Sunday, 20 September 2026

কানতারা ও পুলসিরাত: পরিচয় ও পার্থক্য

 


এখানে আকিদা বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাশরের ময়দান-সংশ্লিষ্ট ‘কানতারা’ ও ‘পুলসিরাত’-এর পরিচয় এবং এ দুটির পার্থক্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

❑ ১. কানতারা কী?

আরবিতে 'কানতারা' (القَنْطَرَة) শব্দটি সেতু (الجِسْر) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সুপ্রসিদ্ধ আরবি অভিধান লিসানুল আরবে উল্লেখিত হয়েছে।

ইমাম আইনি সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে কানতারা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনুত-তীনের উক্তি উদ্ধৃত করে‌ বলেন,

«اَلْقَنْطَرَةُ كُلُّ شَيْءٍ يُنْصَبُ عَلَى عَيْنٍ أَوْ وَادٍ»

"কানতারা বলতে বোঝায় এমন যেকোনো কিছু, যা কোনও ঝরনা বা উপত্যকার ওপর স্থাপিত হয়।"

এ সংক্রান্ত হাদিস: 

সহিহ বুখারির বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (( يَخْلُصُ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ، فَيُحْبَسُونَ عَلَى قَنْطَرَةٍ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيُقَصُّ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ مَظَالِمُ كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي الدُّنْيَا، حَتَّى إِذَا هُذِّبُوا وَنُقُّوا أُذِنَ لَهُمْ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَأَحَدُهُمْ أَهْدَى بِمَنْزِلِهِ فِي الْجَنَّةِ مِنْهُ بِمَنْزِلِهِ كَانَ فِي الدُّنْيَا ))

"মুমিনরা যখন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে তখন তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি কানতারায় (সেতুতে) আটকে দেওয়া হবে। সেখানে দুনিয়ায় তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক জুলুম ও অন্যায়-অবিচার হয়েছিল তার কিসাস (বদলা) নেওয়া হবে। যখন তারা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! জান্নাতে তাদের নিজেদের আবাসের পথ দুনিয়ার আবাসের চেয়েও অধিক পরিচিত হবে।" [সহিহ বুখারি, ২৪৪০]

❑ কানতারা: জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে জান্নাতগামী সৌভাগ্যবান মুমিনদের আত্মিক পরিশুদ্ধির বিশেষ স্থান 

যেসব মুমিন পুলসিরাতের মতো ভয়াবহ সেতু অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন

তাদের পারস্পরিক মনের পরিচ্ছন্নতার জন্য কিসাসের ব্যবস্থা করা হবে। 

অধিক সওয়াবের আশায় দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যাওয়া কি শরিয়তসম্মত?

 


প্রশ্ন: যাদের বাড়ি মসজিদের নিকটবর্তী তারা কি বেশি নেকি লাভের আশায় (জুমার দিন অথবা অন্য যেকোনো দিন) রাস্তা পরিবর্তন করে দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যেতে পারবেন কিনা?

উত্তর:

ইসলাম ইবাদত ও দৈনন্দিন জীবন যাপনের সর্বক্ষেত্রে সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহিত করে। কৃত্রিম উপায়ে নিজেকে কষ্টে ফেলা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন পথ বেছে নেওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। তাই অযথা নিজের ওপর বাড়তি কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত।

এই কারণে অধিক সওয়াবের আশায় নিকটস্থ মসজিদ এড়িয়ে দূরের মসজিদে যাওয়া কিংবা অনর্থক দীর্ঘ পথ ঘুরে মসজিদে যাওয়া সমীচীন নয়।

আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

«يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا»

"তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণা ছড়িও না।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) বলেন:

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...