Showing posts with label রোযা. Show all posts
Showing posts with label রোযা. Show all posts

Sunday, 2 March 2025

আল্লামা বিন বায রাহ. কর্তৃক প্রদত্ব ছোট ছোট প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর (৫৪টি)

 


আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ.  রমজান, সিয়াম, তারাবিহ, কিয়ামুল্লায়, ইতিকাফ, সফর, কুরআন তিলাওয়াত, দুআ, উমরা ইত্যা বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত চমৎকার কিছু প্রশ্নোত্তর যেগুলো তিনি ‘ওয়াযায়েফে রমজান’ শীর্ষক কিতাবের ব্যাখ্যা কালীন তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রদত্ব বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন।

নিম্নে পাঠকদের উপকার হবে এ আশায় মূল ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে সেখান থেকে কেবল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরগুলোর অনুবাদ পেশ করা হলো। আল্লাহ তওফিক দাতা।

 মোট ৭টি পর্বে ৫৪টি প্রশ্নোত্তর পেশ করা হয়েছে।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-১

১. প্রশ্ন: যে ব্যক্তি রমজান মাসে সুদ খায় তার রোজা গ্রহণযোগ্য হবে কি?

শাইখ: সুদ হারাম, তা রমজান হোক বা অন্য সময়। রমজানসহ সব সময় সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ।

২. প্রশ্ন: তাহলে তার রোজা কবুল হবে?

শাইখ: তার রোজা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। তবে সে গুনাহের ঝুঁকিতে থাকবে।

৩. প্রশ্ন: ইউরোপের কিছু দোকানে মুসলিম মালিকরা রমজানে মদ ও শুকরের মাংস বিক্রি করে। এ ব্যাপারে কী বলা যাবে?

শাইখ: তাদের সতর্ক করা উচিত এবং বোঝানো দরকার যে, এটি হারাম ও নিন্দনীয় কাজ যেন তারা শিখে ও সংশোধন হয়ে যায় এবং এসব কাজ ছেড়ে দেয়।

৪. প্রশ্ন: কিন্তু এতে কি তাদের রোজার কোনও প্রভাব পড়ে?

শাইখ: না, রোজা নষ্ট হয় না। তবে এতে দাগ পড়ে। রোজা শুধু তার ভঙ্গকারী বিষয়গুলো দ্বারা বাতিল হয়। কিন্তু গুনাহ করলে রোজার পূর্ণতা কমে যায়-সওয়াব ও প্রতিদান হ্রাস পায়।

৫. প্রশ্ন: কোনও নারী যদি মসজিদের কাছাকাছি বাস করে তাহলে কি সে ইমামের সাথে নামাজ পড়তে পারবে যদি সে ইমামের কণ্ঠ শুনতে পায়?

শাইখ: না, সে মসজিদে গিয়ে পড়বে অথবা একা বাসায় পড়বে। যদি সে মসজিদে না থাকে বা ইমাম ও জামাতকে না দেখে তাহলে সে তাদের অনুসরণ করতে পারবে না। তবে যদি সে মসজিদের ভেতরে থাকে বা ইমাম ও জামাতকে দেখতে পায় তাহলে কোনও সমস্যা নেই।

৬. প্রশ্ন: যদি বাড়িটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত হয় যেমন মুয়াজ্জিন বা ইমামের বাসা?

শাইখ: তবুও, যদি সে ইমাম বা জামাতকে না দেখে তাহলে সে অনুসরণ করতে পারবে না। বরং একা নামাজ পড়বে।

৭. প্রশ্ন: নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই কি উত্তম?

শাইখ: হ্যাঁ, নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই উত্তম।

Thursday, 6 April 2023

ফিরে এলো রামাযান কিন্তু আমরা কখন ফিরবো?

 

লেখকঃ আব্দুর রাকীব বুখারী মাদানী হাফিঃ।


আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বাদ।
আমাদের মাঝে প্রতি বছরে রামাযান মাস আসে আর চলে যায়। আগমনের সাথে সাথে মুসলিম সমাজে ও মুসলিম পরিবারে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।
-দেখা যায় মসজিদের কাতারে নামাযীর আধিক্য।
-আযানের সাথে সাথে বেশ কিছু লোকের মসজিদে আগমন।
-এবং তারাবীহর নামায আদায়ের জন্য ছোট-বড় অনেক লোকের মসজিদে অপেক্ষা।
দেখা যায় কিছু লোকের পরিধানে পরিবর্তন।
-সুন্দর পাঞ্জাবী ও টুপি, যা তারা অন্য দিনে খুব কমই গায়ে দেয় কিন্তু এই মাসে প্রায় সময় তাদের শরীরে এই রকম লেবাস সজ্জা পায়।
দেখা যায় বিনোদনে পরিবর্তন।
-যারা অন্য দিনে আশঙ্কামুক্ত হয়ে টেলিভিশন, নেট, ফেসবুক ও মোবাইলে গান-বাজনা সহ অন্যান্য হারাম বিনোদনে লিপ্ত থাকতো, তারা অনেকে এই মাসে অনেকটা সংযত হয়ে যায়।
-অনেকে টেলিভিশনের ক্যাবেল সংযোগ কেটে দেয়, মোবাইলের রিং টোন পাল্টে দেয় এবং এই রকম আরো অন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
দেখা যায় বাড়ির ভিতরের পরিবেশে পরিবর্তন।
অনেকের বাড়ির ভিতর থেকে ভেসে আসতে শুরু করে কুরআন তেলাওয়াতের সুর।
মহিলারা মাথায় ঘোমটা টেনে গুণ গুণ সুরে পড়তে থাকে কুরআন মজীদ।
অনেকের টেপ রেকোর্ডার ও ডি.ভি.ডি. প্লেয়ারে গানের বদলে বাজতে লাগে কারী সাহেবের তিলাওয়াত নচেৎ গজল ও ইসলামী সঙ্গীত।
দেখা যায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সাধুত্ব।
অন্য দিনে যারা দুধে পানি মিশ্রণ করে বিক্রি করত, কলাই, গম এবং সরিষায় পাথরের কুচি মিশ্রণ করে মালের ওজন বৃদ্ধি করত, মুদিখানার বিভিন্ন সামগ্রীতে বিভিন্ন কিছু মিক্চার করে বিনা দ্বিধায় গ্রাহকের হাতে তুলে দিত, তারা অনেকে এই মাসে এইসব অসাধু কাজে লাগাম দিয়ে এক মাসের জন্য সাধু ব্যবসায়ী হওয়ার চেষ্টা করে।
দেখা যায় বদান্যতা। অনেক মুসলিম ভাইর হাত এই মাসে প্রশস্ত হয়ে যায়।
তাই কেউ কাপড়-চপড় বিতরণ করে,
কেউ মসজিদ মাদ্রাসায় দান-খয়রাত করে
এবং কেউ যাকাত বের করে। যার ফলে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাঁদা আদায়কারীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।
দেখা যায় ধুমপায়ী ও নেশাখোর ব্যক্তিদের সংযত হতে।
তাই দিনের বেলায় তাদের বিড়ি-সিগারেট টানতে দেখা যায় না,
হাতে খয়নি ডলে তাতে ফুৎকার দিতে দেখা যায় না।

Tuesday, 13 April 2021

সিয়াম গাইড। লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।

 #সিয়াম_কিয়াম_শুরু_করার_পূর্বে_লেখাটি_পড়ার_অনুরোধ_জানাচ্ছি।

লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।
عبد الرقيب المدني
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদ:
১- সিয়াম পালন একটি ফরয ইবাদত যা, প্রত্যেক সাবালক, সুস্থ ও মুকিম ( মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি ) মুসলিমের প্রতি জরুরি । যেহেতু প্রত্যেক ইবাদত কবুলের প্রথম শর্তই হচ্ছে সে ইবাদতটি খাঁটি ভাবে আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে হওয়া তাই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই সিয়াম ( রোযা) পালন করা আবশ্যক।
২ - সিয়ামের সময়সীমা হল, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এই সময় যাবতীয় পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও যৌন সঙ্গম থেকে বিরত থাকার নাম সাউম বা রোযা । আর বাকি অঙ্গ যেমন জিহব্বা, চোখ , কান, হাত-পা ইত্যাদিকে যাবতীয় মন্দ বলা, দেখা, শোনা এবং করা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে রোযাকে পূর্ণতা দান করা , রোযার সংরক্ষণ করা এবং সিয়াকে কলুষিত না করা।
৩- ফজর পূর্বে নিয়ত তথা সংকল্প করার মাধ্যমে সাউম শুরু হয়। এই সময় কিছু আহার করা ভাল, যাকে সাহুর (সাহরী) বলা হয়। এই আহার বরকতপূর্ণ এবং মুসলিম ও অমুসলিমের সিয়ামের মাঝে পার্থক্যকারী, যা খাওয়া সুন্নাত জরুরি নয় । তাই রোযা রাখার নিয়ত ছিল কিন্তু যে কোন কারণে সাহুর খেতে পারেনি তার সাউম শুদ্ধ।
৪- চোখের সামনে সূর্য ডুবে গেলে রোযা ভঙ্গ করা তথা ইফতার করার নিয়ম । সূর্য ডুবার সাথে সাথে তাড়াতাড়ি ইফতার করা অর্থাৎ কল্যাণে থাকা। [ মুত্তাফাকুন আলাইহ ] ডাগর খেজুর দ্বারা ইফতারি করা সুন্নাহ, তবে এর অবর্তমানে সাধারণ খেজুর দ্বারা আর তাও না থাকলে পানি দ্বারা ইফতার করার সুযোগ রয়েছে । [ আবু দাউদ তিরমিযী]

৫- স্ত্রী সহবাস, হারাম সহবাস, হস্তমৈথুন, জাগ্রতবস্থায় যৌন চাহিদার সাথে বীর্যপাত, ইচ্ছাকৃত পানাহার, পানাহারের স্থানে স্লাইন-ইঞ্জেকশন গ্রহণ, ইচ্ছাকৃত বমি করা, স্ব ইচ্ছায় অধিক রক্তদান এসব কারণে সিয়াম ভেঙ্গে যায়। [ মুলাখখাস আল ফিকহি ১৮২-৮৩] স্বপ্ন দোষ, অনিচ্ছা ও ভুলে পানাহার, অনিচ্ছায় বমি করা, অনিচ্ছায় রক্তক্ষরণ এবং সামান্য রক্তদানে সাউম নষ্ট হয় না।
৬- যার উপর সাউম জরুরি কিন্তু সে মুসাফির কিংবা অসুস্থ তাহলে তার জন্য সেই দিনগুলিতে রোযা ছাড়া বৈধ সে অন্য দিনে তা কাযা-পূরণ করে দিবে। [ বাকারাহ ১৮৪] মুসাফিরের সফরে যদি কষ্ট না হয় আর অসুস্থ ব্যক্তির অসুখ যদি হাল্কা হয় তাহলে তারা রোযা রাখবে কিন্তু সফর বা অসুস্থের কারণে রোযা রাখতে একটু কষ্ট হলেই রোযা কাযা করা ভাল। আর বেশী কষ্ট হলে রোযা কাজা করা জরুরি। [শারহুল মুমতি, ইবনু উসাইমীন ]
৭- রোযা পালনের সময় মহিলাদের মাসিক স্রাব শুরু হলে রোযা ছেড়ে দিবে, শেষ হলে আবার করবে এবং ছুটে যাওয়া রোযাগুলি রামাদান পরে ক্বাযা করবে কিন্তু নামাজ ক্বাযা করবে না । [বুখারি মুসলিম]
৮- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণী মহিলারা অসুস্থ ব্যক্তির মত। রোযা রাখলে যদি স্বয়ং তাদের সমস্যা হয় কিংবা তাদের সন্তানের ক্ষতি হয় তাহলে তারা পরে রোযা ক্বাযা করে দিবে। [শারহুল মুমতি]
৯- অধিক বার্ধক্য কিংবা চিরস্থায়ী অসুখ যা থেকে সুস্থতার আশা করা যায়না এমন অপারগতার কারণে সাউম পালনে অক্ষম ব্যক্তিরা প্রতি রোযার বদলে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। [ফাতাওয়া ইবনু বাজ ৫/২৩৩] [ অর্ধ স্বা অর্থাৎ (সোয়া কেজি) কাঁচা বা রান্নাকৃত খাবার বা একজন মিসকিন যে পরিমাণ খায় ততখানি খাবার। ]
১০- সিয়াম পালনকারীদের উচিৎ হবে তারা যেন অবশ্যই ফরয কাজগুলি সঠিক সময়ে পালন করে এবং নফল ইবাদত বেশী বেশী করে। কুরআন তিলাওয়াত, যিকর - আযকার, দান- সাদাকা, দাওয়াত তাবলীগে অগ্রগামী হয়। হারাম কাজ বর্জন করে। গিবত-পরনিন্দা পরিহার করে। আনাস ( রাযীঃ ) হতে বর্ণিত, যে পরনিন্দা করতে থাকে সে সাউম পালন করে না। [ ইবনু আবি শাইবা ৮৮৯০]
বি: দ্র: বর্তমান মহামারীর কারণে বিশ্বের বরেণ্য উলামাগণ কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রায় ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে এই সময় জুমআ, জামাআত এবং তারাবীহ এর নামায বাড়িতে আদায় করা বৈধ বরং জরুরি।
নিজের, অপরের, দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে আমাদের এই সময় বাড়িতে নামায আদায় করে বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়া উচিৎ। ইনশা আল্লাহ্ আপনি আপনার সৎ নিয়তের কারণে জামাআতে সালাত আদায় করার সাওয়াব পেয়ে যাবেন।
অবশ্য যেখানে এই সমস্যা নেই বা অতি লঘু সমস্যা রয়েছে সেখানে আলেম উলামাদের পরামর্শ হিসাবে কাজ করতে হবে।
দুআর আশাবাদী, আব্দুর রাকীব বুখারী-মাদানী।
প্রাক্তন দাঈ, সৌদী আরব
প্রভাষক, জামেয়াতুল ইমাম আলবুখারী, কিশনগঞ্জ।

Friday, 16 August 2019

রোজাদার ব্যক্তির ইনহেলার ব্যবহার করার বিধান


বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: في بعض الصيدليات بخاخ يستعمله بعض مرضى الربو، فهل يجوز للصائم استعماله في نهار رمضان؟
الإجابة: استعمال هذا البخاخ جائز للصائم، سواء كان صيامه في رمضان أم في غير رمضان، وذلك لأن هذا البخاخ لا يصل إلى المعدة، وإنما يصل إلى القصبات الهوائية، فتنفتح لما فيه من خاصية، ويتنفس الإنسان تنفساً عادياً بعد ذلك، فليس هو بمعنى الأكل ولا الشرب، ولا أكلاً ولا شرباً يصل إلى المعدة، ومعلوم أن الأصل صحة الصوم حتى يوجد دليل يدل على الفساد من كتاب، أو سنة، أو إجماع، أو قياس صحيح.
প্রশ্ন: “কিছু ওষুধের ফার্মেসিতে ইনহেলার পাওয়া যায়, যা অ্যাজমা বা হাঁপানির রোগীরা ব্যবহার করে থাকে। রোজাদারের জন্য রমজানের দিনের বেলায় তা ব্যবহার করা কি জায়েজ?”
উত্তর: “রোজাদারের জন্য এই ইনহেলার ব্যবহার করা জায়েজ, চাই তার রোজা রমজান মাসে হোক বা অন্য মাসে হোক। কেননা ইনহেলার পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছে না। বরং এটা স্রেফ শ্বাসনালী পর্যন্ত পৌঁছে। ফলে শ্বাসনালীর অভ্যন্তরে যে সমস্যা থাকে, তা দূরীভূত হয়ে শ্বাসনালী খুলে যায় এবং এরপর রোগী স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে। এটা পানাহারের অর্থবোধক বিষয় নয়। এটা পানাহারও নয়, যা পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছে। আর এটি সুবিদিত যে, মৌলিক বিষয় হলো—রোজাদারের রোজা বিশুদ্ধ থাকবে, যতক্ষণ না কুরআন, বা সুন্নাহ, বা ইজমা‘, বা বিশুদ্ধ কিয়াস থেকে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল; খণ্ড: ১৯; পৃষ্ঠা: ২১০-২১১; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

রোজাদার ব্যক্তির ইনজেকশন ব্যবহার করার বিধান


সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ও মুহাদ্দিস শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يجوز استعمال الإبر المقوية للصائم في رمضان؟
الجواب: لا حرج في ذلك على الصحيح لا حرج في ذلك، الإبر المقوية والمسكنة للآلام كل هذا لا بأس به، الممنوع الإبر المغذية، الحقن التي تغذي هذه تفطر الصائم، لكن إذا اضطر إليها واحتاج إليها يعطى إياها ويفطر حكمه حكم المرضى، أما إبر للتقوية أو تسكين الألم أو أخذ عينة من الدم أو ما أشبه ذلك لا تفطر على الصحيح. نعم.
প্রশ্ন: “রমজান মাসে রোজাদারের জন্য শক্তিবর্ধক ইনজেকশন ব্যবহার করা কি জায়েজ?”
উত্তর: “বিশুদ্ধ মতানুসারে এতে কোনো সমস্যা নেই। এতে কোনো সমস্যা নেই। শক্তিবর্ধক ও ব্যথানাশক ইনজেকশন ব্যবহার করায় কোনো সমস্যা নেই। তবে পুষ্টিকারক বা খাদ্য দানকারী ইনজেকশন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কেননা যেসব ইনজেকশন পুষ্টির জোগান দেয়, তা রোজাদারের রোজা ভেঙে ফেলে। কিন্তু কেউ যদি এই ইনজেকশন নিতে বাধ্য হয় এবং এই ইনজেকশন নিয়ে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার জন্য রোগীদের বিধান প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে শক্তিবর্ধনের জন্য, অথবা ব্যথা নাশ করার জন্য, বা কিছু রক্ত নেওয়ার জন্য কিংবা অনুরূপ কোনো কাজের জন্য ইনজেকশন নিলে, বিশুদ্ধ মতানুসারে এতে রোজা নষ্ট হবে না।”
·
তথ্যসূত্র:
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

রোজাদার ব্যক্তির সাপোজিটরি ব্যবহার করার বিধান


বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: ما حكم استعمال التحاميل في نهار رمضان، إذا كان الصائم مريضاً؟
الإجابة: لا بأس أن يستعمل الصائم التحاميل التي تجعل في الدبر، إذا كان مريضاً، لأن هذا ليس أكلاً ولا شرباً، ولا بمعنى الأكل والشرب، والشارع إنما حرم علينا الأكل أو الشرب، فما كان قائماً مقام الأكل والشرب، أعطي حكم الأكل والشرب، وما ليس كذلك فإنه لا يدخل في الأكل والشرب لفظاً ولا معنى، فلا يثبت له حكم الأكل والشرب، والله أعلم.
প্রশ্ন: “রমজান মাসের দিবসে অসুস্থ রোজাদার ব্যক্তির জন্য সাপোজিটরি (মলদ্বার বা যোনিপথে প্রবেশযোগ্য গলনশীল ওষুধ-শলাকা) ব্যবহার করার বিধান কী?”
উত্তর: “রোজাদার যদি অসুস্থ হয়, তাহলে তার জন্য পায়ুপথে ব্যবহার্য সাপোজিটরি ব্যবহার করায় কোনো সমস্যা নেই। কেননা এটা পানাহার না, আবার পানাহারের অর্থবোধক বিষয়ও না। শরিয়তপ্রণেতা আমাদের জন্য পানাহার হারাম করেছেন। যেসব দ্রব্য পানাহারের স্থলাভিষিক্ত, সেগুলোর ক্ষেত্রেও পানাহারের বিধানই প্রযোজ্য হবে। আর যা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত না, তা শব্দগত বা অর্থগত—কোনোভাবেই পানাহারের আওতাভুক্ত হবে না। ফলে তার জন্য পানাহারের বিধানও সাব্যস্ত হবে না। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল; খণ্ড: ১৯; পৃষ্ঠা: ২০৪-২০৫; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

মাসিক নিবারক ট্যাবলেট সেবন করে রমজান মাসে রোজা রাখার বিধান



·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড) প্রদত্ত ফাতওয়া—

السؤال: هل يجوز للمرأة استعمال دواء لمنع الحيض في رمضان أو لا؟
الجواب: يجوز أن تستعمل المرأة أدوية في رمضان لمنع الحيض إذا قرر أهل الخبرة الأمناء من الدكاترة ومن في حكمهم أن ذلك لا يضرها، ولا يؤثر على جهاز حملها، وخير لها أن تكف عن ذلك، وقد جعل الله لها رخصة في الفطر إذا جاءها الحيض في رمضان، وشرع لها قضاء الأيام التي أفطرتها ورضي لها بذلك دينا. وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

প্রশ্ন: “মহিলার জন্য রমজান মাসে মাসিক নিবারক ট্যাবলেট সেবন করা কি জায়েজ, না কি না-জায়েজ?”

উত্তর: “মহিলার জন্য রমজান মাসে মাসিক নিবারক ট্যাবলেট সেবন করা জায়েজ, যদি অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত ডাক্তারবর্গ এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিরা এই স্বীকৃতি দেয় যে, এটা কোনো ক্ষতি করবে না এবং গর্ভধারণের প্রক্রিয়ায় কোনো খারাপ প্রভাব ফেলবে না। তবে তার জন্য উত্তম হলো এ কাজ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তার জন্য রোজা না করার অনুমতি দিয়েছেন, যখন রমজান মাসে তার মাসিক শুরু হয়। আর যে দিনগুলোতে সে রোজা রাখে না, সে দিনগুলোর কাজা আদায় করার বিধান দিয়েছেন এবং এটাকেই তার জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের উপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”

ফাতওয়া প্রদান করেছেন—
চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)।
ভাইস চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুর রাযযাক্ব ‘আফীফী (রাহিমাহুল্লাহ)।
মেম্বার: শাইখ ‘আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়্যান (রাহিমাহুল্লাহ)।
মেম্বার: শাইখ ‘আব্দুল্লাহ বিন মানী‘ (রাহিমাহুল্লাহ)। [ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ; ফাতওয়া নং: ১২১৬; প্রশ্ন নং: ৫; খণ্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ১৫১]

·
যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—

السؤال: حكم استعمال المرأة حبوباً مانعةً لنزول دم الحيض في شهر رمضان حتى تتمكن من إتمام صومها؟
الجواب: لا حرج في ذلك أن تأخذ الحبوب لمنع الحيض حتى تصلي مع الناس وتصوم مع الناس بشرط أن يكون ذلك سليماً لا يضرها عن المشاورة للطبيب، وعن موافقة لزوجها حتى لا تضر نفسها، وحتى لا تعصي زوجها، فإذا كان عن تشاور وعن احتياط من جهة السلامة من الضرر فلا بأس، وهكذا في أيام الحج.

প্রশ্ন: “মহিলার জন্য রমজান মাসে মাসিকের রক্ত নিরোধক ট্যাবলেট সেবন করার বিধান কী, যাতে করে সে তার রোজা সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়?”

উত্তর: “তার জন্য মাসিক নিবারক ট্যাবলেট সেবন করায় কোনো সমস্যা নেই, যাতে করে সে মানুষের সাথে সালাত পড়তে পারে এবং মানুষের সাথে রোজা রাখতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো এই ব্যবস্থাটি নিরাপদ হতে হবে, যা তার কোনো ক্ষতি করবে না। আর এই কাজ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে এবং স্বামীর অনুমোদন নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। যাতে করে সে নিজের ক্ষতি করে না ফেলে এবং স্বীয় স্বামীর অবাধ্য না হয়। এটি যখন পরামর্শের ভিত্তিতে হবে এবং অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হওয়ার মতো সতর্কতার ভিত্তিতে হবে, তখন এতে কোনো সমস্যা নেই। অনুরূপভাবে হজের ক্ষেত্রেও একই বিধান।” [দ্র.: www.binbaz.org.sa/mat/18696.]

·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Thursday, 30 May 2019

ফিতরা প্রদানরে সময়সীমা ও বণ্টন পদ্ধতি

↗️↗️↗️↗️
আলহামদুালল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ
ঈদের নামাযের পূর্বে ফিতরা প্রদান করা যেমন ইসলামের একটি সুন্দর বিধান, তেমন তা সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে বণ্টন করাও গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিতরা বণ্টনের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে: লোকেরা তাদের ফিতরা মসজিদের ইমাম কিংবা গ্রামের সর্দারের কাছে ঈদের নামাযের পূর্বে আর অনেকে নামাযের পরে জমা করে দেয়। ফিতরা দাতারা ধান, গম, চাল এবং অনেকে টাকা দ্বারা ফিতরা দিয়ে থাকেন। অতঃপর ইমাম কিংবা সর্দার সাহেব কিছু দিন পর সেই জমা কৃত ফিতরা বিক্রয় করে দেন। তার পর তিনি সেই মূল্য অর্থাৎ টাকা-পয়সা বিতরণ শুরু করেন। ফিতরা যারা নিতে আসেন তাদের মধ্যে ফকীর-মিসকিন, মাদরাসার ছাত্র এবং ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলিও থাকে। এরা অনেকে কাছাকাছি অঞ্চলের হয় আর অনেকে দূরেরও হয়। সাধারণত: এই পদ্ধতিতেই বেশির ভাগ স্থানে ফিতরা বণ্টন করা হয়ে থাক। কোথাও একটু ব্যতিক্রম থাকলে সেটা অবশ্য আলাদা কথা।
এই নিয়মকে কেন্দ্র করে সুন্নতের অনুসারী ভাইদের কয়েকটি বিষয় জানা একান্ত প্রয়োজন।
ক- কি কি জিনিস দ্বারা এবং কত পরিমাণ ফিতরা দেওয়া সুন্নত ?
খ- ফিতরা আদায়ের সময়সীমা কি ?
গ-নিজের ফিতরা নিজে বণ্টন করা উত্তম না ইমাম বা সর্দার দ্বারা বিতরণ করা উত্তম?
ঘ- ইমাম বা সর্দার সাহেব ঈদের পরে ফিতরার দ্রব্যাদি বিক্রয় করা পর্যন্ত যে কয়েক দিন দেরী করেন, তা করা কি ঠিক?
ঙ- ফিতরা পাওয়ার যোগ্য কারা কারা ? বা ফিতরার খাত কি ?
————————————————————–

Saturday, 11 May 2019

রোযাকে রোযা বলা যাবে, না সাউম বা সিয়াম বলতে হবে?

শরিয়ার পারিভাষাগুলি দুটি অর্থ বহন করেঃ

যেমন শারঈ শব্দ [সাউম] বহু বচনে সিয়াম। স্বালাত বহু বচনে স্বালাওয়াত। সাউম ও স্বালাত যেহেতু আরবী ভাষার শব্দ তাই আরবী ভাষাতেও তার নিজস্ব একটি অর্থ রয়েছে। সাউমের আরবী আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা আর স্বালাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দুআ। আর এসবের একটি শারঈ অর্থও রয়েছে কারণ এই পরিভাষাগুলি শা‘রে বা বিধানদাতার পক্ষ্য থেকে অবতীর্ণ। এখন জানা দরকার এই সব শারঈ শব্দগুলির কোন্ অর্থটি গ্রহণীয় আভিধানিকটি না শারঈটি?

শারঈ অর্থকে অন্য শব্দে পারিভাষিক অর্থও বলা হয়। আমাদের অবশ্যই জানা দরকার শরিয়ার শব্দগুলির শারঈ অর্থই গ্রহণীয়। তাই সাউমের অর্থ শুধু বিরত থাকা করলে গ্রহনীয় নয় আর না স্বালাতের অর্থ দুআ করলে গ্রহনীয়। যদি হত, তাহলে কেউ যে কিছু থেকে বিরত থাকলেই তাকে সাউম পালনকারী বলা যেত। অনুরূপ কেউ দুআ করলেই তাকে স্বালাত আদায়কারী বলা যেত। কিন্তু এই রকম কোন কিছু থেকে বিরত থাকলেই তাকে সাউম আদায়কারী বলা যায় না। বরং শরীয়ার দৃষ্টিতে যে, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও যৌন সঙ্গম থেকে বিরত থাকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে তাকেই সাউম পালনকারী বলা হয়।

উল্লেখ্য শারই শব্দগুলি যেমন স্বালাত, সাউম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদী যদি অন্য ভাষায় অন্য শব্দে ব্যবহৃত হয় এবং ঐ অর্থেই ব্যবহৃত হয় যেই অর্থে শরিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে, তাহলে তা বলা দুষনীয় নয়; বরং অনেক সময় দেশ ও ভাষার পার্থক্যের কারণে তাদের নিজের ভাষায় বলাই উচিৎ যেন তারা বুঝতে পারে। অর্থাৎ ধরূন কোন সমাজে স্বালাত শব্দটি প্রচলিত নয় বরং এর অর্থ নামায হিসাবে প্রচলিত এবং তারা নামায বললে ঐ অর্থই বুঝে যা সালাতের অর্থ তাহলে তা ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা নেই।

উসূলে ফিকহে একটি মূলনীতি রয়েছে [আল্ ইবরাতু লিল্ মাআনী লা লিল্ আলফায ওয়াল্ মাবানী] অর্থাৎ শব্দ নয় বরং শব্দের উদ্দেশ্যই গৃহীত। তাই কেনা-বেচা ও বিবাহ শাদীর অধ্যায়ে এই মূলণীতির রয়েছে প্রচুর ব্যবহার। তন্মধ্যে উদাহারণ স্বরূপ যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সময় এমন শব্দ বলে যা তালাক নয় বরং ধরুন বললোঃ তুমি তোমার মায়ের বাড়ি চলে যাও। এখন এটি তালাক হবে কি না? শাইখুল ইসলাম সহ প্রায় অধিক উলামা বলেনঃ দেখতে হবে তার এই কথার মাধ্যমে উদ্দেশ্য কি ছিল? যদি সে তালাক উদ্দেশ্য করেছিল তাহলে তালাক ধরা হবে আর যদি সে অেন্য উদ্দেশ্যে বলে থাকে তাহলে তালাক ধরা হবে না।

 তাই বলছিলাম শরিয়ার সাউম বা সিয়াম শব্দের বদলে কোনো দেশে বা সমাজে যদি কেউ তা রোযা বলে তাহলে জানতে হবে যে, সে রোযা বলতে ইসলামের রুকন রোযাকে বুঝাচ্ছে, না অন্য কোনো উপবাসকে? যদি ইসলামের সাউমকে বুঝায় তাহলে তা স্বীকৃত।
=একটু আগে এক মাননীয় আলেমের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ শুনলাম তাতে তিনি বারংবার বলছেন রোযা মানে উপবাস আর সিয়াম মানে বিরত থাকা মানুষ উপবাস থাকতে পারছে কিন্তু সিয়াম রাখতে পারছে না। তাঁর এই বক্তব্যে আসলে জনসাধারণ অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে বা বলতে পারেন তাঁর শব্দের মায়াজালে অনেকে সংশয়ে রয়েছে যে, তাদের নাকি উপবাস রাখা হচ্ছে সিয়াম হচ্ছে না। অনেক অল্প জ্ঞানী যুবক বিষয়টি বড় করে দেখছে এবং প্রচারও করছে। এই কারণে আমি উপরোক্ত বিষয়টি লিখতে বাধ্য হলাম, যার সারাংশ হচ্ছে মানুষ রোযা বলুক আর সাউম-সিয়াম দুটির উদ্দেশ্য যদি একই হয় তাহলে পার্থক্য করার প্রয়োজন নেই আর না এমন ব্যাখার প্রয়োজন যার মাধ্যমে উপকারের থেকে অপকার বেশী বা বিভ্রান্তি বেশী। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুক এবং আমাদের আপনাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করার ও আমল করার তাওফীক দিক। আমীন।

— লিখেছেন শায়খ আব্দুর রাক্কিব বুখারি মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।

Saturday, 12 May 2018

নিয়ত কিভাবে করতে হবে?




নিয়ত শব্দের অর্থ হচ্ছে “কোন কাজ করতে ইচ্ছা করা” বা “সংকল্প করা”। নিয়ত করতে হবে অন্তরে, মুখে উচ্চারণ করে দোয়া পড়ে নয়। নিয়ত করার জন্য কোনো দুয়া পড়তে হবেনা বা মুখে উচ্চারণ করে কিছু বলতে হবেনা।
সালাতের নিয়ত করার জন্যেঃ 
আপনি কোন ওয়াক্তের কত রাকাত (২/৩/৪), কি সালাত (ফরয, সুন্নত নাকি নফল সালাত) পড়ছেন, অন্তরে শুধুমাত্র এই ধারণা বা ইচ্ছাটুকু থাকলেই আপনার নিয়ত করা হয়ে যাবে। প্রত্যেক কাজের শুরুতে এইরকম অন্তরে নিয়ত করে নেওয়া “ফরয”।
যে কোনো ইবাদত বা আমলের পূর্বে এইভাবে নিয়ত না করলে, সেটা ইবাদত হিসেবে কবুল করা হয়না। কিন্তু নিয়তের জন্যে মুখে “নাওয়াইতুআন উসালিল্লাহি তাআ’লা...” এই দোয়া পড়ে বা মুখে উচ্চারণ করে যে নিয়ত পড়া হয়, সেটা হচ্ছে বেদাত। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এইভাবে দুয়া করতেন না। মনে রাখবেন, আমলের পূর্বে অন্তরে নিয়ত “করা” ফরয, কিন্তু মুখে উচ্চারণ করে নাওয়াইতু দুয়া “পড়া” নিয়ত করা বেদাত।
ধরুন কেউ একজনকে টাকা-পয়সা দান করলো, কিন্তু এই টাকা দেওয়ার পূর্বে সে আল্লাহর কাছে কোনো সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়ার আশা করলোনা, তার মানে হলো সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য “নিয়ত” (ইচ্ছা) করে নাই। তাই আল্লাহ তাআ’লা তাকে কোনো সওয়াব দেবেন না। কিন্তু সে যদি দান করা বা যেকোনো নেক আমলের পূর্বে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিয়ত করে, তাহলেই কেবলমাত্র সে এর বিনিময়ে সওয়াব বা প্রতিদান পাবে। আবার সে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অন্য কাউকে খুশি করা, মানুষের মাঝে নিজের সুনাম ছড়ানো, এমন উদ্দেশ্যে করে, সেটা হচ্ছে ‘রিয়া’ এবং এটা এক প্রকার শিরক। রিয়ার কারণে আল্লাহ ঐ আমল কবুল করেন না, বরং এই পাপের কারণে সে তোওবা না করলে শাস্তি পাবে। 

Sunday, 18 June 2017

ফিতরার হকদার কারা?



ফিতরা পাবার যোগ্য কারা বা ফিতরার হকদার কোন্ কোন্ প্রকারের লোকেরা ? এ বিষয়ে ইসলামী বিদ্বানগণের মতভেদ রয়েছে।
⭕একদল বিদ্বান মনে করেন: যারা সাধারণ সম্পদের যাকাতের হকদার তারাই ফিতরের যাকাতের (ফিতরার) হকদার। আর তারা হল আট প্রকারের লোক:
১- ফকীর
২- মিসকিন
৩- সাদাকা আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী
৪- যাদের অন্তর ইসলামের পথে আকর্ষণ করা প্রয়োজন
৫-দাস-মুক্তির জন্যে
৬- ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে
৭- আল্লাহর রাস্তায়
৮- মুসাফিরদের সাহায্যার্থে ( সূরা তওবা /৬০]
🔊এই মত পোষণকারীদের দলীল হল : ফিতরের সাদাকাকে অর্থাৎ ফিতরাকে নবীজী যাকাত ও সাদাকা বলেছেন তাই যেটা মালের যাকাতের খাদ হবে, সেটাই ফিতরারও হবে। সাদাকার যেই খাদ আল্লাহ সূরা তওবায় উল্লেখ করেছেন সেই খাদ সাদাকাতুল ফিতরের জন্যও হবে।
⭕অন্য এক দল বিদ্বান মনে করেন : সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা কেবল ফকীর মিসকিনদের হক, অন্যদের নয়।
📖এই মত পোষণকারীদের দলীল হল : ইবনে আব্বাস (রাযি:) এর হাদীস, তিনি বলেন :
আল্লাহর রাসূল ফিতরের যাকাত (ফিতরা) ফরয করেছেন রোজাদারের অশ্লীলতা ও বাজে কথা-বার্তা হতে পবিত্রতা এবং মিসকিনদের আহার স্বরূপ .. ’’ [আবু দাউদ, যাকাতুল ফিতর নং ১৬০৬/ হাদীস হাসান, ইরওয়াউল গালীল নং ৮৪৩]
এই মতকে সমর্থন জানিয়েছেন ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল ক্বাইয়্যূম, শাওকানী, আযীমাবাদী, ইবনু উসাইমীন সহ আরও অনেকে। [ দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ২৫/৭৩,যাদুল মাআদ ২/২২, নায়লুল আউত্বার ৩-৪/৬৫৭, আওনুল মা’বূদ ৫-৬/৩, শারহুল মুমতি ৬/১৮৪]
💰এই মতটিই অধিক সহীহ কারণ :

Wednesday, 31 May 2017

ইসলামী বিধান জানতে লজ্জা নেই-


🌸=======🍀=======🌻=====🌏
স্ত্রী-সঙ্গম ব্যতীত অন্য পদ্ধতিতে যৌন-স্বাধের সহিত বীর্যপাত করাঃ❌
যেমন যৌন-স্বাধের সহিত স্ত্রীর সাথে কোলাকুলি, আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করার সময় বীর্যপাত হওয়া। এই ভাবে সকাম হস্তমৈথুন করতঃ বীর্যপাত করা কিংবা যৌনচাহিদার সাথে যৌন (পর্ণ) ছবি সহ ইত্যাদি দেখার ফলে বীর্যপাত করা কিংবা আরো অন্য পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় কামভাবের সাথে বীর্যপাত করা। এসবই রোযা ভঙ্গের কারণ। কেউ এমন করলে তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে, তার উপর তাওবা সহ রোযা কাযা করা জরুরি হবে। কিন্তু তার উপর কাফ্ফারা নেই; কাফ্ফারা কেবল স্ত্রী সহবাসে জরুরি হয়।
হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে,
“সে আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের পানাহার ও যৌনাচার পরিহার করে”। [বুখারী, সাউম অধ্যায়, নং ১৮৯৪, মুসলিম, সিয়াম অধ্যায়, ১১৫১]
তাই রোযার জন্য যেমন পানাহার বর্জন করা জরুরি তেমন যৌনাচার পরিহার করাও জরুরি। আর যে ব্যক্তি যৌনস্বাধের সাথে উক্ত কাজগুলি করে সে, যৌনাচার পরিহার করে না ফলে তার রোযা হয় না।
উপরোক্ত ক্ষেত্রে বীর্যপাত না হয়ে যদি কেবল মযী বের হয়। অর্থাৎ উত্তেজনার সাথে বীর্যস্খলন না হয়ে কেবল যৌনাঙ্গে আঠা জাতীয় পানি বের হয়, যাকে শরীয়ার ভাষায় মযী বলে। তাহলে সঠিক মতানুযায়ী তার রোযা নষ্ট হবে না কিন্তু এর ফলে তার অযু নষ্ট হবে এবং যেই স্থানে তা লাগবে, তা ধৌত করতে হবে। [শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমীন,৬/৩৭৬]

Courtesy Shaykh Abdur Raquib Bukhari Hafizahullah

Tuesday, 30 May 2017

রোযাবস্থায় বীর্যপাত এবং স্বপ্নদোষের বিধান (কেবল প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)



আলহামদুলিল্লাহ্ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদঃ
রামাযান মাসে সাউম পালনকারী ভাইদের পক্ষ থেকে উপরোক্ত বিষয়ে প্রায় প্রায় প্রশ্ন করা হয়। এ সম্পর্কে শরীয়ার সঠিক বিধান না জানা থাকার কারণে অনেকে অনেক রকমের ধারণা করে। কেউ মনে করে তার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে, কেউ বলে রোযা মাকরূহ হয়ে গেছে, কেউ ভাবে তার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে আর কেউ সংশয়ে থাকে। তাই সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়টির শারঈ সমাধান উল্লেখ করার নিয়ত করেছি। আল্লাহই তাওফীকদাতা।
প্রথমতঃ আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে, রোযা/ সাউম হচ্ছে,  আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে ফজর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও যৌনসঙ্গম হতে বিরত থাকা। [ফাতহুল বারী, ৪/১৩২] তাই যৌন সঙ্গম হচ্ছে রোযা ভংগের একটি অন্যতম কারণ।
অতঃপর জানা উচিৎ যে, রোযাবস্থায় বীর্যপাতের দুটি অবস্থা রয়েছে। যথা:
  • (ক) রোযাদার স্বেচ্ছায় স্বয়ং তার বীর্যপাত ঘটায়। অর্থাৎ তার নিজের এখতিয়ারে বীর্যপাত করা হয়।
  • (খ) সে স্বেচ্ছায় বীর্যপাত ঘটায় না। অর্থাৎ তার এখতিয়ারে তা ঘটানো হয় না।
প্রথম অবস্থা আবার কয়েক শেণীতে বিভক্তঃ
১-রোযাবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম করা: স্ত্রী-সঙ্গম বলতে স্ত্রীর যোনীতে লিঙ্গের অগ্রভাগ (মাথা) প্রবেশ করা বুঝায়, তাতে বীর্যপাত হোক বা নাই হোক। স্ত্রীর পায়ু পথে লিঙ্গাগ্র প্রবেশ করানোও এরই অন্তর্ভুক্ত। এটা রোযাদারের এখতিয়ারভুক্ত কাজ। এমন হলে সেই ব্যক্তির রোযা তো নষ্ট হবেই হবে কিন্তু তার সাথে সাথে তার উপর কয়েকটি বিধান অর্পিত হবে। যথা:
  • (ক) তাকে এই পাপ থেকে তাওবা করতে হবে।
  • (খ) এই কাজ ঘটার পর দিনের বাকী সময় রোযাবস্থায় থাকতে হবে
  • (গ) রামাযান পর তাকে সেই রোযা কাযা করতে হবে
  • (ঘ) কাফ্ফারা দিতে হবে।
এই অপরাধের কাফ্ফারা হচ্ছে যথাক্রমেঃ

সিয়াম গাইডঃ


আলহামদুলিল্লাহ্‌ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ আম্মা বাদঃ
১- সিয়াম পালন একটি ফরয ইবাদত যা, প্রত্যেক সাবালক, সুস্থ ও মুকিম ( মুসাফির নয় ) মুসলিমের প্রতি জরুরি । যেহেতু প্রত্যেক ইবাদত কবুলের প্রথম শর্তই হচ্ছে সেই ইবাদতটি খাঁটি ভাবে আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে হওয়া তাই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই সিয়াম ( রোযা) পালন করুন ।
২ - সিয়ামের সময়সীমা হল, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এই সময় যাবতীয় পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও যৌন সঙ্গম থেকে বিরত থাকার নাম সাউম বা রোযা । আর বাকি অঙ্গ যেমন জিহব্বা, চোখ , কান, হাত-পা ইত্যাদিকে যাবতীয় মন্দ বলা, দেখা, শোনা এবং করা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে রোযাকে পূর্ণ করা , রোযার সংরক্ষণ করা এবং সিয়াকে কলুষিত না করা।
৩- ফজর পূর্বে নিয়ত করার মাধ্যমে সাউম শুরু হয়। এই সময় কিছু আহার করা ভাল, যাকে সাহুর বলা হয়। এই আহার মুসলিম ও অমুসলিমের সিয়ামের মাঝে পার্থক্যকারী, যা খাওয়া সুন্নাত জরুরি নয় । তাই রোযা রাখার নিয়ত ছিল কিন্তু যে কোন কারণে সাহুর খেতে পারেনি তার সাউম শুদ্ধ।
৪- চোখের সামনে সূর্য ডুবে গেলে রোযা ভঙ্গ করা তথা ইফতার করার নিয়ম । সূর্য ডুবার সাথে সাথে তাড়াতাড়ি ইফতার করা অর্থাৎ কল্যাণে থাকা। [ মুত্তাফাকুন আলাইহ ] ডাগর খেজুর দ্বারা ইফতারি করা সুন্নাহ, তার অবর্তমানে সাধারণ খেজুর দ্বারা আর তাও না হলে পানি দ্বারা। [ আবু দাউদ তিরমিযী]
৫- স্ত্রী সহবাস, হারাম সহবাস, হস্তমৈথুন, জাগ্রতবস্থায় যৌন চাহিদার সাথে বীর্যপাত, ইচ্ছাকৃত পানাহার, পানাহারের স্থানে স্লাইন-ইঞ্জেকশন গ্রহণ, ইচ্ছাকৃত বমি করা, স্ব ইচ্ছায় অধিক রক্তদান এসব কারণে সিয়াম ভেঙ্গে যায়। [ মুলাখখাস ফিকহি ১৮২-৮৩] স্বপ্ন দোষ, অনিচ্ছা ও ভুলে পানাহার, অনিচ্ছায় বমি করা, অনিচ্ছায় রক্তক্ষরণ এবং সামান্য রক্তদানে সাউম নষ্ট হয় না। 

Sunday, 28 May 2017

রামাযান মাসে মুমিনের দৈনন্দিন কর্মসূচীঃ



আল হামদু লিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ :
রহমতের মাস, বরকতের মাস, কল্যাণের মাস, ক্ষমার মাস, কুরআনের মাস মাহে রামাযান আমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কি রামাযানের এই মহামূল্যবান সময়গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি? আসুন না, আমরা একটি তালিকা তৈরি করি যেন, এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তে নেকী কুড়িয়ে আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারি।
🌠 *ফজর পূর্বে:*
🔹 ১) *আল্লাহর দরবারে তাওবা-ইস্তেগফার ও দুয়া:* কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করে বলেন: "কে আছে আমার কাছে দুআকারী, আমি তার দুআ কবুল করবো"। (মুসলিম)
🔹 ২) *সাহরী ভক্ষণ:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : "সাহরী খাও। কারণ সাহরীতে বরকত আছে"। (বুখারী মুসলিম)
🌅 *ফজর হওয়ার পর:*
🔸 ১) *ফজরের সুন্নত আদায়:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : "ফজরের দুই রাকাআত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা আছে তার থেকে উত্তম"। (মুসলিম )
🔸 ২) *ইকামত পর্যন্ত দুআ ও যিকিরে মশগুল থাকা:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :"আযান ও ইকামতের মাঝে দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না"। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ)
🔸 ৩) *ফজরের নামায আদায়:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :"তারা যদি ইশা ও ফজরের ফযীলত জানতো, তো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত"। (বুখারী ও মুসলিম)
🔸 ৪) *সূর্যোদয় পর্যন্ত সকালে পঠিতব্য দুআ-যিকর ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মসজিদে অবস্থান:* "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর নামাযের পর নিজ স্থানেই সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করতেন"। (মুসলিম )
🔸 ৫) *সূর্যোদয়েরে পর দু রাকাআত নামায:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :"যে ব্যক্তি জামায়াতের সহিত ফজরের নামায পড়লো, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকর করলো, তারপর দুই রাকাআত নামায আদায় করলো, তার জন্য এটা একটি পূর্ণ হজ্জ ও উমরার মত "। (তিরমিযী)
🔸 ৬) *নিজ নিজ কর্মে মনোযোগ দেয়া:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "নিজ হাতের কর্ম দ্বারা উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাবার নেই"। (বুখারী)
☀ *যোহরের সময়:*
✳ ১) জামায়াতের সহিত জহরের নামায আদায়। অতঃপর কিছুক্ষণ কুরআন কিংবা অন্যান্য দীনী বই পাঠ।
✳ ২) আসর পর্যন্ত বিশ্রাম, কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ( তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক আছে)।

Thursday, 30 June 2016

রমযান মাসের ৩০ আসর (২য় পর্ব)

১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন 
শায়খ মুহাম্মদ ইবন সালেহ ইবন উসাইমীন রহ.
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া ও আলী হাসান তৈয়ব

সপ্তদশ আসরঃযারা যাকাতের হকদার
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিচু করলে উপরে তোলার কেউ নেই, আর তিনি উপরে উঠালে নিচু করার কেউ নেই। তিনি দান করলে বাধা দেওয়ার কেউ নেই, তিনি নিষেধ করলে দেওয়ার কেউ নেই। তিনি যে সম্পর্ক ঠিক রেখেছেন তা কাটার কারও ক্ষমতা নেই, তিনি যে সম্পর্ক কর্তন করেছেন তা জোড়া দেওয়ার কেউ নেই। সুতরাং কতই না পবিত্র তিনি! তিনি মহা পরিচালক, প্রাজ্ঞ ও দয়ালু ইলাহ, তাঁর প্রাজ্ঞতার কারণেই ক্ষতি অনুষ্ঠিত হয় আর তার রহমতেই উপকার সাধিত হয়। আমি তাঁর সকল কর্মকাণ্ডের উপর তাঁর প্রশংসা করি, তার প্রশস্ত ব্যাপক দানের কারণে তার শুকরিয়া আদায় করি।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, যা শরীয়ত হিসেবে দিয়েছেন তা দক্ষতার সাথে দিয়েছেন, যা তৈরী করেছেন সম্পূর্ণ নতুনভাবে তা করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি এমন সময় পাঠিয়েছেন যখন কুফরি উপরে উঠেছিল এবং উঁচু হয়ে গিয়েছিল, আক্রমণ করেছিল, জমায়েত হয়েছিল, কিন্তু তিনি সে ঊঁচু অবস্থান থেকে সেটাকে নীচে নামিয়ে রেখেছিলেন এবং দমন করেছিলেন, আর যারা ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়েছিল তিনি তাদেরকে শতধা বিভক্ত করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাঁর উপর সালাত পেশ করুন, অনুরূপ তাঁর সাথী আবু বকরের উপর, যার বীরত্বের তারকা মুরতাদদের সাথে যুদ্ধে দেখা দিয়েছিল এবং উদিত হয়েছিল। আর ‘উমারের উপর, যার দ্বারা আল্লাহ ইসলামকে করেছেন সম্মানিত ও অপ্রতিরোধ্য। তদ্রূপ ‘উসমানের উপর, যিনি মাযলুমভাবে নিহত হয়েছিলেন। অনুরূপ আলীর উপর, যিনি তাঁর জিহাদ দ্বারা কুফরিকে করেছেন বিনষ্ট ও দমন। তাছাড়া রাসূলের সকল পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর, যতদিন সালাত আদায়কারীরা সিজদা ও রুকু করবে। আর আল্লাহ তাঁদের উপর যথাযথ সালামও পেশ করুন।
প্রিয় ভাইয়েরা!
* আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱلۡعَٰمِلِينَ عَلَيۡهَا وَٱلۡمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمۡ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَٱلۡغَٰرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۖ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ ٦٠ ﴾ [التوبة: ٦٠]
‘নিশ্চয়ই ফকীর, মিসকীন, যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী, (ইসলামের প্রতি অমুসলিমদের) হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে জিহাদে রত এবং মুসাফিরগণ যাকাতের হকদার, এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’ {সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ২০}
এ মহতী আয়াতে: আল্লাহ তা‘আলা যাকাত ব্যয়ের খাত ও তার হকদারদের বিষয়টি তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ইনসাফ ও দয়া অনুসারে ওই আট প্রকারে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, এদের মাঝেই যাকাত বণ্টন করা আবশ্যকীয় ফরয। আর এ বণ্টন আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে উত্থিত। সুতরাং এর ব্যতিক্রম করা ও যাকাতকে অন্য খাতে ব্যবহার করা জায়েয নেই। কারণ, আল্লাহ তা‘আলাই তাঁর সৃষ্টির কল্যাণ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন এবং প্রত্যেক বিষয়কে তার যথাস্থানে রাখতে তিনিই শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞার অধিকারী।

রমযান মাসের ৩০ আসর



শায়খ মুহাম্মদ ইবন সালেহ ইবন উসাইমীন রহ.
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া ও আলী হাসান তৈয়ব
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, তাঁর কাছেই তাওবা করি; আর আমরা আমাদের নফসের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল খারাপি এবং আমাদের সকল প্রকার মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। সুতরাং আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথহারা করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারীও কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তার ওপর, তার পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সুন্দরভাবে তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর সালাত ও যথাযথ সালাম পেশ করুন।
অতঃপর:
এ হচ্ছে ‘মুবারক রমযান মাসের কিছু আসর’; যাতে সিয়াম, কিয়াম, যাকাত ইত্যাদি ও এ উত্তম মাসের উপযোগী কিছু বিধান স্থান পেয়েছে।
* আমি এটাকে দৈনিক অথবা রাত্রিকালিন আসররূপে সাজিয়েছি।
* এর অধিকাংশ খুতবা বা আসরের ভূমিকা আমি ‘কুররাতুল ‘উয়ূনিল মুবসিরাহ বি তালখীসে কিতাবিত তাবসিরাহ’ গ্রন্থ থেকে যতটুকু যথা সম্ভব পরিপাটি করে চয়ন করেছি।
* আর আমি এখানে যত বেশি সম্ভব হুকুম-আহকাম, বিধি-বিধান, ও আদাব নিয়ে নিয়ে এসেছি; কারণ মানুষের এটাই বেশি প্রয়োজন।
* আর আমি এটাকে ‘মাজালিসু শাহরি রামাদান’ বা ‘রমযান মাসের আসরসমূহ’ নামকরণ করেছি।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এ আমলটুকু একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে বানান এবং এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয় তিনি অত্যাধিক দাতা ও সম্মানিত।
প্রথম আসরঃরমযান মাসের ফযীলত
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি আসমান, যমীন ও তার মধ্যকার সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। রাতের অন্ধকারে ক্ষুদ্র পীপিলিকার বেয়ে উঠাও যার দৃষ্টি বহির্ভূত নয় এবং আসমান ও যমীনের বিন্দু-বিসর্গও যার জ্ঞানের বাইরে নয়। “যা আছে আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং যা আছে মাটির নিচে সব তাঁরই। আর যদি তুমি উচ্চস্বরে কথা বল তবে তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন। আল্লাহ তিনি ছাড়া সত্য কোনো মা‘বুদ নাই; সুন্দর নামসমূহ তাঁরই।” [সূরা ত্বা-হা: ৬-৮] তিনি আদম ‘আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে পরীক্ষার মাধ্যমে মনোনীত করে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। তিনি নুহ ‘আলাইহিস সালামকে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর নির্দেশে নৌকা তৈরি করেছেন এবং সেটাকে চালিয়েছেন। স্বীয় অন্তরঙ্গ বন্ধু ইব্রাহিম ‘আলাইহিস সালামকে আগুন থেকে নাজাত দিয়েছেন এবং সেটার উষ্ণতাকে সুশীতল ও আরামদায়ক করেছেন। মুসা ‘আলাইহিস সালামকে নয়টি নিদর্শন দান করেছেন; কিন্তু ফেরআউন সেটা দ্বারা নসীহত নিতে পারেনি, তার অবস্থান থেকেও সরে আসে নি। ঈসা ‘আলাইহিস সালামকে এমন নিদর্শন দান করেছেন যা সৃষ্টিকুলকে বিস্মিত করে দিয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যাতে রয়েছে সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং হেদায়েত।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তাঁর অফুরন্ত অসংখ্য ও অনবরত প্রাপ্ত নেয়ামতের। অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মুল কুরা (মক্কায়) প্রেরিত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, হেরা গুহায় তার নিশ্চিত পরম সঙ্গী আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, সত্যের ইঙ্গিত প্রাপ্ত মতের অধিকারী এবং আল্লাহর আলোতে যিনি দেখতে পেতেন সে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, তাঁর দু কন্যার স্বামী যিনি ছিলেন সত্যভাষী সে উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, তাঁর চাচাত ভাই আলী রাদিয়াল্লাহ আনহু, যিনি ছিলেন জ্ঞানের সাগর, বনের বাঘ, তাদের সবার উপর এবং অপরাপর সম্মানিত আহলে বাইত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম যাদের শ্রেষ্ঠত্ব জগতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর সকল সদস্যের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...