প্রাবন্ধিক: যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)
[বক্ষ্যমাণ লেখাটি সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড ও সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য আশ-শাইখ আল-‘আল্লামাহ আল-ফাক্বীহ আল-ইমাম ড. সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) প্রণীত “আহকামু সালাতিল ‘ঈদ” শীর্ষক দীর্ঘ প্রবন্ধ থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রবন্ধটি সংক্ষিপ্ত, সারগর্ভ ও দলিলসমৃদ্ধ হওয়ায়, আমরা প্রবন্ধটির একাংশের সরল বঙ্গানুবাদ বাঙালি মুসলিম পাঠকবর্গের করকমলে পেশ করছি। – অনুবাদক]
·
এক. গোসল ও সুন্দর পোশাক পরিধান করার মাধ্যমে ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। নাফি‘ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, أن ابن عمر رضي الله عنهما كان يغتسل يوم الفطر قبل أن يغدو إلى المصلى “ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।” [মুওয়াত্বত্বা ইমাম মালিক, সনদ: সাহীহ]
এক. গোসল ও সুন্দর পোশাক পরিধান করার মাধ্যমে ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। নাফি‘ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, أن ابن عمر رضي الله عنهما كان يغتسل يوم الفطر قبل أن يغدو إلى المصلى “ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।” [মুওয়াত্বত্বা ইমাম মালিক, সনদ: সাহীহ]
ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ثبت عن ابن عمر مع شدة اتباعه للسنة أنه كان يغتسل يوم العيد قبل خروجه “ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)—যিনি কি না প্রচণ্ডভাবে সুন্নাহ’র অনুসরণ করতেন—থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি ঈদের দিন (নামাজে) বের হওয়ার পূর্বে গোসল করতেন।” [যাদুল মা‘আদ, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৪৪২]
ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে এটাও সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি দুই ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, روى ابن أبي الدنيا والبهيقي بإسناد صحيح إلى ابن عمر أنه كان يلبس أحسن ثيابه في العيدين “ইবনু আবী দুনইয়া ও বাইহাক্বী (রাহিমাহুমাল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) পর্যন্ত বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) দুই ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন।” [ফাতহুল বারী, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৫১]
অত্র দুটি আসার ও অন্যান্য বর্ণনা থেকে অসংখ্য ‘আলিম দুই ঈদের দিন গোসল করা ও সুন্দর পোশাক পরিধান করাকে মুস্তাহাব সাব্যস্ত করেছেন।
·
দুই. ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে বের হওয়ার পূর্বে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। তিনটি, বা পাঁচটি, বা এর চেয়ে বেশি সংখ্যক খেজুর খাবে, কিন্তু বিজোড় সংখ্যায় খাবে। যেহেতু আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন, كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ لَا يَغْدُوْ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ وَيَأْكُلَهُنَّ وِتْرًا “রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে (ঈদগাহে) বের হতেন না। আর তিনি বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন।” [সাহীহ বুখারী, হা/৯৫৩]
দুই. ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে বের হওয়ার পূর্বে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। তিনটি, বা পাঁচটি, বা এর চেয়ে বেশি সংখ্যক খেজুর খাবে, কিন্তু বিজোড় সংখ্যায় খাবে। যেহেতু আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন, كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ لَا يَغْدُوْ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ وَيَأْكُلَهُنَّ وِتْرًا “রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে (ঈদগাহে) বের হতেন না। আর তিনি বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন।” [সাহীহ বুখারী, হা/৯৫৩]
·
তিন. ঈদের দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে ঈদগাহে যাওয়া পর্যন্ত তাকবীর দেওয়া এবং তা সজোরে পাঠ করা—তবে মহিলারা চুপে চুপে তাকবীর দিবেন—সুন্নাত। ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেছেন, أن رسول الله كان يكبر يوم الفطر من حيث يخرج من بيته حتى يأتي المصلى “রাসূল ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে ঈদগাহে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর দিতেন।” [দারাকুতনী, সনদ: সাহীহ (শাইখ ফাওযানের মতে)]
তিন. ঈদের দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে ঈদগাহে যাওয়া পর্যন্ত তাকবীর দেওয়া এবং তা সজোরে পাঠ করা—তবে মহিলারা চুপে চুপে তাকবীর দিবেন—সুন্নাত। ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেছেন, أن رسول الله كان يكبر يوم الفطر من حيث يخرج من بيته حتى يأتي المصلى “রাসূল ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে ঈদগাহে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর দিতেন।” [দারাকুতনী, সনদ: সাহীহ (শাইখ ফাওযানের মতে)]
নাফি‘ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, أن ابن عمر كان إذا غدا يوم الفطر ويوم الأضحى يجهر بالتكبير حتى يأتي المصلى، ثم يكبر حتى يأتي الإمام، فيكبر بتكبيره “ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন যখন (নামাজের জন্য) বের হতেন, তখন ঈদগাহে আসার পূর্ব পর্যন্ত উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর দিতেন। এরপর ইমাম আসার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাকবীর দিতেন। তারপর তিনি ইমামের তাকবীরের সাথে তাকবীর দিতেন।” [দারাকুত্বনী, সনদ: সাহীহ (শাইখ ফাওযানের মতে)]
