·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
কতিপয় বিদ‘আতী একটি অদ্ভুত অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে। তারা বলে, বর্তমান যুগের পরিস্থিতি সালাফদের যুগের পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। সুতরাং সালাফদের মানহাজ তাঁদের যুগের জন্য উপযোগী হলেও, বর্তমান যুগের জন্য উপযোগী নয়। অর্থাৎ, সালাফী মানহাজ বর্তমান যুগের জন্য পারফেক্ট নয়। ধূর্ত বিদ‘আতীদের এই অভিনব কৌশল কতইনা নিকৃষ্ট! আল্লাহ’র কাছে এদের থেকে পানাহ চাচ্ছি।
·
সালাফী মানহাজের ব্যাপারে ধূর্ত বিদ‘আতীদের এ জাতীয় কূটকৌশলের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন,
সালাফী মানহাজের ব্যাপারে ধূর্ত বিদ‘আতীদের এ জাতীয় কূটকৌশলের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন,
ومنهم من يقول لسنا مكلفين بفقه السلف وعلم السلف، لسنا مكلفين نشق طريقنا نحن، نستنبط الأحكام من جديد، نوجد لنا فقهاً جديداً هذه فقه قديم، فقه السلف فقه قديم، ويقولون ما يصلح لهذا الزمان هو صالح لزمانهم، زماننا غير فيزهدون في فقه السلف، ويدعون إلى فقه جديد، كثر هذا في الجرائد والمجلات من الكُتاب وأهل الضلال، يريدون أن يفلتوا أيدينا من منهج السلف، لأننا إذا لم نعرف مذهب السلف وزهدنا به ولم ندرسه، فإنه لا يكفي الانتساب إلى السلف من غير علم ومن غير بصيرة بمذهبه، هذا ما يريدون منه، يريدون أن نترك مذهب السلف وفقه السلف وعلم السلف ونحدث فقهاً جديدا كما يقولون يصلح لهذا الزمان مع أن هذا كذب، وشريعة الإسلام صالحة لكل زمان ومكان إلى أن تقوم الساعة.
فمنهج السلف صالح لكل زمان ومكان، نور من الله عز وجل، لا يزهدك فيه كلام هؤلاء المخذلين أو الضالين لا يزهدك فيه.
الإمام مالك رحمه الله يقول: «لا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلحها أولها»، الذي أصلحها أولها ما هو؟
هو الكتاب والسنة واتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، العمل بالقرآن والعمل بالسنة هذا هو الذي أصلح أول الأمة ولا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلحها أولها.
فمنهج السلف صالح لكل زمان ومكان، نور من الله عز وجل، لا يزهدك فيه كلام هؤلاء المخذلين أو الضالين لا يزهدك فيه.
الإمام مالك رحمه الله يقول: «لا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلحها أولها»، الذي أصلحها أولها ما هو؟
هو الكتاب والسنة واتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، العمل بالقرآن والعمل بالسنة هذا هو الذي أصلح أول الأمة ولا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلحها أولها.
“তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, “আমরা সালাফদের ফিক্বহ ও সালাফদের ‘ইলমের ব্যাপারে শরিয়তের আজ্ঞাপ্রাপ্ত নই। আমরা এর আজ্ঞাপ্রাপ্ত নই। আমরা নিজেরাই আমাদের রাস্তা তৈরি করব। আমরা নতুন করে বিধিবিধান উদ্ঘাটন করব। আমরা আমাদের জন্য নতুন ফিক্বহ উদ্ভাবন করব। এগুলো প্রাচীন ফিক্বহ। সালাফদের ফিক্বহ হলো প্রাচীন ফিক্বহ।” তারা বলে, “এটি (সালাফদের ফিক্বহ) এই যুগের জন্য উপযোগী নয়, এটি তাদের যুগের জন্য উপযোগী ছিল, আমাদের যুগ ভিন্নতর।” তারা সালাফদের ফিক্বহ ত্যাগ করতে বলে, আর নব্য ফিক্বহের দিকে আহ্বান করে। বিভিন্ন কলামিস্ট ও পথভ্রষ্টদের মাধ্যমে এই বিষয়টি পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আমাদের হাতকে সালাফদের মানহাজ থেকে মুক্ত করতে চায়।
কেননা আমরা যখন সালাফদের মানহাজ জানব না, সে ব্যাপারে অনাগ্রহী হব এবং তা অধ্যয়ন করব না, তখন সালাফদের মানহাজের ব্যাপারে না জেনে সালাফদের দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করা যথেষ্ট হবে না। আর তারা এটাই চায়। তারা চায় যে, আমরা সালাফদের মানহাজ, ফিক্বহ ও ‘ইলম পরিত্যাগ করি, আর তাদের ভাষ্য মোতাবেক এই যুগের জন্য উপযোগী নতুন ফিক্বহ উদ্ভাবন করি, যদিও তাদের ভাষ্য মিথ্যা। ইসলামী শরিয়ত কিয়ামত অবধি সকল যুগ ও স্থানের জন্য উপযোগী। সালাফদের মানহাজ সকল যুগ ও স্থানের জন্য উপযোগী। এটি মহান আল্লাহ’র পক্ষ থেকে আগত নূর (জ্যোতি)। ওই নিরাশকারী ভ্রষ্টদের কথা যেন তোমাকে এ থেকে অনাগ্রহী না করে।
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে যা সংশোধন করেছে, কেবল সেটাই এই উম্মাহ’র সর্বশেষ প্রজন্মকে সংশোধন করতে পারে।” এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে যা সংশোধন করেছে, সেটা কী? তা হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং রাসূল ﷺ এর অনুসরণ। কুরআনের প্রতি আমল এবং সুন্নাহ’র প্রতি আমল। এটাই এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে সংশোধন করেছে। আর এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে যা সংশোধন করেছে, কেবল সেটাই পারে এই উম্মাহ’র সর্বশেষ প্রজন্মকে সংশোধন করতে।” [ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) প্রণীত “মানহাজুস সালাফিস সালিহি ওয়া হাজাতুল উম্মাতি ইলাইহি”– শীর্ষক প্রবন্ধ; প্রবন্ধের লিংক: www.alfawzan.af.org.sa/ar/node/15030.]
·
শাইখুল ইসলাম ইমাম আবুল হারিস মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুর রহমান বিন আবূ যি’ব—ইবনু আবী যি’ব নামে প্রসিদ্ধ—(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৫৯ হি.] বলেছেন,
শাইখুল ইসলাম ইমাম আবুল হারিস মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুর রহমান বিন আবূ যি’ব—ইবনু আবী যি’ব নামে প্রসিদ্ধ—(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৫৯ হি.] বলেছেন,
إن الحق لا تنقله الأزمان عن مواضعه ، ولا تغيره عن وجهه.
“নিশ্চয় যুগসমূহ হককে তার যথাস্থান থেকে স্থানান্তরিত করে না এবং তার প্রকৃত অবস্থা থেকেও তাকে পরিবর্তিত করে না।” [ইমাম আবূ সুলাইমান আর-রাব‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ), আল-জুয’উ ফীহি মিন আখবারি ইবনি আবী যি’ব; পৃষ্ঠা: ৫৮; মুআসসাসাতুর রাইয়্যান, বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি. (১ম প্রকাশ); গৃহীত: সাহাব ডট নেট]
অর্থাৎ, হক অপরিবর্তিত। হক সকল যুগের জন্যই উপযোগী। সুতরাং আধুনিক যুগে সালাফদের মানহাজ অনুপযোগী, এই কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
·
ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৩২৯ হি.] —যিনি কিনা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)’র কাছাকাছি যুগের মানুষ ছিলেন এবং ইমাম আহমাদের ছাত্রদের ছাত্র ছিলেন—বলেছেন,
ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৩২৯ হি.] —যিনি কিনা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)’র কাছাকাছি যুগের মানুষ ছিলেন এবং ইমাম আহমাদের ছাত্রদের ছাত্র ছিলেন—বলেছেন,
فانظر رحمك الله كلّ من سمعت من كلامه من أهل زمانك خاصة فلا تَعْجَلَّنَ، ولا تدخلنّ في شيء منه حتى تسأل وتنظر هل تكلم فيه أحد من أصحاب النبي ﷺ ورضي الله عنهم أو أحد من العلماء؟ فإن وجدت فيه أثراً عنهم فتمسك به، ولا تُجاوزه لشيء، ولا تختار عليه شيئاً فتسقط في النار.
“আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন। তুমি যাদের কথা শুনো, তাদের প্রত্যেককে লক্ষ করো, বিশেষ করে তোমার যুগের লোকদেরকে। তুমি তাড়াহুড়া কোরো না। তুমি তাদের কোন বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ কোরো না, যতক্ষণ না তুমি প্রশ্ন করছ, আর লক্ষ করছ যে, এ ব্যাপারে কি নাবী ﷺ এর সাহাবীবর্গের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) কেউ, অথবা (নির্ভরযোগ্য ও সালাফদের মানহাজের অনুসারী এমন) ‘আলিমদের কেউ কথা বলেছেন? তুমি যদি এ ব্যাপারে তাঁদের কোনো কথা পাও, তাহলে তা আঁকড়ে ধরো। তুমি কোনো কিছুর জন্যই তা অতিক্রম কোরো না। তুমি তার ওপর কোনো কিছুকে প্রাধান্য দিয়ো না। নতুবা তুমি জাহান্নামে পতিত হবে।” [ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ), শারহুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা: ৬৯; মাকতাবাতুল গুরাবাইল আসারিয়্যাহ, মাদীনাহ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
ইমাম বারবাহারী’র ওপর আল্লাহ রহম করুন। তাঁর কথা পড়ে মনে হচ্ছে, তিনি যেন কথাগুলো এই যুগের ধূর্ত বিদ‘আতীদের উদ্দেশ্য করেই বলেছেন।
·