Sunday, 11 October 2026

জয়িফ বা দুর্বল হাদিসের পরিচয়, চেনার সহজ উপায় এবং হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মতভেদ হলে করণীয়




প্রশ্ন: দুর্বল হাদিস কাকে বলে? দুর্বল হাদিস চেনার সহজ উপায় কী?

আর কোনো হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাক্কিক আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলে করণীয় কী?

উত্তর:

🔸জঈফ হাদিস কাকে বলে?

উত্তর:

কোন হাদিসে সহিহ বা হাসান হাদিসের এক বা একাধিক শর্ত না পাওয়া গেলে তাকে জঈফ বা দুর্বল হাদিস বলে।

ইবনুস সালাহ বলেন,

الحَدِيثُ الضَّعِيفُ: مَا فَقَدَ أَحَدَ شُرُوطِ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ: أَيْ: كُلُّ حَدِيثٍ لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ شُرُوطُ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ، وَكَذَا لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ شُرُوطُ الحَدِيثِ الحَسَنِ، فَهُوَ ضَعِيفٌ، وَهُوَ أَنْوَاعٌ تَزِيدُ عَنِ الخَمْسِينَ نَوْعًا

"যে হাদিসে সহিহ হাদিসের সব শর্ত পাওয়া যায়নি এবং হাসান হাদিসের শর্তও পূর্ণ হয়নি, সেটিই জয়িফ। জয়িফ হাদিসের প্রকার পঞ্চাশের বেশি।" [মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ, পৃ. ৪১]


🔸জইফ হাদিস চেনার উপায়:


জঈফ বা দুর্বল হাদিস (اَلْحَدِيثُ الضَّعِيفُ) চেনার মূল চাবিকাঠি হলো দুটি বিষয় দেখা: সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়া অথবা বর্ণনাকারীর (রাবির) মধ্যে এমন ত্রুটি থাকা, যার কারণে হাদিসটি বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না।


কোনো হাদিস সহিহ হতে পাঁচটি শর্ত পূরণ করতে হয়:

প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নির্দিষ্ট কোনো পাপের সাথে সম্পৃক্ত করার বিধান:

 



ভূমিকম্প, টর্নেডো, পাহাড়ধস, ভূমিধস, খরা, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, দাবানল বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কোনো জাতির নির্দিষ্ট অন্যায় বা পাপের সাথে নিশ্চিতভাবে জুড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। অর্থাৎ নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, অমুক দুর্যোগ তাদের অমুক পাপাচারের কারণেই ঘটেছে।


কারণ এটি গায়েবের বিষয়, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এর পেছনে আল্লাহর এমন হিকমত রয়েছে, যা আমাদের অজানা। কেউ এমন কথা বললে তা হবে না-জানা বিষয়ে কথা বলার শামিল, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।


আল্লাহ তাআলা বলেন,


وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا


"যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হতে হবে।" [সুরা ইসরা: ৩৬]


🔹কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদা ও ইসলামি সংস্কৃতির অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিম আল-সাগিরি বলেন,

القول بأن الكوارث الطبيعية دائمًا عقاب من الله يعدّ تدخلًا في قدر الله

"প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সবসময় আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি বলা আল্লাহর কদর (সিদ্ধান্ত)-এর ওপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ।"


🔹ইসলাম ওয়েব-এ বিষয়ে বলা হয়েছে,

প্রশ্ন: সহিহ হাদিস কাকে বলে?



উত্তর:

🔸‘সহিহ’-এর পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.) বলেন:

«أَمَّا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ: فَهُوَ الْحَدِيثُ الْمُسْنَدُ الَّذِي يَتَّصِلُ إِسْنَادُهُ بِنَقْلِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ عَنِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، وَلَا يَكُونُ شَاذًّا وَلَا مُعَلَّلًا»

“সহিহ হাদিস হলো সেই মুসনাদ (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদ পৌঁছেছে এমন) হাদিস, যার সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) আদিল (ন্যায়পরায়ণ ও সৎ) ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক আদিল ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত এবং যা শায (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত) বা মুআল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) নয়।”

[মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ]

শব্দগুলোর ব্যাখ্যা:

- মুসনাদ: যার সনদ বা বর্ণনা সূত্র রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। (তবে মুসনাদের সংজ্ঞায় মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে।)

- আদিল: যে বর্ণনাকারী মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, কবিরা গুনাহ ও প্রকাশ্য ফিসক থেকে মুক্ত এবং মুরুআত (ব্যক্তিত্ব ও শিষ্টাচার) বিরোধী কাজ থেকে বিরত।

- শায: কোনো গ্রহণযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী যদি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বা সংখ্যায় বেশি বর্ণনাকারীর বিপরীত বর্ণনা করেন তাহলে সেই বর্ণনা শায।

- মুআল্লাল: যে হাদিসের সনদ বা মতনে এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ত্রুটি (ইল্লত) আছে, যা বাহ্যিকভাবে সহিহ মনে হলেও গভীর অনুসন্ধানে ধরা পড়ে।

🔸 হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন:

«وَخَبَرُ الآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ، مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ: هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ»

 “যে খবরে আহাদ ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ আয়ত্তশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারীর মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন সনদ পরম্পরায় বর্ণিত হয় এবং মুআল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) ও শায (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত) নয়, সেটিই সহিহ লি-যাতিহি।”

[নুখবাতুল ফিকার]

উল্লেখ্য যে, হাফেজ ইবনে হাজার নুখবাতুল ফিকার-এ খবরকে প্রথমে মুতাওয়াতির ও আহাদে ভাগ করেছেন। মুতাওয়াতিরের বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত বেশি যে তাঁদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। তাই এর সত্যতা প্রমাণে আদালত, জব্‌ত ইত্যাদি শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজন পড়ে না। এসব শর্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে খবরে আহাদের ক্ষেত্রে। তাই তিনি আহাদের আলোচনায় এই সংজ্ঞা দিয়েছেন। 

🔹মোটকথা: হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য ৫টি শর্ত থাকা আবশ্যক। যথা:

১. অবিচ্ছিন্ন সনদ: হাদিসটি এমন অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়া, যার কোথাও একজন বর্ণনাকারীও বাদ পড়েননি।

২. আদালত: সনদের প্রত্যেক বর্ণনাকারী সততা ও ন্যায়নিষ্ঠায় প্রশ্নাতীত হওয়া।

৩. পূর্ণ আয়ত্তশক্তি (জব্‌ত): বর্ণনাকারী পূর্ণ আয়ত্তশক্তির অধিকারী হওয়া, অর্থাৎ হাদিস সংরক্ষণে কোনো ত্রুটি না থাকা, চাই তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে হোক বা লিখে রাখার ক্ষেত্রে।

৪. শায না হওয়া: বর্ণনাকারীর বর্ণনা তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপরীত না হওয়া।

৫. মুআল্লাল না হওয়া: হাদিস বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সনদ বা মতনে কোনো গোপন ত্রুটি ধরা না পড়া।

— আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল মাদানি

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

Saturday, 10 October 2026

হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া জায়েজ আছে কি?

'image.png' failed to upload. TransportError: Error code = 7, Path = /u/2/_/BloggerUi/data/batchexecute, Message = There was an error during the transport or processing of this request., HTTP status = 0, Unknown HTTP error (HTTP Status: 0) (XHR Error Code: 6) (XHR Error Message: ' [0]')


উত্তর:

হিন্দুরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ করে। তা হল, মূর্তিপূজা। এটি হল, শিরক। শিরক এত ভয়ানক অপরাধ যাতে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হন এবং এই অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না বলে দ্ব্যর্থ হীন ভাবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।" [সূরা নিসা: ৪৮]

সুতরাং কোনও মুসলিমের জন্য জঘন্য শিরকের কাজে কোনও ভাবেই সহায়তা করা বৈধ নয়। অত:এব হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়াও দেওয়া যাবে না।

মোটকথা, পূজার কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনও বস্তু বা উপকরণ তাদের কাছে বিক্রয় করা বা ভাড়া দেওয়া বৈধ নয়। কারণ তা শিরকের কাজে সহায়তার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

"সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।" [সূরা মায়িদা: ২] 

আর এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, মূর্তি পূজা ও শিরক হল, সবচেয়ে বড় পাপ ও সীমালঙ্ঘন।

তবে সিসি ক্যামেরা ভাড়া দেওয়া যেতে পারে। কারণ তা মুসলিম-হিন্দু সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় কিছু স্বার্থান্বেষী অমুসলিম মুসলিম সেজে পূজা মণ্ডপে আক্রমণ চালিয়ে মুসলিমদের উপর তার দোষ চাপিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরা থাকলে হয়ত এমন চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে এতে কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ।

Friday, 9 October 2026

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান



”হে ইমানদারগণ, জুমুআর নামাযের জন্য আযান দেয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে তাড়াতাড়ি ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর।” (সূরা জুমুআ: ৯)

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান

সুপ্রিয় ভাই, আমরা জানি জুমার দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটি অনেক তাৎপর্য বহন করে। এর রয়েছে অনেক ফযীলত ও মর্যাদা। রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। নিন্মে উক্ত বিষয়গুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জানা ও মানার তাওফীক দান করুন। আমীন

সর্বশ্রেষ্ঠ দিন কোনটি এবং কেন?من فضائل يوم الجمعة

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “…সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বাহির করা হয়। আর এই দিন ছাড়া অন্য কোন দিনে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না।” (মুসলিম, তাহ:মিশকাত হা:নং ১৩৫৬)

 জুমার সলাতের গুরুত্ত্ব। وجوب صلاة الجمعة

হযরত আবুল জা’দ জমারী (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,“অলসতা-অবহেলা করে যে ব্যক্তি তিন জুমাহ পরিহার করবে আল্লাহ তায়ালা তার ক্বলবে মহর মেরে দিবেন।” (আবুদাউদ,তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজা, দারেমী, হা:সহীহ, মিশকাত হা:নং ১৩৭১)

Thursday, 8 October 2026

সালাতে মনস্থির রাখার কার্যকরী ১২ টি উপায়



প্রশ্ন: সালাতে মনে বিনয়-নম্রতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং মনস্থির রাখার উপায় গুলো কী কী?

উত্তর:

ভয়ভীতি ও বিনয়-নম্রতা সহকারে স্থিরচিত্তে সালাত আদায় করা মুমিনের চূড়ান্ত সাফল্যের সোপান। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ- الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ 

"মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে যারা ভয়ভীতি সহকারে বিনম্র চিত্তে সালাত আদায় করে।" [সূরা মুমিনূন: ১ ও ২]

নিম্নে সালাতরত অবস্থায় মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি ও মনস্থির রাখার কতিপয় উপায় তুলে ধরা হল:

◈ ১. সালাতের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশান্ত মনে আগেভাগে মসজিদে আসা।

◈ ২. সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা।

আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اذكرِ الموتَ في صلاتِك، فإنَّ الرجلَ إذا ذَكر الموتَ في صلاتِه لحريٌّ أن يُحسنَ صلاتَه

"সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ কর। কেননা মানুষ যখন সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তখন সে তার সালাতকে সুন্দর ভাবে আদায় করতে সক্ষম হয়। ” [সনদ হাসান, সিলসিলা সহীহাহ/২৮৩৯]

প্রতি মাসে কুরআন খতম করা: একটি অবহেলিত সুন্নাহ

 


প্রশ্ন: প্রতি মাসে অন্তত একবার কুরআন কারিম শেষ করা কি সুন্নাহসম্মত?

উত্তর: 

হ্যাঁ, প্রতি মাসে অন্তত একবার পুরো কুরআন খতম করা একটি বরকতময় আমল, যার ভিত্তি সহিহ হাদিসে আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর আগ্ৰহ ও আমলের আধিক্য জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রতি মাসে একবার খতম করার নির্দেশনা দেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَأِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي عِشْرِينَ لَيْلَةً»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ وَلَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ»

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো।" 

আমি বললাম: "আমার এর চেয়ে বেশি পড়ার শক্তি আছে।" 

তিনি বললেন: "তাহলে বিশ রাতে খতম করো।" 

আমি আবার বললাম: "আমার আরও শক্তি আছে।" 

Wednesday, 7 October 2026

খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের সময় সর্বক্ষেত্রে বাম হাত ব্যবহার নিষিদ্ধ :



প্রশ্ন : আমরা জানি হাদিসে বাম হাত দিয়ে পানি পান করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ভাত খেতে খেতে যদি পানি পান করতে হয় তখন তো ডান হাত দিয়ে পান করা যায় না। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

উত্তর : হাদিসে বাম হাতে পানাহার করাকে নিষেধ করার পাশাপাশি এটিকে শয়তানের কর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একাধিক হাদিসে পানাহারের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে।

তাই খাদ্য-পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই বাম হাত ব্যবহার করা জায়েজ নেই। 

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ ডান হাতে খাদ্য গ্রহণের সময় বাম হতে পানি পান করে। কেউ কেউ তো সরাসরি বাম হাতেই খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে। এগুলো সবই হারাম কাজ।

আবার অনেকেই খাদ্য গ্রহণের সময় বাম হাতে গ্লাস ধরে ডান হাতটা সামান্য একটু গ্লাসের সাথে লাগায়। এটাও জায়েজ নেই। কেননা তা মূলত বাম হাতে পান করারই অন্তর্ভুক্ত। কারণ গ্লাসটা তার বাম হাতেই রয়েছে।

তবে প্রয়োজন বোধে এর বিপরীতটা জায়েজ। অর্থাৎ ডান হাতে গ্লাস ধরে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া। এতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ।

সুতরাং ওয়ান টাইম গ্লাস বা ব্যক্তিগত গ্লাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি ডান হাত ব্যবহার করা কর্তব্য। 

কিন্তু যদি একাধিক ব্যক্তি একটি মাত্র গ্লাস ব্যবহার করে এবং ডান হাতে খাবার লেগে থাকার কারণে গ্লাস নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যা অন্যের অরুচির কারণ হতে পারে) তাহলে গ্লাসটা হাতের তালু বা তালুর উপরিভাগে রেখে কিংবা আঙ্গুল ভালোভাবে চেটে পরিষ্কার করে ডান হাত দ্বারা গ্লাস ধরবে।

মোটকথা, সর্বক্ষেত্রে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের সময় ডান হাত ব্যবহার করবে। প্রয়োজন বোধে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া যাবে। কিন্তু বাম হাতে গ্লাস ধরে ডান হাতের একটু সাহায্য নিয়ে পান করা মূলত বাম হাতে পান করারই নামান্তর। সুতরাং তা করা যাবে না।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরো পড়ুন :

পানাহার ও খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত সকল লিংক এক সাথে

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1338532856566256&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

উত্তর প্রদানে :

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। 

বারবার বেড়াতে আসা বন্ধু-আত্মীয়দের মেহমানদারির শরয়ি বিধান

 


প্রশ্ন: হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে।” তাহলে যেসব বন্ধু বা আত্মীয় প্রতি সপ্তাহে বা ঘন ঘন একাধিকবার বেড়াতে আসেন তাঁদের মেহমানদারির ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম কী?

উত্তর:

 মেহমানের সম্মান ও আপ্যায়ন কেবল সামাজিক সৌজন্য বা ভদ্রতার বিষয় নয়; ইসলামি জীবনবিধানে এটি চমৎকার চরিত্র গঠন ও সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধনের এক অনুপম ভিত্তি। শরিয়তের দৃষ্টিতে মেহমানদারি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, একে সরাসরি ইমানের পরিপূর্ণতার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু শুরাইহ আল-খুজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

> "مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ"

 "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের বিশেষ যত্ন ও আপ্যায়ন একদিন ও একরাত, আর সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। এরপরও যা করা হবে, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

অধিকাংশ ফকিহ ও আলেমগণের মতে, মেহমানদারি করা সুন্নত ও একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে দূর থেকে আসা কোনো মুসাফির বা বিপদে পড়া পথিকের জন্য আশ্রয় ও খাবারের সংস্থান করার গুরুত্ব শরিয়তে আরও অনেক বেশি।

হাদিসে একদিন বা তিন দিন আপ্যায়নের যে কথা এসেছে, তা মূলত দূর থেকে আসা মেহমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা মেজবানের বাড়িতে রাত্রিযাপন বা অবস্থান করেন। অন্যদিকে যেসব বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন কাছাকাছি থাকেন এবং কিছুক্ষণের জন্য সাক্ষাৎ করতে এসে চলে যান তাঁদের জন্য প্রতিবারই বিশেষ আপ্যায়ন করা জরুরি নয়। এমন মেহমানদের ক্ষেত্রে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানানো, সুন্দর আচরণ করা এবং ঘরে যা সাধারণ খাবার রয়েছে তা দিয়েই সাধ্যমতো সামান্য আপ্যায়ন করাই মেহমানদারির হক আদায়ের জন্য যথেষ্ট। তবে তারা আত্মীয়-স্বজন হলে মেহমানদারির পাশাপাশি 'সিলাতুর রাহিম' বা রক্ত সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের হক দ্বগুণ। মেহমাদারি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক।

মেজবানের জন্য কৃত্রিম লৌকিকতা বা নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়; বরং ঘরে যা সহজলভ্য আছে তা-ই বিনয়ের সাথে সামনে উপস্থাপন করা সুন্নাত। বারবার আসা-যাওয়ার কারণে মেজবানের যদি সত্যিই কোনো পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা আর্থিক অসুবিধা হয় তবে অসন্তুষ্ট বা বিরক্ত না হয়ে ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় তাঁদের সময় ঠিক করে আসতে বলা কিংবা সাময়িক অসমর্থতার কথা জানিয়ে দেওয়া জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ হবে না।

পাশাপাশি ইসলামি নীতিমালায় মেহমানের ওপরেও কিছু শিষ্টাচার ও দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। মেহমানের উচিত মেজবানের সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখা, না জানিয়ে হঠাৎ উপস্থিত না হওয়া, অসময়ে বা অতি ঘন ঘন যাতায়াত করে মেজবানকে বিব্রত না করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে কাউকে কষ্ট না দেওয়া। হাদিসের অন্য বর্ণনায় মেজবানকে কোনো কষ্টে ফেলা থেকে মেহমানকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

আবু শুরাইহ আল-খুজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

"وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَقِيمَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ"

"আর কোনো মেহমানের জন্য তার মেজবানের কাছে এত দীর্ঘ সময় অবস্থান করা বৈধ নয় যাতে সে মেজবানকে সংকটে বা কষ্টে ফেলে দেয়।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় হাদিসের শেষ অংশটি আরেকটু স্পষ্টভাবে এভাবে এসেছে:

"وَلاَ يَحِلُّ لِلْمُسْلِمِ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يُؤْثِمَهُ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يُؤْثِمُهُ؟ قَالَ: يُقِيمُ عِنْدَهُ وَلاَ شَيْءَ لَهُ يُقْرِيهِ بِهِ"

"কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের কাছে এত দিন থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গুনাহগার করে ফেলে। সাহাবিগণ আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে তাকে কীভাবে গুনাহগার করবে? তিনি বললেন: সে তার কাছে অবস্থান করতেই থাকে অথচ মেজবানের কাছে এমন কিছু থাকে না যা দিয়ে সে তার আপ্যায়ন করবে।" [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮]

সারকথা হলো, ঘন ঘন আসা বন্ধু-আত্মীয়দের সম্মান ও আপ্যায়ন করা প্রশংসনীয় উত্তম কাজ হলেও প্রতিবার বিশেষ ও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন শরিয়তে বাধ্যতামূলক নয়। মেজবান কৃত্রিমতা বর্জন করে আন্তরিক থাকবেন এবং মেহমানও মেজবানের স্বাচ্ছন্দ্যের বিবেচনা রাখবেন—তাহলেই পারস্পরিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন। 

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব। 

Tuesday, 6 October 2026

বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল আদায় করার বিধান




প্রশ্ন: অনেকে বলে যে, বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল সালাত পড়তে হয়, যাকে 'হালকি নফল' বলা হয়। তারা বলে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাকি বিতর সালাতের পর বসে বসে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন। আমি জানতে চাচ্ছি, এই হাদিসটি কি সহিহ? আমরা কি এর ওপর আমল করতে পারি?

উত্তর:

রাতের সালাতের সাধারণ নিয়ম হলো, বিতরই হবে রাতের সর্বশেষ সালাত। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا

"তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত বানাও।" [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫১]

তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো কখনো বিতরের পরেও বসে বসে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করেছেন। তবে এটি তাঁর নিয়মিত অভ্যাস ছিল না।


এ প্রসঙ্গে ইমাম নওয়াবি (রাহ.) বলেন,“বিতর পড়ার পরও যে কেউ চাইলে কিছু নফল সালাত আদায় করতে পারে। এর বৈধতা দেখানোর জন্যই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সাধারণ ও নিয়মিত নিয়ম ছিল বিতর পড়ার পর আর কোনো সালাত না পড়া।


একই সঙ্গে, বসে নফল সালাত আদায় করা যে জায়েজ, এই আমলের মাধ্যমে তাও প্রমাণিত হয়। বিতরের পর বসে দুই রাকাত নফল পড়ার এই হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৩৮]

মাইকের মাধ্যমে উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত বাজানো কতটুকু শরিয়ত সম্মত?

 


▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬

প্রশ্ন: বর্তমানে লকডাউন অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব জায়গায় মাইকের মাধ্যমে সারাদিন কুরআন তিলাওয়াত বাজানোা হচ্ছে বা  কুরআন খতম দেয়া হচ্ছে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত বা যৌক্তিক?

উত্তর:

◯ ১) করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে যদি কোরআন খতম করা হয় বা কুরআন তিলাওয়াত চালু রাখা হয় তাহলে তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা বিপদ, বিপর্যয়, রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করা বা উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশনা ইসলামে নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন নতুন জিনিষ চালু করল তা পরিত্যাজ্য। (বুখারী, অধ্যায়: সন্ধি-চুক্তি।)

আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে:

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ব্যাপারে আমার নির্দেশ নাই তা প্রত্যাখ্যাত।" (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: বিচার-ফয়সালা)

Saturday, 3 October 2026

ঘরে খেলনার পুতুল থাকলে সালাত আদায়ের সময় করণীয় কী এবং এগুলো ঘরে থাকার দায় কার উপর বর্তাবে?



প্রশ্ন: আমার ছোট ভাই বোন তারা পুতুল দিয়ে খেলা করে কিন্তু পুতুল ঘরে থাকলে তো ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আমি চাইলেও পুতুল গুলো সরাতে পারবো না এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? আমি শুনেছি ফজর এবং মাগরিবের ওয়াক্তে রহমতের ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ করে তাই ঐ সময়ে পুতুল গুলো লুকিয়ে রাখলে যথেষ্ট হবে কি?

আর যে ঘরে নামাজ পড়বো ঐ ঘরে পুতুল থাকলে কি কোনও সমস্যা আছে?

উত্তর:

ঘরে কোন প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রাখা জায়েজ নেই। ঠিক তদ্রূপ বাচ্চাদের খেলনা পুতুলও রাখা জায়েজ নেই। (অবশ্য যদি সেগুলোর নাক, চোখ, মুখ, কান ইত্যাদি অবয়বগুলো মুছে দেওয়া হয় তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ)।। হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, আবু ত্বলহা রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

"‏ لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ ‏"

"যে ঘরে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে সেই ঘরে (আল্লাহর রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।” [সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৭৭/ পোশাক, পরিচ্ছেদ: ৭৭/৮৮. ছবি সম্পর্কিত]

তাই অনতিবিলম্বে এগুলো থেকে ঘরবাড়িকে পরিষ্কার করা আবশ্যক। অন্যথায় বাড়ির প্রধান কর্তা ব্যক্তি এ জন্য গুনাহগার হবে। আপনার দ্বারা যদি সেগুলো ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্ভব না হয় তাহলে এতে আপনি গুনাহগার হবেন না ইনশাআল্লাহ। কেননা তা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যে ঘরে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রয়েছে সে ঘরেও সালাত শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উত্তম হলো, এসব থেকে মুক্ত অন্য কোনও ঘরে সালাত আদায় করা। কমপক্ষে সালাতের সময় এসব জিনিস কাপড় বা কোন কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

➤ আর‌ও পড়ুন :

✪ ঘরে প্রাণীর ছবি, কার্টুন, প্রতিকৃতি বা মূর্তি থাকলে সে ঘরে সালাত আদায় করার বিধান

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=403754580044093&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

✪ টিনের চালে গরু, উট, মোরগ ইত্যাদির ছবি থাকলে করণীয় এবং এমন ছবিযুক্ত ঘরে সালাত আদায়ের বিধান

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1157054421380768&id=235040300248856&mibextid=Nif5oz

উত্তর প্রদানে:

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অপরিহার্যতা ও পদ্ধতি

 


প্রশ্ন: কীভাবে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা'আলার জন্য উত্তম উপায়ে শুকরিয়া আদায় করতে পারি? যে নিয়ামতগুলোর মধ্যে আছি, সুন্দরভাবে শুকরিয়া আদায় করলে অন্তর প্রশান্ত হবে? জাযাকাল্লাহু খাইরান।

উত্তর:

আল্লাহতালা অসংখ্য নেয়ামত দ্বারা আমাদের জীবনকে ঋদ্ধ করেছেন। আমরা প্রতি মুহূর্তে তার নেয়ামত ভোগ করছি। তাই আমাদের কর্তব্য, মহান রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা। 

আমরা আল্লাহর যত বেশি শুকরিয়া আদায় করব তিনি তত বেশি আমাদেরকে দান করবেন। কিন্তু অকৃতজ্ঞ হলে রয়েছে কঠিন শাস্তি। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, 

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ

" যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।" [সূরা ইব্রাহিম: ৭]

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তার শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলেন,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

Friday, 2 October 2026

গর্ভবতী নারীর তালাকের ইদ্দত কত দিন?



প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে এবং তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে। মেয়েটি এখন ছয় মাসের গর্ভবতী; সন্তান প্রসবে আরও চার-পাঁচ মাস বাকি। এই অবস্থায় মেয়েটির ইদ্দত কি তিন হায়েজ হবে, নাকি সন্তান প্রসব হলে ইদ্দত শেষ হবে?

উত্তর:

গর্ভবতী নারীর ইদ্দত তিন হায়েজ নয় বরং তার ইদ্দত শেষ হবে, সন্তান প্রসব হওয়ার মাধ্যমে সময় কম বা বেশি যাই হোক না কেন।

সুতরাং প্রসবের আরো চার-পাঁচ মাস বা তারও বেশি সময় বাকি থাকলেও এই বিধানে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ সন্তান প্রসব হওয়ার পরেই ইদ্দত শেষ হবে।

✪ আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَ

"আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।" [সুরা তালাক: ৪]

তিন হায়েজের বিধান হলো যাদের গর্ভ নেই তাদের জন্য। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আয়াতটি সুস্পষ্ট ও সাধারণ (আম)। তাই তালাকপ্রাপ্তা গর্ভবতী নারীও এর অন্তর্ভুক্ত।

✪ হাদিসে এসেছে,

عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ، فَجَاءَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَاسْتَأْذَنَتْهُ أَنْ تَنْكِحَ، فَأَذِنَ لَهَا فَنَكَحَتْ

"সুবাইআ আল-আসলামিয়্যা (রা.) স্বামীর মৃত্যুর কয়েক রাত পরেই সন্তান প্রসব করেন। এরপর তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিবাহের অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন এবং তিনি বিবাহ করলেন।" [সহিহ বুখারি: ৫৩২০]

একটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নত: উপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার এবং নিচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ পাঠ করা:



প্রশ্ন: উঁচু স্থানে উঠার সময় 'আল্লাহু আকবার' এবং নিচু স্থানে নামার সময় 'সুবহানাল্লাহ' পাঠ করা সুন্নত। ঘরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা বা নামার ক্ষেত্রেও কি তা সুন্নত?

উত্তর:

উঁচু স্থানে উঠতে আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ স্বরূপ ‘আল্লাহু আকবার’ এবং নীচে নামতে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা সুন্নত। প্রখ্যাত সাহাবি জাবির রা. বলেন,

كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا وَإِذَا نَزَلْنَا سَبَّحْنَا 

"আমরা যখন উপরের দিকে উঠতাম, ‘আল্লাহু আকবার’ ও যখন নীচের দিকে নামতাম তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতাম।" [বুখারি, হা/২৯৯৩]

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَجُيُوشُهُ إِذَا عَلَوا الثَّنَايَا كَبَّرُوا، وَإِذَا هَبَطُوا سَبَّحُوا  

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...