Showing posts with label উপদেশ. Show all posts
Showing posts with label উপদেশ. Show all posts

Friday, 5 July 2024

আপনার দুনিয়া অন্ধকার হলে লেখাটি আপনার জন্য


হে মুসলিম ভাই! 

আপনার চোখে যখন পুরো দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাবে; তখন স্মরণ করুন যে, আল্লাহই হলেন আসমান ও জমিনের আলো। অতএব দুনিয়ার অন্ধকার আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। 

দুনিয়ার সব দরজা যখন আপনার মুখের উপর বন্ধ করে দেওয়া হয়; আপনি দুনিয়া ও আখিরাতের দয়াময় প্রভুর দরজায় কড়া নাড়ুন, সে দরজা তো বন্ধ হবার নয়। সহীহ মুসলিমে (হা/২৭৫৯) আবু মুসা রাযিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ "দিনের আলোয় পাপ করা পাপী যেন রাতের আঁধারে আল্লাহর কাছে তওবা করতে পারে, সেজন্য আল্লাহ স্বীয় হাতকে রাতের বেলা বাড়িয়ে দেন। রাতের অন্ধকারে গুনাহ করা গুনাহগার বান্দা যেন দিনের বেলায় তওবা করতে পারে, সেজন্য আল্লাহ স্বীয় হাতকে দিনের বেলায় বাড়িয়ে দেন। পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত এভাবে চলতেই থাকবে।" 

শক্তিমানরা তাদের শক্তি নিয়ে আপনার উপর চড়াও হলে চিন্তিত হবেন না, বরং দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে, আপনার মহান প্রতিপালক মহা শক্তিধর এবং পরাক্রমশালী। আর অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য সন্নিকটে।

ধনকুবেররা স্বীয় সম্পদ নিয়ে ঔদ্ধত্য করলে (স্মরণ করুন), আল্লাহ বলেছেনঃ "মহিমান্বিত মূলত আল্লাহ; যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; সম্মানিত আরশের অধিপতি তিনি।" -(সূরা মুমিনূন, ১১৬)

উচ্চবংশীয়রা নিজ বংশের অহমিকায় লিপ্ত হলে আল্লাহর এই কথা মনে করুন: "আল্লাহর কাছে সে-ই ব্যক্তি সম্মানিত, যে তোমাদের মাঝে যত বেশি তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সম্যক অবগত।" -(সূরা হুজুরাত, ১৩)

সময় দীর্ঘ হচ্ছে, অথচ আপনার স্বপ্ন ও লক্ষ্য দূরে সরে যাচ্ছে, নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে; এরকম হলে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন, তাঁর কাছেই চান, তাঁরই করুণা ভিক্ষা করুন; তিনি তো অতি নিকটে, আপনার দূরকে তিনি কাছের করে দেবেন, কঠিনকে সহজে পরিণত করবেন, অগম্য গন্তব্যকে নাগালের মধ্যে এনে দেবেন। আল্লাহ বলেনঃ "আর আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করলে বলে দিন, নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। কাজেই তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। -(সূরা বাকারা, ১৮৬)

হে মুসলিম! আল্লাহর উপর অহঙ্কার করে তাঁকে ডাকা বাদ দিয়েন না, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারাবেন। আল্লাহ বলেনঃ "তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশতঃ আমার কাছে দোয়া করা থেকে বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" -(সূরা গাফির, ৬০)

রাসূল ﷺ বলেছেনঃ "আল্লাহ বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি তো আমাকে ডাকোনি, আমার কাছে আশাও করোনি, (করলে) আমি তোমার সব কিছু ক্ষমা করতে কোনো পরোয়া করতাম না। 

ওহে বনী আদম! আসমান ভর্তি গুনাহ নিয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাইলে, সব গুনাহ মাফ করে দিতাম কোনো পরোয়া করতাম না।

ওরে আদম সন্তান! পুরো জমিন পরিমাণ ভুল নিয়ে আমার সাথে শিরক বিহীন অবস্থায় সাক্ষাৎ করলে, অনুরূপ মাগফিরাত নিয়ে আমি তোমার কাছে আসতাম।"

আপনি দোয়া করার জন্য রাতের শেষভাগকে বেছে নিন। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ আমাদের মহান রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন: কে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। আমার কাছে কে চাইবে? তাকে তার চাওয়া দেব। আমার কাছে মাফ চাইবে কে? তাকে ক্ষমা করে দেব।"

সর্বান্তকরণে আল্লাহর দিকে ফিরুন, দোয়া কবুলের ব্যাপারে অবিচল আস্থা রাখুন। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ" তোমরা দোয়া কবুলের ব্যাপারে দৃঢ়চিত্ত হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, গাফেল উদাসীন অন্তরের দোয়া আল্লাহ্ কবুল করেন না।" 

হে মুসলিম ভাই! যে দোয়ায় আপনি আল্লাহকে আশা করেন, তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করেন, তাড়াহুড়ো না করেন; আপনার সে দোয়া বাস্তবিকই কবুল হবে। আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ "কোনো মুসলিম যদি এমন দোয়া করে, যেটাতে কোনো পাপ নেই অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি নেই, তাহলে আল্লাহ এর বিনিময়ে তিনটির যেকোনো একটি দেবেন:

১) তার উদ্দিষ্ট বিষয়টি দ্রুতই দেবেন, নতুবা

২) আখিরাতের জন্য জমা রেখে দেবেন, আর নয়তো

৩) অনুরূপ কোনো বিপদ তার থেকে দূরে সরে দেবেন। 

সাহাবীগণ এটা শুনে বললেন, তাহলে তো আমরা আরো বেশি বেশি দোয়া করব!

রাসূল ﷺ বললেনঃ আল্লাহ আরো অধিক দেবেন।"

অতএব আপনারা দোয়াতে মনোনিবেশ করুন। আল্লাহ আমাকে এবং আপনাদেরকে রহম করুন।

✍️শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার বাযমূল হাফিযাহুল্লাহ।

Monday, 23 February 2015

জান্নাতের প্রতি আগ্রহী ও জাহান্নাম থেকে পলায়নকারীর জন্য বিশেষ উপদেশ




জান্নাতের প্রতি আগ্রহী ও জাহান্নাম থেকে পলায়নকারীর জন্য বিশেষ উপদেশ

জাহান্নাম ধ্বংসের ঘর

বান্দার ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা অর্জন ও কৃতকার্য হওয়ার নিদর্শন হচ্ছে, তার অন্তকরণ আখেরাতের স্মরন, পরকালের ভাবনায় সঞ্জীবিত ও সিক্ত হয়ে যাওয়া। যেমন আল্লাহ তাআলা তার নৈকট্য-প্রাপ্ত বান্দা তথা অলি-আউলিয়াদের প্রশংসা করে বলেন :
إِنَّا أَخْلَصْنَاهُمْ بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ ﴿ص:৪৬﴾
"আমি তাদেরকে এক বিশেষগুন তথা পরকালের স্মরণ দ্বারা স্বাতন্ত্র প্রদান করেছি।"[১] অর্থাৎ পরকালীন জীবনের সুখ-দুঃখের ভাবনা।

পক্ষান্তরে পরকাল বিস্মৃতি ও আখেরাত ভুলে যাওয়া বান্দার ভাগ্যহীন হওয়ার আলামত। আল্লাহ তাআলা বলেন :
الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ نَنْسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَذَا وَمَا كَانُوا بِآَيَاتِنَا يَجْحَدُونَ ﴿الأعراف:৫১﴾
"তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব আমি আজকে তাদের ভুলে যাব, যেমন তারা এ দিনের সাক্ষ্যাৎ ভুলে গিয়েছিল, (আরেকটি কারণ) যেহেতু তারা আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করত।"[২]
আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, খাস রহমত; আমাদের অন্তরে পরকালের ভাবনা, আখেরাতের ফিকির উদয়-বৃদ্ধির জন্য হাজারো আলামত, প্রচুর নিদর্শন বিদ্যামান রেখেছেন এ পার্থিব জগতে। আল্লাহ তাআলা বলেন :
أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ. أَأَنْتُمْ أَنْشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنْشِئُونَ. نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِلْمُقْوِينَ ﴿الواقعة:৭১-৭৩﴾
"তোমারা যে অগ্নি প্রজ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি? আমিই সে বৃক্ষকে করেছি স্মরনিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী।"[৩] যদিও এ বৃক্ষ গরমের উপকরণ, রান্নার ইন্ধন, তথাপি আমাদেরকে আখেরাতের অগ্নি স্মরণ করিয়ে দেওয়ারও স্মরনিকা। 
নিম্নোক্ত আয়াতের দ্বারা তিনি গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমকে জাহান্নমের অগ্নির সাথে তুলনা করে বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে :
وَقَالُوا لَا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا لَوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ ﴿التوبة:৮১﴾
"তারা বলেছে এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত।"[৪] 
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন :
أبردوا بالظهر فإن شدة الحر من فيح جهنم. (البخاري)
"তোমরা জোহরকে থান্ডা করে পড়, যেহেতু গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে উৎসারিত।"[৫] 
সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

Wednesday, 17 December 2014

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-১০


♦ রাগ হল এমন একটি বাতাস যা বিবেকের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়।
♦ গোপন বিষয় দু জনকে অতিক্রম করলে ছড়িয়ে পড়ে।
♦ স্ত্রীকে যদি আপনি কেবল তার গুনাগুণ দেখে ভালবাসেন তবে তা প্রকৃত ভালবাসা নয়। প্রকৃত ভালবাসা তখনই হবে যখন আপনি তার মধ্যে দোষ দেখেও তাকে ভালবাসবেন।
♦ আমাদের জীবনের অধিকাংশ সমস্যা হয় দুটি কারণে:
  • এক. আমরা অনেক সময় চিন্তা না করেই কাজ করি।
  • দুই. আবার অনেক সময় কাজ না করে শুধু চিন্তা করি।
♦ জনৈক মনিষী বলেন: “সাফল্যের মূল রহস্য কি তা জানি না। কিন্তু ব্যর্থতার মূল রহস্য হল, সবাইকে খুশি করা চেষ্টা করা।”
♦ চারটি জিনিস মর্যাদা বৃদ্ধি করে:
১) ধৈর্য ও সহনশীলতা
২) বিনয়
৩) উদারতা

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৯


 

  • ইমাম শাফেয়ী রহ.:
”প্রকৃত শিক্ষা সেটাই যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। সেটা প্রকৃত শিক্ষা নয় যা শুধু মুখস্থ রাখা হয় কিন্তু কোন কাজে লাগানো যায় না।”
‘‘যে ব্যক্তি কাউকে গোপনে উপদেশ দিল সে সত্যিকার তার কল্যাণ কামিতার পরিচয় দিল আর যে লোক সম্মুখে উপদেশ দিল সে তাকে অপমান করল।”
  • ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ.:
”আল্লাহর ভয়কে পাথেয় আর আখিরাতকে গন্তব্য বানিয়ে পথ চলো।”
  • আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক:
 ”অনেক বড় বড় কাজ নিয়তের কারণে ছোট হয়ে যায়। আর অনেক ছোট ছোট কাজ নিয়তের কারণ বড় হয়ে যায়।”
”কখনো বিদআতীর নিকট বসবে না।”
  • জনৈক মনিষী:
”আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে বিবেক দিয়েছেন; কু প্রবৃত্তি দেন নি। 
পশুদেরকে কু প্রবৃত্তি দিয়েছেন; বিবেক দেন নি।
আর মানুষকে কু প্রবৃত্তি ও বিবেক উভয়টি দিয়েছেন।
সুতরাং মানুষের বিবেক যখন কু প্রবৃত্তির উপর প্রাধান্য পায় তখন সে ফেরেশতাদের সমপর্যায়ে পৌঁছে যায়।
আর যখন তার কু প্রবৃত্তি বিবেকের উপর প্রাধান্য পায় তখন সে পশুর স্তরে নেমে যায়।”
  • আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.:
”প্রবৃত্তি পূজারীদের সাথে উঠ-বসা করলে অন্তরের মৃত্যু ঘটে।”
  • ইমাম শা’বী 
ইমাম শা’বী কে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কিভাবে এত জ্ঞানার্জন করেছেন? তিনি বললেন:
”কখনো পরের উপর নির্ভর করে থাকি নি।
জ্ঞানার্জনের জন্য দেশ-দেশান্তরে ঘুরেছি।
জড় পদার্থের মত ধৈর্য ধারণ করেছি।
কাক-পক্ষীদের মত খুব ভোরে বিছানা ত্যাগ করেছি।”

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৮




১) অন্ধকারকে সারা জীবন গালাগালি না করে ছোট্ট একটি মোমবাতি জ্বালানো অনেক ভালো।
২) বড় বড় উপাধি নির্বোধদের প্রত্যাশার জিনিস পক্ষান্তরে মহান ব্যক্তিদের নাম ছাড়া অন্য কিছুই দরকার নাই।
৩) তোমার প্রকৃত বন্ধু সেই ব্যক্তি যে তোমার ভুলগুলোকে স্পষ্ট ভাষায় তোমাকে জানায়। সে ব্যক্তি নয় যে তোমাকে খুশি করতে তোমার ভুলগুলোকে সঠিক বলে তোমার সামনে তুলে ধরে।
৪) মৃদু হাসি ভাষাহীন বক্তব্য।
৫) সুন্দর কথা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছার পাসপোর্ট।
৬) অহংকার যখন বেড়ে যায় জীবনের আনন্দ তখন লোপ পায়।
৭) তোমার শত্রুও যদি পরামর্শ চায় তবে তাকে ভালো পরামর্শ দাও। কারণ,তোমার পরামর্শে হয়ত সে তোমার বন্ধুতে পরিণত হবে।
৮) ধৈর্য ধর। শক্ত হও। মনে রেখ, সময় সর্বদা এক অবস্থায় থাকে না।
৯) শিশুকালে শিক্ষা দেয়া পাথরে খোদাই করার মত।
১০) সবচেয়ে বড় মিথ্যুক সে ব্যক্তি যে নিজের সম্পর্কে বেশী বলে।
আরবী থেকে অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৭



  • -পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে আপনার চেয়েও কষ্টে আছে। অত:এব, হাসি-খুশি থাকুন।
  • -মুচকি হাসি হল শব্দ বিহীন কথা।
  • -তোমার স্ত্রীর রুচি বোধের ত্রুটি ধর না। কারণ, তুমি তার প্রথম পছন্দ।
  • -যে ব্যক্তি এক সাথে দুটি শিকার ধরার জন্য ছুটবে সে দুটিই হারাবে।
  • -এক হাতে দুটি তরমুজ নেয়া যায় না।
  • -পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ হল ব্যর্থ হওয়ার পরিকল্পনা করা।
  • -মানুষের হৃদয় জয় করতে চাইলে তাদের উপকার কর।
  • -জ্ঞান যখন পরিপক্ব হয় কথা তখন হ্রাস পায়।
  • -যে অল্পে তুষ্ট থাকে সে সম্মান পায় আর যে অতি লোভ করে সে লাঞ্ছিত হয়।

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৬


•    লোকমান (রহ:) বলেন: মানুষ যখন গর্ব করে সুন্দরভাবে কথা বলার মাধ্যমে; তুমি তখন গর্ব কর নীরবতা সহকারে অন্যের কথা সুন্দরভাবে শোনার মাধ্যমে।
•    আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফ্ফা বলেন: তুমি যদি করো উপকার কর তবে সাবধান! কখনো তা তার কাছে উল্লেখ কর না। আর কেউ যদি তোমার উপকার করে তবে সাবধান! কখনো তা ভুলো না।
•    তিনি আরও বলেন: যা কিছু শোন সেগুলো থেকে সব চেয়ে ভাল কথাগুলো লিখে রাখ। আর যা কিছু লেখ সেগুলো থেকে সব চেয়ে ভালোকথা গুলো সংরক্ষণ কর আর যা কিছু শোন সেগুলো থেকে চেয়ে ভাল কথাগুলো মানুষকে বল।
•    যে ব্যক্তি কাউকে গোপনে উপদেশ দিল সে তাকে খুশি করল ও সুশোভিত করল আর যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কাউকে উপদেশ দিল সে যেন তাকে লাঞ্ছিত ও কলঙ্কিত করল।
•    জনৈক জ্ঞানী বলেন: সব কিছুই ছোট আকারে শুরু হয় পাপ ছাড়া। কারণ, কেউ বড় পাপ করতে শুরু করলে আস্তে আস্তে তা তার নিকট ছোট মনে হয়। আর কোন কিছু অতিরিক্ত হলে তার মূল্য কমে যায় আদব বা ভদ্রতা ছাড়া। কারণ, আদব যতই বৃদ্ধি পায় তার মূল্য ততই বেড়ে যায়।
•    জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি জ্ঞান কোথা থেকে অর্জন করেছেন? তিনি বললেন, অন্ধের কাছ থেকে। কারণ, সে মাটিতে পা ফেলে না লাঠি দ্বারা তা ভালভাবে পরীক্ষা না করে।

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৫


(আরবী থেকে অনুদিত। অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী)
১) কথা বলার আগে বিষয় নির্বাচন করুন। আর বিষয় নির্বাচনে পর্যাপ্ত সময় নিন যাতে তা পরিপক্ব হয়। কারণ, মানুষের কথাগুলো ফলের মত। সেগুলো পরিপক্ব হতে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন।
২) ছোট খাট বিষয়ে বিতর্ক করলে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। কারণ, আমাদের মাঝে এমন অনেক লোক আছে যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়ে ছোট-খাট বিষয়গুলো সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখে।
৩) মানুষ যখন কারো প্রশংসা করে তখন খুব কম লোকেই তা বিশ্বাস করে। কিন্তু যখন কিনা কারো বদনাম করা হয় তখন প্রায় সবাই তা বিশ্বাস করে।
৪) যখন অনেক উঁচু স্তরে পৌঁছে যাও তখন নিচের দিকে তাকাও যেন দেখতে পাও কারা তোমাকে এ পর্যায়ে পৌঁছতে সাহায্য করেছে। আর আকাশের দিকে তাকাও যেন আল্লাহ তোমার পদযুগল স্থির রাখেন। অর্থাৎ যেন আল্লাহ তোমার এ মর্যাদা ধরে রাখেন।
৫) যখন হতাশা জীবনকে ঘিরে ফেলে তখন হতাশার সাগরে আশার সেতু রচনা করুন জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর।
৬) মানুষ (তোমার কথায় বিরক্ত হয়ে) তাদের কান বন্ধ করার আগে তুমি নিজের মুখ বন্ধ কর আর মানুষ (তোমার বিরুদ্ধে) মুখ খোলার আগে নিজের কান খোল তবেই তুমি সফল মানুষ হবে।
৭) যে ব্যক্তি দ্বিমুখী নীতি নিয়ে জীবন যাপন করে সে ব্যক্তি যখন মারা যায় তার কোন নীতিই থাকে না।
৮) রাগ অবস্থায় যদি কথা বল তবে এমন কথা বলে ফেলতে পর যার জন্য তুমি সারা জীবন লজ্জিত থাকবে।
৯) সচ্চরিত্র মানুষের অনেক খারাপ দিককে ঢেকে দেয় যেমন অসৎ চরিত্র অনেক ভাল দিককে ঢেকে দেয়।
১০) তোমার শক্তিমত্তা যখন তোমাকে অন্যায়-অবিচারের দিকে আহবান করে তখন আল্লাহর শক্তিমত্তার কথা স্মরণ কর।
১১) নীতি হীন মানুষ কাঁটা হীন ঘড়ির মত।
১২) মানুষের অস্থির ধমনীকে শান্ত করার জন্য উপযুক্ত সময়ে একটি সুন্দর কথা বলার চেয়ে কার্যকরী কোন চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয় নি।
১৩) সততা একটি ছোট গাছের মত। সেটি লাগানোর পর পরিচর্যা নেয়া প্রয়োজন যেন তা শক্ত হয় ও বৃদ্ধি পায়।
১৪) নম্রতার মাধ্যমে যা অর্জন করা যায় কঠোরতা মাধ্যমে তা অর্জন করা যায় না।
১৫) বেশি কৌতুক করলে ব্যক্তিত্ব চলে যায় আর বেশি হাসলে প্রভাব ক্ষুণ্ণ হয়।
১৬) পৃথিবীতে যত পাত্র আছে তাতে কিছু রাখা হলে তার স্থান ছোট হয়ে আসে। তবে জ্ঞানের পাত্র এর ব্যতিক্রম। এতে যতই জ্ঞান ঢালা হয় তত তা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
১৭) মূর্খতার মত দরিদ্রতা আর জ্ঞানের মত সম্পদ কিছু নেই।

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৪


 

আরবী থেকে অনুবাদ কৃত। অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী

১) সম্পদ আসে কচ্ছপের মত আর যায় হরিণের মত।
২) নির্বোধের কথার উত্তর না দেয়াই তার উত্তর।
৩) চরিত্রের কারণেই অনেক সম্মানিত ব্যক্তি সম্মান হারিয়েছে আবার অনেক নগণ্য ব্যক্তি কুড়িয়েছে বিরাট সম্মান।
৪) কোন ঘুমন্ত লোকের নিকট বসে থাকা আর কোন ঘুমন্ত লোকের পাশে না ঘুমানো ভদ্রতার ব্যপার।
৫) যে কাউকে বিশ্বাস করে না তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
৬) কোন মানুষকে সম্মান করা তার হৃদয়ের মনি কোঠায় প্রবেশের চাবির সমতুল্য।
৭) কোন জিনিসই অতিরিক্ত হওয়া ভাল নয় দুটি জিনিস ছাড়া। এক: জ্ঞান দুই: ভদ্রতা।
৮) বিপদে হা হুতাশ করা আরেকটি বিপদ।
৯) জ্ঞানীর সম্পদ হল তার জ্ঞান আর মূর্খের সম্পদ হল তার অর্থ।

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-৩


১) যদি তুমি তোমার বন্ধুর সব কাজের সমালোচনা কর তবে এমন একটা সময় আসবে যখন সমালোচনা করার মত আর কোন বন্ধু খুঁজে পাবে না।
২) শুধু জ্ঞান তোমার কোন কাজ দেবে না যদি না তুমি চরিত্রের মুকুট মাথায় পরিধান কর।
৩) অস্ত্রের আঘাত শুকিয়ে যায় কিন্তু কথার আঘাত শুকায় না।
৪) হাতে একটা চুড়োই পাখি থাকা গাছে দশটি থাকার চেয়ে ভাল।
৫) যদি চাও যে তোমার আদেশ পালন করা হোক তবে এমন আদেশ দাও যা করা সম্ভব।
৬) বক্তব্যে যদি অল্প কথায় ভাব ফুটিয়ে তুলতে সম্ভব হয় তবে সেটাই শ্রেষ্ঠ বক্তব্য।
৭) মানুষের সাথে কথা বল তাদের বুঝার ক্ষমতা অনুযায়ী।
৮) জ্ঞান যতই গভীর হয় কথা ততই হ্রাস পায়।
৯) খারাপ বন্ধুর চেয়ে একা থাকা অনেক ভাল।
১০) মিথ্যার দাপট ক্ষণস্থায়ী কিন্তু সত্যের দাপট চিরস্থায়ী।

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-২


  • পৃথিবীটা লবণাক্ত পানির মত। যতই তা পান করবে পিপাসা ততই বাড়বে।
  • তুমি পাহাড়ের চুড়ার মত হইয়ো না। কারণ, এতে তুমি মানুষকে ছোট দেখবে আর মানুষও তোমাকে ছোট দেখবে।
  • চিরকাল অন্ধকারকে গালমন্দ না করে ছোট্ট একটি বাতি জ্বালানো অনেক ভাল।
  • সব কিছু জানা তোমার জন্য আবশ্যক নয়। কিন্তু যা কিছু বলছ তার সবটুকু সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
  • কুপে থুথু ফেলনা। কারণ, হয়ত কখনো তোমার এ কুপ থেকে পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে।
  • গাছ থেকে যখন আপেল পড়ল তখন সবাই বলল, গাছ থেকে আপেল পড়েছে। কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এক ব্যক্তিই শুধু জানতে চাইল কেন আপেলটি পড়েছে?
    (আর তার মাধ্যমেই আবিষ্কৃত হল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।)
  • জীবন চলার পথে পড়ে আছে অসংখ্য পাথর। এতে তোমার চলার পথ যেন থেমে না যায়। বরং পাথরগুলো কুড়িয়ে তৈরি কর সাফল্যের সিঁড়ি।
  • যে হিংসা করে সে সবার আগে নিজের ক্ষতি করে।
  • আত্মতৃপ্তিতে ভোগা সংকীর্ণ জ্ঞানের পরিচয়।
  • যে অল্পতে তুষ্ট থাকে তার কাছে এ পৃথিবীর সব কষ্ট সহজ হয়ে যায়।
  • যদি নিজে নিজের ‘বিবেক’কে বড় মনে কর তবে শত্রু সৃষ্টি হবে আর যদি ‘হৃদয়’কে বড় কর তবে বন্ধু বৃদ্ধি হবে।
  • যার ভুল হয় সে মানুষ আর যে ভুলের উপর স্থির থাকে সে শয়তান।
  • বাকপটু ও নির্বোধের সাথে তর্কে যেও না। কারণ, বাকপটু তোমাকে কথায় পরাজিত করবে আর নির্বোধ তোমাকে কষ্ট দিবে।
  • অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী।

জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর কথা-১


উপকারী কিছু আরবী প্রবাদ-বাংলা অনুবাদ
❖ বুদ্ধির সীমা আছে কিন্তু বোকামীর কোন সীমা নেই।
❖ জ্ঞানী মূর্খকে চিনতে পারে কেননা সে জ্ঞানী। পক্ষান্তরে মূর্খ জ্ঞানীকে চিনতে পারে না, কেননা সে মূর্খ।
❖ বন্ধুত্ব একটি ছাতার ন্যায়। বৃষ্টি যতই প্রবল হয় ছাতার ততই প্রয়োজন পড়ে।
❖ পা পিছলে পড়ে যাওয়া লজ্জার কথা নয়। বরং যথা সময়ে উঠে না দাঁড়ানোই লজ্জার ব্যাপার।
❖ ভূল করা দোষের কথা নয় বরং ভূলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা দোষণীয়।
❖ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্ন করে অর্থ উপার্জন করতে যেও না। কারণ, বন্ধুত্ব স্থাপনই অর্থাপর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
❖ মানুষের সাথে সে রূপ আচরণ কর যেমন তারা পছন্দ করে। নিজের পছন্দ মাফিক আচরণ কর না।
❖ তর্কে জেতা বুদ্ধিমানের কাজ নয় বরং বুদ্ধিমানের কাজ হল তর্কে না জড়ানো।
❖ আহমকের সাথে তর্ক কর না। কারণ, মানুষ হয়ত দুজনের মাঝে পার্থক্য করতে ভূল করবে।
❖ তোমার স্ত্রীর রুচি বোধকে অবমূল্যায়ণ কর না। কারণ, সে তোমাকে প্রথম পছন্দ করেছে।
❖ তোমার পিঠে কেউ ততক্ষণ পর্ন্তত চড়তে পারবে না যতক্ষণ না তুমি পিঠ নিচু কর।
❖ তুমি যতটা মূল্যবান ততটা সমালচানার পাত্র হবে।
❖ যে অধিকার আদায়ের পেছনে চেষ্টা চালানো হয় তা কখনই বৃথা যায় না।
❖ ইমাম মুসলিম (রহ) বলেন: “শরীরকে আরামে রেখে জ্ঞানার্জন করা সম্ভব নয়।”
❖ বেলাল বিন রাবাহ (রহ:) বলেন: “পাপ ছোট কি না তা দেখনা বরং দেখ যার অবাধ্যতা করছ তিনি কত বড়।
❖ রাফেঈ বলেন: “যদি তুমি দুনিয়াকে নতুন কিছু উপহার দিতে না পার তবে তুমি দুনিয়ার একটি বোঝা।”
❖ মিসরীয় সাহিত্যিক আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ বলেন: “তিনটি ভাল বই একবার করে পড়ার চেয়ে একটি ভাল বই তিনবার পড়া বেশি উপকারী।”
(আরবী থেকে অনুবাদ কৃত)

Tuesday, 12 August 2014

এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে কিছু কথাঃ


আমাদের জীবনের সবটাই হচ্ছে পরীক্ষা, কখনো ভালো কখনো খারাপ হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়া হবে – কেয়ামতে। তাই এইরকম ছোট-খাট কিছু রেজাল্ট নিয়ে খুব বেশি আহ্লাদিত বা ভেঙ্গে পড়ার কিছু আছে বলে মনে হয়না। যদিও বয়স ও অভিজ্ঞতা কম থাকার কারণে আপনাদের অনেকের কাছে – এটা অনেক বড় মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
যাইহোক, রেজাল্ট ভালো হলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন, খুশি হলে শুকরিয়া স্বরূপ সিজদা করা সুন্নত। আর আশানুরূপ রেজাল্ট না হলে ধৈর্য ধরবেন, হতাশ হবেন না। বুয়েট-মেডিকেল পড়েও অনেক ছেলে ঈমানদার নয়, বেনামাযী, মুর্তাদ, যিনাকারী। হতে পারে, আশানুরূপ রেজাল্ট না দিয়ে আল্লাহ তাঁকে দ্বীনদার, ধার্মিক, চরিত্রবান, ধৈর্যশীল বানাতে চাচ্ছেন। আপাত দৃষ্টিতে এটা আমাদের ভালো না লাগলেও হয়তোবা, চূড়ান্ত পরিণতি এটাই কল্যানকর। তাই মনোঃক্ষুণ্ণ হবেন না, আপনি যদি ঈমানদার হন চূড়ান্ত বিজয় – জান্নাত আপনার। ভবিষ্যতে ভালো করার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করবেন ও চেষ্টা করে যাবেন।
আল্লাহর কাছে দুয়া করি সকলেই যেন তাদের আশা অনুযায়ী সর্বোত্তম রেজাল্ট পেয়ে যান, আমিন।
রাসুল সাঃ এর কিছু কথা, আশা করি সকলেই মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।
অনেক ভালোমানুষ বা বড় রকমের পাপী না হয়েও যে কারণে বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদের মুখে পতিত করেন। অর্থাত্ বিপদ দিয়ে তাকে পরীক্ষা করেন।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫২৩৬)।
যদিও আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন তবুও তাকে বিপদে ফেলে পরীক্ষা করেন, এর হিকমত হচ্ছেঃ
১. বিপদের দ্বারা তার দুনিয়ার জীবনের পাপ ও ভুল-ভ্রান্তির প্রায়শ্চিত্ত হয়ে পাপ মোচন হবে।
২. বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরার কারণে সে পরকালে বেহিসাব নেয়ামত পাবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“দুনিয়ায় যারা বিপদ-আপদে নিপতিত হয়েছে তাদেরকে যখন কিয়ামতের দিন বিনিময় প্রদান করা হবে তখন বিপদ-আপত মুক্ত ব্যক্তিরা আশা করবে, দুনিয়ায় যদি তাদের চাঁমড়া কাচি দিয়ে টুকরা টুকরা করে ফেলা হত।”
সহিহ আত্ তিরমিজি, সংসারের প্রতি অনাসক্তি অধ্যায়, হাদিসঃ ২৪০২, হাদীসটি হাসান সহীহ।
পক্ষান্তরে অনেকে দিন-রাত পাপ কাজে ডুবে থাকে তবুও আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে সাময়িক ভোগ-বিলাসের জন্য অবসর দেন। এ প্রসংগে আল-আল্লামাহ, শায়খ মুহা’ম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“যদি কাউকে দেখ সে প্রকাশ্য কবীরা গুনাহতে লিপ্ত আর আল্লাহ তাকে তার বিরোধীতাকারীদের থেকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং তাকে দুনিয়ার জীবনে উন্নতি দান করছেন – তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখ - আল্লাহ তার খারাপ চান। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ্ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তখন দুনিয়াতে তার জন্য তাড়াতাড়ি বিপদ-আপদ নাযিল করে দেন। আর যখন তিনি তাঁর বান্দার অমঙ্গলের ইচ্ছা করেন তখন তাকে গোনাহের মধ্যে ছেড়ে দেন। অবশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পাকড়াও করবেন।
তিরমিযী, রিয়াদুস স্বালিহিন।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...