Showing posts with label ঈদের রাতের ফজিলতের বিশুদ্ধতা. Show all posts
Showing posts with label ঈদের রাতের ফজিলতের বিশুদ্ধতা. Show all posts

Friday, 16 August 2019

ঈদের রাতের ফজিলতের বিশুদ্ধতা


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
অনেক মুসলিম ভাই ও বোন ঈদের রাতকে মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে করেন এবং এ রাতে বিশেষ ইবাদত করে থাকেন। আবার এ বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন যে, সত্যিই ঈদের রাতের ফজিলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে কি না। একারণেই এ নিবন্ধটির অবতারণা। ঈদের রাতের ফজিলত সম্পর্কিত হাদীসগুলো বিশুদ্ধ কি না, ঈদের রাত উপলক্ষে ইবাদত করা যাবে কি না এবং এ ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ’র ‘আলিমদের বক্তব্য কী, তা সংক্ষেপে নিম্নে উল্লিখিত হলো।
·
ঈদের রাতের ফজিলত সম্পর্কিত হাদীস:
·
১. আবূ উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। নাবী ﷺ বলেন,
مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ.
“যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত করবে, তার অন্তর ওই দিন মরবে না, যে দিন অন্তরসমূহ মরে যাবে।” [ইবনু মাজাহ, হা/১৭৮২; সনদ: মাওদ্বূ‘/দ্ব‘ঈফ জিদ্দান/দ্ব‘ঈফ]
·
তাহক্বীক্ব:
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্ব‘ঈফ ইবনু মাজাহ’য় হাদীসটিকে “মাওদ্বূ‘ (বানোয়াট)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফ ইবনু মাজাহ, হা/৩৫৩।
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্ব‘ঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীবে হাদীসটিকে “মাওদ্বূ‘ (বানোয়াট)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৬৬৬।
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) সিলসিলাহ দ্ব‘ঈফাহ গ্রন্থে হাদীসটিকে “দ্ব‘ঈফ জিদ্দান (খুবই দুর্বল)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফাহ, হা/৫২১।
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্ব‘ঈফুল জামি‘ গ্রন্থে হাদীসটিকে “দ্ব‘ঈফ (দুর্বল)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফুল জামি‘, হা/৫৭৪২।
·
২. ‘উবাদাহ বিন সামিত (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। নাবী ﷺ বলেন,
ﻣﻦ ﺃﺣﻴﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻔﻄﺮ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻷﺿﺤﻰ ﻟﻢ ﻳﻤﺖ ﻗﻠﺒﻪ ﻳﻮﻡ ﺗﻤﻮﺕ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ.
“যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের রাত এবং ঈদুল আদ্বহার রাত জাগরণ করবে, তার অন্তর ওই দিন মরবে না, যে দিন অন্তরসমূহ মরে যাবে।” [মাজমা‘উয যাওয়াইদ, ২/১৯৮; সনদ: মাওদ্বূ‘]
·
তাহক্বীক্ব:
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) সিলসিলাহ দ্ব‘ঈফাহ গ্রন্থে হাদীসটিকে “মাওদ্বূ‘ (বানোয়াট)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফাহ, হা/৫২০।
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্ব‘ঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীবে হাদীসটিকে “মাওদ্বূ‘ (বানোয়াট)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৬৬৮।
ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্ব‘ঈফুল জামি‘ গ্রন্থে হাদীসটিকে “মাওদ্বূ‘ (বানোয়াট)” বলেছেন। দ্র.: দ্ব‘ঈফুল জামি‘, হা/৫৩৬১।
·
৩. মু‘আয বিন জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। নাবী ﷺ বলেন,
من أحيا اللياليَ الأربعَ، وجبت له الجنة: ليلةَ التروية، وليلة عرفة، وليلة النحر، وليلة الفطر.
“যে ব্যক্তি চারটি রাত জাগরণ করল, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল—(১) তারবিয়াহ’র রাত তথা ৮ জিলহজের রাত, (২) ‘আরাফাহর রাত তথা ৯ জিলহজের রাত, (৩) কুরবানীর রাত তথা ১০ জিলহজের রাত এবং (৪) ঈদুল ফিতরের রাত।” [আল-আমালী, ২/১৮৬; সনদ: মাওদ্বূ‘]
·

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...