Showing posts with label বেদাতী হুজুর. Show all posts
Showing posts with label বেদাতী হুজুর. Show all posts

Wednesday, 23 December 2015

ঈদে মীলাদুন্নবী (শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু শুদ্ধ?)


কয়েক বছর পূর্বে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার এক মসজিদে উপস্থিত হলাম প্রতিদিনের মত এশার নামাজ আদায় করতে। দেখলাম আজ মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ। অন্য দিনের চেয়ে কম হলেও মুসল্লীদের সংখ্যা দশগুণ বেশী। সাধারণত এ দৃশ্য চোখে পড়ে রমজান ও শবেকদরে। মনে করলাম হয়তো আজ কারো বিবাহ অনুষ্ঠান কিংবা জানাযা। এত লোক সমাগমের কারণ জিজ্ঞেস করলাম ইমাম সাহেবকে। তিনি বললেন আজ ১২ই রবিউল আউয়ালের রাত। মীলাদুন্নবীর উৎসবের রাত।
সম্মানিত পাঠক!
এ রাত ও পরবর্তী দিন ১২ ই রবিউল আউয়াল অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে এক সময় পালিত হত বৃহত্তর চট্রগ্রাম, নোয়াখালী,ও সিলেটের কিছু অঞ্চলে। দেশের অন্যান্য এলাকায়ও পালিত হত তবে তুলনামুলক কম গুরুত্বে । এ রাতে খাওয়া-দাওয়া,আনন্দ উৎসবে মুখর হয়ে উঠে অনেক পাড়া-মহল্লা। যারা এটা পালন করে তাদের উৎসব মুখরতা দেখলে মনে হবে নিশ্চয়ই এটা হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন। আর এটা তাদের অনেকে বিশ্বাসও করে। তাইতো শ্লোগান দেয়, দেয়ালে লিখে “সকল ঈদের সেরা ঈদ, ঈদে মীলাদ।”
কিন্তু বাস্তবে কি তাই? ইসলাম ধর্মে ঈদে মীলাদ বলতে কি কিছু আছে? ইসলামে ঈদ কয়টি? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম দিবস কি ১২ই রবিউল আউয়াল? নিশ্চিত ও সর্ব সম্মতভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত বা মৃত্যু দিবস কি ১২ই রবিউল আউয়াল নয়? যে দিনে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করলেন সে দিনে আনন্দ উৎসব করা কি নবী প্রেমিক কোন মুসলমানের কাজ হতে পারে? শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদ পালন করা কি জায়েয? এটা কি বিধর্মীদের অনুকরণ নয়?
এ সকল প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে এ সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস কবে?
কোন তারিখে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেছেন তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। অনেকের মতে তার জন্ম দিন হল ১২ই রবিউল আউয়াল। আবার অনেকের মতে ৯ ই রবিউল আউয়াল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে গবেষণা করে প্রমান করা সম্ভব হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন আসলে ছিল ৯ই রবিউল আউয়াল সোমবার। বর্তমান বিশ্বে সকলের নিকট সমাদৃত, সহীহ হাদীস নির্ভর বিশুদ্ধতম সীরাতগ্রন্থ হল ‘আর-রাহীক আল-মাখতূম’। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস সম্পর্কে এ গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫৭১ খৃস্টাব্দে ৯ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক ২০ এপ্রিল সোমবার প্রত্যুষে জন্ম গ্রহণ করেন। এটা গবেষণার মাধ্যমে প্রমান করেছেন যুগের প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মাদ সুলাইমান আল-মানসূর ও মিশরের প্রখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী মাহমূদ পাশা।

Wednesday, 30 July 2014

বেদাতী হুজুরের হাদিসের নামে জালিয়াতিঃ

বেদাতী হুজুরের হাদিসের নামে জালিয়াতিঃ
হাদীস গ্রন্থ সমূহের মধ্যে সহীহুল বুখারী বা সংক্ষেপে 'বুখারী' সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ।
এর মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়, 'আসমানের নিচে এবং আল্লাহর কিতাব (অর্থাত কোরানের) পরে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর্যোগ্য কিতাব'।
বুখারীর বিপরীতে অন্য একটি জাল হাদীসের কিতাব মুসলিমদের মাঝে বহুল প্রচলিত। আর তা হচ্ছে - 'মুখারী' হাদীস। এই গ্রথের হাদীসগুলো কোনো হাদীসের
কিতাবে পাওয়া যায়না, খালি কিছু মূর্খ মুসলমানের মুখে মুখে প্রচলিত, আর পাওয়া যাবে নেয়ামুল কুরান, মকসুদুল মুমিনিন, ফাযায়েলে আমল, পাঞ্জেগানা ওযীফা, খাবনামা ইত্যাদি নামে কিছু বেদাতী মুল্লাদের লেখা বই পুস্তকে।
উদাহরণ হিসেবে নিচে কয়েকটি মুখারী হাদীস পেশ করা হলোঃ -
১. "কেউ যদি ৭০ হাজার বার কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ে বা পড়ে মৃত ব্যক্তির জন্য উতসর্গ করে তাহলে সে বা ঐ মৃত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে।"
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা বলেন, এটি সহীহ বা জয়ীফ কোনো সনদেই বর্ণিত নেই।
মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যা ২৪/৩২৩, প্রচলিত জাল হাদীস ১৬২।
২. "ইসলামের প্রথম দিকে সাহাবীরা হাতের নিচে মূর্তি নিয়ে নামায পড়তো, আর এই জন্য রাসুল সা. রুকুর আগে ও পরে রউফুল ইয়াদাইন করতেন।"
সাহাবীদের সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেয়া এই কথাটি জাল, কোনো হাদীস গ্রন্থে নেই।
৩. "সাদ্দাদ দুনিয়াতে জান্নাত বানিয়েছলো।"
জাল হাদীস, মিথ্যা তাফসীর, কোনো প্রমান নেই।
৪. "ঊম্মতেত মতবিরোধ রহমত।"
ক্বুরান বিরোধী কথা
৫. "এক ওয়াক্ত নামায কাজা করলে ৮০ হোকবা বছর আগুনে পুড়তে হবে।"
৬. "চিল্লায় গিয়ে ১ টাকা দান করলে অত কোটি টাকার নেকী পাওয়া যাবে।"
তাবলিগিদের মিথ্যা ফযীলতের বয়ান।
৭. "হে নবী (মুহাম্মাদ সা.) আপনাকে সৃষ্টি না করলে আসমান জমীনের কোনো কিছুই স্রিষ্টি করতাম না।"
ইমাম সাগানী, আল্লামা পাটনী, মোল্লা আলী কারী, শায়খ আজলুনী, আল্লামা কাউকজী, ইমাম শওকানী, মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আল গুমারী, শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহ্লবী প্রমুখ হাদীস বিশারদ এটিকে জাল হাদীস, ভিত্তিহীন রেওয়ায়েত ও মিথ্যুকদের বানানো কথা বলেছেন।
রেফারেন্স দেখুন - রিসালাতুল মাওযুআত ৯, তাযকিরাতুল মাওজুআত ৮৬, আল মাসুন ১৫০, কাশফুল খাফা ২/১৬৪, আল জুউলুউল মারসু ৬৬, আল ফাওয়ায়েদুল মাজমুআ ২/৪১০, আল বুশীরী মাদেহুর রাসুলিল আযম ৭৫, ফাতওয়ায়ে আযিযীয়া ২/১২৩, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১/৭৭, প্রচলিত জাল হাদীস ১৮৬-১৮৭।
সর্বশেষ, যারা মুখারী হাদীস মানুষের মাঝে প্রচার করে বেড়াবে তাদের শাস্তি সম্পপ্রকে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেনঃ
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা খুজে নেয়।"
সহীহ বুখারীঃ ১/২১।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...