পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
অনেক অজ্ঞ ও ধোঁকাগ্রস্ত সালাফী বিদ‘আতীদের বইপুস্তক পড়েন এবং তাদের লেকচার ক্লিপস শোনেন। আমি মনে করি, তাঁরা এই কাজের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারেননি এবং এই বিপজ্জনক কর্মের ব্যাপারে সালাফদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি। কিছু ভাই আবার ইবলিসী ধোঁকায় পতিত হওয়ার কারণে মনে করেন—‘আমি তো আর বিদ‘আতীদের বইপুস্তক পড়ে এবং তাদের লেকচার ক্লিপস শুনে সব কথা গ্রহণ করছি না, আমি স্রেফ হকটাই নিচ্ছি, আর বাতিলটা বর্জন করছি!’ তাই এই বিপজ্জনক কর্মের ব্যাপারে সালাফ ও খালাফদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ বিদ্বানদের বক্তব্য পেশ করা জরুরি মনে করছি। আর উপরিউক্ত ভ্রান্ত ধারণার ব্যাপারে সামনে আলোচনা আসবে, ইনশাআল্লাহ।
·
আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত যে, ‘ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য আল্লাহ’র কিতাব, রাসূলের ﷺ সুন্নাহ এবং সালাফদের সমঝই যথেষ্ট। ১২শ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুল ওয়াহহাবের সুযোগ্য পৌত্র ইমাম ‘আব্দুর রাহমান বিন হাসান আলুশ শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১২৮৫ হি./১৮৬৯ খ্রি.] বলেছেন,
আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত যে, ‘ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য আল্লাহ’র কিতাব, রাসূলের ﷺ সুন্নাহ এবং সালাফদের সমঝই যথেষ্ট। ১২শ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুল ওয়াহহাবের সুযোগ্য পৌত্র ইমাম ‘আব্দুর রাহমান বিন হাসান আলুশ শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১২৮৫ হি./১৮৬৯ খ্রি.] বলেছেন,
ومن له نهمة في طلب الأدلة على الحق، ففي كتاب الله، وسنّة رسوله، ما يكفي ويشفي؛ وهما سلاح كل موحد ومثبت، لكن كتب أهل السنّة تزيد الراغب وتعينه على الفهم وعندكم من مصنفات شيخنا -رحمه الله- ما يكفي مع التأمل؛ فيجب عليكم هجر أهل البدع، والإنكار عليهم.
“হকের দলিল অন্বেষণে যার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে, তার জন্য আল্লাহ’র কিতাব ও রাসূলের ﷺ সুন্নাহতেই যথেষ্ট ও সন্তোষজনক উপাদান রয়েছে। এই দুটি বস্তু (কিতাব ও সুন্নাহ) প্রত্যেক তাওহীদবাদী ও জ্ঞানীর অস্ত্র। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ’র গ্রন্থসমূহ আগ্রহী ব্যক্তিকে পাথেয় যোগায় এবং (কিতাব ও সুন্নাহ) বুঝতে সাহায্য করে। তোমাদের কাছে আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)’র গ্রন্থসমূহ রয়েছে, যা গবেষণার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং তোমাদের জন্য বিদ‘আতীদের বর্জন করা এবং তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক।” [আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ২১১; গৃহীত: শাইখ খালিদ বিন দ্বাহউয়ী আয-যাফীরী (হাফিযাহুল্লাহ), ইজমা‘উল ‘উলামা ‘আলাল হাজরি ওয়াত তাহযীরি মিন আহলিল আহওয়া; পৃষ্ঠা: ৬৫; মাকতাবাতুল আসালাতিল আসারিয়্যাহ, জেদ্দা কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০২ খ্রি. (৩য় প্রকাশ)]
·