Showing posts with label আমল. Show all posts
Showing posts with label আমল. Show all posts

Friday, 2 October 2026

এক মিনিটে আপনি কি কি আমল করতে পারেন



||||||||||||||||||||||||||||||||||

প্রশ্ন: আমরা অফিসে বা কর্মস্থলে ইবাদত-বন্দেগী ও নেককাজের তেমন কোন সময় পাই না। অফিসের পর বাকী যে সামান্য সময় পাই এর মধ্যে আমরা কি কি আমল করতে পারি এবং এ সময়কে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি?

===============

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।সময় মানুষের জীবন সময়কে কখনো অপচয় হতে বা অকাজে নষ্ট হতে দেয়ার মত নয়। প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার সময়ের সদ্ব্যবহার করে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সময়কে অহেতুক কাজে বা অর্বাচীন কথায় ব্যয় করে না। বরং তিনি সময়কে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও ভাল কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। যে কাজ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং মানুষের উপকার বয়ে আনে। জীবনের প্রতিটি মিনিটে আপনি একটি করে প্রস্তর স্থাপন করতে পারেন যা আপনার মর্যাদার ভবনকে উচ্চকিত করবে এবং যা দিয়ে আপনার জাতি সৌভাগ্যমণ্ডিত হতে পারবে।

আপনি যদি মর্যাদার শিখরে পৌঁছুতে চান এবং আপন জাতিকে সৌভাগ্যমণ্ডিত করতে চান তবে আরাম-আয়েশকে না-বলুন এবং অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করুন।

এক মিনিট সময়ের মাঝে অনেক ভাল কাজ করা যেতে পারে এবং বিশাল সওয়াব পাওয়া যেতে পারে। শুধু আপনার জীবনের এক মিনিট সময় ব্যয় করে আপনি আপনার দানের পরিধি বাড়াতে পারেন, কোন কিছু উপলব্ধি করতে পারেন, কোন কিছু মুখস্থ করতে পারেন, যে কোন নেককাজ করতে পারেন। শুধু এক মিনিটেই আপনার ভালো কাজের আমলনামায় এই আমলগুলো লেখা হয়ে যাবে যদি আপনি জানেন কিভাবে এক মিনিট সময়কে কাজে লাগাতে হয় এবং বাস্তবে কাজে লাগান। কবি বলেন:

“প্রতিটি মিনিটে বৃহত্তর কল্যাণে প্রবৃত্ত হও।

Tuesday, 9 June 2015

কেউ যদি তার যিম্মায় থাকা (ছুটে যাওয়া) সালাতের ও ফরয সাওমের সংখ্যা মনে করতে না পারে, তবে সে কী করবে?




ফাত্‌ওয়া নং - 72216 

প্রশ্ন : যদি কোন মুসলিমের ছুটে যাওয়া সালাত ও সিয়ামের সংখ্যা মনে না থাকে, তবে সে কিভাবে তার কাযা করবে?

উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত:
ছুটে যাওয়া সালাতের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা হতে পারে :
প্রথম অবস্থা :
ঘুম বা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাত ছুটে যাওয়া। এ অবস্থায় তার উপর কাযা করা ওয়াজিব। এর দলীল রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :
من نسي صلاة أو نام عنها فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها رواه البخاري (572 ) ومسلم ( 684 ) – واللفظ له - .
“যে সালাত আদায় করতে ভুলে যায় বা সে সময় ঘুমিয়ে থাকায় তা ছুটে যায়, তার কাফফারাহ হলো সে যখনই তা মনে করবে তখনই (সাথে সাথে) সালাত আদায় করে নিবে।” [বুখারী (৫৭২) ও মুসলিম (৬৮৪)। (শব্দ চয়ন) সহীহ মুসলিমের]

এবং সে তা ধারাবাহিকভাবে আদায় করবে যেমনটি তার উপর ফরয হয়েছে, প্রথমটি প্রথমে করবে। এর দলীল জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ এর হাদীস -
أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه جاء يوم الخندق بعد ما غربت الشمس فجعل يسب كفار قريش قال : يا رسول الله ما كدت أصلي العصر حتى كادت الشمس تغرب، قال النبي صلى الله عليه وسلم : والله ما صليتها ، فقمنا إلى بطحان فتوضأ للصلاة وتوضأنا لها فصلَّى العصر بعد ما غربت الشمس , ثم صلى بعدها المغرب . رواهالبخاري ( 571 ) ومسلم ( 631 )
“উমার ইবনুল খাত্তাব-রাদিয়াল্লাহু-‘আনহু-খানদাকের যুদ্ধের দিন সূর্যাস্তের পর এসে ক্বুরাইশ কাফিরদের গালি দিতে লাগলেন, তিনি বললেন : “হে রাসূলুল্লাহ, আমি ‘আসরের সালাত আদায় করতে যেতে যেতে সূর্য ডুবে যেতে লাগল !” নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন : “আল্লাহর শপথ, আমিও এর (‘আসরের) সালাত আদায় করি নি।” এরপর আমরা বাত্বহান-এ দাঁড়ালাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সালাতের জন্য ওযু করলেন, আমরাও সালাতের জন্য ওযু করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘আসরের সালাত  আদায় করলেন, এরপর মাগরিব এর সালাত আদায় করলেন।” [বুখারী (৫৭১) ও মুসলিম (৬৩১)]
দ্বিতীয় অবস্থা:
এমন ‘উযরের কারণে সালাত ছুটে যাওয়া, যে সময় কোনো হুঁশ থাকে না, যেমন- কোমা। এ অবস্থার ক্ষেত্রে তার উপর থেকে সালাত (আদায়ের দায়িত্ব) উঠে যায় এবং তার উপর তা কাযা করা ওয়াজিব হয় না।
ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ‘আলিমগণকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল :
আমার এক গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটেছিল, ফলে তিন মাস হাসপাতালে শুয়ে ছিলাম, এ সময়ে আমার কোনো হুঁশ ছিল না। এ পুরো সময় আমি কোনো সালাত আদায় করি নি। আমার উপর থেকে কি তা (সালাত আদায়ের দায়িত্ব) উঠে যাবে নাকি পূর্বের সব (ছুটে যাওয়া) সালাত পুনরায় আদায় করব?
তাঁরা উত্তরে বললেন :
“উল্লেখিত সময়ের সালাত [কাযা আদায়ের দায়িত্ব] আপনার থেকে ছুটে যাবে; কারণ আপনার তখন কোনো হুঁশ ছিল না।”
তাঁদেরকে আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল:
যদি কেউ এক মাস অজ্ঞান অবস্থায় থাকে আর এ পুরো মাস কোনো সালাত আদায় না করে, তবে সে কীভাবে ছুটে যাওয়া সালাত পুনরায় আদায় করবে?
তাঁরা উত্তরে বলেন:
“এ সময়ে যে সালাতসমূহ বাদ গিয়েছে তা কাযা করবে না, কারণ সে উল্লেখিত অবস্থায় পাগলের হুকুমের মধ্যে পড়ে। আর পাগল ব্যক্তির জন্য কলম উঠানো হয়েছে (অর্থাৎ তার উপর শারী‘আতের বিধি-বিধান প্রযোজ্য নয়)।” [ফাত্‌ওয়া আল-লাজ্‌নাহ আদ-দা’ইমাহ (৬/২১)]

Monday, 8 June 2015

সিয়ামের ফজিলত




সিয়ামের ফজিলত সমূহ 

এক. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজের সাথে সিয়ামের সম্পর্ক ঘোষণা করেছেন। 
এমনিভাবে তিনি সকল ইবাদত-বন্দেগি থেকে সিয়ামকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন। যেমন তিনি এক হাদিসে কুদসিতে বলেন :—
كل عمل ابن آدم لـه إلا الصيام، فإنه لي وأنا أجزى به. رواه مسلم
মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম)
এ হাদিস দ্বারা আমরা অনুধাবন করতে পারি নেক আমলের মাঝে সিয়াম পালনের গুরুত্ব আল্লাহর কাছে কত বেশি। তাই সাহাবি আবু হুরায়রা রা. যখন বলেছিলেন -
يا رسول الله مرني بعمل، قال عليك بالصوم فإنه لا عدل لـه. رواه النسائي
হে রাসূলুল্লাহ ! আমাকে অতি উত্তম কোন নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তুমি সিয়াম পালন করবে। মনে রেখ এর সমমর্যাদার কোন আমল নেই। (নাসায়ি)

সিয়ামের এত মর্যাদার কারণ কী তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাল জানেন। তবে, আমরা যা দেখি তা হল, সিয়াম এমন একটি আমল যাতে লোক দেখানো ভাব থাকে না। বান্দা ও আল্লাহ তাআলার মধ্যকার একটি অতি গোপন বিষয়। সালাত হজ, জাকাতসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি কে করল তা দেখা যায়। পরিত্যাগ করলেও বুঝা যায়। কিন্তু সিয়াম পালনে লোক দেখানো বা শোনানোর ভাবনা থাকে না। ফলে সিয়ামের মধ্যে এখলাস বা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা নির্ভেজাল ও বেশি থাকে। যেমন আল্লাহ বলেন :—
يدع شهوته وطعامه من أجلي
সিয়াম পালনকারী আমার জন্যই পানাহার ও যৌনতা পরিহার করে। 
তাই সিয়াম পালনকারী আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছুর আশা করে না।

দুই. সিয়াম আদায়কারী বিনা হিসাবে প্রতিদান লাভ করে থাকেন। 
কিন্তু অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি ও সৎ কর্মের প্রতিদান বিনা হিসাবে দেয়া হয় না। বরং প্রত্যেকটি নেক আমলের পরিবর্তে আমলকারীকে দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত প্রতিদান দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالـها إلى سبع مئة ضعف. قال الله عز وجل: ( إلا الصوم فإنه لي وأنا أجزى به . . .
মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-কিন্তু সিয়ামের বিষয়টা ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধু আমার জন্য আমিই তার প্রতিদান দেব। বর্ণনায় : মুসলিম
সারা জাহানের সর্বশক্তিমান প্রতিপালক আল্লাহ নিজেই যখন এর পুরস্কার দেবেন তখন কি পরিমাণে দেবেন ? 
ইমাম আওজায়ী র. এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ যে সিয়াম আদায় কারীকে প্রতিদান দেবেন তা মাপা হবে না, ওজন করা হবে না।

তিন. সিয়াম ঢাল ও কুপ্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা:

Sunday, 7 June 2015

রমাদান মাসের ৩০ আমল




রমাদান মাস আল্লাহ তা‘আলা এক বিশেষ নিয়ামাত। সাওয়াব অর্জন করার মৌসুম। এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, রহমাত, বরকত ও নাজাতের মাস-রমাদান মাস। আলকুরআনে এসেছে,
﴿ شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ ﴾ [البقرة: ١٨٥] 
‘‘রমাদান মাস, যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে’’ [সূরা আলবাকারাহ : ১৮৫]। রমাদান মাসের ফযিলাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ»
‘‘রমাদান- বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোযা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে বঞ্চিত হল (মহা কল্যাণ হতে)’’ [সুনান আত-তিরমিযি: ৬৮৩]।
এ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন  করার  মাধ্যমে আমরা জান্নাতে যেতে পারি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারি।  নিম্নে রমাদান মাসের আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।  তবে এ আমলগুলো করার জন্য শর্ত হলো :
 এক.
ইখলাস অর্থাৎ ‘‘একনিষ্ঠতার সাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যে আমল করা। সুতরাং যে আমল হবে টাকা উপার্জনের জন্য, নেতৃত্ব অর্জনের জন্য ও সুনাম-খ্যাতি অর্জনের জন্যে সে আমলে ইখলাস থাকবে না অর্থাৎ এসব ইবাদাত বা নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে না বরং তা ছোট শির্কে রূপান্তরিত হতে পারে। আল-কুরআনে এসেছে,
﴿ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ ﴾ [البينة: ٥] 
“আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ‘ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে” [সূরা আল-বাইয়্যেনাহ : ৫]
দুই.
ইবাদাতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ। সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল ইবাদাতের কথা উল্লেখ আছে সেগুলো পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই। কারণ, ইবাদাত হচ্ছে তাই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়ে দিয়েছেন।
কুরআনে এসেছে,

রোজাদার বোনদের প্রতি...




যে সকল বোন রমজান পেল তাদের উদ্দেশ্যে

সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদের রমজান মাস নসীব করেছেন। আমরা তার কাছেই প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের রমজানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করার তাওফীক দান করেন। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো তিনি যেন ক্ষমা করে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ও তার সকল সাহাবীদের উপর।
এটি একটি ক্ষুদ্র চিঠি যা আমি আমার মুসলিম বোনদের জন্য লিখেছি। চিঠিটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে ভাগ করে আলোচনা করেছি। আল্লাহর কাছেই দুআ করছি তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন। তিনিই সর্বশ্রোতা, সাড়া দানকারী।

প্রথম পরিচ্ছেদ:
আপনাকে সৃষ্টির মূল উদ্দশ্যে সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (الذاريات : 56)
আর জিন ও মানুষকে কেবল এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে। (সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ৫৬)
ইমাম নববী রহ. বলেন, এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া হল, মানব ও জিনকে ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই যে উদ্দেশ্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তৎপর থাকতে হবে। যুহদ অবলম্বনের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে দুনিয়াটা হল অস্থায়ী। স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা এটা নয়।
আমার মুসলিম বোন!
আপনার প্রতি আল্লাহর নেআমাত ও অনুগ্রহ সম্পর্কে একটু চিন্তা করুন। তিনি বলেছেন :
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا (إبراهيم : 34)
যদি তোমরা আল্লাহর নেআমাতকে গণনা করতে যাও তবে তা গণনা করতে পারবে না। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৩৪)
তিনি আপনাকে এ সকল নেআমাতে ডুবিয়ে রেখেছেন। এ সব নেআমাতের মধ্যে শ্রেষ্ট নেআমাত হল দীনে ইসলাম। এ বিশ্বে কত কোটি মানুষ আছে তারা এ নেআমাত থেকে বঞ্চিত। তাদের সৌভাগ্য হয়নি, ‌‌‌‌আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এ কথাটির স্বাক্ষ্য দেয়া।
আল্লাহর এ অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে দিয়ে থাকেন।
এরপর তুমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করুন এ জন্য যে, তিনি আপনাকে হিদায়াত ও সঠিক পথে চলার তাওফীক দিয়ছেন। কত মুসলিম নামধারী মানুষ আছে যারা ইসলামের ঘরে জন্ম নিয়েও হিদায়াত বা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়নি।
আর আপনি আল্লাহর নেআমাত নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছেন। তার প্রশস্ত রিযক ভোগ করছেন। তার দেয়া সুসাস্থ্য তুমি উপভোগ করছেন। কাজেই আপনার কর্তব্য হল আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তার নেআমাতের শোকরিয়া আদায় করা। তার নিষেধ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া। তাহলে তিনি এ নেআমাতকে আপনার জন্য অক্ষুন্ন রাখবেন। নেআমাত বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَئِن شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ (إبراهيم : 7)
যদি তোমরা শোকরিয়া আদায় করো তাহলে তিনি তোমাদের বাড়িয়ে দেবেন। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৭)
মনে রাখবেন, মানুষ যা কিছু ইবাদত-বন্দেগী করে আল্লাহর পাওনা তার চেয়ে অনেক বেশী। মানুষ যা গণনা করে তার চেয়ে তার প্রতি আল্লাহর নেআমাত অনেক অনেক বেশী। কাজেই সকাল সন্ধ্যায় আপনি তাওবা করুন। তার দিকে ফিরে আসুন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ :
আল্লাহ তাআলার নেআমাতের একটি হল তিনি আপনার আয়ু দীর্ঘ করে দিয়েছেন ফলে আপনি এই রমজান মাস ধরতে পেরেছেন। আপনি একটু ভেবে দেখুন, আপনার কত পরিচিত জন এ রমজান ধরতে পারেনি। এ রমজান ধরার আগেই মৃত্যু তাদের ধরে ফেলেছে। তারা ধনে জনে কম ছিল না কোন দিক দিয়ে। দীর্ঘ জীবন লাভ করা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও সৎকর্ম করার সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। এ জন্য মুসলিম ব্যক্তির বড় পুজি হল তার হায়াত। তাই আপনার উচিত হবে আপনার সময় ও জীবন যেন অকারণে ব্যয়িত না হয়। চিন্তা করে দেখুন, যারা আপনার সাথে গত বছর রমজানের সিয়াম শুরু করেছিল তারা সকলে কি ঈদ পেয়েছিল? ভেবে দেখুন, তারা যদি আবার দুনিয়াতে ফিরে আসতেন তাহলে কী করতেন? তারা কি খেল-তামাশা, মার্কেট, বন্ধু-বান্ধবী আর বিনোদনে মত্ত হয়ে যেতেন, না বেশী করে সৎকর্ম করতে কোমর বেধে লেগে যেতেন? 

Friday, 5 June 2015

মাহে রামাজানের বিশটি স্পেশাল আমল




ভূমিকা: বছর ঘুরে আবারো রামাজান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রামাজানের রোযা ফরজ হওয়ায় আল্লাহর রাসুল ও তার সাহাবীদের জীবনে আমাদের মতো এত বেশি রমজানের রোযা ও ইবাদতের সুযোগ আসে নি। কিন্তু যে কয়টি রমজান তাঁরা পেয়েছেন, সেগুলোর সদ্ব্যবহার করে তারা সফলকাম হয়েছেন। তাদের মতো সফলতা পেতে এবং রমজান ও সিয়াম সাধনাকে সার্থক করতে হলে পরিকল্পিত প্রয়াস চালাতে হবে।
ঈমানদারেরও আমল ও ইবাদতের মৌসুম হলো মাহে রমজানুল মুবারক। অন্য সময়ের ইবাদতের ঘাটতি পুশিয়ে নেওয়ার সর্বোত্তম সময় এটি। আর সেজন্য এই মাসে অন্য সাধারণ আমলের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রমজানের বিশেষ আমল বা কর্মসূচীগুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে।

নিন্মে প্রতিটি কর্মসূচির সূত্র ও হাদীসের ভাষ্য উল্লেখ করা হল:

১/ তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখবে চাঁদ দেখে ঈদ করবে। -বুখারী ও মুসলিম
২/ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে, সে যেন রোযা রাখে। -সুরা বাক্কারা১৮৫
৩/ যে ব্যক্তি রমজান মাসে রাতে জেগে নামায আদায় করবে আল্লাহ তার পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। -বোখারী ও মুসলিম
৪/ মানুষ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যাবত বিলম্ব না করে ইফতার করবে এবং শেষ সময়ে সাহরী খাবে। -বোখারী ও মুসলিম।
৫/ মানুষ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যাবত বিলম্ব না করে ইফতার করবে এবং শেষ সময়ে সাহরী খাবে। -বোখারী ও মুসলিম
৬/ তিন ব্যক্তির দু’আ ফিরিয়ে দেওয়া হয়না।….রোযাদার ব্যক্তি-ইফতারের আগ পর্যন্ত।-তিরমিযি আহমদ ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান।

যাকাতুল ফিতর বা ফিতরা




টাকা-পয়সা নয়; খাদ্য দ্রব্য ফিতরা দেয়া সুন্নাত।
ধান নয়; চাল দিয়ে ফিতরা দেয়া কর্তব্য।

ফিতরা
 (একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ)

এ প্রবন্ধে যে সকল বিষয় আলোচিত হয়েছে:
১) ভূমিকা
২) ফিতরা কাকে বলে?
৩) ফিতরার হুকুম (বিধান)।
৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কি দ্বারা এবং কি পরিমাণ ফিতরা দেওয়া হত?
৫) ধানের না চালের ফিতরা?
৬) ধান দ্বারা ফিতরা আদায় না হওয়ার ব্যাপারে উপমহাদেশের কয়েকজন বরেণ্য উলামায়ে কেরামের ফতোয়া।
৭) যারা ধান দ্বারা ফিতরা দেয়া জায়েয মনে করেন।
৮) খাদ্য দ্রব্য দ্বারা ফিতরা না দিয়ে টাকা-পয়সা দ্বারা ফিতরা দেওয়া
৯) অর্ধ সা’ র ফিতরা
১০) সা সম্পর্কে দুটি কথা


ভূমিকা

আল্ হামদু লিল্লাহ ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ; আমরা উভয় বাংলার কিছু স্থানে অনেক ভাইকে দেখি তারা তাদের সাদাকাতুল্ ফিতরা ধান দ্বারা প্রদান করে থাকেন। আর অনেকে মূল্য দ্বারা দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়া কি বলে বা কি দ্বারা ফিতরা দেওয়া সঠিক? আমরা এই স্থানে তারই একটু খুঁটিনাটি বর্ণনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

পাঠক মহোদয়! ‘ইসলাম’’ অর্থ আত্মসমর্পণ করা। [বিশ্বকোষ নাযরাতুন্ নয়ীম, শব্দ আল ইসলাম] আত্মসমর্পণ করা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল প্রদত্ত বিধি-বিধানের সামনে। তাই ইসলামের যে বিষয়ের সমাধান কুরআন বা সুন্নতে বর্তমান সে বিধানের সামনে আত্মসমর্পণ করা এবং তা মেনে নেয়াই হচ্ছে একজন প্রকৃত মুসলিমের বৈশিষ্ট্য ও কর্তব্য। কোন বিষয়ে সহীহ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা না মানা কিংবা তার অপ ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা তার বদলে অন্য বিধান রচনা করা নিঃসন্দেহে শরীয়তে হস্তক্ষেপ করার সমান এবং গর্হিত দুঃসাহস মাত্র। মানুষকে এরকম করা থেকে দূরে থাকা দরকার। আল্লাহ বলেন:
"(আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন কোন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।)" [ সূরা আহযাব/৩৬]

এই দুটি কথার পর আমি আপনাদের সম্মুখে ‘যাকাতুল ফিতর’ বা প্রচলিত ভাষায় ফিতরা সম্পর্কে ইসলামের কিছু নির্ভেজাল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ যেন সঠিক বলার, লেখার এবং মানার তাওফীক দেন, আমীন।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...