Showing posts with label কুরাআন. Show all posts
Showing posts with label কুরাআন. Show all posts

Sunday, 22 November 2015

প্রশ্নঃ আমরা শুনেছি সূরা মুলক তেলাওয়াত করলে তা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে, এই হাদিস কি সহি?


উত্তরঃ সূরা মুলক (৬৭ নং সূরা) তেলাওয়াতের ফজিলত সমূহ বর্ণনা করা হলঃ

1. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সূরা মুলক তার পাঠকারীর জন্য কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত শাফায়াত করতে থাকবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে হবে। -তিরমিযী
.
2. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কুরআনের তিরিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকেক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)।- তিরমিযী (২৮৯১),সুনানে আবু দাউদ(১৪০০), ইবনে মাজাহ (৩৭৮৬)
.
3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা মুলক পাঠ না করে কখনও ঘুমাতেন না। - তিরমিযী (২৮৯২), মুসনাদে আহমাদ (১৪৬৫৯)
.
4. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে সূরা মুলক থাকা পছন্দ করি। - ফতহুল বয়ান।

Sunday, 4 October 2015

কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) - প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড



অনুবাদ: শেইখ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | প্রকাশনায়ঃ কিং ফাহাদ হোলি কমপ্লেক্স, সৌদি আরব
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে । ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক মহান আল্লাহ তা’আলার, যিনি তার পবিত্র কুরআনে এই মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন,
قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ
“তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সুস্পষ্ট গ্রন্থ”
আল্লাহর কিতাবের প্রতি গুরুত্বারোপ ও এর প্রচার সহজ করা এবং প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে এর বিতরণ নিশ্চিত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ ও তাফসীর করা সম্বলিত খাদেমুল হারামাইন আশ-শারফাইন বাদশাহ সালমান ইবন আব্দুল আযীয আলে সাউদ-এর নির্দেশনা বাস্তবায়ন কল্পে, সর্বোপরি আমাদের বাংলা ভাষাভাষীদের সেবা প্রদানার্থে, মদীনাস্থ বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স সানন্দে সম্মানিত পাঠক সমীপে এই বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর উপস্থাপন করেছে।
মূলতঃ রাজকীয় সৌদি সরকারের ওয়াকফ, দাওয়াহ্, ইরশাদ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল ভাষায় কুরআনুল কারীমের অনুবাদ করা, যাতে অনারব মুসলিমদের জন্য তা বুঝা সহজ হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদিষ্ট “বালাগ” তথা পৌছে দেয়ার আহবান (অর্থাৎ, “আমার পক্ষ থেকে পৌছে দাও, তা একটি আয়াত হলেও”)-এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য এটিই সবোত্তম প্রচেষ্টা । এর অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর করেছেন, ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া । আর কমপ্লেক্স-এর পক্ষে তা পূনপাঠ করেছেন, শাইখ কাউছার এরশাদ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইলিয়াছ ইবনে সালেহ আহমাদ । মহান আলাহ্ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি এই মহৎ কাজ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন যা শুধুমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই এবং যা দ্বারা সবাই উপকৃত হবে বলে আমরা আশা রাখি । অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি পবিত্র কুরআনুল কারীমের অনুবাদ (যতই সুনিপূণ হোক না কেন) তা আল্লাহর অমীয় বাণীর মর্মার্থ পুরোপুরি আদায়ে সমর্থ নয়; কেননা অনুবাদ হলো অনুবাদকের মেধাশক্তি দিয়ে কুরআনকে বুঝার প্রয়াস মাত্র, যার মধ্যে মানবীয় ভুল-ত্রুটি, অপূর্ণতা থাকা বিচিত্র কিছু নয় । কুরআনটি স্ক্যান করেছে সত্যান্বেষী টিম।
আল-কুরআনের অনুবাদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
আল-কুরআনের সহজ সরল অনুবাদ
অনুবাদের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও ব্যাখ্যা
প্রতিটি সূরার শুরুতে সূরার বৈশিষ্ট্য ও শানে নূযুল বর্ণিত।
কুরআনের সূরাগুলোর সহীহ হাদীসের আলোকে ফযীলত এর বিস্তারিত বিবরণ
কুরআনের তাফসীরকে সহজবোধ্য করার জন্য টীকা প্রদান ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকে সংকলিত।
আল্লাহ সিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোর অবিকৃত অনুবাদ।
কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে হাদীসকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবং হাদীসগুলোর রেফারেন্সসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান।
ডাঊনলোড লিঙ্ক ঃ ১ম খণ্ড এখানে

Tuesday, 22 September 2015

কুরআনুল কারীম বাংলা অনুবাদ ২য় খন্ড,ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া


قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ
অর্থাৎ, “তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সুস্পষ্ট গ্রন্থ” ।
আল্লাহর কিতাবের প্রতি গুরুত্বারোপ ও এর প্রচার সহজ করা এবং প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে এর বিতরণ নিশ্চিত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ ও তাফসীর করা সম্বলিত খাদেমুল হারামাইন আশ-শারফাইন বাদশাহ সালমান ইবন আব্দুল আযীয আলে সাউদ-এর নির্দেশনা বাস্তবায়ন কল্পে, সর্বোপরি আমাদের বাংলা ভাষাভাষীদের সেবা প্রদানার্থে, মদীনাস্থ বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স সানন্দে সম্মানিত পাঠক সমীপে এই বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর উপস্থাপন করেছে।
মূলতঃ রাজকীয় সৌদি সরকারের ওয়াকফ, দাওয়াহ্, ইরশাদ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল ভাষায় কুরআনুল কারীমের অনুবাদ করা, যাতে অনারব মুসলিমদের জন্য তা বুঝা সহজ হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদিষ্ট “বালাগ” তথা পৌছে দেয়ার আহবান (অর্থাৎ, “আমার পক্ষ থেকে পৌছে দাও, তা একটি আয়াত হলেও”)-এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য এটিই সবোত্তম প্রচেষ্টা । এর অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর করেছেন, ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া । আর কমপ্লেক্স-এর পক্ষে তা পূনপাঠ করেছেন, শাইখ কাউছার এরশাদ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইলিয়াছ ইবনে সালেহ আহমাদ । মহান আলাহ্ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি এই মহৎ কাজ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন যা শুধুমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই এবং যা দ্বারা সবাই উপকৃত হবে বলে আমরা আশা রাখি । অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি পবিত্র কুরআনুল কারীমের অনুবাদ (যতই সুনিপূণ হোক না কেন) তা আল্লাহর অমীয় বাণীর মর্মার্থ পুরোপুরি আদায়ে সমর্থ নয়; কেননা অনুবাদ হলো অনুবাদকের মেধাশক্তি দিয়ে কুরআনকে বুঝার প্রয়াস মাত্র, যার মধ্যে মানবীয় ভুল-ত্রুটি, অপূর্ণতা থাকা বিচিত্র কিছু নয় ।
Quranul Kareem
আল-কুরআনের অনুবাদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
  • আল-কুরআনের সহজ সরল অনুবাদ
  • অনুবাদের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও ব্যাখ্যা
  • প্রতিটি সূরার শুরুতে সূরার বৈশিষ্ট্য ও শানে নূযুল বর্ণিত।
  • কুরআনের সূরাগুলোর সহীহ হাদীসের আলোকে ফযীলত এর বিস্তারিত বিবরণ
  • কুরআনের তাফসীরকে সহজবোধ্য করার জন্য টীকা প্রদান ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকে সংকলিত।
  • আল্লাহ সিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোর অবিকৃত অনুবাদ।
  • কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে হাদীসকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবং হাদীসগুলোর রেফারেন্সসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান।
এক নজরে বইটি
কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) ১ম খন্ড
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
প্রকাশনায়ঃ  কিং ফাহাদ হোলি কমপ্লেক্স
ফাইল টাইপঃ  পি.ডি.এফ
পৃষ্ঠা: ১৪৯৯
সাইজ: ৫৪ মেগাবাইট
ডাউনলোড
এখানে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন
কৃতজ্ঞতায়  সত্যান্বেষী টিম।

Saturday, 21 February 2015

অযু ব্যতীত কুরআনুল কারিম স্পর্শ করার বিধান



   
প্রথম ফতোয়া

অযু ব্যতীত কুরআনুল কারিম স্পর্শ করার বিধান
শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: অযু ব্যতীত মুসহাফ স্পর্শ করা অথবা একস্থান থেকে অপর স্থানে নেওয়ার বিধান কি? এবং অযু ব্যতীত কুরআন তিলাওয়াত করার বিধান কি?

তিনি উত্তরে বলেন: “জমহুর (অধিকাংশ) আহলে ইলমের নিকট অযু ব্যতীত মুসহাফ স্পর্শ করা জায়েয নয়। চার ইমামের ফতোয়া এটাই। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এ ফতোয়া প্রদান করতেন। আমর ইবনে হাযম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি সহি হাদিসে এসেছে, যা গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামান বাসীদের নিকট লিখে পাঠান:
((أَنْ  لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ)).
“পবিত্র সত্তা ব্যতীত কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না”। সনদের বিচারে হাদিসটি জায়্যিদ। এ হাদিসের একাধিক সনদ রয়েছে, যার একটি অপরটি দ্বারা শক্তিশালী হয়। 

অতএব ছোট-বড় উভয় প্রকার নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত কোনো মুসলিমের পক্ষে মুসহাফ স্পর্শ করা বৈধ নয়। অনুরূপ এক জায়গা থেকে অপর জায়গায় স্থানান্তর করাও বৈধ নয় যদি স্থানান্তরকারী নাপাক হয়। তবে কোনো আড়ালের মাধ্যমে স্পর্শ বা স্থানান্তর করা বৈধ, যেমন গিলাফের উপর থেকে স্পর্শ করা, বা থলির ভেতর বহন করা ইত্যাদি। আড়াল ব্যতীত সরাসরি কুরআনুল কারিম স্পর্শ করা জমহুর আহলে ইলমের নিকট বৈধ নয়। হ্যাঁ, মুখস্থ তিলাওয়াত করা বৈধ; অনুরূপ শিক্ষার্থীর হাতে রাখা মুসহাফ থেকে মুয়াল্লিমের তিলাওয়াত করা বৈধ; তবে বড় নাপাকির কারণে নাপাক বা জুনুবি ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, জানাবত তথা গোসল ফরয ব্যতীত কোনো অবস্থা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখত না। ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ একটি জায়্যেদ সনদে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাথরুম থেকে এসে কুরআনুল কারিমের কিছু অংশ তিলাওয়াত করেন এবং বলেন:
((هَذَا لِمَنْ لَيْسَ بِجُنُبٍ، فَأَمَّا الْجُنُبُ فَلَا، وَلَا آيَةَ))
“এ বিধান হচ্ছে তার জন্য যে জুনুবি নয়, কিন্তু যে জুনুবি তার জন্য তিলাওয়াত করা বৈধ নয়, এক আয়াতও নয়”[1] জুনুবি ব্যক্তি মুসহাফ দেখে কিংবা মুখস্থ কোনো ভাবেই গোসল ব্যতীত কুরআন পড়বে না। আর ছোট নাপাকের কারণে নাপাক ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ পড়বে, কিন্তু স্পর্শ করবে না।

এ মাসআলার সাথে আরেকটি মাসআলা সম্পৃক্ত; আর তা হচ্ছে হায়েয (ঋতুমতী) ও নিফাসের নারীদের কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করার বিধান। তাদের কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করার বৈধতার ব্যাপারে আহলে ইলম দ্বিমত পোষণ করেছেন। কেউ বলেছেন তাদের জন্য তিলাওয়াত করা বৈধ নয়, কারণ তারা জুনুবি ব্যক্তির ন্যায়। দ্বিতীয় অভিমত হচ্ছে তাদের জন্য মুখস্থ তিলাওয়াত করা বৈধ, তবে স্পর্শ করবে না এবং তারা জুনুবি ব্যক্তির মত নয়। কারণ হায়েস ও নিফাসের সময় অনেক লম্বা হয়, জুনুবি ব্যক্তির মত স্বল্পকালীন নয়। দ্বিতীয়ত জুনুবি ব্যক্তি যখন ইচ্ছা গোসল করে কুরআন তিলাওয়াত করতে সক্ষম, কিন্তু হায়েয ও নিফাসের নারীদের পক্ষে এরূপ করা সম্ভব নয়। অতএব তাদেরকে জুনুবি ব্যক্তির সাথে তুলনা করা সঠিক নয়। তাদের জন্য মুখস্থ কুরআন পড়া বৈধ, এটাই অধিক বিশুদ্ধ। কারণ তাদের কুরআন তিলাওয়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়, এমন কোনো দলিল নেই, বরং তাদের কুরআন তিলাওয়াতকে বৈধতা প্রদানকারী অনেক দলিল রয়েছে। বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেন, হজের মৌসুমে যখন তার হায়েয হয়েছিল:

Monday, 26 January 2015

প্রশ্নঃ মৃতের বাড়ীতে কুরআন খানী অনুষ্ঠান করার বিধান কি?



উত্তরঃ নিঃসন্দেহে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে কোরানখানী মাহফিল করা একটি বিদআত। কেননা ইহা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের যুগে প্রচলিত ছিল না। কুরআন দ্বারা দুঃখ-চিন্তা হালকা হয়- যদি কোন ব্যক্তি উহা নীচু স্বরে তেলাওয়াত করে থাকে। জোরে চিৎকার করে বা মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পাঠ করলে এরূপ হয় না। কেননা উচ্চস্বরে পাঠ করলে সমস্ত মানুষ তা শুনে থাকে এমনকি খেলা-ধুলায় লিপ্ত লোকদের কানেও তা পৌঁছে কিন্তু তারা তার প্রতি গুরুত্বারোপ করে না।এমনকি আপনি দেখবেন যারা গান-বাদ্য শুনে তাদের কাছেও ঐ কুরআনের আওয়াজ পৌঁছে। তারা গানও শুনছে কুরআনও শুনছে। ফলে তারা যেন এই কুরআনকে ঠাট্টা ও তাচ্ছিল্যের বিষয়ে পরিণত করেছে। কুরআনের অবমাননা করছে।

আর শোক-সমবেদনা জানাতে ও আগত লোকদের স্বাগত জানানোর জন্য মৃতের পরিবারের নিকট সমবেত হওয়া একটি বিদআত। অনুরূপভাবে মৃতের বাড়ীতে ভোজের আয়োজন করাও একটি বিদআত। কেননা বিষয়টি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর যুগে পরিচিত ছিল না। তবে চলতে ফিরতে, মসজিদে বাজারে মৃতের পরিবারকে শোক জানানোতে কোন অসুবিধা নেই। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বাড়িতে সমবেত লোকদের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করাকে ছাহাবায়ে কেরাম নিষিদ্ধ নিয়াহা বা ‘মৃতের জন্য বিলাপ’ এর অন্তর্ভূক্ত বলেছেন। আর মৃতের জন্য বিলাপ করা কাবীরা গুনাহ। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাপকারীনী ও বিলাপ শ্রবণকারীনীকে লা‘নত করেছেন। তিনি বলেন,

কুরআন তিলাওয়াত বা অন্যান্য ইবাদাতের সাওয়াব কি মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে?



প্রথম ফতোয়া

প্রশ্ন : সূরা ইখলাস পাঠ করে কেউ যদি মৃত ব্যক্তিকে ঈসালে সাওয়াব করে, তাহলে মৃত ব্যক্তি কি উপকৃত হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি করতেন, কবরবাসীর জন্য তিনি কি তিলাওয়াত করতেন, না শুধু দোয়া করতেন?

উত্তর :
প্রথমত : কেউ যদি কুরআন তিলাওয়াত করে মৃত ব্যক্তিকে ঈসালে সাওয়াব করে, আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এ সাওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় না, কারণ এটা মৃত ব্যক্তির আমল নয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
﴿وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى﴾
{আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।} {সূরা নাজম: ৩৯}
এ তিলাওয়াত জীবিত ব্যক্তির চেষ্টা বা আমল, এর সাওয়াব সে নিজেই পাবে, অন্য কাউকে সে ঈসালে সাওয়াব করার অধিকার রাখে না। এ সংক্রান্ত সৌদি আরবের “ইলমি গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী ওলামা পরিষদ” এর একটি বিস্তারিত ফতোয়া রয়েছে, নিচে তা উল্লেখ করা হলো :

প্রশ্ন : কবর জিয়ারতের সময় সূরা ফাতেহা পাঠ করা, অথবা কুরআনের কোন অংশ পাঠ করা কি বৈধ, আর এর দ্বারা সে কি উপকৃত হবে ?

উত্তর :
বিশুদ্ধ হাদিস থেকে প্রমাণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করতেন এবং কিছু বাক্য দ্বারা তিনি কবরবাসীদের জন্য দু‘আ করতেন, যা তিনি সাহাবাদের শিখিয়েছেন, তারাও তার থেকে শিখে নিয়েছে। যেমন :
‏السلام عليكم اهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وانا ان شاء الله بكم لاحقون، نسال الله لنا ولكم العافية‏
হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলমানগণ, তোমাদের উপর সালাম, ইনশাআল্লাহ অতিসত্বর আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হবো, আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।” [ইবনে মাজাহ : ১৫৩৬]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করার সময় কুরআন বা তার কোন আয়াত তিলাওয়াত করেছেন এমন প্রমাণিত নয়, অথচ তিনি খুব কবর যিয়ারত করতেন। যদি তা বৈধ হত বা মৃতরা তার দ্বারা উপকৃত হত, তাহলে অবশ্যই তিনি তা করতেন এবং সাহাবাদের নির্দেশ দিতেন। বরং নবুওয়তের দায়িত্ব আদায়, উম্মতের প্রতি দয়া ও সাওয়াবের বিবেচনায় এটা তার কর্তব্য ছিল। কারণ, তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :

Thursday, 22 January 2015

প্রশ্নঃ ‘আয়াতুল কুরসি’ এবং ‘আল্লাহর কুরসী’ বলতে কি বোঝায়? আয়াতুল কুরসীর ফযীলত কি?


উত্তরঃ সুরা বাক্বারাহর ২৫৫ নাম্বার আয়াতকে ‘আয়াতুল কুরসী’ বলা হয়। কুরসী অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌ তাআ’লার পা রাখার জায়গা। আয়াতুল কুরসীতে তাওহীদ, ইখলাস, আল্লাহর ইসমে আযম, আল্লাহর ক্ষমতা ও সিফাত, ‘আল্লাহর কুরসির’ মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বর্ণিত হয়েছে। এইজন্যে এই আয়াতটি হচ্ছে ক্বুরানুল কারীমের শ্রেষ্ঠ আয়াত এবং সহীহ হাদিসে এই আয়াতটি বিভিন্ন সময়ে পাঠ করার অনেক ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন, আয়াতুল কুরসী হচ্ছে সুরা বাক্বারাহর ২৫৫ ও ২৫৬ নাম্বার, এই দুইটা আয়াত। এটা ভুল! সুরা বাক্বারাহর শুধুমাত্র ২৫৫ নাম্বার আয়াতটিকেই আয়াতুল কুরসি বলা হয়, ২৫৬ নাম্বার আয়াত আয়াতুল কুরসির অন্তর্ভুক্ত নয়।
আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়লে তাবীজ-কবজ, যাদু, চোখের নজর, জিনের আসর বা ক্ষতি ও অন্যান্য বিপদ আপদ থেকে সুরক্ষা করে। প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে একবার করে আয়াতুল কুরসি পড়লে মৃত্যুর পরে রয়েছে জান্নাত। শয়তানের প্রভাব এবং ভূত-প্রেত থেকে বাঁচার জন্য আয়াতুল কুরসি পাঠ করা পরীক্ষিত একটি আমল।
আয়াতুল কুরসী হচ্ছে ক্বুরানুল কারীমের শ্রেষ্ঠ বা সবচাইতে মর্যাদাবান আয়াতঃ
আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রাঃ) নবী করিমকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসূল (সাঃ) বললেন, “আয়াতুল কুরসি”।
নাসায়ি, আহমাদ।
প্রত্যেক ফরয সালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠ করার ফযীলতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর ‘আয়াতুল কুরসী পাঠ করে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারবেনা”।
নাসায়ী, ইবনু হিব্বান, হাদীস সহীহ, ইমাম ইবনে হিব্বান ও শায়খ আলবানী।
ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করার ফযীলতঃ
ক. সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী (ফেরেশতা) তাকে নিরাপত্তা দেবে।
খ. শয়তান তার কাছে আসতে পারবেনা।

Tuesday, 9 December 2014

‘সাদাকাল্লাহুল আজিম’ বলার বিধান



কতিপয় কারি কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত শেষে صَدَقَ اللهُ الْعَظِيْمُ বলেন।[1] এরূপ বলার কোনো ভিত্তি নেই। এতে সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা সত্যবাদী, তার কালাম চিরসত্য। ইমাম নাসাঈ রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:
((إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ».
“নিশ্চয় সবচেয়ে সত্যকথা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদের আদর্শ”[2] 
তিলাওয়াতের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত কথার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। 

ড. বকর আবু জায়েদ রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
﴿ قُلۡ صَدَقَ ٱللَّهُۗ فَٱتَّبِعُواْ مِلَّةَ إِبۡرَٰهِيمَ حَنِيفٗاۖ ٩٥  [ال عمران: ٩٥]  وقال تعالى: ﴿ وَمَنۡ أَصۡدَقُ مِنَ ٱللَّهِ حَدِيثٗا ٨٧  [النساء : ٨٧]  وقال تعالى: ﴿ وَمَنۡ أَصۡدَقُ مِنَ ٱللَّهِ قِيلٗا ١٢٢  [النساء : ١٢٢] 
“বল, আল্লাহ সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা ইবরাহীমের মিল্লাতের অনুসরণ কর একনিষ্ঠভাবে”।[3] 
অপর আয়াতে তিনি বলেন: “আর কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী কে?”[4] 
অপর আয়াতে তিনি বলেন: “আর কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে?”[5]

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...