·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
শিরোনামের বিষয়টির সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা খুব ভালো করেই জানেন—বাংলাদেশে কারা এই বিষয়ে ফিতনা ছড়িয়েছেন এবং এখনও ছড়াচ্ছেন। সেজন্য তাদের নাম মেনশন করছি না। কিন্তু তাদের ছড়ানো ফিতনা এবং বাতিল দাবির মূলোৎপাটন করা জরুরি মনে করছি। কারণ তাদের কেউ কেউ জোর গলায় বলছেন, “যারা মুক্বীম (মুসাফির নয় এমন) অবস্থায় শরিক কুরবানি জায়েজ বলেন—তারা গোঁড়ামি করছেন, তারা হক থেকে দূরে রয়েছেন!” লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
যাইহোক, বেশি কথা না বাড়িয়ে আসুন, মূল আলোচনা শুরু করি। আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।
·
এটা সর্বজনবিদিত যে, ছাগলে শরিক কুরবানি বৈধ নয়। সুতরাং, সেটা আমাদের আলোচনার বিষয়ও নয়। আমরা আলোচনা করব উট ও গরুতে শরিক কুরবানির বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে। যাইহোক মুক্বীম-মুসাফির সর্বাবস্থায় উট ও গরুতে শরিক হওয়া নাবী ﷺ এর একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস এবং ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণের মহামূল্যবান বাণী ও ফাতাওয়া দ্বারা প্রমাণিত ও সুসাব্যস্ত। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কয়েকটি হাদীস নিম্নরূপ—
এটা সর্বজনবিদিত যে, ছাগলে শরিক কুরবানি বৈধ নয়। সুতরাং, সেটা আমাদের আলোচনার বিষয়ও নয়। আমরা আলোচনা করব উট ও গরুতে শরিক কুরবানির বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে। যাইহোক মুক্বীম-মুসাফির সর্বাবস্থায় উট ও গরুতে শরিক হওয়া নাবী ﷺ এর একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস এবং ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণের মহামূল্যবান বাণী ও ফাতাওয়া দ্বারা প্রমাণিত ও সুসাব্যস্ত। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কয়েকটি হাদীস নিম্নরূপ—
১. ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ الأَضْحَى فَاشْتَرَكْنَا فِي الْجَزُورِ عَنْ عَشَرَةٍ وَالَبَقَرَةِ عَنْ سَبْعَةٍ “আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ছিলাম। ইতোমধ্যে কুরবানির ঈদ এসে গেল। আমরা একটি উট দশজনে এবং একটি গরু সাতজনে শরিক হয়ে কুরবানি করলাম।” [তিরমিযী, হা/৯০৫; নাসাঈ, হা/৪৩৯২; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩১; সনদ: সাহীহ (তাহক্বীক্ব: আলবানী)]
২. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, نَحَرْنَا بِالْحُدَيْبِيَةِ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ “আমরা হুদাইবিয়াহ নামক স্থানে নাবী ﷺ এর সাথে একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরুও সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছি।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮; আবূ দাউদ, হা/২৮০৯; তিরমিযী, হা/৯০৪, ১৫০২, নাসাঈ, হা/৪৩৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩২]
৩. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُنَّا نَتَمَتَّعُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعُمْرَةِ فَنَذْبَحُ الْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ نَشْتَرِكُ فِيهَا “আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে তামাত্তু‘ হজ করেছি। তখন আমরা সাত শরিকে মিলে একটি গরু কুরবানি করেছি।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮; শেষোক্ত হাদীস দুটি একই নম্বরের আওতায় বর্ণিত হয়েছে, শাইখ ফুআদ ‘আব্দুল বাক্বী’র তারক্বীম (নাম্বারিং) অনুযায়ী]
কেউ কেউ কুরবানিতে শরিক হওয়া সফর ও হজের সাথে খাস (নির্দিষ্ট) করেছেন। কারণ উপরিউক্ত হাদীসগুলোতে শুধু সফরের কথা এসেছে। আমরা বলি, তাদের এই খাসকরণের পিছনে কোনো দলিল নেই। এই খাসকরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্ভট এবং দলিলবিহীন। আমরা পয়েন্ট আউট করে তাদের এই অযৌক্তিক কথা এবং দলিলবিহীন বিভ্রান্তির দলিলভিত্তিক জবাব দিব, ইনশাআল্লাহ।
·
❏ বিভ্রান্তির অপনোদন:
শরিকানা (ভাগা) কুরবানিকে যারা সফরের সাথে খাস বলে দাবি করছেন, তাদের এই ভ্রান্ত দাবির জবাব নিম্নরূপ:
·
প্রথমত, উপরিউক্ত হাদীসগুলো বা শরিকানা কুরবানি সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীসগুলোর মধ্যে কোনো একটি হাদীসেও বলা হয়নি যে, মুক্বীম অবস্থায় কুরবানিতে শরিক হওয়া বৈধ নয়। একবারও এ কথা বলা হয়নি যে, শরিকানা কুরবানি শুধুমাত্র সফরের সাথেই খাস।
প্রথমত, উপরিউক্ত হাদীসগুলো বা শরিকানা কুরবানি সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীসগুলোর মধ্যে কোনো একটি হাদীসেও বলা হয়নি যে, মুক্বীম অবস্থায় কুরবানিতে শরিক হওয়া বৈধ নয়। একবারও এ কথা বলা হয়নি যে, শরিকানা কুরবানি শুধুমাত্র সফরের সাথেই খাস।
·
দ্বিতীয়ত, সম্মানিত মুহাদ্দিসগণ যেভাবে কুরবানি অধ্যায়ে হাদীসগুলো এনেছেন; এ থেকেও বুঝা যায় যে, তাঁরা ওই সব হাদীসকে সফরের সাথে খাস হওয়া বুঝেননি। এটা সুবিদিত যে, মুহাদ্দিসগণ তাঁদের হাদীস গ্রন্থে যেসব বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনা করেন, সেটাই তাঁদের ফিক্বহ (বুঝ)। সুতরাং আসুন, তাঁদের বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনার ক্যাটাগরিটা দেখে নিই।
দ্বিতীয়ত, সম্মানিত মুহাদ্দিসগণ যেভাবে কুরবানি অধ্যায়ে হাদীসগুলো এনেছেন; এ থেকেও বুঝা যায় যে, তাঁরা ওই সব হাদীসকে সফরের সাথে খাস হওয়া বুঝেননি। এটা সুবিদিত যে, মুহাদ্দিসগণ তাঁদের হাদীস গ্রন্থে যেসব বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনা করেন, সেটাই তাঁদের ফিক্বহ (বুঝ)। সুতরাং আসুন, তাঁদের বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনার ক্যাটাগরিটা দেখে নিই।
·

