Thursday, 24 September 2026

জিন সম্পর্কে জরুরি কিছু তথ্য

 


▬▬▬◆◯◆▬▬▬

প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন করেছেন। আমি জানতে চাই, জিনদের মধ্যে কি নারী-পুরুষ আছে? যদি থাকে তাহলে এরা কি বংশ বিস্তার করে? আর এরা কোথায় থাকে? এদের কি কোন দেশ আছে?

উত্তর:

নিম্নে কুরআন, হাদিস ও আলেমদের মতামতের আলোকে জিন সংক্রান্ত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হল:

وبالله التوفيق و السداد

■ জিনদের মাঝে নারী-পুরুষ:

মানুষের মতই জিনদের মাঝেও পুরুষ এবং নারী জিন আছে। যেমন: আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে প্রবেশ কালে বলতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ

"আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস"

"হে আল্লাহ, তোমার নিকট নাপাক নর-নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।" (বুখারি ও মুসলিম)

■ জিনদের সন্তান-সন্তুতি ও বংশ বিস্তার:

জিনরাও জন্ম গ্রহণ করে, তাদের বংশ বিস্তার হয় এবং তাদের সন্তান-সন্ততি আছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ

“অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে (ইবলিস) এবং তার বংশধরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করছ?” (সূরা কাহাফ: ৫০)

Sunday, 20 September 2026

কানতারা ও পুলসিরাত: পরিচয় ও পার্থক্য

 


এখানে আকিদা বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাশরের ময়দান-সংশ্লিষ্ট ‘কানতারা’ ও ‘পুলসিরাত’-এর পরিচয় এবং এ দুটির পার্থক্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

❑ ১. কানতারা কী?

আরবিতে 'কানতারা' (القَنْطَرَة) শব্দটি সেতু (الجِسْر) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সুপ্রসিদ্ধ আরবি অভিধান লিসানুল আরবে উল্লেখিত হয়েছে।

ইমাম আইনি সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে কানতারা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনুত-তীনের উক্তি উদ্ধৃত করে‌ বলেন,

«اَلْقَنْطَرَةُ كُلُّ شَيْءٍ يُنْصَبُ عَلَى عَيْنٍ أَوْ وَادٍ»

"কানতারা বলতে বোঝায় এমন যেকোনো কিছু, যা কোনও ঝরনা বা উপত্যকার ওপর স্থাপিত হয়।"

এ সংক্রান্ত হাদিস: 

সহিহ বুখারির বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (( يَخْلُصُ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ، فَيُحْبَسُونَ عَلَى قَنْطَرَةٍ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيُقَصُّ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ مَظَالِمُ كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي الدُّنْيَا، حَتَّى إِذَا هُذِّبُوا وَنُقُّوا أُذِنَ لَهُمْ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَأَحَدُهُمْ أَهْدَى بِمَنْزِلِهِ فِي الْجَنَّةِ مِنْهُ بِمَنْزِلِهِ كَانَ فِي الدُّنْيَا ))

"মুমিনরা যখন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে তখন তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি কানতারায় (সেতুতে) আটকে দেওয়া হবে। সেখানে দুনিয়ায় তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক জুলুম ও অন্যায়-অবিচার হয়েছিল তার কিসাস (বদলা) নেওয়া হবে। যখন তারা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! জান্নাতে তাদের নিজেদের আবাসের পথ দুনিয়ার আবাসের চেয়েও অধিক পরিচিত হবে।" [সহিহ বুখারি, ২৪৪০]

❑ কানতারা: জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে জান্নাতগামী সৌভাগ্যবান মুমিনদের আত্মিক পরিশুদ্ধির বিশেষ স্থান 

যেসব মুমিন পুলসিরাতের মতো ভয়াবহ সেতু অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন

তাদের পারস্পরিক মনের পরিচ্ছন্নতার জন্য কিসাসের ব্যবস্থা করা হবে। 

অধিক সওয়াবের আশায় দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যাওয়া কি শরিয়তসম্মত?

 


প্রশ্ন: যাদের বাড়ি মসজিদের নিকটবর্তী তারা কি বেশি নেকি লাভের আশায় (জুমার দিন অথবা অন্য যেকোনো দিন) রাস্তা পরিবর্তন করে দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যেতে পারবেন কিনা?

উত্তর:

ইসলাম ইবাদত ও দৈনন্দিন জীবন যাপনের সর্বক্ষেত্রে সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহিত করে। কৃত্রিম উপায়ে নিজেকে কষ্টে ফেলা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন পথ বেছে নেওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। তাই অযথা নিজের ওপর বাড়তি কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত।

এই কারণে অধিক সওয়াবের আশায় নিকটস্থ মসজিদ এড়িয়ে দূরের মসজিদে যাওয়া কিংবা অনর্থক দীর্ঘ পথ ঘুরে মসজিদে যাওয়া সমীচীন নয়।

আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

«يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا»

"তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণা ছড়িও না।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) বলেন:

Thursday, 17 September 2026

নাটক-সিনেমা নির্মাণকারী ও নায়ক-নায়িকা ও অভিনেতা এবং কলা-কুশলী ইত্যাদির প্রতি সতর্কবার্তা

 


হারাম নাটক-সিনেমা, মিউজিক ভিডিও ইত্যাদি তৈরিতে যেসব নায়ক-নায়িকা, অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, কলা-কুশলী প্রমুখগণ জড়িত তারা সকলেই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ যারা সমাজে পাপ কর্মের প্রসার ঘটায় এবং মানুষকে প্রকাশ্যে পাপাচারে উদ্বুদ্ধ করে তাদের অপরাধ অত্যন্ত ভয়ানক। আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় জগতে কঠিন শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। যেমন: মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

“যারা পছন্দ করে যে, ইমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহ ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা নূর: ১৯]

অশ্লীল, হারাম কার্যক্রম ও পাপকর্ম করা আল্লাহর নিকট ঘৃণিত এবং শাস্তিযোগ্য গুনাহ হলেও আল্লাহ চাইলে এসব গুনাহগারকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু পাপ বিস্তারে জড়িত লোকদের কোন ক্ষমা নেই।

সুতরাং আমাদের সমাজে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হারাম স্টেজ শো, কনসার্ট, গান-বাজনার প্রতিযোগিতা, ছেলে-মেয়েদের মডেলিং, মিউজিক ও নাচ-গান শিক্ষা, মিউজিক ভিডিও, অশ্লীল ওয়েব সিরিজ, নোংরা রোমান্টিক ভিডিও, নাটক-সিনেমা, কাছে আসার গল্প ইত্যাদি নানা ধরনের হারাম জিনিস বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, youtube ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা সবাই উক্ত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। কারণ তারা সমাজে অশ্লীলতা প্রসারকারী।

Friday, 11 September 2026

ইয়েমেনে হুথি মিলিশিয়ার নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র—নতুন প্রতিবেদন:

 


ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ পরিসংখ্যান:

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া বেসামরিক ইয়েমেনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৮,৯০৪টি হত্যা ও আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছে।

🔴 নিহত: ১৭,১১৫ জন (এর মধ্যে ১,৪১৪ জন নারী, ১,১৫৬ জন শিশু)

🟠 আহত: ৪১,৭৮৯ জন (এর মধ্যে ৬,৭১০ জন নারী, ৫,০২৪ জন শিশু)

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে হুথিদের পুঁতে রাখা স্থলমাইনের কারণেই ঘটেছে ১,৬৩৭টি মৃত্যু ও ৬,১৩৫টি আহতের ঘটনা — যার শিকার হয়েছে বহু শিশু ও নারী। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৭৯৮ জন (এর মধ্যে ৩৯৭ জন শিশু) স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছেন।

▪️ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে:

- মসজিদ: প্রায় ৭৫০টি (আংশিক/সম্পূর্ণ ধ্বংস, গোলাবর্ষণ ও লুটপাটসহ) — এর মধ্যে ২৯৯টি সরাসরি পরিকল্পিত ভাঙচুর/ধ্বংসের শিকার।

- মাদ্রাসা (কুরআন হিফজ প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ যৌথ হিসাব): ৭৬টি 

- সরাসরি বিস্ফোরণে ধ্বংস

ঘরবাড়ি: ১০,০০০-এর বেশি (শুধু তাইজ প্রদেশের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত/ধ্বংসপ্রাপ্ত — জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক সংখ্যা পাওয়া যায়নি)

সূত্র: ইয়েমেনি ওয়াকফ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন (২০১৭-২০২৬)

 বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাতে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বিপর্যস্ত, এই পরিসংখ্যান তারই এক করুণ প্রতিচ্ছবি। 🇾🇪💔

সূত্র: ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস / আল-আরাবিয়া।

ইরানের খোমেনি বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হয়ে একই স্টাইলে এই হুতি মিলেশিয়ারা ইয়েমেনে শিয়া বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুরু করেছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম।‌ আর এর পেছনে পূর্ণ উৎসাহ, রসদ-সামগ্রী, অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থ যোগান দিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরান। 

যার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। 

হাদি রিয়াদে আশ্রয় নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা চান, যাতে হুথি মিলিশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইয়েমেন ও তার জনগণকে রক্ষা করা যায়।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৯ বা ১০টি আরব-মুসলিম দেশের একটি জোট "অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম" (عاصفة الحزم) নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যা বর্তমানেও ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন উপজাতিগোষ্ঠীর সাথে সমন্বিত ভাবে সাথে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

আল্লাহ তায়ালা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং তাদের সাহায্যকারীদেরকে ধ্বংস করুন, ইয়েমেন এবং সে  দেশের নিরপরাধ জনগণকে হেফাজত করুন এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে আনুন প্রকৃত শান্তি। আল্লাহুম্মা আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল 

ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতী শিয়াদের আসল চেহারা

  


ভূমিকা

الْحَمْدُ لِلّهِ والصَّلاَةُ السَّلامُ عَلي رَسُوْلِ اللهِ وعَلى آلِه وصَحْبِه ومَنْ وَالَاه وبَعْدُ:


ভূমিকা: হুতী নামটি বর্তমানে অনেকের কাছে পরিচিত। যাদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বিরুদ্ধে সউদী আরবের নেতৃত্বে ‘আসিফাতুল হাযম’ নামে একটি যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাভাষী অনেকেই এই হুতী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখে না। ফলে বিভিন্ন শিয়া প্রভাবিত এবং ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়ার কারণে অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। অথচ মুসলিম বিশ্বের উপর এই ঘটনা-প্রবাহের সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ছে এবং পড়বে-তাতে কোন সন্দেহ নাই। তাই এ সম্পর্কে মুসলিম যুবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।


এই প্রেক্ষাপটে সউদী আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত কিং সউদ ইউনিভার্সিটি’র ‘আকীদা ও সমকালীন মতবাদ’ এর অধ্যাপক প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন সালিহ আল গুসন রচিত বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি অনুবাদ করা হল যেন,বাংলাভাষী মুসলিমগণ এই ফিতনার ব্যাপারে সচেতন হতে পারে।


অত্র পুস্তিকাটিতে শিয়া হুতী সম্প্রদায়ের উৎস, পরিচিতি, ক্রমবিকাশ,কার্যক্রম, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রাসাঙ্গিক ভাবে রাফেযিয়া-ইমামিয়া-ইসনা আশারিয়া সম্প্রদয়ের মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।


আল্লাহ তায়ালা তার জমিনে সত্যের পতাকা উড্ডীন করুন। বাতিল ও মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করে দিন এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।


-অনুবাদক:


আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

তারিখ: ১৯-০৪-২০১৫ইং

বইটি ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:


হুতী শিয়াদের আসল চেহারা (ওয়ার্ড)

হুতী শিয়াদের আসল চেহারা (পিডিএফ)

 

 হুতীদের উৎস ও পরিচয়

হুতীরা হল, উত্তর ইয়েমেনের সা’দাহ[1] এলাকার একটি সম্প্রদায়ের নাম। এদের উৎপত্তি জারুদীয়া সম্প্রদায় থেকে। জারুদিয়া হল, শিয়া-যায়দিয়াদের একটি গোঁড়া ও উগ্রপন্থী ফিরকা।


হুতীরা রাফেযিয়া-ইসনা আশারিয়া সম্প্রদায়ের মত উগ্রপন্থী আকীদা-বিশ্বাস প্রচার শুরু করে এবং ইরানের সাহায্য-সহযোগিতা ও আশির্বাদ পুষ্ট হয়ে শিয়া বিপ্লবের নায়ক খোমেনীর আদর্শ ও পদ্ধতির আলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করতে থাকে।


হুতী সম্প্রদায়ের পরিচয়ের আগে জারুদিয়াদের সম্পর্কে আলোকপাত করা প্রয়োজন। যাতে স্পষ্ট হয়, জারুদিয়া সম্প্রদায় ভূক্ত এই হুতী এবং রাফেযিয়া ইসনা আশারিয়াদের মাঝে কতটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে আর কিভাবে তারা ইমামিয়া-ইসনা আশারিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।


[1] ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ২৪২ কি:মি: দূরে অবস্থিত একটি জেলা।

 

 জারুদিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয়

প্রতিষ্ঠাতা: জারুদিয়ার সম্প্রদায়টির নাম করণ হয় আবুল জারুদ নামক এক ব্যক্তির নামানুসারে। তার পুরো নাম, যিয়াদ বিন মুনযির আল হামাদানী আল কূফী।

Thursday, 10 September 2026

রাত কেন্দ্রিক ২৮টি কুসংস্কার



▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

ভূমিকা: ইসলামের দৃষ্টিতে সমস্ত কল্যাণ-অকল্যাণের চাবিকাঠি রয়েছে একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। তার লিখিত তকদিরের বাইরে কেউ কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন বস্তু ও জড়পদার্থ নিজে নিজে কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন পাখির ডাক বা পশুর আওয়াজ মানুষের জন্য কল্যাণ বা অকল্যাণকর বলে বিবেচিত হতে পারে না, কোন বৈধ কাজ কখনো অশুভ হতে পারে না তা রাত বা দিন যখনই করা হোক না কেন। এটা দেখলে এই হয়..ওটা দেখলে ঐ হয় এগুলো সব কুসংস্কার ও জাহেলিয়াত পূর্ণ বিশ্বাস। ইসলাম এ সব ভ্রান্ত বিশ্বাসের কঠোর বিরোধিতা করেছে।

মূলত: মানুষের তৈরি যুক্তিহীন এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস, কথা, কাজ ও প্রথাকে সহজ বাংলায় কুসংস্কার বলা হয়।

ইসলামের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অশিক্ষা যাবতীয় কুসংস্কার সৃষ্টির মূল কারণ। মানুষ চরম অন্ধবিশ্বাসে নানা ধরণের কুসংস্কার লালন করে। সাধারণত গ্রামীণ লোকজনের মাঝে কুসংস্কারের প্রভাব ও প্রবণতা একটু বেশি লক্ষ করা যায়। তবে শহুরে লোকজন এসব থেকে মুক্ত নয়। এমনকি বহু নাম করা নায়ক, নায়িকা, গায়ক, গায়িকা, খেলোয়াড়, রাজনৈতিক নেতা, সিলিব্রিটি, লেখক সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন রয়েছে।

মৃতদেহে ধাতব প্লেট, নাট বা স্ক্রু থাকলে তা বের করা যাবে কি?

 


প্রশ্ন: কারো শরীরের ভেতরে যদি লোহা, স্টিল বা এ জাতীয় কোনও ধাতুর তৈরি প্লেট, নাট বা স্ক্রু থাকে এবং এমতাবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে কি তাকে এইসব জিনিসসহই দাফন করা হবে নাকি অপারেশন করে তা শরীর থেকে বের করে নিতে হবে? এ ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কী?

উত্তর:

শরিয়তের মূলনীতি হলো, জীবিত মানুষের মতো মৃত মানুষেরও পূর্ণ সম্মান ও হুরমত রয়েছে।যার কারণে শরিয়ত কারণ ছাড়া তার দেহ কাটাছেঁড়া করা জায়েজ নাই।। এ কারণে কোনও ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার শরীরে প্ল্যাটিনামের স্ক্রু বা লোহার প্লেট ইত্যাদি আছে তাহলে শরিয়তের বিধান হলো, তাকে তা-সহই দাফন করা হবে। এগুলো বের করার জন্য শরীর অপারেশন বা কাটাছেঁড়া করা জায়েজ হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে,

«إِنَّ كَسْرَ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا»

"মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙা জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙার মতোই।" [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬১৬]

ব্যতিক্রম কেবল তখনই, যখন ধাতুটি অন্য কারও অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হয় এবং তারা তা দাবি করে, আর তা বের করতে গিয়ে লাশের বড় কোনও বিকৃতি ঘটে না। সাধারণ চিকিৎসা সরঞ্জাম, যেমন:—লোহার নাট, স্ক্রু কিংবা পেসমেকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনও অপারেশন ছাড়াই তা-সহ দাফন সম্পন্ন করতে হবে।

Saturday, 5 September 2026

কুরআন কি আল্লাহর সৃষ্ট, নাকি অসৃষ্ট কালাম? তিলাওয়াতের আওয়াজ বা কণ্ঠস্বর, কুরআন লেখার কাগজ, কালি ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক আকিদা কী?

 


প্রশ্ন: কুরআন মাজিদের শব্দ ও অর্থ কি সৃষ্ট, নাকি আল্লাহর অসৃষ্ট কালাম? তিলাওয়াতের আওয়াজ ও লেখার কাগজ ইত্যাদি বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-এর আকিদা কী?


উত্তর:

মহাগ্রন্থ কুরআন মহান আল্লাহর কালাম (বাণী), যা তাঁর সিফাত বা গুণ। কুরআনের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ এবং তার অর্থ—সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং অসৃষ্ট। ইমাম ইবনে কুদামা আল মাকদিসি (রহ.) তাঁর "লুমআতুল ই'তিকাদ" গ্রন্থে বলেন:


مُنَزَّلٌ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ


"(কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে) অবতীর্ণ, অসৃষ্ট; তাঁর থেকে শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।" [লুমআতুল ই'তিকাদ, পৃষ্ঠা: ১৮]


এই বিশুদ্ধ আকিদাটি মূলত দুটি ভ্রান্ত মতবাদকে খণ্ডন করে:



◈ মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের মত, যাদের আকিদা হলো, কুরআন (শব্দ ও অর্থ উভয়ই) সৃষ্ট।

◈ পরবর্তী কিছু কালাম-শাস্ত্র বা যুক্তিবিদ (আশআরি-মাতুরিদি মতাবলম্বীদের একাংশ)-এর মত, যারা বলে আমরা মুখে যে কুরআন তিলাওয়াত করি তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আসল কালাম নয়; বরং আল্লাহর আসল কালাম হলো কেবল একটি অদৃশ্য "অর্থ" (কালামে নাফসি বা আল্লাহর আত্মিক বাণী)। তাদের ধারণা অনুযায়ী, আমরা মুখে যে কালাম পাঠ করি তা সেই আসল অর্থের একটি মানবীয় প্রকাশ বা অনুবাদ মাত্র, যা সৃষ্ট।

অসুস্থতার কারণে সালাত পরিত্যাগের বিধান এবং এ অবস্থায় তা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি

 


প্রশ্ন: রিয়াদ-সৌদি আরব থেকে শ্রোতা হাসান বিন হাদি প্রশ্ন করেছেন যে, কিছু রোগী অসুস্থতার সময় ফরজ সালাত আদায় করে না—হয় তা আদায়ের সামর্থ্য না থাকার কারণে অথবা এই আশা রাখার কারণে যে, সুস্থ হওয়ার পর তা কাজা করে নিবে। যে রোগী বিছানা থেকে উঠতে সক্ষম নয়, ওজু ছাড়া এবং বিছানায় শুয়ে যেদিকেই মুখ ফিরে থাকুক না কেন তার সালাত কি সহীহ হবে? অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর: 

রোগীর জন্য সালাত আদায় করা ফরজ। জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করা রোগীর সাধ্যানুযায়ী তার ওপর অপরিহার্য। এগুলো পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়। বরং তাকে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করতেই হবে। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন রোগীকে তার জিজ্ঞাসার জবাবে বলেছিলেন,

صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ

"তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, যদি সামর্থ্য না থাকে তবে বসে, আর যদি তাও সামর্থ্য না থাকে তবে কাত হয়ে (এক পাশে শুয়ে)।" [সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত]

সুনানে নাসাইর বর্ণনায় এর সাথে অতিরিক্ত এসেছে—

Monday, 31 August 2026

শিশুদের রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) করার সহজ ও সঠিক পদ্ধতি:



সন্তান আমাদের জীবনের অমূল্য আমানত। তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য পার্থিব চেষ্টার পাশাপাশি পরম করুণাময়ের ওপর ভরসা রাখা এবং সুন্নাহসম্মত উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের বিভিন্ন বালা-মুসিবত, বদনজর ও অসুস্থতা থেকে সুরক্ষায় কুরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর মাধ্যম। তাই এ বিষয়ে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা উচিত।

নিচে শিশুদের সুরক্ষায় রুকিয়ার শরিয়তসম্মত সহজ ও সঠিক পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় দোয়া (উচ্চারণ ও অর্থ সহ) উপাস্থাপন করা হলো:

❑ প্রতিরক্ষামূলক দোয়া: (ইবরাহিম আ. এর রুকিয়া)

«أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» 

উচ্চারণ: উঈযুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শাইতানিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আ'ইনিন লা-ম্মাহ। 

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমা দ্বারা তোমাকে আশ্রয় দিচ্ছি সব ধরনের শয়তান, বিষাক্ত জীবজন্তু এবং ক্ষতিকর নজর থেকে। 

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইন (রা.) এই দোয়া দিয়ে আশ্রয় দিতেন এবং বলতেন: "তোমাদের পিতা (ইবরাহিম) তার দুই সন্তান ইসমাইল ও ইসহাককে এই কালিমা দিয়ে আশ্রয় দিতেন। " [সহিহ বুখারি] 

এই দুয়াটি সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমানোর আগে পড়া যায়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা আবশ্যক নয়। শুধু পড়াই যথেষ্ট; ফুঁ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

❑ রোগ ও নজর থেকে আরোগ্যের দোয়া: (জিরাইল আ. এর রুকিয়া)

«بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ» 

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ'যিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আ’ইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লাহি আরক্বীকা। 

অর্থ: “আল্লাহর নামে তোমাকে রুকিয়া করছি সেসব জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয় সব অনিষ্টকারী আত্মা বা হিংসুকের নজর থেকে। আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দিন। আল্লাহর নামে তোমাকে রুকিয়া করছি।” 

জিবরাইল (আ.) নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দোয়া দিয়ে রুকিয়া করেছিলেন। [সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৮৬] 

এটি রুকিয়ার দোয়া। তাই পড়ার পর সাধারণ রুকিয়ার নিয়মে বাচ্চার শরীরে হালকা ফুঁ দিতে পারেন।

❑ বালা-মসিবত, বদনজর, জাদু-টোনা, জিনের আক্রমণ ইত্যাদি থেকে বাঁচার দোয়া:

Sunday, 30 August 2026

ইসলামের দৃষ্টিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের শর্তাবলী এবং মূলনীতি:📱📞

 


একথায় কোন সন্দেহ নাই যে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম। এটি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে যে, এ ছাড়া বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের জীবন যাপন কষ্টসাধ্য বা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে ইসলামিক দৃষ্টি থেকে এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের মূলনীতি এবং শর্তাবলী জানা অপরিহার্য।


📱নিচে মোবাইল ফোন ব্যবহারের শর্তাবলী এবং মূলনীতিগুলো তুলে ধরা হলো:


▪️১. বৈধ এবং কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা:

মোবাইল ফোন আল্লাহর দেওয়া এক বড় নেয়ামত। কিন্তু এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের গন্তব্য—জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এর সঠিক ব্যবহারে আমরা যেভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল কল্যাণ অর্জন করতে পারি তেমনি এর অপব্যবহারে জীবনে নেমে আসতে পারি চরম বিপর্যয়, বিশৃঙ্খলা এবং অন্ধকার।


যে প্রযুক্তি দিয়ে আমরা কুরআন তিলাওয়াত, ইলম অর্জন, ইসলামের প্রচার-প্রসার, আত্মীয়তার হক আদায় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই প্রযুক্তিই যদি হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে তবে তা ইহকাল ও পরকাল—উভয়কেই ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।


আমাদের সমাজের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেকেই এই মোবাইলকে গিবত, চোগলখুরি, হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো এবং মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

অনেকেই এর মাধ্যমে অবৈধ সম্পর্ক ও পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য পারিবারিক বন্ধন এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে রক্তপাত, হত্যাকাণ্ড সহ নানা বিশৃঙ্খলা।


এছাড়াও মোবাইল ফোনকে অশ্লীলতার প্রসার, গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং অবৈধ চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিতেই হারাম নয় বরং সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ।

অনেক যুবক অনলাইন ভিত্তিক জুয়া বা বেটিংয়ের মতো মরণফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ এগুলো সুস্পষ্ট হারাম এবং কবিরা গুনাহ।

আজকের দিনে অনলাইন গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস কিংবা অন্তহীন নাটক-সিনেমা মানুষকে এমন এক কৃত্রিম নেশায় ডুবিয়ে রেখেছে, যা তার জীবনের মূল্যবান সময়কে তিলে তিলে ধ্বংস করছে। বাস্তবতার চেয়ে ভার্চুয়াল জগত নিয়ে পড়ে থাকাটা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর পরিণাম মারাত্মক ভয়াবহ। যেমন:

সদকা নাকি উমরা: কোনটা বেশি উত্তম?

 


প্রশ্ন: যদি একই সাথে দুটি কাজ করা সম্ভব না হয় তবে উমরা করা উত্তম নাকি গরিব-অসহায়দের মাঝে দান-সদকা করা বেশি ভালো?

উত্তর:

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর। অতঃপর-

▪️ সদকা যদি ফরজ হয় (যেমন: জাকাত, মানত, মানত ভঙ্গের কাফফারা, কসম ভঙ্গের কাফফারা ইত্যাদি) তবে তা আদায় করা নফল উমরার চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি উত্তম।

তবে সাধারণ নিয়মে নফল সদকার চেয়ে নফল হজ ও উমরা করা উত্তম। কারণ উমরার মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শারীরিক ইবাদত—যেমন: তাওয়াফ, সাঈ, জিকির, সালাত ও তালবিয়ার মতো একাধিক ইবাদত একসাথে পালনের সুযোগ হয়।

▪️তবে যদি আপনার আশেপাশে এমন সমস্যাগ্রস্থ মানুষ থাকে যাদের‌ নিকট বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ বা অবলম্বন নেই কিংবা আপনার নিজের নিকটাত্মীয়রা অভাব-অনটনে ভুগছে অথচ তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার পাশাপাশি উমরা আদায় করবেন -এমন সমন্বয় করাও আপনার দ্বারা সম্ভব না হয়—তবে এই অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি উত্তম।


- হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ 'কানজুদ দাকায়িক'-এ রয়েছে:

«حَجُّ النَّفْلِ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ»

"সাধারণ দানের চেয়ে নফল হজ করা বেশি উত্তম।"

[কানযুদ দাকায়িক]

- ইমাম মালেক (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, নফল হজ নাকি সদকা—কোনটি আপনার কাছে বেশি প্রিয়? তিনি জবাবে বলেন:

«الْحَجُّ، إِلَّا أَنْ تَكُونَ سَنَةُ مَجَاعَةٍ»

"হজ করাই উত্তম। তবে দেশ যদি দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যায় তবে দান করা উত্তম।"

[মওয়াহিবুল জলীল]

- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তার 'আল ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে বলেছেন:

«وَأَمَّا إِذَا كَانَ لَهُ أَقَارِبُ مَحَاوِيجُ، فَالصَّدَقَةُ عَلَيْهِمْ أَفْضَلُ، وَكَذَا إِذَا كَانَ هُنَاكَ قَوْمٌ مُضْطَرُّونَ إِلَى نَفَقَتِهِ، فَأَمَّا إِذَا كَانَ كِلَاهُمَا تَطَوُّعًا، فَالْحَجُّ أَفْضَلُ، لِأَنَّهُ عِبَادَةٌ بَدَنِيَّةٌ مَالِيَّةٌ، وَكَذَا الْأُضْحِيَةُ وَالْعَقِيقَةُ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ بِقِيمَةِ ذَلِكَ»

"কিন্তু কারও যদি অভাবগ্রস্ত আত্মীয়স্বজন থাকে তবে তাদের সাহায্য করাই বেশি উত্তম। একইভাবে যদি এমন লোকজন থাকে যে তারা তার আর্থিক সাহায্যের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল তাহলেও তাদের দান করা উত্তম। আর যদি দুটিই সাধারণ নফল কাজ হয় (অর্থাৎ কেউ চরম বিপদে নেই) তবে হজ করাই উত্তম। কারণ এটি একই সাথে শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত। ঠিক যেমন কুরবানি ও আকিকা করা অধিক উত্তম সেগুলোর মূল্য দান করে দেওয়ার চেয়ে।"

[আল ইখতিয়ারাত]


- ইমাম শাওকানি (রহ.) 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে

«أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ فَذَكَرَ الإِيمَانَ، ثُمَّ الْجِهَادَ، ثُمَّ الْحَجَّ»

"কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমানের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর জিহাদ, এরপর হজের কথা।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম] এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:

«هُوَ حُجَّةٌ لِمَنْ فَضَّلَ حَجَّ النَّفْلِ عَلَى الصَّدَقَةِ»

"এটি সেই আলেমদের পক্ষে দলিল, যারা সাধারণ দানের চেয়ে নফল হজকে অগ্রাধিকার দেন।" [নাইলুল আওতার]

মেহেদি ও কলপের ব্যবহার: নারী-পুরুষের জন্য শরিয়তের জরুরি বিধিবিধান:

 



নারীরা স্বাভাবিকভাবেই সাজসজ্জার অংশ হিসেবে হাতে-পায়ে মেহেদি বা বিভিন্ন রং ব্যবহার করে থাকেন। এতে কোনো সমস্যা নেই আলহামদুলিল্লাহ। তবে বর্তমানে আমাদের সমাজে দেখা যায়, অনেক যুবক গায়ে হলুদ, বিয়ে, ঈদ কিংবা নানা আনন্দ-উৎসবে সাজসজ্জা করতে গিয়ে হাতে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেহেদি ব্যবহার করে থাকে। অনেকে আবার আকিকা, সুন্নতে খতনা কিংবা নিছক শখের বশে ছোট ছেলেদের হাতও মেহেদির রঙে রাঙিয়ে দেন। এছাড়া কখনো কখনো বিভিন্ন শারীরিক ব্যাধির কারণে মেহেদি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। আবার বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ চুলে এবং পুরুষরা দাড়িতে কলপ করে থাকেন।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক শরয়ি বিধান জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই বিজ্ঞ আলেমদের দলিলভিত্তিক ফতোয়ার আলোকে বিষয়গুলো সংক্ষেপে ও সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

وبالله التوفيق

▪️ নারীদের জন্য মেহেদি ব্যবহার:

সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে মেহেদি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা নারীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে বৈধ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

طِيبُ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُهُ وَخَفِيَ لَوْنُهُ، وَطِيبُ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهُ وَخَفِيَ رِيحُهُ

"পুরুষের সুগন্ধি হলো তা, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পায় কিন্তু রং গোপন থাকে। আর নারীর সুগন্ধি হলো তা, যার রং প্রকাশ পায় কিন্তু ঘ্রাণ গোপন থাকে।"

[সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ২৭৮৮ — হাসান সহিহ]


এই হাদিস থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, সৌন্দর্যবর্ধন ও রঙের মাধ্যমে নিজেকে সাজানো নারীদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আর সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়া পুরুষদের বৈশিষ্ট্য।

এটি কতই না উত্তম বিদআত! -এর অর্থ

 


উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উক্তি:

«نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ»

"এটি কতই না উত্তম বিদআত!"-এর অর্থ এবং বিদআতের প্রকারভেদ


প্রশ্ন: কেউ কেউ বলেন, বিদআতের মধ্যে বিদআতে হাসানাহ বা ভালো বিদআত ও বিদআতে সাইয়েয়াহ বা মন্দ বিদআত রয়েছে। এর দলিল হিসেবে তারা তারাবিহ সম্পর্কে উমর (রা.)-এর সেই উক্তি পেশ করেন:

«نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ»

"এটি কতই না উত্তম বিদআত!"

এই প্রকারভেদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

উত্তর:

কিছু আলেম মনে করেন, বিদআতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায় এবং তাতে শরিয়তের পাঁচটি হুকুম প্রযোজ্য হয়— হারাম, ওয়াজিব, মাকরুহ, মুস্তাহাব ও মুবাহ। একদল আলেম এ মত পোষণ করেছেন। আবার অন্য আলেমগণ এ প্রকারভেদ অস্বীকার করে বলেছেন, বিদআতের মধ্যে কোনো ভাগ নেই। বরং প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি (ভ্রষ্টতা)। মুসলিমদের নেতা ও ইমাম রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই এমনটা বলেছেন,

كل بدعة ضلالة.

—"প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি।"


কারো জন্য এর বিপরীত বলার সুযোগ নেই যে, না, সব বিদআত গোমরাহি নয়। এমনটা বলা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর একধরনের ধৃষ্টতা, যা জায়েজ নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

كُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ

"প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি।"

[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৬৭, বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)]


তিনি স্পষ্টভাবেই এ কথা বলেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন। কাজেই আমাদের বা অন্য কারও জন্য এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, বিদআতের কিছু অংশ গোমরাহি আর কিছু অংশ গোমরাহি নয়। বরং প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি।


- বিদআত কাকে বলে?


বিদআত হলো, মানুষ দ্বীনের মধ্যে যা নতুন সৃষ্টি করে, তার সবটাই গোমরাহি। যারা বিদআতকে ভাগ করার পক্ষে দলিল পেশ করেন তাদের সে দলিলে আসলে কোনো প্রমাণ নেই।


তারা 'ওয়াজিব বিদআত'-এর দলিল হিসেবে যেসব বিষয় উপস্থাপন করেন—যেমন: মুসহাফে (কুরআনে) নুকতা ও হরকত বসানো, মসজিদ নির্মাণ—এসবের কোনোটিই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এসব হলো আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশকৃত বিষয়। আল্লাহ মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, কুরআনের হেফাজত, মুখস্থকরণ ও তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হতে নির্দেশ দিয়েছেন। যা কিছু এসব কাজে সহায়ক হয় তা এই হেফাজত ও যত্নের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।


মূল কথা হলো, তারা যা উল্লেখ করেছেন তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা দ্বীনের অংশ, দ্বীন হেফাজত করার অংশ এবং নেকি ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করার অংশ।


এবার আসা যাক উমর (রা.)-এর সেই উক্তির ব্যাখ্যায়, যা তিনি বলেছিলেন যখন তিনি দেখলেন, মানুষ তাঁর নির্দেশে তারাবিহর নামাজে একত্রিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মানুষ একা একা এবং ছোট ছোট দলে নামাজ পড়ত। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েক রাত তাদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়ান, তিন রাত টানা কিয়াম করান, তারপর তা বন্ধ করে দেন এবং বলেন, "আমি আশঙ্কা করছি, তোমাদের ওপর রাতের এই নামাজ ফরজ করে দেওয়া হতে পারে।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন।


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর সিদ্দিক (রা.) মুরতাদদের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, আর সাহাবিগণও তাতে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর উমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় এলে তিনি এসব বিষয় থেকে অপেক্ষাকৃত অবসর পান। আর তাঁর শাসনকালও দীর্ঘ ছিল। তখন তিনি লক্ষ করলেন, মানুষ মসজিদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আলাদা আলাদাভাবে নামাজ পড়ছে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, সবাইকে এক ইমামের পেছনে একত্র করবেন। তিনি সাহাবি উবাই (রা.)-কে তাদের ইমামতি করার নির্দেশ দেন। এরপর একরাতে যখন তিনি বের হয়ে তাদের একত্রে নামাজরত অবস্থায় দেখলেন তখন বললেন,

نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ

"এটি কতই না উত্তম বিদআত!"

[সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১০]


এখানে তিনি একে ভাষাগত অর্থে 'বিদআত' বলেছেন, দ্বীনি অর্থে নয়। কেননা ভাষায় 'বিদআত' বলা হয় এমন কিছুকে যার পূর্বে কোনো নজির ছিল না। অর্থাৎ এর আগে মানুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নামাজ পড়ত, এক ইমামের পেছনে একত্র হতো না। যখন তিনি তাদের একত্র করলেন, তখন বললেন, "এটি কতই না উত্তম বিদআত"—যা তিনি নিজে তাদের জন্য করেছিলেন, যাতে তারা একত্রিত হয় এবং নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহায়তা করে। আর যেহেতু রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি ধারাবাহিকভাবে করেননি—মাত্র তিন রাত করে তারপর বন্ধ করে দিয়েছিলেন—তাই উমর (রা.) এ কথা বলেছিলেন। এটি তাঁর ভাষাগত ব্যবহার, শরয়ি অর্থে নয়। কাজেই শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিদআত নয় বরং তা সুন্নত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি আমল, যা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে করেছেন, খুলাফায়ে রাশিদিন—উমর ও তাঁর পরবর্তীগণ—করেছেন, সাহাবায়ে কেরাম করেছেন এবং মুসলিমগণও করে আসছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই এর প্রতি উৎসাহ দিয়ে বলেছেন,


مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا؛ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ


"যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাত জেগে নামাজ পড়বে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"

[সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫৯ — বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)]


তিনি আরও বলেছেন,

مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ؛ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ

"যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (তারাবিহ) শেষ পর্যন্ত দাঁড়াবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম করার সওয়াব লেখা হবে।"


[সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৮০৬ (হাসান সহিহ), বর্ণনাকারী: আবু যর গিফারি (রা.)]


এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারাবিহর নামাজ শরিয়তসম্মত। তাতে ইমাম ও জামাত থাকা বৈধ। এটি কোনোভাবেই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়।"


ফতওয়া প্রদান:

আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)

সাবেক প্রধান মুফতি, সৌদি আরব

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...