Showing posts with label সালাম. Show all posts
Showing posts with label সালাম. Show all posts

Monday, 16 March 2015

মদিনায় গমনকারীদের মারফতে রাসূলের জন্য সালাম পাঠানোর বিধান




মদিনায় গমনকারীদের মারফতে রাসূলের জন্য সালাম পাঠানোর বিধান

প্রশ্ন: হাজীদের যারা মদিনায় গমন করেন তাদের মারফতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্য সালাম প্রেরণের বিধান কি? 
উত্তর: 
আলহামদু লিল্লাহ,
এ কাজটি শরিয়ত সম্মত নয়। এ ধরণের আমলের প্রচলন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ছিল না। এবং মুসলমান আলেমরা এ ধরনের কোন আমল করেছেন তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ, যে কোন মুসলমানের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাম দেয়া, দুনিয়ার যে কোন স্থান হতেই সম্ভব। আর আল্লাহ তায়ালা দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি এ সালাত ও সালামকে তার ফেরেশতাদের মাধ্যমে পৌছে দেবেন, যাদের তিনি এ দায়িত্বেই নিয়োজিত করেছেন। মনে রাখতে হবে, যে কোন ব্যক্তি যে কোন স্থান হতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাম দেবে, তার সালাম অবশ্যই পৌছানো হবে, এতে কোনরূপ সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নাই। সুতরাং, মদিনা মুনাওয়ারা যিয়ারতকারীকে সালাম পৌছানোর দায়িত্ব দেয়ার কোন প্রয়োজন নাই। তার সম্পর্কে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না যে, সে কি পৌছতে পারবে নাকি পথে মারা যাবে! অথবা সে কি ভুলে যাবে নাকি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে?
আব্দুল্লাহ বিন মাসদ রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
পৃথিবীতে আল্লাহর কতক ভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছে, তারা আমার উম্মাতের সালাম আমার নিকট পৌছে দেয়। (নাসায়ী:১২৮২)‌‌ শায়খ আলবা‌‌নি সহিহ তারগিবে(১৬৬৪)হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন। 

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবর বানাবে না, আর আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করবে না। আর আমার উপর দরূদ পাঠ কর, কারণ, তোমাদের সালাত আমার নিকট পৌঁছানো হয়, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন। আবু দাউদ(২০৪২); আল্লামা আলবানি হাদিসটিকে সহিহ আল-জামেতে(৭২২৬) সহিহ বলে মন্তব্য করেছেন। 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার আদেশ, তার মাহাত্ম্য ও শব্দাবলী




আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦﴾ (الاحزاب: ٥٦) 
“নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর নবীর প্রতি সালাত-দরুদ পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” (সূরা আহযাব ৫৬ আয়াত)
1/1405 وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاص، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلاَةً، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْراً» . رواه مسلم
১/১৪০৫। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিততিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবেআল্লাহ তার দরুন তার উপর দশবার দুরুদ পাঠ করবেন।” (মুসলিম) [1]

2/1406 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه:أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَوْلَى النَّاسِ بِي يَومَ القِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلاَةً» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن .
২/১৪০৬। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চাইতে আমার বেশী নিকটবর্তী হবেযে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আমার উপর দরূদ পড়বে।” (তিরমিযীহাসান) [2]
3/1407 وَعَنْ أَوسِ بنِ أَوسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَومَ الجُمُعَةِ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاةِ فِيهِ، فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ». قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ ؟! قَالَ: يَقُولُ بَلِيتَ . قَالَ: «إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ» . رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح
৩/১৪০৭। আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। সুতরাং ঐ দিন তোমরা আমার উপর অধিকমাত্রায় দরূদ পড়। কেননাতোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” লোকেরা বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তো (মারা যাওয়ার পর) পচে-গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ পয়গম্বরদের দেহসমূহকে খেয়ে ফেলা মাটির উপর হারাম করে দিয়েছেন।” (বিধায় তাঁদের শরীর আবহমান কাল ধরে অক্ষত থাকবে।) (আবু দাউদবিশুদ্ধ সানাদ) [3]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরূদ) পড়ার অর্থ, ফযিলত, পদ্ধতি ও স্থানসমূহ




ভূমিকা
  إِنَّ الْحَمْدُ للهِ ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ ، وَنَعُـوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا ، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا ، مَنْ يَّهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ ، وَمَنْ يُّضْلِلِ اللهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তারই প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য চাই, তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্টতা ও আমাদের কর্মসমূহের মন্দ পরিণতি থেকে আশ্রয় কামনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে গোমরাহ করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনোসত্যিকার ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সালাত ও সালাম নাযিল হোক তার উপর, তার পরিবার-পরিজন ও তার সাহাবীদের উপর এবং যারা কিয়ামত অবধি এহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেন তাদের উপর।

জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হল সময়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময়ের সমুদ্র খুব দ্রুত বয়ে যায়। কোথাও থেমে যায়না কিংবা কারও অপেক্ষা করে না। এটি সময়ের মেহেরবানী যে, সে অনবরত চলতে থাকে এবং আমাদেরকে জীবনের দুঃখ-দুর্দশা ও মুসিবত সহ্য করার উপযোগী করে তুলে। সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সে যে সময়কে কাজে লাগাতে পারে। আবহমান সময় মনের দুঃখের উৎকৃষ্ট উপশম। যদি সময় থেমে যায় তাহলে মনে হয় পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকা অসম্ভব হবে। আর প্রত্যেক মানুষ দুঃখের স্বরূপ ও বিষণ্ণতার ভাস্কর্য মনে হবে।
আমরা যারা হাদিস অধ্যয়ন করি, পড়ি বা লিখি তারা, অবশ্যই নবীকুল শিরোমণিমুত্তাকীদের ইমামসারা জাহানের জন্য রহমতপাপীদের জন্য আল্লাহর অনুমতিক্রমে শাফাআতকারী এবং সত্য পথের প্রদর্শক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুবারক নাম মুখ দিয়ে বার বারউচ্চারণ করে থাকি। সত্যবাদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের এক সাথী উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কতই না সত্য কথা বলেছেন যে, হে কাব! যদি তুমি তোমার সম্পূর্ণ সময় আমার উপর দরূদ পড়ার জন্য ব্যয় করে দাও তাহলে তোমার দুনিয়া ও আখিরাতের দুশ্চিন্তা ও দুঃখের জন্য তা যথেষ্ট হবে।[1]

Friday, 23 January 2015

সালাম ও তার বিধি-বিধান





ভূমিকা


الحمد لله رب العالمين وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله  وعلى آله وأصحابه أجمعين، 
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সমগ্র সৃষ্টিকুলের রব্ব। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই তিনি একক তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। সালাত ও সালাম নাযিল হোক তার উপর তার পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর। 

হে পাঠক ভাইয়েরা! ‘আসসালামু আলাইকুম ওরাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ আল্লাহ তোমাদের দয়া করুক! 

তোমরা অবশ্যই একটি কথা মনে রাখবে, মুসলিমদের মধ্যে সালামের প্রচার-প্রসার ইসলামের একটি মহান ঐতিহ্য ও বিশেষ সৌন্দর্য। আর সালাম পরস্পর সালাম বিনিময় করা একজন মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের অধিকার ও দায়িত্ব। এ ছাড়াও সালাম বিনিময় করা ঈমানের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়-মুসলিমদের মধ্যে পরস্পর মহব্বত ও ভালোবাসা- যা একজন মুসলিমকে জান্নাতে নিয়ে যায়, তা সৃষ্টির কারণ হয়। যেমন- আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,   
«لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا، ولا تؤمنوا حتى تحابوا، ألا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم» رواه مسلم
“তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একে অপরকে ভালবাসবে না, আর আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিস বাতলায়ে দেব যা করলে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভালো বাসবে? এ কথার উত্তরে তিনি বলেন, তোমারা বেশি বেশি করে সালামকে প্রসার কর”। [বর্ণনায় মুসলিম] 

‘আস-সালাম’ আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ হতে একটি অন্যতম নাম এবং এটি জান্নাতের নামসমূহ হতে একটি জান্নাতের নাম। জান্নাতিরা জান্নাতে পরস্পরকে সালাম দ্বারা সম্বোধন করবেন এবং তাদের পরস্পরের শুভেচ্ছা বিনিময় হবে ‘সালাম’। মনে রাখবে, তুমি যখন একজন মুসলিম ভাইকে (السلام عليكم ورحمة الله وبركاته) বললে, এ কথার অর্থ হল, তুমি তোমার একজন মুসলিম ভাইয়ের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, রহমত ও বরকতের জন্য দো‘আ করলে এবং তার জন্য যাবতীয় কল্যাণ কামনা করলে। সালামের আদান-প্রদান দ্বারা মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয় এবং পারস্পরিক মহব্বত বৃদ্ধি পায়। তাদের মধ্য হতে পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ ও দুশমনি দূর হয়। সালামের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে মিল-মহব্বত ও ভালোবাসার বীজ বপন করা হয়। সালাম ব্যাপক করা দ্বারা একজন মুসলিম বিনয়ী হয়; তার মধ্যে কোন প্রকার অহংকার থাকে না। সে কারো উপর বড়াই করে না। যে ব্যক্তি সালাম দেয়, সে ছোট বড়, ধনী দরিদ্র, সম্মানী অসম্মানী, চেনা অচেনা সবাইকে সালাম দেয়।

Sunday, 16 November 2014

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরূদ) পড়ার অর্থ, ফযিলত, পদ্ধতি ও স্থানসমূহ



ভূমিকা
  إِنَّ الْحَمْدُ للهِ ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ ، وَنَعُـوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا ، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا ، مَنْ يَّهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ ، وَمَنْ يُّضْلِلِ اللهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তারই প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য চাই, তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্টতা ও আমাদের কর্মসমূহের মন্দ পরিণতি থেকে আশ্রয় কামনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে গোমরাহ করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনোসত্যিকার ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সালাত ও সালাম নাযিল হোক তার উপর, তার পরিবার-পরিজন ও তার সাহাবীদের উপর এবং যারা কিয়ামত অবধি এহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেন তাদের উপর।

জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হল সময়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময়ের সমুদ্র খুব দ্রুত বয়ে যায়। কোথাও থেমে যায়না কিংবা কারও অপেক্ষা করে না। এটি সময়ের মেহেরবানী যে, সে অনবরত চলতে থাকে এবং আমাদেরকে জীবনের দুঃখ-দুর্দশা ও মুসিবত সহ্য করার উপযোগী করে তুলে। সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সে যে সময়কে কাজে লাগাতে পারে। আবহমান সময় মনের দুঃখের উৎকৃষ্ট উপশম। যদি সময় থেমে যায় তাহলে মনে হয় পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকা অসম্ভব হবে। আর প্রত্যেক মানুষ দুঃখের স্বরূপ ও বিষণ্ণতার ভাস্কর্য মনে হবে।
আমরা যারা হাদিস অধ্যয়ন করি, পড়ি বা লিখি তারা, অবশ্যই নবীকুল শিরোমণিমুত্তাকীদের ইমামসারা জাহানের জন্য রহমতপাপীদের জন্য আল্লাহর অনুমতিক্রমে শাফাআতকারী এবং সত্য পথের প্রদর্শক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুবারক নাম মুখ দিয়ে বার বারউচ্চারণ করে থাকি। সত্যবাদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের এক সাথী উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কতই না সত্য কথা বলেছেন যে, হে কাব! যদি তুমি তোমার সম্পূর্ণ সময় আমার উপর দরূদ পড়ার জন্য ব্যয় করে দাও তাহলে তোমার দুনিয়া ও আখিরাতের দুশ্চিন্তা ও দুঃখের জন্য তা যথেষ্ট হবে।[1]

Tuesday, 16 September 2014

সালাম বিনিময় বা সম্ভাষণের ইসলামী পদ্ধতি



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ।এখানে সব সমস্যার সমাধান রয়েছে।তেমনি ভাবে আমরা কিভাবে পরষ্পরের মধ্যে সম্ভাষণ বিনিময় করবো তাও উল্লেখ রয়েছে।তাই আমি তা নিচে বর্ণনা করছি:
সালাম আরবী শব্দ।এর অর্থ শান্তি,প্রশান্তি কল্যাণ,দোআ,আরাম,আনন্দ,তৃপ্তি।
সালাম একটি সম্মানজনক অভ্যর্থনামূলক অভিনন্দন সুলভ শান্তিময় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামী অভিবাদন।
181
সালামের উত্পত্তি:

Monday, 11 August 2014

সালাতরত অবস্থায় সালাম দিলে

সহিহ আত্ তিরমিজি ::  সালাত অধ্যায়
অধ্যায় ২ :: হাদিস ৩৬৮
. মাহমূদ ইবন গায়লান () .... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন : আমি বিলালকে বললাম, সালাতরত অবস্থায় সালাম দিলে রাসূল কিভাবে এর জওয়াব দিতেন? তিনি বললেন : তখন হাতে ইশারা করতেন।

قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَحَدِيثُ صُهَيْبٍ حَسَنٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ عَنْ بُكَيْرٍ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قُلْتُ لِبِلَالٍ كَيْفَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ حَيْثُ كَانُوا يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ فِي مَسْجِدِ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ قَالَ كَانَ يَرُدُّ إِشَارَةً وَكِلَا الْحَدِيثَيْنِ عِنْدِي صَحِيحٌ لِأَنَّ قِصَّةَ حَدِيثِ صُهَيْبٍ غَيْرُ قِصَّةِ حَدِيثِ بِلَالٍ وَإِنْ كَانَ ابْنُ عُمَرَ رَوَى عَنْهُمَا فَاحْتَمَلَ أَنْ يَكُونَ سَمِعَ مِنْهُمَا جَمِيعًا
 ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.  () বলেন : এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুহায়ব () বর্ণিত হাদীসটি (৩৬৫ নং) হাসান। এটি লায়স ইবন বুকায়র ()-এর সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
 যায়দ ইবন আসলাম রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর সূত্রে ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: আমি বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহ-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বনূ আমর ইবন আওফ-এর মসজিদে সালাতরত অবস্থায় রাসূল -কে সালাম দিলে তিনি কিভাবে-এর উত্তর দিয়েছিলেন ? বললেন : ইশারায় জবাব দিতেন।
  ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.  বলেন : বিলাল সুহায়ব উভয়ের হাদীস ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ রিওয়ায়াত করেছেন বটে, তবে আমার নিকট উভয় হাদীসই সহীহ। বিলাল-এর হাদীসটির প্রেক্ষাপট সুহায়ব-এর হাদীসটির প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন। সম্ভবত ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ উভয়ের নিকট থেকেই হাদীস শুনেছেন।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About Making Signals During Salat
Part 2 :: Hadith 368
Ibn Umar narrated:

"I said to Bilal: 'How did the Prophet (S) reply to them when they gave him Salams and he was performing Salat?' He said: 'He would motion with his hand.'" (Hasan)

Friday, 8 August 2014

ডানে ও বামে সালাম

সহিহ আত্ তিরমিজি :: সালাত অধ্যায়
অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৯৫
মুহাম্মাদ ইবন বাশ্শার () ....... আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসুল তাঁর ডানে বামে সালাম ফিরাতেন এবং বলতেন: আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

قَالَ وَفِي الْبَاب عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَالْبَرَاءِ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَمَّارٍ وَوَائِلِ بْنِ حُجْرٍ وَعَدِيِّ بْنِ عَمِيرَةَ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَقَ
এই বিষয়ে সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, ইবন ঊমর, জাবির ইবন সামূরা, বারা, আবূ সাঈদ, আম্মার, ওয়ায়ল ইবন হুজর, আদী ইবন আমীর, জাবির ইবন আব্দিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.  () বলেন : আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
 অধিকাংশ সাহাবী পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম [আবূ হানীফা], সুফইয়ান সাওরী, ইবন মুবারক, আহমদ ইসহাক ()- এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About The Taslim For Salat
Part 2 :: Hadith 295
Abdullah narrated:
"The Prophet would say the Salam from his right and from his left (saying): (As-Salamu alaikum wa rahmatullah, as-Salamu alaikum wa rahmatullah) 'Peace be upon you, and Allah's mercy. Peace be upon you, and Allah's mercy.'" (Sahih)


Wednesday, 23 July 2014

“সালামের প্রচার-প্রসার ঘটাও“ (সালাম সংক্রান্ত বিধিবিধান)



মূল: আবদুল মালেক আল কাসেম
অনুবাদ: আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশংসা মাত্র এক আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর  উপর যার পর আর কোন নবী নেই।
সালাম একটি প্রাচীন সুন্নাত যা আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু হয়ে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হওয়া অবধি বিদ্যমান থাকবে। ইহাই জান্নাত বাসীদের শুভেচ্ছা। আর জান্নাতে তাদের শুভেচ্ছা হবে সালাম-শান্তি। ইহা নবী-আম্বিয়াদের সুন্নাত, মুত্তাকীদের স্বভাবগত গুণ খাঁটি মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। অথচ ইদানীং কালে মুসলমানদের মধ্যে প্রকাশ্য নির্লজ্জতা ও সুস্পষ্ট বিভক্তি বিরাজিত। দেখা যাচ্ছে, একজন মুসলিম আরেক মুসলিম ভায়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছে অথচ তাকে ইসলামের শুভেচ্ছা তথা সালাম প্রদান করে না। অনেকে তো পরিচিত ব্যক্তিকেই শুধু সালাম প্রদান করে। আবার কেউ অপরিচিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সালাম পেলে বিরক্ত হয়।
 এমনকি কোন কোন লোক তো সালাম প্রদান কারীকে মন্দ ভেবে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি আমাকে চেন?… এগুলো সবই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের বিরোধিতা। যে কারণে আন্তরিকভাবে পারষ্পরিক দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। দলাদলি ও বিভক্তি বৃদ্ধি লাভ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না মুমিন না হওয়া পর্যন্ত।  আর তোমরা মুমানি হবে না যতক্ষণ না পরস্পরকে না  ভালবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন পদ্ধতির কথা বলে দিব না যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালবাসতে পারবে? তা হল, তোমাদের মধ্যে বেশী বেশী করে সালাম প্রচার ও প্রসার করবে।” (মুসলিম)
বুখারী ও মুসলিমের যৌথ বর্ণনায় এসেছে: “এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: ইসলামের কোন বিশিষ্টটি সর্বোত্তম? তদুত্তরে তিনি বলেন: তুমি খাবার খাওয়াবে এবং যাকে চেন অথবা চেন না সবাই (মুসলিম)কে কে সালাম প্রদান করবে।
অত্র হাদীছে মুসলমানদের মধ্যে সালাম প্রসার করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সালাম শুধু তোমার পরিচিত ও সাথী মহলের সাথেই খাস নয় বরং তা সমস্ত মুসলিমের জন্য। সাহাবী ইবনে উমর (রা:) বাজারে যাওয়ার সময় বলতেন: “আমরা বাজারে যাচ্ছি সালাম প্রদানের জন্য। সুতরাং যাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হবে তাদেরকে আমরা সালাম দিব।”
মূলত: সালাম মুসলিম ব্যক্তির বিনয়, অপরকে ভালবাসার দলীল স্বরূপ। হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা, অহংকার, অপরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা ইত্যাদি মন্দ গুণ থেকে তার অন্তর পরিষ্কার থাকার প্রতি এই সালাম ইঙ্গিত করে। ইহা মুসলমানদের একে অপরের প্রতি ন্যায় অধিকার সমূহের অন্যতম অধিকার। এই সালামই পরস্পরিক পরিচিতি, একতা, প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসা সৃষ্টি করার মাধ্যম। নেকী অর্জন ও জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ। ইহার প্রসার ও প্রচারে রয়েছে নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত পুনর্জীবিত করণ।
নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: পাঁচটি  জিনিস একজন মুসলিম ব্যক্তির উপর অপর ভাইয়ের জন্য করা ওয়াজিব। যথা:
  • ১) সালামে জবাব দেওয়া,
  • (২) হাঁচির জবাব দেয়া অর্থাৎ হাঁচি দিয়ে হাঁচিদাতা আলহামদুলিল্লাহ বললে তার উত্তরে ইয়ার হামুকাল্লাহ বলা
  • (৩) দাওয়াত কবূল করা
  • (৪) রোগীর দেখা-শুনা করা
  • (৫) জানাজায় উপস্থিত হওয়া। (অর্থাৎ জানাজা নামায পড়া ও দাফনে শরীক হওয়া)। (মুসলিম)
কেউ সালাম দিলে নবীর নির্দেশের অনুসরণে তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব। আবু সাঈদ খুদরী (রা:) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমরা মানুষ চলাচলের রাস্তায় বসা হতে সাবধান। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ঐখানে বসে পরস্পরে আলাপ করা ছাড়া কোন উপায় নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমরা যদি একান্ত বসতেই চাও তাহলে পথের হক আদায় করবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! পথের হক কি? তিনি বললেন: (নিষিদ্ধ বিষয় দেখা থেকে) চক্ষু নত রাখা, (কাউকে) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, ন্যায়ের আদেশ দেয়া ও অন্যায় থেকে নিষেধ করা। (বুখারী ও মুসলিম)
ইমাম নাওয়াভী (রহ) বলেন: (হে পাঠক) একথা অবগত হবেন যে, সালামের চর্চা করা তথা সালাম দেওয়া সুন্নাত। তবে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি সালাম প্রদানকারী একটি জামায়াত হয় তবে তাদের জন্য সালাম দেওয়া সুন্নতে কেফায়া (অর্থাৎ একজন সালাম দিলেই সকলের পক্ষ হতে এ সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে আর কেউ সালাম না দিলে সকলেই সুন্নাত পরিত্যাগ কারী বলে গণ্য হবে)। সুতরাং একজন সালাম দিলেই সকলের পক্ষ থেকে সালামের সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। যাকে সালাম দেয়া হল সে যদি এক জন ব্যক্তি হয় তবে তাকেই জবাব দেয়া আবশ্যক। আর যদি তারা এক জামায়াত (দল) হয়, তবে জবাব দেয়া তাদের জন্য ফরযে কেফায়া। যদি তাদের মধ্যে থেকে একজন সালামের জবাব দিয়ে দেয় তবে গুনাহ মুক্ত হয়ে যাবে। অবশ্য উত্তম হল প্রত্যেকেই শুরুতেই সালাম দিবে এবং (উপস্থিত) প্রত্যেকেই সালামের জবাব দিবে।
সালামের পদ্ধতি:
ইমাম নাওয়াভী বলেন: সালামের সর্বনিম্ন শব্দ হল: (السلام عليكم) আসসালামু আলাইকুম বলা। যাকে সালাম দেয়া হচ্ছে সে যদি একক ব্যক্তি হয়, তবে তার জন্য সর্ব নিম্ন শব্দ হল: (السلام عليك) আসসালামু আলায়কা বলা। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হল (السلام عليكم) বলা যাতে করে এ সালাম তাকে ও তার দুই ফেরেশতাকেও শামিল করে। এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গরূপ হল: (ورحمة الله) ওয়া রহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করে বলা, অনুরূপ ভাবে (وبركاته) ওয়া বারাকাতুহু শব্দ বৃদ্ধি করে বলা আরও উত্তম। যদি কেউ  (سلام عليكم) সালামুন আলাইকুম বলে তবুও তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
সালামের জবাব:
ইমাম নাওয়াভী বলেন: সালামের জওয়াব দেয়ার সর্বোত্তম ও পূর্নাঙ্গ পদ্ধতি হল: ( وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته)ওয়া আলাইকুমাসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহ্‌ বলা। অর্থাৎ আলাইকুম, এর পূর্বে (و) ওয়াও অক্ষরটি উল্লেখ করবে। তা বাদ দিলেও জায়েজ আছে তবে সেটা উত্তম পদ্ধতি হবে না। কেউ যদি সালামের জবাবে শুধু ওয়া আলাই কুমুস্‌ সালাম বলে তবে তা যথেষ্ট হবে। তবে যদি শুধু (عليكم) আলাইকুম বলে তবে সকল বিদ্বানের নিকটেই তা যথেষ্ট হবে না।
সালামের স্তর:
তিনটি স্তরে সালাম বিভক্ত:
  • ১) সর্বোচ্চ, পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম রূপ হল: (السلام عليكم ورحمة الله وبركاته) আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু বলা।
  • ২) এর তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের হল (আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্‌) বলা।
  • ৩) সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের হল: আসসালামু আলাইকুম বলা।
মুসলিম ব্যক্তি হয় পূর্ণাঙ্গ নেকী নিবে অথবা তার চেয়ে কম নেকী নিবে অর্থাৎ সালাম অনুযায়ী সে কম বেশী সওয়াব পাবে। এজন্যই হাদীছে এসেছে যে, একজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল অতঃপর আসসালামু আলাইকুম বলল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে ছিলেন, সাহাবায়ে কেরাম তার সাথেই ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন: (ওয়া আলাইকুমুস সালাম) তুমি ১০টি নেকি পেয়েছ। এরপর অপর এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করত: ”আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্‌” বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ্‌। তুমি ২০টি নেকি পেয়েছো। অতঃপর আরও একজন ব্যক্তি প্রবেশ করত: ”বলল আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহ্‌ – তুমি পেয়েছো ৩০টি নেকি। হাদীছটি আবু দাঊদ, তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। অত্র হাদীছে ১০, ২০, ৩০টি বলতে ঐ পরিমাণ নেকী বুঝানো হয়েছে।
সালামের কতিপয় আদব:
১) পথে দুজনের সাক্ষাত হলে সুন্নত হল আরোহী ব্যক্তি পদব্রজে চলমান ব্যক্তিকে, কম সংখ্যক মানুষ বেশী সংখ্যক মানুষকে সালাম দিবে। ছোট বড়কে সালাম দিবে। নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:  আরোহী ব্যক্তি পদব্রজে চলা ব্যক্তিকে, চলমান ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তিকে, কম সংখ্যক বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দিবে। (মুসলিম)
২) সালাম দানকারী ব্যক্তির উচিত, মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তার শুভেচ্ছা বাণী যেন শুধুমাত্র সালামের মাধ্যমেই হয়। সাবাহাল খায়ের, শুভ সকাল, গুড মর্নি, মারহাবা, অথবা হ্যালো ইত্যাদি যেন না হয়। সালাম দিয়েই শুরু করে অতঃপর সমাজে প্রচলিত উপরোক্ত শব্দাবলী বা অন্য যে কোন বৈধ শব্দাবলী দ্বারা স্বাগত জানাতে কোন অসুবিধা নাই।
৩) মুসলিম ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হল: সে যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশ করবে সালাম দিবে। কারণ সালামের মাধ্যমে বরকত নাযিল হয়। যদি ঘরে কেউ না থাকে তবে বলবে: আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন আমাদের উপর এবং আল্লাহ্‌র সৎ বান্দাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক। (মুসলিম)
৪) শ্রোতাকে বিরক্ত করে না, ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে তোলে না- এই ধরণের স্বরে সালাম প্রদান করা উচিত। হযরত মেক্বদাদ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:  আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য তার অংশ দুধ উঠিয়ে রাখতাম। তিনি রাত্রে আসতেন এবং এমনভাবে সালাম প্রদান করতেন যে তা ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করত না অথচ জাগ্রত ব্যক্তির কর্ণ গোচর হত। (মুসলিম)
৫) পুনরায় সালাম দেয়া এবং তার পুনরাবৃত্তি করা ঐ ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব যে তার ভাই থেকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পৃথক হয়েছিল। আবু হোরায়রা হতে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ স্বীয় (মুসলিম) ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে যেন তাকে সালাম দেয়। যদি উভয়ের মধ্যে গাছ, দেওয়াল বা পাথর অন্তরায় হয় অতঃপর আবার সে তার সাথে সাক্ষাৎ করে তবুও সে যেন তার ভাইকে সালাম করে। (অবূ দাঊদ)
৬) পুরুষ মহিলাকে সালাম দেয়া, অনুরূপ ভাবে মহিলা পুরুষকে সালাম প্রদান করা জায়েজ। সুতরাং মহিলা তার মাহারাম (বিবাহ যাদের সাথে বৈধ নয় এমন) ব্যক্তিদেরকে সালাম দিবে এবং তাদের সালাম এর উত্তর দেয়াও তার উপর ওয়াজিব। অনুরূপ ভাবে পুরুষ ব্যক্তি তার মাহরাম নারীদেরকে সালাম দিবে এবং তার উপর তাদের সালামের জওয়াব দেওয়া ওয়াজিব। যদি কোন মহিলা বেগানা হয় তবে তাকেও সালাম দেওয়া যাবে। আর যদি সে মহিলা সালাম করে, তার সালামেরও জওয়াব দিতে হবে। অবশ্য এ বিধান ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকাবস্থায় প্রযোজ্য। তাদের সাথে সালাম বিনিময় কোন প্রকার মুসাফাহা, নরম ভাষায় কথোপকথন বর্জন করতে হবে। কিন্তু সালাম লেন-দেন হলে যদি ফেতনা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা থাকে তবে তা থেকে নারী-পুরুষ উভয় পক্ষের জন্য বিরত থাকা আবশ্যক।
৭) মানুষের মধ্যে হাত দিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে সালাম দেওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। (সুতরাং এবিষয়ে কথা হল) যদি কোন মুসলিম ব্যক্তি দূরে থেকে সালাম দেয় এবং সাথে ইশারাও করে তবে তাতে কোন অসুবিধা নেই। যেহেতু সে (অর্থাৎ সালাম প্রদান কৃত ব্যক্তি) শুনতে পায় না। এমতাবস্থায় ইশারা করা সালাম দেয়ার প্রমাণ স্বরূপ। সালামের বিকল্প নয়। এভাবে প্রতি উত্তরেও বলা যায়। লক্ষণীয় বিষয় হল, হাত দ্বারা ইশারা করার সময় মুখেও সালাম উচ্চারণ করতে হবে। তাহলেই সালাম দেয়ার সওয়াব পাওয়া যাবে। অনুরূপভাবে সালামের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি লক্ষণীয়।
৮) কোন বৈঠক শেষে উঠার সময়ও সালাম দিয়ে বিদায় নেয়াও মুস্তাহাব। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যখন তোমাদের কেউ কোন মজলিসে পৌঁছে তখন সে যেন সালাম দেয়। মজলিস থেকে উঠার ইচ্ছা করলেও যেন সালাম দেয়। কারণ প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা বেশী হকদার নয়।
৯) সালাম দিয়ে মুসাফাহ করা (হাত মিলানো) বা তোমার মুসলিম ভাইয়ের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেওয়া মুস্তাহাব। নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: দু জন মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষাৎ কালীন পরস্পরে মুসাফাহা করলে পৃথক হওয়ার পূর্বেই তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী)
হযরত আনাস বিন মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে কোন ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তার সাথে মুসাফাহা করলে, তিনি স্বীয় হাত মোবারক ছোটাতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তার হাত টেনে না নিত। (তিরমিযী)
১০) সালামের সময় প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জল চেহারা ও মৃদু হাসার প্রতি আগ্রহী হোন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমার ভাইয়ের সামনে মুচকি হাঁসিটাও সদকা। তিনি আরও বলেন: ভালো কাজের কোন কিছুকেই খাটো করে দেখ না যদিও তা তোমার ভায়ের সাথে হাস্য মুখে সাক্ষাৎকার হয়। (মুসলিম)
১১) ছোট ছেলেদের সালাম দেয়া- যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম করতেন – মুস্তাহাব। এতে করে তাদের সামনে প্রফুল্লতা দেখানো হয়, তাদের অন্তরে বিশ্বস্ততার বীজ বপন করা হয়। তাদের অন্তরে ইসলামের শিক্ষা প্রথিত করা হয়।
১২) কাফেরদের প্রথমে সালাম দেয়া যাবে না। কারন নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমরা ইয়াহুদ ও নাসারাদেরকে প্রথমে সালাম প্রদান করো না। আর যদি তোমরা পথিমধ্যে তাদের কারো সাক্ষাৎ পাও তবে তাকে সংকীর্নতম পথে চলার প্রতি বাধ্য কর। (মুসলিম)
তিনি আরও বলেন: যখন তোমাদেরকে কিতাব ধারী গন (তথা ইয়াহুদী-খৃষ্টানগণ) সালাম দিবে তখন তোমরা বলবে ”ওয়ালাইকুম”। (বুখারী ও মুসলিম)
হে আল্লাহর বান্দাগণ! অন্তর সমূহকে পরস্পরের নিকটবর্তী করতে, আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও নেকী হাসিলের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের মাঝে এই সুন্নাতটি পুনর্জীবিত করুন। আল্লাহ আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মাদ ন ও তার পরিবার পরিজন ও সাহাবীদের উপর রহমতের বারী ধারা অবতীর্ণ করুন। আমীন।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...