোমরা আসরের পরে (মাগরিবের আগের) শেষ ঘণ্টায় সে সময়টা অনুসন্ধান করো।”

(সুনান আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ: জুমার দিন দুয়া কবুল হওয়ার সময় কোনটি? শাইখ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। )

◾ উল্লেখ্য যে, অন্য একটি যঈফ বা দুর্বল হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত সময়টা হল:

حِينَ تُقَامُ الصَّلَاةُ إِلَى الِانْصِرَافِ مِنْهَا

“জুমার সালাতের একামত হওয়া থেকে নিয়ে শুরু করে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত।” (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ। কিন্তু শাইখ আলবানী বলেছেন  এটি ضعيف جدا খুব দুর্বল।)

◾ অধিকাংশ সালাফের মত হল, তা আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত সময়টি। আল্লাহ ভালো জানেন।

▬▬▬▬▬▬▬

2⃣ ২) সূরা কাহাফ পাঠ:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

مَن قَرَأَ سورةَ الكَهفِ يومَ الجُمُعةِ أضاءَ له من النورِ ما بَينَ الجُمُعتينِ

“যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত আলোকময় হবে (অর্থাৎ সে হেদায়েতের আলোর উপর পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ)। (দেখুনঃ সহিহ তারগিব ওয়াত্ তারহিব, হাদিস নং- ৭৩৬, ইবনে হাজার  আসকালানী এটিকে হাসান বলেছেন। তিনি আরও বলেন, এ হাদিসটি সূরা কাহাফ প্রসঙ্গে বর্ণিত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদিস, {ফায়যুল কাদির ৬/১৯৮})

◾উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (জুমার রাত) থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্য ডুবার পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় (এক বৈঠকে অথবা একাধিক বৈঠকে) সূরা কাহাফ পুরোটা পড়ে শেষ করতে হবে। তাহলে উক্ত মর্যাদা লাভ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

▬▬▬▬▬▬▬

3⃣ ৩) অধিক পরিমানে দরূদ পাঠ:

আউস বিন আউস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: 

إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَام ، وَفِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ -أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ- قَالَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمْ السَّلام

 “তোমাদের দিন সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে, এই দিনে সিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং মহা বিপর্যয়ও (ক্বিয়ামত) ঘটবে এই দিনেই। তাই এই দিনে তোমরা বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে; কেননা তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয় জুমার দিনে।

 সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলে, হে  আল্লাহর রাসূল, আপনি কবরে গলে শেষ হওয়ার পরেও  কিভাবে আপনার উপর দরুদ পেশ  করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।  ” 

(আবু দাউদ,নাসাঈ,ইবনু মাজা প্রমুখের বরাতে সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব,মিশকাত আলবানী হা/১৩৬১)

▬▬▬🏮🏮🏮▬▬▬

লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাঈল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠের সঠিক সময়: রাত নাকি দিন?

 


সূরা কাহফ পাঠ করা জুমার দিনের অন্যতম একটি সুন্নাহ সম্মত আমল। তা জুমার রাতে অথবা দিনে সুবিধাজনক যে কোন সময়ে এক বা একাধিক বৈঠকে পড়া যায়। চাই অর্থসহ পড়া হোক কিংবা অর্থ ছাড়া—এতে কোন সমস্যা নেই।

কতিপয় আলেম জুমার রাতে নয় বরং দিনে পড়ার কথা বলেছেন। কিন্তু গ্রহণযোগ্য সনদে মাউকুফ হাদিস দ্বারা রাতে পড়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়েছে।

তাছাড়া আমরা জানি, চাঁদের হিসেবে জুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং জুমার দিন শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তের মাধ্যমে।

অতএব দলিল এবং যুক্তির নিরিখে এটি পাঠের গ্রহণযোগ্য সময়সীমা হলো, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

🔸 মুহাদ্দিস শাইখ আলবানি (রহ.)-এর বিশিষ্ট ছাত্র মুহাদ্দিস শাইখ মাশহুর ইবনে হাসান আলে সালমান (হাফিযাহুল্লাহ):

 প্রশ্ন: শুক্রবারের রাতে সূরা কাহফ পড়া কি শুক্রবার দিনে পড়ার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে?

উত্তর:

"হ্যাঁ, জুমার দিন সম্পর্কে প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহে কোনো কোনোটিতে "يوم الجمعة" (জুমার দিন) এবং কোনো কোনোটিতে "ليلة الجمعة" (জুমার রাত) উল্লেখ এসেছে।

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাউকুফ আছারে এসেছে:

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو هَاشِمٍ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: "مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ".

"যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে তার এবং বাইতুল আতিক (কাবা)-এর মধ্যবর্তী স্থান তার জন্য আলোকিত হয়ে যাবে।" [দারিমি, ৩৪৫০; ইরওয়াউল গালীল, ৩/৯৪]

শাইখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) ইরওয়াউল গালিলে বলেন:

قُلْتُ: وَهَذَا سَنَدٌ صَحِيحٌ رِجَالُهُ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ رِجَالُ الشَّيْخَيْنِ، وَأَبُو النُّعْمَانِ وَإِنْ كَانَ تَغَيَّرَ فِي آخِرِهِ فَقَدْ تَابَعَهُ سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ كَمَا تَقَدَّمَ، ثُمَّ هُوَ وَإِنْ كَانَ مَوْقُوفًا، فَلَهُ حُكْمُ الْمَرْفُوعِ؛ لِأَنَّهُ مِمَّا لَا يُقَالُ بِالرَّأْيِ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ.

"আমি বলছি, এই সনদ সহিহ। এর রাবীগণ সকলেই সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) এবং বুখারি-মুসলিমের রাবি। আবু নুমান যদিও শেষ বয়সে তার স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছিল, তবে পূর্বে উল্লেখিত মতো সাঈদ ইবনে মানসুর তার মুতাবাআত করেছেন। অতঃপর এটি মাউকুফ হলেও এর হুকুম মারফু-এর মতোই; কারণ এ ধরনের বিষয় রায় বা ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী বলা যায় না, যা স্পষ্ট।"

সুতরাং যে ব্যক্তি জুমার দিনে অথবা জুমার রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে।"

وَاللهُ تَعَالَى أَعْلَمُ

— শাইখ মাশহুর ইবনে হাসান আলে সালমান (হাফিযাহুল্লাহ)

(মাজলিসে ফাতাওয়াল জুমুআহ, ২১ রবিউস সানি, ১৪৪০ হিজরি / ২৮-১২-২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ) [meshoor]

▪️ইমাম মুনাবি (রাহ.) বলেন:

قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي "أَمَالِيهِ": كَذَا وَقَعَ فِي رِوَايَاتِ "يَوْمِ الْجُمُعَةِ" وَفِي رِوَايَاتِ "لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ"، وَيُجْمَعُ بِأَنَّ الْمُرَادَ الْيَوْمُ بِلَيْلَتِهِ وَاللَّيْلَةُ بِيَوْمِهَا.

"হাফিজ ইবনে হাজার তার 'আমালি' গ্রন্থে বলেন: এভাবে কিছু বর্ণনায় 'يوم الجمعة' (জুমার দিন) এবং কিছু বর্ণনায় 'ليلة الجمعة' (জুমার রাত) এসেছে। এর সমন্বয় এভাবে করা হয় যে, দিন বলতে তার রাতসহ এবং রাত বলতে তার দিনসহ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে।" [ফাইদুল কাদির, ৬/১৯৯]

ইমাম মুনাবি (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন:

فَيُنْدَبُ قِرَاءَتُهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَكَذَا لَيْلَتَهَا كَمَا نَصَّ عَلَيْهِ الشَّافِعِيُّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ

"সুতরাং জুমার দিনে এবং তার রাতেও সূরা কাহফ পাঠ করা মুস্তাহাব, যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।" [ফাইদুল কাদির, ৬/১৯৮]

[Islamqa info]

গ্রন্থনায়: 

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ,‌ জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব 

সবরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা


▬▬▬ ✪◉✪ ▬▬▬

সবর বা ধৈর্য ধারণ করা আকিদার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জীবনে বিপদ-মুসিবত নেমে এলে অস্থিরতা প্রকাশ করা যাবে না। বরং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি আল্লাহর নিকট প্রতিদান পাওয়ার আশা করতে হবে।

 ◈ ইমাম আহমদ রহ. বলেন, “আল্লাহ তায়ালা কুরআনে নব্বই স্থানে সবর সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।”

 ◈ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

الصبر ضياء

“সবর হল জ্যোতি।” (মুসনাদ আহমদ ও মুসলিম)

 ◈ উমর রা. বলেন, “সবরকে আমরা আমাদের জীবন-জীবিকার সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে পেয়েছি।” (সহিহ বুখারি)

 ◈ আলী রা. বলেন, “ঈমানের ক্ষেত্রে সবরের উদাহরণ হল দেহের মধ্যে মাথার মত।” এরপর আওয়াজ উঁচু করে বললেন, “যার ধৈর্য নাই তার ঈমান নাই।” 

 ◈ আবু সাঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

مَا أَعْطَى اللَّهُ أَحَدًا مِنْ عَطَاءٍ أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ

“আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যের চেয়ে উৎকৃষ্ট এবং ব্যাপকতর দান কাউকে দেন নি।” (সুনান আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ: নিষ্কলুষ থাকা। সহিহ)

 ❑ সবরের প্রকারভেদ: 

সবর তিন প্রকার। যথা:

 ✪ ১. আল্লাহর আদেশের উপর সবর করা।

 ✪ ২. আল্লাহর নিষেধের উপর সবর করা।

 ✪ ৩. বিপদাপদে সবর করা। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ

“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তিনি তাঁর অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন।” (সূরা তাগাবুন: ১১)

আলকামা বলেন, “আল্লাহ তায়ালা ‘যার অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন’ সে হল ঐ ব্যক্তি যে বিপদে পড়লে বিশ্বাস করে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। ফলে বিপদে পড়েও সে খুশি থাকে এবং সহজভাবে তাকে গ্রহণ করে।”

অন্য মুফাসসিরগণ উক্ত আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, “যে ব্যক্তি বিপদে পড়লে বিশ্বাস রাখে যে এটা আল্লাহর ফায়সালা মোতাবেক এসেছে। ফলে সে সবর করার পাশাপাশি পরকালে এর প্রতিদান পাওয়ার আশা রাখে এবং আল্লাহর ফয়সালার নিকট আত্মসমর্পণ করে আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আর দুনিয়ার যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তার বিনিময়ে তিনি তার অন্তরে হেদায়েত এবং সত্যিকার মজবুত একিন দান করেন। যা নিয়েছেন তার বিনিময় দান করবেন।”

সাঈদ বিন জুবাইর রা. বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান আনে আল্লাহ তার অন্তরকে হেদায়েত দেন।” এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, অর্থাৎ সে কোন ক্ষয়-ক্ষতি ও বিপদের সম্মুখীন হলে বলে ‘ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন’ অর্থাৎ আমরা আল্লাহর জন্যই আর তাঁর নিকটই ফিরে যাব। (সূরা বাকারা: ১৫৬)

উক্ত আয়াতে প্রমাণিত হয় যে, আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আরও প্রমাণিত হয় যে, ধৈর্য ধরলে অন্তরের হেদায়াত অর্জিত হয়।

❑ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা:

প্রতিটি পদক্ষেপে মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন। আল্লাহর নির্দেশের সামনে ধৈর্যের প্রয়োজন। আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্যের প্রয়োজন। কারণ, এ পথে নামলে নানা ধরণের কষ্ট ও বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ… وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ

“তোমার প্রভুর পথে আহবান কর হেকমত এবং ভাল কথার মাধ্যমে। আর সর্বোত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। তোমার প্রভু তো সব চেয়ে বেশি জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিপথে গেছে আর তিনিই সব চেয়ে বেশি জানেন কারা সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।…আর ধৈর্য ধর। ধৈর্য ধর কেবল আল্লাহর উপর।” (সূরা নাহল: ১২৫-১২৭)

 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে গেলেও চরম ধৈর্যের পরিচয় দেয়া প্রয়োজন। কারণ, এ পথে মানুষের পক্ষ থেকে নানা ধরণের যাতনার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা লোকমান সম্পর্কে বলেন, (তিনি তার সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন):

يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

“হে বৎস, নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ কর। আর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ কর। বিপদে ধৈর্য ধরণ করা তো বিশাল সংকল্পের ব্যাপার।” (সূরা লোকমান: ১৭)

 মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন জীবনের নানান বিপদ-মুসিবত, কষ্ট ও জটিলতার সামনে। সে বিশ্বাস করে যত সংকটই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে সে তা হালকা ভাবে মেনে নেয়। বিপদে পড়েও খুশি থাকে। এ ক্ষেত্রে ক্ষোভ, হতাশা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে না। নিজের ভাষা ও আচরণকে সংযত রাখে। কারণ, সে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী। সে তকদিরকে বিশ্বাস করে। তকদীরকে বিশ্বাস করা ঈমানের ছয়টি রোকনের একটি। 

তকদিরের উপর ঈমান রাখলে তার অনেক সুফল পাওয়া যায়। তন্মধ্যে একটি হল, বিপদে ধৈর্য ধারণ। সুতরাং কোন ব্যক্তি বিপদে সবর না করলে তার অর্থ হল, তার কাছে ঈমানের এই গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিটি অনুপস্থিত। অথবা থাকলেও তা খুব নড়বড়ে। ফলে সে বিপদ মুহূর্তে রাগে-ক্ষোভে ধৈর্যহীন হয়ে পড়ে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খবর দিয়েছেন যে, এটা এমন এক কুফরি মূলক কাজ যা আকিদার মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে।

❑ বিপদ-আপদের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মোচন হয়:

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে বিভিন্ন বালা-মুসিবত দেন এক মহান উদ্দেশ্যে। তা হল এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মোচন করে থাকেন। যেমন: আনাস রা. বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

“আল্লাহ যখন কোন বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতেই তাকে শাস্তি দেন। কিন্তু বান্দার অকল্যাণ চাইলে তিনি তার গুনাহের শাস্তি থেকে বিরত রেখে কিয়ামতের দিন তার যথার্থ প্রাপ্য দেন।" (সহিহ তিরমিযি-আলবানি, হা/২৩৯৬)

ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, "বিপদ-মুসিবত হল নেয়ামত। কারণ এতে গুনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে আরও বেশি রোনাজারি করতে হয়। তার নিকট আরও বেশি ধর্না দিতে হয়। আল্লাহর নিকট নিজের অভাব ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরার প্রয়োজন হয়। সৃষ্টি জীব থেকে বিমুখ হয়ে এক আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হয়।…বিপদের মধ্যে এ রকম অনেক বড় বড় কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

বিপদে পড়লে যদি গুনাহ মোচন হয়, পাপরাশী ঝরে যায় তবে এটা তো বিশাল এক নেয়ামত। সাধারণভাবে বালা-মসিবত আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত লাভের মাধ্যম। তবে কোন ব্যক্তি যদি এ বিপদের কারণে এর থেকে আগের থেকে আরও বড় গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে তবে তা দ্বীনের ক্ষেত্রে তার জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, কিছু মানুষ আছে যারা দরিদ্রতায় পড়লে বা অসুস্থ হলে তাদের মধ্যে মুনাফেকি, ধৈর্য হীনতা, মনোরোগ, স্পষ্ট কুফুরী ইত্যাদি নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। এমনকি অনেকে কিছু ফরয কাজ ছেড়ে দেয়। অনেকে বিভিন্ন হারাম কাজে লিপ্ত হয়। ফলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তার বড় ক্ষতি হয়ে যায়। সুতরাং এ রকম ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিপদ না হওয়াই কল্যাণকর। মুসীবতের কারণে নয় বরং মুসীবতে পড়ে তার মধ্যে যে সমস্যা সৃষ্টি তার কারণে বিপদ না আসাই তার জন্য কল্যাণকর।

পক্ষান্তরে বিপদ-মুসীবত যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে ধৈর্য ও আনুগত্য সৃষ্টি করে তবে এই মুসীবত তার জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে বিশাল নেয়ামতে পরিণত হয়….।”

❑ বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ধৈর্যের পরীক্ষা নেন:

বিপদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন কে ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে পক্ষান্তরে কে ধৈর্য হীনতার পরিচয় দেয় ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ

“বিপদ যত কঠিন হয় পুরস্কারও তত বড় হয়। আল্লাহ কোন জাতিকে ভালবাসলে তাদেরকে পরীক্ষা করেন। সুতরাং যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান আর যে তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে যান।” (সহিহ তিরমিযি-আলবানি, হা/২৩৯৬)

অত্র হাদিসে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় দিক রয়েছে। যেমন:

 ✪ ১. বান্দা যেমন আমল করবে তেমনই প্রতিদান পাবে। “যেমন কর্ম তেমন ফল।”

 ✪ ২. এখানে আল্লাহর একটি গুনের পরিচয় পাওয়া যায়। তা হল ‘সন্তুষ্ট হওয়া’। আল্লাহ তায়ালার অন্যান্য গুনের মতই এটি একটি গুন। অন্য সব গুনের মতই এটিও আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য হবে যেমনটি তার জন্য উপযুক্ত হয়।

 ✪ ৩. অত্র হাদিসে জানা গেল যে, আল্লাহ তায়ালা এক বিশাল উদ্দেশ্যে বান্দার উপর বিপদ-মসিবত দিয়ে থাকেন। তা হল তিনি এর মাধ্যমে তার প্রিয়পাত্রদেরকে পরীক্ষা করেন। 

 ✪ ৪. এখানে তকদীরের প্রমাণ পাওয়া যায়।

 ✪ ৫. মানব জীবনে যত বিপদাপদই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর তকদীর তথা পূর্ব নির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ী।

 ✪ ৬. এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, বিপদ নেমে আসলে ধৈর্যের সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মহুর্তে প্রতিটি বিপদের মুখে আল্লাহর নিকটই ধর্না দিতে হবে এবং তার উপরই ভরসা রেখে পথ চলতে হবে।

❑ ধৈর্যের পরিণতি প্রশংসনীয়:

জীবনের সকল কষ্ট ও বিপদাপদে আল্লাহ তায়ালা নামায ও সবরের মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, এতেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ধৈর্যের পরিণতি প্রশংসনীয়। আল্লাহ তায়ালা খবর দিয়েছেন যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকেন। অর্থাৎ তাদেরকে তিনি তাদের সাহায্য করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নামায ও সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য অনুসন্ধান কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবর কারীদের সাথে থাকেন।” (সূরা বাকারা: ১৫৩)

এখান থেকে ধৈর্য ধারণ করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। মুমিন ব্যক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি পদে পদে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া দরকার। এই সবরের মাধ্যমে আকীদা ও বিশ্বাস দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

সবরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

মূল: ড. শাইখ সালিহ ফাউযান আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

Wednesday, 30 September 2026

কিয়ামতের দিন পৃথিবী হবে এক রুটি! জান্নাতবাসীদের প্রথম আপ্যায়ন (চমৎকার একটি হাদিস এবং আল্লামা উসাইমিন (রাহ.)-এর ব্যাখ্যা)

 


―――――――――――

প্রখ্যাত সাহাবি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:


«تَكُونُ الأَرْضُ يَوْمَ القِيَامَةِ خُبْزَةً وَاحِدَةً، يَتَكَفَّؤُهَا الجَبَّارُ بِيَدِهِ، كَمَا يَكْفَأُ أَحَدُكُمْ خُبْزَتَهُ فِي السَّفَرِ، نُزُلًا لِأَهْلِ الجَنَّةِ».

فَأَتَى رَجُلٌ مِنَ اليَهُودِ فَقَالَ: بَارَكَ الرَّحْمَنُ عَلَيْكَ يَا أَبَا القَاسِمِ، أَلَا أُخْبِرُكَ بِنُزُلِ أَهْلِ الجَنَّةِ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ قَالَ: «بَلَى». قَالَ: تَكُونُ الأَرْضُ خُبْزَةً وَاحِدَةً، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ ﷺ. فَنَظَرَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَيْنَا ثُمَّ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَلَا أُخْبِرُكَ بِإِدَامِهِمْ؟ قَالَ: إِدَامُهُمْ بَالَامٌ وَنُونٌ. قَالُوا: وَمَا هَذَا؟ قَالَ: ثَوْرٌ وَنُونٌ، يَأْكُلُ مِنْ زَائِدَةِ كَبِدِهِمَا سَبْعُونَ أَلْفًا.


“কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী একটিমাত্র রুটি হয়ে যাবে। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে তা এমনভাবে উল্টেপাল্টে সমতল করবেন, যেমন তোমাদের কেউ সফরকালে তার খামিরের রুটিকে উল্টেপাল্টে তৈরি করে থাকে। এটি হবে জান্নাতবাসীদের প্রথম মেহমানদারির খাবার।'


এমন সময় এক ইহুদি এসে বলল, 'হে আবুল কাসিম! রাহমান (অতি দয়াময় আল্লাহ) আপনার ওপর বরকত বর্ষণ করুন। আমি কি আপনাকে কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের আপ্যায়নের বিষয়ে জানাব না?'


তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, বলো।'

প্রশ্ন: জিনেরা কি মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করে? এ থেকে বাঁচার উপায় কি?



উত্তর:

জিন হল, এক অদৃশ্য জগতের নাম। যাদের সম্পর্কে আমাদের সব কিছু বিস্তারিত জানা সম্ভব নয় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহির মারফতে আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে যতটুকু তথ্য প্রদান করেছেন তা ব্যতিরেকে।


যাহোক, জিন কর্তৃক মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করা প্রসঙ্গে আলেমগণ বলেন যে, তারা মানুষের অর্থ-সম্পদ চুরি করতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ দু ধরণের জিন আছে। সুতরাং তাদের মধ্যে খারাপ জিন (শয়তান) গুলো মানুষের ক্ষয়ক্ষতি করার সর্বপ্রকার পন্থা অবলম্বন করে থাকে। জিন সম্পর্কে কুরআনে এসেছে,

وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا ‎

“(জিনরা বলে) আমাদের কেউ কেউ সৎকর্ম পরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত।" [সূরা জিন: ১১] অর্থাৎ তারা সৎকর্মশীল এবং পাপাচারী এ দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত।


❑ জিনেরা কেন মানুষের সম্পদ চুরি করে?

প্রশ্ন: মাদ্রাসা শিক্ষা দ্বারা মানুষের কী উপকার হয়েছে?



উত্তর: মাদ্রাসা শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য, ইসলামের খেদমত এবং দ্বীনের প্রচার ও প্রসার করা। অর্থাৎ কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ আরবি ভাষা সাহিত্য, আরবি ব্যাকরণ‌ ইত্যাদি সম্পর্কে গভীর বুৎপত্তি অর্জন এবং ইসলামের আলোকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধান। 

কারো কাছে যদি এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে না হয় তাহলে তার কাছে মাদ্রাসা কোন উপকার করেনি সেটাই মনে হবে।

কিন্তু একই প্রশ্ন যদি উল্টা করে করা হয় তখন উত্তর কী হবে?

সরকারের তেমন সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই মাদ্রাসা ছাত্ররা কী উপকার করল এটা নিয়ে প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু বিশাল অংকের বাজেট খরচ করার পরেও দেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের কতটুকু উপকার করেছে সে জবাবদিহি কে করবে? 

একটা সুই পর্যন্ত যারা আবিষ্কার করতে পারেনি, বিদেশ থেকে আমদানি করা ছাড়া চলে না তাদের মুখে মাদ্রাসা শিক্ষার উপকারিতার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হাস্যকর। 

দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা, সরকারি খাতে বিশাল বিশাল দুর্নীতি, প্রশাসনিক পদে থেকে মানুষের উপরে জুলুম নির্যাতন করার কালো অধ্যায়গুলো মাদ্রাসা ছাত্ররা করেনি। বারবার প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারিতে মাদ্রাসা ছাত্ররা জড়িত নয়। দেশের প্রতিটি সেক্টরে চরম পর্যায়ের ঘুষ বাণিজ্য ইত্যাদিতে মাদ্রাসার ছাত্ররা জড়িত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিনিয়ত রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোতে এর পরিমাণ ‌ এক পারসেন্টও হবে না।

এগুলো করছে দেশের তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত সাধারণ শিক্ষিত লোকজন। 

আশা করি এবার দেশের পুরা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে প্রশ্ন তুলবেন।

তবে আমি বলি না যে মাদ্রাসার শিক্ষার সংস্কারের প্রয়োজন নাই। বরং দেশের পুরো সিস্টেমটাই সংস্কার করা প্রয়োজন।

উত্তর প্রদানে:

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি 

দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব। 

Sunday, 27 September 2026

পুরুষ শিক্ষক কর্তৃক মেয়েদের (অনলাইনে কিংবা অফলাইনে) পাঠদান করার বিধান

 



- সৌদি আরবের দাওয়াহ, গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

প্রশ্ন: সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ফতওয়ায় বলা হয়েছে: “কোনো পুরুষের জন্য মেয়েদেরকে সরাসরি (সামনাসামনি) পাঠদান করা বৈধ নয়। কারণ এতে রয়েছে বিশাল বিপদ ও ভয়াবহ পরিণতি।” [ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ, ১২/১৮২]

এই লেখাটা বা এমন কিছু লেখা কিছু বোন অনলাইনে প্রচার করছে। এই কথার প্রকৃত অর্থ কী?

মেয়েরা কি কোনো পুরুষ আলেমের কাছে ইলম নিতে পারবে যদি পর্দার ব্যবস্থা থাকে বা ফেতনার আশঙ্কা না করে? দয়া করে এর সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে সবাইকে উপকৃত করবেন।

উত্তর: 

সৌদি আরবের সৌদি আরবের দাওয়াহ, গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ)-এর উপরোক্ত ফতওয়াটির মর্মার্থ পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝা যায় তাদের বিস্তারিত ফতওয়ায়। 

তাই এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ ফতওয়াটি প্রদান করা হলো: 

ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ-তে এসেছে:

স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর একে অপরকে দেখা, স্পর্শ, গোসল, কাফন ইত্যাদির বিধান: দূর হোক সমাজের বিভ্রান্তি



প্রশ্ন: মৃত্যুর পর কি স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যান? মৃত্যুর পর একে অপরকে দেখা, স্পর্শ করা, গোসল দেওয়া, কাফন পরানো ইত্যাদির বিধান কী?

উত্তর:

আমাদের সমাজে এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা যে, স্বামী বা স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যান। এর ফলে অনেককেই দেখা যায় যে, মৃত স্বামীকে গোসল করানো বা কবরে নামানোর মতো চূড়ান্ত কাজে স্বামী বা স্ত্রীকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। 

মূলত এটি আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরি প্রমুখ সহ রায় পন্থীদের অভিমত। তাদের যুক্তি হল, স্বামী স্ত্রীকে এ কারণে গোসল দিতে পারবে না যে, মৃত্যুর মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ তারা এখন আর স্বামী-স্ত্রী নয়। কারণ স্বামী এখন চাইলে তার মৃত স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করতে পারবে এবং আরও চার জন নারীকে বিয়ে করার অধিকার লাভ করবে।

কিন্তু যুক্তি চেয়ে দলিল অগ্রগামী। বহু সংখ্যক দলিলের আলোকে প্রমাণিত হয় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পবিত্র সম্পর্ক মৃত্যুর কারণে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয় না বরং মৃত্যুর পরও স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে দেখা, স্পর্শ করা, গোসল করানোর বা কাফন পরানো ইত্যাদির বৈধতা বিদ্যমান থাকে।

 বরং স্বামী বা স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একে অপরকে গোসল দেওয়ার জন্য অন্য সকলের চেয়ে বেশি হকদার। কারণ মৃত্যুর পরও স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য অন্যের চেয়ে বেশি আপন থাকেন। তাই তাঁদের মধ্যে পর্দার জটিলতা থাকে না এবং গভীর ভালোবাসার কারণে তাঁরা মৃত সঙ্গীর যত্নও সবচেয়ে ভালোভাবে নিতে পারেন।

তবে এই বৈধতা ইদ্দত (অপেক্ষা কাল)-এর সাথে শর্তযুক্ত।

Saturday, 26 September 2026

সালাতে সাহু সিজদা করার সঠিক পদ্ধতি

 


প্রশ্নঃ সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?

উত্তরঃ

 সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।

তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ

১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।

২) হ্রাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।

৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এ ব্যাপারে সংশয় হওয়া।

🔘 প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:

মুছল্লী যদি নামাযের অন্তর্ভূক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করে যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন দু‘বার করে রুকূ করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ রাকাত আদায় করা। তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল করেছে।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমাদের নির্দেশনা নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।” (মুসলিম, অধ্যায়ঃ আকযিয়া, অনুচ্ছেদ, বাতিল ফায়সালা সমূহ প্রত্যাখ্যান করা।)

কিন্তু যদি ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই ছালাত শেষ করে দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র সাহু সিজদা করবে। তার ছালাতও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ছালাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার রাকাআত শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।

উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের ছালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এবৃদ্ধির কথা তার স্মরণ হল, তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে।

আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে সাহু করে আবার সালাম ফেরাবে।

দলীল:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ خَمْسًا فَقَالُوا أَزِيدَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا: صَلَّيْتَ خَمْسًا، فسجد سجدتين بعد ما سلم. وفي رواية: فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثم سلم

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের নামায পাঁচ রাক্‌আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি সিজদা করলেন। অন্য রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন, দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন। (বুখারী, অধ্যায়ঃ ছালাত, অনুচ্ছেদঃ ক্বিবলার বিবরণ। মুসলিম, অধ্যায়ঃ মসজিদ ও নামাযের স্থান, অনুচ্ছেদঃ নামাযে সাহু বা ভুল করা।)

ছালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:

নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো ছালাতে বৃদ্ধি করার অন-র্গত। কেননা ছালাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা মনে পড়ল তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) তবে সে অবশিষ্ট ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

Friday, 25 September 2026

ফেরেশতা ও জিনের মধ্যে পার্থক্য কি? ইবলিস শয়তান কি ফেরেশতা ছিল?

 


▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬

প্রশ্ন: জিন এবং ফেরেশতার মধ্যে পার্থক্য কি? কেউ কেউ বলে থাকে যে, ইবলিস শয়তান জিন ছিল; ফেরেশতা নয়। এটা কতটুকু সত্য?

উত্তর: 

ফেরেশতা ও জিনের মাঝে অনেক দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। সেগুলোর মধ্যে মৌলিক চারটি পার্থক্য উপস্থাপন করা হল:

1⃣  ১ম পার্থক্য: ফেরেশতাগণ সৃষ্টি হয়েছে নূর বা আলো থেকে আর জিন সৃষ্টির হয়েছে আগুন থেকে।

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

 «خُلِقَتِ المَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ» 

"ফিরিশতাদেরকে জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। [অর্থাৎ মাটি থেকে]।" মুসলিম)

ইবলিস শয়তান ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে বলেছে,

قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ ۖ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ

“সে (ইবলিস) বলল: আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” (সূরা সোয়াদ: ৭৬)

2⃣  ২য়: ফেরেশতাগণ কখনো আল্লাহর আনুগত্য করেন। তারা কখনও তাঁর অবাধ্যতা করেন না। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন:

 لَّا يَعْصُونَ اللَّـهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ 

“তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।” (সূরা আত তাহরীম: ৬)

 পক্ষান্তরে জিন জাতির মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার আর কিছু আছে কাফের। কিছু আছে নেককার এবং কিছু আছে পাপিষ্ঠ -যেমন রয়েছে মানুষের মধ্যে।

জিনদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন: (জিনরা বলেছিল)

وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَـٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا - وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا 

“আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে। আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।” সূরা জিন: ১৪ ও ১৫)

ফেরেশতাগণ মানুষকে সর্বদা ভালো কাজের আদেশ করেন; কখনও খারাপ কাজের আদেশ করেন না। পক্ষান্তরে ভালো ও সৎ জিনরা মানুষকে ভালো কাজের আর খারাপ জিনরা পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের নির্দেশ দেয়।

3⃣  ৩য়: ফেরেশতাদের মধ্যে জৈবিক চাহিদা নাই। পক্ষান্তরে জিনদের মাঝে জৈবিক চাহিদা আছে।

4⃣  ৪র্থ: ফেরেশতা ও জিন উভয়েই বিভিন্ন আকার-আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম কিন্তু ফেরেশতারা কখনও খারাপ ও ভয়ঙ্কর জিনিসের রূপ ধারণ করেন না বরং তারা কখনও কখনও সুন্দর ও ভালো জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষের সামনে হাজির হয়। যেমন, বিখ্যাত হাদিসে জিবরাঈল। জিবরাঈল ফেরেশতা একজন সুদর্শন যুবকের আকৃতিতে দ্বীন ইসলাম শিখানোর জন্য সাহাবীদের সামনে উপস্থিত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কতিপয় প্রশ্নের মাধ্যমে তাদেরকে দ্বীন শিখিয়েছেন।

 পক্ষান্তরে জিনরা ভালো-মন্দ উভয় জিনিসের আকার ধারণ করে। খারাপ জিনগুলো কখনও কখনো ভয়ঙ্কর ও নোংরা জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষকে ভয় দেখায়।

♻ ইবলিস শয়তান কি জিন ছিল না কি ফেরেশতা ছিল?

এর উত্তরে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীটি যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ

“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলিস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল।” (সূরা কাহফ: ৫০)

 আল্লাহু আলাম

▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬

উত্তর প্রদানে: 

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

প্রশ্ন: জিন ও শয়তান কি একই না কি তাদের মাঝে পার্থক্য আছে?



উত্তর:

নিন্মে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শয়তানের পরিচয়, প্রকারভেদ এবং জিন ও শয়তানের মাঝে পার্থক্য তুলে ধরা হল:


🌀 শয়তান কাকে বলে?


শয়তান বলতে কী বুঝায় সে ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্য তুলে ধরা হল:

◈ বিশিষ্ট ভাষাবিদ, ফিকাহ বিদ ও হাদিস বিদ আবু উবাইদ কাসেম বিন সাল্লাম [জন্ম: ১৫৭ হি:-২২৪ হি:] বলেন:

الشيطان كل عات متمرد من إنس, أو جن

“প্রত্যেক অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘণকারীকে শয়তান বলা হয়।” (বাহরুল উলুম লিস সামারকান্দি ১/২৭৭)

◈ আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক [জন্ম ৮৫ হি:-মৃত্যু: ১৫১ হি;] বলেন:

إنما سمي شيطاناً لأنه شطن عن أمر ربه، والشطون البعيد النازح

“শয়তানকে এই জন্যই শয়তান বলা হয় যে, সে আল্লাহর নির্দেশ পালন থেকে দূরে থাকে। কেননা আরবিতে الشطون-শাতূন শব্দের অর্থ হল, দূরে অবস্থানকারী ও পলাতক।” [আয যীনাহ ফিল কালিমাতুল ইসলামিয়্যাতিল আরাবিয়াহ ২/১৭৯]

Thursday, 24 September 2026

জিন সম্পর্কে জরুরি কিছু তথ্য

 


▬▬▬◆◯◆▬▬▬

প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন করেছেন। আমি জানতে চাই, জিনদের মধ্যে কি নারী-পুরুষ আছে? যদি থাকে তাহলে এরা কি বংশ বিস্তার করে? আর এরা কোথায় থাকে? এদের কি কোন দেশ আছে?

উত্তর:

নিম্নে কুরআন, হাদিস ও আলেমদের মতামতের আলোকে জিন সংক্রান্ত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হল:

وبالله التوفيق و السداد

■ জিনদের মাঝে নারী-পুরুষ:

মানুষের মতই জিনদের মাঝেও পুরুষ এবং নারী জিন আছে। যেমন: আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে প্রবেশ কালে বলতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ

"আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস"

"হে আল্লাহ, তোমার নিকট নাপাক নর-নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।" (বুখারি ও মুসলিম)

■ জিনদের সন্তান-সন্তুতি ও বংশ বিস্তার:

জিনরাও জন্ম গ্রহণ করে, তাদের বংশ বিস্তার হয় এবং তাদের সন্তান-সন্ততি আছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ

“অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে (ইবলিস) এবং তার বংশধরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করছ?” (সূরা কাহাফ: ৫০)

Sunday, 20 September 2026

কানতারা ও পুলসিরাত: পরিচয় ও পার্থক্য

 


এখানে আকিদা বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাশরের ময়দান-সংশ্লিষ্ট ‘কানতারা’ ও ‘পুলসিরাত’-এর পরিচয় এবং এ দুটির পার্থক্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

❑ ১. কানতারা কী?

আরবিতে 'কানতারা' (القَنْطَرَة) শব্দটি সেতু (الجِسْر) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সুপ্রসিদ্ধ আরবি অভিধান লিসানুল আরবে উল্লেখিত হয়েছে।

ইমাম আইনি সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে কানতারা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনুত-তীনের উক্তি উদ্ধৃত করে‌ বলেন,

«اَلْقَنْطَرَةُ كُلُّ شَيْءٍ يُنْصَبُ عَلَى عَيْنٍ أَوْ وَادٍ»

"কানতারা বলতে বোঝায় এমন যেকোনো কিছু, যা কোনও ঝরনা বা উপত্যকার ওপর স্থাপিত হয়।"

এ সংক্রান্ত হাদিস: 

সহিহ বুখারির বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (( يَخْلُصُ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ، فَيُحْبَسُونَ عَلَى قَنْطَرَةٍ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيُقَصُّ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ مَظَالِمُ كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي الدُّنْيَا، حَتَّى إِذَا هُذِّبُوا وَنُقُّوا أُذِنَ لَهُمْ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَأَحَدُهُمْ أَهْدَى بِمَنْزِلِهِ فِي الْجَنَّةِ مِنْهُ بِمَنْزِلِهِ كَانَ فِي الدُّنْيَا ))

"মুমিনরা যখন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে তখন তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি কানতারায় (সেতুতে) আটকে দেওয়া হবে। সেখানে দুনিয়ায় তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক জুলুম ও অন্যায়-অবিচার হয়েছিল তার কিসাস (বদলা) নেওয়া হবে। যখন তারা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! জান্নাতে তাদের নিজেদের আবাসের পথ দুনিয়ার আবাসের চেয়েও অধিক পরিচিত হবে।" [সহিহ বুখারি, ২৪৪০]

❑ কানতারা: জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে জান্নাতগামী সৌভাগ্যবান মুমিনদের আত্মিক পরিশুদ্ধির বিশেষ স্থান 

যেসব মুমিন পুলসিরাতের মতো ভয়াবহ সেতু অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন

তাদের পারস্পরিক মনের পরিচ্ছন্নতার জন্য কিসাসের ব্যবস্থা করা হবে। 

অধিক সওয়াবের আশায় দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যাওয়া কি শরিয়তসম্মত?

 


প্রশ্ন: যাদের বাড়ি মসজিদের নিকটবর্তী তারা কি বেশি নেকি লাভের আশায় (জুমার দিন অথবা অন্য যেকোনো দিন) রাস্তা পরিবর্তন করে দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যেতে পারবেন কিনা?

উত্তর:

ইসলাম ইবাদত ও দৈনন্দিন জীবন যাপনের সর্বক্ষেত্রে সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহিত করে। কৃত্রিম উপায়ে নিজেকে কষ্টে ফেলা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন পথ বেছে নেওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। তাই অযথা নিজের ওপর বাড়তি কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত।

এই কারণে অধিক সওয়াবের আশায় নিকটস্থ মসজিদ এড়িয়ে দূরের মসজিদে যাওয়া কিংবা অনর্থক দীর্ঘ পথ ঘুরে মসজিদে যাওয়া সমীচীন নয়।

আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

«يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا»

"তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণা ছড়িও না।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) বলেন:

Thursday, 17 September 2026

নাটক-সিনেমা নির্মাণকারী ও নায়ক-নায়িকা ও অভিনেতা এবং কলা-কুশলী ইত্যাদির প্রতি সতর্কবার্তা

 


হারাম নাটক-সিনেমা, মিউজিক ভিডিও ইত্যাদি তৈরিতে যেসব নায়ক-নায়িকা, অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, কলা-কুশলী প্রমুখগণ জড়িত তারা সকলেই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ যারা সমাজে পাপ কর্মের প্রসার ঘটায় এবং মানুষকে প্রকাশ্যে পাপাচারে উদ্বুদ্ধ করে তাদের অপরাধ অত্যন্ত ভয়ানক। আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় জগতে কঠিন শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। যেমন: মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

“যারা পছন্দ করে যে, ইমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহ ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা নূর: ১৯]

অশ্লীল, হারাম কার্যক্রম ও পাপকর্ম করা আল্লাহর নিকট ঘৃণিত এবং শাস্তিযোগ্য গুনাহ হলেও আল্লাহ চাইলে এসব গুনাহগারকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু পাপ বিস্তারে জড়িত লোকদের কোন ক্ষমা নেই।

সুতরাং আমাদের সমাজে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হারাম স্টেজ শো, কনসার্ট, গান-বাজনার প্রতিযোগিতা, ছেলে-মেয়েদের মডেলিং, মিউজিক ও নাচ-গান শিক্ষা, মিউজিক ভিডিও, অশ্লীল ওয়েব সিরিজ, নোংরা রোমান্টিক ভিডিও, নাটক-সিনেমা, কাছে আসার গল্প ইত্যাদি নানা ধরনের হারাম জিনিস বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, youtube ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা সবাই উক্ত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। কারণ তারা সমাজে অশ্লীলতা প্রসারকারী।

Friday, 11 September 2026

ইয়েমেনে হুথি মিলিশিয়ার নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র—নতুন প্রতিবেদন:

 


ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ পরিসংখ্যান:

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া বেসামরিক ইয়েমেনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৮,৯০৪টি হত্যা ও আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছে।

🔴 নিহত: ১৭,১১৫ জন (এর মধ্যে ১,৪১৪ জন নারী, ১,১৫৬ জন শিশু)

🟠 আহত: ৪১,৭৮৯ জন (এর মধ্যে ৬,৭১০ জন নারী, ৫,০২৪ জন শিশু)

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে হুথিদের পুঁতে রাখা স্থলমাইনের কারণেই ঘটেছে ১,৬৩৭টি মৃত্যু ও ৬,১৩৫টি আহতের ঘটনা — যার শিকার হয়েছে বহু শিশু ও নারী। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৭৯৮ জন (এর মধ্যে ৩৯৭ জন শিশু) স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছেন।

▪️ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে:

- মসজিদ: প্রায় ৭৫০টি (আংশিক/সম্পূর্ণ ধ্বংস, গোলাবর্ষণ ও লুটপাটসহ) — এর মধ্যে ২৯৯টি সরাসরি পরিকল্পিত ভাঙচুর/ধ্বংসের শিকার।

- মাদ্রাসা (কুরআন হিফজ প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ যৌথ হিসাব): ৭৬টি 

- সরাসরি বিস্ফোরণে ধ্বংস

ঘরবাড়ি: ১০,০০০-এর বেশি (শুধু তাইজ প্রদেশের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত/ধ্বংসপ্রাপ্ত — জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক সংখ্যা পাওয়া যায়নি)

সূত্র: ইয়েমেনি ওয়াকফ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন (২০১৭-২০২৬)

 বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাতে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বিপর্যস্ত, এই পরিসংখ্যান তারই এক করুণ প্রতিচ্ছবি। 🇾🇪💔

সূত্র: ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস / আল-আরাবিয়া।

ইরানের খোমেনি বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হয়ে একই স্টাইলে এই হুতি মিলেশিয়ারা ইয়েমেনে শিয়া বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুরু করেছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম।‌ আর এর পেছনে পূর্ণ উৎসাহ, রসদ-সামগ্রী, অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থ যোগান দিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরান। 

যার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। 

হাদি রিয়াদে আশ্রয় নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা চান, যাতে হুথি মিলিশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইয়েমেন ও তার জনগণকে রক্ষা করা যায়।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৯ বা ১০টি আরব-মুসলিম দেশের একটি জোট "অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম" (عاصفة الحزم) নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যা বর্তমানেও ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন উপজাতিগোষ্ঠীর সাথে সমন্বিত ভাবে সাথে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

আল্লাহ তায়ালা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং তাদের সাহায্যকারীদেরকে ধ্বংস করুন, ইয়েমেন এবং সে  দেশের নিরপরাধ জনগণকে হেফাজত করুন এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে আনুন প্রকৃত শান্তি। আল্লাহুম্মা আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল 

ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতী শিয়াদের আসল চেহারা

  


ভূমিকা

الْحَمْدُ لِلّهِ والصَّلاَةُ السَّلامُ عَلي رَسُوْلِ اللهِ وعَلى آلِه وصَحْبِه ومَنْ وَالَاه وبَعْدُ:


ভূমিকা: হুতী নামটি বর্তমানে অনেকের কাছে পরিচিত। যাদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বিরুদ্ধে সউদী আরবের নেতৃত্বে ‘আসিফাতুল হাযম’ নামে একটি যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাভাষী অনেকেই এই হুতী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখে না। ফলে বিভিন্ন শিয়া প্রভাবিত এবং ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়ার কারণে অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। অথচ মুসলিম বিশ্বের উপর এই ঘটনা-প্রবাহের সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ছে এবং পড়বে-তাতে কোন সন্দেহ নাই। তাই এ সম্পর্কে মুসলিম যুবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।


এই প্রেক্ষাপটে সউদী আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত কিং সউদ ইউনিভার্সিটি’র ‘আকীদা ও সমকালীন মতবাদ’ এর অধ্যাপক প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন সালিহ আল গুসন রচিত বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি অনুবাদ করা হল যেন,বাংলাভাষী মুসলিমগণ এই ফিতনার ব্যাপারে সচেতন হতে পারে।


অত্র পুস্তিকাটিতে শিয়া হুতী সম্প্রদায়ের উৎস, পরিচিতি, ক্রমবিকাশ,কার্যক্রম, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রাসাঙ্গিক ভাবে রাফেযিয়া-ইমামিয়া-ইসনা আশারিয়া সম্প্রদয়ের মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।


আল্লাহ তায়ালা তার জমিনে সত্যের পতাকা উড্ডীন করুন। বাতিল ও মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করে দিন এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।


-অনুবাদক:


আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

তারিখ: ১৯-০৪-২০১৫ইং

বইটি ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:


হুতী শিয়াদের আসল চেহারা (ওয়ার্ড)

হুতী শিয়াদের আসল চেহারা (পিডিএফ)

 

 হুতীদের উৎস ও পরিচয়

হুতীরা হল, উত্তর ইয়েমেনের সা’দাহ[1] এলাকার একটি সম্প্রদায়ের নাম। এদের উৎপত্তি জারুদীয়া সম্প্রদায় থেকে। জারুদিয়া হল, শিয়া-যায়দিয়াদের একটি গোঁড়া ও উগ্রপন্থী ফিরকা।


হুতীরা রাফেযিয়া-ইসনা আশারিয়া সম্প্রদায়ের মত উগ্রপন্থী আকীদা-বিশ্বাস প্রচার শুরু করে এবং ইরানের সাহায্য-সহযোগিতা ও আশির্বাদ পুষ্ট হয়ে শিয়া বিপ্লবের নায়ক খোমেনীর আদর্শ ও পদ্ধতির আলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করতে থাকে।


হুতী সম্প্রদায়ের পরিচয়ের আগে জারুদিয়াদের সম্পর্কে আলোকপাত করা প্রয়োজন। যাতে স্পষ্ট হয়, জারুদিয়া সম্প্রদায় ভূক্ত এই হুতী এবং রাফেযিয়া ইসনা আশারিয়াদের মাঝে কতটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে আর কিভাবে তারা ইমামিয়া-ইসনা আশারিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।


[1] ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ২৪২ কি:মি: দূরে অবস্থিত একটি জেলা।

 

 জারুদিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয়

প্রতিষ্ঠাতা: জারুদিয়ার সম্প্রদায়টির নাম করণ হয় আবুল জারুদ নামক এক ব্যক্তির নামানুসারে। তার পুরো নাম, যিয়াদ বিন মুনযির আল হামাদানী আল কূফী।

Thursday, 10 September 2026

রাত কেন্দ্রিক ২৮টি কুসংস্কার



▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

ভূমিকা: ইসলামের দৃষ্টিতে সমস্ত কল্যাণ-অকল্যাণের চাবিকাঠি রয়েছে একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। তার লিখিত তকদিরের বাইরে কেউ কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন বস্তু ও জড়পদার্থ নিজে নিজে কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন পাখির ডাক বা পশুর আওয়াজ মানুষের জন্য কল্যাণ বা অকল্যাণকর বলে বিবেচিত হতে পারে না, কোন বৈধ কাজ কখনো অশুভ হতে পারে না তা রাত বা দিন যখনই করা হোক না কেন। এটা দেখলে এই হয়..ওটা দেখলে ঐ হয় এগুলো সব কুসংস্কার ও জাহেলিয়াত পূর্ণ বিশ্বাস। ইসলাম এ সব ভ্রান্ত বিশ্বাসের কঠোর বিরোধিতা করেছে।

মূলত: মানুষের তৈরি যুক্তিহীন এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস, কথা, কাজ ও প্রথাকে সহজ বাংলায় কুসংস্কার বলা হয়।

ইসলামের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অশিক্ষা যাবতীয় কুসংস্কার সৃষ্টির মূল কারণ। মানুষ চরম অন্ধবিশ্বাসে নানা ধরণের কুসংস্কার লালন করে। সাধারণত গ্রামীণ লোকজনের মাঝে কুসংস্কারের প্রভাব ও প্রবণতা একটু বেশি লক্ষ করা যায়। তবে শহুরে লোকজন এসব থেকে মুক্ত নয়। এমনকি বহু নাম করা নায়ক, নায়িকা, গায়ক, গায়িকা, খেলোয়াড়, রাজনৈতিক নেতা, সিলিব্রিটি, লেখক সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন রয়েছে।

মৃতদেহে ধাতব প্লেট, নাট বা স্ক্রু থাকলে তা বের করা যাবে কি?

 


প্রশ্ন: কারো শরীরের ভেতরে যদি লোহা, স্টিল বা এ জাতীয় কোনও ধাতুর তৈরি প্লেট, নাট বা স্ক্রু থাকে এবং এমতাবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে কি তাকে এইসব জিনিসসহই দাফন করা হবে নাকি অপারেশন করে তা শরীর থেকে বের করে নিতে হবে? এ ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কী?

উত্তর:

শরিয়তের মূলনীতি হলো, জীবিত মানুষের মতো মৃত মানুষেরও পূর্ণ সম্মান ও হুরমত রয়েছে।যার কারণে শরিয়ত কারণ ছাড়া তার দেহ কাটাছেঁড়া করা জায়েজ নাই।। এ কারণে কোনও ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার শরীরে প্ল্যাটিনামের স্ক্রু বা লোহার প্লেট ইত্যাদি আছে তাহলে শরিয়তের বিধান হলো, তাকে তা-সহই দাফন করা হবে। এগুলো বের করার জন্য শরীর অপারেশন বা কাটাছেঁড়া করা জায়েজ হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে,

«إِنَّ كَسْرَ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا»

"মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙা জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙার মতোই।" [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬১৬]

ব্যতিক্রম কেবল তখনই, যখন ধাতুটি অন্য কারও অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হয় এবং তারা তা দাবি করে, আর তা বের করতে গিয়ে লাশের বড় কোনও বিকৃতি ঘটে না। সাধারণ চিকিৎসা সরঞ্জাম, যেমন:—লোহার নাট, স্ক্রু কিংবা পেসমেকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনও অপারেশন ছাড়াই তা-সহ দাফন সম্পন্ন করতে হবে।

Saturday, 5 September 2026

কুরআন কি আল্লাহর সৃষ্ট, নাকি অসৃষ্ট কালাম? তিলাওয়াতের আওয়াজ বা কণ্ঠস্বর, কুরআন লেখার কাগজ, কালি ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক আকিদা কী?

 


প্রশ্ন: কুরআন মাজিদের শব্দ ও অর্থ কি সৃষ্ট, নাকি আল্লাহর অসৃষ্ট কালাম? তিলাওয়াতের আওয়াজ ও লেখার কাগজ ইত্যাদি বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-এর আকিদা কী?


উত্তর:

মহাগ্রন্থ কুরআন মহান আল্লাহর কালাম (বাণী), যা তাঁর সিফাত বা গুণ। কুরআনের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ এবং তার অর্থ—সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং অসৃষ্ট। ইমাম ইবনে কুদামা আল মাকদিসি (রহ.) তাঁর "লুমআতুল ই'তিকাদ" গ্রন্থে বলেন:


مُنَزَّلٌ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ


"(কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে) অবতীর্ণ, অসৃষ্ট; তাঁর থেকে শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।" [লুমআতুল ই'তিকাদ, পৃষ্ঠা: ১৮]


এই বিশুদ্ধ আকিদাটি মূলত দুটি ভ্রান্ত মতবাদকে খণ্ডন করে:



◈ মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের মত, যাদের আকিদা হলো, কুরআন (শব্দ ও অর্থ উভয়ই) সৃষ্ট।

◈ পরবর্তী কিছু কালাম-শাস্ত্র বা যুক্তিবিদ (আশআরি-মাতুরিদি মতাবলম্বীদের একাংশ)-এর মত, যারা বলে আমরা মুখে যে কুরআন তিলাওয়াত করি তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আসল কালাম নয়; বরং আল্লাহর আসল কালাম হলো কেবল একটি অদৃশ্য "অর্থ" (কালামে নাফসি বা আল্লাহর আত্মিক বাণী)। তাদের ধারণা অনুযায়ী, আমরা মুখে যে কালাম পাঠ করি তা সেই আসল অর্থের একটি মানবীয় প্রকাশ বা অনুবাদ মাত্র, যা সৃষ্ট।

অসুস্থতার কারণে সালাত পরিত্যাগের বিধান এবং এ অবস্থায় তা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি

 


প্রশ্ন: রিয়াদ-সৌদি আরব থেকে শ্রোতা হাসান বিন হাদি প্রশ্ন করেছেন যে, কিছু রোগী অসুস্থতার সময় ফরজ সালাত আদায় করে না—হয় তা আদায়ের সামর্থ্য না থাকার কারণে অথবা এই আশা রাখার কারণে যে, সুস্থ হওয়ার পর তা কাজা করে নিবে। যে রোগী বিছানা থেকে উঠতে সক্ষম নয়, ওজু ছাড়া এবং বিছানায় শুয়ে যেদিকেই মুখ ফিরে থাকুক না কেন তার সালাত কি সহীহ হবে? অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর: 

রোগীর জন্য সালাত আদায় করা ফরজ। জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করা রোগীর সাধ্যানুযায়ী তার ওপর অপরিহার্য। এগুলো পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়। বরং তাকে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করতেই হবে। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন রোগীকে তার জিজ্ঞাসার জবাবে বলেছিলেন,

صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ

"তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, যদি সামর্থ্য না থাকে তবে বসে, আর যদি তাও সামর্থ্য না থাকে তবে কাত হয়ে (এক পাশে শুয়ে)।" [সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত]

সুনানে নাসাইর বর্ণনায় এর সাথে অতিরিক্ত এসেছে—

Monday, 31 August 2026

শিশুদের রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) করার সহজ ও সঠিক পদ্ধতি:



সন্তান আমাদের জীবনের অমূল্য আমানত। তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য পার্থিব চেষ্টার পাশাপাশি পরম করুণাময়ের ওপর ভরসা রাখা এবং সুন্নাহসম্মত উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের বিভিন্ন বালা-মুসিবত, বদনজর ও অসুস্থতা থেকে সুরক্ষায় কুরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর মাধ্যম। তাই এ বিষয়ে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা উচিত।

নিচে শিশুদের সুরক্ষায় রুকিয়ার শরিয়তসম্মত সহজ ও সঠিক পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় দোয়া (উচ্চারণ ও অর্থ সহ) উপাস্থাপন করা হলো:

❑ প্রতিরক্ষামূলক দোয়া: (ইবরাহিম আ. এর রুকিয়া)

«أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» 

উচ্চারণ: উঈযুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শাইতানিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আ'ইনিন লা-ম্মাহ। 

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমা দ্বারা তোমাকে আশ্রয় দিচ্ছি সব ধরনের শয়তান, বিষাক্ত জীবজন্তু এবং ক্ষতিকর নজর থেকে। 

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইন (রা.) এই দোয়া দিয়ে আশ্রয় দিতেন এবং বলতেন: "তোমাদের পিতা (ইবরাহিম) তার দুই সন্তান ইসমাইল ও ইসহাককে এই কালিমা দিয়ে আশ্রয় দিতেন। " [সহিহ বুখারি] 

এই দুয়াটি সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমানোর আগে পড়া যায়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা আবশ্যক নয়। শুধু পড়াই যথেষ্ট; ফুঁ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

❑ রোগ ও নজর থেকে আরোগ্যের দোয়া: (জিরাইল আ. এর রুকিয়া)

«بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ» 

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ'যিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আ’ইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লাহি আরক্বীকা। 

অর্থ: “আল্লাহর নামে তোমাকে রুকিয়া করছি সেসব জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয় সব অনিষ্টকারী আত্মা বা হিংসুকের নজর থেকে। আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দিন। আল্লাহর নামে তোমাকে রুকিয়া করছি।” 

জিবরাইল (আ.) নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দোয়া দিয়ে রুকিয়া করেছিলেন। [সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৮৬] 

এটি রুকিয়ার দোয়া। তাই পড়ার পর সাধারণ রুকিয়ার নিয়মে বাচ্চার শরীরে হালকা ফুঁ দিতে পারেন।

❑ বালা-মসিবত, বদনজর, জাদু-টোনা, জিনের আক্রমণ ইত্যাদি থেকে বাঁচার দোয়া:

Sunday, 30 August 2026

ইসলামের দৃষ্টিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের শর্তাবলী এবং মূলনীতি:📱📞

 


একথায় কোন সন্দেহ নাই যে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম। এটি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে যে, এ ছাড়া বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের জীবন যাপন কষ্টসাধ্য বা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে ইসলামিক দৃষ্টি থেকে এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের মূলনীতি এবং শর্তাবলী জানা অপরিহার্য।


📱নিচে মোবাইল ফোন ব্যবহারের শর্তাবলী এবং মূলনীতিগুলো তুলে ধরা হলো:


▪️১. বৈধ এবং কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা:

মোবাইল ফোন আল্লাহর দেওয়া এক বড় নেয়ামত। কিন্তু এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের গন্তব্য—জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এর সঠিক ব্যবহারে আমরা যেভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল কল্যাণ অর্জন করতে পারি তেমনি এর অপব্যবহারে জীবনে নেমে আসতে পারি চরম বিপর্যয়, বিশৃঙ্খলা এবং অন্ধকার।


যে প্রযুক্তি দিয়ে আমরা কুরআন তিলাওয়াত, ইলম অর্জন, ইসলামের প্রচার-প্রসার, আত্মীয়তার হক আদায় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই প্রযুক্তিই যদি হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে তবে তা ইহকাল ও পরকাল—উভয়কেই ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।


আমাদের সমাজের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেকেই এই মোবাইলকে গিবত, চোগলখুরি, হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো এবং মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

অনেকেই এর মাধ্যমে অবৈধ সম্পর্ক ও পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য পারিবারিক বন্ধন এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে রক্তপাত, হত্যাকাণ্ড সহ নানা বিশৃঙ্খলা।


এছাড়াও মোবাইল ফোনকে অশ্লীলতার প্রসার, গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং অবৈধ চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিতেই হারাম নয় বরং সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ।

অনেক যুবক অনলাইন ভিত্তিক জুয়া বা বেটিংয়ের মতো মরণফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ এগুলো সুস্পষ্ট হারাম এবং কবিরা গুনাহ।

আজকের দিনে অনলাইন গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস কিংবা অন্তহীন নাটক-সিনেমা মানুষকে এমন এক কৃত্রিম নেশায় ডুবিয়ে রেখেছে, যা তার জীবনের মূল্যবান সময়কে তিলে তিলে ধ্বংস করছে। বাস্তবতার চেয়ে ভার্চুয়াল জগত নিয়ে পড়ে থাকাটা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর পরিণাম মারাত্মক ভয়াবহ। যেমন:

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...