Friday, 11 September 2026

ইয়েমেনে হুথি মিলিশিয়ার নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র—নতুন প্রতিবেদন:

 


ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ পরিসংখ্যান:

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া বেসামরিক ইয়েমেনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৮,৯০৪টি হত্যা ও আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছে।

🔴 নিহত: ১৭,১১৫ জন (এর মধ্যে ১,৪১৪ জন নারী, ১,১৫৬ জন শিশু)

🟠 আহত: ৪১,৭৮৯ জন (এর মধ্যে ৬,৭১০ জন নারী, ৫,০২৪ জন শিশু)

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে হুথিদের পুঁতে রাখা স্থলমাইনের কারণেই ঘটেছে ১,৬৩৭টি মৃত্যু ও ৬,১৩৫টি আহতের ঘটনা — যার শিকার হয়েছে বহু শিশু ও নারী। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৭৯৮ জন (এর মধ্যে ৩৯৭ জন শিশু) স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছেন।

▪️ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে:

- মসজিদ: প্রায় ৭৫০টি (আংশিক/সম্পূর্ণ ধ্বংস, গোলাবর্ষণ ও লুটপাটসহ) — এর মধ্যে ২৯৯টি সরাসরি পরিকল্পিত ভাঙচুর/ধ্বংসের শিকার।

- মাদ্রাসা (কুরআন হিফজ প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ যৌথ হিসাব): ৭৬টি 

- সরাসরি বিস্ফোরণে ধ্বংস

ঘরবাড়ি: ১০,০০০-এর বেশি (শুধু তাইজ প্রদেশের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত/ধ্বংসপ্রাপ্ত — জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক সংখ্যা পাওয়া যায়নি)

সূত্র: ইয়েমেনি ওয়াকফ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন (২০১৭-২০২৬)

 বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাতে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বিপর্যস্ত, এই পরিসংখ্যান তারই এক করুণ প্রতিচ্ছবি। 🇾🇪💔

সূত্র: ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস / আল-আরাবিয়া।

ইরানের খোমেনি বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হয়ে একই স্টাইলে এই হুতি মিলেশিয়ারা ইয়েমেনে শিয়া বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুরু করেছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম।‌ আর এর পেছনে পূর্ণ উৎসাহ, রসদ-সামগ্রী, অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থ যোগান দিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরান। 

যার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। 

হাদি রিয়াদে আশ্রয় নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা চান, যাতে হুথি মিলিশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইয়েমেন ও তার জনগণকে রক্ষা করা যায়।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৯ বা ১০টি আরব-মুসলিম দেশের একটি জোট "অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম" (عاصفة الحزم) নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যা বর্তমানেও ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন উপজাতিগোষ্ঠীর সাথে সমন্বিত ভাবে সাথে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

আল্লাহ তায়ালা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং তাদের সাহায্যকারীদেরকে ধ্বংস করুন, ইয়েমেন এবং সে  দেশের নিরপরাধ জনগণকে হেফাজত করুন এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে আনুন প্রকৃত শান্তি। আল্লাহুম্মা আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল 

ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতী শিয়াদের আসল চেহারা

  


ভূমিকা

الْحَمْدُ لِلّهِ والصَّلاَةُ السَّلامُ عَلي رَسُوْلِ اللهِ وعَلى آلِه وصَحْبِه ومَنْ وَالَاه وبَعْدُ:


ভূমিকা: হুতী নামটি বর্তমানে অনেকের কাছে পরিচিত। যাদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বিরুদ্ধে সউদী আরবের নেতৃত্বে ‘আসিফাতুল হাযম’ নামে একটি যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাভাষী অনেকেই এই হুতী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখে না। ফলে বিভিন্ন শিয়া প্রভাবিত এবং ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়ার কারণে অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। অথচ মুসলিম বিশ্বের উপর এই ঘটনা-প্রবাহের সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ছে এবং পড়বে-তাতে কোন সন্দেহ নাই। তাই এ সম্পর্কে মুসলিম যুবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।


এই প্রেক্ষাপটে সউদী আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত কিং সউদ ইউনিভার্সিটি’র ‘আকীদা ও সমকালীন মতবাদ’ এর অধ্যাপক প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন সালিহ আল গুসন রচিত বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি অনুবাদ করা হল যেন,বাংলাভাষী মুসলিমগণ এই ফিতনার ব্যাপারে সচেতন হতে পারে।


অত্র পুস্তিকাটিতে শিয়া হুতী সম্প্রদায়ের উৎস, পরিচিতি, ক্রমবিকাশ,কার্যক্রম, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রাসাঙ্গিক ভাবে রাফেযিয়া-ইমামিয়া-ইসনা আশারিয়া সম্প্রদয়ের মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।


আল্লাহ তায়ালা তার জমিনে সত্যের পতাকা উড্ডীন করুন। বাতিল ও মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করে দিন এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।


-অনুবাদক:


আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

তারিখ: ১৯-০৪-২০১৫ইং

বইটি ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:


হুতী শিয়াদের আসল চেহারা (ওয়ার্ড)

হুতী শিয়াদের আসল চেহারা (পিডিএফ)

 

 হুতীদের উৎস ও পরিচয়

হুতীরা হল, উত্তর ইয়েমেনের সা’দাহ[1] এলাকার একটি সম্প্রদায়ের নাম। এদের উৎপত্তি জারুদীয়া সম্প্রদায় থেকে। জারুদিয়া হল, শিয়া-যায়দিয়াদের একটি গোঁড়া ও উগ্রপন্থী ফিরকা।


হুতীরা রাফেযিয়া-ইসনা আশারিয়া সম্প্রদায়ের মত উগ্রপন্থী আকীদা-বিশ্বাস প্রচার শুরু করে এবং ইরানের সাহায্য-সহযোগিতা ও আশির্বাদ পুষ্ট হয়ে শিয়া বিপ্লবের নায়ক খোমেনীর আদর্শ ও পদ্ধতির আলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করতে থাকে।


হুতী সম্প্রদায়ের পরিচয়ের আগে জারুদিয়াদের সম্পর্কে আলোকপাত করা প্রয়োজন। যাতে স্পষ্ট হয়, জারুদিয়া সম্প্রদায় ভূক্ত এই হুতী এবং রাফেযিয়া ইসনা আশারিয়াদের মাঝে কতটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে আর কিভাবে তারা ইমামিয়া-ইসনা আশারিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।


[1] ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ২৪২ কি:মি: দূরে অবস্থিত একটি জেলা।

 

 জারুদিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয়

প্রতিষ্ঠাতা: জারুদিয়ার সম্প্রদায়টির নাম করণ হয় আবুল জারুদ নামক এক ব্যক্তির নামানুসারে। তার পুরো নাম, যিয়াদ বিন মুনযির আল হামাদানী আল কূফী।

Thursday, 10 September 2026

রাত কেন্দ্রিক ২৮টি কুসংস্কার



▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

ভূমিকা: ইসলামের দৃষ্টিতে সমস্ত কল্যাণ-অকল্যাণের চাবিকাঠি রয়েছে একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। তার লিখিত তকদিরের বাইরে কেউ কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন বস্তু ও জড়পদার্থ নিজে নিজে কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন পাখির ডাক বা পশুর আওয়াজ মানুষের জন্য কল্যাণ বা অকল্যাণকর বলে বিবেচিত হতে পারে না, কোন বৈধ কাজ কখনো অশুভ হতে পারে না তা রাত বা দিন যখনই করা হোক না কেন। এটা দেখলে এই হয়..ওটা দেখলে ঐ হয় এগুলো সব কুসংস্কার ও জাহেলিয়াত পূর্ণ বিশ্বাস। ইসলাম এ সব ভ্রান্ত বিশ্বাসের কঠোর বিরোধিতা করেছে।

মূলত: মানুষের তৈরি যুক্তিহীন এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস, কথা, কাজ ও প্রথাকে সহজ বাংলায় কুসংস্কার বলা হয়।

ইসলামের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অশিক্ষা যাবতীয় কুসংস্কার সৃষ্টির মূল কারণ। মানুষ চরম অন্ধবিশ্বাসে নানা ধরণের কুসংস্কার লালন করে। সাধারণত গ্রামীণ লোকজনের মাঝে কুসংস্কারের প্রভাব ও প্রবণতা একটু বেশি লক্ষ করা যায়। তবে শহুরে লোকজন এসব থেকে মুক্ত নয়। এমনকি বহু নাম করা নায়ক, নায়িকা, গায়ক, গায়িকা, খেলোয়াড়, রাজনৈতিক নেতা, সিলিব্রিটি, লেখক সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন রয়েছে।

মৃতদেহে ধাতব প্লেট, নাট বা স্ক্রু থাকলে তা বের করা যাবে কি?

 


প্রশ্ন: কারো শরীরের ভেতরে যদি লোহা, স্টিল বা এ জাতীয় কোনও ধাতুর তৈরি প্লেট, নাট বা স্ক্রু থাকে এবং এমতাবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে কি তাকে এইসব জিনিসসহই দাফন করা হবে নাকি অপারেশন করে তা শরীর থেকে বের করে নিতে হবে? এ ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কী?

উত্তর:

শরিয়তের মূলনীতি হলো, জীবিত মানুষের মতো মৃত মানুষেরও পূর্ণ সম্মান ও হুরমত রয়েছে।যার কারণে শরিয়ত কারণ ছাড়া তার দেহ কাটাছেঁড়া করা জায়েজ নাই।। এ কারণে কোনও ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার শরীরে প্ল্যাটিনামের স্ক্রু বা লোহার প্লেট ইত্যাদি আছে তাহলে শরিয়তের বিধান হলো, তাকে তা-সহই দাফন করা হবে। এগুলো বের করার জন্য শরীর অপারেশন বা কাটাছেঁড়া করা জায়েজ হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে,

«إِنَّ كَسْرَ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا»

"মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙা জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙার মতোই।" [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬১৬]

ব্যতিক্রম কেবল তখনই, যখন ধাতুটি অন্য কারও অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হয় এবং তারা তা দাবি করে, আর তা বের করতে গিয়ে লাশের বড় কোনও বিকৃতি ঘটে না। সাধারণ চিকিৎসা সরঞ্জাম, যেমন:—লোহার নাট, স্ক্রু কিংবা পেসমেকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনও অপারেশন ছাড়াই তা-সহ দাফন সম্পন্ন করতে হবে।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...