Showing posts with label বিদাআত. Show all posts
Showing posts with label বিদাআত. Show all posts

Sunday, 22 September 2019

যদি তিনি (আল্লাহ্‌) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, তাহলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায় ? পারে অনুসন্ধান না করা। এবং যে আমাকে এই প্রশ্নটি করেছে তাকে বলছি, তুমি একজন বিদ‘আতী

বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আল ইমাম, আল 'আল্লামাহ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়,
"যদি তিনি (আল্লাহ্‌) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, তাহলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায় ?"
উত্তর: “আমি বলছি: প্রশ্ন করার আদবের একটি দিক হলো, এই ব্যাপারে অনুসন্ধান না করা। এবং যে আমাকে এই প্রশ্নটি করেছে তাকে বলছি, তুমি একজন বিদ‘আতী, আমি তোমাকে একজন বিদ‘আতী ব্যতীত অন্য কিছু মনে করি না। আর তোমার রব্ব-এর প্রশংসা করো এজন্য যে, আমি (এখনো) তোমাকে এই দারসে অবস্থান করতে দিচ্ছি। অন্যথায় তোমাকে আমি বের করে দিতাম, যেমনটা মালিক (ইমাম মালিক) করেছিলেন ঐ লোকের সাথে যে তাঁকে আল্লাহ’র (‘আরশের উপর) সমুন্নত হওয়া ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলো। কারণ নাবী যখন সাহাবাদের এই ব্যাপারে বলেছিলেন, তাঁরা কি বলেছিলেন, “আল্লাহ’র (অবতরণের) ফলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায়, হে আল্লাহর রাসূল?”
আমি বিস্মিত যে, (এমনকি) শাইখুল ইসলাম (ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ)-ও এসব ব্যাপারে কথা বলেছেন ও গবেষণা করেছেন। কিন্তু তিনি এরূপ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ লোকেরা এই ব্যাপারে কথা বলছিলো, সুতরাং যারা এই ব্যাপারে কথা বলছিলো, মূলত তিনি তাদের অনুসরণ করেন। তাছাড়া তুমি সাহাবীগণ কর্তৃক উচ্চারিত একটি অক্ষরও পাবেনা যে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছেন, “আল্লাহ’র (অবতরণের) ফলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায়?” এটা জানা কি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে? যদি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক করা হতো, তাহলে আল্লাহ্‌ অথবা তাঁর রাসূল আমাদের শিখিয়ে দিতেন। সুতরাং (আমাদের ওপর) জরুরি হলো এই ব্যাপারে চুপ থাকা।
কিন্তু আমাদের যদি এই ব্যাপারে টেনে আনা হয়, তাহলে আমরা এই বলে উত্তর দিই যে, ‘উলামারা এই বিষয়ে তিনটি অবস্থান নিয়েছেন। প্রথম বক্তব্য হলো ‘আরশ শূন্য হয়ে যায়, দ্বিতীয় বক্তব্য হলো ‘আরশ শূন্য হয় না, আর তৃতীয় মতটি হলো এই ব্যাপারে কথা বলা হতে বিরত থাকা এবং (এরূপ) বলা যে, আল্লাহ্‌ ভালো জানেন। আর শাইখুল ইসলাম এই মতের দিকে ধাবিত হয়েছেন যে, এর (আল্লাহ’র অবতরণ) কারণে ‘আরশ শূন্য হয় না। কারণ আল্লাহ্‌ (তাঁর সম্পর্কে) এর (‘আরশ) ওপরে সমুন্নত হওয়ার কথা বলেছেন, কোন নির্দিষ্ট সময়ে এর ব্যতিক্রম অবস্থার কথা বলা ছাড়াই। এবং তিনি (শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ) বলেন আল্লাহ্‌র জন্য এর (‘আরশের) ওপরে সমুন্নত হওয়া এবং অবতরণ করা সম্ভব যা মাখলুক্বের বিপরীত। কারণ মাখলুক্ব সীমাবদ্ধ, এটি যদি কোন দিকে ঘোরে অথবা কোন অবস্থান নেয় তাহলে অন্য অবস্থান থেকে প্রস্থিত হয়ে যাবে। আর রাব্ব এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হলো, তাঁকে মাখলুক্বের সাথে তুলনা করা হবে না। তবে আমার মত হলো ব্যক্তির জন্য উচিৎ প্রথমেই প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা।”
উৎস: abdalla508 (সালাফী ইউটিউব চ্যানেল)
অনুবাদক: রিফাত রাহমান সিয়াম
সম্পাদক: মুহাম্মাদ 'আবদুল্লাহ মৃধা

Tuesday, 17 September 2019

আশুরার শোক উদযাপন বিদআত কেন?


মুহররম মাসের দশ তারিখ আশুরার দিন হিসেবে পরিচিত। ৬১ হিজরির ১০ মুহররম তারিখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুসাইন রা. কে শাহাদাতের মর্যাদায় ভূষিত করেছিলেন। এই শাহাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা অনেক উন্নীত করেছেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ও হুসাইন রা. এর ব্যাপারে এ শুভ সংবাদ প্রদান করে গেছেন যে, তারা হবেন জান্নাতের যুবকদের নেতা।
আর এ কথা চির সত্য, যে যত বড় মর্যাদা লাভ করে তাকে তত বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল, মানব জাতির মধ্যে কে সব চেয়ে বেশি পরীক্ষা ও বিপদাপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন? তিনি বললেন, নবীগণ, তারপর আল্লাহর নেককার বান্দাগণ।
তারপর অন্যদের মধ্যে যারা যে পরিমাণ ঈমান ও পরহেযগারিতার অধিকারী তারা সে পরিমাণ পরীক্ষা সম্মুখীন হয়েছেন। মানুষ তার দীনদারি অনুযায়ী পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। কেউ যদি মজবুত দ্বীনের অধিকারী হয় তবে সে বেশি পরিমাণ পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। আর কারো দ্বীনদারিতে কমতি থাকলে তার বিপদাপদ কম আসে এবং পরীক্ষাও কম হয়। মুমিন বান্দা যতদিন পৃথিবীতে চলা ফেরা করে ততদিন তার উপর বিপদাপদ পতিত হতে থাকে এবং এভাবে তার আর কোন গুনাহ বাকী থাকে না।” (মুসনাদ আহমদ ও তিরমিযী, সনদ হাসান)
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের এই মর্যাদা পূর্বেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতই বিপদাপদের সম্মুখীন হয়েছেন। ইসলামের মর্যাদা নিয়েই তারা দুনিয়াতে আগমন করেছেন এবং ইসলাম প্রদত্ত মর্যাদা সহকারে তারা প্রতিপালিত হয়েছেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সংস্পর্শ, স্নেহ-মমতা, আদর ও ভালবাসা পেয়ে তাদের জীবন সৌভাগ্য মণ্ডিত হয়েছে। যার কারণে মুসলমানগণ তাদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন।

Friday, 16 August 2019

যে ব্যক্তি বিদ‘আতীদের বইপুস্তক পড়তে উৎসাহিত করে, সে ধোঁকাবাজ হিসেবে পরিগণিত


যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
উপস্থাপক: “এই প্রশ্নকারী বলছেন, যে ব্যক্তি বিদ‘আতী ও তাকফীরীদের বইপুস্তককে ডিফেন্ড করে, যুবকদেরকে সেসব বই পড়ার নসিহত করে এবং সেসব বই থেকে সতর্ক করেন—এমন ব্যক্তিবর্গের বিরোধিতা করে, সে ব্যক্তির বিধান কী? জাযাকুমুল্লাহু খাইরা।”
শাইখ: “এই লোক উম্মতকে ধোঁকাদানকারী হিসেবে বিবেচিত। যে ব্যক্তি ভ্রষ্ট ও সংশয়মূলক বইপুস্তক পড়তে উৎসাহিত করে, সে উম্মতকে ধোঁকাদানকারী হিসেবে বিবেচিত। অনুরূপভাবে সে আল্লাহ’র কিতাব এবং রাসূল ﷺ এর সুন্নাহকেও ধোঁকাদানকারী হিসেবে বিবেচিত। যেহেতু রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘নসিহত করাই দ্বীন।’ আমরা (সাহাবীগণ) জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহ’র রাসূল, কার জন্য নসিহত?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ, তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিম শাসকবর্গ ও মুসলিম জনগণের জন্য।’ (সাহীহ মুসলিম, হা/৫৫; ‘ঈমান’ অধ্যায়; পরিচ্ছেদ- ২৩) অবশ্যই হক বর্ণনা করতে হবে, হক স্পষ্ট করতে হবে এবং হকের দিকে দা‘ওয়াত দিতে হবে। এতে যে সন্তুষ্ট হওয়ার সে সন্তুষ্ট হোক, আর যে অসন্তুষ্ট হওয়ার সে অসন্তুষ্ট হোক। না‘আম।”
·
উৎস: ফাতওয়া’র অডিয়ো ক্লিপটি ইউটিউব থেকে সংগৃহীত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

বিদ‘আতীদের রদ করলে কি উম্মাহ’র ঐক্য বিনষ্ট হয়?


·
অনেক সুবিধাবাদী বিদ‘আতী যখন দেখে, সালাফীরা তাদের ভুয়া মতাদর্শকে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান দিয়ে খণ্ডন করছে, তখন তারা এক অভিনব ধোঁকা ও চাতুরির আশ্রয় নেয়। এই সময় তারা ‘ঐক্যের ফেরিওয়ালা’ বনে যায়। এসব বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে যে, সালাফীরা উম্মাহ’র ঐক্য নষ্ট করছে, উম্মাহ’র বিপর্যয়ের জন্য এরাই দায়ী! অথচ কুরআন, হাদীস ও সালাফদের মানহাজ থেকে নিজেরা বিচ্যুত হয়ে এবং মানুষকে বিচ্যুত করে তারাই উম্মাহ’র ঐক্য নষ্ট করেছে। তারা নিজেরাই উম্মাহ’র বিনাশ সাধন করে চলেছে, আর উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাচ্ছে।
দ্বীনে ইসলাম ঐক্যের নামে মোসাহেবি করতে শেখায়নি। দ্বীনে ইসলাম ঐক্যের নামে নিজের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে চাটুকারিতা করতে বলেনি। ইসলাম সমাধান বাতলে দিয়েছে। উম্মাহ’র মধ্যে মতদ্বৈধতা দেখা দিলে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ দিকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো, তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর (পন্থা)।” [সূরাহ নিসা: ৫৯]
আর রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার আদর্শ এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাহগণের আদর্শ অনুসরণ করবে এবং তা দাঁত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে।” [আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭; সনদ: সাহীহ]
অত্র আয়াত ও হাদীসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আদর্শ বর্জন করে মোসাহেবি করতে বলা হয়নি।
·
বিদ‘আতীদের রদ করলে যারা ঐক্য বিনষ্টের অভিযোগ উত্থাপন করে, তাদের ব্যাপারে ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: فضيلة الشيخ، وفقكم الله، هل صحيح ما يقوله بعضهم من أن الإنكار على أهل البدع من الصوفية أو غيرهم هو من أسباب تفرقة الناس وتفرقة الأمة؟
الجواب: نعم، نود أن نفارق عن المبتدعة والمشركين وعباد القبور، ما نود أن يجتمعوا معنا، لا يجتمع معنا إلا أهل التوحيد، هذا الذي نريده، هذا تفريق مقصود، الله فرق بين المؤمنين والكافرين، «أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا ۚ لَا يَسْتَوُونَ»، «أَمْ نَجْعَلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَالْمُفْسِدِينَ فِي الْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ الْمُتَّقِينَ كَالْفُجَّارِ»، إنا نقصد هذا، نقصد التفريق بين من لا يقبل الحق أن يفارقَنا وأن نتبرأ منه برائة ظاهرة.
প্রশ্ন: “সম্মানিত শাইখ, আল্লাহ আপনাকে (সৎকর্মের) তাওফীক্ব দিন। এটা কি সঠিক, যা কিছুলোক বলে থাকে যে, বিদ‘আতীদের তথা সূফী সম্প্রদায় ও অন্যান্যদের সমালোচনা করা লোকদের মধ্যে এবং উম্মাহ’র মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির কারণ?”

Tuesday, 23 August 2016

তাবলীগ জামাতঃ


• অহমিকা আর আত্ম-প্রবঞ্চনা তাদের মুল সম্পদ।
• কোরআন- হাদিসকে এক পাশে রেখে মুরুব্বী দেরকে রাহবার বানিয়েছে।
• মাথার ধারনা, সপ্ন, যুক্তি এদের দলীল।
• তাব্লীগ করে তাব্লীগের অর্থই জানেনা।
• হাওয়া থেকে পাওয়া কল্প-কাহিনীর উপরই তাদের দাওয়াতের ভিত্তি।
• তারা ঈমান ও আমলের ধারনা পোষণ করেন তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমান ও আমল নয়।
• তারা কুরআন-হাদিস শিক্ষা করেন না শিক্ষা দেনও না। অথচ কোরআন হাদিসই দ্বীন।
• কিসসা কাহিনী, স্বপ্ন, রুহানী ফয়েজ, বুজুর্গী, ফানাফিল্লাহ ইত্যাদি কল্পিত ডগমায় বিশ্বাস করেন।
• তাওহীদ ও আকীদা ইসলামের মূল অথচ এর শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করেন। যারা তাওহীদ এর কথা বলেন তাদেরকে তারা ওহাবী বলে গালি দেয়।
• আলেম ওলামাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখেন, অথচ প্রকৃত আলেমগণই অন্ধকারের আলো।
• ফাজায়েল ( অতিরিক্ত) আমলের উপরই তারা বেশী গুরুত্ব দেন, ফারায়েজ (মুসল বিষয়) কে অবহেলা করেন।
• তারা অনেক শিরক-বিদআতের জন্ম দাতা ও পৃষ্ঠপোষক,। শিরক বেদাত কি তারা জানতে রাজী নন।
• তাদের মুরুব্বিদের কথাকে তারা ওহীর মত মনে করেন। কোরআনের অহীর খবর রাখেন না।
• অলৌকিক কেসসা কাহানীই তাদের মুল চর্চা। শয়তানের ভেল্কি বাজি কে তারা কারামত ভাবেন।
• শুধু ইবাদাতের জন্যে মসজিদে আহবান করেন। কি ভুল কি শুদ্ধ তা মোটেও জানতে চান না।
• তাদের মুরুব্বিরা বলেছেনঃ নবীগন যে সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে হা করে তাকিয়ে থেকেছেন আমরা সেই সাগরে সাঁতার কাটি।- নাউজুবিল্লাহ।
• তাঁদের বুজুর্গরা বলেছেনঃ যে বেহেশতে নামাজ নাই সে বেহেশত দিয়ে কি হবে?
• আল্লাহ্‌ বলেনঃ হে নবী যা তোমার উপর নাজেল হয়েছে তাই প্রচার কর(মায়েদাহ-৬৭) অথচ তারা এই হকের বাইরে থেকেই দীন শেখেন এবং প্রচার করেন।
-শায়খ মুজাম্মেল হক্ক

Wednesday, 23 December 2015

‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ সা. সম্পর্কে একগুচ্ছ কালেকশন (প্রবন্ধ, প্রশ্নোত্তর, বই, অডিও, ভিডিও বক্তৃতা ইত্যাদি)


ঈদে মীলাদুন্নবী সা. সম্পর্কে একগুচ্ছ কালেকশন
(প্রবন্ধ, প্রশ্নোত্তর, বই, অডিও, ভিডিও বক্তৃতা ইত্যাদি)
‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ উদযাপন করা বা তাকে ‘শ্রেষ্ঠ ঈদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উৎসব পালন করা কি ইসলাম সমর্থন করে? নিচে এ প্রসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু লেখা সংকলন করা হয়েছে। এগুলোর  মধ্যে রয়েছে, আলেমগণের লিখিত প্রবন্ধ, ভিডিও, অডিও বক্তৃতা এবং বই। লিংকগুলোতে ক্লিক করে ঈদে মীলাদুন্নবীর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নিজে জানুন এবং অন্যকে জানানোর চেষ্টা করুন। আল্লাহই একমাত্র তওফীক দাতা।
১৪)  ঈদে মিলাদুন্নবী (শাইখ মতিউর রহমান মাদানী এর অডিও লেকচার)
১৫) ঈদে মিলাদুন্নবী (শাইখ মতিউর রহমান মাদানী এর ভিডিও লেকচার)
১৭) বই ডাউনলোড: মীলাদ প্রসঙ্গ (পিডিএফ-লেখক: ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব)
আল্লাহ্‌ আমাদের হক্ক কথা জানার এবং মানার তাউফিক দান করুন। আমিন
কৃতজ্ঞতা: কুরআনের আলো

মীলাদের উৎপত্তি ও মীলাদপন্থীদের জবাব


goth-black-plain-backgroundবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
মীলাদের উৎপত্তি ও মীলাদপন্থীদের জবাব
অনুবাদ ও সম্পাদনা:  আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
ঈদে মীলাদুন্নবী এর শুরুর কথা:
মীলাদের আবিষ্কারক বনী উবায়দিয়া বা ফাতেমীয় সম্প্রদায়:
ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের তিন শতাব্দী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগ,সাহাবীদের যুগ এবং তাবেঈদের যুগ পার হয়ে গেলেও ইতিহাসে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না যে,কোন একজন সাহাবী,তাবেঈ,তাবে তাবেঈ এবং তাদের পরর্তিতে কেউ মীলাদ উদযাপন করেছেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তাদের কি কম ছিল? বরং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রচণ্ডভাবে ভালবাসত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত সম্পর্কে তারা ছিলেন সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং ইসলামী শরীয়তের বিধিবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
এই বিদআতকে যারা সর্বপ্রথম রূপদান করে তারা হল, বনী উবাইদ আল কাদ্দাহ। এরা নিজেদেরকে ফাতেমী বলে অবিহিত করত এবং নিজেদেরকে আলী রা. এর বংশধর বলে দাবী করত।
বনী উবায়দিয়া বা ফাতেমীয় সম্প্রদায়ের পরিচয় ও তাদের আসল রূপ:
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রাহ.কে এই ফাতেমীদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর হলে তিনি উত্তরে বলেন:
“তারা ছিল জঘণ্য ধরণের পাপাচারী এবং নিকৃষ্ট কাফের। কেউ যদি তাদেরকে ঈমানদার এবং পরহেযগার বলে স্বাক্ষ্য দেয় অথবা তাদের বংশ পরম্পরাকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দেয় তবে তারা এমন বিষয়ে কথা বলল যে ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই।  অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ
 “সে বিষয়ের পিছে ছুটনা যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই।“[1]
 আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
إِلَّا مَن شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
 “তবে যারা জেনে-শুনে সত্য স্বাক্ষ্য দিল।”[2]
এ সকল লোকদের ব্যাপারে সমস্ত আলেম সমাজ, ইমামগণ এবং সর্বস্তরের মানুষ সাক্ষ্য দেয় যে, এরা ছিল নাস্তিক,ধর্মচ্যুত এবং মুনফিক। এরা বাহ্যিকভাবে যদিও ইসলাম প্রকাশ করত কিন্তু তাদের অন্তরে লুকানো ছিল কুফুরী। সুতারাং কেউ যদি তাদের ঈমানের স্বাক্ষ্য দেয় তবে সে এমন বিষয়ে স্বাক্ষ্য দিল যে ব্যাপারে তার জ্ঞান নেই। কারণ,তাদের কার্যক্রম থেকে এমন কিছু পাওয়া যায় না যাতে তাদের ঈমানের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অনুরূপভাবে তাদের বংশগত সম্পর্কের ব্যাপারেও অধিকাংশ আলেমগণ দোষারোপ করেছেন। তারা বলেছেন,প্রকৃতপক্ষে এরা অগ্নীপুজক অথবা ইহুদীদের সন্তান এবং এটাই হানাফী, মালেকী, শাফেঈ,হাম্বলীদের অনেক আলেমের প্রসিদ্ধ মতামত। এমনকি মুহাদ্দেসীনগণ,আহলে কালাম,বংশ বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষেরও মন্তব্য এটাই। যে সকল লেখক মানুষের জীবন পঞ্জিকা এবং ইতিহাস লেখেছেন তারাও এ বিষয়টি তাদের বইয়ে উল্লেখ করেছেন।

Saturday, 31 October 2015

সালফে সালেহীনদের মানহাজে বিদআ’তিদের অবস্থান


১. ছুপা বিদাআ’তী (যে অন্তরে নিজের বিদআ’তকে লুকিয়ে রাখে), এমন লোকদেরকে চেনার সহজ উপায়ঃ
ইমাম আল-আউযায়ী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের কাছে তার বিদআ’তকে লুকিয়ে রাখে, সে কখনো আমাদের কাছে তার সংগীদেরকে লুকিয়ে রাখতে পারবেনা।”
[আল-ইবানাহঃ ২/৪৭৬]
অর্থাৎ যারা নিজেরা বিদাত প্রকাশ করেনা, কিন্তু বিদাতী লোকদের সাথে উঠা-বসা, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রাখে, সে ব্যক্তি ঐ বিদাতীদের মতোই।
_________________________
২. বিদআ’তি কোন ব্যক্তির ওয়াজ বা লেকচার শোনা, তার লেখা বই-পুস্তক পড়া বা তার কাছ থেকে ‘ইলম’ নেওয়ার হুকুমঃ
ইমাম আল-বারবাহারি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “কোন বাক্তির মাঝে বিদআ’ত প্রকাশ পেলে, তুমি তার কাছ থেকে সাবধান থেকো। কেননা, সে যা প্রকাশ করে, তা অপেক্ষা সে যা গোপন করে তা অনেক বেশী ভয়ংকর।”
[ইমাম আল-বারবাহারী, শরাহুস সুন্নাহ]

Wednesday, 15 July 2015

ঈদের বিধিবিধান



بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد:
ভূমিকা: অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে যখন ঈদের এক ফাঁলি চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে উঠে তখন সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। শিশু-কিশোরগণ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে প্রজাবতীর মত ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। এই ঈদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নে’য়ামত। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, 
প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় আগমন করে দেখলেন, মদীনাবাসী খেলা-ধূলার মধ্য দিয়ে দুটি দিবস উদযাপন করে থাকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিবস কি? তারা বলল, এ দুটি দিবস জাহেলী যুগে আমরা খেলা-ধুলার মধ্যদিয়ে উদযাপন করতাম। তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একটি হল, ঈদুল আযহা এবং অপরটি হল, ঈদুল ফিতর।” (সুনান আবূদাঊদ, হাদীস নং ৯৫৯ সনদ-সহীহ, আলবানী রহঃ) 
ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যদি আমরা ঈদ ঊদ্যাপন করি তবে একদিকে যেমন ঈদের অনাবিল আনন্দে ভরে উঠবে আমাদের পার্থিব জীবন অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে আমাদের পরকালিন জিন্দেগী।

ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর ছাড়া অন্য কোন ঈদ-উৎসব পালন করা: 
উপরোল্লিখিত হাদীস থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, ইসলামী শরীয়তে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর ব্যতিরেকে তৃতীয় কোন ঈদ বা উৎসব পালন করার সুযোগ নেই। অথচ আমাদের মুসলিম সমাজে বর্তমানে কত ধরণের ঈদ ও ঊৎসব জমজমাট ভাবে পালন করা হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। যেমন, ঈদে মিলাদুন নবী বা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্ম উৎসব। বরং এটাকে ‘সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ’ বলে জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে। যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীসের সুস্পষ্ট বিরোধী। অনুরূপভাবে তথাকথিত পহেলা বৈশাখ, খৃষ্ট নববর্ষ, এপ্রিল ফুল, বড় দিন (Xmas Day), ইত্যাদি অগণিত উৎসব আমদের মুসলানগণ অবলিলায় পালন করে যাচ্ছে কিন্তু একবারও চিন্তা করে দেখে না যে, আসলে এগুলোর উৎস কোথায়? এসব মূলত: হিন্দু ও খৃষ্টানদের থেকে আমদানিকৃত সংষ্কৃতি যার সাথে মুসলমানের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলে গেছেন, 
“যে ব্যক্তি অন্য কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করল সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবূদাউদ হাদীস নং ৩৫১২, সনদ-সহীহ, আলবানী)
ইসলাম স্বীকৃত দুটি ঈদ ছাড়া অন্য কোন ঈদ বা উৎসব পালন করা, তাতে অংশগ্রহণ করা বা সে উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করা মুসলমানদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে ইসলামের সরল-সোজা, সুন্দর ও আলোকময় পথ ধরে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন!

ঈদের প্রকৃত অর্থ কি: 
শুধু দামী পোশাক, রঙ্গিন জামা, হরেক রকম সুস্বাদু খাবার আর নানা ধরণের আনন্দ-উৎসবের নাম ঈদ নয়। ঈদের উদ্দেশ্য কি তা আল্লাহ তা’আলা নিন্মোক্ত আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন:
﴿وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
”আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা আল্লাহর মমত্ব প্রকাশ কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা হও ।” (সূরা বাকারাঃ ১৮৫) 
এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, ঈদের উদ্দেশ্য হল দুটি:
১) আল্লাহর বড়ত্ব মমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা।
২) আল্লাহ যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা।

Monday, 25 May 2015

শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদ'আতের উদাহরণ




শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদ'আতের উদাহরণ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় ভাই, আর ক’দিন পরই আমাদের সমাজে মহাসমারোহে পালিত হবে শবে বরাত। সে দিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হবে। হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মজলিস। সেই সাথে মুর্হুমূহু আতশবাজিতে কেঁপে কেঁপে উঠবে শবে বরাতের রাতের আকাশ। আরও দেখা যাবে মসজিদের আঙ্গিনাতে যাদের পদ যুগল পড়ত না সে রাতে তারাই আতর-সুগন্ধি মেখে টুপি-পাঞ্জাবী পরে মসজিদের প্রথম কাতারে মুসল্লী সেজে অবস্থান করছে আর বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করে মনে করবে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। তারপর দিন সকাল থেকে লিপ্ত হবে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম, দুর্নীতি আর আল্লাহর নাফরমানীতে। হয়ত সে দিনকার ফজরের নামায পড়ারও সময় হবে না। আর অপেক্ষায় থাকবে আগামী বছর শবে বরাতের। এভাবে আরও কত কি? আমাদের সমাজের এ অবস্থায় আমরা জানার চেষ্টা করি একাজগুলো কতটুকু ইসলাম সমর্থিত?

যে সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলাম সমর্থন দেয় নি সেটা ইসলামের নামে করাই তো বিদআত। বিদআতের পরিণাম অতি ভয়ানক। এ ব্যাপারে কুরআনও হাদীসে অসংখ্য সতর্কতা উচ্চারিত হয়েছে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা বিদআত থেকে বাঁচি সেই সাথে বাঁচানোর চেষ্টা করি আমাদের সমাজকে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।

আমাদের সমাজে শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদআতের উদাহরণ:

১) শবে বরাত উপলক্ষে ১৪ শাবান দিনে রোযা রাখা এবং ১৪ তারিখ দিবাগত রাত ১৫ শাবানে একশত নামায আদায় করা:
এ রাতে এক অদ্ভূত পদ্ধতিতে একশত রাকাআত নামায আদায় করা হয়। যাকে বলা হয় সালাতুল আলাফিয়া। একশত রাকাআত নামায পড়ার পদ্ধতিটি হল নিম্নরূপ:
মোট একশত রাকাআত নামায পড়তে হয়। প্রতি দু রাকাত পর সালাম ফিরাতে হবে। প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর দশ বার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। একশত রাকাআত নামাযে সূরা ইখলাস পাঠ করতে হয় মোট এক হাজার বার। তাই এ নামাযকে সালাতে আলফিয়া বলা হয়।[1]

• শবে বরাতে একশত রাকাআত নামায পড়ার বিধান:
ইসলামে এ ধরণের নামায পড়ার নিয়ম সম্পূর্ণ নতুন আবিস্কৃত বিদআত। এ ব্যাপারে সর্ব যুগের সমস্ত আলেমগণ একমত। কারণ, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন কখনো তা পড়েন নি। তাছাড়া ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ, আহমদ বিন হাম্বল, সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, লাইস প্রমূখ যুগ শ্রেষ্ঠ ইমামগণ কেউ এ ধরণের বিশেষ নামায পড়ার কথা বলেন নি। এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি হাদীস বিশেষজ্ঞদের মতে বানোয়াট এবং জাল। যেমন, ইব্‌নুল জাওযী উক্ত হাদীসটি মাওযু’আত (জাল হাদীস সংগ্রহ) কিতাবে তিনটি সনদে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি যে বানোয়াট তাতে কোন সন্দেহ নেই। তিনটি সনদেই এমন সব বর্ণনাকারী রয়েছে যাদের অধিাকংশরই পরিচয় অজ্ঞাত। আরো কতিপয় বর্ণনাকারী খুব দূর্বল। সুতরাং হাদীসটি নিশ্চিতভাবে জাল।[2]

শাবান মাস: সুন্নত উপেক্ষিত বিদ'আত সমাদৃত




শাবান মাস: সুন্নত উপেক্ষিত বিদ'আত সমাদৃত

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রাণ প্রিয় ভাই, রামাযানুল মোবারকের প্রস্তুতির মাস শাবান আমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে আমাদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। রয়েছে কিছু বর্জনীয়। এ বিষয়টি নিয়েই আজকের এই পোস্টের অবতারণা। এতে মোট ৭টি বিষয় আলোচিত হয়েছে। যথা:
১) শাবান মাসে নফল রোযা রাখা সম্পর্কে বর্ণিত সহীহ হাদীস সমূহ।
২) শাবান মাসের পনের তারিখের ব্যাপারে একটি হাদীস পর্যালোচনা ও তার শিক্ষা।
৩) শাবান মাস সম্পর্কে কতিপয় প্রচলিত জাল ও যঈফ হাদীস|
৪) কুরআন কোন রাতে অবর্তীণ হয়? শাবান মাসের শবে বরাতে নাকি রামাযান মাসের শবে কদরে?
৫) শবে বরাত উদ্‌যাপন করা বিদআত।
৬) শাবান মাসে প্রচলিত কতিপয় বিদআত।
৭) সারাংশ।

১) শাবান মাসে নফল রোযা রাখা সম্পর্কে বণির্ত সহীহ হাদীস সমূহ:

শাবান মাসে নফল রোযা রাখা সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। নিন্মে এ সম্পর্কীত কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হল:
ক) আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (নফল) রোযা রাখতে শুরু করতেন তখন আমরা বলতাম যে তিনি রোযা রাখা আর বাদ দিবেন না। আবার যখন রোযা বাদ দিতেন তখন আমরা বলতাম তিনি আর রোযা করবেন না। তবে তাঁকে রামাযান ছাড়া পরিপূর্ণভাবে অন্য কোন মাসে রোযা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত বেশি রোযা রাখতে দেখিনি।”[1]
খ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোযা আর কোন মাসে রাখতেন না। তিনি (প্রায়) পুরো শাবান মাস রোযা রাখতেন। তিনি বলতেন: “তোমরা এমন আমল গ্রহণ কর যা তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে। কারণ, আল্লাহ তাআলা বিরক্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত হও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এমন নামাযই পছন্দনীয় যা নিয়মিতভাবে আদায় করা হয় যদিও তা সল্প হয়। তাঁর নিয়ম ছিল, যখন তিনি কোন নামায পড়তেন নিয়মিতভাবে তা পড়তেন।[2]
গ) উসামা বিন যায়দ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনাকে শাবান মাসে যে পরিমান রোযা পালন করতে দেখি অন্য মাসে তা দেখি না। এর কারণ কী? তিনি বললেন: “রজব এবং রামাযানে মধ্যবর্তী এ মাসটি সম্পর্কে মানুষ উদাসিন থাকে। অথচ এটি এত গুরুত্বপূর্ণ মাস যে, এ মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মানুষের আমল সমূহ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি চাই রোযা অবস্থায় আমার আমল উঠানো হোক।”[3]
ঘ) আবু হুরায়রা (রা:) হতে বণির্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “শাবান মাস অধের্ক হয় গেলে তোমরা রোযা রাখিও না।” [4] এ হাদীসের অর্থ হল: যে ব্যক্তি শাবান মাসের প্রথম থেকে রোযা রাখে নি সে যেন অর্ধ শাবানের পর আর রোযা শুরু না করে করে। তবে যে ব্যক্তি শাবান মাসের শুরু থেকে রোযা রেখেছে, বা যার উপর গত বছরের রোযা কাজা আছে অথবা যার প্রতি সোম ও বৃহ:বার রোযা রাখা অভ্যাস সেও পনের তারিখের পর রাখতে পারে।
ঙ) কারো যদি রামাযানের রোযা ছুটে যায় তবে সে তা শাবান মাসে কাযা করে নিতে পারে। যেমন, আবু সালামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা.) কে বলতে শুনেছি, আমার রামাযানের কিছু রোযা বাকি থাকত। সেগুলো আমি শাবান ছাড়া কাযা করতে পারতাম না।[5]অর্থাৎ আয়েশা (রা:) গত রমাযানের ছুটে যাওয়া ফরজ রোযাগুলো শাবান মাসে কাযা করতেন।

মাহে শাবান ও শবে বরাতঃ করণীয় ও বর্জনীয়




মাহে শাবান ও শবে বরাতঃ করণীয় ও বর্জনীয়

হিজরী সনের ৮ম মাস হচ্ছে শাবান মাস। তার পরই আসে বছরের শ্রেষ্ঠ রামাযান মাস। সে হিসেবে মুসলিমের জীবনে এ মাসের যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ টানা একমাস তাকে সিয়াম সাধনা করতে করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক, শারিরিক ও আর্থিক প্রস্তুতি। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে প্রস্তুতি স্বরূপ অন্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে বেশী বেশী নফল রোযা রাখতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ
فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلاَّ رَمَضَانَ ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِى شَعْبَانَ
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রামাযন ব্যতীত অন্য কোন পূর্ণ মাসে রোযা রাখতে দেখে নি। আর তাঁকে আমি শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোযা অন্য কোন মাসে রাখতে দেখি নি। (বুখারী) 
সুতরাং শাবান মাসে আমরাও রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী বেশী বেশী করে রাখবো এবং আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে দুআ করবো, তিনি যেন আমাদেরকে রামাযান পর্যন্ত হায়াত দান করেন এবং রামাযানের ফজীলত ও বরকত হাসিল করার তাওফীক দেন।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই শাবান মাস সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে প্রচলিত আছে সমাজের বিরাট এক অংশে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে কিয়াম করা তথা নফল নামায পড়া এবং পরের দিন ছিয়াম পালন করার চিরাচরিত নিয়ম। যদিও রাসূল (সাঃ) থেকে এই রাতের নফল নামায এবং দিনের বেলা রোযা রাখার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীছ পাওয়া যায়না। এরাতকে আমাদের দেশের পরিভাষায় শবে বরাত বলা হয়ে থাকে। এ রাত সম্পর্কে মানুষের বিদআতী ধারণা এবং এরাতে মানুষ যেসমস্ত বিদআতী আমল করে তার বিস্তারিত বিবরণ প্রয়োজন। নিম্মে তার কিছু বিবরণ পেশ করা হলঃ


শবে বরাতে কুরআন নাযিল হয়েছে বলে ধারণা



শবে বরাত পালনকারীদের বক্তব্য হল, শবে বরাতের রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছে। সূরা দুখানের ৩নং আয়াতকে তারা দলীল হিসাবে পেশ করে থাকে। আল্লাহ বলেন,
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِىْ لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ
“আমি কুরআনুল কারীমকে একটি বরকতপূর্ণ রাতে অবতীর্ণ করেছি। 
এবরকতপূর্ণ রাতই হল শবে বরাতের রাত। কতিপয় আলেম এভাবেই অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন।
তাদের এব্যাখ্যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং এখানে বরকতপূর্ণ রাত বলতে লাইলাতুল ক্বদর উদ্দেশ্য। 
আল্লামা ইবনে কাছীর (রঃ) বলেন, অত্র বরকতপূর্ণ রাতই হল লাইলাতুল ক্বদর বা ক্বদরের রাত। যেমন অন্যত্র সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কথা হল, কুরআনের কোন অস্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা যদি অন্য কোন আয়াতে সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়, তাহলে কুরআনের ব্যাখ্যাই গ্রহণ করতে হবে। আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সূরা কদরের শুরুতে বলেন,

শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপনের বিধান




শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপনের বিধান
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রদান করেছেন পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন বিধান। 
এরশাদ হচ্ছে :
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ﴿ المائدة : ৩﴾
আজ আমি তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিলাম। পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম আমার নেয়ামত ; তোমাদের জন্য ইসলাম ধর্ম মনোনীত ও পছন্দ করলাম। (সূরা মায়েদা : ৩)
অপর স্থানে এরশাদ হয়েছে :
أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ ﴿ الشورى:২১﴾
তাদের কি আল্লাহর সমকক্ষ শরিক-দেবতা আছে ?—যারা তাদের জন্য আল্লাহকে পাশ কাটিয়ে এমন ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি তিনি প্রদান করেননি ?’ শুরা-২১।
হাদিসে এসেছে :
وفي الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال : (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد).
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে আমাদের ধর্মে এমন কিছু আবিষ্কার করল, যা এতে নেই, তা পরিত্যক্ত। বোখারি, মুসলিম। 
অপর হাদিসে এসেছে :
وفي صحيح مسلم عن جابر رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في خطبته يوم الجمعة: (أما بعد : فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد (صلى الله عليه وسلم)، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة).
জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার খুতবায় প্রায় বলতেন: সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। সর্বোত্তম আদর্শ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ। ধর্মের ভেতর নতুন আবিষ্কার ঘৃণিত ও নিন্দিত। প্রত্যেক বেদআত বিচ্যুতি ও গোমরাহি। মুসলিম।

আরো অনেক আয়াত, অসংখ্য হাদিস বিদ্যমান, যার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় : এ দ্বীন পরিপূর্ণ, তাতে সংযোজন-বিয়োজনের কোন সুযোগ নেই-সম্ভাবনা নেই। আল্লাহ এ উম্মতের ধর্ম পূর্ণ করে দিয়েছেন, প্রদান করেছেন সমূহ নেয়ামত। দ্বীন সম্পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তর্ধাম হয়নি। তিনি আল্লাহর প্রণয়নকৃত, মনোনীত সমস্ত আমল ও বিধি-নিষেধের সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। বাণী ও কাজের মাধ্যমে পেশ করেছেন বাস্তব নমুনা। আরো বলেছেন : যে নতুন কোন বাণী বা আমল আবিষ্কার করে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করবে, সংশ্লিষ্ট করবে তার আহকামের সাথে, সে আমল বা বাণী খোদ আবিষ্কারকের উপর নিক্ষিপ্ত হবে—যদিও তার নিয়ত ভাল হয়। সাহাবায়ে কেরাম রা. এবং ওলামায়ে ইসলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী যথার্থভাবে উপলব্ধি ও হৃদয়ংগম করেছেন। প্রত্যাখ্যান করেছেন-নিন্দাবাদ জানিয়েছেন নতুন আবিষ্কৃত আমল তথা বেদআতের প্রতি। ইবনে ওদ্দাহ, তরতুশি, ইবনে শামাদের মত যারা সুন্নত, বেদআতের উপর কিতাব প্রণয়ন করেছেন, তারাও বর্ণনা করেছেন এ বিষয়টি স্পষ্ট করে।

মানুষের আবিষ্কৃত একটি বেদআতের উদাহরণ : শাবান মাসের পনেরো তারিখের রাতে মাহফিলের আয়োজন করা, দিনের বেলায় রোজা রাখা। বাস্তবতা হল, এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন প্রমাণ নেই। তবে, এ রাতের ফজিলতের ব্যাপারে কয়েকটি দুর্বল হাদিসের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা হাদিস নিরীক্ষার বিচারে গ্রহণযোগ্য নয় কোনভাবে। এ রাতে নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সব কটি হাদিস জাল, বানোয়াট। নিম্নে বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রয়াস পাব।

শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ



শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ

আলোচ্যসূচি
১। লেখকের কৈফিয়ত
২। কতিপয় মূলনীতি
৩। ‘শবে বরাত’ এর অর্থ
৪। আল-কুরআনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ নেই
৫। শবে বরাত নামটি হাদীসের কোথাও উল্লেখ হয়নি
৬। ফিকহের কিতাবে শবে বরাত
৭। শবে বরাত সম্পর্কিত প্রচলিত আকীদাহ-বিশ্বাস ও ‘আমল
৮। শবে বরাতের সম্পর্ক শুধু ‘আমলের সাথে নয়
৯। শাবানের মধ্যরজনীর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহের পর্যালোচনা
১০। শাবানের মধ্যরজনীর সম্পর্কিত হাদীসসমূহ পর্যালোচনার সারকথা
১১। ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা সম্পর্কিত একটি হাদীস ও উহার পর্যালোচনা
১২। সৌভাগ্য রজনী ধর্ম বিকৃতির শামিল
১৩। শবে বরাত সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের বক্তব্য
১৪। শবে বরাত সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহর অবস্থান
১৫। শবে বরাত সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার দায়িত্ব উলামায়ে কিরামের
১৬। একটি বিভ্রান্তির নিরসন
১৭। বিদ‘আত সম্পর্কে কিছু কথা
১৮। বিদ‘আতের কুফল
১৯। সন্দেহজনক নফল ‘আমল থেকে দূরে থাকা উত্তম
২০। সর্বশেষ আহ্বান
২১। প্রমাণপঞ্জী




লেখকের কৈফিয়ত

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি পরিপূর্ণ দ্বীন হিসাবে আমাদেরকে ইসলাম দান করেছেন, যে দ্বীনে মানুষের পক্ষ থেকে কোন সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন হয় না। সালাত ও সালাম তাঁরই রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি, যিনি আল্লাহর দ্বীনের রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছেন, কোথাও কোন কার্পণ্য করেননি। দ্বীন হিসাবে যা কিছু এসেছে তিনি তা উম্মতের কাছে পৌছে দিয়েছেন ও নিজের জীবনে বাস-বায়ন করে গেছেন। তার সাহাবায়ে কিরামের প্রতি আল্লাহর রাহমাত বর্ষিত হোক, যারা ছিলেন উম্মতে মুহাম্মাদীর আদর্শ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ পালনে সকলের চেয়ে অগ্রগামী। 

শবে বরাতের মত একটি বিষয় নিয়ে কিছু লেখার কি প্রয়োজন ছিল? আমি এর কৈফিয়ত স্বরূপ কিছু কথা না বলে পারছিনা। 

(এক) গত ৪/১২/১৯৯৮ ইংরেজী তারিখে আমি গাজীপুরের একটি মাসজিদে জুমু‘আর খুতবাহ ও আলোচনায় শবে বরাত সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম। আলোচনা শেষে উপসি'ত মুসল্লীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকে বলেছেনঃ “শবে বরাত সম্পর্কে এমন স্পষ্ট কথা আগে কোথাও শুনিনি।” আবার অনেকে “যতসব নুতন নুতন মাসালা” আখ্যায়িত করে আমার আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করলেন। সেখানে উপসি'ত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, লেখক ও গবেষক আবুল বাশার মুহাম্মাদ ইকবাল (রহঃ)। তিনি আমাকে বললেন: আপনার এ বক্তব্যটি একটি প্রবন্ধ আকারে লিখে ফেলুন। তিনি আমাকে বার বার অনুরোধ করছিলেন, আর আমি লিখব লিখব বলে ওয়াদা করে যাচ্ছিলাম। কিন' এর পরের বছর যখন ১৫ শাবান এলো তখন তিনি আবারো বললেন, “আপনাকে এ বিষয়ে লেখার জন্য বলেছিলাম, আপনি কিন' এখনো লিখেননি। আগামী দশ দিনের মধ্যে লেখা জমা দিবেন। আমরা আমাদের মাসিক পত্রিকার শাবান সংখ্যায় আপনার শবে বরাত সম্পর্কিত লেখাটি প্রকাশ করতে চাই।” কিন' আমি তখনো তার অনুরোধ রক্ষা করতে পারিনি। তিনি প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন, “আপনি লিখলেন না!” কয়েক মাস পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর থেকে আমি নিজেকে অপরাধী মনে করতে থাকি। তার জীবদ্দশায় তার একটি ইচ্ছা আমি পূরণ করতে পারিনি। এর প্রায়শ্চিত্ত করার অনুভূতি আমাকে তাড়া করতে থাকে। 

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...