Showing posts with label কুরবানীর মাসায়েল. Show all posts
Showing posts with label কুরবানীর মাসায়েল. Show all posts

Friday, 16 August 2019

শরিকানা (ভাগা) কুরবানি প্রসঙ্গে কিছু কথা


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
শিরোনামের বিষয়টির সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা খুব ভালো করেই জানেন—বাংলাদেশে কারা এই বিষয়ে ফিতনা ছড়িয়েছেন এবং এখনও ছড়াচ্ছেন। সেজন্য তাদের নাম মেনশন করছি না। কিন্তু তাদের ছড়ানো ফিতনা এবং বাতিল দাবির মূলোৎপাটন করা জরুরি মনে করছি। কারণ তাদের কেউ কেউ জোর গলায় বলছেন, “যারা মুক্বীম (মুসাফির নয় এমন) অবস্থায় শরিক কুরবানি জায়েজ বলেন—তারা গোঁড়ামি করছেন, তারা হক থেকে দূরে রয়েছেন!” লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
যাইহোক, বেশি কথা না বাড়িয়ে আসুন, মূল আলোচনা শুরু করি। আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।
·
এটা সর্বজনবিদিত যে, ছাগলে শরিক কুরবানি বৈধ নয়। সুতরাং, সেটা আমাদের আলোচনার বিষয়ও নয়। আমরা আলোচনা করব উট ও গরুতে শরিক কুরবানির বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে। যাইহোক মুক্বীম-মুসাফির সর্বাবস্থায় উট ও গরুতে শরিক হওয়া নাবী ﷺ এর একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস এবং ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণের মহামূল্যবান বাণী ও ফাতাওয়া দ্বারা প্রমাণিত ও সুসাব্যস্ত। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কয়েকটি হাদীস নিম্নরূপ—
১. ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ الأَضْحَى فَاشْتَرَكْنَا فِي الْجَزُورِ عَنْ عَشَرَةٍ وَالَبَقَرَةِ عَنْ سَبْعَةٍ “আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ছিলাম। ইতোমধ্যে কুরবানির ঈদ এসে গেল। আমরা একটি উট দশজনে এবং একটি গরু সাতজনে শরিক হয়ে কুরবানি করলাম।” [তিরমিযী, হা/৯০৫; নাসাঈ, হা/৪৩৯২; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩১; সনদ: সাহীহ (তাহক্বীক্ব: আলবানী)]
২. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, نَحَرْنَا بِالْحُدَيْبِيَةِ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ “আমরা হুদাইবিয়াহ নামক স্থানে নাবী ﷺ এর সাথে একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরুও সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছি।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮; আবূ দাউদ, হা/২৮০৯; তিরমিযী, হা/৯০৪, ১৫০২, নাসাঈ, হা/৪৩৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩২]
৩. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُنَّا نَتَمَتَّعُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعُمْرَةِ فَنَذْبَحُ الْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ نَشْتَرِكُ فِيهَا “আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে তামাত্তু‘ হজ করেছি। তখন আমরা সাত শরিকে মিলে একটি গরু কুরবানি করেছি।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮; শেষোক্ত হাদীস দুটি একই নম্বরের আওতায় বর্ণিত হয়েছে, শাইখ ফুআদ ‘আব্দুল বাক্বী’র তারক্বীম (নাম্বারিং) অনুযায়ী]
কেউ কেউ কুরবানিতে শরিক হওয়া সফর ও হজের সাথে খাস (নির্দিষ্ট) করেছেন। কারণ উপরিউক্ত হাদীসগুলোতে শুধু সফরের কথা এসেছে। আমরা বলি, তাদের এই খাসকরণের পিছনে কোনো দলিল নেই। এই খাসকরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্ভট এবং দলিলবিহীন। আমরা পয়েন্ট আউট করে তাদের এই অযৌক্তিক কথা এবং দলিলবিহীন বিভ্রান্তির দলিলভিত্তিক জবাব দিব, ইনশাআল্লাহ।
·
❏ বিভ্রান্তির অপনোদন:
শরিকানা (ভাগা) কুরবানিকে যারা সফরের সাথে খাস বলে দাবি করছেন, তাদের এই ভ্রান্ত দাবির জবাব নিম্নরূপ:
·
প্রথমত, উপরিউক্ত হাদীসগুলো বা শরিকানা কুরবানি সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীসগুলোর মধ্যে কোনো একটি হাদীসেও বলা হয়নি যে, মুক্বীম অবস্থায় কুরবানিতে শরিক হওয়া বৈধ নয়। একবারও এ কথা বলা হয়নি যে, শরিকানা কুরবানি শুধুমাত্র সফরের সাথেই খাস।
·
দ্বিতীয়ত, সম্মানিত মুহাদ্দিসগণ যেভাবে কুরবানি অধ্যায়ে হাদীসগুলো এনেছেন; এ থেকেও বুঝা যায় যে, তাঁরা ওই সব হাদীসকে সফরের সাথে খাস হওয়া বুঝেননি। এটা সুবিদিত যে, মুহাদ্দিসগণ তাঁদের হাদীস গ্রন্থে যেসব বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনা করেন, সেটাই তাঁদের ফিক্বহ (বুঝ)। সুতরাং আসুন, তাঁদের বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনার ক্যাটাগরিটা দেখে নিই।
·

কুরবানির সংক্ষিপ্ত বিধিবিধান


·
[এটি একটি আরবি নিবন্ধের অনুবাদ। সম্মানিত শাইখ ড. ‘আলাউয়ী বিন ‘আব্দুল ক্বাদির আস-সাক্বক্বাফ (হাফিযাহুল্লাহ)’র তত্ত্বাবধানে ‘দুরারুস সানিয়্যাহ’ ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগ এই নিবন্ধ প্রণয়ন করেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধটি সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল ও সারগর্ভ হওয়ায়, আমরা এর সরল বঙ্গানুবাদ বাঙালি মুসলিম পাঠকবর্গের করকমলে পেশ করছি। জ্ঞাতব্য যে, আমরা অনূদিত নিবন্ধের কলেবর ছোটো করার জন্য আরবি ভূমিকাটি এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি মূল আলোচনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুবাদ করেছি। – অনুবাদক]
·
❏ প্রথম পরিচ্ছেদ: উদ্বহিয়্যাহ তথা কুরবানির পরিচয়, বৈধতা, ফজিলত ও হিকমাহ
১. উদ্বহিয়্যাহ’র পরিচয়:
আভিধানিক অর্থে, যে পশুকে কুরবানি করা হয় তথা ইদুল আজহার দিনগুলোতে জবেহ করা হয়, তাকেই উদ্বহিয়্যাহ বা কুরবানি বলে। উদ্বহিয়্যাহ’র বহুবচন হলো আদ্বাহী।
পারিভাষিক অর্থে, আল্লাহ’র নৈকট্য অর্জনের জন্য ইদুল আজহার দিন থেকে শুরু করে আইয়্যামে তাশরীক্বের (১১, ১২ ও ১৩ই যুলহাজ্ব) শেষদিন পর্যন্ত যে গৃহপালিত চতুষ্পদ পশুকে কুরবানি করা হয়, তাকে উদ্বহিয়্যাহ তথা কুরবানি বলা হয়।
·
২. কুরবানির বৈধতা:
কুরবানি শরিয়তসম্মত হওয়ার ব্যাপারে ‘আলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এই ইজমা‘ (মতৈক্য) বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনু কুদামাহ, ইমাম ইবনু দাক্বীক্ব আল-‘ঈদ, ইমাম ইবনু হাজার, ইমাম শাওকানী, ইমাম শানক্বীত্বী ও ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন।
·
৩. কুরবানির ফজিলত:
প্রথমত, কুরআন থেকে: মহান আল্লাহ বলেছেন, ذَٰلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ “এটাই হলো আল্লাহ’র বিধান; যে আল্লাহ’র নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরস্থ তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত।” [সূরাহ হাজ্ব: ৩২] আর কুরবানির পশু মহান আল্লাহ’র নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত, সুন্নাহ থেকে: বারা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেছেন, مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا يَذْبَحُ لِنَفْسِه وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُه وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ “যে ব্যক্তি (ইদের) নামাজের আগে জবেহ করেছে, সে কেবল নিজের জন্যই জবেহ করেছে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পরে জবেহ করেছে, সে তার কুরবানি পূর্ণ করেছে। আর সে মুসলিমদের রীতি অনুসারেই করেছে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫৫৫৬]
তৃতীয়ত, আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে জবেহ করা এবং কুরবানি করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য কামনা করা সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ তাঁর মহান কিতাবের একাধিক জায়গায় নামাজের সাথে জবেহ করার বিষয়টি মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন, জবেহের উচ্চ মর্যাদা ও বড়ো অবস্থানের কারণে।
·
৪. কুরবানির বিধানের হিকমাহ:
ক. জীবনের মতো নেয়ামতের জন্য আল্লাহ’র প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করা
খ. ইবরাহীম (‘আলাইহিস সালাম) এর সুন্নাহ’র পুনরুজ্জীবন:
যখন মহান আল্লাহ ইবরাহীম (‘আলাইহিস সালাম) কে তাঁর পুত্র ইসমা‘ঈল (‘আলাইহিস সালাম) এর বিনিময়ে প্রদত্ত কুরবানিকে জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন। আর এখন মু’মিন ব্যক্তি ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল (‘আলাইহিমাস সালাম) এর ধৈর্যের কথা এবং নিজের জীবন ও পুত্রের ওপর আল্লাহ’র আনুগত্য ও ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা স্মরণ করবে। পুত্রকে কুরবানি দেওয়ার পরীক্ষা-রীতি উঠিয়ে নেওয়ার এবং পুত্রের বিনিময়ে পশু কুরবানি দেওয়ার রীতি চালু হওয়ার কারণ ছিলেন তাঁরা দুজনেই। মু’মিন যখন এ কথা স্মরণ করবে, তখন সে আল্লাহ’র আনুগত্যের ওপর ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে এবং অন্তরের চাওয়া ও প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহ’র ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের দুজনকে অনুসরণ করবে।
গ. এতে নিজেকে এবং পরিবারকে স্বচ্ছল করার মাধ্যম রয়েছে:

ঋণ করে কুরবানির পশু ক্রয় করার বিধান


·
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يشرع للفقير أن يستدين لكي يضحي؟
الجواب: الفقير الذي ليس بيده شيء عند حلول عيد الأضحى لكنه يأمل أن يحصل، كإنسان له راتب شهري، أو أنه في يوم العيد ليس في يده شيء لكنه يستطيع أن يستقرض من صاحبه ويوفي إذا جاء الراتب فهذا يمكن أن نقول له: لك أن تستقرض إذن وتضحي ثم توفي، ْ أما إذا كان لا يأمل الوفاء عن قريب فإننا لا نستحب له أن يستقرض ليضحي؛ لأن هذا يستلزم إشغال ذمته بالدين ومنّ الناس عليه، ولا يدري هل يستطيع الوفاء أو لا يستطيع.
প্রশ্ন: “কুরবানি দেওয়ার জন্য অভাবী ব্যক্তির ঋণ করা কি শরিয়তসম্মত?”
উত্তর: “ইদুল আজহার সময় যে অভাবী ব্যক্তির কাছে অর্থকড়ি থাকে না, কিন্তু সে ঋণ পরিশোধের আশা রাখে। যেমন: কোনো ব্যক্তি মাসিক বেতন পায়, তবে ইদের দিনে তার কাছে অর্থ নেই। কিন্তু সে তার সঙ্গীর কাছ থেকে অর্থ ধার করে পরবর্তীতে বেতনের টাকা থেকে দেনা পরিশোধ করে দেয়। এ ব্যক্তিকে আমরা বলব, ‘তাহলে তুমি ধার করে কুরবানি দাও, পরে ধার পরিশোধ করে দিয়ো।’ পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অল্প কিছুদিনের মধ্যে ঋণ পরিশোধের আশা রাখে না, সে ব্যক্তির ঋণ করে কুরবানি দেওয়াকে আমরা মুস্তাহাব বলি না। কেননা এর ফলে ঋণের চুক্তি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়া এবং মানুষের অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী হওয়া তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সে জানে না যে, আদৌ সে তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবে, না কি পারবে না।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১০৯-১১০; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) আরেকটি ফাতওয়ায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, وأما من لا يأمل الحصول على قيمتها من قرب فلا ينبغي أن يستدين للأضحية “যে ব্যক্তি নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে বলে মনে করে না, তার জন্য কুরবানির পশু ক্রয় করার নিমিত্তে ঋণ করা বাঞ্ছনীয় নয়।” [প্রাগুক্ত; খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১১০]
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কুরবানির গোশত দেওয়ার বিধান


·
বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ও মুহাদ্দিস, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন—
وأما إعطاء الجزار أجرته منها فلا يجوز. وأما إعطاؤه هدية منها فلا بأس به.
“কুরবানির পশুর কোনো অংশ কসাইকে তার পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া না-জায়েজ। তবে তাকে তা থেকে উপঢৌকন হিসেবে কিছু দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১১০; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] কে প্রশ্ন করা হয়েছে—
ماذا على الذي جعل شيئا من أضحيته أجرا للجزار؟
فأجاب بقوله: يتوب إلى الله.
السائل: وإذا كان يعلم ذلك؟ فهل عليه أضحية جديدة؟
الشيخ: لا، ما عليه أضحية جديدة.
“যে ব্যক্তি তার কুরবানির পশুর কিয়দংশ দিয়ে কসাইয়ের পারিশ্রমিক দিয়েছে, তার ওপর কী বিধান বর্তাবে?”
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) জবাবে বলেছেন, “সে আল্লাহ’র কাছে তওবা করবে।”
প্রশ্নকারী: “সে যদি এ ব্যাপারে না জেনে থাকে, তাহলে কি তাকে নতুন কুরবানি দিতে হবে?”
শাইখ: “না, তার ওপর কোনো নতুন কুরবানি নেই।” [ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর; ৫৬৪ নং অডিয়ো ক্লিপ]
·
উৎস: আজুর্রি (ajurry) ডট কম।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ইদের নামাজের আগে কুরবানির পশু জবেহ করা কি জায়েজ?


·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يجوز ذبح الأضحية عند صلاة فجر العيد ؟
الإجابة: لا يجوز ذبح الأضحية عند صلاة فجر العيد، ووقت الذبح يوم العيد بعد الصلاة، وقدرها في حق من لا صلاة عنده كالبادية؛ لما روى جندب بن عبد الله رضي الله عنه، أن النبيصلى الله عليه وسلم قال: «من ذبح قبل أن يصلي فليذبح مكانها أخرى»، وقوله صلى الله عليه وسلم: «من صلى صلاتنا ونسك نسكنا فقد أصاب النسك، ومن ذبح قبل أن يصلي فليعد مكانها أخرى». متفق عليه. وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
প্রশ্ন: “ইদের দিন ফজর নামাজের সময় কুরবানির পশু জবেহ করা কি জায়েজ?”
উত্তর: “ইদের দিন ফজর নামাজের সময় কুরবানির পশু জবেহ করা জায়েজ নয়। জবেহ করার সময় হলো ইদের দিন ইদের নামাজের পর। আর যার ইদের নামাজ নেই—যেমন নির্জন প্রান্তরে অবস্থানকারী ব্যক্তি—তার জন্য জবেহের সময় হলো অন্যান্যদের ইদের নামাজ সমপরিমাণ সময়ের পর। জুনদুব বিন ‘আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করেছে, সে যেন এর স্থলে আবার জবেহ করে।” (সাহীহ বুখারী, হা/৫৫৬২) তিনি ﷺ আরও বলেছেন, “যে আমাদের মতো নামাজ পড়বে এবং আমাদের কুরবানির মতো কুরবানি করবে, তার কুরবানি যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে নামাজের পূর্বে জবেহ করেছে, সে যেন তদস্থলে আবার জবেহ করে।” (সাহীহ বুখারী, হা/৯৫৪ ও ৯৫৮; সাহীহ মুসলিম, হা/১৯৬২ ও ৪৯৬৬)
আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
·
তথ্যসূত্র:
ফাতাওয়া লাজনাহ দা’ইমাহ, ফাতওয়া নং: ২১৫৭; গৃহীত: ফাতাওয়া আহকামিল উদ্বহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪; দারুল ইখলাসি ওয়াস সাওয়াব, আলজিয়ার্স কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৪ হি./২০১৩ খ্রি. (২য় প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Wednesday, 15 August 2018

যারা শুধু সফর অবস্থায় শরীকানায় কুরবানী করা বৈধ মনে করেন তাদের দলীল নির্ভর প্রতিবাদ


আল হামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ:
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কুরবানী করা একটি প্রমাণিত ইবাদত, যাকে অধিকাংশ উলামা সুন্নতে মুআক্কাদাহ (তাগিদী সুন্নত) বলেছেন এবং ক্ষমতাবানদের তা পরিত্যাগ করা অনুচিত মনে করেছেন। [আল্ মুগনী, ইবনু কুদামাহ, ১৩/৩৬০, ফিকহুস্ সুন্নাহ, সাইয়্যেদ সাবেক,৩/১৯৫]
তাই প্রতি বছর যখন কুরবানীর সময় উপস্থিত হয়, তখন মুসলিম সমাজে এই ইবাদতটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। মুসলিম ভাইয়েরা তাদের সাধ্যানুযায়ী ছাগল, ভেড়া, গরু ও উট দ্বারা কুরবানী দিয়ে থাকেন। অনেকে গরু বা উটে শরীক হয়ে ৭ ভাগের এক-দুই ভাগেও কুরবানী দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই সময় একটি প্রসঙ্গ প্রায় প্রায় উঠে আসে যে, এই রকম শরীকানায় কুরবানী দেওয়া বৈধ না অবৈধ? অনেকের ধারণা, মুকীম ব্যক্তি [মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি] উট-গরুর সাত ভাগের কোন এক ভাগে অংশী হয়ে কুরবানী দিতে পারে না। কারণ স্বরূপ তারা মনে করেন, শরীকানায় কুরবানী দেয়াটা মুসাফির বা সফরের সাথে সম্পৃক্ত; মুকীমের সাথে নয়। তাই এই বিষয়টির শারয়ী সমাধানার্থে কিছু আলোকপাত করার মনস্থ করেছি। ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।
এ বিষয়ের দুটি পরিভাষা: আমরা শুরুতে কুরবানী সংক্রান্ত দুটি পরিভাষা জেনে নিব যা, আমাদের আলোচ্য বিষয়টি ভাল ভাবে জানতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
উযহিয়া: (আমাদের সমাজে যা কুরবানী নামে পরিচিত) সেই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা কুরবানীর দিন সমূহে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বাড়িতে যবাই করা হয়। [আল্ মুলাখ্খাস আল্ ফিকহী/২১৩]হাদ্ঈ: সেই চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানীর দিনগুলিতে হারামে (মক্কায়) যবাই করা হয় ‘তামাত্তু’ কিংবা ‘কিরান’ হজ্জ করার কারণে কিংবা হজ্জ বা উমরার কোন ওয়াজিব কাজ ছুটে যাওয়ার কারণে কিংবা ইহরাম অবস্থার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার কারণে। [ফিক্হ বিশ্বকোষ,৫/৭৪, শব্দ উয্হিয়্যাহ] যেহেতু এই পশুকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাদীয়া করা হয়, তাই তাকে হাদ্ঈ বলে। [আল্ মুলাখ্খাস আল ফিকহী, ড.ফাউযান,৩১৩]
উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যটি হচ্ছে, হাদ্ঈ হজ্জ বা উমরা পালনকারীর পক্ষ থেকে মক্কায় যবাই করা হয় এবং উযহিয়া হজ্জ বা উমরা পালনকারী নয়, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজ বাসস্থানে যবাই করা হয়।
হজ্জ ও উমরায় হাদ্ঈতে শরীক হওয়ার প্রমাণ: হজ্জ কিংবা উমরা করার সময় একটি হাদ্ঈতে সাত ব্যক্তি শরীক হয়ে কুরবানী দেয়ার একাধিক প্রমাণ সহীহ হাদীসে বিদ্যমান। আমরা এখানে তারই কয়েকটি উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।
عن جابرٍ، قال: خرجنا مع رسولِ الله صلى الله عليه و سلم مُهِلِّيْنِ بالحَجِّ فأمرنا رسول الله صلى الله عليه و سلم أن نشترِكَ في الإبل والبقرِ، كل سبعةٍ منا في بَدَنَةٍ. رواه مسلم
“জাবের (রাযি:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সা:) এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অতঃপর তিনি (সা:) আমাদের উট ও গরুতে শরীক হওয়ার আদেশ দেন। আমাদের মধ্যে প্রত্যেক সাত জনকে একটি উটে”। [মুসলিম, অধ্যায়, হাজ্জ, অনুচ্ছেদ নং ৬২, হাদীস নং ৩৫১]
عن جابر بن عبد الله، قال: حججنا مع رسول الله صلى الله عليه و سلم، فنحرنا البعير عن سبعة، والبقرة عن سبعة. رواه مسلم
আবদুল্লার পুত্র জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হজ্জ করলাম। অতঃপর সাত জনের পক্ষে একটি উট নহর করলাম এবং সাত জনের পক্ষে একটি গাভী। [মুসলিম, অধ্যায়, হাজ্জ, অনুচ্ছেদ নং৬২, হাদীস নং ৩৫১]
এ প্রসঙ্গে জাবের (রাযি:) কর্তৃক বর্ণিত আরো কয়েকটি হাদীস সহীহ মুসলিমের উপরোক্ত অনুচ্ছেদে দেখা যেতে পারে।

Friday, 26 August 2016

উট-গরুতে শরীকানায় কুরবানী দেয়া প্রসঙ্গ


লেখক: আব্দুর রাকীব (মাদানী)
দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার, খাফজী, সউদী আরব।
সম্পাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী
আল হামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ:
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কুরবানী করা একটি প্রমাণিত ইবাদত, যাকে অধিকাংশ উলামা সুন্নতে মুআক্কাদাহ (তাগিদী সুন্নত) বলেছেন এবং ক্ষমতাবানদের তা পরিত্যাগ করা অনুচিত মনে করেছেন। [আল্ মুগনী, ইবনু কুদামাহ, ১৩/৩৬০, ফিকহুস্ সুন্নাহ, সাইয়্যেদ সাবেক,৩/১৯৫]
তাই প্রতি বছর যখন কুরবানীর সময় উপস্থিত হয়, তখন মুসলিম সমাজে এই ইবাদতটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। মুসলিম ভাইয়েরা তাদের সাধ্যানুযায়ী ছাগল, ভেড়া, গরু ও উট দ্বারা কুরবানী দিয়ে থাকেন। অনেকে গরু বা উটে শরীক হয়ে ৭ ভাগের এক-দুই ভাগেও কুরবানী দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই সময় একটি প্রসঙ্গ প্রায় প্রায় উঠে আসে যে, এই রকম শরীকানায় কুরবানী দেওয়া বৈধ না অবৈধ? অনেকের ধারণা, মুকীম ব্যক্তি [মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি] উট-গরুর সাত ভাগের কোন এক ভাগে অংশী হয়ে কুরবানী দিতে পারে না। কারণ স্বরূপ তারা মনে করেন, শরীকানায় কুরবানী দেয়াটা মুসাফির বা সফরের সাথে সম্পৃক্ত; মুকীমের সাথে নয়। তাই এই বিষয়টির শারয়ী সমাধানার্থে কিছু আলোকপাত করার মনস্থ করেছি। ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।
এ বিষয়ের দুটি পরিভাষা: আমরা শুরুতে কুরবানী সংক্রান্ত দুটি পরিভাষা জেনে নিব যা, আমাদের আলোচ্য বিষয়টি ভাল ভাবে জানতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
  • উযহিয়া: (আমাদের সমাজে যা কুরবানী নামে পরিচিত) সেই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা কুরবানীর দিন সমূহে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বাড়িতে যবাই করা হয়। [আল্ মুলাখ্খাস আল্ ফিকহী/২১৩]
  • হাদ্ঈ: সেই চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানীর দিনগুলিতে হারামে (মক্কায়) যবাই করা হয় ‘তামাত্তু’ কিংবা ‘কিরান’ হজ্জ করার কারণে কিংবা হজ্জ বা উমরার কোন ওয়াজিব কাজ ছুটে যাওয়ার কারণে কিংবা ইহরাম অবস্থার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার কারণে। [ফিক্হ বিশ্বকোষ,৫/৭৪, শব্দ উয্হিয়্যাহ] যেহেতু এই পশুকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাদীয়া করা হয়, তাই তাকে হাদ্ঈ বলে। [আল্ মুলাখ্খাস আল ফিকহী, ড.ফাউযান,৩১৩]
উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যটি হচ্ছে, হাদ্ঈ হজ্জ বা উমরা পালনকারীর পক্ষ থেকে মক্কায় যবাই করা হয় এবং উযহিয়া হজ্জ বা উমরা পালনকারী নয়, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজ বাসস্থানে যবাই করা হয়।

Friday, 3 October 2014

কুরবানী করার পদ্ধতি



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

(ক) উট দাঁড়ানো অবস্থায় এর ‘হলক্বূম’ বা কণ্ঠনালীর গোড়ায় কুরবানীর নিয়তে ‘বিসমিল্লা-হি আল্লাহু আকবার’ বলে অস্ত্রাঘাতের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে ‘নহর’ করতে হয় এবং গরু বা ছাগলের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে বাম কাতে ফেলে ‘যবহ’ করতে হয়।[13]
কুরবানী দাতা ধারালো ছুরি নিয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে দো‘আ পড়ে নিজ হাতে খুব জলদি যবহের কাজ সমাধা করবেন, যেন পশুর কষ্ট কম হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজের ডান পা দিয়ে পশুর ঘাড় চেপে ধরতেন। যবহকারী বাম হাত দ্বারা পশুর চোয়াল চেপে ধরতে পারেন।
1382813_10151934181937722_1499192989_n
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজ হাতে যবহ করেছেন। অন্যের দ্বারা যবহ করানো জায়েয আছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি নিজ হাতে করা অথবা যবহের সময় স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করা উত্তম। ১০, ১১, ১২ যিলহাজ্জ তিন দিনের রাত-দিন যে কোন সময় কুরবানী করা যাবে।[14]

Tuesday, 30 September 2014

অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানী করা প্রসঙ্গে


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানী করা
লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের।সম্পাদনা: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানী কারাকে ‘ভাগে কুরবানী দেয়া’ বলা হয়। ভেড়া, দুম্বা, ছাগল দ্বারা এক পরিবারের পক্ষ থেকে একটা পশু কুরবানী করতে পারবেন। আর উট, গরু, মহিষ দ্বারা সাত জনের নামে সাতটি কুরবানী করা যাবে। তবে অংশীদারি ভিত্তিতে কুরবানী করার দু‘টি পদ্ধতি হতে পারে-
১.সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। যেমন-কয়েক জন মুসলিম মিলে একটি বকরি ক্রয় করল। অত:পর একজনকে ঐ বকরির মালিক বানিয়ে দিল। বকরির মালিক বকরিটি কুরবানী করল। যে ক‘জন মিলে বকরি খরিদ করেছিল সকলে সওয়াবের অংশীদার হলো।

জিলহজের প্রথম দশদিনের ফযীলত এবং ঈদ ও কুরবানীর বিধান


রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

জিলহজের প্রথম দশদিনের ফযীলত এবং ঈদ ও কুরবানীর বিধান

লেখকঃ আব্দুল মালেক আল-কাসেম । অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
জিলহজ মাসের দশদিনের ফযীলত :
আল্লাহ তা‌’আলার অশেষ মেহেরবানী যে, তিনি নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু মৌসুম করে দিয়েছেন, যেখানে তারা প্রচুর নেক আমল করার সুযোগ পায়, যা তাদের দীর্ঘ জীবনে বারবার আসে আর যায়। এসব মৌসুমের সব চেয়ে বড় ও মহত্বপূর্ণ হচ্ছে জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন।

Saturday, 27 September 2014

আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নিষ্ঠুর?


আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নিষ্ঠুর?
Western World এ পশু জবাইয়ের প্রচলিত নিয়ম(CPB Method): 
Captive bolt pistol(CPB ) নামের এক ধরনের যন্ত্র দ্বারা পশুর কপালে প্রচন্ড আঘাত করা হয়। ধারনা করা হয় এতে পশু unconscious হয়ে পড়ে এবং জবাইয়ের পর ব্যথা অনুভব করে না।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...