Showing posts with label খারেজী. Show all posts
Showing posts with label খারেজী. Show all posts

Friday, 26 April 2024

শাসকের সমালোচনা থেকে সতর্ক হোন -

 খারেজীদের রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সমস্ত অভিযোগের জবাব এখানে দেওয়া আছে। মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ করছি...


এই হাদীস গুলো পড়তে পড়তে এমন মনে হচ্ছে, আমি যেনো সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে প্রশ্ন করছি আর তিনি উত্তর দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ। 

শাসকদের নিয়ে সাহাবাদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কথোপকথন...!!!

১) শাসক জালেম হলে আমরা কিভাবে তার থেকে রেহাই পাব??

> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে তার শাসকের কাছে থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন ধৈর্য ধরে।" -(বুখারী/৩৮৭০) 

২) কিন্তু সে তো শরীয়ত মোতাবেক শাসন করে না!!

>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার পরে এমন কিছু শাসক হবে যারা না আমার হেদায়াত মানবে আর না আমার সুন্নাত। আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকবে যারা মানব দেহে শয়তানের অন্তর লালন করবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এরকম সময়ে আমি কি করব?? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি শাসকের কথা শুনবে ও মানবে, যদিও সে তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ দখল করে নেয়। তথাপিও তুমি তার আনুগত্য করবে।" -(মুসলিম/১৮৪৭) 

৩) শাসক তো আমার সবকিছু নিয়ে নিল!!আমাকে সে কষ্ট দিচ্ছে!!

>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি শাসকের কথা শুনবে ও মানবে, যদিও সে তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ দখল করে নেয়। তথাপিও তুমি তার আনুগত্য করবে।" -(মুসলিম/১৮৪৭) 

৪) কিন্তু সে তো আমাদের সবকিছু নিয়ে জুলুম করছে, আমাদের বঞ্চিত করছে ?!!

> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তাদের হক তোমরা ঠিক ঠিক দাও আর তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও!" -(বুখারী/৩৬০৩) 

Monday, 2 March 2020

দায়েশ-ইখওয়ান সম্পর্ক ও তাকফীরী উৎপাদনের ইতিহাস


·
মদিনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আল-হাফিযুল মুতক্বিন, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ড. মুহাম্মাদ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রদত্ত ফতোয়া:
প্রশ্ন: ❝ইনি জিজ্ঞেস করছেন, তানযীমুদ দায়েশ (ISIS) এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের মতাদর্শের মধ্যে সম্পর্ক কী?❞
উত্তর: ❝তারা (দায়েশ) তাদেরই (ব্রাদারহুডের) অন্তর্ভুক্ত। তারা তাদের একটি অংশ। দায়েশ জামা‘আতুন নুসরা (নুসরা ফ্রন্ট) থেকে এসেছে। জামা‘আতুন নুসরা হলো প্রাক্তন দল, যেটা আফগানিস্তানে উপস্থিত ছিল, যার নাম আল-কায়েদা। আর আল-কায়েদা হলো ‘আব্দুল্লাহ ‘আযযাম ও উসামা বিন লাদেনের দল। তারা সবাই সাইয়্যিদ কুতুবের মানহাজের অনুসারী, এবং সাইয়্যিদ কুতুব হাসান আল-বান্নার দাওয়াতের ফলস্বরূপ (তাদের সাথে) সংযুক্ত হয়েছে। এটা হলো সনদ, আপনারা যদি চান তাহলে নিজেরা গবেষণা করুন তাদের কিতাব থেকে। মাহমুদ ‘আব্দুল হালীমের “ইখওয়ান আল-মুসলিমীন : আহদাসুন সান‘আতিত তারীখ” পড়ুন; তিনি ছিলেন (ব্রাদারহুড) সংগঠনের একজন নেতা এবং হাসান আল-বান্নার সহকর্মী। তিনি এই বিষয়ে চার খণ্ড লিখেছেন।
তারা হলো শ্রেষ্ঠ মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমি আপনাদেরকে একটা কাহিনী শোনাব, যেটা এই কিতাবের মধ্যে পাওয়া যায়। আপনারা এই কিতাবে খুঁজে দেখতে পারেন। যেহেতু আমি ইতোমধ্যে এর রেফারেন্স দিয়েছি। এবং আপনি (এই কিতাবে) খুঁজে দেখার আগ পর্যন্ত মুহাম্মাদ ইবনু হাদী থেকে কিছু গ্রহণ করিয়েন না। সে বলেছে, “যখন আমরা, এবং যখন মুসলিম ব্রাদারহুড কোনো আর্থিক সংকটে পড়ত, আমরা ফিলিস্তিনের জন্য চাঁদা ওঠানোর স্লোগান দেওয়া শুরু করতাম।”
মানে তারা ফিলিস্তিনের জন্য চাঁদা চাইত। কিন্তু আসলে চাঁদা কাদের জন্য ছিল? আসলে এগুলো ছিলো তাদের ও তাদের পকেটের জন্য। আপনারা কয়েক বছর আগে দেখেছেন—বেশি আগে নয়—(তারা টাকা ওঠাচ্ছে) অন্যদের হিফয করানোর জন্য এবং এই ছোটো বাক্সগুলো, তারা এগুলো চাঁদার জন্য চালনা করত। তারা এগুলো সংগ্রহ করত আর এগুলো কোথায় যেত? এগুলো সন্ত্রাসীদের কাছে যেত। এটা বিদ্যমান আছে, গুগলে দেখুন, আপনারা এগুলো অডিয়ো ও ভিডিয়ো-সহ পাবেন।

Tuesday, 18 February 2020

প্রেসিডেন্ট এর্দোগান : এক রূপকথার খলীফা!


.
প্রারাম্ভিকা,
বর্তমানে একদল লোক বিপর্যস্ত উম্মাহর আহাজারিতে উপায়ান্তর না দেখে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে উম্মাহর খলিফা, সুলতান হিসেবে এমনসব ব্যক্তিদের বেছে নিচ্ছেন যাদের গন্তব্য পথই উম্মাহর চাহিদার বিপরীত!
যাদের কার্যকলাপগুলো মুসলিম উম্মাহর সাথে উপহাস, ধোঁকাবাজি,বেইমানির নামান্তর!
.
অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর ত্রাণকর্তা হিসেবে কখনো মাহথির, কখনো আহমেদিনেজাদ,কখনো মুরসি অথবা এর্দোগানকে সপ্নদ্রস্টা বানিয়ে একের পর এক প্রবন্ধ, বই, আর্টিকেল যে হারে প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে তাতে শুধু আমি কেন, যেকোন সচেতন মুসলিমের আপত্তি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়! তাই পাঠকদের কাছে বিষয়টি খোলাসা করত: আমরা আজ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এর্দোগানকে নিয়ে সামান্য আলোচনা করব। ওয়া বিল্লাহীত তাওফ্বীক।
.
জন্ম ও পরিচিত :
১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি ইস্তাম্বুলে জন্মগ্রহণ করেন এযুগের কথিত সুলতান,তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এর্দোগান! বাবা ছিলেন তুর্কি কোস্টগার্ডের একজন সদস্য হওয়াতে তেমন সচ্ছলতা ছিল না পরিবারে! ছাত্রজীবনে এরদোগান National Turkish Student Uninon নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, তিনি ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কাসিমপাসা ক্লাবের সেমি-প্রফেশনাল ফুটবলার ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। তার আগ পর্যন্ত তিনি ফুটবলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
.
রাজনৈতিক জীবন :
.
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে প্রেসিডেন্ট এরর্দোগান নাজিমুদ্দিন এরবাকানের দল 'সাদত পার্টির' সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০০১ সালে প্রকাশ্যে সাদত পার্টি বাদ দিয়ে নিজেই "জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একেপি" নামে একটি দল গঠন করেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আজ থেকে আমার পূর্বের পোশাকটি (আগের ইসলামীক দলের পোশাক) খুলে ফেললাম।’

Sunday, 15 September 2019

জিহাদ বিষয়ক ‘ইলম কাদের থেকে নিবেন? [খারিজীগুরু মাক্বদিসী’র মূর্খতা প্রকটন]


·
সৌদি ফতোয়া বোর্ড ও সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য এবং কিং সউদ ইউনিভার্সিটির অনুষদ সদস্য, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, আল-উসূলী, ড. সা‘দ বিন নাসির আশ-শিসরী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৮৭ হি.] বলেছেন—
❝এখন আমার কাছে এই লেখকের প্রসঙ্গ এসেছে। যার কিছু গ্রন্থের নাম—সিলসিলাতু ইয়া সাহিবাইস সিযন (‘হে কারাগারের সঙ্গীদ্বয়’ সিরিজ), আল-‘ইবাদাহ মা‘নাহা সিফাতুহা (ইবাদতের বৈশিষ্ট্যই তার মর্মার্থ), তাম্বীহুল গাফিলাত (গাফিল নারীদের সতর্কীকরণ) প্রভৃতি। এটি একজন ‘আম্মীর কথা। মাক্বদিসী একজন ‘আম্মী (লেইম্যান, সোজা বাংলায় সাধারণ আম পাবলিক)। সে দলিলগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। সে কুরআনের আয়াতকে তার উদ্দিষ্ট অর্থ থেকে সরিয়ে দিয়ে অপাত্রে প্রয়োগ করে। আবূ মুহাম্মাদ আল-মাক্বদিসী নামের এই লোক উসূলুল ফিক্বহ (ফিক্বহের মূলনীতি) পড়েনি। এছাড়া তার বুঝের মধ্যেও গোলমাল আছে।
যখন তুমি একটি ব্যাপকার্থবোধক (আম) দলিল নিয়ে এসে তা দিয়ে ফায়সালা দিবে, আর ওই দলিলকে খাসকারী দলিলসমূহের দিকে লক্ষ করবে না, তখন তুমি বড়ো ধরনের ভুলের মধ্যে পতিত হবে। আমি তোমাদের কাছে একটি ফিক্বহী উপমা উপস্থাপন করব, এতে করে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ “তালাকপ্রাপ্ত নারীরা তিন হায়েজ (মাস) পর্যন্ত ইদ্দত [১] পালন করবে।” [২] আয়াত সুস্পষ্ট।
এই, তোমার নাম কী? [ছাত্র নিজের নাম বলছেন] হ্যাঁ? সালিহ! আচ্ছা, সালিহ কোনো মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিল এবং বিয়ের জন্য নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করল। পরবর্তীতে তার সাথে ফোনে কথা বলার সময় দেখল, ওই মেয়ের কিছু সমস্যা আছে। ফলে সে তাকে তালাক দিয়ে দিল। এখন এই মেয়ের ইদ্দত কতদিন? তিন হায়েজ, তাইনা?
আসলে তোমরা তো দলিল বোঝো না। তোমাদের কাছে সম্পূর্ণ দলিল নেই। মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا “হে ইমানদারগণ, যদি তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই (অর্থাৎ সহবাস করার পূর্বেই) তালাক দিয়ে দাও, তাহলে তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই, যা তোমরা গণনা করে থাক।” [৩]
তাহলে তোমরা কীভাবে বলছ যে, সালিহ যে মেয়েকে তালাক দিয়েছে, তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে?! কারণ তোমরা এক চোখ নষ্ট হওয়া কানার মতো। তোমরা একটি ব্যাপকার্থবোধক দলিল নিয়ে এসে আমভাবে বিধান দিয়ে দিচ্ছ, যদিও ওই আম দলিলকে খাসকারী দলিলসমূহ তোমাদের বোধগম্য হয়নি। এর দৃষ্টান্ত হলো—এই নিবন্ধ, যা এমন ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছে, যার দলিল বোঝার মতো সক্ষমতা নেই, এবং যে তাখরীজুল মানাত্ব, তানক্বীহুল মানাত্ব ও তাহক্বীকুল মানাত্বের মধ্যে পার্থক্য করে না, ফলে বড়ো ধরনের ভুলে পতিত হয়। [৪]
সুতরাং যদি এ ধরনের লেখা আসে, তাহলে মানুষকে তা পড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে না। কেননা এসব লেখা মানুষের আবেগ-অনুভূতির অনুকূলে থাকে, এবং তা এমন কারও বিরুদ্ধে আলোচনা করে, যাকে মানুষ পছন্দ করে না। ফলে এসব লেখা মানুষ গ্রহণ করে নেয়। এটি প্রকৃত মুসলিমের কাজ নয়। এটা এই শাস্ত্রের গুরুত্ব প্রমাণ করছে, যা আমরা শীঘ্রই পড়া শুরু করব।

Saturday, 24 August 2019

জবরদখলকারী শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বিধান


·
মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি শাসনক্ষমতায় পৌঁছেছে, ক্ষমতাসীন হয়েছে, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব তার অধীন হয়েছে এবং তাকে আহলুল হাল্লি ওয়াল ‘আক্বদ (বিজ্ঞ ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিবর্গ) শাসক হিসেবে মেনে নিয়েছে, সে যদি না-জায়েজ পদ্ধতিতেও ক্ষমতায় পৌঁছে থাকে, তবুও শার‘ঈভাবে তার বেলায়েত (আনুগত্য পাওয়ার মতো কর্তৃত্ব) সাব্যস্ত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি ক্ষমতাসীন হয়েছে, সে যদি না-জায়েজ পদ্ধতিতেও ক্ষমতায় পৌঁছে থাকে, তবুও শার‘ঈভাবে তার বেলায়েত (আনুগত্য পাওয়ার মতো কর্তৃত্ব) সাব্যস্ত হবে। যেমন কেউ ভোটাভুটির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছে। আর ভোটাভুটির মাধ্যমে শাসক নির্বাচন করা হলো না-জায়েজ পদ্ধতি। কেননা এতে বিশৃঙ্খল জনগণ এবং ভালো-খারাপ সবাই অংশগ্রহণ করে। কখনো দেশের অধিকাংশ জনগণ খারাপ হলে, তারা এভাবে নিজেদের শাসক অনুসন্ধান করে।

Friday, 16 August 2019

ইখওয়ানী দা‘ঈ—ত্বারীফী, ‘আরীফী ও দিদূ থেকে সাবধান

মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
ليست العبرة بالتلميع، بل أنا أقول: القاعدة، إذا وجدت الرجل يلمَّع من الحزبيين، ويبرز على أنه الحافظ والمحدث والفقيه والإمام، فاعلم أنه منحرف، مثل الددو ومثل الطريفي ومثل العريفي. هؤلاء منحرفون على منهج الإخوان، عندهم إنحرافات عقدية وشرعية. لكن هؤلاء يلمَّعون—المحدث الكبير، يحفظ الكتب الستة. فإذا وجدت التلميع من الحزبيين ومن وسائل الإعلام اليوم، فاعلم أن وراء الأكمة ما وراء.
“কাউকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করার কোনো মূল্য নেই। আমি একটি মূলনীতি বলে দিচ্ছি। যখন তুমি দেখবে, কোনো লোককে দলবাজ হিযবীদের পক্ষ থেকে খুব চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এবং বলা হচ্ছে, ইনি একজন হাফিয, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ, কিংবা ইমাম; তখন তুমি জানবে যে, ওই লোক একজন পথভ্রষ্ট বিপথগামী। যেমন: মুহাম্মাদ হাসান ওয়ালিদ আদ-দিদূ, ‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফী, মুহাম্মাদ আল-‘আরীফী প্রমুখ। এরা মুসলিম ব্রাদারহুডের মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ভ্রষ্ট বিপথগামী। এদের রয়েছে ‘আক্বীদাহ ও শরিয়তগত বিভ্রান্তি। কিন্তু এদেরকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করে বলা হয়—‘ইনি অনেক বড়ো মুহাদ্দিস, ইনার সম্পূর্ণ কুতুবে সিত্তাহ মুখস্থ!’ অতএব তুমি যখন হিযবীদের পক্ষ থেকে অথবা বিভিন্ন মিডিয়ার পক্ষ থেকে এরকম চমকপ্রদ উপস্থাপনা লক্ষ করবে, তখন জানবে যে, এর নেপথ্যে কিছু একটা লুকায়িত আছে।”
·
তথ্যসূত্র:
‘আল্লামাহ সুলাইমান আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রণীত “শাখসিয়্যাতুন শাওয়্যাহাতিল ইসলাম: সাইয়্যিদ কুতুব” শীর্ষক লেকচার; লেকচার লিংক: https://youtu.be/sGQ1egZuCc4 (ভিডিয়ো ক্লিপ); অনূদিত অংশের সময়: ৩৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে ৩৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড পর্যন্ত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

পথভ্রষ্ট দা‘ঈ—‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফীর বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত

সৌদি আরবের দা‘ওয়াহ সেন্টারে কর্মরত দা‘ঈ জনাব আহমাদুল্লাহ কর্তৃক ভ্রষ্ট দা‘ঈ ত্বারীফীর প্রশংসা—
পোস্ট লিংক: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2075805915810344&id=100001428672384
(There are so many valid reasons. This is one the reasons we don’t promote Sheikh Ahmadullah bin Dilawar hafizahullah.)- Tahmid
{ ▌পথভ্রষ্ট দা‘ঈ—‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফীর বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত
·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। যিনি বলেছেন, “হক এসেছে, আর বাতিল অপসৃত হয়েছে; বাতিল তো অপসৃত হওয়ারই ছিল।” [সূরাহ বানী ইসরাঈল: ৮১]
শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। যিনি বলেছেন, “তুমি হক (সত্য) বল, যদিও তা তিক্ত হয়।” [সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৩৩; সনদ: সাহীহ লি গাইরিহী] অন্যত্র বলেছেন, “তুমি হক বল, যদিও তা তোমার নিজের বিরুদ্ধে যায়।” [সিলসিলাহ সাহীহাহ, হা/১৯১১; সাহীহুল জামি‘, হা/৩৭৬৯; সনদ: সাহীহ]
·
পর সমাচার এই যে, বর্তমানে সালাফী কমিউনিটিতে একটি ফিতনার সয়লাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশে সালাফীদের একটি বড়ো অংশকে দেখা যাচ্ছে, তারা খারিজী ও ইখওয়ানী দা‘ঈদের বইপুস্তক পড়ছে, তাদেরকে ‘শাইখ’ আখ্যা দিচ্ছে এবং যাচ্ছেতাইভাবে প্রোমোট করছে। এমনকি দু পয়সা লাভের আশায় কিংবা সালাফী লাইব্রেরিয়ানদের মানহাজগত বিভ্রান্তি থাকার কারণে সালাফী লাইব্রেরিগুলোতেও ইখওয়ানী-খারিজীদের বইপুস্তক দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। আল্লাহুল মুস্তা‘আন।
আমি প্রায়শই বলি, ‘ইলম নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘যা পাই তাই খাই’—নীতি অবলম্বন করা যাবে না। মানহাজ ঠিক রাখতে হলে এই ভুয়া নীতিকে কবর দিতে হবে। আমি ভাইদেরকে এসব বিষয়ে বরাবরই সতর্ক করে থাকি। আজকেও সতর্ক করার জন্যই লিখছি। সম্প্রতি যেসব ইখওয়ানী-খারিজী দা‘ঈর বইপুস্তক বাংলায় অনূদিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে ‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফী অন্যতম। বঙ্গীয় খারিজীরা তার বইয়ের জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। আর কিছু সালাফীকেও ত্বারীফীর বইপুস্তক পড়তে এবং তাকে প্রোমোট করতে দেখা যাচ্ছে।

Tuesday, 16 July 2019

খারেজীদের গুরু আহমাদ মূসা জিবরীল এর ব্যাপারে সতর্কতা


Image may contain: 1 person, text

তাকফীরী যুবকদের একটি সাধারন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; তারা বয়ঃজ্যৈষ্ঠ সালাফী আলিমদের গালমন্দ করে অথচ আহমাদ মুসা জিবরীল ও আনোয়ার আল আউলাকির মতো মানুষকে 'ইমাম' হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। এরা আসলেই মিসকিন বৈ কিছুই না।
.
তাকফীরী ধূর্তরা আহমাদ মূসা জিবরীলের ডিফেন্সে নানারূপে চল-চাতুরী করে। যেমন : এরা যুগ শ্রেষ্ঠ আলিমেদ্বীন ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ-র তাজকিয়্যাহ পেশ করে ( জানিনা এটা সত্য নাকি ভুয়া) যদি সত্যও হয়ে থাকে তাহলেও তা বাতিল হয়ে যাবে ঠিক যেমনটি বাতিল হয়ে গেছে সাইয়্যদ ক্বুতুব এবং জামা’য়াত আত তাবলীগের ব্যাপারে করা তাঁর প্রশংসা। কেননা ঐ সমস্ত লোকের ব্যাপারে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। চ্যালেঞ্জ রইল, পারলে দেখাও - ইমাম ইবনু বায এর জীবিত ছাত্রদের মধ্যে কে তাকে তাজকিয়্যাহ দিয়েছে ?
ইমাম ফাউজান ? লুহাইদান ? রাবী?
.
সালাফীদের মূলনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; অপরিচিত (মাজহুল) কারো নিকট হতে জ্ঞান আহরণ করা হয়না। আমাদের কাছে উলামাদের পক্ষ হতে তাযকিয়্যাহ নিয়ে এসো। যাও _
.
আহমাদ মুূসা জিবরীলের অনুসারীদের দাবী হচ্ছে, ইমাম ইবনু বায [ রাহিমাহুল্লাহ ] নাকি সাধারনভাবে তাকে তাজকিয়্যাহ দিয়েছেন।
আমরা জিবরীলের অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ মারা ১৯৯৯ সালে। ঠিক তখনও অর্থাৎ ২০০০ – ২০০১ সাল পর্যন্ত আহমেদ মুসা জিবরীল খোলাখুলিভাবে তার খারেজিপনা প্রচার শুরু করেনি ঠিক যেমনিভাবে আব্দুর রহমান আব্দুল খালেক তার দুষ্ট নবউদ্ভাবিত ধারণা ততক্ষণ পর্যন্ত শুরু করেনি, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইমাম আল আলবানী এবং ইমাম মুক্ববীল [ রাহিমাহুমুল্লাহ ] জীবিত ছিলেন।

Monday, 25 June 2018

খারেজী কারা? বর্তমানে কি কোন খারেজী আছে?


উত্তরঃ “খারেজী” হচ্ছে ৭২টি বেদাতী জাহান্নামী তরীকার একটা তরীকা। এরা অত্যন্ত চরমপন্থী একটি দল যারা সাহাবা রাঃ ও মুসলিম শাসকদেরকে কাফের ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অনেক মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত আমলের দিক থেকে তারা হচ্ছে এই উম্মতের মাঝে সবচাইতে বেশী ইবাদত করনেওয়ালা ফেরকা – তারা সবচাইতে বেশী নামায পড়তো, সবচাইতে বেশি রোযা রাখতো, সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়তো, কুরান পড়তো – এইগুলো রাসুল সাঃ আগেই বলেছিলেন তাদের গুণাবলী সম্পর্কে। কিন্তু তাদের ভ্রান্ত আকীদা (ধর্মীয় বিশ্বাস) ও চরমপন্থা অবলম্বনের কারণে তারা এতো নামায রোযা করেও এতোটাই নিকৃষ্ট যে, রাসুল সাঃ তাদেরকে “কিলাবু আহলিন-নার’’ জাহান্নামের কুকুর বলেছেন। তাই কোন দলের লোক অনেক আমল করলেই তারা হক্ক হয়ে যায়না, দেখতে হবে তাদের আকীদা কি, তাদের মানহাজ (চলার পথ বা পদ্ধতি/উসূল বা মূলনীতি) কি? তারা যদি আহলে সুন্নতের অনুসারী হয় তাহলেই সে নাজাত পাবে, আর আহলে সুন্নতের বিপরীত চললে যতই আমল করুক, জাহান্নামে যাবে।
বর্তমান যুগেও এমন কিছু খারেজী লক্ষ্য করা যায়, বা এমন অনেক ব্যক্তি বা দল আছে যাদের মাঝে খারেজীদের গুণ দেখা যায়। যেমন, ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবের সরকারের বিরুদ্ধে “জুহাইমান আল-ওতাইবি” নামে এক লোক বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। আনুমানিক ৩০০-৪০০ লোক নিয়ে সে প্রথম কাবা দখল করে এবং সেখানে তাদের মধ্য থেকে একজনকে “ইমাম মাহদী” দাবী করে তার হাতে বায়াত করে তাকে শাসক হিসেবে মেনে নিতে দাবী করে। এরা “মসজিদুল হারাম” যেখানে কেয়ামত পর্যন্ত রক্তপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেখানে অনেক মানুষদেরকে হত্যা করে। অবস্থা এতো সংকটময় দেখে ইমাম বিন বাজ রহঃ সহ তখনকার বড় আলেমরা ফতোয়া দেন – এ খারেজী হয়ে গেছে – এর ক্ষতি থেকে মুসলিমদের বাচানোর জন্য কাবাঘরে এদের উপর আক্রমন করা জায়েজ হবে, যদিও হারামে রক্তপাত চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু সংকটপূর্ণ অবস্থায় মাসয়ালা পরিবর্তন হয়ে যায়, আর এর মতো লোককে না সরালে সে আরো ফেতনা ছড়াবে, তাই এইক্ষেত্রে হারামে তাদের উপর আক্রমন করলে গুনাহ হবেনা। যাইহোক তাদের উপর আক্রমন করা হলে তারা একটা টানেলে আশ্রয় নেয় যেখান থেকে তাদেরকে ধরা যাচ্ছিলোনা, তাদেরকে ধরতে কোন সৈন্য গেলে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করতো। পরে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে ও টানেলে পানি ঢেলে তাতে কারেন্ট দিয়ে তাদেরকে আহত করে জুহাইমানসহ তার প্রায় ৭৭জন সাথীকে গ্রেফতার করা হয়। কথিত ইমাম মাহদী আগেই মারা গিয়েছিল আক্রমনের সময়। গ্যাসে জুহাইমানের চেহারা কালো হয়ে যায়, পরে শরিয়াহ মোতাবেক জুহাইমানসহ অনেককে প্রকাশ্যে কতল করে হত্যা করা হয়। জুহাইমানকে এই ভিডিওতে দেখতে পারবেন।

Sunday, 31 July 2016

ওসামা বিন লাদেন এবং আল-কায়েদাহর ‘ধ্বংসাত্মক মানহাজের’ ব্যপারে আলেমদের ফতোয়া



.
১. “ওসামা বিন লাদেন মুসলিমদের মাঝে অনেক বড় ফিতনা সৃষ্টিকারী একজন ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে মুসলিমদেরকে সতর্ক করা ওয়াজিব।”
- শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরব তথা বর্তমান বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন ও মুফতি।
.
২. “ওসামা বিন লাদেন এবং তার মতো যারা এমন (মুসলিম দেশে বোমা হামলা করার মতো) দাওয়াত দিচ্ছে (বক্তব্য, লেখনী কিংবা বই-পুস্তক এর মাধ্যমে), তাদের চিন্তা-ভাবনা নষ্ট ও বাতিল। এইগুলো (এ ধরণের লেখা ও বক্তব্যের রেকর্ডিংগুলো) ধ্বংস করে ফেলতে হবে। (ওসামা বিন লাদেন এবং তার সাথে যারা ছিলো) তাদেরকে উপদেশ দেওয়া ওয়াজিব, তাদেরকে সাহায্য করা জায়েজ নয়। আমি তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন এমন ধ্বংসাত্মক রাস্তা থেকে ফিরে আসে এবং যেই অপকর্ম তারা করেছে, সে ব্যপারে আল্লাহকে ভয় করে।”
- ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ, সৌদি আরবের বিগত গ্র্যান্ড মুফতি।
.
৩. “ওসামা বিন লাদেন এবং তার মতো লোকেরা (আল-কায়েদাহ) পথভ্রষ্ট।”
- শায়খ আব্দুল আজিজ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরবের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি।

Tuesday, 5 July 2016

মসজিদে হারামের জুমার খুতবা: আইএসের ভ্রান্তির চিত্র


77076

মসজিদে হারামের জুমার খুতবা
আইএসের ভ্রান্তির চিত্র
শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ
কোনো ভূমিকা ও পূর্বকথা ছাড়াই সব মুসলিম বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য আইএস নামক বিপথগামী গোষ্ঠী সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। আঞ্চিলক ও আন্তর্জাতিক মদদপুষ্ট রক্তপিপাসু দুর্বৃত্ত দলটি যে অন্যায় পথ ও ভুল পন্থা অবলম্ব্বন করছে তা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট নয়। আলেমসমাজ ও সাধারণ মুসলিম সমাজমাত্রই জানে, সীমা লঙ্ঘনকারী খারেজি সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান চরিত্র হলো তারা অন্যান্য সাধারণ মুসলামানকে কাফের আখ্যায়িত করে, এমনকি সাহাবায়ে কেরামকেও তারা কাফের বলে বেড়ায়। ইসলামপন্থীদের হত্যা করে। পৌত্তলিকদের নিমন্ত্রণ জানায়। পথভ্রষ্ট আইএস গোষ্ঠীও খারেজিদের পথ ও মত অবলম্ব্বন করেছে। মুসলিম দেশ ও তার মুসলিম অধিবাসীকে কাফের বলে ঘোষণা করেছে। তাদের বিরোধিতাকারী সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীবাহিনীর সঙ্গেও তারা লড়াইয়ে জড়িয়েছে। কেউ তাদের বিরোধিতা করলেই তাদের ওপর মুরতাদ ও কাফের হওয়ার হুকুম আরোপ করছে।
মানুষ তাদের কাছে কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত- হয়তো নিরেট কাফের অথবা মুরতাদ অথবা মোনাফেক। আর তাদের সরকারি মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী মুরতাদের মাথা তাদের কাছে হাজারটা কাফের শত্রুর চেয়েও অধিক প্রিয়। অথচ বিশিষ্ট হক্কানি আলেম কাজী আবুল ওয়ালিদ বলেন, একজন মুসলিমের রক্ত প্রবাহে ভুল করার চেয়ে হাজারটা কাফেরকে ছেড়ে দেয়ার ভুলের চেয়ে হালকা। এখন এই দুই শরিয়ত ও ফতোয়ার মাঝে তুলনা করে দেখুন কারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ভ্রষ্ট দলের অনুসারীরা গর্ব করে বলে, তাদের পানীয় হলো রক্ত, তাদের সহচর হলো খ-িত মস্তক। আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে এদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...