উত্তর: মাদ্রাসা শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য, ইসলামের খেদমত এবং দ্বীনের প্রচার ও প্রসার করা। অর্থাৎ কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ আরবি ভাষা সাহিত্য, আরবি ব্যাকরণ ইত্যাদি সম্পর্কে গভীর বুৎপত্তি অর্জন এবং ইসলামের আলোকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধান।
কারো কাছে যদি এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে না হয় তাহলে তার কাছে মাদ্রাসা কোন উপকার করেনি সেটাই মনে হবে।
কিন্তু একই প্রশ্ন যদি উল্টা করে করা হয় তখন উত্তর কী হবে?
সরকারের তেমন সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই মাদ্রাসা ছাত্ররা কী উপকার করল এটা নিয়ে প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু বিশাল অংকের বাজেট খরচ করার পরেও দেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের কতটুকু উপকার করেছে সে জবাবদিহি কে করবে?
একটা সুই পর্যন্ত যারা আবিষ্কার করতে পারেনি, বিদেশ থেকে আমদানি করা ছাড়া চলে না তাদের মুখে মাদ্রাসা শিক্ষার উপকারিতার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হাস্যকর।
দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা, সরকারি খাতে বিশাল বিশাল দুর্নীতি, প্রশাসনিক পদে থেকে মানুষের উপরে জুলুম নির্যাতন করার কালো অধ্যায়গুলো মাদ্রাসা ছাত্ররা করেনি। বারবার প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারিতে মাদ্রাসা ছাত্ররা জড়িত নয়। দেশের প্রতিটি সেক্টরে চরম পর্যায়ের ঘুষ বাণিজ্য ইত্যাদিতে মাদ্রাসার ছাত্ররা জড়িত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিনিয়ত রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোতে এর পরিমাণ এক পারসেন্টও হবে না।
এগুলো করছে দেশের তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত সাধারণ শিক্ষিত লোকজন।
আশা করি এবার দেশের পুরা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে প্রশ্ন তুলবেন।
তবে আমি বলি না যে মাদ্রাসার শিক্ষার সংস্কারের প্রয়োজন নাই। বরং দেশের পুরো সিস্টেমটাই সংস্কার করা প্রয়োজন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment