Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Wednesday, 11 March 2015

অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা





অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা

একটি মুসলিম দেশে ইসলাম মুসলিমকে শুধু অমুসলিমদের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতেই বলে না, রাষ্ট্রে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুখ-সমৃদ্ধিও নিশ্চিত করে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহয় একাধিক স্থানে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার তুলে ধরা হয়েছে। অমুসলিমরা নিজ নিজ উপাসনালয়ে উপাসনা করবেন। নিজ ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মালয়কে সুরক্ষিত রাখবেন। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা সমান। তাদের প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য ইসলাম বরদাশত করে না। যেসব অমুসলিমের সঙ্গে কোনো সংঘাত নেই, যারা শান্তিপূর্ণভাবে মুসলিমদের সঙ্গে বসবাস করেন তাদের প্রতি বৈষম্য দেখানো নয়; ইনসাফ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ ٨ ﴾ [الممتحنة: ٨] 

‘আল্লাহ নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয় নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। {সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত : ৮}
আল্লাহ তা‘আলা ঈমানের দাবিদার প্রতিটি মুসলিমকে নির্দেশ দিয়েছেন পরমতসহিঞ্চুতা ও পরধর্মের বা মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে। আল্লাহ ইরশাদ করেন,

﴿ وَلَا تَسُبُّواْ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ فَيَسُبُّواْ ٱللَّهَ عَدۡوَۢا بِغَيۡرِ عِلۡمٖۗ كَذَٰلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمۡ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِم مَّرۡجِعُهُمۡ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٠٨ ﴾ [الانعام: ١٠٨] 

‘তারা আল্লাহ তা‘আলার বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহ তা‘আলাকেও গালি দেবে, আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের কার্যকলাপ সুশোভনীয় করে রেখেছি, অতঃপর সবাইকে একদিন তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, তারপর তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা দুনিয়ার জীবনে কে কী কাজ করে এসেছে’। {সূরা আল আন‘আম, আয়াত : ১০৮}

ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি




بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله و الصلاة و السلام على رسول الله و على آله و صحبه.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আর সালাত ও সালাম শ্রেষ্ঠ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এবং শান্তি বর্ষিত হউক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি ।
অতঃপর:
আমার নিকট পাশ্চাত্য রাষ্ট্রসমূহের একটি ইসলামিক সেন্টার থেকে কতগুলো প্রশ্ন এসে পৌঁছলো, যেগুলোর পেছনে উস্কানি দিয়েছে “আল-আবা আল-বীদ” তথা ‘হোয়াইট ফাদার্স’ নামক কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান মিশনারি সংগঠন; আর যখন আমি এগুলোর ব্যাপারে জানতে পারলাম, তখন আমি সেগুলোর জওয়াব না দিয়ে পারলাম না।
আর প্রশ্নসমূহের ধরন-প্রকৃতি এবং যুবক ও অন্যান্যদের মাঝে ইসলামী দিক-নির্দেশনা যেভাবে চলছে সে প্রেক্ষাপটে উক্ত প্রশ্নমালার ছত্রে ছত্রে যা পাঠিত হচ্ছে তা বিবেচনা করে সে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া ব্যতীত আমার গত্যন্তর ছিল না। তাছাড়া এ প্রশ্নগুলো ও অনুরূপ কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পেছনে খৃষ্টান গির্জার যে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। এগুলো মূলতঃ এমন কিছু ধারাবাহিক পর্ব যা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূর্ব থেকেই চলে আসছে তা ইতিহাসের প্রতিটি পাঠকই সহজে বুঝতে পারে। বিশেষ করে যারা খৃষ্টানদের বিভিন্ন আন্দোলন, তাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা সমন্বিতকরণ, সার্বিক পর্যায়ে তাদের আক্রমানাত্মক যাবতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল।
অতঃপর আমি এই ব্যাপারে মহান আরশের মালিক দয়াময় আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি; আল্লাহর দীনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য, ইসলামের অনুসারীদের আত্মসম্মানের জন্য এবং আল্লাহ চায় তো ভাষা ও কলমের মাধ্যমে সংগ্রাম করার জন্য।
প্রশ্নসমূহে উপস্থাপিত ইস্যুগুলো নিম্নোক্ত প্রধান শিরোনাম অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা যায়:
—      সাম্য বা সমানাধিকার;
—      স্বাধীনতা (ধর্মীয় স্বাধীনতা — দাসপ্রথা);
—      নারী;
—      শরী‘আত বাস্তবায়ন;
—      জিহাদ।


ভূমিকা:
১.
এই প্রশ্নগুলোর জন্ম বর্তমান সময়ে হয়নি; বরং এগুলো হল কতগুলো প্রশ্ন এবং সন্দেহ-সংশয়, যা ইসলামের উপর আঘাত হানার মতই পুরাতন।
আর যিনি এসব প্রশ্ন এবং অনুরূপ আরো যা কিছু এখানে বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাপারে অবগত আছেন, তিনি জানেন যে, বিভিন্ন যুগে ও নানা উদ্দেশ্যে এসব প্রশ্ন প্রণয়নকারীগণ সেগুলোর জবাব পাওয়ার উদ্দেশ্যে তা করে নি এবং সত্যের অনুসন্ধান করাটাও তাদের লক্ষ্য ছিল না; বরং তারা সমাজের অভ্যন্তরে ও তার চিন্তা-গবেষণার ময়দানকে উত্তপ্ত করার উদ্দেশ্যে একটা বড় ধরনের শোরগোলের মধ্যে এসব প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। অতঃপর সেখান থেকে দ্রুত কেটে পড়েছে এবং তাদের আঙুলসমূহ তাদের কর্ণকুহরে ঢুকিয়ে দিয়েছে এ আশঙ্কায় যে, তারা এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু জবাব শ্রবণ করবে অথবা পেয়ে যাবে; সুতরাং মনে হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য হল প্রচণ্ড ভিড়ের ময়দানে কতগুলো টাইম বোমা নিক্ষেপ করা, অতঃপর তা বিস্ফোরিত হয়ে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই দ্রুত সেখান থেকে পলায়ন করা।

পর্নোগ্রাফী দেখলে মস্তিষ্ক যেভাবে বদলে যায়




পর্নোগ্রাফী দেখলে মস্তিষ্ক যেভাবে বদলে যায়

স্নায়ুবিজ্ঞান (Neuroscience) এখন স্বীকার করে যে, মানুষের মস্তিষ্ক অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা লাভের মধ্যদিয়ে মস্তিষ্কে পরিবর্তন ঘটে এবং আমরা যা দেখি, শুনি বা জানি, তার সবকিছুর সাথেই মস্তিষ্কের সংযোগ গড়ে ওঠে। দর্শন ক্লাসের আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে নতুন কোনো শহরের পথঘাট চেনা, এমনকি আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থেকে কোনো গান শোনা কিংবা টিভি দেখা — আমাদের প্রতিটি কাজের সাথেই মস্তিষ্কের তাৎক্ষনিক সংযোগ গড়ে ওঠে এবং মানুষ হিসেবে আমরা কে, কেমন, এই সংযোগগুলোই সেটা নির্ধারণ করে দেয়। পর্নোগ্রাফী দেখা একটি নীরব অথচ ভয়ঙ্কর সমস্যা যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে নারীদের চাইতে পুরুষরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এই বিষয়টির ক্ষতিকারক দিক সংক্রান্ত অধিকাংশ নিবন্ধগুলোতে বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক এবং/অথবা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়। তবে বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্নোগ্রাফী দেখার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পর্কে আলোপাত করা হবে।

প্রচলিত যে মডেলটির (model) মাধ্যমে মানুষের শেখা এবং মনে রাখার প্রক্রিয়াটিকে ব্যাখ্যা করা হয়, সেই মডেলটির ভিত্তি হলো সিন্যাপটিক প্লাসটিসিটি (synaptic plasticity)। সিন্যাপটিক প্লাসটিসিটি হলো মস্তিষ্কের সেই ক্ষমতা যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতায় সাড়া দিতে মস্তিষ্ক তার নিউরনসমূহের (মস্তিষ্ক কোষ) মধ্যকার সংযোগগুলোর শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কি পরিমাণ এবং কোন ধরণের স্নায়বিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবং সেইসাথে কি পরিমাণ নিউরোট্রান্সমিটারের (neurotransmitter – আনবিক গঠন সম্পন্ন স্নায়বিক সংবাহক) নির্গমন ঘটবে, তা নিয়ন্ত্রণ করাও এই ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ মানুষ ডোপামিন সম্পর্কে যা কিছু জানে তা বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তি যেমন, মুহাম্মাদ আলি বা মাইকেল জে. ফক্সের পারকিন্‌সন্‌ (Parkinson) রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থেকে। শরীরে ডোপামিনের কার্যকারিতায় ত্রুটি দেখা দিলে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়।

ইসলামে দাস বিধি




ইসলামে দাস বিধি

بسم الله الرحمن الرحيم
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জনগণ ও রষ্ট্রের সংশোধন ও সংস্কারের জন্য শরী‘য়ত অবতীর্ণ করেছেন; সালাত ও সালাম তাঁর উপর, যিনি মানুষকে যুলুম ও দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছেন; শান্তি বর্ষিত হউক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাবে‘য়ীগণের উপর, যাঁরা যমীনে আল্লাহর একত্ববাদ, স্বাধীনতা ও জ্ঞানের নীতিমালা প্রচার করেছেন; তাঁদের প্রতিও শান্তি বর্ষিত হউক, যাঁরা কিয়মতের দিবস পর্যন্ত তাঁদের দা‘ওয়াত দ্বারা অন্যকে দা‘ওয়াত দান করেন এবং তাঁদের পথনির্দেশের দ্বারা যথাযথভাবে হেদায়েত লাভ করেন।

অতঃপর:
আমার ‘কিসসাতুল হিদায়াত’ [হিদায়াতের কাহিনী] নামক গ্রন্থটিতে কতগুলো মূল্যবান বক্তৃতা ( Lecture ) ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ... পাঠক সে হিদায়াতের কাহিনী গ্রন্থের তার প্রাসঙ্গিক স্থানে তা পাবে।
অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি আলোচনাগুলো একটার পর একটা বের করে আনব, অতঃপর তার মধ্যে যা কিছু আছে তা দেখব; অতঃপর যখন আলোচনাটিতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হবে, তখন আমি তাতে বৃদ্ধি করব; আর যখন ঐখানে কোনো কিছু কাটছাট করা জরুরি মনে করব, তখন তা কাটছাট করবে ... শেষ পর্যন্ত যখন আমি তার পরিমার্জন ও পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করব, তখন আমি বক্তব্য বা আলোচনাটি ‘বাহুসুন ইসলামীয়াতুন হাম্মাহ’ ( بحوث إسلامية هامة ) [গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী আলোচনা] নামক সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করব; আশা করা যায় “সিরিজ” -এর পাঠকগণ এসব বক্তৃতা ও আলোচনা থেকে উপকৃত হবেন এবং আরও আশা করা যায় যে, তারা এসবের মধ্যে এমন অনেক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পেয়ে যাবেন, যেগুলো ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে করা হয়ে থাকে। আর তা ইসলামের শত্রুদের অকপট সাক্ষ্যের মাধ্যমেই সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়ে যাবে।
আর এসব বক্তৃতাসমূহ (Lecturers) থেকে তার প্রাসঙ্গিক স্থানে দেওয়া আমার বক্তব্যের মধ্যে অন্যতম একটি বক্তৃতা হলো “আর-রিক্বু ফিল ইসলাম” (الرق في الإسلام) [ইসলামে দাস]; যে বক্তৃতাটি তার যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিল যখন আবুল ফাতহ এর মত ব্যক্তিত্বদের উত্থান ঘটেছিল।
আমার পাঠক ভাই! অবশ্যই আপনি “দাস” প্রবন্ধের আলোচনায় “দাস-প্রথা” কে কেন্দ্র করে ইসলামের শত্রুগণ কর্তৃক উত্থাপিত প্রত্যেকটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পেয়ে যাবেন অকাট্য দলীল, গ্রহণযোগ্য কারণ এবং সুন্দর ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে।
আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন মুসলিম যুবকদেরকে সুপথ ও সঠিক বুঝ দান দান করেন, তাদেরকে ঈমান ও জিহাদের উষ্ণতার দ্বারা দা‘ওয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করেন ... এবং এই উম্মতের প্রতি সম্মান, শক্তি ও জাগরণের উপায়সমূহ নির্দেশ করেন ... যাতে আমরা আমাদের নিজ চোখে ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন অবস্থায় এবং মুসলিমগণের রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত অবস্থায় দেখতে পারি ... আর এটা আল্লাহর জন্য কঠিন বা কষ্টকর কোনো কাজ নয়।

Saturday, 21 February 2015

১০টি ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয়



সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত। দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক সেই মহান নবীর উপর যার পরে আর কোন নবী নেই। আরো নাযিল হোক তাঁর পরিবার বর্গ, সহচর বৃন্দ এবং তাঁর হেদায়াতের অনুসারীদের উপর।
অত:পর হে মুসলিম ভাই! এ কথা জেনে নিন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল বান্দার উপর ইসলামে প্রবেশ করা, উহা আঁকড়ে ধরা এবং উহার পরিপন্থী বিষয় থেকে সতর্ক থাকা ফরজ করেছেন। আর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সে দিকে আহবান করার জন্যই প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্‌ এই মর্মে ঘোষণা দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করবে সে হেদায়াত প্রাপ্ত হবে পক্ষান্তরে যে তাঁর থেকে বিমুখ হবে সে পথভ্রষ্ট হবে। তিনি বহু আয়াতে মুরতাদ হওয়ার মাধ্যম, শির্ক ও কুফরীর সকল প্রকার হতে সতর্ক করেছেন।
বিদ্যানগণ মুরতাদের বিধি-বিধান অধ্যায়ে এই মর্মে উল্লেখ করেছেন যে, একজন মুসলমান ব্যক্তির রক্ত ও ধন-সম্পদ হালাল কারী বিভিন্ন ইসলাম বিধ্বংসী কার্য কলাপ সম্পদনের মাধ্যমে মুরতাদ ও ইসলাম হতে বহিস্কার হয়ে যায়।
ইসলাম বিধ্বংসী কাজ হল সর্ব মোট ১০টি যা শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত তামীমী (রহিমাহু্মুল্লাহ) ও অন্যান্য বিদ্বানগণ উল্লেখ করেছেন। আমরা ঐ সকল ইসলাম বিধ্বংসী কাজ গুলো নিন্মে সংক্ষিপ্ত ভাবে কিঞ্চিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সহ আপনার জন্য উল্লেখ করছি। যাতে আপনি উক্ত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থেকে অপরকে সতর্ক করতে পারেন।
ইসলাম বিধ্বংসী কাজ গুলো নিন্মরূপঃ
প্রথমঃ আল্লাহর ইবাদতে শির্ক করা। আল্লাহ বলেনঃ

إنَّ اللهَ لاَيَغْفِرُ أنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ ماَ دُوْنَ ذلكَ لِمَنْ يَشاَءُ

“নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করেন না। উহা ব্যতিরেকে উহার নিন্ম পর্যায়ের পাপ সবই তিনি যাকে ইচছা ক্ষমা করেন”। [নিসা : ১১৬]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ

ইসলাম বিনষ্টকারী কারণসমূহ


ইসলাম বিনষ্টকারী কারণসমূহ

ইসলামে এমন কিছু আমল আছে, তার কোনো একটিও যদি কোনো মুসলিম সম্পাদন করে তবে সে শিরক করল বলে বিবেচিত হবে। ফলে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং চিরস্থায়ীভাবে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। সেসব গুনাহ মহান আল্লাহ তওবা ব্যতীত ক্ষমা করেন না । নিম্নে সেগুলি বর্ণিত হল:

১। গাইরুল্লাহর নিকট দোআ করা। 
এ সম্বন্ধে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿يونس106﴾
আর তাঁকে ছেড়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে না তোমার উপকার করতে পারে, আর না কোনো ক্ষতি করতে পারে। আর যদি তা কর, তবে অবশ্যই তুমি যালেমদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সূরা ইউনুস: ১০৬)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে বলেছেন:
منْ مَاتَ وَهُوَ يَدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ نِدًّا دخَلَ النَّارَ (رواه البخاري)
যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার কোনো সমকক্ষকে ডাকা অবস্থায় মারা যাবে তাহলে সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। (বোখারি)

২। তাওহীদের কথা শুনলে যাদের অন্তর ঘৃণায় রি রি করে উঠে, তারাই একমাত্র তাঁর নিকট দুআ করা কিংবা বিপদে সাহায্য চাওয়াকে অপছন্দ করে। আর রাসূলুল্লাহ, মৃত আউলিয়া কিংবা অদৃশ্য কারো নিকট দুআ করার সময় অন্তর খুশিতে ভরে উঠে। তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া ফলপ্রসূ মনে করে। এগুলো সবই মুশরিকদের নিদর্শন। 
এদের সম্বন্ধে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ ﴿الزمر45﴾ 
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, এক আল্লাহর কথা বলা হলে তাদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যগুলোর কথা বলা হলে তখনই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়। (সূরা যুমার: ৪৫)
এই আয়াত সেসব লোকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কারীদের সাথে শত্রুতায় লিপ্ত হয়। তাদেরকে তারা ওহাবি বলে সম্বোধন করে। কারণ ওহিবিরাই মানুষদেরকে তাওহিদের দিকে ডাকে।

৩। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা কোনো ওলীর নামে পশু জবাই করা। 
কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿الكوثر:2﴾
তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও জবাই কর। (সূরা কাওসার: ২)।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...