যে সকল বোন রমজান পেল তাদের উদ্দেশ্যে
সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদের রমজান মাস নসীব করেছেন। আমরা তার কাছেই প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের রমজানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করার তাওফীক দান করেন। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো তিনি যেন ক্ষমা করে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ও তার সকল সাহাবীদের উপর।
এটি একটি ক্ষুদ্র চিঠি যা আমি আমার মুসলিম বোনদের জন্য লিখেছি। চিঠিটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে ভাগ করে আলোচনা করেছি। আল্লাহর কাছেই দুআ করছি তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন। তিনিই সর্বশ্রোতা, সাড়া দানকারী।
প্রথম পরিচ্ছেদ:
আপনাকে সৃষ্টির মূল উদ্দশ্যে সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (الذاريات : 56)
আর জিন ও মানুষকে কেবল এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে। (সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ৫৬)
ইমাম নববী রহ. বলেন, এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া হল, মানব ও জিনকে ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই যে উদ্দেশ্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তৎপর থাকতে হবে। যুহদ অবলম্বনের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে দুনিয়াটা হল অস্থায়ী। স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা এটা নয়।
আমার মুসলিম বোন!
আপনার প্রতি আল্লাহর নেআমাত ও অনুগ্রহ সম্পর্কে একটু চিন্তা করুন। তিনি বলেছেন :
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا (إبراهيم : 34)
যদি তোমরা আল্লাহর নেআমাতকে গণনা করতে যাও তবে তা গণনা করতে পারবে না। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৩৪)
তিনি আপনাকে এ সকল নেআমাতে ডুবিয়ে রেখেছেন। এ সব নেআমাতের মধ্যে শ্রেষ্ট নেআমাত হল দীনে ইসলাম। এ বিশ্বে কত কোটি মানুষ আছে তারা এ নেআমাত থেকে বঞ্চিত। তাদের সৌভাগ্য হয়নি, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এ কথাটির স্বাক্ষ্য দেয়া।
আল্লাহর এ অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে দিয়ে থাকেন।
এরপর তুমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করুন এ জন্য যে, তিনি আপনাকে হিদায়াত ও সঠিক পথে চলার তাওফীক দিয়ছেন। কত মুসলিম নামধারী মানুষ আছে যারা ইসলামের ঘরে জন্ম নিয়েও হিদায়াত বা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়নি।
আর আপনি আল্লাহর নেআমাত নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছেন। তার প্রশস্ত রিযক ভোগ করছেন। তার দেয়া সুসাস্থ্য তুমি উপভোগ করছেন। কাজেই আপনার কর্তব্য হল আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তার নেআমাতের শোকরিয়া আদায় করা। তার নিষেধ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া। তাহলে তিনি এ নেআমাতকে আপনার জন্য অক্ষুন্ন রাখবেন। নেআমাত বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَئِن شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ (إبراهيم : 7)
যদি তোমরা শোকরিয়া আদায় করো তাহলে তিনি তোমাদের বাড়িয়ে দেবেন। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৭)
মনে রাখবেন, মানুষ যা কিছু ইবাদত-বন্দেগী করে আল্লাহর পাওনা তার চেয়ে অনেক বেশী। মানুষ যা গণনা করে তার চেয়ে তার প্রতি আল্লাহর নেআমাত অনেক অনেক বেশী। কাজেই সকাল সন্ধ্যায় আপনি তাওবা করুন। তার দিকে ফিরে আসুন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ :
আল্লাহ তাআলার নেআমাতের একটি হল তিনি আপনার আয়ু দীর্ঘ করে দিয়েছেন ফলে আপনি এই রমজান মাস ধরতে পেরেছেন। আপনি একটু ভেবে দেখুন, আপনার কত পরিচিত জন এ রমজান ধরতে পারেনি। এ রমজান ধরার আগেই মৃত্যু তাদের ধরে ফেলেছে। তারা ধনে জনে কম ছিল না কোন দিক দিয়ে। দীর্ঘ জীবন লাভ করা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও সৎকর্ম করার সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। এ জন্য মুসলিম ব্যক্তির বড় পুজি হল তার হায়াত। তাই আপনার উচিত হবে আপনার সময় ও জীবন যেন অকারণে ব্যয়িত না হয়। চিন্তা করে দেখুন, যারা আপনার সাথে গত বছর রমজানের সিয়াম শুরু করেছিল তারা সকলে কি ঈদ পেয়েছিল? ভেবে দেখুন, তারা যদি আবার দুনিয়াতে ফিরে আসতেন তাহলে কী করতেন? তারা কি খেল-তামাশা, মার্কেট, বন্ধু-বান্ধবী আর বিনোদনে মত্ত হয়ে যেতেন, না বেশী করে সৎকর্ম করতে কোমর বেধে লেগে যেতেন?