Showing posts with label হজ্জ. Show all posts
Showing posts with label হজ্জ. Show all posts

Tuesday, 17 May 2016

বিদায় হজ্জের ভাষণ


নবম হিজরীতে হজ্জ ফরয হয়। আর তাবুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দশম হিজরীতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম হজ্জ আদায় করলেন। একলক্ষ চৌচল্লিশ হাজার মুসলমান তাঁর সঙ্গেঁ হজ্জ আদায় করেন। এটিই ছিল "হাজ্জাতুল ওয়াদা" বা বিদায় হজ্জ। ইমাম মুসলিম (রহঃ) সংকলিত নবীজির (সাঃ) প্রিয় সাথী হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক সেই ভাষণের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলঃ
শুক্রবার, ৯ জিলহজ, ১০ হিজরী সনে আরাফার দিন দুপুরের পর রাসুল সাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম এক লক্ষের অধিক সাহাবীর সমাবেশে হজের সময় এই বিখ্যাত ভাষণ দেন। হামদ ও সানা (আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগানের) পর নবী (সাঃ) তার ভাষণে ইরশাদ করেনঃ
"আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন। আর তিনি একাই বাতিল শক্তিগুলোকে পরাজিত করেছেন।
হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদের আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বন্দেগির জন্যে ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি। হে লোক সকল! তোমরা আমার কথা শোন। এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারব কি না জানি না। হে লোক সকল! আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
"হে মানবজাতি! তোমাদের আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি, যাতে করে তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর দরবারে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অবলম্বন করে)।" (অর্থাৎ, সব বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে)।
ইসলামে জাতি, শ্রেণীভেদ ও বর্ণবৈষম্য নেই। আরবের ওপর কোনো আজম (অনারবে), বা কোন আজমের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মর্যাদার ভিত্তি হলো কেবলমাত্র তাকওয়া।
আল্লাহর ঘরের হিফাযত, সংরক্ষণ ও হাজিদের পানি পান করানোর ব্যবস্থা আগের মতো এখনো বহাল থাকবে। হে কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোকরা! তোমরা দুনিয়ার বোঝা নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে যেন আল্লাহর সামনে হাযির না হও। আমি আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমাদের কোনোই উপকার করতে পারব না।
যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, নিজের মাওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয় তার ওপর আল্লাহর লা’নত।
ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে। কারো সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয়। সুতরাং তোমরা একজন অপরজনের ওপর জুলুম করবে না। এমনিভাবে কোনো স্ত্রীর জন্য তার স্বামী সম্পত্তির কোনো কিছু তার সম্মতি ব্যক্তিরেকে কাউকে দেয়া হালাল নয়।

Saturday, 12 September 2015

বেশি বেশি হজ্জ করবে; নাকি একবার হজ্জ আদায় করাই যথেষ্ট



প্রশ্ন: একাধিকবার হজ্জ করা উত্তম; নাকি একবার হজ্জ করাটাই উত্তম?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
ফরজ হওয়ার দিক থেকে হজ্জ জীবনে একবার করাই ফরজ। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার খোতবা দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল, আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরজ করেছেন; অতএব আদায় কর। এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, প্রতি বছর? তিনি চুপ করে থাকলেন। এমনকি সে লোক কথাটি তিনবার উচ্চারণ করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি যদি হ্যাঁ বলি তাহলে ফরজ হয়ে যাবে; কিন্তু তোমরা আদায় করতে পারবে না। এরপর বললেন: আমি যদি কোন বিষয় এড়িয়ে যাই তোমরা সে বিষয়ে প্রশ্ন করো না। তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং নবীদের সাথে মতভেদ করার কারণে ধ্বংস হয়েছে। আমি যখন তোমাদেরকে কোন নির্দেশ প্রদান করি তখন যতদূর সম্ভব সেটা বাস্তবায়ন কর; আর যা কিছু থেকে তোমাদেরকে বারণ সেটা থেকে বিরত থাক।[সহিহ মুসলিম (১৩৩৭)]
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আকরা বিন হাবেস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামক জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ, হজ্জ কি প্রতিবছর; নাকি একবার মাত্র? তিনি বললেন: একবার মাত্র। যে ব্যক্তি একাধিকবার করবে সেটা নফল।”[সুনানে আবু দাউদ (১৭২১) আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
আর উত্তমতার প্রশ্নে মুসলমান যতবেশি হজ্জ করতে পারে সেটা উত্তম। এমনকি কেউ যদি প্রতিবছর হজ্জ করতে পারে সেটাও ভাল। বেশি বেশি হজ্জ আদায় করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যেমন-

হজ্জ বা উমরাতে নিয়ত উচ্চারণ



প্রশ্ন: নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত হলে হজ্জ ও উমরার ক্ষেত্রে নিয়ত উচ্চারণ করার গূঢ় রহস্য কি?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
নিয়তের স্থান হচ্ছে- কলব বা অন্তর। নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীবর্গ থেকে সাব্যস্ত হয়নি যে, তারা কোন ইবাদতের পূর্বে নিয়ত উচ্চারণ করেছেন। হজ্জ ও উমরার তালবিয়া নিয়ত নয়।
শাইখ বিন বায (রহঃ) বলেন:
নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত। সজোরে নিয়ত পড়া কঠিন গুনাহ। সুন্নাহ হচ্ছে- মনে মনে নিয়ত করা। কারণ আল্লাহ তাআলা গোপন ও সঙ্গোপনের সবকিছু জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুনঃ তোমরা কি তোমাদের ধার্মিকতা আল্লাহকে অবহিত করছ? অথচ ভূমণ্ডলে ও নভোমণ্ডলে যা কিছু আছে সব আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।”[সূরা হুজুরাত, আয়াত: ১৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কিংবা তাঁর সাহাবীবর্গ কিংবা অনুসরণযোগ্য ইমামদের থেকে ‘নিয়ত উচ্চারণ করা’ সাব্যস্ত হয়নি। সুতরাং জানা গেল যে, এটি শরিয়তে সিদ্ধ নয়। বরং নবপ্রচলিত বিদআত। আল্লাহই তাওফিকদাতা।[ইসলামী ফতোয়াসমগ্র (২/৩১৫)]
শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নামায, তাহারাত (পবিত্রতা), রোজা কিংবা অন্য কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত উচ্চারণ করা বর্ণিত হয়নি। এমনকি হজ্জ-উমরার ক্ষেত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন না যে, ‘আল্লাহু্ম্মা ইন্নি উরিদু কাযা ওয়া কাযা...’ (অর্থ- হে আল্লাহ, আমি অমুক অমুক আমল করার সংকল্প করেছি...)।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়াবলী



প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় মুহরিমকে কোন কোন বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়াবলী: ইহরামের কারণে ব্যক্তিকে যে বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হয়। যেমন:
১. মাথার চুল মুণ্ডন করা। দলিল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণী: “আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবানীর পশু যথাস্থানে পৌঁছে যাবে।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯৬] আলেমগণ মাথার চুলের সাথে শরীরের সমস্ত চুলকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে নখ কাটা ও ছোট করাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
২. ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা; কাপড়ে হোক কিংবা শরীরে  হোক; খাবারদাবারে হোক কিংবা গোসলের সামগ্রীতে হোক কিংবা অন্য যে কোন কিছুতে হোক। অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। দলিল হচ্ছে- যে ব্যক্তিকে একটি উট পায়ের নীচে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে সে ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও। দুই কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তার মাথা ঢাকবে না। তাকে হানুত দিবে না”। হানুত হচ্ছে- এক জাতীয় সুগন্ধির মিশ্রণ যা মৃত ব্যক্তির গায়ে লাগানো হয়।
৩. সহবাস করা: দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “অর্থ- হজ্বের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে নিজের উপর হজ্ব অবধারিত করে নেয় সে হজ্বের সময় কোন যৌনাচার করবে না, কোন গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না।”[সূরা বাকারা, আয়াত ২: ১৯৭]
৪. উত্তেজনাসহ স্ত্রীকে ছোঁয়া। যেহেতু এটি আল্লাহ তাআলার বাণী: فَلَا رَفَثَ (অর্থ- যৌনাচার নেই) এর অধীনে পড়বে। কারণ মুহরিম ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেয়া জায়েয নেই। সুতরাং ছোঁয়া জায়েয না হওয়াটা আরও স্বাভাবিক।
৫. কোন শিকার হত্যা করা। দলিল আল্লাহ তাআলার বাণী: “অর্থ- হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার বধ করো না”[সূরা মায়েদা, আয়াত: ৯৫] গাছ কর্তন করা মুহরিম ব্যক্তির জন্য হারাম নয়; তবে মক্কার হারামের সীমানার ভেতরের কোন গাছ হলে হারাম হবে এবং সেটি মুহরিম ব্যক্তি, মুহরিম নয় এমন ব্যক্তি- সবার জন্য হারাম। তাই আরাফার মাঠে মুহরিম ব্যক্তির জন্যেও গাছ উপড়ানো জায়েয। কারণ গাছ কর্তনের বিষয়টি হারাম এলাকার সাথে সম্পৃক্ত; ইহরামের সাথে নয়।

অন্যের খরচে হজ্জ আদায় করা



প্রশ্ন: আমি আমার ছেলের সাথে হজ্জ আদায় করেছি। হজ্জের যাবতীয় খরচ সে বহন করেছে। আমার ইচ্ছা ছিল আমার নিজ খরচে হজ্জ আদায় করব। এটা কি হজ্জের শুদ্ধতার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
অন্যের খরচে কারো হজ্জ আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। সেই অন্য ব্যক্তি তার ছেলে হোক, ভাই হোক অথবা বন্ধু হোক...। এটি হজ্জের শুদ্ধতার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। হজ্জ শুদ্ধ হওয়ার জন্য এমন কোন শর্ত নেই যে, ব্যক্তি তার নিজের অর্থ থেকেই খরচ করতে হবে।
স্থায়ী কমিটিকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যার নিমন্ত্রণকারী তার হজ্জের যাবতীয় খরচ বহন করেছে।

কিভাবে আপনার হজ্জটি মকবুল হজ্জ হবে?



প্রশ্ন: আল্লাহ চাহেত কারো হজ্জ মকবুল হওয়ার জন্য একজন হাজীসাহেবের যে বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন
উত্তর: 
আলহামদুলিল্লাহ।
হজ্জটি হজ্জে মকবুল হওয়ার জন্য একজন হাজীসাহেবের যে বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন: হজ্জের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করা। এটাই হচ্ছে- ইখলাস। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী হজ্জ আদায় করা। এটাকে বলা হয়- মুতাবাআ (অনুসরণ)। যে কোন নেক কাজ এ দুটি র্শত পূর্ণ হওয়া ছাড়া কবুল হয় না: ইখলাস ও মুতাবাআ (রাসূলের অনুসরণ)। দলিল হচ্ছে- আল্লাহর বাণী: “তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা শিরকমুক্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।[সূরা আল-বাইয়্যেনা, আয়াত: ৫] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “সকল আমল নিয়্যত অনুযায়ী হয়ে থাকে। এবং প্রত্যেক ব্যক্তির যা নিয়ত করেন তিনি সেটাই পাবেন” এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করবে যার অনুমোদন আমাদের শরিয়তে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত।”
সুতরাং একজন হাজী সাহেব যার উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবেন সেটা হচ্ছে- ইখলাস ও নবীর অনুসরণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায়ী হজ্জকালে বলতেন: “তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজ্জের পদ্ধতি জেনে নাও।”

Sunday, 16 August 2015

যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করেনি তার হজ্জ কি শুদ্ধ হবে?



প্রশ্ন: আমি ১৪২২হিঃ সালে হজ্জ আদায় করেছি। তবে আমার নিকট কিছু মানুষের ঋণ আছে। কারণ হচ্ছে- আমি কিছু মানুষকে কর্জে হাসানা (ঋণ) দিয়েছিলাম; তারা আমার সাথে প্রতারণা করেছে, এখন এ অর্থ পরিশোধ করার দায় আমার উপর। আমি একজন শাইখকে জিজ্ঞেস করেছিলাম: আমি তো ঋণ পরিশোধ করিনি; এমতাবস্থায় হজ্জ করা জায়েয হবে কিনা? শাইখ বলেছেন: জায়েয হবে। কারণ আপনি জানেন যে, আপনি অচিরেই ঋণ পরিশোধ করে দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
একই বিষয়ে আপনাদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিপরীত তথ্য পেলাম। এমতাবস্থায় আমার হজ্জ কি কবুল হয়েছে? কারণ আমি ঋণ পরিশোধ না করে হজ্জে গেছি, পাওনাদারদের কাছ থেকে অনুমতি নেইনি। যদি আমার হজ্জ মাকবুল না হয়; তাহলে আমার করণীয় কি? আমার প্রথম হজ্জ কি ফরজ এবং দ্বিতীয় হজ্জ কি সুন্নত?

 উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।

কোন প্রশ্নকারীর ইবাদত কবুল হওয়া সম্পর্ক প্রশ্ন করা এবং উত্তরদাতার এ সম্পর্কে উত্তর দেয়া উচিত নয়। কারণ ইবাদত কবুল হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর নিকট। বরং প্রশ্ন করতে হবে ও উত্তর দিতে হবে ইবাদত শুদ্ধ হওয়া সম্পর্কে, ইবাদতের শর্তাবলি ও রুকনগুলো পরিপূর্ণ হওয়া সম্পর্কে।

যে ব্যক্তি হজ্জ আদায় করল কিন্তু তার জিম্মাদারিতে অন্যদের পাওনা ঋণ রয়ে গেছে তার হজ্জ সহিহ হবে; যদি হজ্জের রুকন ও শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হয়। সম্পদের সাথে বা ঋণের সাথে হজ্জের শুদ্ধতার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যে ব্যক্তির ঋণ আছে সে ব্যক্তির জন্য হজ্জ না করা উত্তম। যে অর্থ সে হজ্জ আদায়ে খরচ করবে সে অর্থ ঋণ আদায়ে খরচ করা উত্তম এবং শরয়ি বিবেচনায় সে সামর্থ্যবান নয়। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির আলেমগণের ফতোয়া নিম্নরূপ:

Friday, 3 October 2014

হজ্জের পর হাজী সাহেবের করণীয়


রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লিখেছেনঃ ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ফালেহ আস-সুগাইর ।  অনুবাদ : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
160
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতেই সকল সৎকাজসমূহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, আর তাঁর দয়াতেই সকল ইবাদাত কবুল হয়ে থাকে। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি, আর এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন হক মা‌‘বুদ নেই এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ্ তার উপর, তার পরিবার ও সঙ্গী সাথীদের উপর দুরুদ প্রেরণ করুন এবং বহু পরিমানে সালাম পেশ করুন। তারপর,

কুরবানী করার পদ্ধতি



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

(ক) উট দাঁড়ানো অবস্থায় এর ‘হলক্বূম’ বা কণ্ঠনালীর গোড়ায় কুরবানীর নিয়তে ‘বিসমিল্লা-হি আল্লাহু আকবার’ বলে অস্ত্রাঘাতের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে ‘নহর’ করতে হয় এবং গরু বা ছাগলের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে বাম কাতে ফেলে ‘যবহ’ করতে হয়।[13]
কুরবানী দাতা ধারালো ছুরি নিয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে দো‘আ পড়ে নিজ হাতে খুব জলদি যবহের কাজ সমাধা করবেন, যেন পশুর কষ্ট কম হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজের ডান পা দিয়ে পশুর ঘাড় চেপে ধরতেন। যবহকারী বাম হাত দ্বারা পশুর চোয়াল চেপে ধরতে পারেন।
1382813_10151934181937722_1499192989_n
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজ হাতে যবহ করেছেন। অন্যের দ্বারা যবহ করানো জায়েয আছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি নিজ হাতে করা অথবা যবহের সময় স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করা উত্তম। ১০, ১১, ১২ যিলহাজ্জ তিন দিনের রাত-দিন যে কোন সময় কুরবানী করা যাবে।[14]

Tuesday, 30 September 2014

অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানী করা প্রসঙ্গে


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানী করা
লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের।সম্পাদনা: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানী কারাকে ‘ভাগে কুরবানী দেয়া’ বলা হয়। ভেড়া, দুম্বা, ছাগল দ্বারা এক পরিবারের পক্ষ থেকে একটা পশু কুরবানী করতে পারবেন। আর উট, গরু, মহিষ দ্বারা সাত জনের নামে সাতটি কুরবানী করা যাবে। তবে অংশীদারি ভিত্তিতে কুরবানী করার দু‘টি পদ্ধতি হতে পারে-
১.সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। যেমন-কয়েক জন মুসলিম মিলে একটি বকরি ক্রয় করল। অত:পর একজনকে ঐ বকরির মালিক বানিয়ে দিল। বকরির মালিক বকরিটি কুরবানী করল। যে ক‘জন মিলে বকরি খরিদ করেছিল সকলে সওয়াবের অংশীদার হলো।

Sunday, 28 September 2014

ঈদের কথা


রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

Eider Kothaসংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ  আর তো কদিন পরেই ঈদ-উল-আজহা। নিশ্চয়ই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে সবার! আচ্ছা প্রতিবছরই তো আমরা এ ঈদ পালন করছি, আনন্দের সাথে গরু-খাসি জবাই করছি। কিন্তু কখনও কী ভেবে দেখেছি কোথা থেকে এলো এ ঈদ-উল-আজহা? একটা উৎসব প্রতি বছর আমরা কত মজা করে পালন করছি,কিন্তু জানি না তার ইতিহাস-কেমন হয়ে গেল না ব্যাপারটা? হয়তো আবছা আবছা শুনেছি একজন নাবি ছিলেন ইবরাহীম(আ:) নামে যার মাধ্যমে কুরবানির সূচনা হয়। কিন্তু কে এই ইবরাহীম (আ:)? কী তাঁর পরিচয়? মুসলিমরা কেনই বা তাকে এত শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে? মূর্তিপূজারীর ঘরে জন্ম নিয়েও কীভাবে তিনি খুঁজে পেলেন সত্য ও আলোকিত পথ? কী ছিল সে শক্তি যার বলে তিনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি? প্রিয়তম সন্তান ইসমাইলকে (আ:) আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরবানির আদেশ আর তারপর আসলে কী ঘটে–এসব বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের যাদের সম্পূর্ণ জানা নেই তাদের জন্যই The One Message নিয়ে এসেছে “ঈদের কথা” বইটি। আর আপনার পরিবারের সোনামণির জন্য এবারের ঈদের সেরা উপহার হতে পারে “ঈদের কথা” বইটি। তো কী ভাবছেন, পড়ে দেখবেন তো ? নিচে বইটির ১-১০ পৃষ্ঠার স্যাম্পলে ডাউনলোডের জন্য দেয়া হল। পড়ে ভাল লাগলে নিচের লিংক থেকে বইটির হার্ডকপির জন্য অর্ডার করতে পারেন।
বিঃদ্রঃ ONE Message এইটি অলাভজনক দাওয়াহ টিম।  এই বই বিক্রি হতে অর্জিত অর্থ পুনরায় নতুন কোন দাওয়াহ এর কাজে ব্যবহার করা হবে।

Sample Copy Download

Order Your Copy

One Message Facebook Event Page


Saturday, 27 September 2014

হজকারীর ভুলত্রুটি



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

রচনা : মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক | সম্পাদনা : নুমান বিন আবুল বাশার
হজ পালনকালে অনেকেই ভুলত্রুটি করে থাকেন। নীচে উল্লেখযোগ্য কিছু ভুল তুলে ধরা হল।
ক. মীকাত ও এহরাম বিষয়ক ভুল
  1. হজ কিংবা উমরার নিয়ত থাকা সত্ত্বেও এহরাম না বেঁধেই মীকাত অতিক্রম করা।

আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নিষ্ঠুর?


আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নিষ্ঠুর?
Western World এ পশু জবাইয়ের প্রচলিত নিয়ম(CPB Method): 
Captive bolt pistol(CPB ) নামের এক ধরনের যন্ত্র দ্বারা পশুর কপালে প্রচন্ড আঘাত করা হয়। ধারনা করা হয় এতে পশু unconscious হয়ে পড়ে এবং জবাইয়ের পর ব্যথা অনুভব করে না।

Thursday, 25 September 2014

বইঃ হজ্জ সফরে সহজ গাইড


রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

Hajj-Guide-Banglaসংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ হজ্জ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বুনিয়াদি স্তম্ভ। ইসলামের এই মহান ইবাদাতটি পালন করার সময় আমরা এর নিয়মনীতি অনুসরণ না করার ফলে বেশ কিছু বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। সেই সাথে এ সম্পর্কে ভালো কোন গাইড না থাকায় আমরা অনেক ক্ষেত্রেই বিড়ম্বনায় পড়ি। এছাড়া আমরা ভালোমতো না জানায় হাজ্জের কর্মগুলি সুন্দরভাবে করতে পারি না। কেউ কেউ এক্ষেত্রে অন্যে দেখে আমল করতে গিয়ে বিদআতে পর্যবসিত হন। হজ্জ করার সময় একটি আধুনিক, সমসাময়িক ও সহিহ হজ্জ গাইডের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই লেখক মো: মোশফিকুর রহমান এই বইটি লিখেছেন। যা হজ্জ সফরে প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট থাকা বাঞ্জনীয়। বাংলা ভাষায় ছবিসহ এবং এমন তথ্যপূর্ণ হাজ্জ গাইড এই প্রথম। আল্লাহ তাআলা লেখককে তার উত্তম প্রতিদান। দিক। বইটি প্রকাশ করেছে তাওহীদ প্রকাশনী। বইটি বিনামূল্যে বিতরণ করার জন্য। কেউ আগ্রহী হয়ে কোনরুপ পরিবর্তন না করে বইটি প্রচার করতে পারেন।
বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য :
  • বইটিতে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক হাজ্জ, উমরাহ ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বর্ণনা দেয়া রয়েছে।
  • হাজ্জের পূর্ব  প্রস্তুতি সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।
  • হাজ্জ যাত্রার প্রতিক্ষেত্রে বা প্রতিটি স্থানে কি করণীয়, বর্জনীয় উল্লেখ করা হয়েছে।
  • সেই সাথে বিভিন্ন জায়গায় প্রচলিত হাজীদের বিদআত সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • হাজ্জের প্রতিটি ধাপে করণীয় বুঝতে ছবিসহ বর্ণনা দেয়া রয়েছে।
  • বিভিন্ন প্রকার হজ্জে করণীয় এবং উমরাহর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
  • কোন দিবসে কি করণীয় তা তারিখ উল্লেখপূর্বক বর্ণনা রয়েছে।
  • মক্কা ও মদীনায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নাম, বর্ণনা ও ছবি দেয়া রয়েছে।
  • হজ্জ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, প্রয়োজনীয় আরবী শব্দ, বিভিন্ন বিমানবন্দরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।
  • হাজ্জের পর করণীয় সম্পর্কে
  • বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয বেশ কিছু কুরআন ও হাদীসের দুআ উচ্চারণ ও অর্থসহ উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ আমাদের হাজ্জকে সূন্দরভাবে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দিন।

ডাউনলোড

বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিনে করণীয় ১০ আমল


রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

162
আল্লাহ তা‘আলা দয়ালু। তাই তিনি আপন বান্দাদের তওবার সুযোগ দিতে ভালোবাসেন। তিনি চান বান্দারা ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করুক। এ উদ্দেশ্যে তিনি আমাদের জন্য বছরে কিছু বরকতময় ও কল্যাণবাহী দিন রেখেছেন- যাতে আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। আমরা পরীক্ষার দিনগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাই সবচে ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্য। তবে কেন আখেরাতের জন্য এসব পরীক্ষার দিনগুলোতেও সর্বাধিক প্রচেষ্টা ব্যয় করব না? এ দিনগুলোতে আমল করা তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি নেকী ও কল্যাণ বয়ে আনে। এমন দিনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যিলহজ মাসের এই প্রথম দশদিন। এ দিনগুলো এমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেগুলোকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাতে আমলের প্রতি তিনি সবিশেষ উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে শুধু এতটুকুই যথেষ্ট যে আল্লাহ তা‘আলা এর কসম করেছেন।

Wednesday, 17 September 2014

কুরবানীর মাসায়েল


লেখক: শাইখ আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম
সম্পাদক: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
কুরবানীর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
কুরবানী শব্দটি আরবী قربان কুরবান হতে উৎপন্ন। যার অর্থ হল, নিকটবর্তী হওয়া বা নৈকট্য লাভ করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় কুরবানী বলতে যে পশু  ঈদের দিন জবেহ করা হয় তাকেই বুঝানো হয়।
এটাকে আবরীতে أضحية  উযহিয়াও বলা হয়। এই  أضحية আরবী শব্দটিকে চার ভাবে পড়া যায়।
(১) أضحية (উযহিয়্যাহ)
(২) إضحية (ইযহিয়্যাহ) এ দুটি শব্দের বহুবচন আসে أضاحي)
(৩)  ضحية(যহিয়্যাহ্) বহুবচনেঃ ضحايا যাহায়া
(৪) أضحاه (আযহাহুন) বহু বচনেঃ  أضحى  এ থেকে কুরবানীর দিন কে আরবী ভাষায় يوم الأضحي (ইয়ামুল আযহা) বলা হয়। (লেসানুল আরাবের বরাতে ফিকহুল উযহিয়্যাহ ৭ পৃঃ)

কুরবানীর মাসায়েল


লেখক: শাইখ আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম
সম্পাদক: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
কুরবানীর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
কুরবানী শব্দটি আরবী قربان কুরবান হতে উৎপন্ন। যার অর্থ হল, নিকটবর্তী হওয়া বা নৈকট্য লাভ করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় কুরবানী বলতে যে পশু  ঈদের দিন জবেহ করা হয় তাকেই বুঝানো হয়।
এটাকে আবরীতে أضحية  উযহিয়াও বলা হয়। এই  أضحية আরবী শব্দটিকে চার ভাবে পড়া যায়।
(১) أضحية (উযহিয়্যাহ)
(২) إضحية (ইযহিয়্যাহ) এ দুটি শব্দের বহুবচন আসে أضاحي)
(৩)  ضحية(যহিয়্যাহ্) বহুবচনেঃ ضحايا যাহায়া
(৪) أضحاه (আযহাহুন) বহু বচনেঃ  أضحى  এ থেকে কুরবানীর দিন কে আরবী ভাষায় يوم الأضحي (ইয়ামুল আযহা) বলা হয়। (লেসানুল আরাবের বরাতে ফিকহুল উযহিয়্যাহ ৭ পৃঃ)

কুরবানীর মাসায়েল


লেখক: শাইখ আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম
সম্পাদক: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
কুরবানীর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
কুরবানী শব্দটি আরবী قربان কুরবান হতে উৎপন্ন। যার অর্থ হল, নিকটবর্তী হওয়া বা নৈকট্য লাভ করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় কুরবানী বলতে যে পশু  ঈদের দিন জবেহ করা হয় তাকেই বুঝানো হয়।
এটাকে আবরীতে أضحية  উযহিয়াও বলা হয়। এই  أضحية আরবী শব্দটিকে চার ভাবে পড়া যায়।
(১) أضحية (উযহিয়্যাহ)
(২) إضحية (ইযহিয়্যাহ) এ দুটি শব্দের বহুবচন আসে أضاحي)
(৩)  ضحية(যহিয়্যাহ্) বহুবচনেঃ ضحايا যাহায়া
(৪) أضحاه (আযহাহুন) বহু বচনেঃ  أضحى  এ থেকে কুরবানীর দিন কে আরবী ভাষায় يوم الأضحي (ইয়ামুল আযহা) বলা হয়। (লেসানুল আরাবের বরাতে ফিকহুল উযহিয়্যাহ ৭ পৃঃ)

Tuesday, 16 September 2014

কুরবানির ইতিহাস


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যানি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু।
ওয়েব সম্পাদনাঃ ইসলামিকসেবা
কুরবানীর ইতিহাসঃ
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ [٢٢:٣٤]

কুরবানির সংজ্ঞা, গুরুত্ব, উদ্দেশ্য, হুকুম, তাৎপর্য ও ফাযায়েল


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যানি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু।
কুরবানীর সংজ্ঞা,গুরুত্ব,উদ্দেশ্য,হুকুম,তাৎপর্য ও ফাযায়েল
ওয়েব সম্পাদনাঃ ইসলামিকসেবা
কুরবানীর সংজ্ঞাঃ
আরবী ‘কুরবান’ (قربان) শব্দটি ফারসী বা ঊর্দূতে ‘কুরবান’ রুপে পরিচিত হয়েছে, যার অর্থ ‘নৈকট্য’। পারিভাষিক অর্থে تَعَالَي القربانُ ماَ يُتقَرَبُ بِهِ إِلَ الَّلهِ ‘কুরবানী’ ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাছিল হয়।[১]প্রচলিত অর্থে, ঈদুল আযহার দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শারঈ তরীকায় যে পশু যবহ করা হয়, তাকে ‘কুরবানী’ বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য উপরে ওঠার সময়ে ‘কুরবানী’ করা হয় বলে এই দিনটিকে ‘উয়াওমুল আযহা’ বলা হয়ে থাকে।[২ ]যদিও কুরবানী সারাদিন ও পরের দুদিন করা য়ায়।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...