Friday, 16 August 2019

আরাফার রোজা কোনদিন রাখব?


·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل نستطيع أن نصوم هنا يومين لأجل صوم يوم عرفة؛ لأننا هنا نسمع في الراديو أن يوم عرفة غداً يوافق ذلك عندنا الثامن من شهر ذي الحجة؟
الجواب: يوم عرفة هو اليوم الذي يقف الناس فيه بعرفة، وصومه مشروع لغير من تلبس بالحج، فإذا أردت أن تصوم فإنك تصوم هذا اليوم، وإن صمت يوماً قبله فلا بأس، وإن صمت الأيام التسعة من أول ذي الحجة فحسن؛ لأنها أيام شريفة يستحب صومها؛ لقول النبي – صلى الله عليه وعلى آله وسلم – : «ما من أيام العمل الصالح فيهن خير وأحب إلى الله من هذه الأيام العشر» قيل: يا رسول الله، ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال: «ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله، ثم لم يرجع من ذلك بشيء». رواه البخاري. وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
প্রশ্ন: “আমরা কি এখানে আরাফা দিবসের রোজা রাখার নিমিত্তে দুই দিন রোজা রাখতে পারব? কেননা আমরা এখানে রেডিয়োতে এই খবর শুনছি যে, আরাফার দিবস আগামীকাল, যা আমাদের এখানকার সময় অনুযায়ী যুলহাজ্ব মাসের আট তারিখে হচ্ছে।”
উত্তর: “আরাফার দিবস হলো সেই দিন, যেদিন লোকেরা (হাজিরা) আরাফার মাঠে অবস্থান করে। যারা হাজি নন, তাঁদের জন্য এই রোজা রাখা বিধেয়। তাই আপনি রোজা রাখতে চাইলে এই দিন রোজা রাখুন। আপনি যদি এই দিবসের পূর্বের দিন রোজা রাখেন, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। আর আপনি যদি যুলহাজ্ব মাসের প্রথম নয়দিন রোজা রাখেন, তাহলে সেটা আরও ভালো হবে। কেননা সেগুলো খুবই মর্যাদাপূর্ণ দিন, যে দিনগুলোত রোজা রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয় আমল)। কেননা নাবী ﷺ বলেছেন, “যুলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদও কি (উত্তম) নয়?’ নাবী ﷺ বললেন, “জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।” (সাহীহ বুখারী, হা/৯৬৯)
আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
ফাতওয়া প্রদান করেছেন—
চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)।
মেম্বার: শাইখ ‘আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়্যান (রাহিমাহুল্লাহ)।
·
তথ্যসূত্র:
ফাতাওয়া লাজনাহ দা’ইমাহ; ফাতওয়া নং: ৪০৫২; প্রশ্ন নং: ১; খণ্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ৩৯৩-৩৯৪; দারুল ‘আসিমাহ, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪১৬ হি./১৯৯৬ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

নেককার নারী হওয়ার জন্য যা শর্ত, আর যা শর্ত নয়


·
মক্কাস্থ উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সদস্য, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. মুহাম্মাদ বিন ‘উমার সালিম বাযমূল (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺔ ﺍﻟﺴﻠﻔﻴﺔ : ﻟﻴﺲ ﺷﺮﻃًﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﺃﻥ ﺗﻌﺮﻑ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺎﺕ ﻭﺍﻷﺣﺰﺍﺏ، ﻭﻻ ﻳﺸﺘﺮﻁ ﻓﻴﻬﺎ ﺃﻥ ﺗﻜﺮﺭ ﻛﻼﻡ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﻭﻋﺒﺎﺭﺍﺗﻬﻢ، ﻭﻻ ﻳﻠﺰﻡ ﺃﻥ ﺗﻌﺮﻑ ﺟﺮﺡ ﻓﻼﻥ ﻭﻓﻼﻥ. ﻭﻻ ﻳﺸﺘﺮﻁ ﻓﻴﻬﺎ ﺃﻥ ﺗﻌﺮﻑ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ ﺍﻟﺴﻠﻔﻴﻴﻦ، ﻭﻻ ﻳﺸﺘﺮﻁ ﺃﻥ ﺗﻌﻠﻢ ﻣﺎ ﻳﺪﻭﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺴﺎﺣﺔ، ﻭﻻ ﻳﺸﺘﺮﻁ ﺃﻥ ﺗﺼﻮﻡ ﺍﻷﻳﺎﻡ ﺍﻟﺒﻴﺾ ﻭﻛﻞ ﺍﺛﻨﻴﻦ ﻭﺧﻤﻴﺲ،
ﻭﻻ ﺃﻥ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻳﻮﻣﻴﺎً. ﻳﻜﻔﻲ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻥ ﻣﺤﺎﻓﻈﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﺨﻤﺲ، ﻭﺻﻴﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ، ﻭﺃﻥ ﺗﺤﻔﻆ ﻧﻔﺴﻬﺎ ﻭﺯﻭﺟﻬﺎ، ﻭﺗﻌﺘﻨﻲ ﺑﺒﻴﺘﻬﺎ ﻭﺑﻮﻟﺪﻫﺎ.
ﻭﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻣﻤﻠﻜﺘﻬﺎ، ﻭﺯﻭﺟﻬﺎ ﺃﻣﻴﺮﻫﺎ، ﻭﺃﻭﻻﺩﻫﺎ ﺭﻋﻴﺘﻬﺎ. ﻟﻢ ﻳﺬﻛﺮ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ—ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ—ﺇﻻ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻥ : ﺣﻨﻮﻧﺔ ﻋﻠﻰ ﻭﻟﺪﻫﺎ، ﺗﺤﻔﻆ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻓﻲ ﺫﺍﺗﻪ ﻭﻣﺎﻟﻪ، ﻣﻊ ﻗﻴﺎﻣﻬﺎ ﺑﺤﻖ ﺭﺑﻬﺎ. ﺍﻟﻤﺒﺎﻟﻐﺔ ﺗﻨﻄﻊ ﻭﺗﺠﺎﻭﺯ ﻟﻠﺤﺪ، ﻣﺎﺫﺍ ﺗﺮﻳﺪﻭﻥ ﻣﻦ ﺑﻨﺎﺕ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﺃﻥ ﻳﻜﻦ؟!
“একজন নেককার সালাফী রমনীর জন্য বিভিন্ন দল ও জামা‘আত সম্পর্কে জানা শর্ত নয়। তার জন্য ‘উলামায়ে সালাফের বক্তব্য ও কথা বারবার আওড়ানো শর্ত নয়। তার জন্য অমুক ও অমুকের জারাহ সম্পর্কে জানা জরুরি নয়। তার জন্য সালাফী শাইখদের সম্পর্কে জানা শর্ত নয়। তার জন্য বিশ্বের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা শর্ত নয়। তার জন্য প্রত্যেক মাসে আইয়্যামে বীদ্বের তিনদিন এবং প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা থাকা শর্ত নয়। তার জন্য প্রত্যহ তাহাজ্জুদ পড়াও জরুরি নয়।
বরং তার জন্য কেবল এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হেফাজত করবে, রমজান মাসের রোজা করবে, নিজেকে ও নিজের স্বামীকে হেফাজত করবে এবং নিজের গৃহ ও সন্তানের পরিচর্যা করবে। তার বাড়িই তার রাজ্য। তার স্বামীই তার অভিভাবক, আর তার সন্তানসন্ততি তার পালিত ঝাঁক। রাসূল ﷺ কেবল এতটুকু বলেছেন যে, রমনী তার সন্তানের প্রতি মমতাময়ী হবে, স্বামীকে এবং স্বামীর সম্পদকে হেফাজত করবে, আর সাথে সাথে তার রবের হক আদায় করবে।
এসবের চেয়ে বেশি করতে যাওয়া হলো সীমালঙ্ঘন ও অতিরঞ্জন। সুতরাং তোমরা মুসলিম কন্যাদের থেকে তাদের কী হওয়ার আশা করছ?!”
·
তথ্যসূত্র:
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কুরবানির গোশত দেওয়ার বিধান


·
বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ও মুহাদ্দিস, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন—
وأما إعطاء الجزار أجرته منها فلا يجوز. وأما إعطاؤه هدية منها فلا بأس به.
“কুরবানির পশুর কোনো অংশ কসাইকে তার পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া না-জায়েজ। তবে তাকে তা থেকে উপঢৌকন হিসেবে কিছু দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ১১০; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·
বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] কে প্রশ্ন করা হয়েছে—
ماذا على الذي جعل شيئا من أضحيته أجرا للجزار؟
فأجاب بقوله: يتوب إلى الله.
السائل: وإذا كان يعلم ذلك؟ فهل عليه أضحية جديدة؟
الشيخ: لا، ما عليه أضحية جديدة.
“যে ব্যক্তি তার কুরবানির পশুর কিয়দংশ দিয়ে কসাইয়ের পারিশ্রমিক দিয়েছে, তার ওপর কী বিধান বর্তাবে?”
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) জবাবে বলেছেন, “সে আল্লাহ’র কাছে তওবা করবে।”
প্রশ্নকারী: “সে যদি এ ব্যাপারে না জেনে থাকে, তাহলে কি তাকে নতুন কুরবানি দিতে হবে?”
শাইখ: “না, তার ওপর কোনো নতুন কুরবানি নেই।” [ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর; ৫৬৪ নং অডিয়ো ক্লিপ]
·
উৎস: আজুর্রি (ajurry) ডট কম।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ইন্টারনেটে বেগানা মহিলার সাথে মেসেজ আদানপ্রদানের বিধান


·
আলজেরিয়ার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ড. মুহাম্মাদ ‘আলী ফারকূস (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৭৪ হি./১৯৫৪ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يجوز مراسَلةُ الأجنبيات عن طريق الإنترنت للتعرُّف والزواج؟ وجزاكم الله خيرًا.
الجواب: الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على مَن أرسله اللهُ رحمةً للعالمين، وعلى آله وصحبه وإخوانه إلى يوم الدِّين، أمَّا بعد:
فمراسَلةُ المرأةِ الأجنبيةِ وتكليمُها ولو بحُجَّةِ التعرُّف أو دعوى الزواجِ غيرُ جائزةٍ شرعًا، سواءٌ بالوسائل العاديَّة أو عبر الإنترنت؛ لِمَا في ذلك مِن فتحِ باب الفتنة، وتوليدِ دوافعَ غريزيةٍ تبعث في النفس حُبَّ الْتِمَاسِ سُبُلِ اللقاءِ والاتِّصال، وما يترتَّب على ذلك مِن محاذيرَ لا يُصان فيها العِرْضُ ولا يُحفظ بها الدِّين، لقوله صلَّى الله عليه وسلَّم: «مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ»، وقولِه صلَّى الله عليه وسلَّم: «فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ؛ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ»؛ ذلك لأنه مهما احترز مِن الشيطان وعداوتِه له في موضعِ المفسدة فإنه يُوقِعه في المحظور بإغرائه بها وإغرائها به، قال تعالى: ﴿إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمۡ عَدُوّٞ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ إِنَّمَا يَدۡعُواْ حِزۡبَهُۥ لِيَكُونُواْ مِنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ ٦﴾ [فاطر]، وقال تعالى: ﴿أَفَتَتَّخِذُونَهُۥ وَذُرِّيَّتَهُۥٓ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِي وَهُمۡ لَكُمۡ عَدُوُّۢۚ بِئۡسَ لِلظَّٰلِمِينَ بَدَلٗا ٥٠﴾ [الكهف].
هذا، والأصلُ وجوبُ إبعادِ مفسدةِ الفتنة والإثارة، ودرؤُها مقدَّمٌ على مصلحةِ التعرُّف والزواج؛ عملًا بقاعدة: «دَرْءُ المَفَاسِدِ أَوْلَى مِنْ جَلْبِ المَصَالِحِ».
والعلمُ عند الله تعالى، وآخِرُ دعوانا أنِ الحمدُ لله ربِّ العالمين، وصلَّى الله على محمَّدٍ وعلى آله وصحبه وإخوانه إلى يوم الدِّين، وسلَّم تسليمًا.
প্রশ্ন: “পরিচিত হওয়ার জন্য এবং বিয়ে করার জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে বেগানা মেয়েদের সাথে মেসেজ আদানপ্রদান করা কি জায়েজ? জাযাকুমুল্লাহু খাইরা।”
উত্তর: “যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ, এবং দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার পরিজন, সঙ্গিবর্গ ও কেয়ামত অবধি আসতে থাকা তাঁর ভ্রাতৃমণ্ডলীর ওপর। অতঃপর:
বেগানা মহিলার সাথে মেসেজ আদানপ্রদান করা এবং কথা বলা—যদিও তা পরিচিত হওয়ার অজুহাতে কিংবা বিয়ে করার জন্য করা হয়ে থাকে—শার‘ঈভাবে না-জায়েজ। তাদের মধ্যকার যোগাযোগ প্রচলিত মাধ্যমযোগে হয়ে থাকুক কিংবা ইন্টারনেটযোগে হয়ে থাকুক, উভয় ক্ষেত্রে বিধান একই। কেননা এর মাধ্যমে ফিতনার দ্বার উন্মুক্ত হয়, এবং স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রবণতার উদ্রেক হয়, যা ব্যক্তিকে সরাসরি যোগাযোগ ও সাক্ষাতের পথ অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। মেসেজ আদানপ্রদানের ফলে এমন কিছু আশঙ্কাজনক বিষয় অপরিহার্যভাবে এসে পড়ে যে, সেসবের মাঝে ইজ্জতও রক্ষা করা যায় না, আর তা দিয়ে (ব্যক্তির) ধার্মিকতার হেফাজতও হয় না।
রাসূল ﷺ বলেছেন, “পুরুষ জাতির জন্য নারীদের অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা আমি রেখে গেলাম না।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫০৯৬; সাহীহ মুসলিম, হা/২৭৪০; তিরমিযী, হা/২৭৮০; ইবনু মাজাহ, হা/৩৯৯৮; আহমাদ, হা/২১৭৪৬]
তিনি ﷺ আরও বলেছেন, “সুতরাং তোমরা দুনিয়ার মোহ থেকে বেঁচে থাক এবং নারীদের ব্যাপারে সাবধান থাক। কেননা বানী ইসরাঈল জাতির মধ্যে সর্বপ্রথম নারীদের মাঝেই ফিতনা সংঘটিত হয়েছিল।” [সাহীহ মুসলিম, হা/২৭৪২; তিরমিযী, হা/২১৯১; ইবনু হিব্বান, হা/৩২২১; আহমাদ, হা/১১১৪৩; বাইহাক্বী, হা/৬৭৪৬]
তাই সে ফিতনাময় অবস্থার মধ্যে যতই শয়তান থেকে এবং তার প্রতি শয়তানের বিদ্বেষমূলক কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুক না কেন, শয়তান তাকে পরস্পরের প্রতি প্ররোচিত করার মাধ্যমে—তথা ছেলেকে মেয়ের প্রতি এবং মেয়েকে ছেলের প্রতি প্রলুব্ধ করার মাধ্যমে—নিষিদ্ধ কর্মে নিপাতিত করবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করো। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে, যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।” [সূরাহ ফাতির: ৬]
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, “তোমরা কি শয়তানকে ও তার বংশধরকে আমার পরিবর্তে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালেমদের জন্য কতই না মন্দ বিনিময়!” [সূরাহ কাহফ: ৫০]
মূলকথা হলো—ফিতনা ও গোলযোগের অনিষ্টকে দূরীভূত করা আবশ্যক। তাই পরিচিত হওয়া ও বিবাহ করার কল্যাণের ওপর ফিতনার রাস্তা রূদ্ধ করাকে প্রাধান্য দিতে হবে। আর তা এই (শার‘ঈ) মূলনীতি অনুযায়ী করা হবে যে, “কল্যাণ আনয়নের চেয়ে অকল্যাণ প্রতিরোধ করা অধিক জরুরি।”
বস্তুত প্রকৃত ‘ইলম আল্লাহ’র নিকট রয়েছে। সর্বোপরি যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন, সাহাবীবর্গ ও কেয়ামত অবধি আসতে থাকা তাঁর ভ্রাতৃবর্গের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
·
তথ্যসূত্র:
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ফিতনার সময় কেবল কিবার ‘উলামাদের কথা গৃহীত হবে, অন্যদের কথা নয়


·
মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
“বর্তমানে উম্মতের মধ্যে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে কিবার (বড়ো) ‘উলামাদের দিকে ফিরে যেতে হবে। এসব ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম কিংবা শারী‘আহ ফ্যাকাল্টির স্টুডেন্টদের (ত্বালিবুল ‘ইলম) দিকে ফিরে যাওয়া যাবে না। বরং ফিরে যেতে হবে কেবল উম্মতের কিবার ‘উলামাদের দিকে। আর এসব ক্ষেত্রে কোনক্রমেই ইন্টারনেটের বাদুড়গুলোর কাছে যাওয়া যাবে না। ‘উলামা ব্যতীত উম্মতের দুর্যোগ-সংক্রান্ত আলোচনায় প্রবেশ করা কোনো ত্বালিবে ‘ইলমের জন্য বৈধ নয়। সেটা যে কোনো মাসআলাহ হোক না কেন (সে ব্যাপারে ত্বালিবে ‘ইলমের মত ব্যক্ত করা বৈধ নয়)। তাহলে কীভাবে সেই মাসআলাহ’য় প্রবেশ করা বিধিসম্মত হতে পারে, যেটা রক্তপাতের সাথে সম্পৃক্ত, বা দেশের স্থিতিশীলতার সাথে সম্পৃক্ত, কিংবা দেশ থেকে ফিতনা প্রতিরোধ করার সাথে সম্পৃক্ত?
এসব ক্ষেত্রে আবশ্যকীয়ভাবে স্রেফ উম্মতের সামসময়িক ইমাম ও কিবার ‘উলামাগণ পর্যবেক্ষণ করবেন। সুতরাং এসব আলোচনায় প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার নিমিত্তে ত্বালিবে ‘ইলমদের জন্য আবশ্যক হলো—তাদের জবানকে সংযত করা। তবে এ ক্ষেত্রে কথা বলবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বর্ণনা দিবেন ‘উলামাগণ।
আমরা দেখেছি, কিছু লোক বলে, “উত্তপ্ত ময়দানে গমন করা—যেটাকে বর্তমানে তারা জিহাদ বলছে, যদিও সকলের জন্য তা প্রকৃতার্থে জিহাদ নয়—এমন একটি মাসআলাহ, যে ব্যাপারে ‘উলামাগণ মতানৈক্য করেছেন, এবং আমি ‘উলামাদের একটি মত অনুসরণ করছি।” ভালো কথা; তা সেই ‘উলামা কারা, যাঁরা মতানৈক্য করেছেন? সে বলে, “আল্লাহ’র কসম, আমি শাইখ সালিহ আল-ফাওযানকে বলতে শুনেছি, ‘এগুলো ফিতনা, এসব কাজে গমন করা না-জায়েজ।’ এটি একটি মত। আর আমি অমুক মসজিদের ইমামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, ‘এটি মুসলিমদের জন্য সাহায্য, তাই এ থেকে পিছিয়ে থাকা এবং উম্মতকে লাঞ্ছিত করা জায়েজ নয়।’ এটিও একটি মত। আমি মসজিদের ইমামের মতকে প্রাধান্য (তারজীহ) দিয়েছি।” এটা হলো মহা মূর্খতা!
মতামত হবে শুধু ‘উলামাদের; ত্বালিবে ‘ইলম, কুরআনের হাফেজ কিংবা বিভিন্ন (‘ইলমী) ফ্যাকাল্টির স্টুডেন্টদের নয়। তাই ‘আলিমের ওপর আবশ্যক হলো—আল্লাহকে ভয় করা, উম্মতের দুর্যোগে ইজতিহাদ করা এবং দলিলসাপেক্ষে ফাতওয়া ইস্যু করা। কিন্তু যিনি দলিলভিত্তিক ফাতওয়া দেওয়ার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ নন, তাঁর কথা গ্রহণযোগ্য হবে না। উদাহরণস্বরূপ যে হুকুম (বা ফাতওয়া) কোনো নির্দিষ্ট দল থেকে প্রকাশিত হয়, এবং যেই হুকুম দিতে গিয়ে দলিলের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি—যদিও তারা বলে, তিনি (ফাতওয়াদাতা) হলেন বর্তমান যুগে মুসলিমদের শ্রেষ্ঠ মুফতি—যেমন মারাদ্বাউয়ী (যুগের শীর্ষস্থানীয় পথভ্রষ্ট দা‘ঈ ইউসুফ আল-ক্বারদ্বাউয়ীকে ব্যঙ্গ করে ‘মারাদ্বাউয়ী’ বলা হয় – অনুবাদক); এ ধরনের লোকের কথা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা তার নিকট থেকে দলিলভিত্তিক হুকুম প্রকাশিত হয়নি।
এমনকি তারা বলে, “যারা (তাদের) জামা‘আতের দিকে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করেছে, তাদের প্রত্যেকের ওপর জামা‘আতের নেতার সাথে সেভাবে অবস্থান করা আবশ্যক, যেভাবে মাইয়্যিতের (মৃতদেহ) সাথে গোসলদানকারী অবস্থান করে! জামা‘আত যা বলে, সেটাই সুস্পষ্ট হক!” তো এ জাতীয় ব্যক্তিদের কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। বরং নজর দিতে হবে ‘উলামাদের কথার দিকে, যাঁরা দলিলভিত্তিক কথা বলা এবং কঠিন ‘ইলমী গবেষণা করার ব্যাপারে সুপ্রসিদ্ধ। সুতরাং যাবতীয় দলীয় ইজতিহাদ বাতিল।”
‘আল্লামাহ সুলাইমান আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ)’র বক্তব্য এখানে সমাপ্ত হয়েছে।
·
উৎস: বক্তব্যের ভিডিয়ো ক্লিপটি ‘দীনুকা নাজাতুক’ নামক ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেওয়া হয়েছে।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

আরাফার দিন রোজা রাখুন


·
যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] বলেছেন—
“আরাফার দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয় আমল)। যেহেতু নাবী ﷺ বলেছেন, صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَه “আর আরাফাহ দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহ’র কাছে আশা রাখি যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারাহ (প্রায়শ্চিত) হয়ে যাবে।” (সাহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; রোজা অধ্যায়; পরিচ্ছেদ- ৩৬)
কিন্তু আরাফা রোজা তাদের জন্য মুস্তাহাব, যারা হাজি নয়। পক্ষান্তরে আরাফার মাঠে অবস্থানকারী হাজির জন্য এই দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়। বরং সে নাবী ﷺ এর অনুসরণ করে এই দিন রোজা রাখা থেকে বিরত থাকবে। যেহেতু রাসূল ﷺ রোজা না রেখে আরাফার মাঠে অবস্থান করেছেন।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ), শারহু যাদিল মুস্তাক্বনি‘; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৩৯৮; দারুল ‘আসিমাহ, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৪ হি./২০০৪ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

কুরবানির গোশত তিনভাগে বণ্টন করা কি ওয়াজিব?


·
মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আচার্য, বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ আল-বাদর (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৩ হি./১৯৩৪ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: من قال بتقسيم الذبيحة إلى ثلاثة أقسام ما هو دليله، وهل هذا واجب؟
الجواب: لا، ليس بواجب. والذي ينبغي أن الإنسان يأكل ويتصدق ويهدي لمن ليسوا من أهل الصدقة؛ كالأغنياء.
প্রশ্ন: “যে ব্যক্তি কুরবানির গোশত তিনভাগে বণ্টন করতে বলে, তার দলিল কী? আর এটি কি ওয়াজিব?”
উত্তর: “না, এটি ওয়াজিব নয়। তবে কুরবানিদাতার উচিত কুরবানির গোশত নিজে খাওয়া, দান করা এবং যারা দানগ্রহণের হকদার নয়—তাদেরকে হাদিয়া দেওয়া; যেমন: ধনী ব্যক্তিবর্গ।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ‘আব্বাদের “দারসে তিরমিযী”, ১৭২ নং অডিয়ো ক্লিপ; গৃহীত: ফাতাওয়া আহকামিল উদ্বহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৫০; দারুল ইখলাসি ওয়াস সাওয়াব, আলজিয়ার্স কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৪ হি./২০১৩ খ্রি. (২য় প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

গরুর এক সপ্তমাংশ দিয়ে ‘আক্বীক্বাহ হবে কি?

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يجزئ سبع البقرة في عقيقة البنت قياسًا على الأضحية؟
الجواب: يقول العلماء: إنه لا تشريك في العقيقة التي نسميها (التميمة). وذلك؛ لأن العقيقة فدية عن نفس، فلابد أن تكون نفسًا كاملة.
وبناءً على ذلك لا يجزئ الإنسان أن يذبح بدنة عن سبع عقائق، بل إن العلماء -رحمهم الله- قالوا: إن ذبح الشاة أفضل من ذبح البعير، يعني لو أردت أن تعق بشاة أو ببعير، قلنا لك: الأفضل
أن تعق بالشاة، لأنها هي التي وردت بها السنة.
প্রশ্ন: “কুরবানির ওপর ক্বিয়াস করে নবজাতক কন্যা শিশুর ‘আক্বীক্বাহ হিসেবে গাভীর এক সপ্তমাংশ যথেষ্ট হবে কি?”
উত্তর: “আলিমগণ বলে থাকেন, ‘আক্বীক্বাহর মধ্যে—যাকে আমরা ‘তামীমাহ’ বলে থাকি—ভাগাভাগি চলবে না। কেননা ‘আক্বীক্বাহ হলো একটি প্রাণের তরফ থেকে প্রদত্ত ফিদ্‌ইয়াহ (বিনিময়)। সুতরাং এ কাজের জন্য অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণী লাগবে। এর ওপর ভিত্তি করে বলতে হয়, একটি উটনী সাতটি ‘আক্বীক্বাহর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। এমনকি ‘আলিমগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন, “উট জবাই করার চেয়ে একটি বকরি (ছাগী) জবাই করা উত্তম।” অর্থাৎ, তুমি যদি একটি বকরি কিংবা একটি উট দিয়ে ‘আক্বীক্বাহ করতে চাও, তাহলে আমরা তোমাকে বলব, বকরি দিয়ে ‘আক্বীক্বাহ করাই তোমার জন্য উত্তম হবে। কেননা বকরি দিয়ে ‘আক্বীক্বাহ করার কথাই সুন্নাহ’য় বর্ণিত হয়েছে।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল; খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ২৮৮; দারুস সুরাইয়্যা, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

কুরবানির সকল গোশত খেয়ে ফেলার বিধান


·
মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আচার্য, বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ আল-বাদর (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৩ হি./১৯৩৪ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: ما حكم أكل الأضحية كلها؟
الجواب: يأكل ويتصدق ويهدي، لا ينبغي أن يأكلها كلها، يعطى للفقراء منها، إما أن يوزع عليهم وإما أن يدعو جماعة منهم يأكلون ويشاركون في الأكل، أما من أكلها كلها لا يعيد.
প্রশ্ন: “কুরবানির সকল গোশত খেয়ে ফেলার বিধান কী?”
উত্তর: “কুরবানির গোশত খাবে, দান করবে এবং হাদিয়া দিবে। সকল গোশত খেয়ে ফেলা সমীচীন নয়। কুরবানির গোশত থেকে অভাবী লোকদের দান করবে। তাদের মধ্যে গোশত বণ্টন করবে, অথবা তাদের একদল লোককে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবে। আর যে ব্যক্তি সকল গোশত খেয়ে ফেলেছে, সে পুনরায় এই কাজ করবে না।”
·
তথ্যসূত্র:
ইমাম ‘আব্বাদের “দারসে তিরমিযী”, ১৭২ নং অডিয়ো ক্লিপ; গৃহীত: ফাতাওয়া আহকামিল উদ্বহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৯; দারুল ইখলাসি ওয়াস সাওয়াব, আলজিয়ার্স কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৪ হি./২০১৩ খ্রি. (২য় প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ইদের নামাজের আগে কুরবানির পশু জবেহ করা কি জায়েজ?


·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يجوز ذبح الأضحية عند صلاة فجر العيد ؟
الإجابة: لا يجوز ذبح الأضحية عند صلاة فجر العيد، ووقت الذبح يوم العيد بعد الصلاة، وقدرها في حق من لا صلاة عنده كالبادية؛ لما روى جندب بن عبد الله رضي الله عنه، أن النبيصلى الله عليه وسلم قال: «من ذبح قبل أن يصلي فليذبح مكانها أخرى»، وقوله صلى الله عليه وسلم: «من صلى صلاتنا ونسك نسكنا فقد أصاب النسك، ومن ذبح قبل أن يصلي فليعد مكانها أخرى». متفق عليه. وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
প্রশ্ন: “ইদের দিন ফজর নামাজের সময় কুরবানির পশু জবেহ করা কি জায়েজ?”
উত্তর: “ইদের দিন ফজর নামাজের সময় কুরবানির পশু জবেহ করা জায়েজ নয়। জবেহ করার সময় হলো ইদের দিন ইদের নামাজের পর। আর যার ইদের নামাজ নেই—যেমন নির্জন প্রান্তরে অবস্থানকারী ব্যক্তি—তার জন্য জবেহের সময় হলো অন্যান্যদের ইদের নামাজ সমপরিমাণ সময়ের পর। জুনদুব বিন ‘আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করেছে, সে যেন এর স্থলে আবার জবেহ করে।” (সাহীহ বুখারী, হা/৫৫৬২) তিনি ﷺ আরও বলেছেন, “যে আমাদের মতো নামাজ পড়বে এবং আমাদের কুরবানির মতো কুরবানি করবে, তার কুরবানি যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে নামাজের পূর্বে জবেহ করেছে, সে যেন তদস্থলে আবার জবেহ করে।” (সাহীহ বুখারী, হা/৯৫৪ ও ৯৫৮; সাহীহ মুসলিম, হা/১৯৬২ ও ৪৯৬৬)
আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
·
তথ্যসূত্র:
ফাতাওয়া লাজনাহ দা’ইমাহ, ফাতওয়া নং: ২১৫৭; গৃহীত: ফাতাওয়া আহকামিল উদ্বহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪; দারুল ইখলাসি ওয়াস সাওয়াব, আলজিয়ার্স কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৪ হি./২০১৩ খ্রি. (২য় প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যে বিয়ে করছে না, তার প্রতি ইমাম ফাওযানের নসিহত


·
সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
উপস্থাপক: “প্রশ্নকারী বলছেন, শাইখ, আমি আমার এক বন্ধুর জন্য নসিহত কামনা করছি। তার অনেক বয়স হয়েছে, আমরা তাকে বিয়ে করার নসিহত করি। কিন্তু সে বলে, ‘এখন জীবিকার মূল্য অনেক চড়া’, ‘আগের মতো অবস্থা এখন নেই’ ইত্যাদি। তো প্রশ্নকারী আপনার কাছে নসিহত চাইছেন।”
শাইখ: “নিঃসন্দেহে (শরিয়তে) জলদি বিবাহ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে অশ্লীলতায় নিপাতিত হওয়ার আশঙ্কা করে, তার জন্য সামর্থ্য-সহ বিয়ে করা ওয়াজিব। রাসূল ﷺ বলেছেন, “হে যুব-সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ চক্ষুকে অবনমিত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে ব্যক্তি ওই সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা তা তার জন্য ঢালস্বরূপ (অর্থাৎ, কামভাব প্রশমনকারী)।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫০৬৬; সাহীহ মুসলিম, হা/১৪০০]
আর মহান আল্লাহ বলেছেন, “যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করেন।” [সূরাহ নূর: ৩৩] সুতরাং সে যেন জলদি বিবাহ করে।”
·
উৎস:
ফাতওয়ার ভিডিয়ো ক্লিপটি ইউটিউব (محبي الرسول ﷺ) থেকে সংগৃহীত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ইখওয়ানী দা‘ঈ—ত্বারীফী, ‘আরীফী ও দিদূ থেকে সাবধান

মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
ليست العبرة بالتلميع، بل أنا أقول: القاعدة، إذا وجدت الرجل يلمَّع من الحزبيين، ويبرز على أنه الحافظ والمحدث والفقيه والإمام، فاعلم أنه منحرف، مثل الددو ومثل الطريفي ومثل العريفي. هؤلاء منحرفون على منهج الإخوان، عندهم إنحرافات عقدية وشرعية. لكن هؤلاء يلمَّعون—المحدث الكبير، يحفظ الكتب الستة. فإذا وجدت التلميع من الحزبيين ومن وسائل الإعلام اليوم، فاعلم أن وراء الأكمة ما وراء.
“কাউকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করার কোনো মূল্য নেই। আমি একটি মূলনীতি বলে দিচ্ছি। যখন তুমি দেখবে, কোনো লোককে দলবাজ হিযবীদের পক্ষ থেকে খুব চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এবং বলা হচ্ছে, ইনি একজন হাফিয, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ, কিংবা ইমাম; তখন তুমি জানবে যে, ওই লোক একজন পথভ্রষ্ট বিপথগামী। যেমন: মুহাম্মাদ হাসান ওয়ালিদ আদ-দিদূ, ‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফী, মুহাম্মাদ আল-‘আরীফী প্রমুখ। এরা মুসলিম ব্রাদারহুডের মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ভ্রষ্ট বিপথগামী। এদের রয়েছে ‘আক্বীদাহ ও শরিয়তগত বিভ্রান্তি। কিন্তু এদেরকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করে বলা হয়—‘ইনি অনেক বড়ো মুহাদ্দিস, ইনার সম্পূর্ণ কুতুবে সিত্তাহ মুখস্থ!’ অতএব তুমি যখন হিযবীদের পক্ষ থেকে অথবা বিভিন্ন মিডিয়ার পক্ষ থেকে এরকম চমকপ্রদ উপস্থাপনা লক্ষ করবে, তখন জানবে যে, এর নেপথ্যে কিছু একটা লুকায়িত আছে।”
·
তথ্যসূত্র:
‘আল্লামাহ সুলাইমান আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রণীত “শাখসিয়্যাতুন শাওয়্যাহাতিল ইসলাম: সাইয়্যিদ কুতুব” শীর্ষক লেকচার; লেকচার লিংক: https://youtu.be/sGQ1egZuCc4 (ভিডিয়ো ক্লিপ); অনূদিত অংশের সময়: ৩৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে ৩৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড পর্যন্ত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

পথভ্রষ্ট দা‘ঈ—‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফীর বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত

সৌদি আরবের দা‘ওয়াহ সেন্টারে কর্মরত দা‘ঈ জনাব আহমাদুল্লাহ কর্তৃক ভ্রষ্ট দা‘ঈ ত্বারীফীর প্রশংসা—
পোস্ট লিংক: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2075805915810344&id=100001428672384।
(There are so many valid reasons. This is one the reasons we don’t promote Sheikh Ahmadullah bin Dilawar hafizahullah.)- Tahmid
{ ▌পথভ্রষ্ট দা‘ঈ—‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফীর বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত
·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। যিনি বলেছেন, “হক এসেছে, আর বাতিল অপসৃত হয়েছে; বাতিল তো অপসৃত হওয়ারই ছিল।” [সূরাহ বানী ইসরাঈল: ৮১]
শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। যিনি বলেছেন, “তুমি হক (সত্য) বল, যদিও তা তিক্ত হয়।” [সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৩৩; সনদ: সাহীহ লি গাইরিহী] অন্যত্র বলেছেন, “তুমি হক বল, যদিও তা তোমার নিজের বিরুদ্ধে যায়।” [সিলসিলাহ সাহীহাহ, হা/১৯১১; সাহীহুল জামি‘, হা/৩৭৬৯; সনদ: সাহীহ]
·
পর সমাচার এই যে, বর্তমানে সালাফী কমিউনিটিতে একটি ফিতনার সয়লাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশে সালাফীদের একটি বড়ো অংশকে দেখা যাচ্ছে, তারা খারিজী ও ইখওয়ানী দা‘ঈদের বইপুস্তক পড়ছে, তাদেরকে ‘শাইখ’ আখ্যা দিচ্ছে এবং যাচ্ছেতাইভাবে প্রোমোট করছে। এমনকি দু পয়সা লাভের আশায় কিংবা সালাফী লাইব্রেরিয়ানদের মানহাজগত বিভ্রান্তি থাকার কারণে সালাফী লাইব্রেরিগুলোতেও ইখওয়ানী-খারিজীদের বইপুস্তক দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। আল্লাহুল মুস্তা‘আন।
আমি প্রায়শই বলি, ‘ইলম নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘যা পাই তাই খাই’—নীতি অবলম্বন করা যাবে না। মানহাজ ঠিক রাখতে হলে এই ভুয়া নীতিকে কবর দিতে হবে। আমি ভাইদেরকে এসব বিষয়ে বরাবরই সতর্ক করে থাকি। আজকেও সতর্ক করার জন্যই লিখছি। সম্প্রতি যেসব ইখওয়ানী-খারিজী দা‘ঈর বইপুস্তক বাংলায় অনূদিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে ‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফী অন্যতম। বঙ্গীয় খারিজীরা তার বইয়ের জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। আর কিছু সালাফীকেও ত্বারীফীর বইপুস্তক পড়তে এবং তাকে প্রোমোট করতে দেখা যাচ্ছে।

Tuesday, 16 July 2019

খারেজীদের গুরু আহমাদ মূসা জিবরীল এর ব্যাপারে সতর্কতা


Image may contain: 1 person, text

তাকফীরী যুবকদের একটি সাধারন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; তারা বয়ঃজ্যৈষ্ঠ সালাফী আলিমদের গালমন্দ করে অথচ আহমাদ মুসা জিবরীল ও আনোয়ার আল আউলাকির মতো মানুষকে 'ইমাম' হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। এরা আসলেই মিসকিন বৈ কিছুই না।
.
তাকফীরী ধূর্তরা আহমাদ মূসা জিবরীলের ডিফেন্সে নানারূপে চল-চাতুরী করে। যেমন : এরা যুগ শ্রেষ্ঠ আলিমেদ্বীন ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ-র তাজকিয়্যাহ পেশ করে ( জানিনা এটা সত্য নাকি ভুয়া) যদি সত্যও হয়ে থাকে তাহলেও তা বাতিল হয়ে যাবে ঠিক যেমনটি বাতিল হয়ে গেছে সাইয়্যদ ক্বুতুব এবং জামা’য়াত আত তাবলীগের ব্যাপারে করা তাঁর প্রশংসা। কেননা ঐ সমস্ত লোকের ব্যাপারে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। চ্যালেঞ্জ রইল, পারলে দেখাও - ইমাম ইবনু বায এর জীবিত ছাত্রদের মধ্যে কে তাকে তাজকিয়্যাহ দিয়েছে ?
ইমাম ফাউজান ? লুহাইদান ? রাবী?
.
সালাফীদের মূলনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; অপরিচিত (মাজহুল) কারো নিকট হতে জ্ঞান আহরণ করা হয়না। আমাদের কাছে উলামাদের পক্ষ হতে তাযকিয়্যাহ নিয়ে এসো। যাও _
.
আহমাদ মুূসা জিবরীলের অনুসারীদের দাবী হচ্ছে, ইমাম ইবনু বায [ রাহিমাহুল্লাহ ] নাকি সাধারনভাবে তাকে তাজকিয়্যাহ দিয়েছেন।
আমরা জিবরীলের অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ মারা ১৯৯৯ সালে। ঠিক তখনও অর্থাৎ ২০০০ – ২০০১ সাল পর্যন্ত আহমেদ মুসা জিবরীল খোলাখুলিভাবে তার খারেজিপনা প্রচার শুরু করেনি ঠিক যেমনিভাবে আব্দুর রহমান আব্দুল খালেক তার দুষ্ট নবউদ্ভাবিত ধারণা ততক্ষণ পর্যন্ত শুরু করেনি, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইমাম আল আলবানী এবং ইমাম মুক্ববীল [ রাহিমাহুমুল্লাহ ] জীবিত ছিলেন।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...