Showing posts with label আলিম কে. Show all posts
Showing posts with label আলিম কে. Show all posts

Friday, 16 August 2019

আলিম কে?


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। যিনি বলেছেন, “তোমরা যদি না জানো, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো।” [সূরাহ নাহল: ৪৩]
দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। যিনি বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে যে ‘ইলম দান করেছেন তা তোমাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো তুলে নেবেন না। বরং ‘আলিম-‘উলামা তুলে নিয়ে ‘ইলম তুলে নেবেন। এমতাবস্থায় যখন কেবল জাহিল নেতাবর্গ অবশিষ্ট থাকবে, তখন লোকেরা তাদেরকেই ফাতওয়া জিজ্ঞেস করবে। আর তারা নিজেদের রায় দ্বারা ফাতওয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরা ভ্রষ্ট হবে এবং অপরকেও ভ্রষ্ট করবে।” [সাহীহ বুখারী, হা/১০১]
·
প্রারম্ভিকা:
‘আলিম’ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি অবস্থান, যে অবস্থান আল্লাহ স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী স্রেফ তাঁর অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দাদেরকে দান করে থাকেন। ‘আলিমগণ সম্মানিত নাবীদের ওয়ারিশ। আল্লাহ’র কাছে তাঁদের বিশাল মর্যাদা রয়েছে। এই অবস্থানের অধিকারী নির্বাচিত বান্দারা ইসলাম প্রচার ও প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দেন। তাঁরা দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং জনসাধারণকে শার‘ঈ পদ্ধতিতে পথনির্দেশ করেন।
কেউ চাইলেই ‘আলিম হতে পারে না, এমনকি সারাজীবন ‘ইলম অর্জনে ব্যাপৃত থাকার পরও কেউ ‘আলিম হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ‘আলিম হিসেবে কবুল করেন।
সম্প্রতি উপমহাদেশীয় পরিমণ্ডলে একটি বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, আম জনসাধারণ—এমনকি কতিপয় দা‘ঈও—‘আলিম লকবটি যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে। কেউ কওমি মাদরাসা থেকে দাওরা পাস করেই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে, কেউ আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে, কেউ ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে, আবার কেউ কেউ দুচারটা হাদীস ও ফিক্বহের কিতাব পড়েই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে। আল্লাহুল মুস্তা‘আন।
অথচ বিষয়টি এরকম জলবত তরলং নয়। ‘আলিম হওয়ার জন্য বিস্তর ‘ইলম, ফিক্বহ ও হিকমাহ’র প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন আছে প্রকৃত ‘আলিমদের পক্ষ থেকে ‘আলিম হওয়ার শাহাদাহ’র।
বর্তমান সময়ে উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষ ‘আলিমের পরিচয় সম্পর্কে অবগত নয়। ফলে তারা অনির্ভরযোগ্য দা‘ঈ এবং সেলিব্রেটি বক্তাদেরকে ‘আলিম গণ্য করে তাদের কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করে, ফলে তারা ভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন, “দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে আধা বক্তা, আধা ফাক্বীহ (‘আলিম), আধা ডাক্তার ও আধা ভাষাবিদ। আধা বক্তা ক্ষতি করে দ্বীনের, আধা ফাক্বীহ ক্ষতি করে দেশের, আধা ডাক্তার ক্ষতি করে শরীরের, আর আধা ভাষাবিদ ক্ষতি করে ভাষার।” [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ১১৮-১১৯; বাদশাহ ফাহাদ প্রিন্টিং প্রেস, মাদীনাহ ছাপা; ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি. (বাদশাহ ফাহাদের রাজকীয় ফরমানে মুদ্রিত)]
এহেন বিপজ্জনক পরিস্থিতির নিরসনকল্পেই আমাদের এই নিবন্ধের অবতারণা। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা যথাক্রমে ‘আলিমের পরিচয়, ‘আলিম হওয়ার শর্ত এবং ‘আলিম চেনার উপায় প্রসঙ্গে নাতিদীর্ঘ আলোচনা পেশ করেছি। আল্লাহ আমাদের এই সামান্য প্রয়াসকে সালাফী দা‘ওয়াহর অংশ হিসেবে কবুল করুন এবং এটাকে আমাদের জান্নাতে দাখিল হওয়ার মাধ্যমে পরিণত করুন। (আমীন)

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...