পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
অতঃপর: লাইলাতুল ক্বদর বা শবেকদর কোন রাতে রয়েছে, তা নির্ধারণ করার ব্যাপারে ‘আলিমগণ অনেকগুলো মতে মতদ্বৈধতা করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “ ‘আলিমগণ লাইলাতুল ক্বদর নির্ধারণের ব্যাপারে বিশাল মতানৈক্য করেছেন। আমাদের নিকট এ ব্যাপারে ‘আলিমগণের চল্লিশেরও অধিক মত রয়েছে।” [হাফিয ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ), ফাতহুল বারী শারহু সাহীহিল বুখারী; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ২৬২; হা/২০২২ এর ভাষ্য; আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ কর্তৃক প্রকাশিত; সনতারিখ বিহীন]
এরপর তিনি ৪৬ টি মত উল্লেখ করেছেন এবং পরিশেষে বলেছেন, “এই মতগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য মত হলো এই রাতটি শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং এই রাতটি স্থানান্তরিত হয়, যেমনটি এই অধ্যায়ের হাদীসগুলো থেকে বুঝা যায়। শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক।” [প্রাগুক্ত, খণ্ড ৪; পৃষ্ঠা: ২৬৬]
·
কিন্তু লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আমরা পর্যায়ক্রমে দলিলসমূহ উল্লেখ করব। প্রথমেই উল্লেখ করব বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার দলিল। আরেকটি কথা বলে রাখছি। কলেবর ছোটো করার জন্য আরবি টেক্সট উল্লেখ করছি না। আগ্রহী পাঠকবর্গ আরবি টেক্সট পড়তে চাইলে মূল সোর্স থেকে পড়ে নিবেন। বারাকাল্লাহু ফীকুম।
কিন্তু লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আমরা পর্যায়ক্রমে দলিলসমূহ উল্লেখ করব। প্রথমেই উল্লেখ করব বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার দলিল। আরেকটি কথা বলে রাখছি। কলেবর ছোটো করার জন্য আরবি টেক্সট উল্লেখ করছি না। আগ্রহী পাঠকবর্গ আরবি টেক্সট পড়তে চাইলে মূল সোর্স থেকে পড়ে নিবেন। বারাকাল্লাহু ফীকুম।
১. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহ’র রাসূল ﷺ রমজান মাসের মাঝের দশকে ই‘তিকাফ করেন। বিশ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং একুশ তারিখের শুরুতে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে যাঁরা ই‘তিকাফ করেছিলেন, তাঁদের সকলেই নিজ নিজ বাড়িতে প্রস্থান করেন এবং তিনি যে মাসে ই‘তিকাফ করেন ওই মাসের যে রাতে ফিরে যান সে রাতে লোকদের সামনে ভাষণ দেন। আর তাতে মাশাআল্লাহ, তাদেরকে বহু নির্দেশ দান করেন। তারপর বলেন, আমি এই দশকে ই‘তিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শেষ দশকে ই‘তিকাফ করব। যে আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছিল, সে যেন তার ই‘তিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ’র রাসূল ﷺ বললেন, “শেষ দশকে ওই রাতের তালাশ করো এবং প্রত্যেক বিজোড় রাতে তা তালাশ করো। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, ওই রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি।” ওই রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মাসজিদে আল্লাহ’র রাসূল ﷺ এর নামাজের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল একুশ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের নামাজ শেষে ফিরে বসেন, তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমণ্ডল কাদা-পানি মাখা।” [সাহীহ বুখারী, হা/২০১৮; সাহীহ মুসলিম, হা/১১৬৭]
২. ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ’র রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করো।” [সাহীহ বুখারী, হা/২০১৭]