Showing posts with label সালাফী ‘আক্বীদাহর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি. Show all posts
Showing posts with label সালাফী ‘আক্বীদাহর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি. Show all posts

Friday, 16 August 2019

সালাফী ‘আক্বীদাহর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
মুক্তিপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দলটির নাম হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত। এই দলটিই হলো আহলুল হাদীস, আহলুল আসার, সালাফিয়্যাহ এবং গুরাবা। বৈশিষ্ট্যগত নাম আলাদা হলেও মূল দলটি এক ও অভিন্ন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে হলে এই দলের আদর্শ ও কর্মপন্থা গ্রহণ না করে উপায় নেই। কারণ নাবী ﷺ এই দলটির ব্যাপারেই জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ এই দলটির অনুসরণ করতে আদেশ দিয়েছেন এবং যারা এর অনুসরণে প্রবৃত্ত হয় না, তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিস্বরূপ বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরেও রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব; কতই না মন্দ সে আবাস!” [সূরাহ নিসা: ১১৫]
যারাই এ দলের বিরোধিতা করবে, তারাই বিদ‘আতী হিসেবে পরিগণিত হবে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন,“আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মাযহাব একটি সুপরিচিত প্রাচীনতম মাযহাব (আদর্শ)। আল্লাহ তা‘আলা আবূ হানীফাহ, মালিক, শাফি‘ঈ ও আহমাদকে সৃষ্টি করার পূর্ব থেকেই এই মাযহাবের অস্তিত্ব ছিল। নিশ্চয় এটি সাহাবীদের মাযহাব, যাঁরা এই মাযহাব স্বয়ং তাঁদের নাবী’র কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। যে ব্যক্তি এই মাযহাবের বিরোধিতা করবে, সে আহলুস সুন্নাহ’র নিকট বিদ‘আতী হিসেবে পরিগণিত হবে।” [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাউয়িয়্যাহ; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৬০১; প্রকাশনার নামবিহীন; সন: ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
যখন একজন ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ’র মূলনীতিসমূহের কোনো একটি মূলনীতির বিরোধিতা করে, তখন সে আহলুস সুন্নাহ’র গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়, অর্থাৎ বিদ‘আতী ব্যক্তিতে পরিণত হয়। এ ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের শ্রেষ্ঠ ইমাম শাইখুল ইসলাম হাফিয আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)’র [মৃত: ২৪১ হি.] একটি উক্তি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আবশ্যকীয় সুন্নাহ’র (মানহাজের) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি একটি বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করবে, তা গ্রহণ করবে না এবং তার প্রতি ঈমানও আনবে না, তবে সে সুন্নাহপন্থিদের তথা আহলুস সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়।” [ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ), উসূলুস সুন্নাহ; পৃষ্ঠা: ৩; প্রকাশনার নাম ও তারিখবিহীন; ইমাম আল-লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ৩১৭; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৪৮; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সনতারিখ বিহীন]
সম্মানিত পাঠক, মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মূলনীতিগুলো কী—তা আমরা অনেকেই জানিনা। অজ্ঞতার কারণে ব্যক্তি ভুলের মধ্যে পতিত হয়। সুতরাং আমাদের জন্য এটি জানা অতীব জরুরি যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মূলনীতি কী কী, যাতে করে আমরা তা যথাযথভাবে গ্রহণ, সংরক্ষণ ও অনুসরণ করতে পারি। সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ সামাহাতুল ওয়ালিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] তাঁর “মিন উসূলি ‘আক্বীদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত” নামক পুস্তিকায় মুক্তিপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘আক্বীদাহগত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি নিয়ে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেছেন। আমরা বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে উক্ত পুস্তিকায় উল্লিখিত নয়টি মূলনীতি অনুবাদ করে ঈষৎ সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিতরূপে বাঙালি মুসলিম পাঠকবর্গের সামনে পেশ করছি। ওয়া বিল্লাহিত তাওফীক্ব।
·
১ম মূলনীতি: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাবর্গ, কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করা এবং শেষ দিবসের প্রতি ও ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করা। বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, জিবরীল (‘আলাইহিস সালাম) নাবী ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিন।” তিনি ﷺ বললেন, “ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাবর্গ, কিতাবসমূহ, রসূলগণের প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫০; সাহীহ মুসলিম, হা/৮]
·
২য় মূলনীতি: ঈমান হচ্ছে কথা, কাজ ও বিশ্বাসের নাম; এটা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়, আর পাপাচারিতার মাধ্যমে হ্রাস পায়। বিশ্বাস ব্যতিরেকে ঈমান শুধু কথা ও কাজের নাম নয়। কেননা এটা মুনাফিক্বদের ঈমান। আর কথা ও কাজ ব্যতিরেকে ঈমান শুধু (সত্য বলে) জানার নাম নয়। কেননা এটা কাফিরদের ঈমান। মহান আল্লাহ বলেছেন, “তারা (কাফিররা) অন্যায় ও ঔদ্ধত্যভরে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল।” [সূরাহ নামল: ১৪]
ঈমান শুধু বিশ্বাসের নাম নয়, অথবা আমল ব্যতিরেকে শুধু কথা ও বিশ্বাসের নাম নয়। কেননা এটা মুরজিয়াদের ঈমান। আল্লাহ তা‘আলা অনেক জায়গায় আমলকে ঈমান বলেছেন। যেমন আল্লাহ বলেন, “মু’মিন তো তারাই, আল্লাহ’র কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে ওঠে, আর তাদের কাছে যখন তাঁর আয়াত পঠিত হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে, আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে। তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে, আর আমি তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। এসব লোকেরাই হলো প্রকৃত মু’মিন।” [সূরাহ আনফাল: ২-৪]
মহান আল্লাহ আর‌ও বলেছেন, “আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করবেন না।” [সূরাহ বাক্বারাহ: ১৪৩]অর্থাৎ, বাইতুল মাক্বদিসের দিকে ফিরে আদায় করা তোমাদের সালাতকে বিনষ্ট করবেন না। আল্লাহ অত্র আয়াতে সালাতকে ‘ঈমান’ বলে অভিহিত করলেন।
·

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...