Friday, 16 August 2019

ভগ্ন হৃদয়কে সান্ত্বনা দাও


ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—
❝উন্নত শিষ্টাচার ও প্রশংসনীয় গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো—যখন তুমি কোনো ভগ্ন হৃদয়ের মানুষ পাবে, যার হৃদয় ভেঙেছে কোনো প্রিয় মানুষকে হারিয়ে বা অন্য কোনো কারণে; তখন তোমার উচিত হবে, কোনো ভালো স্মৃতি স্মরণ করানোর মাধ্যমে তাকে খুশি করা এবং তার দুঃখ-কষ্ট হালকা করা।
উদাহরণস্বরূপ তার যদি ধনসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে তুমি তাকে বলবে, ‘এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের সমস্ত সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে।’ যদি তার চোখে অসুখ হয়ে থাকে, তাহলে তুমি বলবে, ‘এমন অনেক মানুষ আছে, যারা বিলকুল অন্ধ।’ ফলে তার কষ্ট লাঘব হবে, প্রশমিত হবে তার ব্যথিত হৃদয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো—ওই ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়া, যে তার প্রিয়জনকে হারিয়েছে।❞
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), আত-তা‘লীকু ‘আলাল ক্বাওয়া‘ইদিল হিসান; পৃষ্ঠা: ১৬১; গৃহীত: mpubs.org।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

অমুসলিমদের দেশে বসবাসের বিধান


·
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
প্রশ্ন: অমুসলিমদের দেশে বসবাসের বিধান কী?
উত্তর: অমুসলিম-কাফিরদের দেশে বসবাস করা মুসলিমের দ্বীন, চরিত্র, চলাফেরা ও শিষ্টাচারের জন্য খুবই বিপজ্জনক। আমরা নিজেরা এবং আমরা ছাড়া আরও অনেকেই এটা প্রত্যক্ষ করেছি যে, যারা সেখানে বসবাসের জন্য গিয়েছে, তাদের অনেকেই বিপথগামী হয়েছে, ফলে তারা সেখানে যা নিয়ে গিয়েছিল, তার বিপরীত জিনিস নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে। তারা সেখান থেকে পাপাচারী হয়ে এসেছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ নিজের দ্বীন পরিত্যাগ করে সকল ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস (নাস্তিকতা) নিয়ে ফিরে এসেছে। আল-‘ইয়াযু বিল্লাহ (আল্লাহ’র কাছে এ থেকে পানাহ চাই)।
এক পর্যায়ে তারা নিরেট অবিশ্বাসের দিকে চলে যায় এবং ধর্ম ও পূর্ববর্তী-পরবর্তী ধর্মপালনকারীদের দিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ শুরু করে। তাই সকলের জন্য এ থেকে সতর্ক থাকা এবং এ জাতীয় ধ্বংসাত্মক বিষয়ে নিপাতিত হওয়া থেকে নিরোধকারী শর্ত আরোপ করা বাঞ্ছনীয়।
কাফির রাষ্ট্রে বসবাসের জন্য অবশ্যই দুটো প্রধান শর্ত পূরণ হতে হবে। যথা:
প্রথম শর্ত: বসবাসকারীকে স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ তার এমন ‘ইলম, ঈমান ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে, যা তাকে দ্বীনের ওপর অটল থাকার মতো এবং বক্রতা ও বিপথগামিতা থেকে বেঁচে থাকার মতো আত্মবিশ্বাসের জোগান দেয়। আর কাফিরদের প্রতি তার অন্তরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ থাকতে হবে। অনুরূপভাবে কাফিরদের সাথে মিত্রতা ও তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তাকে দূরে থাকতে হবে। কেননা তাদের সাথে মিত্রতা স্থাপন করা এবং তাদেরকে ভালোবাসা ঈমানের পরিপন্থি।
মহান আল্লাহ বলেছেন, لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ “তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো জাতিকে পাবে না, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিরোধীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে; যদিও তারা তাদের পিতা, অথবা পুত্র, অথবা ভাই, কিংবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়।” [সূরাহ মুজাদালাহ: ২২]
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ. فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَىٰ أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ ۚ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِنْ عِنْدِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا أَسَرُّوا فِي أَنْفُسِهِمْ نَادِمِينَ “হে মু’মিনগণ, ইহুদি-খ্রিষ্টানদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে অবশ্যই তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। সুতরাং তুমি দেখতে পাবে, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা কাফিরদের মধ্যে (বন্ধুত্বের জন্য) ছুটছে। তারা বলে, ‘আমরা আশঙ্কা করছি যে, কোনো বিপদ আমাদেরকে আক্রান্ত করবে।’ অতঃপর হতে পারে আল্লাহ দান করবেন বিজয় কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু, যার ফলে তারা তাদের অন্তরে যা লুকিয়ে রেখেছে, তাতে লজ্জিত হবে।” [সূরাহ মা’ইদাহ: ৫১-৫২]
নাবী ﷺ বলেছেন, الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ “মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে (পরকালে) তার সাথেই থাকবে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৬১৬৯; সাহীহ মুসলিম, হা/২৬৪০]
আল্লাহ’র শত্রুদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ। কেননা তাদেরকে ভালোবাসলে তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করা এবং তাদের অনুসরণ করা, কিংবা কমপক্ষে তাদের কর্মের বিরোধিতা না করা—জরুরি হয়ে যায়। একারণে নাবী ﷺ বলেছেন, “মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে (পরকালে) তার সাথেই থাকবে।”
দ্বিতীয় শর্ত: নিজের দ্বীনকে প্রকাশ করার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, বসবাসকারী ব্যক্তি কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ইসলামের নিদর্শনাবলি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। নামাজ, জুমু‘আহ ও জামা‘আত—যদি তার সাথে জামা‘আতে নামাজ ও জুমু‘আহ প্রতিষ্ঠা করার মতো কেউ থেকে থাকেন—প্রতিষ্ঠা করতে বাধাগ্রস্ত হবেন না। অনুরূপভাবে জাকাত, রোজা, হজ ও অন্যান্য শার‘ঈ নিদর্শন প্রতিষ্ঠা করতে বাধাগ্রস্ত হবেন না। যদি এসব কাজ করার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে তখন হিজরত ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে বসবাস করা জায়েজ হবে না।
ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) “মুগনী” গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ৪৫৭ পৃষ্ঠায় হিজরতের ব্যাপারে মানুষের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, “যার ওপর হিজরত করা ফরজ: যে ব্যক্তির হিজরত করার মতো সক্ষমতা আছে, আর তার জন্য স্বীয় দ্বীনকে প্রকাশ করা এবং কাফিরদের মধ্যে বাস করে দ্বীনের ওয়াজিব বিষয়াদি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না, সে ব্যক্তির ওপর হিজরত করা ওয়াজিব। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় যারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?’ তারা বলে, ‘আমরা জমিনে দুর্বল ছিলাম।’ ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে?’ সুতরাং ওরাই তারা, যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।” (সূরাহ নিসা: ৯৭) এটা হলো কঠিন হুঁশিয়ারি, যা হিজরতের আবশ্যকিয়তা প্রমাণ করে। কেননা দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয় পালন করা প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। হিজরত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব; এটি এমন একটি বিধান, যা আবশ্যকীয় কর্মাবলিকে পূর্ণতা দান করে। আর যা ব্যতিরেকে ওয়াজিব কাজ পূর্ণ হয় না, সেটাও ওয়াজিব।” [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]
উল্লিখিত প্রধান শর্ত দুটি পূরণ হওয়ার পর কাফির রাষ্ট্রে বসবাস করার বিষয়টিকে কয়েক প্রকারে বিভক্ত করা যায়। যথা:
প্রথম প্রকার: ইসলামের দিকে দা‘ওয়াত এবং ইসলামের প্রতি উৎসাহ প্রদানের জন্য বসবাস করা। এটি এক প্রকার জিহাদ। সক্ষম ব্যক্তির ওপর এ কাজ করা ফরজে কিফায়াহ (যে ফরজ কতিপয় আদায় করলে বাকিদের ওপর থেকে তা আদায় না করার পাপ ঝরে যায় – অনুবাদক)। তবে শর্ত হলো—দা‘ওয়াত বাস্তবায়িত হতে হবে এবং দা‘ওয়াত প্রদান ও গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা যাবে না। কেননা ইসলামের দিকে দা‘ওয়াত দেওয়া দ্বীনের আবশ্যকীয় বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত। আর এটিই রাসূলগণের পথ। নাবী ﷺ সর্ব জায়গা ও সর্ব সময়ে ইসলামের তাবলীগ (প্রচার) করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ﷺ বলেছেন, بَلِّغُوْا عَنِّى وَلَوْ اَيَةً “আমার পক্ষ হতে (মানুষের কাছে) একটি বাক্য হলেও পৌঁছিয়ে দাও।” [সাহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১]

কখন একজন ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ থেকে বের হয়ে যায়?


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। একজন ব্যক্তির আহলুস সুন্নাহ থেকে বের হয়ে যাওয়া মানে ওই ব্যক্তির বিদ‘আতী হিসেবে পরিগণিত হওয়া। আর বিদ‘আতী হিসেবে পরিগণিত হওয়া মানে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে খারিজ হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৭২ দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। ❝প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ’র কোনো একটি মূলনীতির বিরোধিতা করে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নিকট সে আহলুস সুন্নাহ থেকে বের হয়ে যায় তথা “বিদ‘আতী” হিসেবে পরিগণিত হয়।❞
·
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মহান ইমাম, শাইখুল ইসলাম আবূ ‘আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল আশ-শাইবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৪১ হি.] বলেছেন,
ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﻼﺯﻣﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﻣﻨﻬﺎ ﺧﺼﻠﺔ –ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﻳﺆﻣﻦ ﺑﻬﺎ– ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻬﺎ.
“আবশ্যকীয় সুন্নাহ’র (মানহাজের) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করবে, তা গ্রহণ করবে না এবং তার প্রতি ঈমানও আনবে না, তবে সে সুন্নাহপন্থিদের তথা আহলুস সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়।” [ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ), উসূলুস সুন্নাহ; পৃষ্ঠা: ৩; ছাপা ও তারিখ বিহীন; ইমাম আল লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ৩১৭; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৪৮; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সন-তারিখ বিহীন]
ইমাম বুখারীর উস্তায, আমীরুল মু’মিনীনা ফিল হাদীস, আশ-শাইখুল ইমাম, আল-হুজ্জাহ আবুল হাসান ‘আলী বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন জা‘ফার বিন মাদীনী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৩৪ হি.]-ও এই কথা বলেছেন। [ইমাম আল লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ৩১৮; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৫৬; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সন-তারিখ বিহীন]
·
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ইমাম রাবী‘ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] ইমাম আহমাদের উক্তিটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন,
‏ﺍﻧﺘﺒﻬﻮﺍ ﻟﻬﺬﺍ؛ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻔﻘﺮﺓ ﻣﻬﻤﺔ ﺟﺪﺍً، ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﺳﻴﺼﻒ ﻟﻨﺎ ﺃﺻﻮﻻً ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﺷﻴﺌﺎً ﻣﻨﻬﺎ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ؛ ﻳﻌﻨﻲ ﻳﺨﺮﺝ ﻋﻦ ﺩﺍﺋﺮﺓ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺇﻟﻰ ﺩﺍﺋﺮﺓ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﺗﻨﺒﻬﻮﺍ ﻟﻬﺬﺍ.
‏(ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﻼﺯﻣﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﻣﻨﻬﺎ ﺧﺼﻠﺔ) ﻓﺈﺫﺍ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻛﻠﻬﺎ ﺃﻭ ﻣﻌﻈﻤﻬﺎ ﻓﻬﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﺒﻼﺀ، ‏(ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ‏) ﻳﻌﻨﻲ ﺃﺑﺎﻫﺎ، ‏(ﻟﻢ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﻳﺆﻣﻦ ﺑﻬﺎ - ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻬﺎ) ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻭ ﺍﻟﻀﻼﻝ ﻭ ﺍﻟﻌﻴﺎﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ.
“তোমরা এ ব্যাপারে সতর্ক হও! এই অনুচ্ছেদটি খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম আহমাদ আমাদের নিকটে কিছু উসূল (মূলনীতি) বর্ণনা করবেন। যে ব্যক্তি তা থেকে কোনো কিছু পরিত্যাগ করবে, সে আহলুস সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, সে সুন্নাহ’র গণ্ডি থেকে বের হয়ে বিদ‘আতের দিকে চলে যাবে। সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক হও।
আবশ্যকীয় সুন্নাহ’র (মানহাজের) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করবে (তার জন্যই এই কথা)। কিন্তু যে ব্যক্তি তার সকল বা অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করে, তবে সেটা তো (তার জন্য) এক দুর্যোগ।
((তা গ্রহণ করবে না)) অর্থাৎ, সে তা অস্বীকার করবে।

বিদ‘আতীদের সাথে ওঠাবসা বর্জন করা আহলুস সুন্নাহ’র একটি অন্যতম মূলনীতি


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
আমাদের অগ্রবর্তী ন্যায়নিষ্ঠ ইমামদের সর্বজনগৃহীত একটি নীতি ছিল—বিদ‘আতীদের সাথে কেউ যেন ওঠাবসা বা চলাফেরা বা মেলামেশা না করে। এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের একটি অন্যতম মূলনীতি। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের শ্রদ্ধেয় ইমাম, শাইখুল ইসলাম, হাফিয আবূ ‘আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৪১ হি.] আহলুস সুন্নাহ’র মূলনীতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,
أصول السنة عندنا : ترك الخصومات والجلوس مع أصحاب الأهواء.
“আমাদের নিকট সুন্নাহ’র মূলনীতি হচ্ছে, বিদ‘আতীদের সাথে তর্কবিতর্ক এবং (তাদের সাথে) ওঠাবসা বর্জন করা।” [ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ), উসূলুস সুন্নাহ; পৃষ্ঠা: ৩; তারিখ ও প্রকাশনার বিহীন; ইমাম আল-লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ৩১৭; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৪৮; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সন-তারিখ বিহীন]
·
এই মূলনীতি গৃহীত হয়েছে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবীবর্গ এবং তাঁদের পরবর্তী অনুসারীগণ কর্তৃক অবলম্বিত মানহাজ থেকে।
আম্মিজান ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) [মৃত: ৫৮ হি.] থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, “এক ব্যক্তি নাবী ﷺ এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি লোকটিকে দেখে বললেন, ‘সে সমাজের নিকৃষ্ট লোক এবং সমাজের দুষ্ট সন্তান।’ এরপর সে যখন এসে বসল, তখন নাবী ﷺ আনন্দ সহকারে তার সাথে মেলামেশা করলেন। লোকটি চলে গেলে ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন তখন তার ব্যাপারে এমন বললেন, পরে তার সাথেই আপনি আনন্দচিত্তে সাক্ষাৎ করলেন।’ তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হে ‘আইশাহ, তুমি কখনো আমাকে অশালীন দেখেছ? কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র কাছে মর্যাদার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যার দুষ্টামির কারণে মানুষ তাকে ত্যাগ করে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৬০৩২; সাহীহ মুসলিম, হা/২৫৯১]
·
প্রখ্যাত তাবি‘ঈ, মাদীনাহ’র শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ও মুফতী, ইমাম সুলাইমান বিন ইয়াসার (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১০৭ হি.] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বানূ তামীম গোত্রে সাবীগ বিন ‘ইসল নামে এক ব্যক্তি ছিল। একবার সে মাদীনাহ’য় আগমন করে। তার কাছে বেশ কিছু গ্রন্থ ছিল। সে লোকদেরকে কুরআনের মুতাশাবিহ তথা দ্ব্যর্থবোধক আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করছিল। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)’র কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি তাকে ডেকে পাঠান। আর তার জন্য তিনি খেজুর গাছের (কাঁদির) অনেকগুলো শুকনো দণ্ড প্রস্তুত করেন। সে যখন তাঁর নিকটে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করে, তখন তিনি বলেন, ‘তুমি কে?’ সে বলে, ‘আমি আল্লাহ’র গোলাম সাবীগ।’ ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, ‘আর আমি হলাম আল্লাহ’র গোলাম ‘উমার।’ এই বলে তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং ওই প্রস্তুতকৃত শুকনো খর্জূর দণ্ডগুলো দিয়ে পিটাতে লাগলেন। তিনি তাকে মারতেই থাকলেন, এমনকি মারতে মারতে তার মাথা ফাটিয়ে দিলেন, আর ওই ব্যক্তির মুখ থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। সে বলল, ‘আমীরুল মু’মিনীন, যথেষ্ট হয়েছে। আল্লাহ’র কসম, আমার মাথায় যা (ভ্রান্ত বিশ্বাস) ছিল তা উধাও হয়ে গেছে’।” [ইমাম আল-লালাকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ), শারহু উসূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; আসার নং: ১১৩৮; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৫৬০; দারুল বাসীরাহ, আলেকজান্দ্রিয়া কর্তৃক প্রকাশিত; সন-তারিখ বিহীন]
ইবনু যুর‘আহ (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সাবীগ বিন ‘ইসলকে বসরায় দেখেছি। সে যেন খোস-পাঁচড়ায় আক্রান্ত এক উট, সে (লোকদের) বৈঠকগুলোতে যেত। যখনই সে কোনো বৈঠকে বসত, তখনই ওই বৈঠকের লোকেরা উঠে চলে যেত এবং তাকে বর্জন করত। সে যদি এমন সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে বসত যারা তাকে চিনে না, তাহলে অপর বৈঠকের লোকেরা তাদের ডাক দিয়ে বলত, আমীরুল মু’মিনীনের কড়া নির্দেশ আছে (অর্থাৎ, ওই লোককে পরিত্যাগ করো)।” [প্রাগুক্ত; আসার নং: ১১৪০; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৫৬১]
·

বর্তমান যুগে সালাফী মানহাজ কি অগ্রহণযোগ্য?


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
কতিপয় বিদ‘আতী একটি অদ্ভুত অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে। তারা বলে, বর্তমান যুগের পরিস্থিতি সালাফদের যুগের পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। সুতরাং সালাফদের মানহাজ তাঁদের যুগের জন্য উপযোগী হলেও, বর্তমান যুগের জন্য উপযোগী নয়। অর্থাৎ, সালাফী মানহাজ বর্তমান যুগের জন্য পারফেক্ট নয়। ধূর্ত বিদ‘আতীদের এই অভিনব কৌশল কতইনা নিকৃষ্ট! আল্লাহ’র কাছে এদের থেকে পানাহ চাচ্ছি।
·
সালাফী মানহাজের ব্যাপারে ধূর্ত বিদ‘আতীদের এ জাতীয় কূটকৌশলের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন,
ومنهم من يقول لسنا مكلفين بفقه السلف وعلم السلف، لسنا مكلفين نشق طريقنا نحن، نستنبط الأحكام من جديد، نوجد لنا فقهاً جديداً هذه فقه قديم، فقه السلف فقه قديم، ويقولون ما يصلح لهذا الزمان هو صالح لزمانهم، زماننا غير فيزهدون في فقه السلف، ويدعون إلى فقه جديد، كثر هذا في الجرائد والمجلات من الكُتاب وأهل الضلال، يريدون أن يفلتوا أيدينا من منهج السلف، لأننا إذا لم نعرف مذهب السلف وزهدنا به ولم ندرسه، فإنه لا يكفي الانتساب إلى السلف من غير علم ومن غير بصيرة بمذهبه، هذا ما يريدون منه، يريدون أن نترك مذهب السلف وفقه السلف وعلم السلف ونحدث فقهاً جديدا كما يقولون يصلح لهذا الزمان مع أن هذا كذب، وشريعة الإسلام صالحة لكل زمان ومكان إلى أن تقوم الساعة.
فمنهج السلف صالح لكل زمان ومكان، نور من الله عز وجل، لا يزهدك فيه كلام هؤلاء المخذلين أو الضالين لا يزهدك فيه.
الإمام مالك رحمه الله يقول: «لا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلحها أولها»، الذي أصلحها أولها ما هو؟
هو الكتاب والسنة واتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، العمل بالقرآن والعمل بالسنة هذا هو الذي أصلح أول الأمة ولا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلحها أولها.
“তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, “আমরা সালাফদের ফিক্বহ ও সালাফদের ‘ইলমের ব্যাপারে শরিয়তের আজ্ঞাপ্রাপ্ত নই। আমরা এর আজ্ঞাপ্রাপ্ত নই। আমরা নিজেরাই আমাদের রাস্তা তৈরি করব। আমরা নতুন করে বিধিবিধান উদ্ঘাটন করব। আমরা আমাদের জন্য নতুন ফিক্বহ উদ্ভাবন করব। এগুলো প্রাচীন ফিক্বহ। সালাফদের ফিক্বহ হলো প্রাচীন ফিক্বহ।” তারা বলে, “এটি (সালাফদের ফিক্বহ) এই যুগের জন্য উপযোগী নয়, এটি তাদের যুগের জন্য উপযোগী ছিল, আমাদের যুগ ভিন্নতর।” তারা সালাফদের ফিক্বহ ত্যাগ করতে বলে, আর নব্য ফিক্বহের দিকে আহ্বান করে। বিভিন্ন কলামিস্ট ও পথভ্রষ্টদের মাধ্যমে এই বিষয়টি পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আমাদের হাতকে সালাফদের মানহাজ থেকে মুক্ত করতে চায়।
কেননা আমরা যখন সালাফদের মানহাজ জানব না, সে ব্যাপারে অনাগ্রহী হব এবং তা অধ্যয়ন করব না, তখন সালাফদের মানহাজের ব্যাপারে না জেনে সালাফদের দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করা যথেষ্ট হবে না। আর তারা এটাই চায়। তারা চায় যে, আমরা সালাফদের মানহাজ, ফিক্বহ ও ‘ইলম পরিত্যাগ করি, আর তাদের ভাষ্য মোতাবেক এই যুগের জন্য উপযোগী নতুন ফিক্বহ উদ্ভাবন করি, যদিও তাদের ভাষ্য মিথ্যা। ইসলামী শরিয়ত কিয়ামত অবধি সকল যুগ ও স্থানের জন্য উপযোগী। সালাফদের মানহাজ সকল যুগ ও স্থানের জন্য উপযোগী। এটি মহান আল্লাহ’র পক্ষ থেকে আগত নূর (জ্যোতি)। ওই নিরাশকারী ভ্রষ্টদের কথা যেন তোমাকে এ থেকে অনাগ্রহী না করে।
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে যা সংশোধন করেছে, কেবল সেটাই এই উম্মাহ’র সর্বশেষ প্রজন্মকে সংশোধন করতে পারে।” এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে যা সংশোধন করেছে, সেটা কী? তা হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং রাসূল ﷺ এর অনুসরণ। কুরআনের প্রতি আমল এবং সুন্নাহ’র প্রতি আমল। এটাই এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে সংশোধন করেছে। আর এই উম্মাহ’র প্রথম প্রজন্মকে যা সংশোধন করেছে, কেবল সেটাই পারে এই উম্মাহ’র সর্বশেষ প্রজন্মকে সংশোধন করতে।” [ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) প্রণীত “মানহাজুস সালাফিস সালিহি ওয়া হাজাতুল উম্মাতি ইলাইহি”– শীর্ষক প্রবন্ধ; প্রবন্ধের লিংক: www.alfawzan.af.org.sa/ar/node/15030.]
·
শাইখুল ইসলাম ইমাম আবুল হারিস মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুর রহমান বিন আবূ যি’ব—ইবনু আবী যি’ব নামে প্রসিদ্ধ—(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৫৯ হি.] বলেছেন,
إن الحق لا تنقله الأزمان عن مواضعه ، ولا تغيره عن وجهه.
“নিশ্চয় যুগসমূহ হককে তার যথাস্থান থেকে স্থানান্তরিত করে না এবং তার প্রকৃত অবস্থা থেকেও তাকে পরিবর্তিত করে না।” [ইমাম আবূ সুলাইমান আর-রাব‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ), আল-জুয’উ ফীহি মিন আখবারি ইবনি আবী যি’ব; পৃষ্ঠা: ৫৮; মুআসসাসাতুর রাইয়্যান, বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি. (১ম প্রকাশ); গৃহীত: সাহাব ডট নেট]
অর্থাৎ, হক অপরিবর্তিত। হক সকল যুগের জন্যই উপযোগী। সুতরাং আধুনিক যুগে সালাফদের মানহাজ অনুপযোগী, এই কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
·
ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৩২৯ হি.] —যিনি কিনা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)’র কাছাকাছি যুগের মানুষ ছিলেন এবং ইমাম আহমাদের ছাত্রদের ছাত্র ছিলেন—বলেছেন,
فانظر رحمك الله كلّ من سمعت من كلامه من أهل زمانك خاصة فلا تَعْجَلَّنَ، ولا تدخلنّ في شيء منه حتى تسأل وتنظر هل تكلم فيه أحد من أصحاب النبي ﷺ ورضي الله عنهم أو أحد من العلماء؟ فإن وجدت فيه أثراً عنهم فتمسك به، ولا تُجاوزه لشيء، ولا تختار عليه شيئاً فتسقط في النار.
“আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন। তুমি যাদের কথা শুনো, তাদের প্রত্যেককে লক্ষ করো, বিশেষ করে তোমার যুগের লোকদেরকে। তুমি তাড়াহুড়া কোরো না। তুমি তাদের কোন বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ কোরো না, যতক্ষণ না তুমি প্রশ্ন করছ, আর লক্ষ করছ যে, এ ব্যাপারে কি নাবী ﷺ এর সাহাবীবর্গের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) কেউ, অথবা (নির্ভরযোগ্য ও সালাফদের মানহাজের অনুসারী এমন) ‘আলিমদের কেউ কথা বলেছেন? তুমি যদি এ ব্যাপারে তাঁদের কোনো কথা পাও, তাহলে তা আঁকড়ে ধরো। তুমি কোনো কিছুর জন্যই তা অতিক্রম কোরো না। তুমি তার ওপর কোনো কিছুকে প্রাধান্য দিয়ো না। নতুবা তুমি জাহান্নামে পতিত হবে।” [ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ), শারহুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা: ৬৯; মাকতাবাতুল গুরাবাইল আসারিয়্যাহ, মাদীনাহ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
ইমাম বারবাহারী’র ওপর আল্লাহ রহম করুন। তাঁর কথা পড়ে মনে হচ্ছে, তিনি যেন কথাগুলো এই যুগের ধূর্ত বিদ‘আতীদের উদ্দেশ্য করেই বলেছেন।
·

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি দেওয়ার বিধান


·
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل تشرع الأضحية عن الأموات؟
الجواب: الأضحية ليست للأموات، الأضحية للأحياء، وليست بسنة للأموات، ودليل ذلك: أن الشرع إنما يأتي من عند الله عز وجل ورسوله - صلى الله عليه وسلم -، والذي جاءت به السنة هي الأضحية عن الأحياء، فالنبي - صلى الله عليه وسلم - مات له أقارب ولم يضحِّ عنهم، كل أولاده توفُّوا قبله عليه الصلاة والسلام، منهم الذي بلغ الحُلُم، ومنهم من لم يبلغ الحلم، فأبناؤه ماتوا قبل أن يبلغوا الحلم، وبناته مِتْنَ بعد أن بلَغْنَ الحُلُم، إلا فاطمة- رضي الله عنها-، فقد بقيت بعده، ومات له زوجتان: خديجة، وزينب بنت خزيمة- رضي الله عنهما-، ولم يضحِّ عنهما، واستشهد عمُّه حمزة بن عبد المطلب- رضي الله عنه- ولم يضحِّ عنه، فهو عليه الصلاة والسلام لم يشرع الأضحية عن الميت، ولم يدعُ أمَّته إلى ذلك.
وعلى هذا فنقول: ليس من السنة أن يُضحَّى عن الميت؟ لأن ذلك لم يرد عن النبي - صلى الله عليه وسلم -، ولا علمته واردًا عن الصحابة أيضًا، نعم إذا أوصى الميت أن يضحَّى عنه فهنا تُتبع وصيته ويَضحى عنه، اتباعًا لوصيته، وكذلك إذا دخل الميت مع الأحياء ضمنًا كأن يضحي الإنسان عنه وعن أهل بيته، وينوي بذلك الأحياء والأموات، وأما أن يُفردَ الميت بأضحية من عنده، فهذا ليس من السنة.
প্রশ্ন: “মৃত ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে কুরবানি করা কি শরিয়তসম্মত?”
উত্তর: “কুরবানি মৃতদের জন্য নয়। কুরবানি জীবিতদের জন্য। মৃতদের তরফ থেকে কুরবানি করা সুন্নাত নয়। এর দলিল হলো—শরিয়ত এসেছে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ নিকট থেকে, আর রাসূলের সুন্নাহ’য় কেবল জীবিতের পক্ষ থেকে কুরবানি করার কথা বর্ণিত হয়েছে। নাবী ﷺ এর আত্মীয়স্বজন মারা গেছেন, কিন্তু তাঁদের পক্ষ থেকে কুরবানি করেননি। তিনি মারা যাওয়ার আগেই তাঁর ﷺ সকল সন্তান মারা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ সাবালক হয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ সাবালক হওয়ার পূর্বেই মারা গেছেন। তাঁর সকল ছেলে সন্তান সাবালক হওয়ার পূর্বেই মারা গেছেন।
আর তাঁর সকল কন্যাসন্তান সাবালিকা হওয়ার পর মারা গেছেন। কেবল ফাত্বিমাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) ব্যতীত; তিনি তাঁর ﷺ মৃত্যুর পরেও জীবিত ছিলেন। তিনি ﷺ তাঁর জীবদ্দশায় দুজন স্ত্রীকে হারান। তাঁরা হলেন খাদীজাহ ও যাইনাব বিনতে খুযাইমাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)। কিন্তু তিনি তাঁদের দুজনের তরফ থেকে কুরবানি করেননি। তাঁর চাচা হামযাহ বিন ‘আব্দুল মুত্বত্বালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) শহিদ হয়েছেন তাঁর জীবদ্দশায়, কিন্তু তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানি করেননি। আসলে তিনি ﷺ মৃত ব্যক্তির তরফ থেকে কুরবানি করাকে শরিয়ত হিসেবে প্রণয়ন করেননি এবং স্বীয় উম্মতকে এই কাজের দিকে আহ্বানও করেননি।
এরই ভিত্তিতে আমরা বলি, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটা নাবী ﷺ থেকে বর্ণিত হয়নি। আর আমি সাহাবীদের থেকেও এমন কাজের বর্ণনা আছে বলে জানি না। হ্যাঁ, মৃত ব্যক্তি যদি কুরবানি করার অছিয়ত করে যায়, তাহলে তাঁর অছিয়ত পালন করা হবে এবং তাঁর অছিয়ত পালন করার জন্য তাঁর তরফ থেকে কুরবানি করা হবে। অনুরূপভাবে মৃত ব্যক্তি যখন জীবিতদের আওয়াতাভুক্ত হন, তখনও তাঁর তরফ থেকে কুরবানি করা হয়ে যায়। যেমন কোনো ব্যক্তি তার নিজের তরফ থেকে এবং তার পরিবারের তরফ থেকে কুরবানি করে, আর এর মাধ্যমে (পরিবারের) জীবিত-মৃত সকল সদস্যের কথা নিয়াত করে। পক্ষান্তরে এককভাবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা সুন্নাহসম্মত নয়।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১০-১১; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

কুরবানিদাতার জন্য যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন নখ-চুল না কাটা ওয়াজিব


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
মাসআলাহটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে এবং এ সম্পর্কে সঠিক বিধান আমাদের অনেকেরই অজানা থাকার কারণে এ নিয়ে শরিয়তের বিধান লোকদেরকে জানানো কর্তব্য মনে করছি। আর যারা জানেন, তাদের জন্যও একটা রিমাইন্ডার হয়ে যাবে। যাইহোক, বেশি কথা না বাড়িয়ে সরাসরি আলোচনায় চলে যাই। মূলত এ ব্যাপারে যুগশ্রেষ্ঠ ‘আলিমগণের বক্তব্য সরল বাংলায় উপস্থাপন করব। আর আজকের লেখায় অভিনব একটি পদ্ধতি ফলো করব। আশা করি, এই পদ্ধতি অধিক ফলপ্রসূ হবে, ইনশাআল্লাহ। ওয়া মা তাওফীক্বী ইল্লা বিল্লাহ, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইহি উনীব।
·
যদি যুলহাজ্ব মাস সাব্যস্ত হয়, তাহলে যে ব্যক্তি কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা বা সংকল্প করেছে, তার জন্য ওয়াজিব হলো—কুরবানির পশু জবেহ না করা পর্যন্ত তার শরীরের কোনো লোম, চুল, নখ ও চামড়া না কাটা। উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) কর্তৃক বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেছেন, إِذَا رَأَيْتُمْ هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِه “যখন তোমরা যুলহাজ্ব মাসের নতুন চাঁদ (হিলাল) দেখবে এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন (কুরবানি না করা পর্যন্ত) তার চুল ও নখ (কাটা) থেকে বিরত থাকে।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭; ‘কুরবানি’ অধ্যায় (৩৬); পরিচ্ছেদ- ৭]
উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, নাবী ﷺ বলেছেন, إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا “যখন (যুলহাজ্ব মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও চামড়ার কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭; হাদীস দুটি একই নম্বরের আওতায় বর্ণিত হয়েছে শাইখ ফুআদ ‘আব্দুল বাক্বীর তারক্বীম (নাম্বারিং) অনুযায়ী]
·
মাসায়েল:
এই আলোচনা থেকে যে মাসআলাহগুলো জানা যাবে, তা পয়েন্ট আকারে এখানেই উল্লেখ করছি। রেফারেন্স হিসেবে নিচে ‘আলিমগণের ফাতাওয়া উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ। যাতে করে পাঠক মহোদয় মাসআলাহগুলো সহজেই আয়ত্ব করতে পারেন। মাসআলাহগুলো নিম্নরূপ—
এক. যুলহাজ্বের নতুন চাঁদ (হিলাল) উঠেছে বলে প্রমাণ হলে অথবা যুল-ক্বা‘আদাহর ৩০ দিন পূর্ণ হলেই চুল-নখ কাটার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
দুই. বিশুদ্ধ মতানুসারে হাদীসে উদ্ধৃত নিষেধাজ্ঞা মৌলিক অর্থে হারাম বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা মাকরূহ উদ্দেশ্য নয়। কেননা এই নিষিদ্ধতার বিপরীতে কোনো দলিল বিদ্যমান নেই।
তিন. এমন ব্যক্তি যে নতুন চাঁদ দেখার পরও কুরবানি করার ইরাদাহ (ইচ্ছা/সংকল্প) করেনি। কিন্তু পরবর্তীতে যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের মধ্যে তার কুরবানি করার ইচ্ছা হলো। সেক্ষেত্রে সে যদি ইতঃপূর্বে চুল-নখ কেটেও থাকে, তবে এরপর থেকে আর তা কাটবে না। নিয়্যাতের আগে যা কেটে ফেলেছে, তাতে সে গুনাহগার হবে না।
চার. কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে চুল-নখ কাটে, তবে তার জন্য জরুরি হচ্ছে, সে আল্লাহ’র নিকটে ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করবে এবং তাওবাহ করবে। আর তার জন্য কোনো কাফফারাহ নেই। সে স্বাভাবিকভাবেই কুরবানি করবে।
পাঁচ. চুল কাটা বা তোলা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে মাথা ধোয়া বা চুল পরিপাটি করা অবৈধ নয়।
ছয়. অনিচ্ছাকৃত এসবের কিছু কেটে ফেললে বা ভুল করে কেটে ফেললে সে গুনাহগার হবে না। কারণ ইসলামের সাধারণ মূলনীতি হলো—আল্লাহ এই উম্মাহর অনিচ্ছাকৃত ভুল বা বিস্মৃতিজনিত ভুলের গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন।
সাত. কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাটলে তার কুরবানি কবুল হবে না—মর্মের প্রচলিত ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কুরবানি কবুল হওয়ার সাথে এসবের কোনো কিছু কর্তনের কোনোরূপ সম্পর্ক নেই। তবে কর্তনকারী ব্যক্তি অবশ্যই পাপী হবে।
আট. যে ব্যক্তির চুল, নখ, চামড়া থেকে কিছু কেটে ফেলার প্রয়োজন দেখা দেয়, ফলে সে তা কেটে ফেলে, সে ব্যক্তির কোনো দোষ নেই। কারণ শরিয়তের সাধারণ মূলনীতি হলো—জরুরি অবস্থা নিষিদ্ধ কর্মাবলিকে বৈধ করে দেয়।
নয়. যে ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে অথবা স্বেচ্ছায় অন্য কারও পক্ষ থেকে কুরবানি করার সংকল্প করেছে, সেই কেবলমাত্র এ বিধানের আওতায় পড়বে। পক্ষান্তরে পরিবারের যাদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা হবে, তারা এই বিধানের আওতায় পড়বে না। অর্থাৎ, তাদের জন্য চুল-নখ কাটা হারাম নয়।
দশ. একইভাবে ওয়াকীল তথা প্রতিনিধি (যে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কুরবানি করে দেয়) বা ওয়াসী (যাকে কুরবানি করতে অসিয়ত করা হয়েছে)-ও এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেহেতু কুরবানি তাদের নিজস্ব নয়, সেহেতু তারা চুল-নখ প্রভৃতি কাটতে পারবে।
·

যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিনে যা করণীয়


[সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) প্রণীত নিবন্ধের সরল বঙ্গানুবাদ]
·
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক সাইয়্যিদুল মুরসালীনের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয় এটি আল্লাহ’র পরম দয়া ও অনুগ্রহ যে, তিনি তাঁর সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের জন্য কিছু মৌসুস নির্ধারণ করেছেন, যেসব মৌসুমে তারা বেশি বেশি সৎ আমল করবে। যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিন এসব মৌসুমের মধ্যে অন্যতম।
·
ফজিলত:
যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের ফজিলতে কুরআন-সুন্নাহ’র অনেক দলিল বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
১. মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالْفَجْرِ. وَلَيَالٍ عَشْرٍ “শপথ ফজরের এবং দশ রজনীর।” [সূরাহ ফাজর: ১-২] ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, المراد بها عشر ذي الحجة كما قالهه ابن عباس وابن الزبير ومجاهد وغيرهم “এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন। যেমনটি বলেছেন ইবনু ‘আব্বাস, ইবনু যুবাইর, মুজাহিদ প্রমুখ।”
২. ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللّهِ مِنْ هذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشَرَةِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللّهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللّهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللّهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِه وَمَالِه فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذلِكَ بِشَيْءٍ “আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাঁর দিনসমূহের মধ্যে এমন কোনো দিন নেই, যে দিনের আমল এ দশদিনের আমল অপেক্ষা অধিক প্রিয়।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহ’র রসূল! আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদও নয় কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে সে ব্যতীত, যে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে, আর তা হতে কোনো কিছু নিয়েই ফিরেনি।” [সাহীহ বুখারী, হা/৯৬৯]
৩. মহান আল্লাহ বলেছেন, وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَات “যেন তারা নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহ’র নাম স্মরণ করতে পারে।” [সূরাহ হাজ্ব: ২৮] ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) ও ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “নির্দিষ্ট দিনসমূহ মানে যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিন।”
৪. ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ما من أيّام أعظم عند الله سبحانه ولا أحب إليه العمل فيهن من هذه الأيام العشر، فأكثروا فيهن من التهليل والتكبير والتحميد “আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাঁর দিনসমূহের মধ্যে এমন কোনো দিন নেই, যে দিনের মর্যাদা এবং আমল এ দশদিনের মর্যাদা ও আমল অপেক্ষা অধিক প্রিয়। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলো।” [ত্বাবারানী, মু‘জামুল কাবীর]
৫. তাবি‘ঈ সা‘ঈদ বিন জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) যখন যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশকে উপনীত হতেন, তখন তিনি ইবাদতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতেন। [দারিমী]

যুলহাজ্ব মাসের প্রথম নয়দিন রোজা রাখুন


·
যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] বলেছেন—
“যেসব দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয় আমল), তার মধ্যে যুলহাজ্ব মাসের প্রথম নয়দিন অন্যতম। যেহেতু নাবী ﷺ বলেছেন,
مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامٍ أَفْضَلَ مِنْهَا فِي هَذِهِ قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ وَلاَ الْجِهَادُ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَيْءٍ.
“যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদও কি (উত্তম) নয়?’ নাবী ﷺ বললেন, “জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।” (সাহীহ বুখারী, হা/৯৬৯)
রোজাও এই দিনগুলোতে ভালো আমলের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রোজা হলো সর্বোত্তম আমল। এছাড়াও রাসূল ﷺ থেকে এই দিনগুলোতে রোজা রাখার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। (আবূ দাউদ, হা/২৪৩৭; সনদ: সাহীহ; তাহক্বীক্ব: আলবানী)”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ), শারহু যাদিল মুস্তাক্বনি‘; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৩৯৭; দারুল ‘আসিমাহ, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৪ হি./২০০৪ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

শরিকানা (ভাগা) কুরবানি প্রসঙ্গে কিছু কথা


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।
শিরোনামের বিষয়টির সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা খুব ভালো করেই জানেন—বাংলাদেশে কারা এই বিষয়ে ফিতনা ছড়িয়েছেন এবং এখনও ছড়াচ্ছেন। সেজন্য তাদের নাম মেনশন করছি না। কিন্তু তাদের ছড়ানো ফিতনা এবং বাতিল দাবির মূলোৎপাটন করা জরুরি মনে করছি। কারণ তাদের কেউ কেউ জোর গলায় বলছেন, “যারা মুক্বীম (মুসাফির নয় এমন) অবস্থায় শরিক কুরবানি জায়েজ বলেন—তারা গোঁড়ামি করছেন, তারা হক থেকে দূরে রয়েছেন!” লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
যাইহোক, বেশি কথা না বাড়িয়ে আসুন, মূল আলোচনা শুরু করি। আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।
·
এটা সর্বজনবিদিত যে, ছাগলে শরিক কুরবানি বৈধ নয়। সুতরাং, সেটা আমাদের আলোচনার বিষয়ও নয়। আমরা আলোচনা করব উট ও গরুতে শরিক কুরবানির বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে। যাইহোক মুক্বীম-মুসাফির সর্বাবস্থায় উট ও গরুতে শরিক হওয়া নাবী ﷺ এর একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস এবং ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণের মহামূল্যবান বাণী ও ফাতাওয়া দ্বারা প্রমাণিত ও সুসাব্যস্ত। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কয়েকটি হাদীস নিম্নরূপ—
১. ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ الأَضْحَى فَاشْتَرَكْنَا فِي الْجَزُورِ عَنْ عَشَرَةٍ وَالَبَقَرَةِ عَنْ سَبْعَةٍ “আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ছিলাম। ইতোমধ্যে কুরবানির ঈদ এসে গেল। আমরা একটি উট দশজনে এবং একটি গরু সাতজনে শরিক হয়ে কুরবানি করলাম।” [তিরমিযী, হা/৯০৫; নাসাঈ, হা/৪৩৯২; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩১; সনদ: সাহীহ (তাহক্বীক্ব: আলবানী)]
২. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, نَحَرْنَا بِالْحُدَيْبِيَةِ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ “আমরা হুদাইবিয়াহ নামক স্থানে নাবী ﷺ এর সাথে একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরুও সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছি।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮; আবূ দাউদ, হা/২৮০৯; তিরমিযী, হা/৯০৪, ১৫০২, নাসাঈ, হা/৪৩৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩২]
৩. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُنَّا نَتَمَتَّعُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعُمْرَةِ فَنَذْبَحُ الْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ نَشْتَرِكُ فِيهَا “আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে তামাত্তু‘ হজ করেছি। তখন আমরা সাত শরিকে মিলে একটি গরু কুরবানি করেছি।” [সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮; শেষোক্ত হাদীস দুটি একই নম্বরের আওতায় বর্ণিত হয়েছে, শাইখ ফুআদ ‘আব্দুল বাক্বী’র তারক্বীম (নাম্বারিং) অনুযায়ী]
কেউ কেউ কুরবানিতে শরিক হওয়া সফর ও হজের সাথে খাস (নির্দিষ্ট) করেছেন। কারণ উপরিউক্ত হাদীসগুলোতে শুধু সফরের কথা এসেছে। আমরা বলি, তাদের এই খাসকরণের পিছনে কোনো দলিল নেই। এই খাসকরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্ভট এবং দলিলবিহীন। আমরা পয়েন্ট আউট করে তাদের এই অযৌক্তিক কথা এবং দলিলবিহীন বিভ্রান্তির দলিলভিত্তিক জবাব দিব, ইনশাআল্লাহ।
·
❏ বিভ্রান্তির অপনোদন:
শরিকানা (ভাগা) কুরবানিকে যারা সফরের সাথে খাস বলে দাবি করছেন, তাদের এই ভ্রান্ত দাবির জবাব নিম্নরূপ:
·
প্রথমত, উপরিউক্ত হাদীসগুলো বা শরিকানা কুরবানি সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীসগুলোর মধ্যে কোনো একটি হাদীসেও বলা হয়নি যে, মুক্বীম অবস্থায় কুরবানিতে শরিক হওয়া বৈধ নয়। একবারও এ কথা বলা হয়নি যে, শরিকানা কুরবানি শুধুমাত্র সফরের সাথেই খাস।
·
দ্বিতীয়ত, সম্মানিত মুহাদ্দিসগণ যেভাবে কুরবানি অধ্যায়ে হাদীসগুলো এনেছেন; এ থেকেও বুঝা যায় যে, তাঁরা ওই সব হাদীসকে সফরের সাথে খাস হওয়া বুঝেননি। এটা সুবিদিত যে, মুহাদ্দিসগণ তাঁদের হাদীস গ্রন্থে যেসব বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনা করেন, সেটাই তাঁদের ফিক্বহ (বুঝ)। সুতরাং আসুন, তাঁদের বাব তথা অনুচ্ছেদ রচনার ক্যাটাগরিটা দেখে নিই।
·

যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিন ইবাদতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করুন


·
মিশরের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ড. মুহাম্মাদ বিন সা‘ঈদ রাসলান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৯৫৫ খ্রি.] বলেছেন—
“ওহে আল্লাহ’র বান্দারা! নাবী ﷺ যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশকে ভালো আমল করার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সালাত আদায় করা এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার—বলার মাধ্যমে জিকির করাও ভালো আমলের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে কুরআন তেলাওয়াত করাও ভালো আমলের অন্তর্ভুক্ত।
‘ইলম অন্বেষণ করা এবং তা মানুষের মধ্যে প্রচার করাও ভালো আমল। রোজা, জাকাত, সদকা, পিতামাতার সাথে সদাচারণ, এতিম ও অভাবীদের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশিদের সাথে ভালো ব্যবহার করা প্রভৃতির সবই ভালো আমল।
তাই যুলহাজ্ব মাসের প্রথম নয়দিন রোজা রাখা, কুরআন তেলাওয়াত করা এবং যে কোনো ইবাদতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা বাঞ্ছনীয়; যেমনটি করেছেন আমাদের অগ্রবর্তী ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণ।
এটাই সুযোগ, হয়তো আগামীতে এ সুযোগ আর কখনো আসবে না। এই সময় যদি অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে হয়তো তা আর কখনো ফিরে আসবে না। মানুষ তো এ শঙ্কা থেকেই মুক্ত নয় যে, সে আগামী দিন পাবে, না কি পাবে না! সে তো জানে না, আদৌ আগামী দিনের প্রভাত-প্রদীপ তার ওপর উদিত হবে, না কি আগামীকালই তাকে অন্ধকার কবরে চলে যেতে হবে।
তাই আমরা আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর সর্বব্যাপী রহমত দিয়ে আমাদের আচ্ছাদিত করেন। বস্তুত তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।”
·
তথ্যসূত্র:
‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ রাসলান (হাফিযাহুল্লাহ), ফাদ্বলু ‘আশরি যিল হিজ্জাহ ওয়া সিহহাতুল মু‘তাক্বাদি ওয়াল ইজতিহাদু ফিত্ব ত্বা‘আত; পৃষ্ঠা: ২০-২১; শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (rslan.com) থেকে সংগৃহীত সফট কপি।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

‘ইলমুল কালাম শিক্ষা করা কি জায়েজ?


·
মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের সাবেক প্রধান, বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ইমাম রাবী‘ বিন হাদী বিন ‘উমাইর আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
প্রশ্ন: “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এটাও উপস্থিত ভাইদের মধ্য থেকে একটি প্রশ্ন, যেখানে বলা হয়েছে: আস-সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, ‘ইলমুল কালাম [১] শিক্ষা করা কি আমার জন্য জায়েজ? আমাকে (বিষয়টি জানিয়ে) উপকৃত করুন, আর আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।”
উত্তর: “ইলমুল কালাম হলো এক ধরনের মন্দ ‘ইলম, যেটা চর্চা করা সালাফগণ ঐক্যমতের ভিত্তিতে হারাম ঘোষণা করেছেন, এর মধ্যে থাকা ভ্রষ্টতা ও খারাপ পরিণতির কারণে। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “বুদ্ধিহীন ব্যক্তি এর মাধ্যমে উপকৃত হয় না, বুদ্ধিমান ব্যক্তির এর প্রয়োজন নেই।” বুদ্ধিমান ব্যক্তির এর প্রয়োজন নেই; কারণ সে সত্তাগত, ফিতরতি ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে বিচক্ষণ। আর একজন বুদ্ধিহীন ব্যক্তি এর থেকে উপকৃত হয় না। সে যদি ইলমুল কালামের সব কিতাবও পড়ে, তবুও এর থেকে উপকৃত হবে না।
শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) কালামপন্থি ‘উলামাদের সাথে মুনাযারা করতেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে তাদের অবস্থা হতো শিশুর মতো। যদিও তিনি কখনো ‘ইলমুল কালাম চর্চা করেননি। বরং আল্লাহ তাঁকে (বিশুদ্ধ) ভাষা ও ‘ইলম দান করেছিলেন। আর কিতাব ও সুন্নাহ’র চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিল নেই।
আহলুল কালামরা সর্বদাই পরাজিত। আল্লাহ’র কসম, যতই তারা কালামপন্থি ভাষা ব্যবহার করুক না কেন, আর ‘ইলমুল কালামে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তারা সালাফুস সালিহ’র মানহাজের উপস্থিতিতে পরাজিত হয়; (যেই মানহাজ) কিতাব ও সুন্নাহ’র ওপর ভিত্তিশীল।” [২]
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. আল্লাহ’র অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য গ্রিক কাফির-মুশরিক দার্শনিকদের থেকে ধার করা যুক্তিবিদ্যা।
[২]. ইমাম রাবী‘ বিরচিত “মারহাবান ইয়া ত্বালিবাল ‘ইলম”, পৃষ্ঠা: ৩৪৭।
·
উৎস:
·
অনুবাদক: রিফাত রাহমান সিয়াম

কুরবানির সংক্ষিপ্ত বিধিবিধান


·
[এটি একটি আরবি নিবন্ধের অনুবাদ। সম্মানিত শাইখ ড. ‘আলাউয়ী বিন ‘আব্দুল ক্বাদির আস-সাক্বক্বাফ (হাফিযাহুল্লাহ)’র তত্ত্বাবধানে ‘দুরারুস সানিয়্যাহ’ ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগ এই নিবন্ধ প্রণয়ন করেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধটি সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল ও সারগর্ভ হওয়ায়, আমরা এর সরল বঙ্গানুবাদ বাঙালি মুসলিম পাঠকবর্গের করকমলে পেশ করছি। জ্ঞাতব্য যে, আমরা অনূদিত নিবন্ধের কলেবর ছোটো করার জন্য আরবি ভূমিকাটি এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি মূল আলোচনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুবাদ করেছি। – অনুবাদক]
·
❏ প্রথম পরিচ্ছেদ: উদ্বহিয়্যাহ তথা কুরবানির পরিচয়, বৈধতা, ফজিলত ও হিকমাহ
১. উদ্বহিয়্যাহ’র পরিচয়:
আভিধানিক অর্থে, যে পশুকে কুরবানি করা হয় তথা ইদুল আজহার দিনগুলোতে জবেহ করা হয়, তাকেই উদ্বহিয়্যাহ বা কুরবানি বলে। উদ্বহিয়্যাহ’র বহুবচন হলো আদ্বাহী।
পারিভাষিক অর্থে, আল্লাহ’র নৈকট্য অর্জনের জন্য ইদুল আজহার দিন থেকে শুরু করে আইয়্যামে তাশরীক্বের (১১, ১২ ও ১৩ই যুলহাজ্ব) শেষদিন পর্যন্ত যে গৃহপালিত চতুষ্পদ পশুকে কুরবানি করা হয়, তাকে উদ্বহিয়্যাহ তথা কুরবানি বলা হয়।
·
২. কুরবানির বৈধতা:
কুরবানি শরিয়তসম্মত হওয়ার ব্যাপারে ‘আলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এই ইজমা‘ (মতৈক্য) বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনু কুদামাহ, ইমাম ইবনু দাক্বীক্ব আল-‘ঈদ, ইমাম ইবনু হাজার, ইমাম শাওকানী, ইমাম শানক্বীত্বী ও ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন।
·
৩. কুরবানির ফজিলত:
প্রথমত, কুরআন থেকে: মহান আল্লাহ বলেছেন, ذَٰلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ “এটাই হলো আল্লাহ’র বিধান; যে আল্লাহ’র নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরস্থ তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত।” [সূরাহ হাজ্ব: ৩২] আর কুরবানির পশু মহান আল্লাহ’র নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত, সুন্নাহ থেকে: বারা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেছেন, مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا يَذْبَحُ لِنَفْسِه وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُه وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ “যে ব্যক্তি (ইদের) নামাজের আগে জবেহ করেছে, সে কেবল নিজের জন্যই জবেহ করেছে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পরে জবেহ করেছে, সে তার কুরবানি পূর্ণ করেছে। আর সে মুসলিমদের রীতি অনুসারেই করেছে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫৫৫৬]
তৃতীয়ত, আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে জবেহ করা এবং কুরবানি করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য কামনা করা সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ তাঁর মহান কিতাবের একাধিক জায়গায় নামাজের সাথে জবেহ করার বিষয়টি মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন, জবেহের উচ্চ মর্যাদা ও বড়ো অবস্থানের কারণে।
·
৪. কুরবানির বিধানের হিকমাহ:
ক. জীবনের মতো নেয়ামতের জন্য আল্লাহ’র প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করা
খ. ইবরাহীম (‘আলাইহিস সালাম) এর সুন্নাহ’র পুনরুজ্জীবন:
যখন মহান আল্লাহ ইবরাহীম (‘আলাইহিস সালাম) কে তাঁর পুত্র ইসমা‘ঈল (‘আলাইহিস সালাম) এর বিনিময়ে প্রদত্ত কুরবানিকে জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন। আর এখন মু’মিন ব্যক্তি ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল (‘আলাইহিমাস সালাম) এর ধৈর্যের কথা এবং নিজের জীবন ও পুত্রের ওপর আল্লাহ’র আনুগত্য ও ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা স্মরণ করবে। পুত্রকে কুরবানি দেওয়ার পরীক্ষা-রীতি উঠিয়ে নেওয়ার এবং পুত্রের বিনিময়ে পশু কুরবানি দেওয়ার রীতি চালু হওয়ার কারণ ছিলেন তাঁরা দুজনেই। মু’মিন যখন এ কথা স্মরণ করবে, তখন সে আল্লাহ’র আনুগত্যের ওপর ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে এবং অন্তরের চাওয়া ও প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহ’র ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের দুজনকে অনুসরণ করবে।
গ. এতে নিজেকে এবং পরিবারকে স্বচ্ছল করার মাধ্যম রয়েছে:

বিশুদ্ধ শব্দের তাকবীর কোনটি?


·
আলজেরিয়ার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ড. মুহাম্মাদ ‘আলী ফারকূস (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৭৪ হি./১৯৫৪ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
প্রশ্ন: “ইদের দিনে এবং তাশরীক্বের দিনগুলোতে পাঠকৃত তাকবীরের বিশুদ্ধ শব্দরূপ কোনটি? জাযাকুমুল্লাহু খাইরা।”
উত্তর: “যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ, এবং দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার পরিজন, সঙ্গিবর্গ ও কেয়ামত অবধি আসতে থাকা তাঁর ভ্রাতৃমণ্ডলীর ওপর। অতঃপর:
তাকবীরের শব্দরূপের ব্যাপারে কোনো বিশুদ্ধ মারফূ‘ হাদীস [১] বর্ণিত হয়নি। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনা হলো—মুহাদ্দিস ‘আব্দুর রাযযাক্ব বর্ণিত হাদীস, যা তিনি বিশুদ্ধ সনদে সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন, كَبِّرُوا اللهَ: اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا “তোমরা আল্লাহ’র বড়োত্ব ঘোষণা করে বলো, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা’।” [২]
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলতেন, اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَللهِ الحَمْدُ، اللهُ أَكْبَرُ وَأَجَلُّ، اللهُ أَكْبَرُ عَلَى مَا هَدَانَا “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ, আল্লাহু আকবার ওয়া আজাল, আল্লাহু আকবার ‘আলা মা হাদানা।” [৩]
হাফিয ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, وقد أُحْدِث في هذا الزمانِ زيادةٌ في ذلك لا أصلَ لها “এই যুগে এক্ষেত্রে বাড়তি শব্দ তৈরি করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।” [৪]
ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে তাকবীরের আরেকটি বিশুদ্ধ শব্দরূপ বর্ণিত হয়েছে। সেটা হলো, اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَللهِ الحَمْدُ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।” [৫]
বস্তুত প্রকৃত ‘ইলম আল্লাহ’র নিকট রয়েছে। সর্বোপরি যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন, সাহাবীবর্গ ও কেয়ামত অবধি আসতে থাকা তাঁর ভ্রাতৃবর্গের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. যে হাদীসের সনদ রাসূল ﷺ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মারফূ‘ হাদীস বলে। আর যে হাদীসের সনদ সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাওকূফ হাদীস বলে।
[২]. মুহাদ্দিস ‘আব্দুর রাযযাক্বের সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বাইহাক্বী “ফাদ্বাইলুল আওক্বাত” গ্রন্থে (হা/২২৭)। হাফিয ইবনু হাজার “ফাতহুল বারী” গ্রন্থে (খ. ২; পৃ. ৪৬২) বলেছেন, “আব্দুর রাযযাক্ব হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন।”
[৩]. ইমাম বাইহাক্বী “সুনানুল কুবরা” গ্রন্থে (হা/৬২৭০) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলবানী “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (খ. ৩; পৃ. ১২৬) হাদীসটিকে ‘সাহীহ’ বলেছেন।
[৪]. ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ), ফাতহুল বারী; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৪৬২।
[৫]. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ত্বাবারানী “মু‘জামুল কাবীর” গ্রন্থে (হা/৯৫৩৮) এবং ইমাম ইবনু আবী শাইবাহ “মুসান্নাফ” গ্রন্থে (হা/৫৬৩৩)। ইমাম আলবানী “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (হা/৬৫৪) উক্ত শব্দরূপ সংবলিত জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)’র মারফূ‘ হাদীসকে “দ্ব‘ঈফ (দুর্বল)” বলেছেন এবং ইবনু আবী শাইবাহ কর্তৃক ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত মাওকূফ হাদীসকে ‘সাহীহ’ বলেছেন।
·
বি.দ্র.: প্রথম টীকা ছাড়া বাকি টীকাগুলো শাইখ ফারকূস কর্তৃক সংযোজিত, অনুবাদক কর্তৃক নয়।
·
তথ্যসূত্র:
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ঋণ করে কুরবানির পশু ক্রয় করার বিধান


·
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يشرع للفقير أن يستدين لكي يضحي؟
الجواب: الفقير الذي ليس بيده شيء عند حلول عيد الأضحى لكنه يأمل أن يحصل، كإنسان له راتب شهري، أو أنه في يوم العيد ليس في يده شيء لكنه يستطيع أن يستقرض من صاحبه ويوفي إذا جاء الراتب فهذا يمكن أن نقول له: لك أن تستقرض إذن وتضحي ثم توفي، ْ أما إذا كان لا يأمل الوفاء عن قريب فإننا لا نستحب له أن يستقرض ليضحي؛ لأن هذا يستلزم إشغال ذمته بالدين ومنّ الناس عليه، ولا يدري هل يستطيع الوفاء أو لا يستطيع.
প্রশ্ন: “কুরবানি দেওয়ার জন্য অভাবী ব্যক্তির ঋণ করা কি শরিয়তসম্মত?”
উত্তর: “ইদুল আজহার সময় যে অভাবী ব্যক্তির কাছে অর্থকড়ি থাকে না, কিন্তু সে ঋণ পরিশোধের আশা রাখে। যেমন: কোনো ব্যক্তি মাসিক বেতন পায়, তবে ইদের দিনে তার কাছে অর্থ নেই। কিন্তু সে তার সঙ্গীর কাছ থেকে অর্থ ধার করে পরবর্তীতে বেতনের টাকা থেকে দেনা পরিশোধ করে দেয়। এ ব্যক্তিকে আমরা বলব, ‘তাহলে তুমি ধার করে কুরবানি দাও, পরে ধার পরিশোধ করে দিয়ো।’ পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অল্প কিছুদিনের মধ্যে ঋণ পরিশোধের আশা রাখে না, সে ব্যক্তির ঋণ করে কুরবানি দেওয়াকে আমরা মুস্তাহাব বলি না। কেননা এর ফলে ঋণের চুক্তি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়া এবং মানুষের অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী হওয়া তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সে জানে না যে, আদৌ সে তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবে, না কি পারবে না।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১০৯-১১০; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) আরেকটি ফাতওয়ায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, وأما من لا يأمل الحصول على قيمتها من قرب فلا ينبغي أن يستدين للأضحية “যে ব্যক্তি নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে বলে মনে করে না, তার জন্য কুরবানির পশু ক্রয় করার নিমিত্তে ঋণ করা বাঞ্ছনীয় নয়।” [প্রাগুক্ত; খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১১০]
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...