Showing posts with label আকীদাহ. Show all posts
Showing posts with label আকীদাহ. Show all posts

Wednesday, 13 March 2019

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০৩

·Image may contain: text
শাইখ পরিচিতি:


 ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)
ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) বিংশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, মুহাক্বক্বিক্ব, মুফাসসির, ফাক্বীহ ও আদীব (সাহিত্যিক) ছিলেন। তাঁর পড়াশোনা আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি এখান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি ১৩০৯ হিজরী মোতাবেক ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের কায়রো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিশরের শারী‘আহ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম শারী‘আহ কোর্টের সদস্য হয়েছিলেন। হাদীসশাস্ত্র, ফিক্বহশাস্ত্র, ‘আক্বীদাহশাস্ত্র এবং ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অসংখ্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা রয়েছে। তাঁর শ্রেষ্ঠ কর্ম হলো—মুসনাদে আহমাদের তাহক্বীক্ব; তিনি ৮০৯৯ টি হাদীসের তাহক্বীক্ব করতে পেরেছিলেন, যা মুসনাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ।
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] কে ইমাম আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)’র ‘আক্বীদাহ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “শাইখ আহমাদ শাকির একজন সম্মানিত ‘আলিম। তিনি ‘আক্বীদাহগতভাবে সালাফী ছিলেন।” [দ্র.: https://m.youtube.com/watch?v=Eo0hzFqiQCA (অডিয়ো ক্লিপ)]
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম রাবী‘ বিন হাদী বিন ‘উমাইর আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] বলেন, “আমি বলছি, আল-‘আক্বীদাতুত্ব ত্বাহাউয়িয়্যাহ গ্রন্থটি আমরা কেবল আহলুস সুন্নাহ’র ভাষ্যগ্রন্থের মাধ্যমে চিনি। যেমন: ইবনু আবিল ‘ইয প্রণীত ভাষ্য। এই ভাষ্যগ্রন্থটি দুইজন আহলুস সুন্নাহ’র ‘আলিম তাহক্বীক্ব করেছেন। প্রথমজন হলেন প্রখ্যাত সালাফী ‘আলিম আহমাদ শাকির এবং দ্বিতীয়জন হলেন শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী।” [sahab.net]
ইমাম রাবী‘ আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) আরও বলেন, “শাইখ আহমাদ শাকির হাদীসশাস্ত্রের কিবার ‘আলিমদের অন্যতম।” [ইমাম রাবী‘ (হাফিযাহুল্লাহ), আয-যারী‘আহ ইলা বায়ানি মাক্বাসিদি কিতাবিশ শারী‘আহ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৪২০]
তিনি ১৩৭৭ হিজরী ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে পরলোকগমন করেন। আল্লাহ এই ক্ষণজন্মা মনীষীকে তাঁর রহমত দ্বারা ঢেকে দিন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর আবাস নির্ধারণ করুন। আমীন। সংগৃহীত: www.facebook.com/SunniSalafiAthari(সালাফী: ‘আক্বীদাহ্ ও মানহাজে)।
·
১ম বক্তব্য:
বিগত শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ, মুহাক্বক্বিক্ব ও সাহিত্যিক আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৩৭৭ হি./১৯৫৮ খ্রি.] বলেছেন,
الإخوان المسلمون خوارج العصر.
“মুসলিম ব্রাদারহুড আধুনিক যুগের খারিজী সম্প্রদায়।” [আল-ইসালাহ ম্যাগাজিন, ৪০শ সংখ্যা; পৃষ্ঠা: ১১; গৃহীত: আবুল হাসান ‘আলী বিন আহমাদ আর-রাযিহী, আর-রিসালাতুস সুগরা ইলা আখী আল-মুনতাযিম ফী জামা‘আতিল ইখওয়ানিল মুসলিমীন; পৃষ্ঠা: ৯০; দারু ‘উমার ইবনিল খাত্বত্বাব, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৮ হি./২০০৭ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·

Tuesday, 12 July 2016

আহলুল 'ইলমদের দৃষ্টিতে- "মানহাজ"


আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা হলো আক্বীদা এবং মানহাজ।
কাজেই ধৈর্যসহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো।
:
আক্বীদা মানে বিশ্বাস বা creed বা belief system. আর মানহাজ মানে methodology বা চলার পথ। আভিধানিকভাবে মানহাজ মানে চলার পথ। শরী’আহ-এর পরিভাষায় দ্বীনের ক্ষেত্রে সলফে-সলিহীনগণের অনুসৃত পথে চলার নামই মানহাজ, যাকে আমরা বলে থাকি সলফে-সলিহীনগণের মানহাজ অথবা সালাফী মানহাজ। এক্ষেত্রে দ্বীনের ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে সলফে-সলিহীনগণের নীতিকে মেনে চলাকেই বোঝায়। মানহাজটাই মূলত সীরাতে মুস্তাক্বীম।
আক্বীদাসহ দ্বীনের সকল বিষয়ই মানহাজের মধ্যে শামিল। এছাড়া আরেকভাবে বলা যায় যে, যখন বলা হয় সলফে-সলিহীনগণের মানহাজ, তখন আক্বীদাসহ যা কিছু আছে সব কিছুই মানহাজের মধ্যে শামিল। আর যখন বলা হয় সলফে-সলিহীনগণের আক্বিদা-মানহাজ, তখন সেক্ষেত্রে আক্বীদার বিষয় ছাড়া বাকি সবকিছুই মানহাজের মধ্যে শামিল।
[উস্তায হাম্মাদ বিল্লাহ (হাফিযাহুল্লাহ)-এর লেকচার থেকে সংগৃহীত ও সংযোজিত এবং পরিমার্জিত]
:
এবার তাহলে একটি প্রশ্ন এসে যায় যে, আক্বীদা এবং মানহাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? এছাড়া আরো প্রশ্ন এসে যায় যেমন কেউ আক্বীদায় সালাফী আর মানহাজে ভিন্ন হলে সেক্ষেত্রে তার বিধান কি এবং যারা সলফে-সলিহীনগণের মানহাজের বিরোধিতা করে তাদের বিধান কি। আসুন এই সকল বিষয়েই আমরা বিভিন্ন আহলুল ‘ইলমদের উক্তি থেকে জেনে নিই। এই প্রত্যেকটি ব্যাপারেই নিম্নে বিভিন্ন আহলুল ‘ইলমদের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।
:
==========================================================
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ডে আক্বীদা ও মানহাজের মধ্যে পার্থক্যের ব্যাপারে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হয়। নিম্নে দেয়া হলো,
প্রশ্ন:- আজকাল আক্বীদা এবং মানহাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে মর্মে অনেক কথা শোনা যায়, মানুষ এখন এও বলা শুরু করেছে যে, “অমুক ও অমুকের আক্বীদা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদা” অথবা সালাফীয়্যাহ এর আক্বিদা, তবে তার মানহাজ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মানহাজ নয়। যেমন উদাহরণস্বরূপ, তারা জামাতুত তাবলীগের বা ইখওয়ানুল মুসলিমীনের, অথবা অন্যকোন গ্রুপের কিছু কিছু কথা বলে থাকে। কাজেই, এর কী কোনো মূলনীতি আছে যার দ্বারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বা সালাফিয়্যাহ-এর মানহাজ সম্পর্কে জানা যেতে পারে? এবং আক্বিদা ও মানহাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কী?

Tuesday, 25 November 2014

প্রশ্নোত্তরে মৌলিক ইসলাম শিক্ষা



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

সুপ্রিয় ভাই , আমরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করব।আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

১ম প্রশ্নঃ আমার, আপনার এবং পৃথিবীর সব কিছুর স্রষ্টা ও পালনকর্তা কে?
উত্তরঃ আমার, আপনার এবং সারা জাহানের একমাত্র স্রষ্টা ও পালনকর্তা হলেন মহান আল্লাহ। তিনি দয়া করে আমাকে সহ পৃথিবীর প্রতিটি বস’ সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু লালন-পালন করছেন।
২য় প্রশ্নঃ আমাদের দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম কী?
উত্তরঃ আমাদের দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম হল ইসলাম। ইসলাম মানে হল, আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর প্রতি ভালবাসা রেখে এবং তাঁর কাছেই আশা ও আকাংখা নিয়ে পরিপূর্ণভাবে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
৩য় প্রশ্নঃ আমরা কিভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারি?
উত্তরঃ আমরা এ বিশাল সৃষ্টিজগতের দিকে তাকালে আল্লাহর পরিচয় পাই। ঐ সুবিশাল আকাশ, এই বিস্তীর্ণ পৃথিবী, চাঁদ, সুরুজ, দিন ও রাতের আবর্তন ইত্যাদির দিকে গভীরভাবে তাকালে বুঝতে পারি এ বিশ্বচরাচর একাকি সৃষ্টি হয়ে যায়নি। বরং এসবের পেছনে রয়েছে একজন সুনিপুন স্রষ্টার হাত। আর তিনি হলেন, মহান আল্লাহ তা’আলা।
৪র্থ প্রশ্নঃ আল্লাহ কোথায় আছেন?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলা সাত আসমানের উপর আরশে আযীমে অবস্থান করেন। তিনি তাঁর সব সৃষ্টি থেকে আলাদা।
৫ম প্রশ্নঃ আল্লাহ কি সত্বাগতভাবে আমাদের সাথে থাকেন?
উত্তরঃ আল্লাহ স্বীয় সত্বায় আরশে আযীমের উপর অবস্থান করেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞান আমাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি সব কিছু দেখছেন। সব কিছু শুনছেন। তার শক্তি এবং ক্ষমতা সব জায়গায় বিরজমান। আল্লাহ তা’আলা মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম) কে লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা ভয় পেওনা। আমি তোমদের সাথে আছি। সব কিছু দেখছি এবং শুনছি।” (সূরা ত্বাহাঃ ৪৬)
৬ষ্ঠ প্রশ্নঃ আল্লাহর ওলী কারা?

Monday, 10 November 2014

ফরয নামাযের পর হাত তুলে মুনাজাত প্রসঙ্গে


নামাযী যখন নামায পড়ে তখন সে আল্লাহর নিকট মুনাজাত করে। আল্লাহর সাথে নিরালায় যেন কানে কানে কথা বলে। (মুঅত্তা, মুসনাদে আহ্‌মদ ২/৩৬, ৪/ ৩৪৪)

নামাযের মাঝেই আব্দ (দাস) মাবুদের (প্রভুর) ধ্যনে ধ্যানমগ্ন থাকে। যেন সে তাকে দেখতে পায়। যতক্ষণ সে নামাযে থাকে ততক্ষণ সে আল্লাহর সাথে কথা বলে। তিনি তার প্রতি মুখ ফিরান এবং সালাম না ফিরা পর্যন্ত তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন না। (বাইহাকী, সহীহুল জামে’১৬১৪ নং)

পরক্ষণে যখনই সে সালাম ফিরে দেয় তখনই সে মুনাজাতের অবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দূর হয়ে যায় নৈকট্যের বিশেষ যোগসূত্র। বান্দা সরে আসে সেই মহান বিশ্বাধিপতির খাস দরবার থেকে। সুতরাং তার নিকট কিছু চাওয়া তো সেই সময়ে অধিক শোভনীয় যে সময়ে ভিখারী বান্দা তাঁর ধ্যনে তার নিকটে ও তাঁর খাস দরবারে থাকে। অতএব সেই নৈকট্যের ধ্যান ভঙ্গ করে এবং মহানবী (সাঃ) এর নির্দেশিত মুনাজাত থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় মুনাজাত সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত নয়।

অবশ্য সহীহ হাদীসে বর্ণিত যে, 
একদা সাহাবাগণ আল্লাহর রসূল (সাঃ) কে কোন্‌ সময় দুআ অধিকরুপে কবুল হয় - সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন, “গভীর রাতের শেষাংশে এবং সকল ফরয নামাযের পশ্চাতে।” (তিরমিযী, সুনান ৩৪৯৯, নাসাঈ, সুনান আমালুল ইয়াউমি অল্লাইলাহ্‌ ১০৮নং, মিশকাত ৯৬৮ নং) হাদীসটি অনেকের নিকট দুর্বল হলেও আসলে তা হাসান। (তিরমিযী, সুনান২৭৮২নং)

Sunday, 2 November 2014

রিজিক এবং বিবাহ কি লাওহে মাহফুজে লিখিত আছে?


উত্তরঃ আল্লাহ তাআ’লা যেদিন কলম সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মাখলুকাত সৃষ্টি হবে, সবই লাওহে মাহফূজে লিপিবদ্ধ আছে। আল্লাহ তাআ’লা কলম সৃষ্টি করে বললেন, লিখ। কলম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি কি লিখব? আল্লাহ তাআ’লা বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সব লিখে ফেল। সে সময় কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে, কলম সব কিছুই লিখে ফেলল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ভ্রুন মাতৃগর্ভে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ তাআ’লা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন এবং লিখে দেন তার রিজিক, বয়স এবং তার কাজ অর্থাৎ সৌভাগ্যবান হবে না দুর্ভাগা হবে। রিজিক লিখা আছে এবং কিভাবে অর্জন করবে, তাও লিখা আছে। রিজিক অন্বেষণের সাথ সাথে রিজিক অন্বেষণের উপকরণও লিপিবদ্ধ আছে। আল্লাহ বলেনঃ

Saturday, 18 October 2014

অসুস্থ মানুষের জন্য যে সব দো‘আ বলা হয়






1/906 عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أنَّ النَّبيَّ ، كَانَ إِذَا اشْتَكَى الإنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ، أَوْ كَانَتْ بِهِ قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ، قَالَ النَّبيُّ بِأُصْبُعِهِ هكَذا- وَوَضَعَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَة الرَّاوي سَبَّابَتَهُ بِالأَرْضِ ثُمَّ رَفَعَها- وَقَالَ: «بِسمِ اللهِ، تُرْبَةُ أرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى بِهِ سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا». متفقٌ عَلَيْهِ
১/৯০৬। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, যখন কোন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিজের কোন অসুস্থতার অভিযোগ করত অথবা (তার দেহে) কোন ফোঁড়া কিংবা ক্ষত হত, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ আঙ্গুল নিয়ে এ রকম করতেন। (হাদীসের রাবী) সুফ্য়ান তাঁর শাহাদত আঙ্গুলটিকে যমীনের উপর রাখার পর উঠালেন। (অর্থাৎ তিনি এভাবে মাটি লাগাতেন।) অতঃপর দোআটি পড়তেনঃ বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদ্বিনা, বিরীক্বাতি বাযিবনা, য়্যুশফা বিহী সাক্বীমুনা, বিইযনি রাব্বিনা।অর্থাৎ আল্লাহর নামের সঙ্গে আমাদের যমীনের মাটি এবং আমাদের কিছু লোকের থুতু মিশ্রিত করে (ফোঁড়াতে) লাগালাম। আমাদের প্রতিপালকের আদেশে এর দ্বারা আমাদের রুগী সুস্থতা লাভ করবে। (বুখারী ও মুসলিম) [1]

Friday, 17 October 2014

আল্লাহ ও তাঁর আযাবকে ভয় করা




আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَإِيَّٰيَ فَٱرۡهَبُونِ ﴾ [البقرة: ٤٠] 
অর্থাৎ তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।(সূরা বাক্বারাহ ৪০ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
﴿ إِنَّ بَطۡشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ ١٢ ﴾ [البروج: ١٢] 
অর্থাৎ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও বড়ই কঠিন।(সূরা বুরুজ ১২ আয়াত)

তিনি আরো বলেন,
﴿وَكَذَٰلِكَ أَخۡذُ رَبِّكَ إِذَآ أَخَذَ ٱلۡقُرَىٰ وَهِيَ ظَٰلِمَةٌۚ إِنَّ أَخۡذَهُۥٓ أَلِيمٞ شَدِيدٌ ١٠٢ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗ لِّمَنۡ خَافَ عَذَابَ ٱلۡأٓخِرَةِۚ ذَٰلِكَ يَوۡمٞ مَّجۡمُوعٞ لَّهُ ٱلنَّاسُ وَذَٰلِكَ يَوۡمٞ مَّشۡهُودٞ ١٠٣ وَمَا نُؤَخِّرُهُۥٓ إِلَّا لِأَجَلٖ مَّعۡدُودٖ ١٠٤ يَوۡمَ يَأۡتِ لَا تَكَلَّمُ نَفۡسٌ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ فَمِنۡهُمۡ شَقِيّٞ وَسَعِيدٞ ١٠٥ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ شَقُواْ فَفِي ٱلنَّارِ لَهُمۡ فِيهَا زَفِيرٞ وَشَهِيقٌ ١٠٦ ﴾ [هود: ١٠٢،  ١٠٦]
অর্থাৎআর এরূপই তাঁর পাকড়াও; যখন তিনি কোন অত্যাচারী জনপদের অধিবাসীদেরকে পাকড়াও করেন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যাতনাদায়ক কঠিন। নিশ্চয় এ সব ঘটনায় সে ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে যে ব্যক্তি আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে। ওটা এমন একটা দিন হবে যেদিন সমস্ত মানুষকে সমবেত করা হবে এবং ওটা হবে সকলের উপস্থিতির দিন। আর আমি ওটা নির্দিষ্ট একটি কালের জন্যই বিলম্বিত করছি। যখন সেদিন আসবে তখন কোন ব্যক্তি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কথাও বলতে পারবে না। সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ হবে দুর্ভাগ্যবান এবং কেউ হবে সৌভাগ্যবান। অতএব যারা দুর্ভাগ্যবান তারা তো হবে জাহান্নামে; তাতে তাদের চীৎকার ও আর্তনাদ হতে থাকবে।(সূরা হূদ ১০২-১০৬ আয়াত)

তাহাজ্জুদ নামায পড়ার ফযীলত




মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهِۦ نَافِلَةٗ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامٗا مَّحۡمُودٗا ٧٩ ﴾ (الاسراء: ٧٩) 
অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল ৭৯ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,
﴿ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمۡ عَنِ ٱلۡمَضَاجِعِ يَدۡعُونَ رَبَّهُمۡ خَوۡفٗا وَطَمَعٗا وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ ١٦ ﴾ (السجدة: ١٦) 
অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। (সূরা সেজদা ১৬ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,   
﴿ كَانُواْ قَلِيلٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِ مَا يَهۡجَعُونَ ١٧ ﴾ (الذاريات: ١٧) 
অর্থাৎ তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)

মাওলানা মওদুদী কেমন আলেমঃ



মাওলানা মওদুদী ও সাইয়েদ কুতুবের সমালোচনা করায় অনেকে অনেক ধরণের মন্তব্য করেছেন। বেশ কিছু ভাই বোন গালিও দিয়েছেন, জাযাকাল্লাহু খায়রান। ইন শা' আল্লাহ, কেয়ামতের দিন আপনাদের কাছ থেকে কিছু সওয়াব পাওনা থাকবে...

গালি দেওয়া যদি কোন খারাপ কাজ না হতো, তাহলে আমি বরং আপনাদের আরো বেশি করে গালি দিতে উতসাহ দিতাম কারণ, আপনার গালির বিপরীতে ইন শা’ আল্লাহ আমাদের সওয়াবের পরিমান বাড়তে থাকবে। যাইহোক, গালি দেওয়ার আগে নিচে মওদুদী সাহেবের নবী রাসুলদের প্রতি মানহানিকর বক্তব্যগুলোর কিছু নমুনা দেখুন। আপনার প্রিয় বক্তা বা লেখকের বিরুদ্ধে বললে যদি আপনার কষ্ট লাগে তাহলে, আমাদের নবী-রাসূলদের নামে বেয়াদবী মূলক কথা বললে সে সম্পর্কে কি বলবেন?

Wednesday, 15 October 2014

ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর

 
 
ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.)
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী 


প্রশ্নঃ (১৮৪) ইসলামে ছালাতের বিধান কি? কার উপর ছালাত ফরয?
উত্তরঃ ছালাত ইসলামের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রুকন; বরং এটা কালেমায়ে শাহাদাতের পর দ্বিতীয় রুকন। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা ইসলামের মূল খুঁটি। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, 
وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ 
“ইসলামের মূল খুঁটি হচ্ছে, ছালাত।” 

আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর ছালাত ফরয করেন এমন উঁচু স্থানে যেখানে মানুষের পক্ষে পৌঁছা অসম্ভব। কোন মাধ্যম ছাড়াই রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ একটি রাত মে’রাজের রাতে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁকে সপ্তাকাশের উপর আরশে নিয়ে এই ছালাত ফরয করেন। প্রথমে রাত-দিনে ছালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দাদের প্রতি দয়া করে এর সংখ্যা কমিয়ে নির্ধারণ করেন পাঁচ ওয়াক্ত। আর প্রতিদান ঘোষণা করেন পঞ্চাশ ওয়াক্তের বরাবর। এ থেকে প্রমাণিত হয় ছালাত কত গুরুত্বপূর্ণ। ছালাতকে আল্লাহ্‌ কত ভালাবসেন। সুতরাং মানুষের জীবনের সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সময় এই ক্ষেত্রে ব্যয় করা অত্যন্ত জরুরী। ছালাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে দলীল হচ্ছে: কুরআন, সুন্নাহ্‌ ও মুসলমানদের এজমা বা ঐকমত্য।
কুরআন থেকে দলীলঃ আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ

ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর

 
 
ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.)
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী 


প্রশ্নঃ (১৮৪) ইসলামে ছালাতের বিধান কি? কার উপর ছালাত ফরয?
উত্তরঃ ছালাত ইসলামের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রুকন; বরং এটা কালেমায়ে শাহাদাতের পর দ্বিতীয় রুকন। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা ইসলামের মূল খুঁটি। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, 
وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ 
“ইসলামের মূল খুঁটি হচ্ছে, ছালাত।” 

আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর ছালাত ফরয করেন এমন উঁচু স্থানে যেখানে মানুষের পক্ষে পৌঁছা অসম্ভব। কোন মাধ্যম ছাড়াই রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ একটি রাত মে’রাজের রাতে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁকে সপ্তাকাশের উপর আরশে নিয়ে এই ছালাত ফরয করেন। প্রথমে রাত-দিনে ছালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দাদের প্রতি দয়া করে এর সংখ্যা কমিয়ে নির্ধারণ করেন পাঁচ ওয়াক্ত। আর প্রতিদান ঘোষণা করেন পঞ্চাশ ওয়াক্তের বরাবর। এ থেকে প্রমাণিত হয় ছালাত কত গুরুত্বপূর্ণ। ছালাতকে আল্লাহ্‌ কত ভালাবসেন। সুতরাং মানুষের জীবনের সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সময় এই ক্ষেত্রে ব্যয় করা অত্যন্ত জরুরী। ছালাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে দলীল হচ্ছে: কুরআন, সুন্নাহ্‌ ও মুসলমানদের এজমা বা ঐকমত্য।
কুরআন থেকে দলীলঃ আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ

Monday, 13 October 2014

কসর ও জমা করে সালাত আদায় সম্পর্কে কিছু বিধান

কসর ও জমা করে সালাত আদায় সম্পর্কে কিছু বিধান

ভূমিকা
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর প্রশংসা ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ পাঠের পর আজকের আলোচনা শুরু করছি। 
ইবাদতের ব্যাপারে একটি মৌলিক নীতি হচ্ছে, প্রতিটি ইবাদতের জন্য শরী‘আতপ্রবর্তক আল্লাহ তা‘আলা একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা সে সময়েই আদায় করতে হয়, যদি না সেটাকে তার সময় থেকে বিশেষ আবশ্যকতা বা প্রয়োজনের কারণে বের করে অন্য সময়ে করার ব্যাপারে দলীল-প্রমাণাদি পাওয়া যায়। 
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, 

Sunday, 12 October 2014

আমরা কি উদযাপন করব?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি আর আমাদের অন্তরের যাবতীয় কদর্যতা ও মন্দ কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করবে এমন কেউ নেই আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তার উপর এবং তার পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথী সকলের উপর সালাত ও অগণিত সালাম পেশ করুন।

Saturday, 11 October 2014

আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার ফজিল

আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার ফজিলত
ভূমিকা :
উম্মুল মুমেনিন আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার মর্যাদা বলার অপেক্ষা রাখে না, ইসলাম ধর্মে তিনি এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব, তার সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের বাণী উল্লেখ করাই যথেষ্ট। বিশেষ করে যার ব্যাপারে কুরআন নাযিল হয়েছে, যার বিষয়টি কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে, তার বিষয়ে নতুন কিছু লেখার সাধ্য আমাদের লিখনির নেই। কারণ, আল্লাহর ফয়সালার পর কোন ফয়সালা নেই, আল্লাহর বাণীর পর কোন বাণী নেই। তবুও হতভাগা কিছু লোক তার ব্যাপারে অপবাদ আর কুৎসা রটনা করে নিজেদের আখেরাত বরবাদ করছে।

গান বাজনার ব্যাপারে ইসলামের হুকুম




গান বাজনার ব্যাপারে ইসলামের হুকুম
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا(لقمان 6)
আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে। (সূরা লুকমান ৩১: ৬ আয়াত)।
বেশীর ভাগ তাফসীরকারকগণ ‍লাহওয়াল হাদীস বলতে গানকে বুঝিয়েছেন। 
উবনে মাসউদ রা. বলেন: উহা গান। 
ইমাম হাসান বছরী র. বলেন: উহা গান ও বাদ্য শানে নাজিল হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে সম্বোধন করে বলেন:
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ(الاسراء 64)
তোমার কন্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত কর। (সূরা ইসরা ১৭: ৬৪ আয়াত)।

গানের বিধান : ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে


গানের বিধান : ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
আল্লাহ তাআলা মানব জাতীকে অতীব সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। চোখ, কান ও অন্তর দ্বারা মানবজাতীকে সৌন্দর্য মন্ডিত করেছেন। আর ক্বিয়ামতের দিন মানব জাতির প্রত্যেককে আল্লাহ তাআলার দরবারে হাজির হতে হবে এবং জিজ্ঞাসার সম্মূখীন হতে হবে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্বীয় মাখলুকের মধ্যে চিন্তা-ফিকির করার যে নির্দেশ মানুষকে দিয়েছেন সে অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর মাখলুক সম্পর্কে চিন্তা- ফিকির করে, তবে সে অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টির মহত্ব, তার সৌন্দর্য মন্ডিত কারীগরি ও নিঁখুত আবিস্কারের পরিপূর্ণতা প্রত্যক্ষ করবে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

Friday, 10 October 2014

ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ কবচ



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখক : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
126

ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ-কবচের বিধান

আমাদের দেশে কতক পীর-ফকির, আলেম-জাহেল, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত অনেকেই তাবিজ-কবচ, তাগা, কড়ি, সামুক, ঝিনুক ও গাছ-গাছালির শিকর-বাকর ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন এবং ইহা বৈধ ও জায়েজ মনে করেন। এ সম্পর্কে বাজারে কিছু বই পুস্তক পাওয়া যায়, সে সব বইয়ে নির্ধারিত বিষয়ে গ্রহণ যোগ্য কোন দলিল নেই, আছে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী, অসংখ্য তদবিরের বর্ণনা ও তার বানোয়াট ফাজায়েল। এ সব বই পড়ে কেউ কেউ   বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিভিন্ন তদবির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয় ও তা গ্রহণ করে। তারা এ ধরণের চিকিৎসার মূল্যায়ন ও তার বৈধতা-অবৈধতা সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমি অত্র নিবন্ধের মাধ্যমে এ বিষয়টির তত্ত্ব ও স্বরূপ উদ্ঘাটন এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তার হুকুম বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছি।

গান বাজনার ব্যাপারে ইসলামের হুকুম




রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখক : আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান
142
গান বাজনার ব্যাপারে ইসলামের হুকুম
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا(لقمان 6)
আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে। (সূরা লুকমান ৩১: ৬ আয়াত)।
বেশীর ভাগ তাফসীরকারকগণ ‍লাহওয়াল হাদীস বলতে গানকে বুঝিয়েছেন। উবনে মাসউদ রা. বলেন: উহা গান। ইমাম হাসান বছরী র. বলেন: উহা গান ও বাদ্য শানে নাজিল হয়েছে।

জান্নাতে কি হবে?




রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

আল্লাহ তাআলা বলেন,
নিশ্চয় পরহেযগাররা বাস করবে উদ্যান ও প্রস্রবণসমূহে । (তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা শান্তি ও নিরাপওার সাথে তাতে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা থাকবে তা দূর করে দেব; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেথায় তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং তারা সেথা হতে বহিষ্কৃতও হবে না। (সূরা হিজর ৪৫-৪৮)
68
তিনি আরো বলেন,
হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করেছিল এবং আত্মসমর্পনকারী (মুসলিম) ছিলে। তোমরা এবং তোমাদের সহ ধর্মিনীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। স্বর্ণের থালা ও পান পাএ নিয়ে ওদের মাঝে ফিরানো হবে, সেখানে রয়েছে এমন সমস্ত কিছু, যা মন চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে। এটাই জান্নাত, তোমরা তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ যার অধিকারী হয়েছ। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে। (সূরা যুখরুফ ৬৮-৭৩)
তিনি অন্য জায়গায় বলেন,

আল্লাহ্ তা’আলা সম্পর্কে অজ্ঞতাবশত কথা বলা




রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

unnamed
মুলঃ শেইখ জামালউদ্দীন জারাবোজো | অনুবাদঃ মেরিনার
মুসলিম স্পেনের বিখ্যাত স্কলার ও তফসীরকার আল কুরতুবী, তাঁর তাফসীরে, যেসব লোক কুরআন পড়তে গিয়ে বলে ‘আমার মনে হয়’, ‘আমার মন বলে’ অথবা ‘আমার মতে’ সে সব লোক সম্পর্কে বলেন যে, তারা আসলে আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে কথা বলে এবং এটা একটা অন্যতম বড় অপরাধ। এবং এরা প্রকৃতপক্ষে যিনদিক এবং [তাদের অপরাধের গুরুত্ব বোঝাতে] তিনি বলেন যে, এদের মুরতাদ হিসেবে হত্যা করা উচিত।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...