Showing posts with label আযান. Show all posts
Showing posts with label আযান. Show all posts

Wednesday, 26 February 2020

ওয়াক্ত শুরুর পূর্বেই আজান দেওয়ার বিধান


·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রদত্ত ফতোয়া—
س:‏ ما حكم من أذن قبل دخول الوقت بعشر دقائق، وهل عليه الإعادة، أرجو الجواب‏؟‏ جزاكم الله خير الجزاء‏.‏
جـ‏:‏ لا يجوز الأذان قبل دخول الوقت، ومن أذن وتبين له أن أذانه وقع قبل دخول وقت الصلاة التي أذن لها وجب عليه أن يعيد الأذان بعد دخول الوقت، إلا صلاة الفجر فإنه يؤذن لها الأذان الأول قبل دخول الوقت، ثم يؤذن لها بعد دخول الوقت‏.‏ وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم‏.‏
প্রশ্ন: “ওয়াক্ত শুরু হওয়ার মিনিট দশেক আগেই যে ব্যক্তি আজান দিয়েছে, তার বিধান কী? তাকে কি পুনরায় আজান দিতে হবে? আমি (এ ব্যাপারে) উত্তর আশা করছি। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম পারিতোষিক দান করুন।”
উত্তর: “ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে আজান দেওয়া জায়েজ নয়। যে ব্যক্তি আজান দিয়েছে, এবং তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, যেই নামাজের জন্য সে আজান দিয়েছে, সেই নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই তার আজান সম্পন্ন হয়েছে, তাহলে ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পরে পুনরায় আজান দেওয়া তার জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক)। কেবল ফজরের নামাজ ব্যতীত। ফজরের নামাজের জন্য ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে প্রথম আজান দিতে পারবে, এরপর ওয়াক্ত শুরু হলে (দ্বিতীয়) আজান দিবে। [১]
আর আল্লাহই তৌফিকদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
ফতোয়া প্রদান করেছেন—
চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)।
ডেপুটি চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুর রাযযাক্ব ‘আফীফী (রাহিমাহুল্লাহ)।
মেম্বার: শাইখ ‘আব্দুল্লাহ বিন ক্বা‘ঊদ (রাহিমাহুল্লাহ)।
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. যেহেতু হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “বিলালের আজান যেন তোমাদেরকে সেহরি খাওয়াতে বাধা না দেয়।” (আবূ দাঊদ, হা/২৩৪৬; সনদ: সাহীহ) রাসূল ﷺ আরও বলেন, “ইবনে উম্মে মাকতূমের আজান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করো। কারণ সে ফজর উদয় না হলে আজান দেয় না।” (সাহীহ বুখারী, হা/১৯১৮)
·
তথ্যসূত্র:
ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ, ফতোয়া নং: ৫৯৫৩; প্রশ্ন নং: ২০; গৃহীত: আল-ইমান ডট কম।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Tuesday, 29 March 2016

আযান এবং মুয়াযযিন (পর্ব-৩)


unnamedىغ7আযান এবং মুয়াযযিন (পর্ব-৩)
লেখক: আব্দুর রাক্বীব মাদানী
সম্পাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
মুয়াযযিনের বেতন-ভাতাঃ
বিষয়টির কয়েকটি অবস্থা হতে পারে এবং অবস্থার প্রেক্ষিতে বিধানও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। নিম্নে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলঃ
১- যদি মুয়াযযিন কেবল পার্থিব লাভের উদ্দেশ্যেই আযান দেয়, তাহলে এমন করা হারাম ও বড় গুনাহ। মনে রাখা উচিৎ, আযান দেওয়া ইবাদত। আর ইবাদত কবুলের প্রথম শর্তই হচ্ছে, ইখলাস। অর্থাৎ যে কোন ইবাদত তা যেন কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়। অর্থ পাবার উদ্দেশ্যে কিংবা পদ লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা নিজের সুন্দর কণ্ঠের মাধ্যমে লোকের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্য থাকলে, তাতে আর ইখলাস থাকে না। যার ফলে ইবাদতটি কবুল হয় না এবং তা ছোট শিরকে পরিণত হয় । কারণ ইবাদত, যা কেবল আল্লাহর জন্যই খাঁটি ভাবে হওয়া কাম্য, তাতে সে পার্থিব উদ্দেশ্যকে অংশী করেছে।
তাই আক্বীদার পণ্ডিতগণ বলেনঃ মূল ইবাদতের মাধ্যমে কেবল দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্য করা, যেমন হজ্জ করা পয়সার জন্য, জিহাদ করা গনিমতের সম্পদ পাওয়ার জন্য, অনুরূপ আযান দেওয়া কেবল বেতনের জন্য, যাতে আল্লাহর কোন সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থাকে না। এই প্রকারের আমল বাতিল এবং ছোট শিরক। [দেখুন,তাসহীলুল আক্বীদা,ড.জিবরীন,পৃঃ৩৭৬]
আল্লাহ বলেনঃ “যারা এ দুনিয়ার জীবন আর তার শোভা সৌন্দর্য কামনা করে, তাদেরকে এখানে তাদের কর্মের পুরোপুরি ফল আমি দিয়ে দেই, আর তাতে তাদের প্রতি কোন ঘাটতি করা হয় না। কিন্তু আখেরাতে তাদের জন্য আগুন ছাড়া কিছুই নাই। এখানে যা কিছু তারা করেছে তা নিষ্ফল হয়ে গেছে,আর তাদের যাবতীয় কাজ-কর্ম ব্যর্থ হয়ে গেছে।) [হূদ,১৫-১৬]

Wednesday, 16 March 2016

আযান ও মুয়াযযিন (পর্ব-২)

unnamedىغ7আযান ও মুয়াযযিন (পর্ব-২)
লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী
সম্পাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
আযানের পদ্ধতি ও শব্দসমূহঃ
১ম পদ্ধতিঃ  এই পদ্ধতিটি আব্দুল্লাহ বিন যাঈদ (রাযিঃ) এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং এটিকে বেলাল (রাযিঃ) এর আযানও বলা হয়। [কাশফুল্ লিসাম,২/১৬০] এই নিয়ম অনুযায়ী আযানের বাক্যসমূহের সংখ্যা ১৫ টি, ফজর ব্যতীত। প্রথমে তাকবীর ৪টি, আল্লাহর সাক্ষ্য ২টি, রিসালতের সাক্ষ্য ২টি, হায়আলা ৪টি, তাকবীর ২টি এবং শেষে তাওহীদের বাক্য ১টি।
আব্দুল্লাহ বিন যাইদ ইবনু আবদে রাব্বিহি হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে লোকদের একত্রিত করার উদ্দেশ্যে নাকূস বা ঘণ্টা বাজানোর আদেশ দিলেন, তখন এক রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, এক ব্যক্তি তার হাতে একটি  বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর বান্দা! তোমার ঘণ্টাটি বিক্রয় করবে কি? লোকটি বললঃ এ দ্বারা তুমি কী করবে? আমি বললামঃ এর দ্বারা আমি মানুষকে নামাযের আহ্বান করব। সে বললঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে উত্তম পন্থা শিখিয়ে দিব না? আমি বললামঃ হ্যাঁ, শিখিয়ে দাও। লোকটি তখন বললঃ তুমি এরূপ বলঃ
الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، أشهد أن لا إله إلا الله،  أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن محمداً رسولُ الله، أشهد أن محمداً رسولُ الله، حيَّ علىَ الصلاة، حيَّ علىَ الصلاة، حيَّ عَلىَ الفلاح، حيَّ عَلىَ الفلاح، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله.
(উচ্চারণঃ আল্লাহু আক্ বার, আল্লাহু আক্ বার, আল্লাহু আক্ বার, আল্লাহু আক্ বার, আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার্ রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার্ রাসূলুল্লাহ্, হাইয়্যা আলাস্ স্বালাহ্, হাইয়্যা আলাস্ স্বালাহ্, হাইয়্যা আলাল্ ফালাহ্, হাইয়্যা আলাল্ ফালাহ্, আল্লাহু আক্ বার, আল্লাহু আক্ বার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হ্।) [আবু দাউদ, স্বালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ আযানের নিয়ম নং (৪৯৯) তিরমিযী, নং (১৮৯) এবং ইবনু মাজাহ, নং (৭০৬)]
দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ এই পদ্ধতি অনুসারে আযানের শব্দসমূহের সংখ্যা ১৯। এই আযানকে ‘তারজী’ সহ আযান বলা হয়।
আযানে তারজী হল, সাধারণ আযান দেওয়ার মত প্রথমে জোর কণ্ঠে ৪বার আল্লাহু আকবার বলার পর ধীর কণ্ঠে  প্রথমে দুই বার আশহাদু আল্লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং দুই বার আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলা। অতঃপর পুনরায় সেই বাক্যগুলি পূর্বের মত জোর কণ্ঠে  বলা। [রাওযাতুত্ ত্বালেবীন,১/৩১০] এই ভাবে প্রথম নিয়মের তুলনায় এই নিয়মে দুই শাহাদাতের ৪টি বাক্য বেশী হয়। ফলে সর্বমোট আযানের বাক্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ টি।

Saturday, 5 March 2016

আযান ও মুআযযিন (১ম পর্ব)


unnamedىغ7আযান ও মুয়াযযিন (১ম পর্ব)
লেখক: শাইখ আব্দুর রাকী মাদানী
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
আল্ হামদুলিল্লাহ ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ।
ইতিপূর্বে ইমাম ও ইমামতি সংক্রান্ত বিভিন্ন মাসআলা মাসাইল নয়টি কিস্তিতে –আল্ হামদু লিল্লাহ- লিখতে সক্ষম হয়েছি। যেহেতু ইমামতির বিধি-বিধানের সাথে আযানের বিধি-বিধানেরও খুব কাছের সম্পর্ক রয়েছে তাই সেই ধারাবাহিকতায় এই লেখার অবতারণা। (ওয়ামা তাওফীক্বী ইল্লাহ বিল্লাহ)
আযানের অর্থঃ
আযানের আভিধানিক অর্থ হল, অবহিত করা, সংবাদ দেওয়া, ঘোষণা করা, জ্ঞাত করা।
শরিয়ার পরিভাষায় আযান হল, নামাযের সময় হলে ইবাদত স্বরূপ বিশেষ কিছু যিকরের মাধ্যমে স্বলাতের সংবাদ দেওয়া। [শারহুল মুমতি,২/৪০]
ইবনে হাজার (রাহেঃ) বলেন, বিশেষ কিছু শব্দের মাধ্যমে নামাযের সময়ের সংবাদ দেওয়া। [ফাতহুল বারী ২/১০২]
আযানের মর্মঃ
আযান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি ইসলামের বাহ্যিক নিদর্শন বা প্রতীক। এর মাধ্যমে একটি মুসলিম ও অমুসলিম সমাজের বাহ্যিক পার্থক্য নির্ণয় করা হয়। আনাস বিন মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত,
“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আমাদের নিয়ে কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন, তখন তাদের উপর আক্রমণ করতেন না যতক্ষণ সকাল না হত এবং দেখে না নেওয়া হত। যদি তিনি আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের উপর আক্রমণ করতেন না। আর যদি আযান না শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের উপর আক্রমণ করতেন।” [বুখারী, আযান অধ্যায়, নং ৬১০]
‘আযানের শব্দ সমূহ অল্প হলেও তাতে রয়েছে আক্বীদার বিধান। কারণ তা আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা দ্বারা শুরু হয়েছে, যাতে রয়েছে আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর পূর্ণতার বর্ণনা। অতঃপর দ্বিতীয়বার পুণরায় তাওহীদের বর্ণনা ও শির্কের অস্বীকৃতি। অতঃপর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রেসালতের প্রমাণ। রেসালতের সাক্ষীর পর বিশেষ ইবাদতের আহব্বান। কারণ সে ইবাদত রাসূলের মাধ্যমেই জানা যায়। অতঃপর সর্বাঙ্গীন সফলতার দিকে আহব্বান করা হয়েছে, তাতে ইঙ্গিত রয়েছে শেষ দিবসের প্রতি। অতঃপর তাগিদ স্বরূপ পুণরায় তা আবার বর্ণনা করা হয়েছে’। [ফাতহুল বারী,২/১০২]
আযানের সূচনাঃ
হিজরতের প্রথম বছরে আযানের সূচনা হয়। মুসলিমগণ যখন মদীনায় হিজরত করেন, তখন তারা নামাযের জন্য অনুমানের ভিত্তিতে একত্রিত হতেন, নামাযের জন্য ডাকের কোনো নিয়ম ছিল না। তাই তারা পরষ্পরে এ বিষয়ে পরামর্শ করেন। কেউ কেউ খৃষ্টানদের নাকূস বা ঘণ্টা বাজানোর নিয়মের কথা বলেন। অনেকে ইহুদীদের শিংগা ফুৎকারের কথা বলেন। [বুখারী, আযান অধ্যায়, নং ৬০৪] অতঃপর একটি সুন্দর ঘটনা ঘটে, যার পর আযান শরীয়তভুক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনা থেকে মুসলিমদের ইবাদতের আহ্বানের নিয়মে পার্থক্য নির্ণিত হয়।

Friday, 15 May 2015

প্রশ্নঃ আযানের জবাব কিভাবে দিতে হয়?


উত্তরঃ মুয়াজ্জিন আযানে যা যা বলবে তার সাথে সাথে তাই বলতে হবে, শুধুমাত্র হাইয়্যা আ’লাস সালাহ ও হাইয়্যা আ’লাল ফালাহ বললে জবাবে সেটা না বলে বলতে হবে “লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ”।
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
এটা হচ্ছে আযানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি। আযানের জবাব দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ।
বিঃদ্রঃ ফযরের আযানে আস-সালাতু খায়রুম-মিনান-নাওম ও জামাতের ইকামাতের সময় ক্বাদকা মাতিস সালাহ – এই দুইটি বাক্যের জবাবে এইগুলোই বলতে হবে। অন্য কিছু বলতে এমন কোনো কিছু সহীহ হাদীসে নাই – তাই যা আছে তাই বলতে হবে।
“আস-সালাতু খায়রুম-মিনান-নাওম” এর জবাবে “সাদাক্বতা ওয়া বারারতা” বলার কোনো ভিত্তি নেই (জাল কথা)।
মিরআ’ত ২/৩৬৩, হা/৬৬২।

Sunday, 24 August 2014

আযানের কিছু পরিতাজ্য বিষয়


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
hfuk
আযান
সংজ্ঞা : ‘আযান’ অর্থ, ঘোষণা ধ্বনি (الإعلام)। পারিভাষিক অর্থ, শরী‘আত নির্ধারিত আরবী বাক্য সমূহের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে উচ্চকণ্ঠে ছালাতে আহবান করাকে ‘আযান’ বলা হয়। ১ম হিজরী সনে আযানের প্রচলন হয়।[1]
সূচনা : ওমর ফারূক (রাঃ) সহ একদল ছাহাবী একই রাতে আযানের একই স্বপ্ন দেখেন ও পরদিন সকালে ‘অহি’ দ্বারা প্রত্যাদিষ্ট হ’লে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তা সত্যায়ন করেন এবং বেলাল (রাঃ)-কে সেই মর্মে ‘আযান’ দিতে বলেন।[2]

Monday, 4 August 2014

প্রশ্নঃ (২০১) আযানের জবাবে ‘রাযিতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দী-না, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ দু’আটি কখন বলতে হবে?


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যানি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু।
উত্তরঃ হাদীছের বাহ্যিক অর্থে বুঝা যায়, মুআয্‌যিন যখন ‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌ বলবে তখন তার জবাব দিয়ে বলবে, ‘রাযীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলা-মি দী-না, ওয়াবি মুহাম্মাদিন্‌ নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ কেননা হাদীছে এসেছেঃ
مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولا وَبِالإسْلامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ
“যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবেঃ ‘আশহাদু আন লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌ রাযীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন্‌ নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ অন্য রেওয়াতে বলা হয়েছেঃ “যে বলবে, ‘আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি’।”
এই কথাটি প্রমাণ করে যে, উক্ত দু’আটি মুআয্‌যিনের ‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌’ বলার পর পরই বলবে।

Saturday, 2 August 2014

যে ব্যক্তি আযান শুনে নিম্নের দুআটি পড়বে কিয়ামতের দিন তাঁর জন্য আমার শাফাআত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে

সহিহ আত্ তিরমিজি :: সালাত অধ্যায়

অধ্যায় ২ :: হাদিস ২১১
মুহাম্মদ ইবন সাকহল ইবন আসকার আল বাগদাদী ও ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব ....... জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ননা করেন যে রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে নিম্নের দুআটি পড়বে কিয়ামতের দিন তাঁর জন্য আমার শাফাআত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। দুআটি এইঃ.....

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ إِلَّا حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ لَا نَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ غَيْرَ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ وَأَبُو حَمْزَةَ اسْمُهُ دِينَارٌ
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.বলেনঃ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীছটি হাসান এবং মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের রিওয়ায়াত হিসাবে গরীব।শুআযব ইবন আবী হামযা ছাড়া ইবনুল মুনকাদিরক থেকে আর কেউ এ হাদছিটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমরা জানি না।

Jami at-Tirmidhi :: Something Else
Part 2 :: Hadith 211
Jabir bin Abdullah narrated that :
Allah's Messenger said: "Whoever says, when he hears the call: (Allahumma, rabba hadhihidda 'watit-tammati was Salatilqa'imah, ati Muhammadanil wasilata wal-Fadilata, wab'athhu Maqamun Mahmudan alladhi wa'adtahu) 'O Allah! Lord of this perfect call and established prayer, grant Muhammad Al-Wasilah and Al-Fadilah, and raise him to the praised station that you promised him' - then intercession on the Day of Resurrection is made lawful for him." (Sahih)


মুআযযিনের আযান শুনে যে ব্যাক্ত

সহিহ আত্ তিরমিজি :: সালাত অধ্যায়

অধ্যায় ২ :: হাদিস ২১০
কুতায়বা ......... সাদ ইবন আবী ওয়াককাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা  করেন যে, রাসূল বলেন মুআযযিনের আযান শুনে যে ব্যাক্ত মিম্নের দুআটি পড়বে আল্লাহ তাআলা তাঁর গুনাহ সমূহ মাফ করে দিবেন। দুআটি হলঃ...........
.
وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ
قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ حُكَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.বলেনঃএই হাদীছটি হাসান ও সহীহ গরীব। লায়ছ ইবন সাদ হুকায়ম ইবন আবদিল্লাহ ইবন কায়স সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে হাদীছটি বর্ণিত আছে বলে আমদের জানা নেই।

Jami at-Tirmidhi :: [What Has Been Related About] What Supplications Is Said [By A Muslim] When The Mu'adh-dhin Calls The Adhan
Part 2 :: Hadith 210
Sa'd bin Abi Waqqas narrated that :
Allah's Messenger said: "Whoever says, when he hears the Mu'adh-dhin: (Wa Ana Ashadu An La Ilaha Illallah, Wahdahu La Sharika Lahu, Wa Anna Muhammadan Abduhu Wa Rasuluhu, Radittu Billahi Rabban Wa Bil-Islam Dinan, Wa Bi Muhammadin Rasulan) 'I too testify that none has the right to be worshiped but Allah, Alone without partners, and that Muhammad is His slave and Messenger, I am pleased with Allah as my Lord, with Islam as my religion and Muhammad as a Messenger.' - Allah will pardon his sins for him." (Sahih)

তোমরা যখন আযানের আওয়ায শুনবে

সহিহ আত্ তিরমিজি :: সালাত অধ্যায়

অধ্যায় ২ :: হাদিস ২০৮
ইসহাক ইবন মূসা আল আনসারী ও কুতায়বা (র)......... সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা কেরন যে, রাসূল ইরশাদ করেন তোমরা যখন আযানের আওয়ায শুনবে তখন মুআযযিন যা বলছে তোমারাও তা বলবে।

এই বিষয়ে আবূ রাফি, আবূ হুরায়রা, উম্মু হাবীব, আবদুল্লাহ ইবন উমর, আদুল্লাহ ইবন রাবীআ, আইশা, মুআয ইবন আনাস ও মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.বলেনঃ আবূ সাঈদ বির্ণতাহদছিটি হাসান ও সহীহ। মুমার প্রমুখ রাবী যুহরী (র) এর বরাতে মালিক বর্ণিত রিওয়ায়াতের অনুরূপ (২০৮নং) বর্ণনা কেরছেন। আবদুর রহমান ইবন ইসহাক (র) যুহরী (র) থেকে এই হাদীছটি সাঈদ ইবনুল মসাইয়িব আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে মালিক বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About What Is Said [by A Man] When the Mu'adh-dhin Calls The Adhan
Part 2 :: Hadith 208
Abu Sa'eed narrated that :
Allah's Messenger said: "Whenyou hear the call (to prayer) then say the similar to what the Mu'adh-dhin says" (Sahih)

আযানের শব্দগুলো দুইবার এবং ইক্বামাতের শব্দগুলো এক একবার বলা

সহিহ আত্ তিরমিজি :: সালাত অধ্যায়

অধ্যায় ২ :: হাদিস ১৯৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ)-কে আযানের শব্দগুলো দুইবার এবং ইক্বামাতের শব্দগুলো এক একবার বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। -সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (৭২৯-৭৩০)।
       এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। নাবী সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতক সাহাবা, তাবিঈন, ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক (ইক্বামাতের শব্দগুলো একবার করে বলতে হবে)।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About Saying The Phrases Of The lqamah Once
Part 2 :: Hadith 193
Anas bin Malik narrated:

"Bilal was ordered to make the phrases of the Adhan even, and the phrases of the Iqamah odd." (Sahih)

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...