Saturday, 5 September 2026

কুরআন কি আল্লাহর সৃষ্ট, নাকি অসৃষ্ট কালাম? তিলাওয়াতের আওয়াজ বা কণ্ঠস্বর, কুরআন লেখার কাগজ, কালি ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক আকিদা কী?

 


প্রশ্ন: কুরআন মাজিদের শব্দ ও অর্থ কি সৃষ্ট, নাকি আল্লাহর অসৃষ্ট কালাম? তিলাওয়াতের আওয়াজ ও লেখার কাগজ ইত্যাদি বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-এর আকিদা কী?


উত্তর:

মহাগ্রন্থ কুরআন মহান আল্লাহর কালাম (বাণী), যা তাঁর সিফাত বা গুণ। কুরআনের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ এবং তার অর্থ—সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং অসৃষ্ট। ইমাম ইবনে কুদামা আল মাকদিসি (রহ.) তাঁর "লুমআতুল ই'তিকাদ" গ্রন্থে বলেন:


مُنَزَّلٌ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ


"(কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে) অবতীর্ণ, অসৃষ্ট; তাঁর থেকে শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।" [লুমআতুল ই'তিকাদ, পৃষ্ঠা: ১৮]


এই বিশুদ্ধ আকিদাটি মূলত দুটি ভ্রান্ত মতবাদকে খণ্ডন করে:



◈ মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের মত, যাদের আকিদা হলো, কুরআন (শব্দ ও অর্থ উভয়ই) সৃষ্ট।

◈ পরবর্তী কিছু কালাম-শাস্ত্র বা যুক্তিবিদ (আশআরি-মাতুরিদি মতাবলম্বীদের একাংশ)-এর মত, যারা বলে আমরা মুখে যে কুরআন তিলাওয়াত করি তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আসল কালাম নয়; বরং আল্লাহর আসল কালাম হলো কেবল একটি অদৃশ্য "অর্থ" (কালামে নাফসি বা আল্লাহর আত্মিক বাণী)। তাদের ধারণা অনুযায়ী, আমরা মুখে যে কালাম পাঠ করি তা সেই আসল অর্থের একটি মানবীয় প্রকাশ বা অনুবাদ মাত্র, যা সৃষ্ট।

অসুস্থতার কারণে সালাত পরিত্যাগের বিধান এবং এ অবস্থায় তা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি

 


প্রশ্ন: রিয়াদ-সৌদি আরব থেকে শ্রোতা হাসান বিন হাদি প্রশ্ন করেছেন যে, কিছু রোগী অসুস্থতার সময় ফরজ সালাত আদায় করে না—হয় তা আদায়ের সামর্থ্য না থাকার কারণে অথবা এই আশা রাখার কারণে যে, সুস্থ হওয়ার পর তা কাজা করে নিবে। যে রোগী বিছানা থেকে উঠতে সক্ষম নয়, ওজু ছাড়া এবং বিছানায় শুয়ে যেদিকেই মুখ ফিরে থাকুক না কেন তার সালাত কি সহীহ হবে? অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর: 

রোগীর জন্য সালাত আদায় করা ফরজ। জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করা রোগীর সাধ্যানুযায়ী তার ওপর অপরিহার্য। এগুলো পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়। বরং তাকে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করতেই হবে। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন রোগীকে তার জিজ্ঞাসার জবাবে বলেছিলেন,

صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ

"তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, যদি সামর্থ্য না থাকে তবে বসে, আর যদি তাও সামর্থ্য না থাকে তবে কাত হয়ে (এক পাশে শুয়ে)।" [সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত]

সুনানে নাসাইর বর্ণনায় এর সাথে অতিরিক্ত এসেছে—

Monday, 31 August 2026

শিশুদের রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) করার সহজ ও সঠিক পদ্ধতি:



সন্তান আমাদের জীবনের অমূল্য আমানত। তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য পার্থিব চেষ্টার পাশাপাশি পরম করুণাময়ের ওপর ভরসা রাখা এবং সুন্নাহসম্মত উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের বিভিন্ন বালা-মুসিবত, বদনজর ও অসুস্থতা থেকে সুরক্ষায় কুরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর মাধ্যম। তাই এ বিষয়ে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা উচিত।

নিচে শিশুদের সুরক্ষায় রুকিয়ার শরিয়তসম্মত সহজ ও সঠিক পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় দোয়া (উচ্চারণ ও অর্থ সহ) উপাস্থাপন করা হলো:

❑ প্রতিরক্ষামূলক দোয়া: (ইবরাহিম আ. এর রুকিয়া)

«أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» 

উচ্চারণ: উঈযুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শাইতানিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আ'ইনিন লা-ম্মাহ। 

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমা দ্বারা তোমাকে আশ্রয় দিচ্ছি সব ধরনের শয়তান, বিষাক্ত জীবজন্তু এবং ক্ষতিকর নজর থেকে। 

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইন (রা.) এই দোয়া দিয়ে আশ্রয় দিতেন এবং বলতেন: "তোমাদের পিতা (ইবরাহিম) তার দুই সন্তান ইসমাইল ও ইসহাককে এই কালিমা দিয়ে আশ্রয় দিতেন। " [সহিহ বুখারি] 

এই দুয়াটি সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমানোর আগে পড়া যায়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা আবশ্যক নয়। শুধু পড়াই যথেষ্ট; ফুঁ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

❑ রোগ ও নজর থেকে আরোগ্যের দোয়া: (জিরাইল আ. এর রুকিয়া)

«بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ» 

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ'যিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আ’ইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লাহি আরক্বীকা। 

অর্থ: “আল্লাহর নামে তোমাকে রুকিয়া করছি সেসব জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয় সব অনিষ্টকারী আত্মা বা হিংসুকের নজর থেকে। আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দিন। আল্লাহর নামে তোমাকে রুকিয়া করছি।” 

জিবরাইল (আ.) নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দোয়া দিয়ে রুকিয়া করেছিলেন। [সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৮৬] 

এটি রুকিয়ার দোয়া। তাই পড়ার পর সাধারণ রুকিয়ার নিয়মে বাচ্চার শরীরে হালকা ফুঁ দিতে পারেন।

❑ বালা-মসিবত, বদনজর, জাদু-টোনা, জিনের আক্রমণ ইত্যাদি থেকে বাঁচার দোয়া:

Sunday, 30 August 2026

ইসলামের দৃষ্টিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের শর্তাবলী এবং মূলনীতি:📱📞

 


একথায় কোন সন্দেহ নাই যে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম। এটি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে যে, এ ছাড়া বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের জীবন যাপন কষ্টসাধ্য বা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে ইসলামিক দৃষ্টি থেকে এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের মূলনীতি এবং শর্তাবলী জানা অপরিহার্য।


📱নিচে মোবাইল ফোন ব্যবহারের শর্তাবলী এবং মূলনীতিগুলো তুলে ধরা হলো:


▪️১. বৈধ এবং কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা:

মোবাইল ফোন আল্লাহর দেওয়া এক বড় নেয়ামত। কিন্তু এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের গন্তব্য—জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এর সঠিক ব্যবহারে আমরা যেভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল কল্যাণ অর্জন করতে পারি তেমনি এর অপব্যবহারে জীবনে নেমে আসতে পারি চরম বিপর্যয়, বিশৃঙ্খলা এবং অন্ধকার।


যে প্রযুক্তি দিয়ে আমরা কুরআন তিলাওয়াত, ইলম অর্জন, ইসলামের প্রচার-প্রসার, আত্মীয়তার হক আদায় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই প্রযুক্তিই যদি হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে তবে তা ইহকাল ও পরকাল—উভয়কেই ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।


আমাদের সমাজের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেকেই এই মোবাইলকে গিবত, চোগলখুরি, হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো এবং মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

অনেকেই এর মাধ্যমে অবৈধ সম্পর্ক ও পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য পারিবারিক বন্ধন এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে রক্তপাত, হত্যাকাণ্ড সহ নানা বিশৃঙ্খলা।


এছাড়াও মোবাইল ফোনকে অশ্লীলতার প্রসার, গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং অবৈধ চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিতেই হারাম নয় বরং সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ।

অনেক যুবক অনলাইন ভিত্তিক জুয়া বা বেটিংয়ের মতো মরণফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ এগুলো সুস্পষ্ট হারাম এবং কবিরা গুনাহ।

আজকের দিনে অনলাইন গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস কিংবা অন্তহীন নাটক-সিনেমা মানুষকে এমন এক কৃত্রিম নেশায় ডুবিয়ে রেখেছে, যা তার জীবনের মূল্যবান সময়কে তিলে তিলে ধ্বংস করছে। বাস্তবতার চেয়ে ভার্চুয়াল জগত নিয়ে পড়ে থাকাটা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর পরিণাম মারাত্মক ভয়াবহ। যেমন:

সদকা নাকি উমরা: কোনটা বেশি উত্তম?

 


প্রশ্ন: যদি একই সাথে দুটি কাজ করা সম্ভব না হয় তবে উমরা করা উত্তম নাকি গরিব-অসহায়দের মাঝে দান-সদকা করা বেশি ভালো?

উত্তর:

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর। অতঃপর-

▪️ সদকা যদি ফরজ হয় (যেমন: জাকাত, মানত, মানত ভঙ্গের কাফফারা, কসম ভঙ্গের কাফফারা ইত্যাদি) তবে তা আদায় করা নফল উমরার চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি উত্তম।

তবে সাধারণ নিয়মে নফল সদকার চেয়ে নফল হজ ও উমরা করা উত্তম। কারণ উমরার মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শারীরিক ইবাদত—যেমন: তাওয়াফ, সাঈ, জিকির, সালাত ও তালবিয়ার মতো একাধিক ইবাদত একসাথে পালনের সুযোগ হয়।

▪️তবে যদি আপনার আশেপাশে এমন সমস্যাগ্রস্থ মানুষ থাকে যাদের‌ নিকট বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ বা অবলম্বন নেই কিংবা আপনার নিজের নিকটাত্মীয়রা অভাব-অনটনে ভুগছে অথচ তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার পাশাপাশি উমরা আদায় করবেন -এমন সমন্বয় করাও আপনার দ্বারা সম্ভব না হয়—তবে এই অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি উত্তম।


- হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ 'কানজুদ দাকায়িক'-এ রয়েছে:

«حَجُّ النَّفْلِ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ»

"সাধারণ দানের চেয়ে নফল হজ করা বেশি উত্তম।"

[কানযুদ দাকায়িক]

- ইমাম মালেক (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, নফল হজ নাকি সদকা—কোনটি আপনার কাছে বেশি প্রিয়? তিনি জবাবে বলেন:

«الْحَجُّ، إِلَّا أَنْ تَكُونَ سَنَةُ مَجَاعَةٍ»

"হজ করাই উত্তম। তবে দেশ যদি দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যায় তবে দান করা উত্তম।"

[মওয়াহিবুল জলীল]

- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তার 'আল ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে বলেছেন:

«وَأَمَّا إِذَا كَانَ لَهُ أَقَارِبُ مَحَاوِيجُ، فَالصَّدَقَةُ عَلَيْهِمْ أَفْضَلُ، وَكَذَا إِذَا كَانَ هُنَاكَ قَوْمٌ مُضْطَرُّونَ إِلَى نَفَقَتِهِ، فَأَمَّا إِذَا كَانَ كِلَاهُمَا تَطَوُّعًا، فَالْحَجُّ أَفْضَلُ، لِأَنَّهُ عِبَادَةٌ بَدَنِيَّةٌ مَالِيَّةٌ، وَكَذَا الْأُضْحِيَةُ وَالْعَقِيقَةُ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ بِقِيمَةِ ذَلِكَ»

"কিন্তু কারও যদি অভাবগ্রস্ত আত্মীয়স্বজন থাকে তবে তাদের সাহায্য করাই বেশি উত্তম। একইভাবে যদি এমন লোকজন থাকে যে তারা তার আর্থিক সাহায্যের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল তাহলেও তাদের দান করা উত্তম। আর যদি দুটিই সাধারণ নফল কাজ হয় (অর্থাৎ কেউ চরম বিপদে নেই) তবে হজ করাই উত্তম। কারণ এটি একই সাথে শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত। ঠিক যেমন কুরবানি ও আকিকা করা অধিক উত্তম সেগুলোর মূল্য দান করে দেওয়ার চেয়ে।"

[আল ইখতিয়ারাত]


- ইমাম শাওকানি (রহ.) 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে

«أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ فَذَكَرَ الإِيمَانَ، ثُمَّ الْجِهَادَ، ثُمَّ الْحَجَّ»

"কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমানের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর জিহাদ, এরপর হজের কথা।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম] এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:

«هُوَ حُجَّةٌ لِمَنْ فَضَّلَ حَجَّ النَّفْلِ عَلَى الصَّدَقَةِ»

"এটি সেই আলেমদের পক্ষে দলিল, যারা সাধারণ দানের চেয়ে নফল হজকে অগ্রাধিকার দেন।" [নাইলুল আওতার]

মেহেদি ও কলপের ব্যবহার: নারী-পুরুষের জন্য শরিয়তের জরুরি বিধিবিধান:

 



নারীরা স্বাভাবিকভাবেই সাজসজ্জার অংশ হিসেবে হাতে-পায়ে মেহেদি বা বিভিন্ন রং ব্যবহার করে থাকেন। এতে কোনো সমস্যা নেই আলহামদুলিল্লাহ। তবে বর্তমানে আমাদের সমাজে দেখা যায়, অনেক যুবক গায়ে হলুদ, বিয়ে, ঈদ কিংবা নানা আনন্দ-উৎসবে সাজসজ্জা করতে গিয়ে হাতে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেহেদি ব্যবহার করে থাকে। অনেকে আবার আকিকা, সুন্নতে খতনা কিংবা নিছক শখের বশে ছোট ছেলেদের হাতও মেহেদির রঙে রাঙিয়ে দেন। এছাড়া কখনো কখনো বিভিন্ন শারীরিক ব্যাধির কারণে মেহেদি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। আবার বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ চুলে এবং পুরুষরা দাড়িতে কলপ করে থাকেন।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক শরয়ি বিধান জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই বিজ্ঞ আলেমদের দলিলভিত্তিক ফতোয়ার আলোকে বিষয়গুলো সংক্ষেপে ও সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

وبالله التوفيق

▪️ নারীদের জন্য মেহেদি ব্যবহার:

সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে মেহেদি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা নারীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে বৈধ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

طِيبُ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُهُ وَخَفِيَ لَوْنُهُ، وَطِيبُ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهُ وَخَفِيَ رِيحُهُ

"পুরুষের সুগন্ধি হলো তা, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পায় কিন্তু রং গোপন থাকে। আর নারীর সুগন্ধি হলো তা, যার রং প্রকাশ পায় কিন্তু ঘ্রাণ গোপন থাকে।"

[সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ২৭৮৮ — হাসান সহিহ]


এই হাদিস থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, সৌন্দর্যবর্ধন ও রঙের মাধ্যমে নিজেকে সাজানো নারীদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আর সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়া পুরুষদের বৈশিষ্ট্য।

এটি কতই না উত্তম বিদআত! -এর অর্থ

 


উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উক্তি:

«نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ»

"এটি কতই না উত্তম বিদআত!"-এর অর্থ এবং বিদআতের প্রকারভেদ


প্রশ্ন: কেউ কেউ বলেন, বিদআতের মধ্যে বিদআতে হাসানাহ বা ভালো বিদআত ও বিদআতে সাইয়েয়াহ বা মন্দ বিদআত রয়েছে। এর দলিল হিসেবে তারা তারাবিহ সম্পর্কে উমর (রা.)-এর সেই উক্তি পেশ করেন:

«نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ»

"এটি কতই না উত্তম বিদআত!"

এই প্রকারভেদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

উত্তর:

কিছু আলেম মনে করেন, বিদআতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায় এবং তাতে শরিয়তের পাঁচটি হুকুম প্রযোজ্য হয়— হারাম, ওয়াজিব, মাকরুহ, মুস্তাহাব ও মুবাহ। একদল আলেম এ মত পোষণ করেছেন। আবার অন্য আলেমগণ এ প্রকারভেদ অস্বীকার করে বলেছেন, বিদআতের মধ্যে কোনো ভাগ নেই। বরং প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি (ভ্রষ্টতা)। মুসলিমদের নেতা ও ইমাম রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই এমনটা বলেছেন,

كل بدعة ضلالة.

—"প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি।"


কারো জন্য এর বিপরীত বলার সুযোগ নেই যে, না, সব বিদআত গোমরাহি নয়। এমনটা বলা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর একধরনের ধৃষ্টতা, যা জায়েজ নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

كُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ

"প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি।"

[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৬৭, বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)]


তিনি স্পষ্টভাবেই এ কথা বলেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন। কাজেই আমাদের বা অন্য কারও জন্য এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, বিদআতের কিছু অংশ গোমরাহি আর কিছু অংশ গোমরাহি নয়। বরং প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি।


- বিদআত কাকে বলে?


বিদআত হলো, মানুষ দ্বীনের মধ্যে যা নতুন সৃষ্টি করে, তার সবটাই গোমরাহি। যারা বিদআতকে ভাগ করার পক্ষে দলিল পেশ করেন তাদের সে দলিলে আসলে কোনো প্রমাণ নেই।


তারা 'ওয়াজিব বিদআত'-এর দলিল হিসেবে যেসব বিষয় উপস্থাপন করেন—যেমন: মুসহাফে (কুরআনে) নুকতা ও হরকত বসানো, মসজিদ নির্মাণ—এসবের কোনোটিই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এসব হলো আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশকৃত বিষয়। আল্লাহ মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, কুরআনের হেফাজত, মুখস্থকরণ ও তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হতে নির্দেশ দিয়েছেন। যা কিছু এসব কাজে সহায়ক হয় তা এই হেফাজত ও যত্নের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।


মূল কথা হলো, তারা যা উল্লেখ করেছেন তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা দ্বীনের অংশ, দ্বীন হেফাজত করার অংশ এবং নেকি ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করার অংশ।


এবার আসা যাক উমর (রা.)-এর সেই উক্তির ব্যাখ্যায়, যা তিনি বলেছিলেন যখন তিনি দেখলেন, মানুষ তাঁর নির্দেশে তারাবিহর নামাজে একত্রিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মানুষ একা একা এবং ছোট ছোট দলে নামাজ পড়ত। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েক রাত তাদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়ান, তিন রাত টানা কিয়াম করান, তারপর তা বন্ধ করে দেন এবং বলেন, "আমি আশঙ্কা করছি, তোমাদের ওপর রাতের এই নামাজ ফরজ করে দেওয়া হতে পারে।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন।


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর সিদ্দিক (রা.) মুরতাদদের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, আর সাহাবিগণও তাতে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর উমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় এলে তিনি এসব বিষয় থেকে অপেক্ষাকৃত অবসর পান। আর তাঁর শাসনকালও দীর্ঘ ছিল। তখন তিনি লক্ষ করলেন, মানুষ মসজিদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আলাদা আলাদাভাবে নামাজ পড়ছে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, সবাইকে এক ইমামের পেছনে একত্র করবেন। তিনি সাহাবি উবাই (রা.)-কে তাদের ইমামতি করার নির্দেশ দেন। এরপর একরাতে যখন তিনি বের হয়ে তাদের একত্রে নামাজরত অবস্থায় দেখলেন তখন বললেন,

نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ

"এটি কতই না উত্তম বিদআত!"

[সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১০]


এখানে তিনি একে ভাষাগত অর্থে 'বিদআত' বলেছেন, দ্বীনি অর্থে নয়। কেননা ভাষায় 'বিদআত' বলা হয় এমন কিছুকে যার পূর্বে কোনো নজির ছিল না। অর্থাৎ এর আগে মানুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নামাজ পড়ত, এক ইমামের পেছনে একত্র হতো না। যখন তিনি তাদের একত্র করলেন, তখন বললেন, "এটি কতই না উত্তম বিদআত"—যা তিনি নিজে তাদের জন্য করেছিলেন, যাতে তারা একত্রিত হয় এবং নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহায়তা করে। আর যেহেতু রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি ধারাবাহিকভাবে করেননি—মাত্র তিন রাত করে তারপর বন্ধ করে দিয়েছিলেন—তাই উমর (রা.) এ কথা বলেছিলেন। এটি তাঁর ভাষাগত ব্যবহার, শরয়ি অর্থে নয়। কাজেই শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিদআত নয় বরং তা সুন্নত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি আমল, যা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে করেছেন, খুলাফায়ে রাশিদিন—উমর ও তাঁর পরবর্তীগণ—করেছেন, সাহাবায়ে কেরাম করেছেন এবং মুসলিমগণও করে আসছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই এর প্রতি উৎসাহ দিয়ে বলেছেন,


مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا؛ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ


"যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাত জেগে নামাজ পড়বে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"

[সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫৯ — বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)]


তিনি আরও বলেছেন,

مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ؛ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ

"যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (তারাবিহ) শেষ পর্যন্ত দাঁড়াবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম করার সওয়াব লেখা হবে।"


[সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৮০৬ (হাসান সহিহ), বর্ণনাকারী: আবু যর গিফারি (রা.)]


এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারাবিহর নামাজ শরিয়তসম্মত। তাতে ইমাম ও জামাত থাকা বৈধ। এটি কোনোভাবেই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়।"


ফতওয়া প্রদান:

আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)

সাবেক প্রধান মুফতি, সৌদি আরব

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

প্রশ্ন: "কোনো ইমানদার কিয়ামতের ভয়ংকর দৃশ্য দেখবে না।" এ কথা কি সঠিক?



উত্তর:

হ্যাঁ, এটি বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত ও সম্পূর্ণ সঠিক কথা।

নিঃসন্দেহে কিয়ামত সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রলয়ংকরী ঘটনা। কুরআন ও হাদিসের বর্ণনামতে, আল্লাহর নির্দেশে সম্মানিত ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.) যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেবেন তখন সমগ্র পৃথিবী প্রবল কম্পনে কেঁপে উঠবে। পাহাড়গুলো তুলার মতো উড়তে থাকবে, আকাশ বিদীর্ণ হবে, গ্রহ-নক্ষত্র কক্ষপথচ্যুত হবে এবং সমুদ্রে অগ্নিকুণ্ড সৃষ্টি হবে। এছাড়াও ঘটবে মহাজাগতিক আরও নানা অঘটন।

এক কথায়, পুরো বিশ্বজাহান চরম বিভীষিকার মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।

তবে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতে এই মহাপ্রলয়ের ভয়াবহতা কোনো মুমিনকে স্পর্শ করবে না। কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা পৃথিবী থেকে সকল ইমানদারকে সসম্মানে উঠিয়ে নেবেন। ফলে দুনিয়ায় কেবল ইমানহীন, কাফের, মুশরিক, নাস্তিক, পথভ্রষ্ট ও নিকৃষ্ট মানুষেরাই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের ওপরই এই ভয়ংকর কিয়ামত নেমে আসবে।

প্রখ্যাত সাহাবি নাওয়াস ইবনে সাময়ান (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা পরবর্তী সময় সম্পর্কে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ

"অতঃপর আল্লাহ তাআলা এক সুবাসিত ও স্নিগ্ধ বাতাস প্রেরণ করবেন। তা মানুষের বগলের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রতিটি মুমিন ও মুসলিমের রূহ কবজ করে নেবে। এরপর পৃথিবীতে কেবল নিকৃষ্ট মানুষগুলোই থেকে যাবে। তারা গাধার মতো প্রকাশ্যে ও নির্লজ্জভাবে যৌনকর্মে লিপ্ত হবে। আর এদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।" [সহিহ মুসলিম, ২৯৩৭]

অন্য হাদিসে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ اللَّهُ اللَّهُ

"পৃথিবীতে যতক্ষণ পর্যন্ত 'আল্লাহ, আল্লাহ' বলার মতো কোনো মানুষ থাকবে ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না।" [সহিহ মুসলিম, ১৪৮]

একই সূত্রে অপর বর্ণনায় এসেছে—

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ عَلَى أَحَدٍ يَقُولُ اللَّهُ اللَّهُ

"যে ব্যক্তি 'আল্লাহ, আল্লাহ' বলে, তার ওপর কখনো কিয়ামত আসবে না।" [সহিহ মুসলিম, ১৪৮]

অন্য বর্ণনায় "আল্লাহ, আল্লাহ" শব্দের স্থলে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" জিকিরের কথাও এসেছে। অর্থাৎ দুনিয়ায় আল্লাহর একত্ববাদের সামান্যতম জিকির বা স্মরণ অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত মহাপ্রলয় শুরু হবে না।

কালের পরিক্রমায় ইমানের চর্চা হ্রাস পেতে পেতে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ সুবাতাস পাঠাবেন। অন্তরে অণু পরিমাণ ইমান আছে—এমন প্রতিটি মুমিনের রূহ এই স্নিগ্ধ স্পর্শে কবজ হয়ে যাবে।

এরপর ধরণীতে আর কোনো সৎ ও ইমানদার বান্দা থাকবে না। সমগ্র পৃথিবী ছেয়ে যাবে চরম নৈতিকতাহীন ও পথভ্রষ্ট মানুষে, যাদের মুখে আল্লাহর নামও উচ্চারিত হবে না। ঠিক তখনই তাদের ওপর ঘনিয়ে আসবে কিয়ামতের সেই মহাসংকট।

কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য ও আতঙ্ক থেকে মুমিন বান্দাদের মুক্ত রাখা মহান আল্লাহর এক অপরিসীম দয়া ও অনুকম্পা।

মোটকথা হলো, আল্লাহর বিশেষ রহমতে কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে প্রেরিত পবিত্র বাতাসের মাধ্যমে সকল ইমানদার শান্তিতে দুনিয়া ত্যাগ করবেন। ফলে কোনো মুমিনকে কিয়ামতের সেই বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করতে হবে না। কিয়ামত সংঘটিত হবে কেবল বেইমান-কাফের ও নিকৃষ্ট মানুষদের ওপর।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পূর্ণ ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার তৌফিক দান করুন এবং কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

— আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

Monday, 11 August 2025

হামাছ-ইজ্রিল সিরিজ-৩


ইজ্রিলের সাথে কাতারের বোঝাপড়ার সম্পর্ক বহুকাল ধরে স্পষ্ট ছিল। ইজ্রিলের সহায়তায় কাতার ঐতিহাসিকভাবে হা/মাছকে অর্থায়ন করেছে। বিপরীতে, ইজ্রিলী সামরিক- বেসামরিক কর্মকর্তাগণ অবাধে দোহায় যাতায়াত ও অবস্থান করেছেন। অথচ, তারা কাতারকে “সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নকারী” হিসেবে উল্লেখ করে এসেছে।

২০১৮ সালে ইজ্রিল সরকার কাতারের সাথে একটি চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নেয় যার আওতায় গা/জায় নগদ তহবিল স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। স্যুটকেস-ভর্তি ডলার কাতারি কর্মকর্তারা ইজ্রিল-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পৌঁছে দিতেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত এভাবে অর্থ স্থানান্তর হতে থাকে। এরপর সংঘাত শুরু হলে তা বন্ধ হয়।

এরপর ইয়ার ল্যাপিড ও নাফতালি বেনেট জোট ২ বছরের জন্য সরকার গঠন করে। পূর্বোক্ত চুক্তিতে অর্থ সরবরাহের বিষয়ে কোনো ধারা উল্লেখ ছিল না। তাই অসুবিধায় পড়ে স্যুটকেসের পরিবর্তে ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে করে নগদ অর্থ পৌছানো চলতে থাকে। ২০২৩ সালে নেতা#য়াহু আবারও ক্ষমতায় আসলে প্রত্যক্ষ অর্থপ্রবাহ শুরু হয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে $৩০ মিলিয়ন প্রেরণ করা হয় যার মধ্যে $৪ মিলিয়ন হা/মাছের কাসসাম ব্রিগেডের নেতা মোহাম্মাদ দেইফ স্বশরীরে তেলাবিবিতে গিয়ে নিয়ে আসেন। এটা ৭ অক্টোবর হামলায় তাদের শক্তিবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল। সম্পূর্ণ বিষয়টি ইজ্রিলের সামরিক দপ্তর ও শিন বেট এর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানত।

এখন নেতা/ইয়াহু দাবী করছেন- ঐ অর্থ কাতার থেকে আসেনি, ওটা আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার দাবীর পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। বরং শিন বেট এর রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, হা/মাছের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে কাতারি অর্থায়ন এবং অধিকৃত জেরুসালেমে নেতা#য়াহুর মিত্ররা অবদান রেখেছে।

এই কাতারগেট কেলেঙ্কারি ইজ্রিলের জনগণকে দেখিয়েছে যে, নেতা#য়াহু হা#মাছকে অর্থায়নের জন্য গোপন চুক্তি করেছিলেন যা ৭ অক্টোবর হামলাকে সম্ভব করেছিল। এমনকি, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পর্যাপ্ত আভাস থাকা সত্বেও সীমান্তবর্তী স্থানে নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল বাতিল করার বা সতর্কতার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এসব নিয়ে নেতা#য়াহু শিন বেটের তৎকালীন প্রধান রোনেন বারের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন, তাকে বরখাস্ত করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে চরম দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তিনি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাবশালী অংশের বিপরীতে নিজ মনোভাবের লোকদের ক্ষমতাবান করে চলেছেন। দেশে বিক্ষোভ এখন গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

সিরিজ-১: https://www.facebook.com/Salim.85/posts/pfbid02wF5Zq81B4t2Pn9GU2ytzAaVhgNwcwXoFn3YwEgRkqRyv5EudH83L8sBbypHJmPbfl

সিরিজ-২: ttps://www.facebook.com/Salim.85/posts/pfbid02qQXe1Kc2oSJu1r1hABesjMiM7CdwQmuKZcd1AFG9yDhQjfsH4YhoSMD2KD4ui9oHl

Mohammad Salimullah

Saturday, 9 August 2025

হামাছ-ইজ্রিল সিরিজ- ২

 

[শুধু শেষ প্যারাটি পড়লেও চলবে]

 ইজ্রিলের জনসংখ্যার ৪৫% হচ্ছে আশকেনাজি (পশ্চিম ইউরোপ থেকে আগত) ইয়াহু। দেশের ক্ষমতার সকল দিকে এদের আধিপত্য চলে। রাষ্ট্রের প্রতিটি উপাদান, যেমন- হাগানা (প্রতিরক্ষা), নেসেট (সংসদ), জুইশ এজেন্সি (দখলদারি) ও হিস্টাড্রুট (অর্থনীতি) এই ইয়াহু শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত।

 জনসংখ্যার অবশিষ্ট ৫৫% হলো সেফার্দি ও মিজরাহি ইয়াহু, যারা Filiস্তিন দখল করে ইজ্রিল প্রতিষ্ঠার পরে এসেছে। ততক্ষণে, আশকেনাজি আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তাদের ভাষা রাষ্ট্রভাষা হয়েছে, ইকোনো-পলিটিক এস্টাবলিশমেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে; তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সকল স্থানে বসে গেছে।

 অভিজাত আশকেনাজিদের দল হচ্ছে লেবার পার্টি। আর, নীচুজাত সেফার্ডিকদের দল হচ্ছে লিকুদ পার্টি। কিন্তু নীচুজাত হলেও তাদের সংখ্যা বেশি। তাই, ১৯৭৩ সালে দল গঠন করেই ১৯৭৭ সালে তারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। রাষ্ট্র গঠনে লিকুদের কোনো ভূমিকা ছিল না; শ্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে ক্ষমতা পেয়ে গেল।

 ক্ষমতা উদ্ধারের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শিমন পেরেস এর লেবার পার্টি ৪৭টি আসন লাভ করে কিন্তু মেনাকেম বেগিন এর লিকুদ পার্টি ৪৮টি আসন লাভ করে আবারও ক্ষমতায়। তখন থেকে উভয় দলের মধ্যেকার মনস্ত্বাত্বিক বিভেদ স্পষ্টতর হতে থাকে।

 লিকুদ পার্টি নোংরা রাজনীতি শুরু করে। ফিলি#তিনের নতুন নতুন এলাকা দখল ও অবৈধ বসতি স্থাপন করতে থাকে এবং কিন্তু সেখানকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ও তহবিল বৃদ্ধি করা হতে থাকে। কিন্তু দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, শিন বেট- এর উপর আশকেনাজি আধিপত্র একচেটিয়াভাবে অব্যাহত থাকে।

 কিন্তু তারপর ৩ নির্বাচনে (১৯৮৪, ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে) লিকুদ পার্টি চরম ধরাশায়ী হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল- লিকুদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ। এদিকে, ১৯৮৮ সালে পার্টিতে যোগদান করে ১৯৯৩ সালে পার্টির প্রধান হওয়া নেতা#য়াহু কঠিন এক খেলা নিয়ে আসেন। লিকুদের সহায়তায় গড়ে ওঠা হা/মাছ ভূমিকা পালন করে।

 ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে হা/মাছ দেশজুড়ে লিকুদের অফিসসমূহে সিরিজ বোমা হামলা করতে থাকে। এতে করে দলটির পতিত জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়তে থাকে এবং ধুরন্দর নেতা/ইয়াহু অবিশ্বাস্যভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এভাবে, ক্ষমতায় আসতে তিনি প্রতিবার নির্বাচনে নতুন নতুন কৌশল হাজির করতে থাকেন।

 ২০২১-২০২২ সাল নাগাদ তিনি তিনি আশকেনাজি প্রভাব স্থায়ীভাবে খর্ব করার জন্য ডেসপারেট হয়ে ওঠেন। ২০২৩ সালের মার্চে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধাচারণ করেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করতে চেষ্টা করেন। তখন দেশজুড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিক্ষোভ শুরু হয় এবং মাসের পর মাস তা চলতে থাকে।

 ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর এই বিক্ষোভ হ্রাস পাবে বা স্থগিত হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভ চলতে থাকে। এতে নেতা/ইয়াহু উন্মাদ হয়ে ওঠেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করতে সচেষ্ট হন এবং হা/মাছকে নির্মূল করার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ফেরাবার ব্যার্থ চেষ্টা করে চলেছেন।

 নেতা/ইয়াহু এখনও বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার মাধ্যমে লিকুদ পার্টিকে রক্ষার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। লেবার পার্টির রাজনৈতিক ক্ষমতা যদিও খর্ব হচ্ছে, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক এস্টাব্লিশমেন্ট মোটা দাগে এখনও আশকেনাজিদের হাতে রয়ে গেছে। আর, আশকেনাজি শক্তির সাথে নেতা/ইয়াহু আপোষরফার পথও বন্ধ।

 হা/মাছের হাতে আটক জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। নেতা#য়াহু গা#যা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন আর হা/মাছও জিম্মিদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। তাই, দেশে বা বিদেশে নেতা/ইয়াহুর আপোষের পথ খোলা নেই। লিবারেল ও আশকেনাজি শক্তি তার বিরুদ্ধে একাট্টা। তার পতন মানে সেফার্ডিকদের রাজনীতির চরম পতন।

 তার সামনে যে অপশনগুলো রয়েছে তা হলো- ১. গৃহযুদ্ধ [কেননা, কোণঠাসা হলেও সেফার্দিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ]; ২. পদত্যাগ করা [তাহলে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে]; ৩. পালিয়ে যাওয়া [ইউক্রেন ছাড়া যাওয়ার জায়গা নেই]; ৪. স্বয়ং মালাকুল মউত (আঃ) তার সামনে হাজির হওয়া।

 ১৯৮২ সালে সিআইএ'র প্রণীত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখতে পারেন- https://www.cia.gov/.../CIA-RDP06T00412R000200840001-6.pdf

 আগের পোস্টটি এখানে- https://www.facebook.com/Salim.85/posts/pfbid02wF5Zq81B4t2Pn9GU2ytzAaVhgNwcwXoFn3YwEgRkqRyv5EudH83L8sBbypHJmPbfl

Mohammad Salimullah

হামাছ সিরিজ-১


[শুধু শেষ প্যারাটি পড়লেও চলবে]

• PLO ছিল আরব জাতীয়তাবাদী সংগঠন। ১৯৯০ সালের অসলো চুক্তি অনুসারে ইজ্রিল-PLO একে অপরকে স্বীকৃতি প্রদানের কথা ছিল। কিন্তু ফিলি#তিনে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইজ্রিল স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ইজ্রিল PLO-র বিরুদ্ধে দমন নীতি গ্রহণ করে। লিংক-১

• দমন নীতির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল ৭০-৮০’র দশকে ফিলিস্তিনি ভিলেজ লীগ। এরা ইজ্রিলি অস্ত্র ও রশদ গ্রহণ করেছিল এবং ফিলি#তিনে নির্বাচিত স্থানীয় পরিষদগুলিকে জোরপূর্বক ভেঙে দিয়েছিল, যার যেগুলি বেশিরভাগই PLO-এর প্রতিনিধি ছিল। লিংক- ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬

• ভিলেজ পার্টি ছাড়া ইজ্রিলের হাতে আরেকটি বিকল্প ছিল আহমেদ ইয়াসিন। এই ব্রাদারহুড মেম্বার গাজায় ক্লাব, মসজিদ ও মাদ্রাসার একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। ৭০ ও ৮০’র দশকে ইজ্রিল তাকে নেটওয়ার্ক তৈরি ও সম্প্রসারণ করার লাইসেন্স ও সহায়তা প্রদান করে। লিংক- ৭ ও ৮

• মার্কিন গবেষক জনাথন শ্যানজার লিখেছেন- "৭০-এর দশকের শেষ দিকে ইজ্রিল ধারণা করে, তারা ফাতাহর ‘অ্যাকিলিস হিল’ খুঁজে পেয়েছে। ব্রাদারহুডের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে ফাতাহ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। ইজ্রিল ব্রাদারহুডকে অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নেয় যাতে তারা PLO-কে দুর্বল করে দেয়। লিংক- ৯

• ইজ্রিলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন- PLO-কে দুর্বল করার লক্ষ্যে ইয়াসিনের নেটওয়ার্ককে তহবিল ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল [লিংক ১০]। ৮০’র দশকে গা#জার ইজ্রিলি গভর্নর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইতজাক সেগেভ হা#মাসের পূর্বসূরী মুজামা ইসলামিয়াকে অর্থ প্রদান স্বীকার করেছেন। লিংক- ১১, ১২ ও ১৩

• ১৯৮৬-১৯৮৯ সময়কালে ইজ্রিল সাউথ কমান্ডের প্রধান ইতজাক মোর্দেচাই বলেন- "আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন গা#জায় নতুন নতুন মসজিদের পরিমাণ দেখে হতবাক হয়ে যাই। দেখা গেল, ইজ্রিলের আর্কিটেক্টরা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের দাতব্য সংস্থার সহায়ক ছিলেন।" লিংক- ১৪

• ১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদা শুরুর পর ১৯৮৮ সালে ব্রাদারহুড সশস্ত্র সংগঠনে রূপান্তরিত হয়ে হা#মাস নাম গ্রহণ করে। [লিংক ১৫]। ১৯৮৯ সালে প্রথম হামলা চালানোর পূর্বে পর্যন্ত ইজ্রিল সরকার সহায়তা করতে থাকে। ইয়াহুদের বিষয়ে কঠোর সব বক্তব্যের পরও তাদেরকে স্পর্শ করা হয়নি। লিংক- ১৬

• ইজ্রিলের প্রতিরক্ষা দপ্তর PLO’র বিপক্ষে হামাসকে প্রভাবশালী হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। [লিংক ১৭] ১৯৯৮ সালে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী মেসুত ইলমাজ ইজ্রিল সফরে গেলে নেতা#য়াহু তাকে বলেছিলেন, "আমাদের ব্যাংকে হা#মাছের অ্যাকাউন্ট আছে, আমরা তাদের সাহায্য করি, আপনিও করতে পারেন।" লিংক- ১৮ ও ১৯ 

• ২০০১ নেতা#য়াহু অফরা বসতি পরিদর্শন করেন। সেখানে ভাষণে তিনি বলেন: "আমরা অবশ্যই ফিলি#নিদের উপর কঠোর আঘাত করব, কিন্তু বিশ্ব কিছুই বলবে না। বিশ্ব বলবে যে, আমরা আত্মরক্ষা করছি। আমরা এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে অর্জন করব জন্য। তারা সহজেই ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। লিংক- ২০ ও ২১

• ২০১০ সালে উইকিলিকসের ফাঁসকৃত নথিতের দেখা যায় যে, ২০০৭ সালে ইজ্রিলি বিমান বাহিনীর জেনারেল আমোস ইয়াদলিন বলেন- “হা#মাছ গা#জা দখল করলে ইজ্রিল খুশি হবে এবং তাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে, যাতে গা#জাকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা যায়। লিংক- ২২ ও ২৩

• ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সাংবাদিক ড্যান মার্গালিটের সাথে সাক্ষাৎকারে নেতা#য়াহু বলেন- পশ্চিম তীরে ফিলি#নি কর্তৃপক্ষের প্রতিপক্ষ হিসেবে হা#মাছকে শক্তিশালী রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দুটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী থাকার ফলে ফিলি#ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলোচনার জন্য চাপ কমিয়ে দেবে। লিংক- ২৪

• ২০১৫ সালে "টাস্ক ফোর্স হারপুন" নামে ইজ্রিলি আর্থিক তদন্তকারী দল হা#মাছের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসা ও বিনিয়োগের একটি নেটওয়ার্ক আবিষ্কার করে। সন্ত্রাসবাদ অর্থায়ন টাস্ক ফোর্স সরকারকে অবহিত করে, কিন্তু পরবর্তী ৭ বছর পর পর্যন্ত ইজ্রিল বা অ্যামেরিকা পদক্ষেপ নেয়নি। লিংক-২৫ ও ২৬

• ২০১৮ সালের আগস্টে কাতারের সাথে ইজ্রিলের একটি বিতর্কিত চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় কাতার মাসিক ভিত্তিতে গা#জায় অর্থ পাঠানো শুরু করে। কাতারি প্রতিনিধি নগদ ১৫ মিলিয়ন ডলার ভর্তি স্যুটকেস নিয়ে বিমানে করে তেলাবিবিতে যেত এবং সেখান থেকে তা গা#জায় পৌছে দিত। লিংক- ২৭ ও ২৮

• সাবেক ইজ্রিলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বলেন- “ফিলি#ন কর্তৃপক্ষকে দূর্বল করা আর  হা#মাছকে শক্তিশালী করার জন্য ইজ্রিল সবকিছু করেছে। গা#জা পতনের দ্বারপ্রান্তে ছিল; তাদের সম্পদ ছিল না, অর্থ ছিল না। বিবি তাদের বাঁচিয়েছিল। বিবি কাতারের সাথে চুক্তি করে লক্ষ লক্ষ ডলার গা#জায় স্থানান্তর করেছে।" লিংক- ২৯

• ২০১৯ সালের আগস্টে ইজ্রিলি আর্মি রেডিওর সাথে এক সাক্ষাৎকারে, ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইজ্রিলের প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক বলেছিলেন- নেতা#য়াহুর প্রধান কৌশল হলো ফিলি#নি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল রাখার জন্য হা#মাছকে জীবিত ও লাথির উপর রাখা। লিংক- ৩০

• ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেতা#য়াহুর নির্দেশে মো#ছাদ পরিচালক ইয়োসি কোহেন ও জেনারেল হার্জি হালেভি হামাসের জন্য অর্থ প্রদান বৃদ্ধির অনুরোধ করতে কাতারে যান [লিংক ৩১]। ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও নেতা#য়াহু ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট গা#জায় লক্ষ লক্ষ ডলার স্থানান্তর অব্যাহত রাখেন। লিংক- ৩২

• ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মো#ছাদের পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া একই উদ্দেশ্যে আবার কাতারে যান [লিংক ৩৩ ও ৩৪]। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতা#য়াহু হা#মাছকে অর্থায়নের বিষয়টি অস্বীকার করে গা#জায় মানবিক বিপর্যয় এড়াতে তহবিল স্থানান্তর করেছিলেন বলে দাবী করেন। লিংক- ৩৫

• ইজ্রিলি গোয়েন্দারা অক্টোবর হামলার পেছনে নেতা#য়াহুর অর্থায়নকে দাবী করলে তার সাথে গোয়েন্দা সংস্থার চরম পরিস্থিতি সৃষ্ট হয় [লিংক ৩৬]। গোয়েন্দা তথ্য মতে- ইজ্রিলে গা#জার শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনায় হা#মাছের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এভাবে, গা#জায় অর্থ প্রবাহিত হতে থাকে। লিংক- ৩৭

• ইজ্রিলের ৭ম আর্মার্ড ব্রিগেডের সাবেক কমান্ডার ও নেতা#য়াহুর সহযোগী গেরশন হাকোহেন একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: "নেতানিয়াহুর কৌশল হলো দ্বি-রাষ্ট্র প্রস্তাবকে রোধ করা, তাই তিনি হা#মাছকে তার নিকটতম অংশীদারে পরিণত করছেন। হা#মাছ প্রকাশ্যে শত্রু, গোপনে মিত্র।” লিংক- ৩৮ ও ৩৯

• ফাইনালঃ ২০১৯ সালে লিকুদ পার্টির সম্মেলনে নেতা#য়াহু স্পষ্ট মন্তব্য করেছিলেন: “কেউ ফিলি#ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ব্যর্থ করতে চাইলে তার উচিৎ হা#মাছকে শক্তিশালী করা এবং হা#মাছের অর্থ স্থানান্তরকে সমর্থন করা। এটা আমাদের কৌশলের অংশ- গা#জার ফিলি#নিদের পশ্চিম তীরের ফিলি#নিদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা। লিংক- ৪০

১] https://en.wikipedia.org/wiki/Oslo_Accords

২] https://en.globes.co.il/.../article-the-obsession-that...

3] www.memri.org/reports/story-palestinian-village-leagues

4] http://www.jta.org/.../west-bank-gaza-village-leagues...

5] https://paperspast.natlib.govt.nz/news.../CHP19820402.2.75.1

6] https://eresources.nlb.gov.sg/.../straitstimes19820327-1...

৭] https://theintercept.com/.../hamas-israel-palestine.../

৮] https://tribune.com.pk/.../how-and-why-israel-helped...

৯] https://www.jpost.com/.../1989-and-the-rise-of-hamas-611745

১০] https://www.upi.com/.../Israel-gave-major.../6023982990800/

১১] https://theintercept.com/.../hamas-israel-palestine.../

১২] https://washingtonmonthly.com/.../israels-failed-strategies/

১৩] https://www.mmegi.bw/ampArticle/110490

১৪] https://www.jpost.com/.../it-has-been-30-years-since-the...

১৫] https://www.spiegel.de/.../a-gaza-conundrum-the-story...

১৬] https://www.nytimes.com/.../islamic-fundamentalist-group...

১৭] https://www.jta.org/.../crackdown-on-hamas-movement-seen...

১৮] https://www.odatv.com/.../bu-iddia-cok-tartisilir...

১৯] https://politurco.com/revealing-israels-strategic-vision...

২০] https://web.archive.org/.../0000017f-dc84-d3a5-af7f...

২১] https://www.aljazeera.com/.../netanyahu-us-easily...

২২] https://www.ynet.co.il/article/4002043

২৩] https://www.jpost.com/.../yadlin-israel-would-be-happy-if...

২৪] https://www.nytimes.com/.../israel-qatar-money-prop-up...

২৫] https://www.nytimes.com/.../israel-hamas-money-finance...

২৬] https://www.timesofisrael.com/ny-times-israel-uncovered.../

২৭] https://edition.cnn.com/.../qatar-hamas-funds.../index.html

২৮] https://www.timesofisrael.com/hamas-leader-sinwar-sent-a.../

২৯] https://www.politico.eu/.../israel-border-troops-women.../

৩০] https://www.cbc.ca/.../netanyahu-israel-gaza-hamas-1.7010035

৩১] https://www.timesofisrael.com/mossad-chief-top-general.../

৩২] https://www.france24.com/.../20181111-netanyahu-defends...

৩৩] https://www.nytimes.com/.../israel-qatar-money-prop-up... 

৩৪] https://www.maariv.co.il/news/politics/article-1058689

৩৫] https://www.ynetnews.com/article/h1cqppnba

৩৬] https://www.nytimes.com/.../israel-qatar-money-prop-up...

৩৭] https://www.timesofisrael.com/for-years-netanyahu.../

৩৮] https://www.haaretz.com/.../0000018b-1e9f-d47b-a7fb...

৩৯] https://www.analystnews.org/.../how-israel-helped-prop-up...

৪০] https://www.theguardian.com/.../benjamin-netanyahu-hamas...

Mohammad Salimullah

Tuesday, 1 April 2025

মুসলমানদের উত্থান-পতনের ইতিহাস


৭১১ খৃষ্টাব্দে বীরসেনা তারেক্ব বিন যিয়াদের সেনাপতিত্বে মুসলিমগণ ইউরোপের 'স্পেন'  জয়লাভ করেন। ১৪৯২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত এটি মুসলিম শাসনাধীন রাষ্ট্র ছিল। এই দীর্ঘ আটশত বছরে মুসলিমগণ ইউরোপকে ঢেলে সাজালেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান, কলেজ, ইউনিভার্সিটি ইত্যাদিতে দেশকে নূতন রূপ দিয়েছিলেন।

মুসলমানদের যখন লক্ষ লক্ষ গ্রন্থরাজি, তখন রানী ইথাবিলার গ্রন্থাগারে মাত্র ২০১ খানা বই। ফ্রান্সের শাহী কুতুব-খানায় ৯০০ খানা বই ছিল। মুসলমানদের যেখানে বহু বিষয়ের বই ছিল, সেখানে খৃষ্টানদের কেবল ইনজীল ও তওরাতের বিভিন্ন সংস্করণ। (তথ্য সংগ্রহ, উর্দু তরজুমান, ১লা নভেম্বর ১৯৮২ খৃঃ সংখ্যা থেকে)

 এরপর পতনঃ

বিলাসিতা ও আপোষ-দ্বন্দ্বের জন্য খৃষ্টানরা মওকা পেয়ে গেল। রানী ইথাবিলা ও রাজা ফার্ডিন্যান্ড বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ হয়ে মুসলিম নিধনে উঠে পড়ে লাগলেন। মুসলিমগণ পরাজিত হতে লাগলেন। শেষে তদানীন্তন স্পেনের রাজধানী গ্রানাডায় আশ্রয় নিলেন। রাজা ফার্ডিন্যান্ড বললেন, মুসলিম বাহিনী যদি নিরস্ত্র অবস্থায় মসজিদে মসজিদে অবস্থান করে, তবে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে। মুসলমানরা আল্লাহর উপর 'তাওয়াক্কুল' হারিয়ে রাজার কথায় বিশ্বাস করে মসজিদে মসজিদে নিরস্ত্র অবস্থায় প্রবেশ করলেন। অমনি রাজা নিজের সেনাদেরকে আদেশ করলেন যে, মসজিদগুলোতে শিকল তুলে আগুন ধরিয়ে দাও।

যেমনি আদেশ তেমনি কাজ। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। মুসলিমদেরকে নির্মমভাবে মাছ পোড়া করে দিল। পতনোত্তর কালে বিদ্রোহীর নির্দেশে গ্রানাডায় ৮০ হাজার গ্রন্থ পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হল। আর সারা দেশ থেকে আরাবী ক্লাসের লক্ষাধিক গ্রন্থ পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করা হল!

এর দুঃখ কেবল মুসলমানদেরই নয় বরং ঐতিহাসিক 'স্কট' বলেছেন, 'এ এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, এমন এক মুসীবত যার উপর শুধু বর্তমান যুগ নয়, বরং আগামী দিনের প্রত্যেক জ্ঞান-পিপাসু ব্যক্তিকে অশ্রু বিসর্জন করতে হবে। স্পেনের পতনের মত অত বড় পতন বুঝি মুসলিমদের আর হয়নি। এই পতনের তারীখ, ১৪৯২ খৃষ্টাব্দের ১লা এপ্রিল।

এই দিনে রাজা ফার্ডিন্যান্ড ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, হে মুসলিম! তোমরা 'এপ্রিল ফুল' Fool অর্থে বোকা। বোকা মুসলমান আজও পয়লা এপ্রিলে সেই রসিকতার খেলা খেলে থাকে। এই খেলাতে যে, মুসলমানদের অভিশাপ ও পতন লুকিয়ে আছে তা মুসলমানদের জানা নেই। এ ইতিহাস কান্নার ইতিহাস। এপ্রিল ফুলের রসিকতা খেলা খৃষ্টানদের পক্ষেই শোভা পায়। মুসলমানদের জন্য এটা মোটেই শোভা পায় না।

খৃষ্টানবাহিনী রাজত্ব করায়ত্ব করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা মুসলমানদের রচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধন ভান্ডার মূল্যবান গ্রন্থগুলি না পুড়িয়ে যত্ন করে গচ্ছিত করে নিজেদের করায়ত্ত করেছে। পরবর্তী কালে ল্যাটিন ইত্যাদি ভাষাতে অনুবাদ করে মুসলমানদের নাম উচ্ছেদ করে নিজেদের নাম বসিয়ে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আরবী কবি এরই শোক-কাহিনী বড় ব্যাথাতুর মনে গেয়েছেন। তার বাংলা অনুবাদটি এই রকমঃ-

                  রাজ্য গেছে, তাতে কান্না কেন?  সে তো ক্ষণেকের বস্তু!

                                  শাশ্বত আইন মেনে নিতে হয়

                                     নিষ্কৃতি নেই তা হতে;

                              কিন্তু ঐ বিদ্যাধন, মতিসম গ্রন্থরাজী

                                  নিয়ে গেছে ইংরেজ জাতি,

                                     দেখিলে কান্না আসে

                                      হৃদয় দগ্ধ হয় ক্ষতে।

(বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, 'এপ্রিল ফুলের বেড়াজালে মুসলিম সমাজ' থেকে সংগৃহীত)

বইঃ বক্তৃতাসম্ভার

উস্তায মওলানা আব্দুর রঊফ শামীম (রাহিমাহুল্লাহ)

(মতান্তরে এই প্রেক্ষাপট ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়। উক্ত করুণ ইতিহাসের সাথে ১লা এপ্রিলের যোগসূত্র নেই। আমি নিজে মদীনা ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ উস্তাযকে সরাসরি এপ্রিল ফুলের ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি মুসলিমদের দুর্ভাগ্যের ঐ ইতিহাসের সাথে ১লা এপ্রিলের কোন যোগ থাকার কথা পড়েননি বলে মন্তব্য করেছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।)

---আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

Friday, 7 March 2025

হিজবুত তাহরীর এর ভয়ংকর আক্বীদাহ!



প্রতিষ্ঠাতা:

এই দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম আমীর হচ্ছেন তকীউদ্দীন নাবাহানী। তিনি ১৯০৯ সালে বর্তমান ইসরাঈলের হাইফা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালে বাইরুতে হিজবুত তাহরীর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাইরুতে ইন্তকাল করেন।

.

দলটির মূলনীতি:

এ দলের মূলনীতি ও মতাদর্শ 

'মু'তাযিলা ও আশআরী সম্প্রদায়ের সাথে মিলে যায়। তারা শরীয়তের দলীলের উপর মানবীয় বিবেক বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

.

এই দলের কার্যকলাপ সম্পর্কে যতদূর জানা যায়:

তাদের একমাত্র দাবী হচ্ছে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। এই দিকেই তারা আহবান করে। ঈমান, নামায, রোজা ও ইসলামের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে তাদের কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। তাদের অনেক নেতাই নিজ নিজ দেশ ছেড়ে পাশ্চাত্য দেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা খেলাফত পুনরুদ্ধার করতে চায়। কিন্তু শির্ক, বিদআত, সুফীবাদ ও পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে যে উছমানী খেলাফতের পতন ঘটেছে, তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ছাড়াই আল্লাহর কাছে ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। তারা সবসময় রাজনীতি নিয়েই ভাষণ ও বক্তৃতা দেয়। ইসলামের অন্যান্য মৌলিক শিক্ষার দিকে কোন গুরুত্ব নেই। মুসলিম দেশের সেনাপতি অমুসলিম হলেও তাদের কোন অসুবিধা নেই। 

--- [ দেখুনঃ ৫/৬/১৯৭০ তারিখে এ দলের আমীর নাবহানী কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রশ্নোত্তর সম্বলিত লিফলেট ]

.

তাদের মতে, হারাম পথ অবলম্বন করে লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে কোন অসুবিধা নেই। আমরা যে অর্থে তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস করি, তারা তা অস্বীকার করে। 

---- [ দেখুনঃ আদ্-দাওসীয়া, পৃষ্ঠা নং-১৮ ]

.

আক্বল তথা মানবীয় বিবেক হচ্ছে দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি। তাদের এ নীতিটি মুতাযেলাদের কথার সাথে মিলে যায়। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের একত্রিত হওয়া এবং পরস্পর সহযোগিতা করা জরুরী।

শিয়া ও সুন্নীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

---- [ দেখুনঃ আল-ওয়াঈ আত্ তাহরীরিয়া, সংখ্য ৭৫, বর্ষ-১৯৯৩ ]

.

Sunday, 2 March 2025

আল্লামা বিন বায রাহ. কর্তৃক প্রদত্ব ছোট ছোট প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর (৫৪টি)

 


আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ.  রমজান, সিয়াম, তারাবিহ, কিয়ামুল্লায়, ইতিকাফ, সফর, কুরআন তিলাওয়াত, দুআ, উমরা ইত্যা বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত চমৎকার কিছু প্রশ্নোত্তর যেগুলো তিনি ‘ওয়াযায়েফে রমজান’ শীর্ষক কিতাবের ব্যাখ্যা কালীন তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রদত্ব বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন।

নিম্নে পাঠকদের উপকার হবে এ আশায় মূল ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে সেখান থেকে কেবল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরগুলোর অনুবাদ পেশ করা হলো। আল্লাহ তওফিক দাতা।

 মোট ৭টি পর্বে ৫৪টি প্রশ্নোত্তর পেশ করা হয়েছে।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-১

১. প্রশ্ন: যে ব্যক্তি রমজান মাসে সুদ খায় তার রোজা গ্রহণযোগ্য হবে কি?

শাইখ: সুদ হারাম, তা রমজান হোক বা অন্য সময়। রমজানসহ সব সময় সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ।

২. প্রশ্ন: তাহলে তার রোজা কবুল হবে?

শাইখ: তার রোজা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। তবে সে গুনাহের ঝুঁকিতে থাকবে।

৩. প্রশ্ন: ইউরোপের কিছু দোকানে মুসলিম মালিকরা রমজানে মদ ও শুকরের মাংস বিক্রি করে। এ ব্যাপারে কী বলা যাবে?

শাইখ: তাদের সতর্ক করা উচিত এবং বোঝানো দরকার যে, এটি হারাম ও নিন্দনীয় কাজ যেন তারা শিখে ও সংশোধন হয়ে যায় এবং এসব কাজ ছেড়ে দেয়।

৪. প্রশ্ন: কিন্তু এতে কি তাদের রোজার কোনও প্রভাব পড়ে?

শাইখ: না, রোজা নষ্ট হয় না। তবে এতে দাগ পড়ে। রোজা শুধু তার ভঙ্গকারী বিষয়গুলো দ্বারা বাতিল হয়। কিন্তু গুনাহ করলে রোজার পূর্ণতা কমে যায়-সওয়াব ও প্রতিদান হ্রাস পায়।

৫. প্রশ্ন: কোনও নারী যদি মসজিদের কাছাকাছি বাস করে তাহলে কি সে ইমামের সাথে নামাজ পড়তে পারবে যদি সে ইমামের কণ্ঠ শুনতে পায়?

শাইখ: না, সে মসজিদে গিয়ে পড়বে অথবা একা বাসায় পড়বে। যদি সে মসজিদে না থাকে বা ইমাম ও জামাতকে না দেখে তাহলে সে তাদের অনুসরণ করতে পারবে না। তবে যদি সে মসজিদের ভেতরে থাকে বা ইমাম ও জামাতকে দেখতে পায় তাহলে কোনও সমস্যা নেই।

৬. প্রশ্ন: যদি বাড়িটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত হয় যেমন মুয়াজ্জিন বা ইমামের বাসা?

শাইখ: তবুও, যদি সে ইমাম বা জামাতকে না দেখে তাহলে সে অনুসরণ করতে পারবে না। বরং একা নামাজ পড়বে।

৭. প্রশ্ন: নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই কি উত্তম?

শাইখ: হ্যাঁ, নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই উত্তম।

Tuesday, 4 February 2025

অদৃশ্য জগতের কথা

 অদৃশ্য জগতের কথা (পর্ব-১, ২)



(১) আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তা বাহক। তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার ডানা বিশিষ্ট হয়ে থাকে। তিনি সৃষ্টির মধ্যে যা ইচ্ছা তা যোগ করেন। আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম।” 

আল্লাহ তাআ’লা তাঁর নিজের ও নবী-রসুলদের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহক বা ‘দূত’ বানিয়েছেন। ফেরেশতাদের ডানা রয়েছে, যার সাহায্যে তাঁরা উড়তে পারেন, যাতে তাঁরা দ্রুত আল্লাহর বাণী নবী-রসুলদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। তাঁদের মাঝে কারো দুইটি ডানা রয়েছে, কারো তিন তিনটি, কারো চার চারটি করে ডানা রয়েছে। কারো কারো এর চাইতে বেশি ডানা রয়েছে। যেমন মেরাজের রাতে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জিব্রাঈল আ’লাইহিস সালামকে দেখেছিলেন, এ সময় তাঁর ছয়শত ডানা ছিলো। তাঁর ডানাগুলো এতো বড় ছিলো যে, দুইটি ডানার মাঝখানে পূর্ব দিক ও পশ্চিম দিকের সমান দূরত্ব ছিলো। সুরা ফাতির, আয়াত ১-এর তর্জমা ও তাফসীর।

(২) কোন ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে কাপড় খুললে শয়তান আর তার লজ্জাস্থানের মাঝে আল্লাহ তাআ’লা একটা পর্দা‬ সৃষ্টি করে দেন, যে কারণে শয়তান তার লজ্জাস্থানের দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারেনা। সুনানে তিরমিযীঃ ২/৫০৫, ইরওয়াউল গালীলঃ ৪৯, সহিহ আল-জামিঃ ৩/২০৩। 

(৩) নারীদের সম্পূর্ণ শরীর হচ্ছে ‘আওড়াহ’। আওড়াহ অর্থ হচ্ছেঃ গোপনীয় জিনিস, যা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ফরয। একারণে, নারীরা ঘর থেকে বের হলে শয়তান তাদের দিকে ‪‎চোখ তুলে তাকায়। তিরমিযীঃ ১১৭৩, সহীহ, শায়খ আলবানী, সহীহ তিরমিযীঃ ৯৩৬।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...