Saturday, 26 September 2026

সালাতে সাহু সিজদা করার সঠিক পদ্ধতি

 


প্রশ্নঃ সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?

উত্তরঃ

 সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।

তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ

১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।

২) হ্রাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।

৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এ ব্যাপারে সংশয় হওয়া।

🔘 প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:

মুছল্লী যদি নামাযের অন্তর্ভূক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করে যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন দু‘বার করে রুকূ করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ রাকাত আদায় করা। তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল করেছে।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমাদের নির্দেশনা নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।” (মুসলিম, অধ্যায়ঃ আকযিয়া, অনুচ্ছেদ, বাতিল ফায়সালা সমূহ প্রত্যাখ্যান করা।)

কিন্তু যদি ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই ছালাত শেষ করে দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র সাহু সিজদা করবে। তার ছালাতও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ছালাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার রাকাআত শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।

উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের ছালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এবৃদ্ধির কথা তার স্মরণ হল, তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে।

আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে সাহু করে আবার সালাম ফেরাবে।

দলীল:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ خَمْسًا فَقَالُوا أَزِيدَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا: صَلَّيْتَ خَمْسًا، فسجد سجدتين بعد ما سلم. وفي رواية: فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثم سلم

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের নামায পাঁচ রাক্‌আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি সিজদা করলেন। অন্য রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন, দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন। (বুখারী, অধ্যায়ঃ ছালাত, অনুচ্ছেদঃ ক্বিবলার বিবরণ। মুসলিম, অধ্যায়ঃ মসজিদ ও নামাযের স্থান, অনুচ্ছেদঃ নামাযে সাহু বা ভুল করা।)

ছালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:

নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো ছালাতে বৃদ্ধি করার অন-র্গত। কেননা ছালাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা মনে পড়ল তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) তবে সে অবশিষ্ট ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

Friday, 25 September 2026

ফেরেশতা ও জিনের মধ্যে পার্থক্য কি? ইবলিস শয়তান কি ফেরেশতা ছিল?

 


▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬

প্রশ্ন: জিন এবং ফেরেশতার মধ্যে পার্থক্য কি? কেউ কেউ বলে থাকে যে, ইবলিস শয়তান জিন ছিল; ফেরেশতা নয়। এটা কতটুকু সত্য?

উত্তর: 

ফেরেশতা ও জিনের মাঝে অনেক দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। সেগুলোর মধ্যে মৌলিক চারটি পার্থক্য উপস্থাপন করা হল:

1⃣  ১ম পার্থক্য: ফেরেশতাগণ সৃষ্টি হয়েছে নূর বা আলো থেকে আর জিন সৃষ্টির হয়েছে আগুন থেকে।

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

 «خُلِقَتِ المَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ» 

"ফিরিশতাদেরকে জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। [অর্থাৎ মাটি থেকে]।" মুসলিম)

ইবলিস শয়তান ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে বলেছে,

قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ ۖ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ

“সে (ইবলিস) বলল: আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” (সূরা সোয়াদ: ৭৬)

2⃣  ২য়: ফেরেশতাগণ কখনো আল্লাহর আনুগত্য করেন। তারা কখনও তাঁর অবাধ্যতা করেন না। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন:

 لَّا يَعْصُونَ اللَّـهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ 

“তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।” (সূরা আত তাহরীম: ৬)

 পক্ষান্তরে জিন জাতির মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার আর কিছু আছে কাফের। কিছু আছে নেককার এবং কিছু আছে পাপিষ্ঠ -যেমন রয়েছে মানুষের মধ্যে।

জিনদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন: (জিনরা বলেছিল)

وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَـٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا - وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا 

“আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে। আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।” সূরা জিন: ১৪ ও ১৫)

ফেরেশতাগণ মানুষকে সর্বদা ভালো কাজের আদেশ করেন; কখনও খারাপ কাজের আদেশ করেন না। পক্ষান্তরে ভালো ও সৎ জিনরা মানুষকে ভালো কাজের আর খারাপ জিনরা পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের নির্দেশ দেয়।

3⃣  ৩য়: ফেরেশতাদের মধ্যে জৈবিক চাহিদা নাই। পক্ষান্তরে জিনদের মাঝে জৈবিক চাহিদা আছে।

4⃣  ৪র্থ: ফেরেশতা ও জিন উভয়েই বিভিন্ন আকার-আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম কিন্তু ফেরেশতারা কখনও খারাপ ও ভয়ঙ্কর জিনিসের রূপ ধারণ করেন না বরং তারা কখনও কখনও সুন্দর ও ভালো জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষের সামনে হাজির হয়। যেমন, বিখ্যাত হাদিসে জিবরাঈল। জিবরাঈল ফেরেশতা একজন সুদর্শন যুবকের আকৃতিতে দ্বীন ইসলাম শিখানোর জন্য সাহাবীদের সামনে উপস্থিত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কতিপয় প্রশ্নের মাধ্যমে তাদেরকে দ্বীন শিখিয়েছেন।

 পক্ষান্তরে জিনরা ভালো-মন্দ উভয় জিনিসের আকার ধারণ করে। খারাপ জিনগুলো কখনও কখনো ভয়ঙ্কর ও নোংরা জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষকে ভয় দেখায়।

♻ ইবলিস শয়তান কি জিন ছিল না কি ফেরেশতা ছিল?

এর উত্তরে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীটি যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ

“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলিস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল।” (সূরা কাহফ: ৫০)

 আল্লাহু আলাম

▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬

উত্তর প্রদানে: 

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

প্রশ্ন: জিন ও শয়তান কি একই না কি তাদের মাঝে পার্থক্য আছে?



উত্তর:

নিন্মে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শয়তানের পরিচয়, প্রকারভেদ এবং জিন ও শয়তানের মাঝে পার্থক্য তুলে ধরা হল:


🌀 শয়তান কাকে বলে?


শয়তান বলতে কী বুঝায় সে ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্য তুলে ধরা হল:

◈ বিশিষ্ট ভাষাবিদ, ফিকাহ বিদ ও হাদিস বিদ আবু উবাইদ কাসেম বিন সাল্লাম [জন্ম: ১৫৭ হি:-২২৪ হি:] বলেন:

الشيطان كل عات متمرد من إنس, أو جن

“প্রত্যেক অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘণকারীকে শয়তান বলা হয়।” (বাহরুল উলুম লিস সামারকান্দি ১/২৭৭)

◈ আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক [জন্ম ৮৫ হি:-মৃত্যু: ১৫১ হি;] বলেন:

إنما سمي شيطاناً لأنه شطن عن أمر ربه، والشطون البعيد النازح

“শয়তানকে এই জন্যই শয়তান বলা হয় যে, সে আল্লাহর নির্দেশ পালন থেকে দূরে থাকে। কেননা আরবিতে الشطون-শাতূন শব্দের অর্থ হল, দূরে অবস্থানকারী ও পলাতক।” [আয যীনাহ ফিল কালিমাতুল ইসলামিয়্যাতিল আরাবিয়াহ ২/১৭৯]

Thursday, 24 September 2026

জিন সম্পর্কে জরুরি কিছু তথ্য

 


▬▬▬◆◯◆▬▬▬

প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন করেছেন। আমি জানতে চাই, জিনদের মধ্যে কি নারী-পুরুষ আছে? যদি থাকে তাহলে এরা কি বংশ বিস্তার করে? আর এরা কোথায় থাকে? এদের কি কোন দেশ আছে?

উত্তর:

নিম্নে কুরআন, হাদিস ও আলেমদের মতামতের আলোকে জিন সংক্রান্ত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হল:

وبالله التوفيق و السداد

■ জিনদের মাঝে নারী-পুরুষ:

মানুষের মতই জিনদের মাঝেও পুরুষ এবং নারী জিন আছে। যেমন: আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে প্রবেশ কালে বলতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ

"আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস"

"হে আল্লাহ, তোমার নিকট নাপাক নর-নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।" (বুখারি ও মুসলিম)

■ জিনদের সন্তান-সন্তুতি ও বংশ বিস্তার:

জিনরাও জন্ম গ্রহণ করে, তাদের বংশ বিস্তার হয় এবং তাদের সন্তান-সন্ততি আছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ

“অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে (ইবলিস) এবং তার বংশধরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করছ?” (সূরা কাহাফ: ৫০)

Sunday, 20 September 2026

কানতারা ও পুলসিরাত: পরিচয় ও পার্থক্য

 


এখানে আকিদা বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাশরের ময়দান-সংশ্লিষ্ট ‘কানতারা’ ও ‘পুলসিরাত’-এর পরিচয় এবং এ দুটির পার্থক্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

❑ ১. কানতারা কী?

আরবিতে 'কানতারা' (القَنْطَرَة) শব্দটি সেতু (الجِسْر) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সুপ্রসিদ্ধ আরবি অভিধান লিসানুল আরবে উল্লেখিত হয়েছে।

ইমাম আইনি সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে কানতারা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনুত-তীনের উক্তি উদ্ধৃত করে‌ বলেন,

«اَلْقَنْطَرَةُ كُلُّ شَيْءٍ يُنْصَبُ عَلَى عَيْنٍ أَوْ وَادٍ»

"কানতারা বলতে বোঝায় এমন যেকোনো কিছু, যা কোনও ঝরনা বা উপত্যকার ওপর স্থাপিত হয়।"

এ সংক্রান্ত হাদিস: 

সহিহ বুখারির বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (( يَخْلُصُ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ، فَيُحْبَسُونَ عَلَى قَنْطَرَةٍ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيُقَصُّ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ مَظَالِمُ كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي الدُّنْيَا، حَتَّى إِذَا هُذِّبُوا وَنُقُّوا أُذِنَ لَهُمْ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَأَحَدُهُمْ أَهْدَى بِمَنْزِلِهِ فِي الْجَنَّةِ مِنْهُ بِمَنْزِلِهِ كَانَ فِي الدُّنْيَا ))

"মুমিনরা যখন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে তখন তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি কানতারায় (সেতুতে) আটকে দেওয়া হবে। সেখানে দুনিয়ায় তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক জুলুম ও অন্যায়-অবিচার হয়েছিল তার কিসাস (বদলা) নেওয়া হবে। যখন তারা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! জান্নাতে তাদের নিজেদের আবাসের পথ দুনিয়ার আবাসের চেয়েও অধিক পরিচিত হবে।" [সহিহ বুখারি, ২৪৪০]

❑ কানতারা: জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে জান্নাতগামী সৌভাগ্যবান মুমিনদের আত্মিক পরিশুদ্ধির বিশেষ স্থান 

যেসব মুমিন পুলসিরাতের মতো ভয়াবহ সেতু অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন

তাদের পারস্পরিক মনের পরিচ্ছন্নতার জন্য কিসাসের ব্যবস্থা করা হবে। 

অধিক সওয়াবের আশায় দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যাওয়া কি শরিয়তসম্মত?

 


প্রশ্ন: যাদের বাড়ি মসজিদের নিকটবর্তী তারা কি বেশি নেকি লাভের আশায় (জুমার দিন অথবা অন্য যেকোনো দিন) রাস্তা পরিবর্তন করে দূর দিয়ে ঘুরে মসজিদে যেতে পারবেন কিনা?

উত্তর:

ইসলাম ইবাদত ও দৈনন্দিন জীবন যাপনের সর্বক্ষেত্রে সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহিত করে। কৃত্রিম উপায়ে নিজেকে কষ্টে ফেলা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন পথ বেছে নেওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। তাই অযথা নিজের ওপর বাড়তি কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত।

এই কারণে অধিক সওয়াবের আশায় নিকটস্থ মসজিদ এড়িয়ে দূরের মসজিদে যাওয়া কিংবা অনর্থক দীর্ঘ পথ ঘুরে মসজিদে যাওয়া সমীচীন নয়।

আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

«يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا»

"তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণা ছড়িও না।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) বলেন:

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...