Showing posts with label শাসক. Show all posts
Showing posts with label শাসক. Show all posts

Saturday, 24 August 2019

জবরদখলকারী শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বিধান


·
মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি শাসনক্ষমতায় পৌঁছেছে, ক্ষমতাসীন হয়েছে, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব তার অধীন হয়েছে এবং তাকে আহলুল হাল্লি ওয়াল ‘আক্বদ (বিজ্ঞ ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিবর্গ) শাসক হিসেবে মেনে নিয়েছে, সে যদি না-জায়েজ পদ্ধতিতেও ক্ষমতায় পৌঁছে থাকে, তবুও শার‘ঈভাবে তার বেলায়েত (আনুগত্য পাওয়ার মতো কর্তৃত্ব) সাব্যস্ত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি ক্ষমতাসীন হয়েছে, সে যদি না-জায়েজ পদ্ধতিতেও ক্ষমতায় পৌঁছে থাকে, তবুও শার‘ঈভাবে তার বেলায়েত (আনুগত্য পাওয়ার মতো কর্তৃত্ব) সাব্যস্ত হবে। যেমন কেউ ভোটাভুটির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছে। আর ভোটাভুটির মাধ্যমে শাসক নির্বাচন করা হলো না-জায়েজ পদ্ধতি। কেননা এতে বিশৃঙ্খল জনগণ এবং ভালো-খারাপ সবাই অংশগ্রহণ করে। কখনো দেশের অধিকাংশ জনগণ খারাপ হলে, তারা এভাবে নিজেদের শাসক অনুসন্ধান করে।

Friday, 16 August 2019

সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসকদের নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করার বিধান


·
সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, সালাফদের অবশিষ্টাংশ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
প্রশ্ন: “সম্মানিত শাইখ (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন), বিভিন্ন মজলিস, খুতবা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসক, কিংবা শাসক কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও ‘উলামাদের [১] ভুলত্রুটি প্রচার করা এবং তাঁদেরকে নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করার বিধান কী? প্রশ্নটি করেছেন হায়ার জুডিশিয়াল ইন্সটিটিউটের শাইখ ‘আব্দুল মুহসিন বিন সা‘ঈদ আল-ক্বাহত্বানী।”
উত্তর: “এটি পূর্বেই গত ও স্থির হয়েছে যে, এটা হলো খারিজীদের মতাদর্শ। খারিজীরা মুসলিম শাসকদের মর্যাদাহানি করে, তাঁদের ছিদ্রান্বেষণ করে এবং তাঁদের ভুলত্রুটি ফলাও করে প্রচার করে। কিন্তু ওরা হলো বধকৃত, ওদের কৃতকর্মের আপদ ওদের নিজেদের ওপরই বর্তাবে। প্রকৃতপক্ষে তারা কখনোই মুসলিমদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। বস্তুত মুসলিম শাসকদের সম্মান করা ওয়াজিব। তাঁদের জন্য দু‘আ করা জরুরি। মুসলিম শাসকদের জন্য দু‘আ করা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। ইমাম আহমাদ—যিনি হলেন আহলুস সুন্নাহ’র ইমাম—বলেছেন, “আমি যদি জানতাম, আমার কোনো কবুলযোগ্য দু‘আ আছে, তাহলে অবশ্যই আমি সে দু‘আ শাসকের জন্য করতাম।” [২]
কারণ শাসক যদি ভালো হয়, তাহলে পুরো জাতি ভালো হয়ে যায়, আর (আল্লাহ’র) দ্বীন বিজয়ী হয়। তাঁর জন্য যে দু‘আ করা হবে, তা শুধু তাঁর জন্যই নয়, বরং সে দু‘আ হবে তাঁর জন্য, দ্বীনে ইসলামের জন্য এবং মুসলিম জনসাধারণের জন্য। আর জুমু‘আহর খুতবায় এবং প্রত্যেক (গুরুত্বপূর্ণ) উপলক্ষের সময় শাসকদের জন্য দু‘আ করা হলো—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের একটি অন্যতম মূলনীতি। তাঁদের জন্য সাহায্য ও শিক্ষা লাভের দু‘আ করতে হবে। কারণ আল্লাহ যখন শাসকদের সাহায্য করেন এবং তাঁদেরকে শক্তিশালী করেন, তখন তা মুসলিম জনসাধারণ ও দ্বীনে ইসলামের জন্য কল্যাণকর হয়ে থাকে। না‘আম।”
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. ‘উলামাদের ব্যক্তিগত ভুলত্রুটি প্রচার করা অন্যায়। তবে আল্লাহ’র দ্বীনের দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের পদস্খলন ঘটলে, যোগ্য ব্যক্তিরা মুসলিমদের কল্যাণের জন্য প্রকাশ্যে তাঁদের ভুলের খণ্ডন করতে পারবেন। আর এই আমল সালাফদের যুগ থেকে চলে আসছে। এমনকি ইমাম ফাওযান নিজে ‘উলামা ও দা‘ঈদের ভুলের খণ্ডন করে লেখালেখি করেছেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন।
[২]. ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া; খণ্ড: ২৮; পৃষ্ঠা: ৩৯১; বাদশাহ ফাহাদ প্রিন্টিং প্রেস, মাদীনাহ ছাপা; সন: ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি.।
·
উৎস: বক্তব্যের ভিডিয়ো ক্লিপটি জনৈক আরব সালাফী ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Wednesday, 21 June 2017

মুসলিম আমীর বা শাসকদের অধিকারঃ



মুসলিম আমীর বা শাসকদের ব্যপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিত?
ইমাম তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যুঃ ৩২১ হিজরী), তার বিখ্যাত আহলে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদা” নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ
“আমীর ও শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে আমরা জায়েয মনে করি না, যদিও তারা যুলুম-অত্যাচার করে। আমরা তাদেরকে অভিশাপ দিব না, এবং তাদের আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিব না। তাদের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যের সাপেক্ষে ফরয, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যচরণের আদেশ দেয়। আমরা তাদের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য দুয়া করব।”
আকীদাহ আত-ত্বাহাবীয়া।

মুসলিম আমীর বা শাসক অত্যাচারী জালেম হলে তাদের ব্যপারে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধঃ
হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এক সময় আমরা অকল্যাণ ও মন্দের মধ্যে (কুফরীর মধ্যে) ডুবে ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদেরকে কল্যাণের (ঈমানের) মধ্যে নিয়ে এসেছেন। এখন আমরা সেই কল্যাণের মধ্যে বহাল আছি। তবে এই কল্যাণের পরে কি আবার অকল্যাণের যুগ আসবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি আবার বললাম, সেই অকল্যানের যুগের পর কি পুনরায় কল্যানের যুগ আসবে? তিনি বললেনঃ হাঁ, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, সেই কল্যানের পর কি আবার অকল্যানের যুগ আসবে? তিনি বললেনঃ আসবে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ “আমার পরে এমন কিছু ইমামের (শাসক) আগমন ঘটবে, তারা আমার প্রদর্শিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাত (জীবন বিধান) গ্রহন করবে না। (অর্থাৎ তারা নিজেদের খোয়াল-খুশী মত চলার পথ আবিষ্কার করে নেবে)। অচিরেই তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক সমাজের নেতৃত্ব নিয়ে দাঁড়াবে যাদের মানব দেহে থাকবে শয়তানের অন্তর”।
আমি (হুজাইফা রাঃ) জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই যুগে উপনীত হই তাহলে আমি কি করব?
তিনি (সাঃ) বললেনঃ “তুমি আমীরের নির্দেশ শোন এবং তার আনুগত্য কর। যদিও সে তোমার পিঠে আঘাত (নির্যাতন) করে এবং তোমার ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেয় তবুও তার কথা শোন এবং তার আনুগত্য কর”।
সহীহ মুসলিমঃ কিতাবুল ইমারাহ (প্রশাসন ও নেতৃত্ব) অধ্যায়, হাদীস নং- ৪৫৫৪।
এই হাদিসে রাসুল সাঃ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেনঃ

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...