Showing posts with label প্রশ্নত্তোর. Show all posts
Showing posts with label প্রশ্নত্তোর. Show all posts

Friday, 30 October 2026

কালোজিরা যদি সকল রোগের প্রতিষেধক হয় তাহলে এর থেকে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না কেন?

 


▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

প্রশ্ন: মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন- কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ওষুধ। তাহলে নিয়মিত কালোজিরা খেলেও রোগ সারে না কেন? কালোজিরা খাওয়ার কি কোনো নিয়ম আছে?

উত্তর:

প্রথমে আমরা কালোজিরা সম্পর্কে হাদিসে কী বলা হয়েছে তা জেনে নিব। এ সম্পর্কে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা হল:

▪ ১) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 

عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ فَإِنَّ فِيهَا شِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلاَّ السَّامَ ‏"‏ ‏.‏ وَالسَّامُ الْمَوْتُ

“তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা, এতে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের প্রতিষেধক রয়েছে।” [সূনান তিরমিযী, হাদিস নম্বরঃ [2048]অধ্যায়ঃ ৩১/ চিকিৎসা (كتاب الطب عن رسول اللَّهِ ﷺ), ইসলামিক ফাউন্ডেশন]

▪ ২) আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন:

 فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ، إِلاَّ السَّامَ

“কালোজিরায় মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৭ হাদিস নং ৫৬৮৮; মুসলিম ৩৯/২৯ হাঃ ২২১৫)

▪ ৩) বুরায়দা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إِنَّ هَذِهِ الْحَبَّةَ السَّوْدَاءَ فِيهَا شِفَاءٌ ، قَالَ وَفِي لَفْظٍ : قِيلَ وَمَا الْحَبَّةُ السَّوْدَاءُ ؟ قَالَ الشُّونِيزُ قَالَ

وَكَيْفَ أَصْنَعُ بِهَا ؟ قَالَ : تَأْخُذُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ حَبَّةً فَتَصُرُّهَا فِي خِرْقَةٍ ، ثُمَّ تَضَعُهَا فِي مَاءٍ لَيْلَةً فَإِذَا أَصْبَحْتَ قَطَرْتَ فِي الْمَنْخِرِ الْأَيْمَنِ وَاحِدَةً وَفِي الْأَيْسَرِ اثْنَتَيْنِ ، فَإِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ قَطَرْتَ فِي الْمَنْخِرِ الْأَيْمَنِ اثْنَتَيْنِ وَفِي الْأَيْسَرِ وَاحِدَةً ، فَإِذَا كَانَ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ قَطَرْتَ فِي الْأَيْمَنِ وَاحِدَةً وَفِي الْأَيْسَرِ اثْنَتَيْنِ 

নিশ্চয় এই কালোজিরায় আরোগ্য রয়েছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কালোজিরা কী? তিনি বললে, শুনীয। প্রশ্ন করলেন: কিভাবে তা ব্যবহার করবো?

তিনি বললেন:

Wednesday, 28 October 2026

গ্রোসারি ও কসমেটিক পণ্যের প্যাকেটে মানুষ বা জীবজন্তুর ছবি থাকলে তা ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান



প্রশ্ন: বর্তমানে অধিকাংশ গ্রোসারি ও কসমেটিক পণ্যের প্যাকেটে মানুষ, নারী ও প্রাণীর ছবি থাকে। ভেতরের পণ্য হালাল ও প্রয়োজনীয় কিন্তু প্যাকেজিংয়ে ছবি থাকে। এ অবস্থায় দোকানমালিকের জন্য এসব পণ্য বিক্রি করা কি জায়েজ হবে? তিনি কি গুনাহগার হবেন? এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তর:

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, পণ্যের ভেতরের মূল উপাদান যদি হালাল, পাক-পবিত্র ও উপকারী হয় তবে প্যাকেটের গায়ে ছবি থাকার কারণে পুরো পণ্যটি হারাম হয়ে যায় না।

সুতরাং প্যাকেজিংয়ে মানুষ, নারী বা প্রাণীর ছবি থাকা সত্ত্বেও ওইসব বৈধ ও প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা এবং এর মাধ্যমে উপার্জন করা জায়েজ। এতে ক্রেতা, বিক্রেতা বা দোকানের মালিক গুনাহগার হবেন না। সাবান, শ্যাম্পু, তেল বা খাদ্যসামগ্রীর মতো পণ্য নিজে হালাল হলে তার ক্রয়-বিক্রয় উভয়ই জায়েজ যদিও প্যাকেটের গায়ে ছবি থাকে। কারণ ক্রেতা-বিক্রেতার উদ্দেশ্য ভেতরের পণ্য; ছবি এখানে গৌণ ও অনিচ্ছাকৃত বিষয়।

এ ছাড়া পণ্য ব্যবহারের পর প্যাকেট ডাস্টবিনে বা আবর্জনায় ফেলে দেওয়া হয়। তাই এখানে ছবির প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করা হয় না। ফলে এটি বড় কোনো গুনাহের কারণ নয়।যেমনটি হাদিসে ছবিযুক্ত বালিশ ব্যবহারের কথা আছে, যেখানে ছবি পদদলিত বা অবমাননাকর অবস্থায় থাকে।

◈ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) ছবিযুক্ত একটি গদি বা বালিশ কিনলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটি দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন; ভেতরে প্রবেশ করলেন না। 

আয়েশা (রা.) তাঁর চেহারায় অপছন্দের ছাপ দেখে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে তওবা করছি। আমি কী অপরাধ করেছি?"

তিনি বললেন: «مَا بَالُ هَذِهِ النُّمْرُقَةِ؟» "এই বালিশের কী ব্যাপার?" 

আয়েশা (রা.) বললেন: "আমি এটি আপনার জন্য কিনেছি, যাতে আপনি এতে বসতে পারেন ও হেলান দিতে পারেন।" 

তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:

«إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ»

"এসব ছবির নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন আজাব দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে, 'তোমরা যা সৃষ্টি করেছ, তাতে প্রাণ দাও।'" 

আরও বললেন:

Monday, 26 October 2026

জ্বীন-শয়তান, যাদু-টোনা ইত্যাদি থেকে রক্ষা পেতে “লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারিকা লাহু.....ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদীর” এই কালেমা বা দুয়া টা সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার” পড়তে হয়-এইরকম হাদিসে আছে নাকি শুধু সকালে ১০০ বার পড়লেই পরের দিন সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকা যাবে?



উত্তর:

এ প্রসঙ্গে আমরা দুটি হাদীস উল্লেখ করব যেগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হবে যে, উক্ত দুআটি সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০বার করে (মোট ২০০ বার) পাঠ করা উচিৎ।

❐ ১) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 

مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ ‏.‏ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏.‏ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ 

وَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

“যে ব্যক্তি এই দুআ দিনে একশ বার পাঠ করবে:

 *لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ* 

উচ্চারণ: “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।”

অর্থ” “আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই; তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই; তিনই সবকিছু উপর ক্ষমতাবান।” 

সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে, তার আমল নামায় একশ নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার থেকে একশ গোনাহ মুছে দেওয়া হবে। আর তা ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য রক্ষাকবচ হয়ে যায়। সেদিন সে যা করেছে তার চেয়ে উত্তম পুণ্য সম্পাদনকারী কেউ হবে না। কিন্তু কেউ তার বেশি আমল করলে তার কথা ভিন্ন।”

“আর যে ব্যক্তি দিনে একশ' বার سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ “আমি আল্লাহর সপ্রশংসা পবিত্রতা বর্ণনা করছি” পাঠ করবে, তার যাবতীয় গোনাহ মোচন করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়।”

[সহীহ বুখারী ও মুসলিম।সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৫০/ যিকর, দু’আ, তাওবা ও ইসতিগফার (كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار) পরিচ্ছদঃ ১০. তাহলীল (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলা), তাসবীহ (سُبْحَانَ اللَّه বলা) ও দু'আর ফযীলত হাদিস নম্বরঃ 6598]

পাঁচ কালিমা মুখস্থ না থাকলে মুসলিম থাকা যাবে না!!

 


▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

প্রশ্ন: দেশের মানুষের কথা হল, পাঁচ কালিমা মুখস্থ রাখতেই হবে এবং প্রতিদিন পরতে হবে। অন্যথায় ঈমানের জোর কমে যাবে বা মুসলমান থাকা যাবে না! আমরা কমবেশি সবাই এই পাঁচ কালিমা মুখস্থ করেছি। কিন্তু আসলে কি কালিমা ৫টি? এ বিষয় টি জানালে উপকৃত হবো ইনশাল্লাহ। 

উত্তর:

আখিরাতে মানুষের মুক্তি ও সাফল্যের জন্য কালিমায়ে তাইয়েবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই) এই একটি কালিমার স্বীকৃতি প্রদান এবং তদনুযায়ী আমল করাই যথেষ্ট। 

▲ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

« أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ »

”কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভে সেই ব্যক্তি সৌভাগ্য মণ্ডিত হবে, যে আন্তরিকভাবে বলবে: `লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তথা আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই।"(সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ,হাদিসের প্রতি আগ্রহ,হাদিস নং ৯৯,শামেলা)

▲আবদুল্লাহ বিন ওমার রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেয়া যে,আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল...।

▲রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: 

«مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مَنْ دُونِ اللهِ، حَرُمَ مَالُهُ، وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ»

“যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই’ এ কথার স্বীকৃতি দান করল এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্যকে অস্বীকার করল, তার ধন-সম্পদ ও জীবন নিরাপদ হল এবং তার কৃতকর্মের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাল। [সহীহ মুসলিম:২৩] 

এছাড়াও অসংখ্য হাদিস রয়েছে যেগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কালিমায় তাইয়েবার মধ্যেই মানবতার সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণ সন্নিহিত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় মাবুদ হিসেবে স্বীকৃতি ও স্বাক্ষ্য দিবে তার জন্য আবশ্যক হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া ব্যতিরেকে মুসলিম হওয়া যাবে না বা আখিরাতে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

نْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلاَ نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ‏"‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, ইহুদি হোক আর খৃষ্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ আহবান শুনেছে, অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে। [ সহীহ মুসলিম - ২৮৩ ] এ মর্মে বহু হাদিস বিদ্যমান।

♻ আমাদের সমাজে প্রচলিত পাঁচ কালিমা কি সঠিক?

আমাদের সমাজে প্রচলিত কালিমাগুলো হল, ১. কালিমায়ে তাইয়েবা, ২. কালিমায়ে শাহাদাত, ৩. কালিমায়ে তাওহীদ, ৪. কালিমায়ে তামজীদ, ৫. কালিমায়ে রদ্দে কুফর। 

উক্ত কালিমাগুলোর মর্মার্থ সামগ্রিকভাবে সঠিক। কিন্তু হুবহু শব্দে সবগুলো বাক্য হাদিসে পাওয়া যায় না। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ সব কালিমার মধ্যে মূলত: তাইয়েবার ব্যাখ্যা প্রস্ফুটিত হয়েছে। সুতরাং সেগুলোও পাঠ করায় দোষ নেই। কিন্তু ওগুলো না পড়লে বা মুখস্থ না করলে মুসলিম থাকা যাবে না-এ কথা ঠিক নয়।(আল্লাহু আলাম)

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

উত্তর প্রদানে:

গ্রাজুয়েশন, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আল হাদিস এন্ড ইসলামী স্টাডিজ)

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

Sunday, 11 October 2026

জয়িফ বা দুর্বল হাদিসের পরিচয়, চেনার সহজ উপায় এবং হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মতভেদ হলে করণীয়




প্রশ্ন: দুর্বল হাদিস কাকে বলে? দুর্বল হাদিস চেনার সহজ উপায় কী?

আর কোনো হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাক্কিক আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলে করণীয় কী?

উত্তর:

🔸জঈফ হাদিস কাকে বলে?

উত্তর:

কোন হাদিসে সহিহ বা হাসান হাদিসের এক বা একাধিক শর্ত না পাওয়া গেলে তাকে জঈফ বা দুর্বল হাদিস বলে।

ইবনুস সালাহ বলেন,

الحَدِيثُ الضَّعِيفُ: مَا فَقَدَ أَحَدَ شُرُوطِ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ: أَيْ: كُلُّ حَدِيثٍ لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ شُرُوطُ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ، وَكَذَا لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ شُرُوطُ الحَدِيثِ الحَسَنِ، فَهُوَ ضَعِيفٌ، وَهُوَ أَنْوَاعٌ تَزِيدُ عَنِ الخَمْسِينَ نَوْعًا

"যে হাদিসে সহিহ হাদিসের সব শর্ত পাওয়া যায়নি এবং হাসান হাদিসের শর্তও পূর্ণ হয়নি, সেটিই জয়িফ। জয়িফ হাদিসের প্রকার পঞ্চাশের বেশি।" [মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ, পৃ. ৪১]


🔸জইফ হাদিস চেনার উপায়:


জঈফ বা দুর্বল হাদিস (اَلْحَدِيثُ الضَّعِيفُ) চেনার মূল চাবিকাঠি হলো দুটি বিষয় দেখা: সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়া অথবা বর্ণনাকারীর (রাবির) মধ্যে এমন ত্রুটি থাকা, যার কারণে হাদিসটি বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না।


কোনো হাদিস সহিহ হতে পাঁচটি শর্ত পূরণ করতে হয়:

প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নির্দিষ্ট কোনো পাপের সাথে সম্পৃক্ত করার বিধান:

 



ভূমিকম্প, টর্নেডো, পাহাড়ধস, ভূমিধস, খরা, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, দাবানল বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কোনো জাতির নির্দিষ্ট অন্যায় বা পাপের সাথে নিশ্চিতভাবে জুড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। অর্থাৎ নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, অমুক দুর্যোগ তাদের অমুক পাপাচারের কারণেই ঘটেছে।


কারণ এটি গায়েবের বিষয়, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এর পেছনে আল্লাহর এমন হিকমত রয়েছে, যা আমাদের অজানা। কেউ এমন কথা বললে তা হবে না-জানা বিষয়ে কথা বলার শামিল, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।


আল্লাহ তাআলা বলেন,


وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا


"যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হতে হবে।" [সুরা ইসরা: ৩৬]


🔹কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদা ও ইসলামি সংস্কৃতির অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিম আল-সাগিরি বলেন,

القول بأن الكوارث الطبيعية دائمًا عقاب من الله يعدّ تدخلًا في قدر الله

"প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সবসময় আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি বলা আল্লাহর কদর (সিদ্ধান্ত)-এর ওপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ।"


🔹ইসলাম ওয়েব-এ বিষয়ে বলা হয়েছে,

প্রশ্ন: সহিহ হাদিস কাকে বলে?



উত্তর:

🔸‘সহিহ’-এর পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.) বলেন:

«أَمَّا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ: فَهُوَ الْحَدِيثُ الْمُسْنَدُ الَّذِي يَتَّصِلُ إِسْنَادُهُ بِنَقْلِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ عَنِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، وَلَا يَكُونُ شَاذًّا وَلَا مُعَلَّلًا»

“সহিহ হাদিস হলো সেই মুসনাদ (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদ পৌঁছেছে এমন) হাদিস, যার সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) আদিল (ন্যায়পরায়ণ ও সৎ) ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক আদিল ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত এবং যা শায (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত) বা মুআল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) নয়।”

[মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ]

শব্দগুলোর ব্যাখ্যা:

- মুসনাদ: যার সনদ বা বর্ণনা সূত্র রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। (তবে মুসনাদের সংজ্ঞায় মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে।)

- আদিল: যে বর্ণনাকারী মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, কবিরা গুনাহ ও প্রকাশ্য ফিসক থেকে মুক্ত এবং মুরুআত (ব্যক্তিত্ব ও শিষ্টাচার) বিরোধী কাজ থেকে বিরত।

- শায: কোনো গ্রহণযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী যদি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বা সংখ্যায় বেশি বর্ণনাকারীর বিপরীত বর্ণনা করেন তাহলে সেই বর্ণনা শায।

- মুআল্লাল: যে হাদিসের সনদ বা মতনে এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ত্রুটি (ইল্লত) আছে, যা বাহ্যিকভাবে সহিহ মনে হলেও গভীর অনুসন্ধানে ধরা পড়ে।

🔸 হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন:

«وَخَبَرُ الآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ، مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ: هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ»

 “যে খবরে আহাদ ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারীর মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন সনদ পরম্পরায় বর্ণিত হয় এবং মুআল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) ও শায (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত) নয়, সেটিই সহিহ লি-যাতিহি।”

[নুখবাতুল ফিকার]

উল্লেখ্য যে, হাফেজ ইবনে হাজার নুখবাতুল ফিকার-এ খবরকে প্রথমে মুতাওয়াতির ও আহাদে ভাগ করেছেন। মুতাওয়াতিরের বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত বেশি যে তাঁদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। তাই এর সত্যতা প্রমাণে আদালত, জব্‌ত ইত্যাদি শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজন পড়ে না। এসব শর্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে খবরে আহাদের ক্ষেত্রে। তাই তিনি আহাদের আলোচনায় এই সংজ্ঞা দিয়েছেন। 

🔹মোটকথা: হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য ৫টি শর্ত থাকা আবশ্যক। যথা:

১. অবিচ্ছিন্ন সনদ: হাদিসটি এমন অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়া, যার কোথাও একজন বর্ণনাকারীও বাদ পড়েননি।

২. আদালত: সনদের প্রত্যেক বর্ণনাকারী সততা ও ন্যায়নিষ্ঠায় প্রশ্নাতীত হওয়া।

৩. পূর্ণ আয়ত্তশক্তি (জব্‌ত): বর্ণনাকারী পূর্ণ আয়ত্তশক্তির অধিকারী হওয়া, অর্থাৎ হাদিস সংরক্ষণে কোনো ত্রুটি না থাকা, চাই তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে হোক বা লিখে রাখার ক্ষেত্রে।

৪. শায না হওয়া: বর্ণনাকারীর বর্ণনা তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপরীত না হওয়া।

৫. মুআল্লাল না হওয়া: হাদিস বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সনদ বা মতনে কোনো গোপন ত্রুটি ধরা না পড়া।

— আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল মাদানি

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

Saturday, 10 October 2026

হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া জায়েজ আছে কি?

'image.png' failed to upload. TransportError: Error code = 7, Path = /u/2/_/BloggerUi/data/batchexecute, Message = There was an error during the transport or processing of this request., HTTP status = 0, Unknown HTTP error (HTTP Status: 0) (XHR Error Code: 6) (XHR Error Message: ' [0]')


উত্তর:

হিন্দুরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ করে। তা হল, মূর্তিপূজা। এটি হল, শিরক। শিরক এত ভয়ানক অপরাধ যাতে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হন এবং এই অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না বলে দ্ব্যর্থ হীন ভাবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।" [সূরা নিসা: ৪৮]

সুতরাং কোনও মুসলিমের জন্য জঘন্য শিরকের কাজে কোনও ভাবেই সহায়তা করা বৈধ নয়। অত:এব হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়াও দেওয়া যাবে না।

মোটকথা, পূজার কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনও বস্তু বা উপকরণ তাদের কাছে বিক্রয় করা বা ভাড়া দেওয়া বৈধ নয়। কারণ তা শিরকের কাজে সহায়তার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

"সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।" [সূরা মায়িদা: ২] 

আর এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, মূর্তি পূজা ও শিরক হল, সবচেয়ে বড় পাপ ও সীমালঙ্ঘন।

তবে সিসি ক্যামেরা ভাড়া দেওয়া যেতে পারে। কারণ তা মুসলিম-হিন্দু সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় কিছু স্বার্থান্বেষী অমুসলিম মুসলিম সেজে পূজা মণ্ডপে আক্রমণ চালিয়ে মুসলিমদের উপর তার দোষ চাপিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরা থাকলে হয়ত এমন চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে এতে কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ।

Friday, 9 October 2026

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান



”হে ইমানদারগণ, জুমুআর নামাযের জন্য আযান দেয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে তাড়াতাড়ি ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর।” (সূরা জুমুআ: ৯)

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান

সুপ্রিয় ভাই, আমরা জানি জুমার দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটি অনেক তাৎপর্য বহন করে। এর রয়েছে অনেক ফযীলত ও মর্যাদা। রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। নিন্মে উক্ত বিষয়গুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জানা ও মানার তাওফীক দান করুন। আমীন

সর্বশ্রেষ্ঠ দিন কোনটি এবং কেন?من فضائل يوم الجمعة

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “…সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বাহির করা হয়। আর এই দিন ছাড়া অন্য কোন দিনে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না।” (মুসলিম, তাহ:মিশকাত হা:নং ১৩৫৬)

 জুমার সলাতের গুরুত্ত্ব। وجوب صلاة الجمعة

হযরত আবুল জা’দ জমারী (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,“অলসতা-অবহেলা করে যে ব্যক্তি তিন জুমাহ পরিহার করবে আল্লাহ তায়ালা তার ক্বলবে মহর মেরে দিবেন।” (আবুদাউদ,তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজা, দারেমী, হা:সহীহ, মিশকাত হা:নং ১৩৭১)

Thursday, 8 October 2026

সালাতে মনস্থির রাখার কার্যকরী ১২ টি উপায়



প্রশ্ন: সালাতে মনে বিনয়-নম্রতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং মনস্থির রাখার উপায় গুলো কী কী?

উত্তর:

ভয়ভীতি ও বিনয়-নম্রতা সহকারে স্থিরচিত্তে সালাত আদায় করা মুমিনের চূড়ান্ত সাফল্যের সোপান। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ- الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ 

"মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে যারা ভয়ভীতি সহকারে বিনম্র চিত্তে সালাত আদায় করে।" [সূরা মুমিনূন: ১ ও ২]

নিম্নে সালাতরত অবস্থায় মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি ও মনস্থির রাখার কতিপয় উপায় তুলে ধরা হল:

◈ ১. সালাতের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশান্ত মনে আগেভাগে মসজিদে আসা।

◈ ২. সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা।

আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اذكرِ الموتَ في صلاتِك، فإنَّ الرجلَ إذا ذَكر الموتَ في صلاتِه لحريٌّ أن يُحسنَ صلاتَه

"সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ কর। কেননা মানুষ যখন সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তখন সে তার সালাতকে সুন্দর ভাবে আদায় করতে সক্ষম হয়। ” [সনদ হাসান, সিলসিলা সহীহাহ/২৮৩৯]

প্রতি মাসে কুরআন খতম করা: একটি অবহেলিত সুন্নাহ

 


প্রশ্ন: প্রতি মাসে অন্তত একবার কুরআন কারিম শেষ করা কি সুন্নাহসম্মত?

উত্তর: 

হ্যাঁ, প্রতি মাসে অন্তত একবার পুরো কুরআন খতম করা একটি বরকতময় আমল, যার ভিত্তি সহিহ হাদিসে আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর আগ্ৰহ ও আমলের আধিক্য জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রতি মাসে একবার খতম করার নির্দেশনা দেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَأِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي عِشْرِينَ لَيْلَةً»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ وَلَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ»

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো।" 

আমি বললাম: "আমার এর চেয়ে বেশি পড়ার শক্তি আছে।" 

তিনি বললেন: "তাহলে বিশ রাতে খতম করো।" 

আমি আবার বললাম: "আমার আরও শক্তি আছে।" 

Wednesday, 7 October 2026

খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের সময় সর্বক্ষেত্রে বাম হাত ব্যবহার নিষিদ্ধ :



প্রশ্ন : আমরা জানি হাদিসে বাম হাত দিয়ে পানি পান করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ভাত খেতে খেতে যদি পানি পান করতে হয় তখন তো ডান হাত দিয়ে পান করা যায় না। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

উত্তর : হাদিসে বাম হাতে পানাহার করাকে নিষেধ করার পাশাপাশি এটিকে শয়তানের কর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একাধিক হাদিসে পানাহারের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে।

তাই খাদ্য-পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই বাম হাত ব্যবহার করা জায়েজ নেই। 

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ ডান হাতে খাদ্য গ্রহণের সময় বাম হতে পানি পান করে। কেউ কেউ তো সরাসরি বাম হাতেই খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে। এগুলো সবই হারাম কাজ।

আবার অনেকেই খাদ্য গ্রহণের সময় বাম হাতে গ্লাস ধরে ডান হাতটা সামান্য একটু গ্লাসের সাথে লাগায়। এটাও জায়েজ নেই। কেননা তা মূলত বাম হাতে পান করারই অন্তর্ভুক্ত। কারণ গ্লাসটা তার বাম হাতেই রয়েছে।

তবে প্রয়োজন বোধে এর বিপরীতটা জায়েজ। অর্থাৎ ডান হাতে গ্লাস ধরে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া। এতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ।

সুতরাং ওয়ান টাইম গ্লাস বা ব্যক্তিগত গ্লাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি ডান হাত ব্যবহার করা কর্তব্য। 

কিন্তু যদি একাধিক ব্যক্তি একটি মাত্র গ্লাস ব্যবহার করে এবং ডান হাতে খাবার লেগে থাকার কারণে গ্লাস নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যা অন্যের অরুচির কারণ হতে পারে) তাহলে গ্লাসটা হাতের তালু বা তালুর উপরিভাগে রেখে কিংবা আঙ্গুল ভালোভাবে চেটে পরিষ্কার করে ডান হাত দ্বারা গ্লাস ধরবে।

মোটকথা, সর্বক্ষেত্রে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের সময় ডান হাত ব্যবহার করবে। প্রয়োজন বোধে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া যাবে। কিন্তু বাম হাতে গ্লাস ধরে ডান হাতের একটু সাহায্য নিয়ে পান করা মূলত বাম হাতে পান করারই নামান্তর। সুতরাং তা করা যাবে না।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরো পড়ুন :

পানাহার ও খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত সকল লিংক এক সাথে

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1338532856566256&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

উত্তর প্রদানে :

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। 

বারবার বেড়াতে আসা বন্ধু-আত্মীয়দের মেহমানদারির শরয়ি বিধান

 


প্রশ্ন: হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে।” তাহলে যেসব বন্ধু বা আত্মীয় প্রতি সপ্তাহে বা ঘন ঘন একাধিকবার বেড়াতে আসেন তাঁদের মেহমানদারির ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম কী?

উত্তর:

 মেহমানের সম্মান ও আপ্যায়ন কেবল সামাজিক সৌজন্য বা ভদ্রতার বিষয় নয়; ইসলামি জীবনবিধানে এটি চমৎকার চরিত্র গঠন ও সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধনের এক অনুপম ভিত্তি। শরিয়তের দৃষ্টিতে মেহমানদারি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, একে সরাসরি ইমানের পরিপূর্ণতার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু শুরাইহ আল-খুজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

> "مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ"

 "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের বিশেষ যত্ন ও আপ্যায়ন একদিন ও একরাত, আর সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। এরপরও যা করা হবে, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

অধিকাংশ ফকিহ ও আলেমগণের মতে, মেহমানদারি করা সুন্নত ও একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে দূর থেকে আসা কোনো মুসাফির বা বিপদে পড়া পথিকের জন্য আশ্রয় ও খাবারের সংস্থান করার গুরুত্ব শরিয়তে আরও অনেক বেশি।

হাদিসে একদিন বা তিন দিন আপ্যায়নের যে কথা এসেছে, তা মূলত দূর থেকে আসা মেহমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা মেজবানের বাড়িতে রাত্রিযাপন বা অবস্থান করেন। অন্যদিকে যেসব বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন কাছাকাছি থাকেন এবং কিছুক্ষণের জন্য সাক্ষাৎ করতে এসে চলে যান তাঁদের জন্য প্রতিবারই বিশেষ আপ্যায়ন করা জরুরি নয়। এমন মেহমানদের ক্ষেত্রে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানানো, সুন্দর আচরণ করা এবং ঘরে যা সাধারণ খাবার রয়েছে তা দিয়েই সাধ্যমতো সামান্য আপ্যায়ন করাই মেহমানদারির হক আদায়ের জন্য যথেষ্ট। তবে তারা আত্মীয়-স্বজন হলে মেহমানদারির পাশাপাশি 'সিলাতুর রাহিম' বা রক্ত সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের হক দ্বগুণ। মেহমাদারি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক।

মেজবানের জন্য কৃত্রিম লৌকিকতা বা নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়; বরং ঘরে যা সহজলভ্য আছে তা-ই বিনয়ের সাথে সামনে উপস্থাপন করা সুন্নাত। বারবার আসা-যাওয়ার কারণে মেজবানের যদি সত্যিই কোনো পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা আর্থিক অসুবিধা হয় তবে অসন্তুষ্ট বা বিরক্ত না হয়ে ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় তাঁদের সময় ঠিক করে আসতে বলা কিংবা সাময়িক অসমর্থতার কথা জানিয়ে দেওয়া জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ হবে না।

পাশাপাশি ইসলামি নীতিমালায় মেহমানের ওপরেও কিছু শিষ্টাচার ও দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। মেহমানের উচিত মেজবানের সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখা, না জানিয়ে হঠাৎ উপস্থিত না হওয়া, অসময়ে বা অতি ঘন ঘন যাতায়াত করে মেজবানকে বিব্রত না করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে কাউকে কষ্ট না দেওয়া। হাদিসের অন্য বর্ণনায় মেজবানকে কোনো কষ্টে ফেলা থেকে মেহমানকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

আবু শুরাইহ আল-খুজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

"وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَقِيمَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ"

"আর কোনো মেহমানের জন্য তার মেজবানের কাছে এত দীর্ঘ সময় অবস্থান করা বৈধ নয় যাতে সে মেজবানকে সংকটে বা কষ্টে ফেলে দেয়।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় হাদিসের শেষ অংশটি আরেকটু স্পষ্টভাবে এভাবে এসেছে:

"وَلاَ يَحِلُّ لِلْمُسْلِمِ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يُؤْثِمَهُ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يُؤْثِمُهُ؟ قَالَ: يُقِيمُ عِنْدَهُ وَلاَ شَيْءَ لَهُ يُقْرِيهِ بِهِ"

"কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের কাছে এত দিন থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গুনাহগার করে ফেলে। সাহাবিগণ আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে তাকে কীভাবে গুনাহগার করবে? তিনি বললেন: সে তার কাছে অবস্থান করতেই থাকে অথচ মেজবানের কাছে এমন কিছু থাকে না যা দিয়ে সে তার আপ্যায়ন করবে।" [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

সারকথা হলো, ঘন ঘন আসা বন্ধু-আত্মীয়দের সম্মান ও আপ্যায়ন করা প্রশংসনীয় উত্তম কাজ হলেও প্রতিবার বিশেষ ও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন শরিয়তে বাধ্যতামূলক নয়। মেজবান কৃত্রিমতা বর্জন করে আন্তরিক থাকবেন এবং মেহমানও মেজবানের স্বাচ্ছন্দ্যের বিবেচনা রাখবেন—তাহলেই পারস্পরিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন। 

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব। 

Tuesday, 6 October 2026

বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল আদায় করার বিধান




প্রশ্ন: অনেকে বলে যে, বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল সালাত পড়তে হয়, যাকে 'হালকি নফল' বলা হয়। তারা বলে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাকি বিতর সালাতের পর বসে বসে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন। আমি জানতে চাচ্ছি, এই হাদিসটি কি সহিহ? আমরা কি এর ওপর আমল করতে পারি?

উত্তর:

রাতের সালাতের সাধারণ নিয়ম হলো, বিতরই হবে রাতের সর্বশেষ সালাত। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا

"তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত বানাও।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫১]

তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো কখনো বিতরের পরেও বসে বসে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করেছেন। তবে এটি তাঁর নিয়মিত অভ্যাস ছিল না।


এ প্রসঙ্গে ইমাম নওয়াবি (রাহ.) বলেন,“বিতর পড়ার পরও যে কেউ চাইলে কিছু নফল সালাত আদায় করতে পারে। এর বৈধতা দেখানোর জন্যই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সাধারণ ও নিয়মিত নিয়ম ছিল বিতর পড়ার পর আর কোনো সালাত না পড়া।


একই সঙ্গে, বসে নফল সালাত আদায় করা যে জায়েজ, এই আমলের মাধ্যমে তাও প্রমাণিত হয়। বিতরের পর বসে দুই রাকাত নফল পড়ার এই হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৩৮]

মাইকের মাধ্যমে উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত বাজানো কতটুকু শরিয়ত সম্মত?

 


▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬

প্রশ্ন: বর্তমানে লকডাউন অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব জায়গায় মাইকের মাধ্যমে সারাদিন কুরআন তিলাওয়াত বাজানোা হচ্ছে বা  কুরআন খতম দেয়া হচ্ছে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত বা যৌক্তিক?

উত্তর:

◯ ১) করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে যদি কোরআন খতম করা হয় বা কুরআন তিলাওয়াত চালু রাখা হয় তাহলে তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা বিপদ, বিপর্যয়, রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করা বা উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশনা ইসলামে নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নতুন জিনিষ চালু করল তা পরিত্যাজ্য। (বুখারী, অধ্যায়: সন্ধি-চুক্তি।)

আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে:

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ব্যাপারে আমার নির্দেশ নাই তা প্রত্যাখ্যাত।" (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: বিচার-ফয়সালা)

Saturday, 3 October 2026

ঘরে খেলনার পুতুল থাকলে সালাত আদায়ের সময় করণীয় কী এবং এগুলো ঘরে থাকার দায় কার উপর বর্তাবে?



প্রশ্ন: আমার ছোট ভাই বোন তারা পুতুল দিয়ে খেলা করে কিন্তু পুতুল ঘরে থাকলে তো ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আমি চাইলেও পুতুল গুলো সরাতে পারবো না এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? আমি শুনেছি ফজর এবং মাগরিবের ওয়াক্তে রহমতের ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ করে তাই ঐ সময়ে পুতুল গুলো লুকিয়ে রাখলে যথেষ্ট হবে কি?

আর যে ঘরে নামাজ পড়বো ঐ ঘরে পুতুল থাকলে কি কোনও সমস্যা আছে?

উত্তর:

ঘরে কোন প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রাখা জায়েজ নেই। ঠিক তদ্রূপ বাচ্চাদের খেলনা পুতুলও রাখা জায়েজ নেই। (অবশ্য যদি সেগুলোর নাক, চোখ, মুখ, কান ইত্যাদি অবয়বগুলো মুছে দেওয়া হয় তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ)।। হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, আবু ত্বলহা রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"‏ لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ ‏"

"যে ঘরে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে সেই ঘরে (আল্লাহর রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।” [সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৭৭/ পোশাক, পরিচ্ছেদ: ৭৭/৮৮. ছবি সম্পর্কিত]

তাই অনতিবিলম্বে এগুলো থেকে ঘরবাড়িকে পরিষ্কার করা আবশ্যক। অন্যথায় বাড়ির প্রধান কর্তা ব্যক্তি এ জন্য গুনাহগার হবে। আপনার দ্বারা যদি সেগুলো ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্ভব না হয় তাহলে এতে আপনি গুনাহগার হবেন না ইনশাআল্লাহ। কেননা তা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যে ঘরে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রয়েছে সে ঘরেও সালাত শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উত্তম হলো, এসব থেকে মুক্ত অন্য কোনও ঘরে সালাত আদায় করা। কমপক্ষে সালাতের সময় এসব জিনিস কাপড় বা কোন কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

➤ আর‌ও পড়ুন :

✪ ঘরে প্রাণীর ছবি, কার্টুন, প্রতিকৃতি বা মূর্তি থাকলে সে ঘরে সালাত আদায় করার বিধান

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=403754580044093&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

✪ টিনের চালে গরু, উট, মোরগ ইত্যাদির ছবি থাকলে করণীয় এবং এমন ছবিযুক্ত ঘরে সালাত আদায়ের বিধান

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1157054421380768&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

উত্তর প্রদানে:

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অপরিহার্যতা ও পদ্ধতি

 


প্রশ্ন: কীভাবে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা'আলার জন্য উত্তম উপায়ে শুকরিয়া আদায় করতে পারি? যে নিয়ামতগুলোর মধ্যে আছি, সুন্দরভাবে শুকরিয়া আদায় করলে অন্তর প্রশান্ত হবে? জাযাকাল্লাহু খাইরান।

উত্তর:

আল্লাহতালা অসংখ্য নেয়ামত দ্বারা আমাদের জীবনকে ঋদ্ধ করেছেন। আমরা প্রতি মুহূর্তে তার নেয়ামত ভোগ করছি। তাই আমাদের কর্তব্য, মহান রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা। 

আমরা আল্লাহর যত বেশি শুকরিয়া আদায় করব তিনি তত বেশি আমাদেরকে দান করবেন। কিন্তু অকৃতজ্ঞ হলে রয়েছে কঠিন শাস্তি। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, 

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ

" যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।" [সূরা ইব্রাহিম: ৭]

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তার শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলেন,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

Friday, 2 October 2026

গর্ভবতী নারীর তালাকের ইদ্দত কত দিন?



প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে এবং তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে। মেয়েটি এখন ছয় মাসের গর্ভবতী; সন্তান প্রসবে আরও চার-পাঁচ মাস বাকি। এই অবস্থায় মেয়েটির ইদ্দত কি তিন হায়েজ হবে, নাকি সন্তান প্রসব হলে ইদ্দত শেষ হবে?

উত্তর:

গর্ভবতী নারীর ইদ্দত তিন হায়েজ নয় বরং তার ইদ্দত শেষ হবে, সন্তান প্রসব হওয়ার মাধ্যমে সময় কম বা বেশি যাই হোক না কেন।

সুতরাং প্রসবের আরো চার-পাঁচ মাস বা তারও বেশি সময় বাকি থাকলেও এই বিধানে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ সন্তান প্রসব হওয়ার পরেই ইদ্দত শেষ হবে।

✪ আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَ

"আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।" [সুরা তালাক: ৪]

তিন হায়েজের বিধান হলো যাদের গর্ভ নেই তাদের জন্য। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আয়াতটি সুস্পষ্ট ও সাধারণ (আম)। তাই তালাকপ্রাপ্তা গর্ভবতী নারীও এর অন্তর্ভুক্ত।

✪ হাদিসে এসেছে,

عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ، فَجَاءَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَاسْتَأْذَنَتْهُ أَنْ تَنْكِحَ، فَأَذِنَ لَهَا فَنَكَحَتْ

"সুবাইআ আল-আসলামিয়্যা (রা.) স্বামীর মৃত্যুর কয়েক রাত পরেই সন্তান প্রসব করেন। এরপর তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিবাহের অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন এবং তিনি বিবাহ করলেন।" [সহিহ বুখারি: ৫৩২০]

এক মিনিটে আপনি কি কি আমল করতে পারেন



||||||||||||||||||||||||||||||||||

প্রশ্ন: আমরা অফিসে বা কর্মস্থলে ইবাদত-বন্দেগী ও নেককাজের তেমন কোন সময় পাই না। অফিসের পর বাকী যে সামান্য সময় পাই এর মধ্যে আমরা কি কি আমল করতে পারি এবং এ সময়কে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি?

===============

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।সময় মানুষের জীবন সময়কে কখনো অপচয় হতে বা অকাজে নষ্ট হতে দেয়ার মত নয়। প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার সময়ের সদ্ব্যবহার করে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সময়কে অহেতুক কাজে বা অর্বাচীন কথায় ব্যয় করে না। বরং তিনি সময়কে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও ভাল কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। যে কাজ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং মানুষের উপকার বয়ে আনে। জীবনের প্রতিটি মিনিটে আপনি একটি করে প্রস্তর স্থাপন করতে পারেন যা আপনার মর্যাদার ভবনকে উচ্চকিত করবে এবং যা দিয়ে আপনার জাতি সৌভাগ্যমণ্ডিত হতে পারবে।

আপনি যদি মর্যাদার শিখরে পৌঁছুতে চান এবং আপন জাতিকে সৌভাগ্যমণ্ডিত করতে চান তবে আরাম-আয়েশকে না-বলুন এবং অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করুন।

এক মিনিট সময়ের মাঝে অনেক ভাল কাজ করা যেতে পারে এবং বিশাল সওয়াব পাওয়া যেতে পারে। শুধু আপনার জীবনের এক মিনিট সময় ব্যয় করে আপনি আপনার দানের পরিধি বাড়াতে পারেন, কোন কিছু উপলব্ধি করতে পারেন, কোন কিছু মুখস্থ করতে পারেন, যে কোন নেককাজ করতে পারেন। শুধু এক মিনিটেই আপনার ভালো কাজের আমলনামায় এই আমলগুলো লেখা হয়ে যাবে যদি আপনি জানেন কিভাবে এক মিনিট সময়কে কাজে লাগাতে হয় এবং বাস্তবে কাজে লাগান। কবি বলেন:

“প্রতিটি মিনিটে বৃহত্তর কল্যাণে প্রবৃত্ত হও।

সবরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা


▬▬▬ ✪◉✪ ▬▬▬

সবর বা ধৈর্য ধারণ করা আকিদার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জীবনে বিপদ-মুসিবত নেমে এলে অস্থিরতা প্রকাশ করা যাবে না। বরং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি আল্লাহর নিকট প্রতিদান পাওয়ার আশা করতে হবে।

 ◈ ইমাম আহমদ রহ. বলেন, “আল্লাহ তায়ালা কুরআনে নব্বই স্থানে সবর সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।”

 ◈ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

الصبر ضياء

“সবর হল জ্যোতি।” (মুসনাদ আহমদ ও মুসলিম)

 ◈ উমর রা. বলেন, “সবরকে আমরা আমাদের জীবন-জীবিকার সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে পেয়েছি।” (সহিহ বুখারি)

 ◈ আলী রা. বলেন, “ঈমানের ক্ষেত্রে সবরের উদাহরণ হল দেহের মধ্যে মাথার মত।” এরপর আওয়াজ উঁচু করে বললেন, “যার ধৈর্য নাই তার ঈমান নাই।” 

 ◈ আবু সাঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

مَا أَعْطَى اللَّهُ أَحَدًا مِنْ عَطَاءٍ أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ

“আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যের চেয়ে উৎকৃষ্ট এবং ব্যাপকতর দান কাউকে দেন নি।” (সুনান আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ: নিষ্কলুষ থাকা। সহিহ)

 ❑ সবরের প্রকারভেদ: 

সবর তিন প্রকার। যথা:

 ✪ ১. আল্লাহর আদেশের উপর সবর করা।

 ✪ ২. আল্লাহর নিষেধের উপর সবর করা।

 ✪ ৩. বিপদাপদে সবর করা। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ

“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তিনি তাঁর অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন।” (সূরা তাগাবুন: ১১)

আলকামা বলেন, “আল্লাহ তায়ালা ‘যার অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন’ সে হল ঐ ব্যক্তি যে বিপদে পড়লে বিশ্বাস করে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। ফলে বিপদে পড়েও সে খুশি থাকে এবং সহজভাবে তাকে গ্রহণ করে।”

অন্য মুফাসসিরগণ উক্ত আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, “যে ব্যক্তি বিপদে পড়লে বিশ্বাস রাখে যে এটা আল্লাহর ফায়সালা মোতাবেক এসেছে। ফলে সে সবর করার পাশাপাশি পরকালে এর প্রতিদান পাওয়ার আশা রাখে এবং আল্লাহর ফয়সালার নিকট আত্মসমর্পণ করে আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আর দুনিয়ার যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তার বিনিময়ে তিনি তার অন্তরে হেদায়েত এবং সত্যিকার মজবুত একিন দান করেন। যা নিয়েছেন তার বিনিময় দান করবেন।”

সাঈদ বিন জুবাইর রা. বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান আনে আল্লাহ তার অন্তরকে হেদায়েত দেন।” এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, অর্থাৎ সে কোন ক্ষয়-ক্ষতি ও বিপদের সম্মুখীন হলে বলে ‘ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন’ অর্থাৎ আমরা আল্লাহর জন্যই আর তাঁর নিকটই ফিরে যাব। (সূরা বাকারা: ১৫৬)

উক্ত আয়াতে প্রমাণিত হয় যে, আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আরও প্রমাণিত হয় যে, ধৈর্য ধরলে অন্তরের হেদায়াত অর্জিত হয়।

❑ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা:

প্রতিটি পদক্ষেপে মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন। আল্লাহর নির্দেশের সামনে ধৈর্যের প্রয়োজন। আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্যের প্রয়োজন। কারণ, এ পথে নামলে নানা ধরণের কষ্ট ও বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ… وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ

“তোমার প্রভুর পথে আহবান কর হেকমত এবং ভাল কথার মাধ্যমে। আর সর্বোত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। তোমার প্রভু তো সব চেয়ে বেশি জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিপথে গেছে আর তিনিই সব চেয়ে বেশি জানেন কারা সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।…আর ধৈর্য ধর। ধৈর্য ধর কেবল আল্লাহর উপর।” (সূরা নাহল: ১২৫-১২৭)

 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে গেলেও চরম ধৈর্যের পরিচয় দেয়া প্রয়োজন। কারণ, এ পথে মানুষের পক্ষ থেকে নানা ধরণের যাতনার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা লোকমান সম্পর্কে বলেন, (তিনি তার সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন):

يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

“হে বৎস, নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ কর। আর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ কর। বিপদে ধৈর্য ধরণ করা তো বিশাল সংকল্পের ব্যাপার।” (সূরা লোকমান: ১৭)

 মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন জীবনের নানান বিপদ-মুসিবত, কষ্ট ও জটিলতার সামনে। সে বিশ্বাস করে যত সংকটই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে সে তা হালকা ভাবে মেনে নেয়। বিপদে পড়েও খুশি থাকে। এ ক্ষেত্রে ক্ষোভ, হতাশা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে না। নিজের ভাষা ও আচরণকে সংযত রাখে। কারণ, সে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী। সে তকদিরকে বিশ্বাস করে। তকদীরকে বিশ্বাস করা ঈমানের ছয়টি রোকনের একটি। 

তকদিরের উপর ঈমান রাখলে তার অনেক সুফল পাওয়া যায়। তন্মধ্যে একটি হল, বিপদে ধৈর্য ধারণ। সুতরাং কোন ব্যক্তি বিপদে সবর না করলে তার অর্থ হল, তার কাছে ঈমানের এই গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিটি অনুপস্থিত। অথবা থাকলেও তা খুব নড়বড়ে। ফলে সে বিপদ মুহূর্তে রাগে-ক্ষোভে ধৈর্যহীন হয়ে পড়ে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খবর দিয়েছেন যে, এটা এমন এক কুফরি মূলক কাজ যা আকিদার মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে।

❑ বিপদ-আপদের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মোচন হয়:

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে বিভিন্ন বালা-মুসিবত দেন এক মহান উদ্দেশ্যে। তা হল এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মোচন করে থাকেন। যেমন: আনাস রা. বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

“আল্লাহ যখন কোন বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতেই তাকে শাস্তি দেন। কিন্তু বান্দার অকল্যাণ চাইলে তিনি তার গুনাহের শাস্তি থেকে বিরত রেখে কিয়ামতের দিন তার যথার্থ প্রাপ্য দেন।" (সহিহ তিরমিযি-আলবানি, হা/২৩৯৬)

ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, "বিপদ-মুসিবত হল নেয়ামত। কারণ এতে গুনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে আরও বেশি রোনাজারি করতে হয়। তার নিকট আরও বেশি ধর্না দিতে হয়। আল্লাহর নিকট নিজের অভাব ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরার প্রয়োজন হয়। সৃষ্টি জীব থেকে বিমুখ হয়ে এক আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হয়।…বিপদের মধ্যে এ রকম অনেক বড় বড় কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

বিপদে পড়লে যদি গুনাহ মোচন হয়, পাপরাশী ঝরে যায় তবে এটা তো বিশাল এক নেয়ামত। সাধারণভাবে বালা-মসিবত আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত লাভের মাধ্যম। তবে কোন ব্যক্তি যদি এ বিপদের কারণে এর থেকে আগের থেকে আরও বড় গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে তবে তা দ্বীনের ক্ষেত্রে তার জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, কিছু মানুষ আছে যারা দরিদ্রতায় পড়লে বা অসুস্থ হলে তাদের মধ্যে মুনাফেকি, ধৈর্য হীনতা, মনোরোগ, স্পষ্ট কুফুরী ইত্যাদি নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। এমনকি অনেকে কিছু ফরয কাজ ছেড়ে দেয়। অনেকে বিভিন্ন হারাম কাজে লিপ্ত হয়। ফলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তার বড় ক্ষতি হয়ে যায়। সুতরাং এ রকম ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিপদ না হওয়াই কল্যাণকর। মুসীবতের কারণে নয় বরং মুসীবতে পড়ে তার মধ্যে যে সমস্যা সৃষ্টি তার কারণে বিপদ না আসাই তার জন্য কল্যাণকর।

পক্ষান্তরে বিপদ-মুসীবত যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে ধৈর্য ও আনুগত্য সৃষ্টি করে তবে এই মুসীবত তার জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে বিশাল নেয়ামতে পরিণত হয়….।”

❑ বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ধৈর্যের পরীক্ষা নেন:

বিপদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন কে ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে পক্ষান্তরে কে ধৈর্য হীনতার পরিচয় দেয় ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ

“বিপদ যত কঠিন হয় পুরস্কারও তত বড় হয়। আল্লাহ কোন জাতিকে ভালবাসলে তাদেরকে পরীক্ষা করেন। সুতরাং যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান আর যে তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে যান।” (সহিহ তিরমিযি-আলবানি, হা/২৩৯৬)

অত্র হাদিসে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় দিক রয়েছে। যেমন:

 ✪ ১. বান্দা যেমন আমল করবে তেমনই প্রতিদান পাবে। “যেমন কর্ম তেমন ফল।”

 ✪ ২. এখানে আল্লাহর একটি গুনের পরিচয় পাওয়া যায়। তা হল ‘সন্তুষ্ট হওয়া’। আল্লাহ তায়ালার অন্যান্য গুনের মতই এটি একটি গুন। অন্য সব গুনের মতই এটিও আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য হবে যেমনটি তার জন্য উপযুক্ত হয়।

 ✪ ৩. অত্র হাদিসে জানা গেল যে, আল্লাহ তায়ালা এক বিশাল উদ্দেশ্যে বান্দার উপর বিপদ-মসিবত দিয়ে থাকেন। তা হল তিনি এর মাধ্যমে তার প্রিয়পাত্রদেরকে পরীক্ষা করেন। 

 ✪ ৪. এখানে তকদীরের প্রমাণ পাওয়া যায়।

 ✪ ৫. মানব জীবনে যত বিপদাপদই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর তকদীর তথা পূর্ব নির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ী।

 ✪ ৬. এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, বিপদ নেমে আসলে ধৈর্যের সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মহুর্তে প্রতিটি বিপদের মুখে আল্লাহর নিকটই ধর্না দিতে হবে এবং তার উপরই ভরসা রেখে পথ চলতে হবে।

❑ ধৈর্যের পরিণতি প্রশংসনীয়:

জীবনের সকল কষ্ট ও বিপদাপদে আল্লাহ তায়ালা নামায ও সবরের মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, এতেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ধৈর্যের পরিণতি প্রশংসনীয়। আল্লাহ তায়ালা খবর দিয়েছেন যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকেন। অর্থাৎ তাদেরকে তিনি তাদের সাহায্য করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নামায ও সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য অনুসন্ধান কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবর কারীদের সাথে থাকেন।” (সূরা বাকারা: ১৫৩)

এখান থেকে ধৈর্য ধারণ করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। মুমিন ব্যক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি পদে পদে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া দরকার। এই সবরের মাধ্যমে আকীদা ও বিশ্বাস দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

সবরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

মূল: ড. শাইখ সালিহ ফাউযান আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...