Friday, 16 August 2019

ইদের নামাজের আগে কুরবানির পশু জবেহ করা কি জায়েজ?


·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل يجوز ذبح الأضحية عند صلاة فجر العيد ؟
الإجابة: لا يجوز ذبح الأضحية عند صلاة فجر العيد، ووقت الذبح يوم العيد بعد الصلاة، وقدرها في حق من لا صلاة عنده كالبادية؛ لما روى جندب بن عبد الله رضي الله عنه، أن النبيصلى الله عليه وسلم قال: «من ذبح قبل أن يصلي فليذبح مكانها أخرى»، وقوله صلى الله عليه وسلم: «من صلى صلاتنا ونسك نسكنا فقد أصاب النسك، ومن ذبح قبل أن يصلي فليعد مكانها أخرى». متفق عليه. وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
প্রশ্ন: “ইদের দিন ফজর নামাজের সময় কুরবানির পশু জবেহ করা কি জায়েজ?”
উত্তর: “ইদের দিন ফজর নামাজের সময় কুরবানির পশু জবেহ করা জায়েজ নয়। জবেহ করার সময় হলো ইদের দিন ইদের নামাজের পর। আর যার ইদের নামাজ নেই—যেমন নির্জন প্রান্তরে অবস্থানকারী ব্যক্তি—তার জন্য জবেহের সময় হলো অন্যান্যদের ইদের নামাজ সমপরিমাণ সময়ের পর। জুনদুব বিন ‘আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করেছে, সে যেন এর স্থলে আবার জবেহ করে।” (সাহীহ বুখারী, হা/৫৫৬২) তিনি ﷺ আরও বলেছেন, “যে আমাদের মতো নামাজ পড়বে এবং আমাদের কুরবানির মতো কুরবানি করবে, তার কুরবানি যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে নামাজের পূর্বে জবেহ করেছে, সে যেন তদস্থলে আবার জবেহ করে।” (সাহীহ বুখারী, হা/৯৫৪ ও ৯৫৮; সাহীহ মুসলিম, হা/১৯৬২ ও ৪৯৬৬)
আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
·
তথ্যসূত্র:
ফাতাওয়া লাজনাহ দা’ইমাহ, ফাতওয়া নং: ২১৫৭; গৃহীত: ফাতাওয়া আহকামিল উদ্বহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪; দারুল ইখলাসি ওয়াস সাওয়াব, আলজিয়ার্স কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৪ হি./২০১৩ খ্রি. (২য় প্রকাশ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যে বিয়ে করছে না, তার প্রতি ইমাম ফাওযানের নসিহত


·
সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
উপস্থাপক: “প্রশ্নকারী বলছেন, শাইখ, আমি আমার এক বন্ধুর জন্য নসিহত কামনা করছি। তার অনেক বয়স হয়েছে, আমরা তাকে বিয়ে করার নসিহত করি। কিন্তু সে বলে, ‘এখন জীবিকার মূল্য অনেক চড়া’, ‘আগের মতো অবস্থা এখন নেই’ ইত্যাদি। তো প্রশ্নকারী আপনার কাছে নসিহত চাইছেন।”
শাইখ: “নিঃসন্দেহে (শরিয়তে) জলদি বিবাহ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে অশ্লীলতায় নিপাতিত হওয়ার আশঙ্কা করে, তার জন্য সামর্থ্য-সহ বিয়ে করা ওয়াজিব। রাসূল ﷺ বলেছেন, “হে যুব-সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ চক্ষুকে অবনমিত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে ব্যক্তি ওই সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা তা তার জন্য ঢালস্বরূপ (অর্থাৎ, কামভাব প্রশমনকারী)।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫০৬৬; সাহীহ মুসলিম, হা/১৪০০]
আর মহান আল্লাহ বলেছেন, “যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করেন।” [সূরাহ নূর: ৩৩] সুতরাং সে যেন জলদি বিবাহ করে।”
·
উৎস:
ফাতওয়ার ভিডিয়ো ক্লিপটি ইউটিউব (محبي الرسول ﷺ) থেকে সংগৃহীত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

ইখওয়ানী দা‘ঈ—ত্বারীফী, ‘আরীফী ও দিদূ থেকে সাবধান

মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
ليست العبرة بالتلميع، بل أنا أقول: القاعدة، إذا وجدت الرجل يلمَّع من الحزبيين، ويبرز على أنه الحافظ والمحدث والفقيه والإمام، فاعلم أنه منحرف، مثل الددو ومثل الطريفي ومثل العريفي. هؤلاء منحرفون على منهج الإخوان، عندهم إنحرافات عقدية وشرعية. لكن هؤلاء يلمَّعون—المحدث الكبير، يحفظ الكتب الستة. فإذا وجدت التلميع من الحزبيين ومن وسائل الإعلام اليوم، فاعلم أن وراء الأكمة ما وراء.
“কাউকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করার কোনো মূল্য নেই। আমি একটি মূলনীতি বলে দিচ্ছি। যখন তুমি দেখবে, কোনো লোককে দলবাজ হিযবীদের পক্ষ থেকে খুব চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এবং বলা হচ্ছে, ইনি একজন হাফিয, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ, কিংবা ইমাম; তখন তুমি জানবে যে, ওই লোক একজন পথভ্রষ্ট বিপথগামী। যেমন: মুহাম্মাদ হাসান ওয়ালিদ আদ-দিদূ, ‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফী, মুহাম্মাদ আল-‘আরীফী প্রমুখ। এরা মুসলিম ব্রাদারহুডের মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ভ্রষ্ট বিপথগামী। এদের রয়েছে ‘আক্বীদাহ ও শরিয়তগত বিভ্রান্তি। কিন্তু এদেরকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করে বলা হয়—‘ইনি অনেক বড়ো মুহাদ্দিস, ইনার সম্পূর্ণ কুতুবে সিত্তাহ মুখস্থ!’ অতএব তুমি যখন হিযবীদের পক্ষ থেকে অথবা বিভিন্ন মিডিয়ার পক্ষ থেকে এরকম চমকপ্রদ উপস্থাপনা লক্ষ করবে, তখন জানবে যে, এর নেপথ্যে কিছু একটা লুকায়িত আছে।”
·
তথ্যসূত্র:
‘আল্লামাহ সুলাইমান আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রণীত “শাখসিয়্যাতুন শাওয়্যাহাতিল ইসলাম: সাইয়্যিদ কুতুব” শীর্ষক লেকচার; লেকচার লিংক: https://youtu.be/sGQ1egZuCc4 (ভিডিয়ো ক্লিপ); অনূদিত অংশের সময়: ৩৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে ৩৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড পর্যন্ত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

পথভ্রষ্ট দা‘ঈ—‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফীর বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত

সৌদি আরবের দা‘ওয়াহ সেন্টারে কর্মরত দা‘ঈ জনাব আহমাদুল্লাহ কর্তৃক ভ্রষ্ট দা‘ঈ ত্বারীফীর প্রশংসা—
পোস্ট লিংক: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2075805915810344&id=100001428672384
(There are so many valid reasons. This is one the reasons we don’t promote Sheikh Ahmadullah bin Dilawar hafizahullah.)- Tahmid
{ ▌পথভ্রষ্ট দা‘ঈ—‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফীর বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত
·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। যিনি বলেছেন, “হক এসেছে, আর বাতিল অপসৃত হয়েছে; বাতিল তো অপসৃত হওয়ারই ছিল।” [সূরাহ বানী ইসরাঈল: ৮১]
শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। যিনি বলেছেন, “তুমি হক (সত্য) বল, যদিও তা তিক্ত হয়।” [সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৩৩; সনদ: সাহীহ লি গাইরিহী] অন্যত্র বলেছেন, “তুমি হক বল, যদিও তা তোমার নিজের বিরুদ্ধে যায়।” [সিলসিলাহ সাহীহাহ, হা/১৯১১; সাহীহুল জামি‘, হা/৩৭৬৯; সনদ: সাহীহ]
·
পর সমাচার এই যে, বর্তমানে সালাফী কমিউনিটিতে একটি ফিতনার সয়লাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশে সালাফীদের একটি বড়ো অংশকে দেখা যাচ্ছে, তারা খারিজী ও ইখওয়ানী দা‘ঈদের বইপুস্তক পড়ছে, তাদেরকে ‘শাইখ’ আখ্যা দিচ্ছে এবং যাচ্ছেতাইভাবে প্রোমোট করছে। এমনকি দু পয়সা লাভের আশায় কিংবা সালাফী লাইব্রেরিয়ানদের মানহাজগত বিভ্রান্তি থাকার কারণে সালাফী লাইব্রেরিগুলোতেও ইখওয়ানী-খারিজীদের বইপুস্তক দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। আল্লাহুল মুস্তা‘আন।
আমি প্রায়শই বলি, ‘ইলম নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘যা পাই তাই খাই’—নীতি অবলম্বন করা যাবে না। মানহাজ ঠিক রাখতে হলে এই ভুয়া নীতিকে কবর দিতে হবে। আমি ভাইদেরকে এসব বিষয়ে বরাবরই সতর্ক করে থাকি। আজকেও সতর্ক করার জন্যই লিখছি। সম্প্রতি যেসব ইখওয়ানী-খারিজী দা‘ঈর বইপুস্তক বাংলায় অনূদিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে ‘আব্দুল ‘আযীয আত্ব-ত্বারীফী অন্যতম। বঙ্গীয় খারিজীরা তার বইয়ের জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। আর কিছু সালাফীকেও ত্বারীফীর বইপুস্তক পড়তে এবং তাকে প্রোমোট করতে দেখা যাচ্ছে।

Tuesday, 16 July 2019

খারেজীদের গুরু আহমাদ মূসা জিবরীল এর ব্যাপারে সতর্কতা


Image may contain: 1 person, text

তাকফীরী যুবকদের একটি সাধারন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; তারা বয়ঃজ্যৈষ্ঠ সালাফী আলিমদের গালমন্দ করে অথচ আহমাদ মুসা জিবরীল ও আনোয়ার আল আউলাকির মতো মানুষকে 'ইমাম' হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। এরা আসলেই মিসকিন বৈ কিছুই না।
.
তাকফীরী ধূর্তরা আহমাদ মূসা জিবরীলের ডিফেন্সে নানারূপে চল-চাতুরী করে। যেমন : এরা যুগ শ্রেষ্ঠ আলিমেদ্বীন ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ-র তাজকিয়্যাহ পেশ করে ( জানিনা এটা সত্য নাকি ভুয়া) যদি সত্যও হয়ে থাকে তাহলেও তা বাতিল হয়ে যাবে ঠিক যেমনটি বাতিল হয়ে গেছে সাইয়্যদ ক্বুতুব এবং জামা’য়াত আত তাবলীগের ব্যাপারে করা তাঁর প্রশংসা। কেননা ঐ সমস্ত লোকের ব্যাপারে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। চ্যালেঞ্জ রইল, পারলে দেখাও - ইমাম ইবনু বায এর জীবিত ছাত্রদের মধ্যে কে তাকে তাজকিয়্যাহ দিয়েছে ?
ইমাম ফাউজান ? লুহাইদান ? রাবী?
.
সালাফীদের মূলনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; অপরিচিত (মাজহুল) কারো নিকট হতে জ্ঞান আহরণ করা হয়না। আমাদের কাছে উলামাদের পক্ষ হতে তাযকিয়্যাহ নিয়ে এসো। যাও _
.
আহমাদ মুূসা জিবরীলের অনুসারীদের দাবী হচ্ছে, ইমাম ইবনু বায [ রাহিমাহুল্লাহ ] নাকি সাধারনভাবে তাকে তাজকিয়্যাহ দিয়েছেন।
আমরা জিবরীলের অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ মারা ১৯৯৯ সালে। ঠিক তখনও অর্থাৎ ২০০০ – ২০০১ সাল পর্যন্ত আহমেদ মুসা জিবরীল খোলাখুলিভাবে তার খারেজিপনা প্রচার শুরু করেনি ঠিক যেমনিভাবে আব্দুর রহমান আব্দুল খালেক তার দুষ্ট নবউদ্ভাবিত ধারণা ততক্ষণ পর্যন্ত শুরু করেনি, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইমাম আল আলবানী এবং ইমাম মুক্ববীল [ রাহিমাহুমুল্লাহ ] জীবিত ছিলেন।

Thursday, 11 July 2019

দশটি অতীব ফজিলতপূর্ণ হাদিস ।

পরিশ্রম অল্প, পারিশ্রমিক প্রচুর।তাওহীদবাদী মুমিন ভাই-বোনদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ...শায়খ আব্দুল হামিদ ফাইযী আল-মাদানী হাফিযাহুল্লাহ কর্তৃক সংকলিত অতীব ফজিলতপূর্ণ দশটি হাদিস।

সুবহানাল্লাহ!
একেবারেই মিলিয়নায়র! 
উমার বিন খাত্তাব  কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল  বলেন, 
((مَنْ قَالَ حِينَ يَدْخُلُ السُّوقَ : لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، يُحْيِي وَيُمِيتُ ، وَهُوَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ كُلُّهُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، كَتَبَ اللهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ ، وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ ، وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ))।
“যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে (নিম্নের দুআ) বলে আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকী লিপিবদ্ধ করেন, দশ লক্ষ গোনাহ মোচন করে দেন, তাকে দশ লক্ষ মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং বেহেশ্তে তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করে দেন।”
'লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু, য়্যুহয়ী অয়্যুমীতু, অহুয়া হাইয়্যুল লা য়্যামূতু, বিয়্যাদিহিল খাইরু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।'
অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সারা রাজত্ব ও তাঁরই নিমিত্তে সমুদয় প্রশংসা। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু প্রদান করেন। আর তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। তাঁর হাতেই সর্বপ্রকার মঙ্গল এবং তিনি সর্ব বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। 
(তিরমিযী ৩৪২৮, ইবনে মাজাহ ২২৩৫, হাকেম ১৯৭৪নং)



সুবহানাল্লাহ! কয়েক মিনিটে এত সওয়াব?
উম্মে হানী (রায্বিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস।
১০০ বার 'সুবহানাল্লাহ' পাঠ করলে ইসমাঈলের বংশধরের ১০০টি ক্রীতদাস স্বাধীন করার সওয়াব রয়েছে।
১০০ বার 'আল-হামদু লিল্লাহ' পাঠ করলে আল্লাহ পথে জিহাদের জন্য ১০০টি জিনপোশ ও লাগামযুক্ত প্রস্তুত ঘোড়া পাঠানোর সওয়াব রয়েছে।
১০০ বার 'আল্লাহু আকবার' পাঠ করলে (মক্কায়) ১০০টি কবুলযোগ্য গলায় চিহিপ্পত উট কুরবানী পাঠানোর সওয়াব রয়েছে।
১০০ বার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করলে আকাশ-পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান ভরতি সওয়াব রয়েছে। আর তা হবে সেদিনকার সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ আমল। 

(আহমাদ ২৬৯১১, নাসাঈর কুবরা ১০৬৮০, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৬২১, সঃ তারগীব ১৫৫৩, সিঃ সহীহাহ ১৩১৬নং)
সুবহানাল্লাহ! মক্কা না গিয়েও হজ্জ-উমরাহ? তাও আবার ত্রুটিহীন?
আনাস বিন মালেক  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  বলেছেন, 
((مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ ।।।। تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ))।
“যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকর করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।” বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল  বললেন, “পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।” অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব।

 (তিরমিযী ৫৮৬, সহীহ তারগীব ৪৬৪নং)

দিনের একাংশে কিছু কর্মের জন্য, সারা বছরের নামায-রোযার সওয়াব লাভ হবে? আল্লাহু আকবার!
আওস বিন আওস ষাক্বাফী (রায্বিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন, 
مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا
“যে ব্যক্তি জুমআর দিন (মাথা) ধৌত করে ও যথা নিয়মে গোসল করে, সকাল-সকাল ও আগে-আগে (মসজিদে যাওয়ার জন্য) প্রস্তুত হয়, সওয়ার না হয়ে পায়ে হেঁটে (মসজিদে) যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ সহকারে (খোতবা) শ্রবণ করে, এবং কোন অসার ক্রিয়া-কলাপ করে না, সে ব্যক্তির প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বৎসরের নেক আমল ও তার (সারা বছরের) রোযা ও নামাযের সওয়াব লাভ হয়।”

Thursday, 13 June 2019

যারা বোরকা-পরিহিতা মহিলাদের নানা উপমা দিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে হাতি, ভূত, জীবন্ত তাবু’ ইত্যাদি বলে থাকে, তাদের বিকৃত মস্তিষ্কপ্রসূত ইসলাম-বিরোধী কুরুচিকর উপমা উল্লেখ করে তারা নারীর সম্ভ্রম ও পর্দার প্রতি আঘাত হানতে চায়।

গৃহ, ঘরঃ

আরবরা স্ত্রীকে ‘ঘর’ বলে থাকে। যেহেতু সেই সাধারণতঃ ঘরে থাকে। আর পুরুষ রুযী-রুটির সন্ধানে অধিকাংশ সময় বাইরে অবস্থান করে। যদিও অধিকাংশ মহিলাদের ঘর নেই। সে থাকে মায়ের বাড়িতে, নচেৎ শ্বশুর বাড়িতে। স্বামীর ঘর তার নিজস্ব না হলেও মহান আল্লাহর নির্দেশ,
{أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ} (6) سورة الطلاق
এই নির্দেশের ফলেই সে গৃহে থাকার অধিকার পায় এবং গৃহের গৃহিণী হয়ে যায়। আর স্বামীর ঘর তার নিজের ঘর হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের অনেক জায়গায় মহিলাদের ব্যাপারে কিছু বলার সময় ঘরের কথা এলে ঘরকে স্ত্রীর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে স্বামীর ঘরকে তার ঘর বলা হয়েছে।
যেমন মহান আল্লাহ ইউসুফ-যুলাইখার কাহিনীর বর্ণনায় বলেছেন,
{وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِ} (23) سورة يوسف
“সে যে স্ত্রীলোকের গৃহে ছিল সে তার কাছে (উপাচিকা হয়ে) যৌন-মিলন কামনা করল।” (ইউসুফ ও ২৩)
ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)- মিসরের বাদশা আযীযের গৃহে পালিত হচ্ছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ আযীযের গৃহ না বলে (তার) স্ত্রীলোকের গৃহ বলেছেন।
তিনি মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন,
{وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} (33) سورة الأحزاب
“তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান কর এবং (প্রাক-ইসলামী) জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না। তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তার রসূলের অনুগতা হও; হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল তোমাদের মধ্য থেকে অপবিত্রতা দুর করতে চান। এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান।” (আহযাব : ৩৩)
তিনি আরো বলেছেন,
{وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا} (34) سورة الأحزاب
“আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানের কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখ। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সমস্ত গোপন রহস্য জানেন, খবর রাখেন সর্ববিষয়ের। (আহযাব : ৩৪)
তিনি বলেছেন, 'তোমাদের গৃহে' অথচ গৃহ ছিল তাদের স্বামী মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মালিকানাভুক্ত। তবুও গৃহের সম্পর্ক তাদের সাথে জোড়া হল কেন? যেহেতু স্বামীর গৃহ স্ত্রীর গৃহ। এ যেন প্রত্যেক পুরুষের নিকট একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, পুরুষ যদিও কাগজপত্রে গৃহের মালিক, তবুও স্ত্রী হল তার আভ্যন্তরিক মালকিন। সেই তার মালিকাহ’ (রাণী) এবং তা হল তার মামলাকাহ’ (রাজত্ব)।
পুরুষ ঘরে-বাইরে অবস্থান করে, কিন্তু নারী অবস্থান করে কেবল ঘরে। ঘরই তার প্রধান ঠিকানা। সেই ঘরেই তার জীবন-সংসার। সেই ঘরের সেই হিফাযত করে। বাইরের কোন কাজে যুক্ত হলেও ঘর-সংসারই তার মৌলিক কাজ। সেখানেই সে নিরাপদ থাকে, সেখানেই সে শান্তি ও স্বস্তি লাভ করে। সেখানেই সে দৈহিক ও মানসিক নির্বিঘ্নতা অনুভব করে।

Thursday, 30 May 2019

ফিতরা প্রদানরে সময়সীমা ও বণ্টন পদ্ধতি

↗️↗️↗️↗️
আলহামদুালল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ
ঈদের নামাযের পূর্বে ফিতরা প্রদান করা যেমন ইসলামের একটি সুন্দর বিধান, তেমন তা সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে বণ্টন করাও গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিতরা বণ্টনের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে: লোকেরা তাদের ফিতরা মসজিদের ইমাম কিংবা গ্রামের সর্দারের কাছে ঈদের নামাযের পূর্বে আর অনেকে নামাযের পরে জমা করে দেয়। ফিতরা দাতারা ধান, গম, চাল এবং অনেকে টাকা দ্বারা ফিতরা দিয়ে থাকেন। অতঃপর ইমাম কিংবা সর্দার সাহেব কিছু দিন পর সেই জমা কৃত ফিতরা বিক্রয় করে দেন। তার পর তিনি সেই মূল্য অর্থাৎ টাকা-পয়সা বিতরণ শুরু করেন। ফিতরা যারা নিতে আসেন তাদের মধ্যে ফকীর-মিসকিন, মাদরাসার ছাত্র এবং ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলিও থাকে। এরা অনেকে কাছাকাছি অঞ্চলের হয় আর অনেকে দূরেরও হয়। সাধারণত: এই পদ্ধতিতেই বেশির ভাগ স্থানে ফিতরা বণ্টন করা হয়ে থাক। কোথাও একটু ব্যতিক্রম থাকলে সেটা অবশ্য আলাদা কথা।
এই নিয়মকে কেন্দ্র করে সুন্নতের অনুসারী ভাইদের কয়েকটি বিষয় জানা একান্ত প্রয়োজন।
ক- কি কি জিনিস দ্বারা এবং কত পরিমাণ ফিতরা দেওয়া সুন্নত ?
খ- ফিতরা আদায়ের সময়সীমা কি ?
গ-নিজের ফিতরা নিজে বণ্টন করা উত্তম না ইমাম বা সর্দার দ্বারা বিতরণ করা উত্তম?
ঘ- ইমাম বা সর্দার সাহেব ঈদের পরে ফিতরার দ্রব্যাদি বিক্রয় করা পর্যন্ত যে কয়েক দিন দেরী করেন, তা করা কি ঠিক?
ঙ- ফিতরা পাওয়ার যোগ্য কারা কারা ? বা ফিতরার খাত কি ?
————————————————————–

Saturday, 11 May 2019

রোযাকে রোযা বলা যাবে, না সাউম বা সিয়াম বলতে হবে?

শরিয়ার পারিভাষাগুলি দুটি অর্থ বহন করেঃ

যেমন শারঈ শব্দ [সাউম] বহু বচনে সিয়াম। স্বালাত বহু বচনে স্বালাওয়াত। সাউম ও স্বালাত যেহেতু আরবী ভাষার শব্দ তাই আরবী ভাষাতেও তার নিজস্ব একটি অর্থ রয়েছে। সাউমের আরবী আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা আর স্বালাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দুআ। আর এসবের একটি শারঈ অর্থও রয়েছে কারণ এই পরিভাষাগুলি শা‘রে বা বিধানদাতার পক্ষ্য থেকে অবতীর্ণ। এখন জানা দরকার এই সব শারঈ শব্দগুলির কোন্ অর্থটি গ্রহণীয় আভিধানিকটি না শারঈটি?

শারঈ অর্থকে অন্য শব্দে পারিভাষিক অর্থও বলা হয়। আমাদের অবশ্যই জানা দরকার শরিয়ার শব্দগুলির শারঈ অর্থই গ্রহণীয়। তাই সাউমের অর্থ শুধু বিরত থাকা করলে গ্রহনীয় নয় আর না স্বালাতের অর্থ দুআ করলে গ্রহনীয়। যদি হত, তাহলে কেউ যে কিছু থেকে বিরত থাকলেই তাকে সাউম পালনকারী বলা যেত। অনুরূপ কেউ দুআ করলেই তাকে স্বালাত আদায়কারী বলা যেত। কিন্তু এই রকম কোন কিছু থেকে বিরত থাকলেই তাকে সাউম আদায়কারী বলা যায় না। বরং শরীয়ার দৃষ্টিতে যে, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও যৌন সঙ্গম থেকে বিরত থাকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে তাকেই সাউম পালনকারী বলা হয়।

উল্লেখ্য শারই শব্দগুলি যেমন স্বালাত, সাউম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদী যদি অন্য ভাষায় অন্য শব্দে ব্যবহৃত হয় এবং ঐ অর্থেই ব্যবহৃত হয় যেই অর্থে শরিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে, তাহলে তা বলা দুষনীয় নয়; বরং অনেক সময় দেশ ও ভাষার পার্থক্যের কারণে তাদের নিজের ভাষায় বলাই উচিৎ যেন তারা বুঝতে পারে। অর্থাৎ ধরূন কোন সমাজে স্বালাত শব্দটি প্রচলিত নয় বরং এর অর্থ নামায হিসাবে প্রচলিত এবং তারা নামায বললে ঐ অর্থই বুঝে যা সালাতের অর্থ তাহলে তা ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা নেই।

উসূলে ফিকহে একটি মূলনীতি রয়েছে [আল্ ইবরাতু লিল্ মাআনী লা লিল্ আলফায ওয়াল্ মাবানী] অর্থাৎ শব্দ নয় বরং শব্দের উদ্দেশ্যই গৃহীত। তাই কেনা-বেচা ও বিবাহ শাদীর অধ্যায়ে এই মূলণীতির রয়েছে প্রচুর ব্যবহার। তন্মধ্যে উদাহারণ স্বরূপ যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সময় এমন শব্দ বলে যা তালাক নয় বরং ধরুন বললোঃ তুমি তোমার মায়ের বাড়ি চলে যাও। এখন এটি তালাক হবে কি না? শাইখুল ইসলাম সহ প্রায় অধিক উলামা বলেনঃ দেখতে হবে তার এই কথার মাধ্যমে উদ্দেশ্য কি ছিল? যদি সে তালাক উদ্দেশ্য করেছিল তাহলে তালাক ধরা হবে আর যদি সে অেন্য উদ্দেশ্যে বলে থাকে তাহলে তালাক ধরা হবে না।

 তাই বলছিলাম শরিয়ার সাউম বা সিয়াম শব্দের বদলে কোনো দেশে বা সমাজে যদি কেউ তা রোযা বলে তাহলে জানতে হবে যে, সে রোযা বলতে ইসলামের রুকন রোযাকে বুঝাচ্ছে, না অন্য কোনো উপবাসকে? যদি ইসলামের সাউমকে বুঝায় তাহলে তা স্বীকৃত।
=একটু আগে এক মাননীয় আলেমের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ শুনলাম তাতে তিনি বারংবার বলছেন রোযা মানে উপবাস আর সিয়াম মানে বিরত থাকা মানুষ উপবাস থাকতে পারছে কিন্তু সিয়াম রাখতে পারছে না। তাঁর এই বক্তব্যে আসলে জনসাধারণ অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে বা বলতে পারেন তাঁর শব্দের মায়াজালে অনেকে সংশয়ে রয়েছে যে, তাদের নাকি উপবাস রাখা হচ্ছে সিয়াম হচ্ছে না। অনেক অল্প জ্ঞানী যুবক বিষয়টি বড় করে দেখছে এবং প্রচারও করছে। এই কারণে আমি উপরোক্ত বিষয়টি লিখতে বাধ্য হলাম, যার সারাংশ হচ্ছে মানুষ রোযা বলুক আর সাউম-সিয়াম দুটির উদ্দেশ্য যদি একই হয় তাহলে পার্থক্য করার প্রয়োজন নেই আর না এমন ব্যাখার প্রয়োজন যার মাধ্যমে উপকারের থেকে অপকার বেশী বা বিভ্রান্তি বেশী। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুক এবং আমাদের আপনাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করার ও আমল করার তাওফীক দিক। আমীন।

লিখেছেন শায়খ আব্দুর রাক্কিব বুখারি মাদানী হাফিযাহুল্লাহ

Thursday, 14 March 2019

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০৭

এই পর্বে থাকছে ইমাম ‘উসাইমীন, ইমাম মুহাম্মাদ আল-বান্না, ‘আল্লামাহ ‘আব্দুল ‘আযীয রাজিহী এবং ‘আল্লামাহ হাসান আল-বান্না’র ফাতাওয়া।Image may contain: text


ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)
·
শাইখ পরিচিতি:
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বিংশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ ‘আলিমে দ্বীন ছিলেন। তিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ ছিলেন। তিনি ১৩৪৭ হিজরী মোতাবেক ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে সৌদি আরবের ক্বাসিম বিভাগের ‘উনাইযাহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অনেক বড়ো বড়ো ‘আলিমের কাছে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—ইমাম ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সা‘দী, ইমাম মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী, ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন বায প্রমুখ (রাহিমাহুমুল্লাহ)।
তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবোর্ডের এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সদস্য ছিলেন। ‘ইলমের সকল শাখায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। আর সেকারণে তাফসীর, উসূলে তাফসীর, হাদীস, উসূলে হাদীস, ফিক্বহ, উসূলে ফিক্বহ, ক্বাওয়া‘ইদে ফিক্বহ, নাহূ (আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র), বালাগাত (অলংকারশাস্ত্র) ফারাইদ্ব (মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টন সম্বন্ধীয় শাস্ত্র) প্রভৃতি বিষয়ে তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ ও অডিয়ো ক্লিপস রয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন, “আমি একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যবান ‘আক্বীদাহ সংবলিত পুস্তিকা পড়লাম, যা সংকলন করেছেন আমাদের ভাই আল-‘আল্লামাহ সম্মানিত শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন।” [ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), ‘আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ; পৃষ্ঠা: ৩; বাদশাহ ফাহাদ লাইব্রেরি কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২২ হিজরী (৪র্থ প্রকাশ)]
ইয়েমেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.] কে প্রশ্ন করা হয়, “সৌদি আরবের ‘আলিমগণের মধ্যে আপনি কাদের থেকে ‘ইলম গ্রহণের নসিহত করেন? আর খুব ভালো হতো, যদি আপনি আমাদের কাছে কিছু (‘আলিমের) নাম বলেন।” তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) জবাবে বলেন, “আমি যাঁদের কাছ থেকে ‘ইলম গ্রহণের নসিহত করি এবং আমি যাঁদেরকে চিনি, তাঁরা হলেন—শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন বায (হাফিযাহুল্লাহ), শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন ‘উসাইমীন (হাফিযাহুল্লাহ), শাইখ রাবী‘ বিন হাদী (হাফিযাহুল্লাহ), শাইখ ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ (হাফিযাহুল্লাহ)।” [ইমাম মুক্ববিল আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ), তুহফাতুল মুজীব ‘আলা আসইলাতিল হাদ্বিরি ওয়াল গারীব; পৃষ্ঠা: ১৬৭; দারুল আসার, সানা (ইয়েমেন) কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০২ খ্রি. (২য় প্রকাশ)]

Wednesday, 13 March 2019

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০৬


·Image may contain: text
শাইখ পরিচিতি:

ইমাম রাবী‘ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ)
ইমাম রাবী‘ বিন হাদী বিন ‘উমাইর আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) বর্তমান যুগের একজন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। তিনি ১৩৫১ হিজরী মোতাবেক ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে সৌদি আরবের সামিত্বাহ (Samtah) জেলার ‘মাদাখিলাহ’ নামক বিখ্যাত গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অনেক বড়ো বড়ো ‘আলিমের কাছে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—ইমাম মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী, ইমাম ইবনু বায, ইমাম আলবানী, ইমাম হাফিয বিন আহমাদ আল-হাকামী, ইমাম আহমাদ আন-নাজমী, ইমাম মুহাম্মাদ আমান আল-জামী, ইমাম হাম্মাদ আল-আনসারী, ইমাম ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ প্রমুখ (রাহিমাহুমুল্লাহু ওয়া হাফিযাহুল্লাহ)।
তিনি মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস অনুষদে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর লিখনের একটি বড়ো অংশ মাজমূ‘উশ শাইখ রাবী‘ নামে কায়রোর ‘দারুল ইমাম আহমাদ’ থেকে ১৫ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ব্যাপারে ‘আলিমদের প্রশংসা বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের প্রথম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে। তাই আবারও এখানে সেগুলো উল্লেখ করা বাহুল্য মনে করছি। [অত্র নিবন্ধের প্রথম পর্ব পোস্ট করা হচ্ছে না। পর্বাকারে যে পোস্টগুলো করা হচ্ছে তা নিবন্ধের দ্বিতীয় পর্ব। আর ইমাম রাবী‘র প্রশংসাও নেহায়েত কম নয়। তাই আগ্রহী পাঠক মহোদয়, ইমাম রাবী‘র ব্যাপারে ‘আলিমগণের প্রশংসা জানতে আপনি এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। আর্টিকেল লিংক: https://tinyurl.com/yxjt367h।]
এই মহান মুহাদ্দিসের অমূল্য খেদমতকে আল্লাহ কবুল করুন এবং তাঁকে উত্তমরূপে হেফাজত করুন। আমীন। সংগৃহীত: মাজমূ‘উশ শাইখ রাবী‘; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৭-১৪।
·
১ম বক্তব্য:
বর্তমান যুগে জারাহ ওয়াত তা‘দীলের ঝাণ্ডাবাহী মুজাহিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ আল-মুহাদ্দিসুল ফাক্বীহ ইমাম রাবী‘ বিন হাদী বিন ‘উমাইর আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: جماعة الإخوان المسلمين والتبليغ من أيّ أصول البدع الأربع التي افترقت عن جماعة المسلمين؟
الجواب: جماعة التبليغ والإخوان يدخلون في كثير من الفرق؛ يدخلون في التجهم ويدخلون في بعض الاعتزاليات والعقلانيات ويدخلون في فرق الصوفية التي فيها حلول وفيها وحدة الوجود وفيها قبورية، فتراهم يقمشون ويجمّعون من كل النّحل والعياذ بالله، وهم يجمعون ولا يردّون أحدا؛ يأتيهم رافضي، صوفي غال أيّ شكل من الأشكال يقبلونه لأنّها دعوات سياسية وإن أخذت التبليغ طابع الدروشة والمسكنة فإنّها دعوة سياسية، و أمّا الإخوان فيصرحون بأنّ دعوتهم سياسية.
প্রশ্ন: “মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তাবলীগ জামা‘আত– জামা‘আতুল মুসলিমীন থেকে বিচ্ছিন্ন চারটি বিদ‘আতী মূলনীতির কোনটির অন্তর্ভুক্ত?”
উত্তর: “তাবলীগ জামা‘আত এবং ব্রাদারহুড অসংখ্য ফিরক্বাহ’র মধ্যে প্রবেশ করেছে। তারা জাহমিয়্যাহ’র মধ্যে প্রবেশ করেছে, কিছু মু‘তাযিলী ও যুক্তিবাদী মতাদর্শের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সূফীবাদের মধ্যে প্রবেশ করেছে, যে সূফীবাদের মধ্যে হুলূল, ওয়াহদাতুল উজূদ (সর্বেশ্বরবাদ) এবং কবরপূজা রয়েছে। তুমি তাদেরকে দেখবে যে, তারা সকল সম্প্রদায় থেকে লোকদের জমা করছে। আল-‘ইয়াযু বিল্লাহ (আল্লাহ’র কাছে এ থেকে পানাহ চাই)। তারা সবাইকে জমা করে, কাউকে ফিরিয়ে দেয় না। তাদের কাছে রাফিদ্বী শী‘আ আসে, চরমপন্থি সূফী আসে। যে কোনো আকৃতিতেই আসুক না কেন তারা তাকে গ্রহণ করে। কেননা এগুলো রাজনৈতিক দা‘ওয়াত। যদিও তাবলীগ জামা‘আত দরবেশী (সন্ন্যাস) এবং দীনতার বেশ গ্রহণ করেছে। কিন্তু তা একটি রাজনৈতিক দা‘ওয়াত। পক্ষান্তরে ব্রাদারহুড তো স্পষ্টভাবেই বলে যে, তাদের দা‘ওয়াত রাজনৈতিক।” [মাজমূ‘উশ শাইখ রাবী‘, খণ্ড: ১৪; পৃষ্ঠা: ৪৫৫; দারুল ইমাম আহমাদ, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; (সনতারিখ বিহীন)]
·
২য় বক্তব্য:
ইমাম রাবী‘ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রদত্ত আরেকটি ফাতওয়া—
السؤال: هل جميع الجماعات التي في الساحة اليوم داخلة في حديث الثنتين وسبعين فرقة الهالكة وهل جماعة الإخوان المسلمين والتبليغ معهم أيضا؟
الجواب: كل من لم يكن في عقيدته ومنهجه ودعوته على ما عليه رسول الله وأصحابه فهو من الفرق الضالة، والإخوان المسلمون يجمعون فرقا، إذ هم فتحوا أبوابهم على مصارعها للروافض والخوارج والزيدية والمعتزلة بل والنصارى، فهم مجمع للفرق الضالة، ما انتموا لفرقة ضالة بل مجمع للفرق، وكذلك التبليغ قريب منهم فيه بيان أربعة طرق صوفية وفتحوا الأبواب لمن هب ودب فلا شك أنها من الفرق الضالة وقد سئل الشيخ ابن باز فقال: إنها من الفرق الأخرى وليسوا من أهل السنة والجماعة، وأهل السنة والجماعة هم ما كان عليه الرسول وأصحابه، هذا الميزان للإخوان المسلمين ولغيرهم، هل هم في عقائدهم ومنهجهم ودعوتهم وولائهم وبرائهم على ما عليه الرسول وأصحابه وإلا ينتحلون مناهج أخرى؟ فالجواب: لهم مناهج أخرى تختلف تماما عما كان عليه الرسول وأصحابه في عقيدته ومنهجه وولائه وبرائه.
প্রশ্ন: “বর্তমান পৃথিবীর সমস্ত দল কি পথভ্রষ্ট ৭২ দলের অন্তর্ভুক্ত? আর মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তাবলীগ জামা‘আতও কি তাদের সাথে রয়েছে?”
উত্তর: “যে ব্যক্তিই তার ‘আক্বীদাহ, মানহাজ ও দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর সাহাবীগণের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, সেই পথভ্রষ্ট দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম ব্রাদারহুড দলসমূহকে জমা করে। যেহেতু তারা তাদের ধ্বংসের দরজা খুলে রেখেছে রাফিদ্বী, খারিজী, যাইদী, মু‘তাযিলী এমনকি খ্রিষ্টানদের জন্য। তারা পথভ্রষ্ট দলসমূহের মিলনস্থল। তারা একটি ভ্রষ্ট দলে যোগ দেয়নি, বরং অনেকগুলো দলের মিলনস্থলে যোগ দিয়েছে। অনুরূপভাবে তাবলীগও তাদের নিকটবর্তী। তাদের মধ্যে চারটি সূফী তরিকা রয়েছে। তারা প্রত্যেকের জন্য তাদের দরজা খুলে রেখেছে। নিঃসন্দেহে তারা পথভ্রষ্ট দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, নিশ্চয় এটা অন্যান্য দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত রাসূল ﷺ এবং তাঁর সাহাবীগণের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই মীযান (নিক্তি) মুসলিম ব্রাদারহুডের জন্য এবং অন্যান্যদের জন্যও। তারা কি তাদের ‘আক্বীদাহ, মানহাজ ও দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে এবং বৈরিতা ও মিত্রতার ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত, নাকি তারা অন্যান্য মানহাজ গ্রহণ করেছে? এর জবাব হলো: তাদের অন্য মানহাজ রয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে ‘আক্বীদাহ, মানহাজ এবং বৈরিতা ও মিত্রতার ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণের আদর্শের বিরোধী।” [দ্র.: www.rabee.net/ar/questions.php?cat=31&id=299.]

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০৫


·Image may contain: text
শাইখ পরিচিতি:

‘আল্লামাহ সালিহ বিন ‘আব্দুল ‘আযীয আলুশ শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ)
‘আল্লামাহ সালিহ বিন ‘আব্দুল ‘আযীয আলুশ শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ) বর্তমান যুগের একজন শ্রেষ্ঠ ‘আলিমে দ্বীন। তিনি ১৩৭৮ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন—ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আক্বীল, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়্যান, ইমাম হাম্মাদ আল-আনসারী, ইমাম ইসমা‘ঈল আল-আনসারী প্রমুখ (রাহিমাহুমুল্লাহ)। তিনি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত মন্ত্রী। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। তাঁর লিখন পড়লে তাঁর ‘ইলমের প্রাচুর্যতা এবং ফিক্বহের গভীরতা উত্তমরূপে উপলব্ধি করা যায়।
‘আল্লামাহ সালিহ আলুশ শাইখ ইমাম আলবানী’র লেখা ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে যেসব হাদীসের তাখরীজ ছাড়া পড়েছে, সেগুলো জমা করে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইমাম আলবানীকে ‘আল্লামাহ সালিহের বইটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। এছাড়াও শাইখ সালিহ আলুশ শাইখের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার সরকারকে কাফির ফাতওয়া প্রদানের অভিযোগ উত্থাপন করা হলে ‘আল্লামাহ যাইদ আল-মাদখালী (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখ সালিহকে ডিফেন্ড করেন, ওই বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং শাইখের প্রশংসা করেন। [sahab.net] এছাড়াও ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখ সালিহ আলুশ শাইখের প্রশংসা করেছেন। [আজুর্রি (ajurry) ডট কম]
উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সদস্য (faculty member) অধ্যাপক ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ বাযমূল (হাফিযাহুল্লাহ) শাইখ সালিহ আলুশ শাইখের ব্যাপারে বলেছেন, “তিনি হলেন আল-ওয়াযীর (মন্ত্রী), আল-‘আলিম, আল-মুফাসসির, আল-মুহাদ্দিস, আল-ফাক্বীহ, আল-উসূলী।” [দ্র.: https://m.youtube.com/watch?v=6udOz4rubGI(অডিয়ো ক্লিপ)]
আল্লাহ তাঁর অমূল্য খেদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে উত্তমরূপে হেফাজত করুন। আমীন। সংগৃহীত: saleh.af.org.sa।
·
‘আল্লামাহ সালিহ আলুশ শাইখের বক্তব্য:
সৌদি আরবের সম্মানিত ধর্মমন্ত্রী আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ সালিহ বিন ‘আব্দুল ‘আযীয আলুশ শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৭৮ হি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: ما هي الأصول التي تنبني عليها جماعة الإخوان المسلمين؟
الجواب: إن من أبرز مظاهر الدعوة عندهم التكتم والخفاء والتلون، والتقرب إلى من يظنون أنه سينفعهم، وعدم إظهار حقيقة أمرهم، يعني أنهم نوع من أنواع الباطنية، ومنهم من خالط بعض العلماء والمشايخ زمانًا طويلًا وهو لا يعرف حقيقتها.
ومن مظاهر الجماعة وأصولها أنهم يغلقون عقول أتباعهم عن سماع القول الذي خالف منهجهم، ولهم في هذا الإغلاق طرق شتى متنوعة؛ منها إشغال وقت الشاب جميعه من صبحه إلى ليله حتى لا يسمع قولًا آخر، ومنها أنهم يحذرون ممن ينقدهم، فإذا رأوا واحدًا من الناس يعرف منهجهم وطريقتهم وبدأ في نقدهم وفي تحذير الشباب من الانخراط في الحزبية البغيضة أخذوا يحذرون منه بطرق شتى؛ تارة باتهامه وتارة بالكذب عليه، وتارة بقذفه في أمور هو منها براء، وهم يعلمون أن ذلك كذب، وتارة يقفون منه على غلط فيشنعون به عليه ويضخمون ذلك حتى يصدوا الناس عن اتباع الحق والهدى.
وهم في ذلك شبيهون بالمشركين في خصلة من خصالهم؛ حيث كانوا ينادون على رسول الله صلى الله عليه وسلم في المجامع بأن هذا صابئ وأن فيه كذا وفيه كذا؛ حتى يصدوا الناس عن اتباعه.
أيضًا مما يميز الإخوان عن غيرهم أنهم لا يحترمون السنة ولا يحبون أهلها، وإن كانوا في الجملة لا يظهرون ذلك، لكنهم في حقيقة الأمر لا يحبون السنة ولا يدعون لأهلها، وقد جربنا ذلك في بعض من كان منتميًا لهم أو يخالط بعضهم، فتجد أنه لما بدأ يقرأ كتب السنة مثل صحيح البخاري أو الحضور عند بعض المشايخ في قراءة بعض الكتب حذروه وقالوا: هذا لا ينفعك. يعني أنهم لا يقرون فيما بينهم تدريس السنة ولا محبة أهلها.
من مظاهرهم أيضًا أنهم يرومون الوصول إلى السلطة؛ وذلك بأنهم يتخذون من رءوسهم أدوات يجعلونها تصل، وتارة تكون تلك الرءوس ثقافية، وتارة تكون تلك الرءوس تنظيمية، يعني أنهم يبذلون أنفسهم ويعينون بعضًا حتى يصلوا بطريقة أو بأخرى إلى السلطة؛ يعني إلى سلطة جزئية؛ حتى ينفذوا من خلالها إلى التأثير. وهذا يتبعه أن يكون هناك تحزُّب؛ يعني يقربون مَن هم في الجماعة، ويبعدون من لم يكونوا في الجماعة، فيقال مثلا: فلان ينبغي إبعاده، ولا يمكَّن من التدريس، لماذا؟ لأن عليه ملاحظات، ما هي هذه الملاحظات؟ ليس من الإخوان.
يعني صار عندهم حب وبغض في الحزب أو في الجماعة، وهذا كما جاء في حديث الحارث الأشعري أن النبي –صلى الله عليه وسلم– قال: «مَن دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّهُ مِنْ جُثَا جَهَنَّمَ» . قالوا : يا رسول الله ، وإن صام وإن صلى؟ قال : «وإنْ صامَ وإنْ صَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ، فَادْعُوا الْمُسْلِمِينَ بِأَسْمَائِهِمْ، بِمَا سَمَّاهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمُسْلِمِينَ الْمُؤْمِنِينَ عِبَادَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ». حديث صحيح .
ولهذا ينبغي للشباب أن يُنبهوا على هذا الأمر بالطريقة الحسنى المثلى حتى يكون هناك اهتداء إلى طريق أهل السنة والجماعة وإلى منهج السلف الصالح، كما أمر الله – عز وجل – بقوله : ﴿ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ﴾ [النحل : ١٢٥]
أيضًا من مظاهرهم، بل مما يميزهم عن غيرهم أن الغاية عندهم من الدعوة هي الوصول إلى الدولة، وهذا أمر ظاهر بيّن في منهج الإخوان، بل في دعوتهم، الغاية من دعوتهم هي الوصول إلى الدولة، أما كيف ينجو الناس من عذاب الله –جل وعلا– وأن تبعث لهم الرحمة في هدايتهم إلى ما ينجيهم من عذاب القبر ومن عذاب النار وما يدخلهم الجنة وما يقربهم إليها؛ فليس ذلك عندهم كبير أمر ولا كبير شأن ولا يهتمون بذلك؛ لأن الغاية عندهم هي الدولة.
ولهذا يقولون: الكلام في الحكام يجمع النا، والكلام في أخطاء الناس ومعاصيهم يفرق الناس، فابذلوا ما به تجتمع عليكم القلوب، وهذا لا شك أنه خطأ تأصيلي ونية فاسدة؛ فإن النبي –صلى الله عليه وسلم– بين أن مسائل القبر ثلاثة؛ يُسأل العبد عن ربه، يعني عن معبوده، وعن دينه، وعن نبيه صلى الله عليه وسلم، فمن صحب أولئك زمنًا طويلًا؛ عشر سنين أو عشرين سنة أو أكثر أو أقل، وهو لم يُعلَّم ما ينجيه إذا أُدخل في القبر فهل نُصِحَ له وهل أُحب له الخير؟ فلو أحبوا المسلمين حق المحبة لبذلوا النصيحة فيما ينجيهم من عذاب القبر وفيما ينجيهم من عذاب الله، ولعلموهم التوحيد، وهو أول مسئول عنه من ربك، أي من معبودك.
প্রশ্ন: “মুসলিম ব্রাদারহুড কোন মূলনীতিগুলোর উপর প্রতিষ্ঠিত?”
উত্তর: “তাদের দা‘ওয়াতের সবচেয়ে স্পষ্ট দিক হলো—গোপনীয়তা, অস্থিতিশীলতা, যে তাদের উপকারে আসবে বলে তারা মনে করে তার নিকটবর্তী হওয়া এবং তাদের প্রকৃত বিষয়কে প্রকাশ না করা। অর্থাৎ, তারা বাত্বিনীদের একটি প্রকার। তাদের কেউ কেউ ‘উলামা ও মাশাইখদের কারও সাথে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, এতৎসত্ত্বেও তিনি তাদের দা‘ওয়াতের হকিকত সম্পর্কে জানতে পারেন না।

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০৪

·Image may contain: text
শাইখ পরিচিতি:


‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ বিন সা‘ঈদ রাসলান (হাফিযাহুল্লাহ)
‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ বিন সা‘ঈদ রাসলান (হাফিযাহুল্লাহ) মিশরের একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং ফাক্বীহ। তিনি ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের মনুফিয়া গভর্নোরেটে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিন এবং সার্জারির উপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি আল-আযহার থেকেই ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আওতাধীন ডিপার্টমেন্ট অফ দ্য অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর তিনি আল-আযহার থেকে হাদীসের উপর মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তিনি অসংখ্য মৌলিক কিতাবের দারস দিয়েছেন। তিনি একাধারে তাফসীর, উসূলে তাফসীর, হাদীস, উসূলে হাদীস, ফিক্বহ, উসূলে ফিক্বহ, ‘আক্বীদাহ, মানহাজ, ফারাইদ্ব, সীরাত প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য কিতাবের দারস দিয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায় দেড় শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
‘আল্লামাহ হাসান বিন ‘আব্দুল ওয়াহহাব (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৯২৫ খ্রি.] বলেছেন, “মিশরে যারা সালাফী দা‘ওয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন, তাঁরা হলেন—সম্মানিত শাইখ ‘আলী হাশীশ, সম্মানিত শাইখ মুহাম্মাদ সা‘ঈদ রাসলান...।” [আজুর্রি (ajurry) ডট কম]
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের শারী‘আহ অনুষদের অধ্যাপক শাইখ ড. ফালাহ বিন ইসমা‘ঈল আল-মুনদাকার (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৯৫০ খ্রি.] শাইখ মুহাম্মাদ রাসলানের ব্যাপারে বলেছেন, “আমি শাইখের সান্নিধ্যে থাকার, তাঁর দারস শ্রবণ করার এবং তাঁর থেকে ফায়দা গ্রহণ করার নসিহত করছি। আল্লাহ’র কসম! আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি সুন্নাহ, সালাফিয়্যাহ, শার‘ঈ শিষ্টাচারের ব্যাপারে প্রবল আগ্রহী। আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি একজন দুনিয়াবিমুখ পরহেজগার মানুষ। আমরা আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে ও তাঁকে দ্বীনের উপর সুদৃঢ় রাখেন এবং আমাদেরকে ও তাঁকে (সৎকর্মের) তাওফীক্ব দান করেন।” [sahab.net]
শাইখ ড. ফালাহ বিন ইসমা‘ঈল আল-মুনদাকার (হাফিযাহুল্লাহ) আরও বলেছেন, “তোমাদের জন্য আকাবির তথা বড়োদের আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। আল্লাহ’র রহমতে মিশরে তোমাদের কাছে আছেন আশ-শাইখ হাসান বিন ‘আব্দুল ওয়াহহাব আল-বান্না এবং আশ-শাইখ মুহাম্মাদ সা‘ঈদ রাসলান (হাফিযাহুমাল্লাহু তা‘আলা)। তোমাদের জন্য এই বড়োদের আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। তাঁদের কাছে ভাইদের একত্রিত করো এবং তোমাদের সমস্যাগুলো এই বড়োদের কাছে উপস্থাপন করো। বড়োদের দিকে ফিরে যাওয়ার মধ্যে বিরাট কল্যাণ এবং মহান উপকারিতা রয়েছে।” [প্রাগুক্ত]
‘আল্লামাহ সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) কে মিশরের কোন শাইখের দারসে উপস্থিত হওয়া যাবে—মর্মে প্রশ্ন করা হলে তিনি শাইখ রাসলানকে সাজেস্ট করেন এবং বলেন, “আমি শাইখ রাসলানকে চিনি তাঁর বক্তব্য শোনার মাধ্যমে। তিনি স্বীয় ‘আক্বীদাহ ও মানহাজে শক্তিশালী ব্যক্তি।” [দ্র.: https://m.youtube.com/watch?v=_6F744sSM-M (অডিয়ো ক্লিপ)]
এতদ্ব্যতীত ইমাম রাবী‘ আল-মাদখালী-সহ আরও অনেক ‘আলিম ও শাইখ ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ রাসলানের এবং তাঁর দা‘ওয়াতী কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তাঁর অমূল্য খেদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে উত্তমরূপে হেফাজত করুন। আমীন। সংগৃহীত: rslan.com ও sahab.net
·
১ম বক্তব্য:
আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ বিন সা‘ঈদ রাসলান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৯৫৫ খ্রি.] বলেছেন,
الإخوان المسلمون جماعةٌ بدعية، وفِرقةٌ من الثنتين والسبعين فرقة التي ذكرها الرسول -صلى الله عليه وسلم- في حديث الافتراق. الإخوانُ المسلمون ليس عندهم منهجٌ اعتقاديّ! فهم يجمعون كلَّ مَن طار ودَرَجَ! وهَبَّ ودَبَّ! معهم المعتزلية، والأشعرية، والصوفية ولو كان اتحاديًا حُلوليًا!، ومعهم دون ذلك، بل ومعهم النصارى! فما عندهم من منهجٍ اعتقاديٍّ!
ومعلومٌ أنّ الإصلاحَ لا يبدأ إلا بالعقيدة، وأنتَ عندما تدعو الناس إلى الدين لا تقول لهم: نُطبِّق عليكم شريعة الله –وهم لا يعرفونه–! ولا تقول لهم: اتَّبِعُوا رسولَ الله –وهم يجهلونه–!
فلابد من بيان العقيدة أولاً؛ إذ الشريعةُ مؤسسة على عقيدتها.
فهذه الخُدعة الكبرى التي يُروِّجُ لها قومٌ من جلدتنا يتكلمون بلساننا، وينطقون بكلامنا ولغتنا، ويأخذون من الليل كما تأخذون. هذه الخُدعة الكبرى التي يُرَوِّج لها أولئك زائفةٌ مكشوفة! واضحةٌ مفضوحة!
مَن مِن الأنبياء بدأَ الدعوةَ بغير العقيدة؟! مَن مِن الأنبياء والمرسلِين بدأَ قومَه بغير الدعوة إلى توحيد رب العالمين؟! مَن؟ كلُّهم! كلُّ المرسلِين من نوحٍ إلى محمدٍ يدعون أقوامهم إلى إخلاص العبادة لله، إلى توحيد الله رب العالمين وحده، ولا يلتفتون إلى النتائج، ويأتي النبيُّ يومَ القيامة وليس معه أحدٌ! لم تُزَيَّف العقيدة، ولم تُبَدَّل الشريعة، ولم تُغَيَّر معالم الملة، وإنما كان الأمرُ واضحًا مكشوفًا.
“মুসলিম ব্রাদারহুড একটি বিদ‘আতী দল। এটি (পথভ্রষ্ট) ৭২ দলের অন্তর্ভুক্ত, যে দলগুলোর ব্যাপারে রাসূল ﷺ হাদীসুল ইফতিরাক্বে [যে হাদীসে রাসূল ﷺ স্বীয় উম্মাহ’র ৭৩ দলে বিভক্ত হওয়ার কথা বলেছেন, সে হাদীসকে ‘হাদীসুল ইফতিরাক্ব’ বা ‘উম্মাহ বিভক্তির হাদীস’ বলা হয়। – সংকলক] আলোচনা করেছেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের ‘আক্বীদাহগত আদর্শ নেই। তারা সবাইকে তাদের দলে জমা করে। তাদের সাথে মু‘তাযিলীরা আছে, আশ‘আরীরা আছে, এমনকি সূফীরাও আছে, যদিও সে সর্বেশ্বরবাদী সূফী হয়! তাদের সাথে আরও অনেকে রয়েছে। এমনকি তাদের সাথে খ্রিষ্টানরাও আছে। তাদের কোনো ‘আক্বীদাহগত আদর্শ নেই। আর একথা সুবিদিত যে, সংস্কার (ইসলাহ) স্রেফ ‘আক্বীদাহর মাধ্যমেই শুরু করতে হয়। তুমি যখন মানুষকে দ্বীনের দিকে আহ্বান করবে, তখন তুমি তাদেরকে বলো না যে, আমরা তোমাদের উপর আল্লাহ’র আইন বাস্তবায়ন করব, অথচ তারা তা জানেই না। তুমি তাদেরকে বলো না যে, তোমরা আল্লাহ’র রাসূলের আনুগত্য করো, অথচ তারা রাসূলকেই চিনে না।
অবশ্যই প্রথমে ‘আক্বীদাহ বর্ণনা করতে হবে। যেহেতু শরিয়ত ‘আক্বীদাহর উপরই প্রতিষ্ঠিত। এই মহাপ্রতারণা প্রচলিত করেছে এমন সম্প্রদায়, যারা আমাদের মতো ত্বকেরই মানুষ, আমাদের মতো জবান দিয়েই কথা বলে, আমাদের ভাষাতেই কথা বলে। তারা রাত থেকে তাই লাভ করে, যা তোমরা করে থাক। ওদের চালুকৃত এই মহাধোঁকা সুস্পষ্ট প্রতারণা এবং স্পষ্ট কুৎসা।
নাবীদের মধ্যে কে ‘আক্বীদাহ ব্যতীত অন্য বিষয়ের মাধ্যমে দা‘ওয়াত শুরু করেছেন? নাবী ও রাসূলগণের মধ্যে কে স্বীয় সম্প্রদায়কে বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র তাওহীদের দিকে দা‘ওয়াত দেওয়া বাদ দিয়ে অন্য বিষয়ের দা‘ওয়াত দিয়ে শুরু করেছেন? কে? বরং তাঁরা সবাই, নূহ থেকে মুহাম্মাদ পর্যন্ত সকল রাসূল তাঁদের সম্প্রদায়কে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ’র ইবাদত করার দিকে তথা এক আল্লাহ’র তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন। তাঁরা পরিণতির দিকে তাকাননি। কেননা কেয়ামতের দিন এমন নাবীও আসবেন, যার সাথে তাঁর অনুসারী থাকবে না। ‘আক্বীদাহ জাল করা হয়নি, শরিয়ত পরিবর্তিত হয়নি, উম্মাহ’র রূপরেখাও পরিবর্তিত হয়নি। সুতরাং বিষয়টি সুস্পষ্ট ও উদ্ভাসিত।” [“মাযা লাও হাকামাল ইখওয়ানু মিসর”– শীর্ষক খুত্ববাহ; খুত্ববাহ’র তারিখ: ৪ই রজব, ১৪৩৩ হিজরী মোতাবেক ২৫শে মে, ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ; খুত্ববাহ’র অনুলিপির লিংক: www.ajurry(এখানে একটি ডট বসিয়ে লিংকটি ব্যবহার করুন)com/vb/showthread.php?t=28027.]
·

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০৩

·Image may contain: text
শাইখ পরিচিতি:


 ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)
ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) বিংশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, মুহাক্বক্বিক্ব, মুফাসসির, ফাক্বীহ ও আদীব (সাহিত্যিক) ছিলেন। তাঁর পড়াশোনা আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি এখান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি ১৩০৯ হিজরী মোতাবেক ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের কায়রো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিশরের শারী‘আহ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম শারী‘আহ কোর্টের সদস্য হয়েছিলেন। হাদীসশাস্ত্র, ফিক্বহশাস্ত্র, ‘আক্বীদাহশাস্ত্র এবং ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অসংখ্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা রয়েছে। তাঁর শ্রেষ্ঠ কর্ম হলো—মুসনাদে আহমাদের তাহক্বীক্ব; তিনি ৮০৯৯ টি হাদীসের তাহক্বীক্ব করতে পেরেছিলেন, যা মুসনাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ।
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] কে ইমাম আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)’র ‘আক্বীদাহ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “শাইখ আহমাদ শাকির একজন সম্মানিত ‘আলিম। তিনি ‘আক্বীদাহগতভাবে সালাফী ছিলেন।” [দ্র.: https://m.youtube.com/watch?v=Eo0hzFqiQCA (অডিয়ো ক্লিপ)]
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম রাবী‘ বিন হাদী বিন ‘উমাইর আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫১ হি./১৯৩২ খ্রি.] বলেন, “আমি বলছি, আল-‘আক্বীদাতুত্ব ত্বাহাউয়িয়্যাহ গ্রন্থটি আমরা কেবল আহলুস সুন্নাহ’র ভাষ্যগ্রন্থের মাধ্যমে চিনি। যেমন: ইবনু আবিল ‘ইয প্রণীত ভাষ্য। এই ভাষ্যগ্রন্থটি দুইজন আহলুস সুন্নাহ’র ‘আলিম তাহক্বীক্ব করেছেন। প্রথমজন হলেন প্রখ্যাত সালাফী ‘আলিম আহমাদ শাকির এবং দ্বিতীয়জন হলেন শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী।” [sahab.net]
ইমাম রাবী‘ আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) আরও বলেন, “শাইখ আহমাদ শাকির হাদীসশাস্ত্রের কিবার ‘আলিমদের অন্যতম।” [ইমাম রাবী‘ (হাফিযাহুল্লাহ), আয-যারী‘আহ ইলা বায়ানি মাক্বাসিদি কিতাবিশ শারী‘আহ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৪২০]
তিনি ১৩৭৭ হিজরী ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে পরলোকগমন করেন। আল্লাহ এই ক্ষণজন্মা মনীষীকে তাঁর রহমত দ্বারা ঢেকে দিন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর আবাস নির্ধারণ করুন। আমীন। সংগৃহীত: www.facebook.com/SunniSalafiAthari(সালাফী: ‘আক্বীদাহ্ ও মানহাজে)।
·
১ম বক্তব্য:
বিগত শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ, মুহাক্বক্বিক্ব ও সাহিত্যিক আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৩৭৭ হি./১৯৫৮ খ্রি.] বলেছেন,
الإخوان المسلمون خوارج العصر.
“মুসলিম ব্রাদারহুড আধুনিক যুগের খারিজী সম্প্রদায়।” [আল-ইসালাহ ম্যাগাজিন, ৪০শ সংখ্যা; পৃষ্ঠা: ১১; গৃহীত: আবুল হাসান ‘আলী বিন আহমাদ আর-রাযিহী, আর-রিসালাতুস সুগরা ইলা আখী আল-মুনতাযিম ফী জামা‘আতিল ইখওয়ানিল মুসলিমীন; পৃষ্ঠা: ৯০; দারু ‘উমার ইবনিল খাত্বত্বাব, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৮ হি./২০০৭ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
·

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...