Showing posts with label ব্রাদার্স কর্ণার. Show all posts
Showing posts with label ব্রাদার্স কর্ণার. Show all posts

Sunday, 30 January 2022

নেক সন্তান লাভ করার দোয়া সমূহ-




رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ
রব্বি হাবলী মিল্ লাদুন্কা যুর রিয়্যাতান ত্বইয়্যিবাতান ইন্নাকা সামিউদ দোয়া ।
হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
সূরা আল ইমরান ৩৮।

رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ
রব্বি হাবলী মিনাস সালিহীন।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান কর।
সূরা আস সাফ্ফাত ১০০।

ٗ رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ
রব্বি লা তাযারনী ফরদাও ওয়া আন্তা খাইরুল ওয়ারিসীন ।
হে আমার রব! আমাকে একা রেখো না, তুমি তো শ্রেষ্ঠ মালিকানার অধিকারী’।
সূরা আল আম্বীয়া ৮৯।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুর রিয়্যাতিনা ক্বুর রাতা আ’ইউনিও ওয়াজ আল্না লিল মুত্বাক্বীনা ইমামা ।
হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
সূরা আল ফুরক্বান ৭৪।

স্বামী- স্ত্রী সহবাস করার সময়ে যেনো এই দোয়াটি পড়ে নেয়ঃ

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শয়তান ওয়া জান্নিবিশ শয়তানা মা রযাক্বতানা ।
হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি, তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে, তা হতেও শয়তানকে দূরে রাখ।
বলেছেন বিশ্বনবী (ﷺ) ।
ছহীহুল বোখারি ৬৩৮৮
ছহীহ মুসলিম ১৪৩৪

উত্তম সন্তান লাভ করার জন্য পবিত্র কুরআনে বর্ণিত দোয়া ও মহানবী সাঃ’র শিখিয়ে দেয়া দোয়ার কোন বিকল্প নেই ।

লিখেছেন শায়খ Mqm Saifullah Mehruzzaman হাফিযাহুল্লাহ।

Sunday, 20 December 2020

যারা বিবাহ বন্ধনে উদ্যোগ নিচ্ছেন-

 যারা বিবাহ বন্ধনে উদ্যোগ নিচ্ছেন, তাঁদের এক আরব বেদুঈনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ মনে রাখা প্রয়োজন। তিনি তাঁর বিবাহযোগ্য পুত্রকে সম্বোধন ক’রে বলেছিলেন,

يا بني لا تنكح المنانه ولا الأنانه ولا الحنانه ولا الحداقه ولا البراقه ولا الشداقه ولا عشبه الدار ولا كية القفا
অর্থাৎ, বেটা! তুমি এই (৮ প্রকার) মেয়েকে তোমার স্ত্রীরূপে নির্বাচন করো না।
১। মান্নানাহ (উপকার বা অনুগ্রহ প্রচারকারিণী)
এমন মেয়ে, স্বামীর প্রতি সে বা তার বাপের বাড়ির লোক কোন উপকার বা অনুগ্রহ করলে কথায় কথায় খোঁটা মারে। স্বামীর পরিবারের বা বাইরের লোকের কাছে বলে বা গেয়ে বেড়ায়। 'এটা আমার বাপের ঘরের। এটা আমার ভাই দিয়েছিল বলেই তো? মা দিয়েছিল বলে ঠান্ডা পানি খেতে পাচ্ছ।’ ইত্যাদি
২। আন্নানাহ (কাতর)
এমন মেয়েকে আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় 'আবছুদে’ বলে। মানে যে মেয়ে অল্প কিছুতে 'আঃ-উঃ, বাবারে-মারে’ করতে থাকে। সামান্য আঘাতে কাতর হয়ে যায়। সামান্য কষ্টে কাঁদতে লাগে (ছিঁছ-কাঁদুনে)। অধিকাংশ সময়ে অসুস্থ না থাকলেও অসুস্থতার ভান করে। কোনও কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য মাথা-ব্যথা বা অন্য কোন অসুখের ওজর পেশ করে। আজ মাথা ধরেছে, কাল পেটে বাজছে পরশু আরো কিছু বলে অজুহাত তৈরি করে।
বাংলা প্রবাদে বলা হয়,
'জারে বউ জার-কাতুরে বর্ষায় বউয়ের হাজা,
কখনো দেখলাম না আমি বউ রইল তাজা।’
৩। হান্নানাহ (অন্যাসক্তা)
যে মেয়ের আসক্তি নিজের স্বামীর সাথে সীমাবদ্ধ থাকে না। তবে সে পরকীয়া করে না। আসলে সে বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর বিবাহিতা হয়। অতঃপর কথায় কথায় সে পূর্ব স্বামীর প্রতি আসক্তি প্রকাশ করে। যেন বর্তমান স্বামীর তুলনায় সেই ভালো ছিল, সে কথা বুঝাতে চায়। নগণ্য বঞ্চনায় অথবা সামান্য ত্রুটির ক্ষেত্রে সে তাকে স্মরণ করে। পূর্বের ভালোবাসা সে ভুলতে পারে না। যার ফলে তুলনা করতে গিয়ে সে বর্তমান স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিতা হয়।
অথবা তার গর্ভজাত পূর্ব স্বামীর সন্তান থাকে এবং সে তাদের প্রতি সর্বদা নিজ মনকে ফেলে রাখে। এমনকি সুখের সময়েও সে তাদের দুঃখের কথা তুলে বর্তমান সুখের সময়কে নষ্ট ক’রে ফেলে।
অথবা সর্বদা নিজ পরিবারের প্রতি আসক্তি প্রকাশ ক’রে থাকে। ক্ষণে ক্ষণে বা ঘন ঘন মায়ের বাড়ি যেতে চায়। আর তার ফলে স্বামীর প্রতি কর্তব্যে অবহেলা ক’রে বসে।

Tuesday, 17 September 2019

হঠাৎ মৃত্যু: ভালো না কি খারাপ?


▬▬▬◄◉►▬▬▬
প্রশ্ন: একজন মুসলিমের জন্য হঠাৎ মৃত্যু ভালো না কি খারাপ?
উত্তর:
হঠাৎ মৃত্যু ভালো ও মন্দ উভয়টাই হতে পারে। তা নির্ভর করছে ব্যক্তির অবস্থার উপরে।
➤ সে যদি দ্বীনদার, সৎকর্মশীল ও তাকওয়াবান হয় তাহলে যে অবস্থায়ই মৃত্যু হোক না এটি তার জন্য কল্যাণকর। বরং হঠাৎ মৃত্যু (যেমন: দুর্ঘটনা বশত: মৃত্যু) তার জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। কারণ এতে তাকে মৃত্যুর যন্ত্রণা ও কষ্ট পোহাতে হল না, রোগ-ব্যাধিতে পড়ে বিছানায় কাতরাতে হল না, অবস্থা নাজেহাল হল না, কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হল না। এতে আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, গুনাহ মোচন হয় এবং দুনিয়ার সকল কষ্ট-ক্লেশকে বিদায় জানিয়ে সে রবের সন্তুষ্টি ও জান্নাতের দিকে এগিয়ে যায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا،
“মুমিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করে এখন সে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পায়।” (সুনানে নাসাঈ, অধ্যায়: জানাযা, অনুচ্ছেদ: মৃত্যুতে মুমিনের নিষ্কৃতি প্রাপ্তি. হা/১৯৩০-সহিহ)
➤ পক্ষান্তরে সে যদি আল্লাহর নাফরমান ও পাপিষ্ঠ হয় তাহলে যে অবস্থায় মৃত্যু হোক কেন তা তার জন্য মহা বিপদের কারণ। বিশেষ করে হঠাৎ মৃত্যুর কারণে সে পাপাচার থেকে তওবা করার সুযোগ পেলো না, নিজের অবস্থা সংশোধন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল, মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারলো না এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ক্রোধ ও আযাবের দিকে ধাবিত হল।
আয়েশা রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত আছে তারা বলেন:
أسف على الفاجر وراحة للمؤمن
“(হঠাৎ মৃত্যু) পাপীর জন্য আফসোস আর মুমিনের জন্য নিষ্কৃতির কারণ।” (মুসাননাফে ইবনে আবি শায়বা ৩/৩৭০ ও বায়হাকী ৩/৩৭৯)
উল্লেখ্য যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হঠাৎ মৃত্যু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন মর্মে বর্ণিত হাদিসের সনদ সহিহ নয়।
ফিরোযাবাদি রহ. বলেন: “এ বিষয়ে কোন সহিহ হাদিস নেই।” (সাফারুস সাআদাহ, পৃষ্ঠা নং ৩৫৩)
উল্লেখ্য যে, হঠাৎ মৃত্যু কিয়ামতের একটি আলামত। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
حديث أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي -صلى الله عليه وسلم- قال : (إن من أمارات الساعة أن يظهر موت الفجأة)، رواه الطبراني وحسّنه الألباني.
আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“কিয়ামতের একটি আলামত হল, ‘হঠাৎ মৃত্যু’ প্রকাশ পাওয়া।” (ত্বাবারানী, শাইখ আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) আ্ল্লাহু আলাম।
পরিশেষে আল্লাহর নিকট দুআ করি, তিনি যেন, আমাদেরকে এমন ঈমান ও আমলের উপর মৃত্যু দান করেন যা দ্বারা আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জন করতে পারি। নিশ্চয় তিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় ক্ষমাশীল।
▬▬▬◄◉►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

পাপ থেকে বাঁচার ১০ উপায়: যা সকল মুসলিমের জানা আবশ্যক


▬▬▬◄◉►▬▬▬
প্রশ্ন: যখন মনের মধ্যে পাপ করার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হয় তখন তা দমন করার জন্য কী করণীয়?
উত্তর:
মানুষ সৃষ্টিগতভাবে পাপ প্রবণ। শয়তান ও কু প্রবৃত্তি তাকে প্রায়ই পাপাচার, অন্যায় ও আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজের দিকে তাড়িত করে। সব মানুষের মধ্যেই এমন পাপের মনোবৃত্তি জাগ্রত হয়। কিন্তু সফল তো সে ব্যক্তি যে সুযোগ থাকার পরও আল্লাহর আযাবের ভয়ে পাপ ও অন্যায় থেকে আত্ম সংবরণ করে আর হতভাগ্য ও ধ্বংস প্রাপ্ত তো সে ব্যক্তি যে শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে কিংবা কামনা-বাসনার ডাকে সাড়া দিয়ে পাপ-পঙ্কিলতার অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا - وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
"যে নিজের আত্মাকে (পাপ-পঙ্কিলতা থেকে) পবিত্র করে সেই সফল হয় আর যে তাকে কলুষিত করে ধ্বংস হয়।" (সূরা শামস: ও ১০)
যা হোক যখন অন্তরে অন্যায় ও পাপকাজের চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তখন কী করণীয় সে ব্যাপারে কিছু আইডিয়া পেশ করা হল। এগুলো থেকে এক বা একাধিক আইডিয়া কাজে লাগালে আশা করা যায় যে, মহান আল্লাহ পাপ পঙ্কিলতায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাকে সহ প্রতিটি মুসলিমকে আল্লাহর নাফরমানী ও পাপাচার থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
১) মনে পাপের চিন্তা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ “বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি” পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা এ মর্মে বলেন:
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّـهِ ۚ
"আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো।" (সূরা আ'রাফ: ২০০)
২) মনে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করা। অর্থাৎ এই চিন্তা করা যে, আল্লাহর অবাধ্যতা করলে তিনি ক্রোধান্বিত হবেন এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।
আমাদের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয় যে, পৃথিবীর কোনও মানুষ না দেখলেও আল্লাহর চোখকে কোনোভাবেই ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়। তিনি অবশ্যই বান্দার গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছু দেখেন এবং প্রতিটি কর্ম সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
তাছাড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত আমাদের কাঁধের ফেরেশতা দ্বয় আমাদের প্রতিটি কর্ম দিনরাত অবিরামভাবে লিখে চলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ كِرَامًا كَاتِبِينَ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
“অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর।" (সূর ইনফিতার: ১০, ১১ ও ১২)

Sunday, 26 November 2017

সউদী আরবে উচ্চশিক্ষা

উচ্চ শিক্ষার্থে সৌদি আরব এশিয়া ও বিশ্বের মধ্যে এক অন্যতম অবস্থানে রয়েছে । আরবী ও ইসলামী শিক্ষা অর্জনের জন্য সৌদি আরব গোটা পৃথিবীর মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় দেশ।
বিজ্ঞান ও সাধারণ শিক্ষায়ও সৌদি আরব পিছিয়ে নেই । রাজধানী রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, দাম্মাম কিং ফাহাদ পেট্রোল SPamp মিনারেল বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিং এ শীর্ষ সারির মধ্যে রয়েছে । বৃত্তিতে অধ্যয়ন রত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অবস্থান শীর্ষে।
নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও সৌদি আরব পিছিয়ে নয় বরং সমগ্র পৃথিবীতে যেখানে নারীরা স্বাধীনতার নামে, আধুনিক শিক্ষার নামে নির্যাতিত, ধর্ষিত সেখানে সৌদি আরব নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে বিপ্লব! নিশ্চিত করেছে নারীর নিরাপত্তা, আধুনিক উচ্চ শিক্ষা ও স্বাধীনতা।
সৌদি আরবেই রয়েছে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও পর্দার ব্যবস্থা, উন্নত ও আধুনিক সকল সুবিধা সম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । যার নাম “প্রিন্সেস নূরা বিনতে আব্দুর রহমান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন”। এ ছাড়াও সৌদি আরবের প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েরই রয়েছে মহিলাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন সম্পূর্ণ পৃথক ক্যাম্পাস ।ছাড়াও শিক্ষাঙ্গনের ‘সহশিক্ষা’ নামক সবচেয়ে বড় ব্যাধি হতেও প্রায় সৌদি আরব মুক্ত। 
১৩৯৫হি: মোতাবেক ১৯৭৫ সালে সৌদি আরবে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । যার অধীনে প্রায় ২৫ টি সরকারি উঁচু মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে । এর মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সৌদি সরকার সর্ব স্তরের বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে উঁচু মানের ও আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে বেশ কিছু লক্ষে বৃত্তি প্রদান করে আসছে । লক্ষ্যগুলো হল:
• ইসলামের সুমহান বিশ্ব শান্তির বাণীকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে একদল যোগ্য বাহিনী গড়ে তোলা ।
• আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে নিয়ে আসা ।
• একদল যোগ্য ক্যাডার বাহিনী গঠন করা, যারা প্রশাসনিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করবে.. ইত্যাদি ।

Tuesday, 12 September 2017

অমর বাণী



. ইমাম মালেক রাহেমাহুল্লাহ (৯৩-১৭৯ হি.)-এর নিকটে বিশ বছর অধ্যয়নকারী ছাত্র আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহাব (১২৫-১৯৬ হি./৭৪৩-৮১২ খৃ.) বলেন,نَذَرتُ أَنِّي كُلَّمَا اغْتَبْتُ إِنْسَاناً أَنْ أَصُوْمَ يَوْماً فَأَجْهَدَنِي فَكُنْتُ أَغْتَابُ وَأَصُوْمُ، فَنَوَيْتُ أَنِّي كُلَمَّا اغْتَبتُ إِنْسَاناً أَنْ أَتَصَدَّقَ بِدِرْهَمٍ فَمِنْ حُبِّ الدَّرَاهِمِ تَرَكتُ الغِيْبَةَ ‘একবার আমি শপথ করলাম যে, কারো গীবত করলেই আমি একদিন ছিয়াম রাখব। কিন্তু এটা আমাকে খুব কষ্টে ফেলল। এরপরেও আমি গীবত করতাম ও ছিয়াম রাখতাম। অতঃপর আমি নিয়ত করলাম যে কারো গীবত করলেই একটি করে দিরহাম ছাদাক্বা করব। (এবার এতে কাজ হ’ল) ফলে দিরহামের ভালোবাসায় আমি গীবত ছেড়ে দিলাম (যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৮/১৫)।
. ফুযায়েল বিন ইয়ায (১০৭-১৮৭ হি.) বলেন,عَلَيْكَ بِطُرُقِ الْهُدَى وَلاَ يَضُرُّكَ قِلَّةُ السَّالِكِيْنَ، وَإِيَّاكَ وَطُرُقِ الضَّلاَلَةِ وَلاَ تَغْتَرَّ بِكَثْرَةِ الْهَالِكِيْنَ- ‘তুমি হেদায়াতের রাস্তাসমূহের পথিক হও। সঠিক পথের অনুসারীদের সংখ্যাল্পতা তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর তুমি ভ্রষ্টতার রাস্তাসমূহ হ’তে বেঁচে থাক এবং ধ্বংসের পথের যাত্রীদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হয়ো না’ (নববী, মানাসিকুল হাজ্জ ২/৬৮-৬৯; আলবানী, তাহযীরুস সাজেদ ১০৫-১০৭ পৃ.)
. ইবনুল জাওযী (৫০৮-৫৯৭ হি.) বলেন,المِسْكِينُ كُلُّ المِسْكِيْنِ مَنْ ضَاعَ عُمْرَهُ فِي عِلْمٍ لَمْ يَعْمَلْ بِهِ، فَفَاتَتْهُ لَذَّاتُ الدُّنْياَ وَخَيْرَاتُ الآخِرَةِ، فَقَدِمَ مُفْلِسًا عَلىَ قُوَّةِ الحُجَّةِ عَلَيْهِ ‘সব মিসকীনের বড় মিসকীন সেই, যে তার সারাটা জীবন ব্যয় করল জ্ঞানের অন্বেষণে। অথচ সে অনুযায়ী আমল করল না। ফলে সে দুনিয়াবী সুখ থেকে বঞ্চিত হ’ল এবং আখেরাতের কল্যাণ সমূহ থেকেও বঞ্চিত হ’ল। অতঃপর নিজের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সাক্ষ্যের বোঝা নিয়ে সে নিঃস্ব অবস্থায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত হ’ল’ (ইবনুল জাওযী, ছায়দুল খাত্বের ১৫৯ পৃ.)।

Sunday, 10 September 2017

গোটা মুসলিম উম্মাহ শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, এই আক্রমন হতে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি?



উত্তর দিয়েছেনঃ ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তার রাসুলের উপর শান্তি ও দয়া বর্ষিত হোক।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মুসলিম উম্মাহ তার শত্রুদের দ্বারা বিপদগ্রস্থ হচ্ছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যাতে আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি এবং জেনে নিতে পারি তোমাদের মধ্যে কে মুজাহিদ ও কে দৃঢ়পদে রয়েছে?” সুরা মুহা’ম্মদঃ ৩১।
মুসলিম উম্মাহ অবশ্যই তার শত্রুদের দ্বারা বিপদগ্রস্থ হবে, এবং তাকে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, “তোমাদেরকে প্রাণ ও সম্পদ উভয় ক্ষেত্রে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া আহলে কিতাব ও মুশরিকদের হতে বহু কষ্টদায়ক কথা শুনতে হবে। এ অবস্হায় তোমরা যদি ধৈ্য্য ধারণ করো এবং আল্লাহভীরুতার নীতি অনুসরণ করো, তাহলে তা হবে খুব বড় ধরণের দুঃসাহসিক কাজ।” আলে ইমরানঃ ১৮৬।
তিনি আরো বলেছেন, “যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো তাহলে তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা।তারা যা করছে আল্লাহ তা সবই জানেন।” আলে ইমরানঃ ১২০।
অতএব উম্মাহর কর্তব্য হল ধৈর্যধারণ করা, আত্নসমালোচনা করা, দ্বীনকে শক্তভাবে আকড়ে ধরা, শত্রু কি বলছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করা, আল্লাহর কিতাব ও রাসুল (স) এর সুন্নতকে অনুসরণ করা, কথা, কাজ, আকিদা (বিশ্বাস) দিয়ে সুদৃঢ় ভুমিকা গ্রহন করা, এবং আল্লাহর শরীয়তকে তার বান্দাদের মধ্যে বাস্তবায়ন করা। সবগুলা ইসলামি দেশের জন্য এ মুহূর্তে এটাই কর্তব্য। যদি কথা, কাজ, আকিদা (বিশ্বাস) দিয়ে গোটা মুসলিম উম্মাহ সত্যিকার অর্থে আল্লাহর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় তবে শত্রুদের হৈচৈ ও ষড়যন্ত্র কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা।
এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী পূ্বেই উল্লেখ করেছি, “যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা, তারা যা করছে আল্লাহ তা সবই জানেন।” আলে ইমরানঃ ১২০।
এ ব্যপারে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল তার কিতাবে আরো বলেন, “তোমরা ধৈর্যধারণ করো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন।” আনফালঃ ৪৬।
"তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনিও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন, তোমাদের পা-কে দৃঢভাবে প্রতিষ্টিত রাখবেন।" মুহাম্মদঃ ৭।

Tuesday, 8 August 2017

শিয়াদের ঈমান-আকীদা


শিয়া ইসনা আশারিয়াদের আকীদা- বিশ্বাসের সংখিপ্ত পরিচয় নিম্ন তুলে দেওয়া হোল। সাথে আরো দেওয়া হোল ইমান ও ইসলাম ভঙ্গের কারন গুলিও। যেন পাঠক তার নিজ বিবেচনায় শিয়াদের নাস্তিক ও মুরতাদ হওয়ার বিষয়ে সঠিক ধারনা লাভ করতে পারেন।
১) আল্লাহ আলী রাঃ’র কাছে অহী নাজেল করেন কিন্তু জিব্রাইল ভুলে সেই অহী নিয়ে আসে মুহাম্মাদ সঃ এর কাছে- (আল মুনিয়া ওয়াল আমাল/৩০ পৃ)।
২) আল কোরআন সম্পূর্ণ নয়। আসল কোরআন আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তখন যখন সাহাবারা মুরতাদ হয়ে গেছে-( আত-তানবিহ অররাদ্দ-আল মুলিতি/২৫ পৃ)।
৩) কোরআনের অনেক আয়াত আয়াত নয় তা বাজে কথা ( নাউজুবিল্ললাহ)-( আল-অসীকা/২২১ পৃ)।
৪) রাসুল সঃ নিজেই আংশিক শিয়া দর্শন প্রচার করে গেছেন। বাকিটা হজরত আলী প্রচার করেছেন-( এহকাকুল হক- তাসাত্তুরী/২-৮৮ পৃ)।
৫) শিয়া ইমামরা আল্লাহ ও তার সৃষ্টির মাঝখানে মধ্যস্থতা কারী-( বেহারুল আনোয়ার/৯৯ঃ২৩)।
৬) শিয়া ইমামদের কবর জিয়ারত কা’বায় হজ্জ করার চেয়ে উত্তম-( সাওয়াবুল আ’মাল/১২১ পৃ)।
৭) যে হুসাইন রাঃ’র কবর জিয়ারত করে সে যেন আল্লাহর আরশ জেয়ারত করে-( আল-মাজার আল-মুফিদ/৫১ পৃ)।
৮) হুসাইন রাঃ’র কবরের মাটি সকল রোগের ঔসুধ-( আল-আমালি/৯৩ঃ ৩১৮)।
৯) আল্লাহ ও শিয়া ইমামদের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই-নাউজুবিল্লাহ!-( মাসাবিহুল আনোয়ার/২ঃ ৩৯৭ পৃ)।
১০) নক্ষত্র ও তারকা রাজি মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবন-মরনের উপর হস্তক্ষেপ করে-( রাওদা মিনাল কাফি/৮ঃ ২১০৩ পৃ)।
১১) আলী রাঃ গায়েব জানেন-( মের’আতুল আনোয়ার/ ৫৯)। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে হস্থক্ষেপ করেন-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৩০৮)। তিনি মৃত কে জেন্দা করেন-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৩৪৭)।
১২) যে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ জমীনে আসেন সে কাফের-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৯০ পৃ)।
১৩) কালেমা শাহাদাতের সাথে আরো বলতে হবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী রাঃ আল্লাহর অলী। তারা এমন কালেমা নব জাতকের কানে বলে এবং মৃত ব্যক্তির শয্যায় শিয়রে উচ্চারন করে-( ফুরুউল কাফি/৩ঃ৮২)।
১৪) যারা আবু বকর, ওমর, ওসমান,‌ মুয়া্বিয়া, আয়েশা ও হাফসা রাঃ কে প্রত্যেক নামাজের পর গালি দিবে তারা আল্লাহকে সব চেয়ে বড় উপহার প্রদান করিবে-( ফুরুউল কাফি/ ৩ঃ২২৪)।
১৫) শিয়া ইমামরা অন্যের জন্যে জান্নাতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারে-( রিজালুল কাশি/৫ঃ৪৯০)।
১৬) মুতা বিয়ে না করলে তার ইমান পূর্ণতা লাভ করেনা। আর মুতা বিয়ে হোল অলি ও সাক্ষী ছাড়াই কোন মহিলাকে চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্যে যৌন সঙ্গী করা। যে কোন মুমিনা নারীর সাথে মুতা করলো সে ৭০ বার কা’বা ঘর জেয়ারত করার সমান সাওয়াব পায় ( নাউজুবিল্লাহ)।-( মিসবাহুত তাহাজ্জুদ- আত তুরসি/২৫২ পৃ)।
১৭) ইমাম খোমেনী বলেছে, মুতা ছাড়া যত রকমের নষ্টামি আছে তাতে কোনই দোষ নাই যদিও তা শিশুর সাথে হোক না কেন ( নাউজুবিল্লাহ)! -( তাহরিরুল অসিলা/২ঃ২২১)।
১৮) আল্লাহ শিয়া ইমামদের নুর থেকে ফেরেস্তা সৃষ্টি করেছেন। ৪০০০ ফেরেস্তা এ কারনে হুসাইন রাঃ’র কবরে কেয়ামত পর্যন্ত কান্না রত আছেন-( জামিউল ফাওয়ায়েদ-কারাস্কি/৩৩৪ পৃ)।
১৯) ফেরেস্তাদের মধ্যে গোলযোগ হলে আল্লাহ আলী রাঃ কে ফেরেস্তা পাঠিয়ে আসমানে তুলে নিয়ে যান মিমাংশা করার জন্যে-(এখতেসাস/২১৩)।

Saturday, 1 July 2017

আমি সালাফী, অমুক সালাফী নয়!



(১) সালাফদের আকিদাহর সাথে সম্পর্কিত করার জন্য নিজেকে “আমি সালাফী” বলা যাবে। তবে “আমি সালাফী হয়ে গেছি”, এমন কথা বলে আত্মপ্রশংসা করার জন্য নয়।
(২) সালাফী নামে ফেইসবুক, অনলাইনে যেই সমস্ত যুবকদের পাওয়া যায়, এরা মূলত হয় কোন সংগঠন, কোন টিভি, সেলেব্রিটি বক্তা অথবা কোন পাবলিকেশানের অনুসারী। এদের প্রত্যেক গ্রুপের অনুসারীরা নিজেদেরকে “দুধে ধোঁয়া সালাফী” বলে দাবী করে এবং অন্য গ্রুপের লোকদেরকে হিজবী, বিদআ’তী বলে আখ্যা দেয়। এইভাবে আওয়াম (সাধারণ মুসলমানদের) আপোষে একজন আরেকজনকে সালাফী বলে পরিচয় দেওয়া বা সালাফী বলে ডাকা এবং অন্যদেরকে বিদআ’তী আখ্যা দেওয়া মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই না।
(৩) সালাফদের আদর্শ জানা উচিত, সালাফদের আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। আমি সালাফী, অমুক সালাফী নয় বলে ঘোষণা করা বর্তমান যুগে যুবকদের মাঝে একটা ব্যাধি এবং ভয়ংকর ফিতনাহ।
(৪) শায়খ সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাউজান হা'ফিজাহুল্লাহ বলেছেন,
"আজকাল এক শ্রেণীর মুসলিম বিশেষ করে যুবকদের মাঝে ইসলামের বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত আবেগ ও অতি উৎসাহ দেখা যায়। অথচ ইসলামের হাকীকত সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান নেই। তাদের মধ্যে আশংকাজনক হারে মানুষকে কাফের, ফাসেক কিংবা বিদআ'তী বলে মন্তব্য করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এসব যুবকের জীবনের অন্যতম ব্রতই যেন কারো ছিদ্রান্বেষণ ও দোষ-ত্রুটি আবিস্কার করা এবং সেগুলো প্রচার করে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া। এটা ফিৎনা ও অকল্যানের আলামত।
আল্লাহ সুবহা-নাহু ওয়া তাআলা'র নিকট দুআ' করি, মুসলিমদের যেন এই অকল্যান থেকে হেফাজত করেন এবং মুসলিম যুবকদের সঠিক পথের দিশা দান করেন। তাদেরকে সালাফে সালেহের নীতি ও পদ্ধতি মতো চলার তাউফীক দান করেন এবং অকল্যানের পথে আহবানকারীদের থেকে যেন তাদের দুরে রাখেন।"
উতসঃ তাকফীর ও তার নীতিমালা, পৃষ্ঠা ১১।
- শায়খ সালিহ আল-ফাউজান, সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ সদস্য, সৌদি আরব। পুস্তিকাটির শেষে আল্লামা বিন বায রাহিমাহুল্লাহর অভিমত এবং বইটির ভূয়সী প্রশংসাও রয়েছে।
(৫) ইমাম আয-যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আহলুল হাদীসের পরিচয় হচ্ছে ইলম ও ইবাদত দ্বারা। কিন্তু বর্তমানে (আহলে হাদীস নাম নিয়ে যা চলছে), তার মাঝে না আছে ইলম, না আছে ইবাদত। বরং (আহলুল হাদীস নামধারীদের মাঝে) মারাত্মক পদস্খলন, ব্যাকরণগত ভুল, বিকৃতির ছড়াছড়ি এবং খুব সামান্যই হিফজ (লক্ষ্য করা যায়)। (বর্তমানে যারা নিজেদের আহলুল হাদীস বলে দাবী করে), তারা যদি কবীরাহ গুনাহতে লিপ্ত না হয় এবং ফরয-ওয়াজিব কাজের ব্যপারে ঘাটতি না করে, তাহলে এটা-ই তাদের জন্য অনেক।” সিয়ার আ’লাম আন-নুবালাঃ ৮/২৯৯।
ইমাম আয-যাহাবী আজ থেকে কয়েকশ বছর পূর্বে তাঁর এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, বর্তমানে যে পূর্বের চাইতে অবস্থার অবনতি হয়েছে, একথা একজন সাধারণ আকল সম্পন্ন লোকেও বুঝতে পারবে।
.
Reference:
(1) Calling Yourself SALAFI By Shaykh Sulayman ar Ruhayli
.
(2) Calling Oneself Salafi - Shaikh Saalih Al-Fawzan
.
(3) Are you a Salafi - Sheikh Saleh Al-Fawzan
https://www.youtube.com/watch?v=ngGBfBWPn7w
.
(4) On Saying Such And Such Is Not Salafee - Sheikh Saleh Al-Fawzan

Courtesy Brother Shahab Babu

Saturday, 14 January 2017

বই ডাউনলোড: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ সম্পর্কে ইসলাম বিদ্বেষীদের অভিযোগের দাঁত ভাঙ্গা জবাব



rasul-sm-ar-bohu-bibaho-cover
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ
সম্পর্কে ইসলাম বিদ্বেষীদের অভিযোগের দাঁত ভাঙ্গা জবাব
মূল: শাইখ মুহাম্মদ আলী সাবুনী
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব
ক্রমসূচীপত্রপৃষ্ঠা
১.সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি

Sunday, 25 December 2016

ফাতওয়া দিতে খুব আগ্রহী??


ফাতওয়া দিতে পারলে খুব পুলকিত বোধ হয় তাই না? নিম্নের কথা গুলো মনে রাখুন।
ابن مسعود: قال من أفتى الناس في كل ما يستفتونه فهو مجنون.
ইবনু মাসুদ রাঃ বলেন, সব প্রশ্নের যে জাওয়াব দেয় সে পাগল।
وقال أبو ليلى : أدركت عشرين ومائة من الأنصار من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ما منهم من أحد يحدث بحديث إلا ود أن أخاه كفاه إياه
আবু লাইলা বলেন, ১২০ জন রাসুলের (আনসার) সাহাবি পেয়েছি, তাদের সকলকেই দেখেছি কিছু বলার আগে চাইতেন অন্য কেউ যেন বলে দেয়।
وابن سيرين: لأن يموت الرجل جاهلا خير له من أن يقول ما لا يعلم
ইবনু শিরীন বলেন, না জেনে ফাতওয়া দেওয়ার চেয়ে জাহেল হয়ে মরে যাওয়া ভাল।
وقال ابن عيينة : أجسر الناس على الفتيا أقلهم علما.
ইবনু উয়াইনাহ বলেছেন, সব চেয়ে যে কম জানে যে সেই ফাতওয়াতে বেশী দুঃসাহসী।
قال سحنون: أشقى الناس من باع آخرته بدنيا
সাহনুন বলেছেন, সবচ্যে দুর্ভাগ্যবান সেই যে দুনিয়ার জন্যে আখেরাত বিক্রী করে।
وقال سفيان: أعلم الناس بالفتيا أسكتهم عنها، وأجهلهم بها أنطقهم فيها
সুফিয়ান রাঃ বলেন, যে বেশী জ্ঞানী সে চুপ থাকে, যে বড় জাহেল সেই বেশী ফাতওয়া দেয়।
ما يلفظ من قول إلا لديه رقيب عتيد
আল্লাহ বলেন, যা-ই বলা হয় তার সন্নিকটে থাকে এক কঠিন পাহারাদার।
وقال الرسول صلى الله عليه وسلم لمعاذ، يا معاذ كف عنك هذا ( أي لسانك)، قال أفنواخذ بما نتكلم به يا رسول الله؟ قال وهل يكب الناس في النار على مناخر إلا حصائد ألسنتهم
রাসুল সঃ মুয়াজ রাঃ বলেন, মুয়াজ, তুমি সর্বদা এইটা ( মানে তোমার জিহ্বা) নিয়ন্ত্রনে রাখবে। মুয়াজ বললেন কেন? আমরা যা বলি সে জন্যে কি পাকড়াও হয়ে যেতে পারি? রাসুল সঃ বললেন, জানোনা মুয়াজ? মানুষকে নাকের উপর দিয়ে উল্টো করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয় এই জিহবার কারনেই।
মিডিয়াতে ফাতওয়া দেওয়ার প্রতিজোগিতা দেখে টিভি খোলা বন্ধ করে দিয়েছি ২ বছর যাবত। ফেজবুকেও একই অবস্থা। আল্লাহ মানুষকে সুমতি দিক এবং হেদায়েত করুক। দুনিয়া লোভী মুফতিদের ফেত্নাহ থেকে মানুষকে হেফাজত করুক। আমীন!!
Colledted From @Shaykh Muzammil Al Haque.

Tuesday, 8 November 2016

দাড়ি কামিয়ে ফেলার ফলে সংঘটিত সাতটি গুনাহ



(১) অবাধ্যতা

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, 
"আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল যখন কোনো ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তখন কোনো মুমিন পুরুষ ও কোনো মুমিন নারীর তাদের সে ব্যাপারে নিজেদের কোনো রকম এখতিয়ার থাকবে না - (যে তারা তাতে কোনো রদবদল করবে); যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে, সে নিসন্দেহে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।" (আল-আহযাব ৩৬)

"তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" (সূরা জ্বিন ২৩)


"রাসূল তোমাদের যা কিছু দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং সে যা কিছু নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো, আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।" (হাশর ৭)


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"আর আমি যাকিছু নিষেধ করেছি তা থেকে বেঁচে থাকো" [৩]

হযরত আমর ইবন শুয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“বার্ধক্যে (সাদাচুলকে) উপড়ে ফেলো না। কেননা তা কিয়ামতের দিন মুসলমানের জন্য আলোকবর্তিকা হবে”। (তিরমিযি, আবু দাউদ, রিয়াদুস সালেহিন ১৬৪৬)

"যে আমার সুন্নাহ'র বিরাগভাজন হয়, তার আমার সাথে কোন লেনদেন নেই।" (বুখারী, ৪৬৭৫)

দাড়ি কিংবা মাথা থেকে চুল উপড়ে ফেলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রকৃতপক্ষে, যে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে সে কালো কিংবা সাদা উভয় প্রকার চুলের বৃদ্ধিকেই অপছন্দ করে থাকে,অথচ সাদা দাড়িকে কিয়ামতের দিন মুসলমানের জন্য নূর হিসেবে বলা হয়েছে। ইমাম গাযযালী এবং ইমাম নওয়াবী (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়ে বলেছেন, "যখন দাড়ি গজাতে শুরু করে তখন তা উপড়ে ফেলা হল মুরদ'দের [৪] সাথে সাদৃশ্য এবং একটি বড় মুনকারাত(মন্দ কাজ)"

(২) ঔদ্ধত্য ও হেদায়েতের পথ হারিয়ে ফেলা

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, 
"যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি"। (নিসা ৮০)

যেহেতু রাসুলুল্লাহর সুন্নাহ (আদেশ, কাজ এবং গুণগতভাবে) বলছে দাড়ি বড় করার কথা, সেহেতু এটা কামিয়ে ফেলা হচ্ছে তাঁর সম্মানিত সুন্নাহ তথা জীবনাচরণের প্রতি একটি চরম অপমান। 
তিনি বলেছেন, 
"যে আমার সুন্নাহর বিরাগভাজন হয় সে আমার দলভুক্ত নয়"। (মুসলিম, ৩২৩৬; বুখারী, আহমদ, নাসায়ী)

"যে কেহ এমন আমল করবে যা করতে আমরা নির্দেশ দেইনি , তা প্রত্যাখ্যাত।" (মুসলিম)

আমাদেরকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি নি'মা (নিয়ামত) এবং মর্যাদা। নিঃসন্দেহে দাড়ি কামানো সেই নিয়ামতকে অস্বীকার করে এবং যেই আল্লাহর রাসূল(সা) এর দেখানো পথ সর্বোত্তম পথ, সেই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়াও বটে। এটা আমাদেরকে অবিশ্বাসীদের মতো স্তরেও নামিয়ে দেয় যাদের কাছে তাদের বদ কর্মগুলো সুশোভিত হয়ে দেখা দেয়; এভাবেই তাদের বিকৃত স্বভাব-প্রকৃতি আজকে তাদের বোধশক্তির এতটাই বিলোপ ঘটিয়েছে যে, তারা আজ বলছে, সভ্যতার অগ্রগতি ও অবস্থা অনুধাবনের জন্যে নারী পুরুষের বড় বাহ্যিক পার্থক্যগুলো (উদাহরণ স্বরুপ; দাড়ি) দূরীকরণ আবশ্যক !

(৩) আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন-বিকৃতি ঘটানো

দাড়ী পুরুষের সৌন্দর্য


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

দাড়ী আল্লাহর একটি মহান ও বড় নে’য়ামত। দাড়ী দ্বারা তিনি পুরুষকে অনুগৃহীত করেছেন এবং নারী জাতি থেকে তাকে বৈশিষ্ট মন্ডিত করেছেন।
দাড়ী শুধুমাত্র মুখমন্ডলের উপর কয়েকটি কেশগুচ্ছই নয়; বরং ইহা ইসলামের বাহ্যিক বড় একটি নিদর্শন। দাড়ী ছেড়ে রেখে এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহ্ বলেন,
ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
“এই কারণে যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, এটা তো তার হৃদয়ের তাকওয়ারই পরিচয়।” [ সূরা হাজ্জ- ৩২]
দাড়ী মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর অনুসৃত নীতির একটি অন্যতম পরিচয়। তিনি দাড়ী ছেড়ে দিতে ও লম্বা করতে আদেশ করেছেন।

কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, দাড়ীর প্রতি এত গুরুত্ব ও তার প্রতি সম্মানের নির্দেশ থাকা সত্বেও অধিকাংশ মুসলমান বিষয়টিকে অতি নগন্য ও তুচ্ছ মনে করে। যেন ঘৃণা ভরে প্রতিদিন তা ছেঁচে ফেলতে মহা ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যারা মুন্ডন করে না তারা আরেক ষ্টাইলে তার সাথে খেলা-ধুলা করে। কেউ শুধুমাত্র থুতনীর উপর ছোট ছোট করে রাখে আবার কেউ খুবই হালকা করে কাল একটি রেখার মত করে রাখে। কেউ আবার দাড়িকে গোঁফের সাথে মিলিয়ে দিয়ে গোলাকৃতী করে রাখে।
এই চিত্রগুলো দেখলে একদিকে যেমন দুঃখ লাগে অন্য দিকে তা যেন হাস্যেরও পাত্র। যে মুসলমানকে দাড়ী ছেড়ে দিতে আদেশ করা হয়েছে, দাড়ীকে সম্মান করতে বলা হয়েছে সেই মুসলমান তো দূরের কথা কোন বিবেকবানের পক্ষেও এরকম আচরণ করা শোভনীয় নয়। বড়ই পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ্ তা’আলা যে আকৃতিতে দাড়ীকে সৃষ্টি করেছেন সে অবস্থাতেই তা নিজ মুখমন্ডলে অবশিষ্ট রেখে ইসলামী শিষ্টাচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী এরকম সভ্য মানুষের সংখ্যা আজ খুবই বিরল। (লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্)
মনীষীদের নিকট দাড়ীর মূল্য ও সম্মানঃ
আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সমস্ত নবী ও রাসূলের বৈশিষ্ট ছিল দাড়ী রাখা। অনুরূপভাবে ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন ও আইম্মায়ে মুজতাহেদীন সকলেই দাড়ী রেখেছেন। এমন কোন বর্ণনা বা ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে না যে, তাঁদের মধ্যে কেউ দাড়ী কেটেছেন বা মুন্ডন করেছেন; বরং কারো দাড়ী না গজালে তার জন্য তাঁরা আফসোস করেছেন। সাহাবী ক্বায়স বিন সা’দ (রাঃ) দাড়ী বিহীন লোক ছিলেন। তাঁর সম্প্রদায় আনসাররা বললেন, হায় দাড়ী যদি বাজারে কিনে পাওয়া যেত তবে আমরা তাঁর জন্য দাড়ী কিনে নিতাম।”
প্রখ্যাত তাবেঈ আহনাফ বিন কায়স একজন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী লোক ছিলেন। তিনি সৃষ্টিগত দিক থেকে খোঁড়া ও এক চোখ অন্ধ ছিলেন। তাঁর দাড়ীও উঠে নি। অথচ তিনি ছিলেন নিজ গোত্রের নেতা। লোকরা বলল, “বিশ হাজার দীনার খরচ করেও যদি যদি দাড়ী কিনে পাওয়া যেত তবে আমরা তাঁর জন্য তা খরিদ করতাম।” কি আশ্চর্য! লোকেরা তাঁর পা বা চোখের ত্র“টিকে ত্র“টি মনে করল না। কিন্তু তারা দাড়ী না থাকাটাকে অপছন্দ করল। কেননা তাঁরা দাড়ীকে মনে করতেন পৌরুষত্বের পরিচয়, মুসলিমের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার প্রতিক। তাঁরা দাড়ী বাঁচাতে গিয়ে এবং তার সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে নিজের গর্দান দিয়ে দেয়াকে সহজ মনে করতেন।
কিন্তু আফসোস মুসলমানদের অবস্থা দেখে তারা দাড়ীর প্রতি এতই রুষ্ট যে, অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে হলেও তার বিরুদ্ধে যেন অঘোষিত লড়াইয়ে নেমে পড়েছে। হাজার টাকা খরচ করেও যদি এমন হত যে আর কখনো মুখে দাড়ী গজাবে না, তারা সে পথেই অগ্রসর হতো।(নাঊযুবিল্লাহ্)
দাড়ী মুন্ডন হারাম হওয়ার দলীলঃ
আল্লাহ্ বলেন,
وَلَآَمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ
“(শয়তান বলে) আমি অবশ্যই তাদেরকে আদেশ করব, তারা তখন আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে দিবে।” [ সূরা নিসাঃ ১১৯]
দাড়ী মুন্ডন করা বা কর্তন করা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করার শামিল।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
"দশটি জিনিস স্বভাবজাত। তম্মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেনঃ গোফ কর্তন করা ও দাড়ী ছেড়ে দেয়া।" [ মুসলিম]
অতএব গোঁফ লম্বা করা আর দাড়ী কেটে ফেলা সুস্থ স্বভাব বিরোধী কাজ।
ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ
“তোমরা মুশরিকদের বিরোধীতা কর। দাড়ী ছেড়ে দাও এবং গোঁফ ছোট কর।” [বুখারী ও মুসলিম]
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
جُزُّوا الشَّوَارِبَ وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ
“গোঁফ ছেঁটে ফেল এবং দাড়ী লম্বা কর আর এর মাধ্যমে অগ্নী পুজকদের বিরোধীতা কর।” [ মুসলিম]
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যাবতীয় বিষয়ে মুশরিক-হিন্দু, ইহূদী-খৃষ্টান ও অগ্নী পুজকদের বিরোধীতা করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ওয়াজিব।
এ জন্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
“যারা কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে।” [ আবু দাউদ, আহমাদ হাদীছ সহীহ ]
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন,
مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا
“যে ব্যক্তি গোঁফ কাটে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়।” [ তিরমিযী, নাসাঈ, হাদীছ সহীহ ]
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নির্দেশ ওয়াজিব বা আবশ্যকতার দাবী রাখে।
অন্য দিকে দাড়ী মুন্ডন করার মাধ্যমে নিজেকে নারীদের কাতারে শামিল করা হয়। কেননা নারীরা দাড়ী বিহীন। কোন নারী যদি পুরুষের আকৃতি ধারণ করে এবং কোন পুরুষ যদি নারীর আকৃতি ধারণ করে তবে তারা লা’নতপ্রাপ্ত।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষকে এবং পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীনী নারীকে অভিশাপ করেছেন।” [ছহীহ আবু দাউদ, তিরমিযী]
দাড়ী রাখা ওয়াজিব না সুন্নাত?
এ নিয়ে মানুষ মতোবিরোধ করলেও দাড়ী রাখা যে ওয়াজিব সেটাই প্রনিধাণযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য কথা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়ী রেখেছেন বলেই ইহা নবীজীর সুন্নাত বলে তার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা নবীজী দাড়ী নিজে রেখেছেন এবং তা রাখার জন্যে নির্দেশও দিয়েছেন। আর আল্লাহ্ তা’আলা যেমন ফরয করেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও তেমনি ফরয বা ওয়াজিব করেন। তার কারণ হচ্ছে নবীজী কখনো নিজের কল্পনা প্রসূত কোন কথা বলতেন না। আল্লাহ্ তাঁর নিকট যা ওহী করতেন তিনি তাই বলতেন। (সূরা নজমঃ ৩,৪) তাছাড়া নবীজী দাড়ীর বিষয়ে যে সকল আদেশ সূচক শব্দ ব্যবহার করেছেন তার বিপরীতে এমন কোন হাদীছ খুঁজে পাওয়া যাবে না যা দ্বারা দাড়ীকে সুন্নাত বা মুস্তাহাব সাব্যস্ত যাবে।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...