Wednesday, 13 March 2019

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০২

 ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরাইশী (রাহিমাহুল্লাহ)
·Image may contain: text
শাইখ পরিচিতি:
‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরাইশী (রাহিমাহুল্লাহ) সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) একজন প্রখ্যাত সালাফী দা‘ঈ ও বিদ্বান ছিলেন। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার টুবগ্রামে ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি পিতার নিকট ফারসি ও আরবির প্রারম্ভিক শিক্ষালাভ করেন। তারপর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আব্দুল্লাহেল বাকীর কাছে পারিবারিক মাদরাসায় আরবি ও ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়নের পর তিনি কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় অ্যাংলো-পারসিয়ান বিভাগ হতে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেন্ট জেভিয়ারস কলেজে বি.এ. ক্লাসে অধ্যয়নকালে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে উপমহাদেশ শোষণকারী সাম্রাজ্যবাদী ধবল দস্যুদের প্রবর্তিত শিক্ষা বর্জন করে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মাওলানা আকরাম খাঁর উর্দু দৈনিক ‘যামানা’র সম্পাদনা বিভাগে যোগদান করেন এবং খণ্ডকালীন সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি “জাম‘ইয়াতু ‘উলামা-ই বাঙ্গালা” প্রতিষ্ঠানের সহ-সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি নিজ সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘সত্যাগ্রহী’ প্রকাশ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর সহকারীরূপে তিনি ইনডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টির সংগঠন কার্যে আত্মনিয়োগ করেন। একই সাথে তিনি সারা বাংলায় জালসা ও ধর্মসভাগুলোতে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতার মাধ্যমে ক্বুরআন-সুন্নাহ’র বাণী প্রচার এবং শির্ক ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যান।
১৯৪৬ সালে রংপুরের হারাগাছ বন্দরে তিনি নিখিল বঙ্গ ও আসাম-আহলে হাদীস কনফারেন্সে গঠিত “নিখিল বঙ্গ ও আসাম জমঈয়তে আহলে হাদীস” এর সভাপতি নির্বাচিত হন। জমঈয়তের দফতর স্থাপিত হয় কলকাতার মিসরীগঞ্জে। ১৯৪৮ সালে দফতর পাবনা শহরে স্থানান্তরিত হলে সংগঠনের নাম হয় “পূর্ব পাকিস্তান জমঈয়তে আহলে হাদীস”। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৪৯ সালে “আল হাদীস প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং হাউজ” নামে জমঈয়তের নিজস্ব একটি মুদ্রণালয় ও প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় এবং একই সালে জমঈয়তের মুখপাত্ররূপে তাঁর সুুযোগ্য সম্পাদনায় মাসিক ‘তর্জুমানুল হাদীস’ আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৬ সালের শেষের দিকে জমঈয়তের দফতর ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৭ সালের ৭ই অক্টোবর তাঁর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘আরাফাত’ আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৮ সালে তাঁরই উদ্যোগে ঢাকাস্থ নাজিরাবাজারে ‘মাদরাসাতুল হাদীস’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলামী বিষয়ে বিভিন্ন ভাষায় তাঁর রচিত (প্রকাশিত-অপ্রকাশিত) অর্ধ শতাধিক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর জীবনব্যাপী ইসলামী সাহিত্য সাধনা ও গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে। তিনি ১৯৬০ সালের ৪ঠা জুন পরলোকগমন করেন। আল্লাহ এই নির্ভীক সিপাহসালারকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে সর্বোচ্চ জান্নাতে দাখিল করুন। আমীন। সংগৃহীত: ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরাইশী (রাহিমাহুল্লাহ), ফিরকাবন্দী বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি; পৃষ্ঠা: ৬; তৃতীয় সংস্করণ (জুন, ২০০৬ খ্রি.)।
·
‘আল্লামাহ কুরাইশীর বক্তব্য:
বাংলাদেশে আহলেহাদীস আন্দোলনের অগ্রবর্তী সেনানায়ক প্রথিতযশা সাহিত্যিক সাবেক পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) জমঈয়তে আহলে হাদীসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশ-শাইখ আল-‘আল্লামাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরায়শী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৯৬০ খ্রি.] প্রণীত একটি ঐতিহাসিক পুস্তিকার নাম—‘একটি পত্রের জওয়াব’। এই পুস্তিকায় ‘আল্লামাহ কুরাইশী পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলিম ব্রাদারহুডেরই নব্যরূপ জামায়াতে ইসলামীর মতাদর্শ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
১৯৫৭ সালে গাইবান্ধার জনৈক আহলেহাদীস মৌলবি সাহেব ‘আল্লামাহ কুরায়শীকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের উপদেশ খয়রাত করে একটি পত্র লিখেছিলেন। যার জবাবস্বরূপ ‘আল্লামাহ কুরায়শী তাঁর সম্পাদিত মাসিক তর্জুমানুল হাদীসে দুটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন।
তর্জুমানের ৭ম বর্ষ ৩য় সংখ্যার (ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭) ১৪৩-১৪৮ পৃষ্ঠায় এবং ৬ষ্ঠ বর্ষ ১ম সংখ্যার (শ্রাবণ, ১৩৬২) ৪১-৪৫ পৃষ্ঠায় প্রবন্ধ দুটি প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘যুবসংঘ প্রকাশনী’ (রাণীবাজার, রাজশাহী) ১৯৯৩ সালের মার্চে প্রবন্ধ দুটি পুস্তক আকারে প্রকাশ করে। আমি ‘যুবসংঘ প্রকাশনী’ কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তিকাটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ অবিকৃতরূপে হুবহু পেশ করার প্রয়াস পাব, ইনশাআল্লাহ।
আশ-শাইখ আল-‘আল্লামাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরায়শী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—
১. পত্রলেখক বলিতে চাহিয়াছেন, এইরূপ অন্ধকার পরিবেশে তিনি অকস্মাৎ আলোকের সন্ধান পাইলেন। পাক পাঞ্জাবের সামরিক আদালত মওলানা মওদুদীকে ফাঁসীর হুকুম দেওয়ায় দেশব্যাপী যে আন্দোলন সৃষ্টি হইয়াছিল এবং পূর্ব পাকিস্তান জমঈয়তে আহলেহাদীছের মুখপাত্র “তর্জুমানের পৃষ্ঠায় সম্পাদকের জোরাল মুক্তি দাবী” দর্শন করিয়া এবং তর্জুমান সম্পাদকের কাঁদ কাঁদ সুরে “মওদুদীকে বর্তমান যুগের মুজাদদিদ বলা চলে” শ্রবণ করিয়া এবং পাঞ্জাবের কারাগারে অন্যান্য বর্ষীয়ান উলামার লাঞ্ছনার বিবরণ অবগত হইয়া তিনি মওদুদী ছাহেবের আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়িলেন।
আমার বক্তব্য এই যে, কোন ব্যক্তি ফাঁসীর আসামী হইলে এবং তজ্জন্য দেশে তোলপাড় ঘটিলেই তাঁহার প্রবর্তিত দলে প্রবেশ করিতে হইবে এবং নিজের জামাআতকে পরিত্যাগ করিতে হইবে এরূপ কথা আলেম দূরে থাক, সাধারণ বুদ্ধি বিবেচনা সম্পন্ন লোকও উচ্চারণ করিতে পারে না। (পৃ. ৭-৮)
২. মওলানা মওদুদীকে আমি মুজাদদিদ বলিয়াছি এরূপ কথা আমি স্মরণ করিতে অসমর্থ। আর কেহ মুজাদদিদ হইতে পারে; এরূপ সম্ভাবনা এমনকি নিশ্চয়তা প্রদান করিলেই যে তাঁহাকে ইমামতের একচ্ছত্র সিংহাসন প্রদান করিতে হইবে, ইহাও মূর্খতাব্যঞ্জক উক্তি। (পৃ. ৮)

কষ্টিপাথরে ব্রাদারহুড, ইখুয়ানুল মুসলিমীনের (জামাতী ইসলামী) ব্যাপারে সালাফী আলেমদের ফতোয়া। পর্ব-০১

ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)
Image may contain: text
·
শাইখ পরিচিতি:
ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ ছিলেন। তিনি একাধারে ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ ছিলেন। তিনি স্বীয় যুগে আহলুস সুন্নাহ’র ইমাম এবং শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ছিলেন। তিনি ১৩৩০ হিজরী মোতাবেক ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু ‘ইলম অর্জনের অদম্য ইচ্ছা তাঁকে ‘ইলম অর্জন করা থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। তিনি অনেক বড়ো বড়ো ‘আলিমের নিকট থেকে ‘ইলম অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—ইমাম সা‘দ বিন হামাদ বিন ‘আতীক্ব, ইমাম হামাদ বিন ফারিস, ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলুশ শাইখ প্রমুখ (রাহিমাহুমুল্লাহ)।
তিনি একাধারে সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির প্রধান, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রধান, রাবেতায়ে ‘আলাম আল-ইসলামীর প্রাতিষ্ঠানিক বোর্ডের প্রধান, রাবেতার ফিক্বহ একাডেমির প্রধান এবং মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের পদ অলংকৃত করেছিলেন।
ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন, “নিশ্চয় আশ-শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয (রাহিমাহুল্লাহ) শ্রেষ্ঠ ‘আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমরা মহান আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেন।” [শাইখ ড. ‘আব্দুল ‘আযীয আস-সাদহান (হাফিযাহুল্লাহ), আল-ইমাম আল-আলবানী দুরূস ওয়া মাওয়াক্বিফ ওয়া ‘ইবার; পৃষ্ঠা: ২৬২; দারুত তাওহীদ, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৯ হি./২০০৮ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং বিগত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল মাগরিব ইমাম মুহাম্মাদ তাক্বিউদ্দীন হিলালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪০৭ হি./১৯৮৭ খ্রি.] ইমাম ইবনু বাযকে উদ্দেশ্য করে লেখা কবিতায় বলেছেন, “ ‘ইলম ও আখলাকে আমি এই যুগে তাঁর নজির দেখিনি, যে আখলাকের সৌরভ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি ফতোয়া প্রদানে একজন মুহাক্বক্বিক্ব ইমামে পরিণত হয়েছেন, আর জটিল সমস্যাগুলো তাঁর কাছে পরিণত হয়েছে সহজ বিষয়ে।” [আর-রাসাইলুল মুতাবাদালাহ বাইনাশ শাইখ ইবনি বায ওয়াল ‘উলামা; পৃষ্ঠা: ৩২৯; গৃহীত: https://tinyurl.com/ycxf9q9k]
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] কে ইমাম ইবনু বায এবং ইমাম আলবানী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “নিশ্চয় তাঁরা দুজন—হাদীস, আল্লাহ’র দিকে আহ্বান এবং বিদ‘আতীদের সাথে লড়াই করার ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠ দুজন ‘আলিম।” [দ্র.: https://m.youtube.com/watch?v=eYz7WEE8LEY (অডিয়ো ক্লিপ)]
ইয়েমেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.] কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, বর্তমান যুগে ফিক্বহ ও হাদীসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তিনি উত্তরে বলেন, “আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই যুগে ফিক্বহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জ্ঞানী শাইখ ইবনু বায (হাফিযাহুল্লাহ)। অনুরূপভাবে এ যুগে হাদীসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জ্ঞানী শাইখ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (হাফিযাহুল্লাহ)।” [ইমাম মুক্ববিল আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ), ইজাবাতুস সা’ইল ‘আলা আহাম্মিল মাসাইল; পৃষ্ঠা: ৫৫৯-৫৬০; দারুল হারামাইন, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি. (২য় প্রকাশ)]
এমনকি ইমাম মুক্ববিল আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.] “'আযাউল উম্মাহ বি ওয়াফাতি জাবালিস সুন্নাহ (সুন্নাহ’র পর্বতের মৃত্যুতে উম্মাহকে সান্ত্বনাদান)”– শীর্ষক অডিয়ো ক্লিপে বলেছেন, “শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) তাবি‘ঈ ‘আব্দুল্লাহ বিন মুবারাকের মতো!” [sahab.net]
মাসজিদে হারাম ও মাসজিদে নববীর ধর্মীয় তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত সাধারণ পরিচালনা পর্ষদের সাবেক প্রধান এবং সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুল্লাহ আস-সুবাইল (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩৪ হি.] বলেছেন, “আজ মুসলিম উম্মাহ– উম্মাহ’র শ্রেষ্ঠ ‘আলিমের মৃত্যুতে বিপদগ্রস্ত হয়েছে। যিনি বর্তমান যুগে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমাম, তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ ‘আল্লামাহ, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, ‘ইলম ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী আল্লাহ’র দিকে আহ্বানকারী দা‘ঈ, হক ও হিদায়াতের পথে জিহাদকারী মুজাহিদ সামাহাতুল ‘আল্লামাতিল জালীল আশ-শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন বায।” [আল-মাদীনাহ পত্রিকা, সংখ্যা: ১৩১৭৪; গৃহীত: নাসির আয-যাহরানী, ইমামুল ‘আসর; পৃষ্ঠা: ২৬৩]
সৌদি আরবের ফতোয়া প্রদানকারী স্থায়ী কমিটি এবং সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] বলেছেন, “আমাদের শীর্ষস্থানীয় ‘আলিমদের অন্তর্ভুক্ত হলেন সামাহাতুশ শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন বায (হাফিযাহুল্লাহ)। তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যাকে গভীর জ্ঞান, সৎকর্মপরায়নতা, আল্লাহ’র দিকে আহ্বান, ইখলাস, সততা এবং সকলের কাছে সুবিদিত কল্যাণকর বিষয়াদি দিয়ে তাঁর উপর মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। আল-হামদুলিল্লাহ, তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য কল্যাণকর বিষয় প্রকাশিত হয়েছে, যেমন: গ্রন্থাবলি, লিখনসমগ্র, অডিয়ো ক্লিপস, দারসসমগ্র প্রভৃতি।” [দ্র.: https://m.youtube.com/watch?v=Wbec9OgsEFY (অডিয়ো ক্লিপ)]
সৌদি আরবের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতী আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ আলুশ শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৬২ হি./১৯৪৩ খ্রি.] বলেছেন, “আমরা সুন্নাহ’র পর্বতকে হারালাম। তাঁর মৃত্যুসংবাদ মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যুদ্বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। কেননা বর্তমান যুগে মহান আল্লাহ’র পরে তিনিই ছিলেন একমাত্র আশ্রয়স্থল, যাঁর উপর মুসলিমরা সকল ক্ষেত্রে এবং ফাতওয়া প্রদান, দা‘ওয়াত ও সঠিক নির্দেশনার ক্ষেত্রে নির্ভর করত।” [নাসির আয-যাহরানী, ইমামুল ‘আসর; পৃষ্ঠা: ১৫৯]

Tuesday, 12 March 2019

আকীদাহ চারটি মূলনীতিঃ



আরশে আযীমের প্রতিপালক মহান আল্লাহর নিকট দুআ করি, তিনি যেন আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন,আপনাকে বরকতময় করেন আপনি যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, আপনাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যাকে কিছু প্রদান করা হলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, পরীক্ষায় পড়লে ধৈর্য ধারণ করে এবং গুনাহ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করে। কারণ এই তিনটি বিষয় হচ্ছে সৌভাগ্যের প্রতীক।
জেনে নিন-আল্লাহ আপনাকে তাঁর আনুগত্যের পথ দেখাক- নিষ্ঠাবান মিল্লাতে ইব্রাহীম হচ্ছে, আপনি এক আল্লাহর ইবাদত করবেন নিষ্ঠার সাথে। আর আল্লাহ তাআ’লা সকল মানুষকে এরই আদেশ করেছেন এবং এর কারণে তাদের সৃষ্টি করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন :
وَ مَا خَلَقْتُ الجنَّ والإنْسَ إلاّ لِيَعْبُدُونِ
““আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি।”[যারিয়াত/৫৬]
অতঃপর যখন জানতে পারলেন যে, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, তখন এটাও জেনে নিন, যে তাওহীদ ব্যতীত ইবাদত, ইবাদত হিসেবে গণ্য নয়, যেমন পবিত্রতা ব্যতীত নামায, নামায হিসাবে গণ্য নয়। ইবাদতে শিরক প্রবেশ করলে তা নষ্ট হয়ে যায়, যেমন পবিত্রতার পর বায়ু নির্গত হলে তা বিনষ্ট হয়।
অতঃপর যখন জানলেন যে, যখন ইবাদতে শিরকের সংমিশ্রণ হয় তখন আমলকে নষ্ট করে দেয় এবং সে ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তাই এই বিষয়টি জানা জরুরী যেন আল্লাহ আপনাকে এই বেড়াজাল থেকে মুক্তি দেন। আর তা হচ্ছে আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করা যার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
إنَّ اللهَ لا يَغْفِرُ أن يُشْرَكَ بِهِ ، و يَغْفِرُ مَا دُونَ ذالكَ لِمن يشاَءُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপন করলে তাকে ক্ষমা করবেন না এবং তদ্ব্যতীত যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।” [ নিসা/৪৮] আর এটা চারটি মূলনীতি জানার মাধ্যমে হবে, যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন :
প্রথম মূলনীতি: জানা প্রয়োজন যে, ঐ সমস্ত কাফের যাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ করেছিলেন, তারা স্বীকার করত যে আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টিকর্তা এবং পরিচালক। তবুও এই স্বীকারোক্তি তাদের ইসলামের গণ্ডিতে প্রবেশ করায় নি।এর প্রমাণে আল্লাহর বাণী:
قُلْ مَن يَرزُقُكُمْ من السماءِ والأرْضِ أمّن يملكُ السمْعَ والأبْصارَ وَ مَن يُخْرِجُ الحَيَّ مِنَ المَيِّتِ وَيُخْرِجُ المَيِّتَ مِنَ الحَيِّ وَ مَن يُدَبِّرُ الأمْرَ ، فَسَيَقُولُونَ اللهُ ، فَقُلْ أفَلا تَتَّقُونَ
“তুমি বল : তিনি কে, যিনি তোমাদেরকে আসমান ও জমিন হতে রিজিক দিয়ে থাকেন? অথবা কে তিনি, যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের উপর পূর্ণ অধিকার রাখেন? আর তিনি কে, যিনি জীবন্তকে প্রাণহীন হতে বের করেন, আর প্রাণহীনকে জীবন্ত হতে বের করেন? আর তিনি কে যিনি সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন? তখন অবশ্যই তারা বলবে যে, আল্লাহ। অতএব, তুমি বল: তবে কেন তোমরা (শিরক হতে) বিরত থাকছ না? ” (সূরা ইউনুস: ৩১)
দ্বিতীয় মূলনীতি: তারা বলে: আমরা তাদের নিকট প্রার্থনা করি না এবং তাদের শরণাপন্ন হই না কিন্তু নৈকট্য এবং সুপারিশ পাওয়ার আশায়।
নৈকট্যের প্রমাণে আল্লাহর বাণী :
وَالذيْنَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِه أولِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إلاَّ لِيُقَرِّبُوْنَا إلى اللهِ زُلْفَى إنَّ اللهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ ، إنَّ اللهَ لا يَهْدِى مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ
“যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করে, (তারা বলে) আমরা তো এদের পূজা এজন্যেই করি যে, এরা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে। তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে আল্লাহ তার ফায়সালা করে দিবেন । যে মিথ্যাবাদী ও কাফির , আল্লাহ তাকে সৎ পথে পরিচালিত করেন না।” [জুমার/৩] শাফায়াতের প্রমাণে আল্লাহর বাণী : “আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুসমূহেরও ইবাদত করে যারা তাদের কোন অপকারও করতে পারে না এবং তাদের কোন উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে: এরা হচ্ছে আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশ কারী ।” [ ইউনুস/১৮] সুপারিশ বা শাফাআত দুই প্রকার। যথা: ক) অস্বীকৃত খ) স্বীকৃত।
ক- অস্বীকৃত সুপারিশ হচ্ছে, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট চাওয়া হয়, যার ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নেই। যেমন আল্লাহ বলেন:

Friday, 15 February 2019

মুসলিম হবে মৌমাছির মতো..



মৌমাছি বা মধুমক্ষিকা মধুকর হিসাবে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং তারই নামে একটি সূরার নামকরণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, 
{وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنْ اتَّخِذِي مِنْ الْجِبَالِ بُيُوتاً وَمِنْ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ (68) ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلاً يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} (69) سورة النحل
“তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, তুমি গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, বৃক্ষে এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। এরপর প্রত্যেক ফল হতে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ কর; ওর উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়; যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগমুক্তি। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।” (সুরা নাহলঃ৬৮-৬৯)
মৌমাছির কর্মব্যস্ততার উদাহরণ দেওয়া হয় এবং তার নিকট থেকে মানুষ এ বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।
“মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাড়াও না একবার ভাই,
ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় যে নাই।“
মৌমাছির একতা ও এক সাথে মিলেমিশে বসবাস ও পরস্পরের স্বার্থে কাজ করার সুন্দর উপমা রয়েছে। উপাদেয় খায়, উপাদেয় উৎপাদন করে এবং মানুষের উপকার করে। কী সুন্দর ঘর বানায় এবং কী সুন্দর ভান্ডার তৈরি করে! অতঃপর বনে-বাগানে ছুটে গিয়ে ফুলে-ফুলে বসে মধু আহরণ করে। অতঃপর তা নিয়ে এসে সঞ্চয় করে মৌচাকে। সুন্দর কর্মের এই প্রাণীটির সাথে তুলনা করা হয়েছে মু’মিনকে। মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “
((وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّ مَثَلَ الْمُؤْمِنِ لَكَمَثَلِ النَّحْلَةِ أَكَلَتْ طَيِّبًا وَوَضَعَتْ طَيِّبًا وَوَقَعَتْ فَلَمْ تَكْسِرْ وَلَمْ تُفْسِدْ)).
সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিশ্চয় মু’মিনের উপমা মৌমাছির মতো। যে উত্তম খায় এবং উত্তম উৎপাদন করে। আর (যাতে বসে তা) ভাঙ্গে না এবং নষ্টও করে না।” (আহমাদ ৬৮৭২, হাকেম ২৫৩, সিঃ সহীহাহ ২২৮৮নং)
কী সুন্দর মু’মিনের উপমা! মু’মিন হয় মৌমাছির মতো বিচক্ষণ কর্মক্ষম। মুমিন হয় উপকারী। সে নিজের কর্ম দ্বারা অপরকে উপকৃত করে।
মু’মিন মৌমাছির মতো দিবারাত্রি কাজ করে। মৌমাছির কাজে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে অন্ধকার, মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস, ধোয়া ও আগুন। অনুরূপ মু’মিনের আমলে প্রতিকূলতা আনে ঔদাস্যের অন্ধকার, সন্দেহের মেঘ, প্রাচুর্যের বৃষ্টি, ফিতনার বাতাস, হারামের ধোয়া ও কুপ্রবৃত্তির আগুন।
মু’মিন নিজের হাতের উপার্জন খায়। যেহেতু তা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ উপার্জন। সৌন্দর্য পছন্দ করে, হালাল রুযী উপার্জন করে। হারাম খাদ্য, অপরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতা থেকে দুরে থাকে। সে তা হতে জীবিকা নির্বাহ করে এবং অপরকেও উপকৃত করে। প্রকৃত মু'মিন সত্যই মৌমাছির মতো। কতই সুন্দরই না তার উদাহরণ।
ফুলের ভিতর যে মধু আছে, তা হয়তো কেউ জানত না, যদি মৌমাছি তা আহরণ করে মৌচাকে সংগ্রহ না করত। মু’মিন যদি দ্বীনের মাহাত্ম প্রচার না করতো, তাহলে কত শত মানুষ সেই মধু থেকে চির বঞ্চিত থেকে যেত, যে মধু সুমহান স্রষ্টা দ্বীনের মধ্যে নিহিত রেখেছেন। 

Sunday, 10 February 2019

সবচেয়ে খারাপ মেয়ে


কাকের একাধিক প্রকার আছে। কিছু কাক আছে বিরল, সাধারণতঃ সব দেশে দেখা যায় না। সেই কাকের উপমা দিয়ে বিরলতা প্রকাশ করা হয়। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
« خَيْرُ نِسَائِكُمُ الْوَدُودُ الْوَلُودُ الْمَوَاتِيَةُ الْمُوَاسِيَةُ إِذَا اتَّقَيْنَ اللَّهَ، وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلاَتُ وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلاَّ مِثْلُ الْغُرَابِ الأَعْصَمِ ».
“তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদে-শোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে। আর তোমাদের সবচেয়ে খারাপ মেয়ে তারা, যারা বেপর্দা, অহংকারী, তারা কপট নারী, তাদের মধ্যে লাল রঙের ঠোট ও পা-বিশিষ্ট কাকের মত (বিরল) সংখ্যক বেহেস্তে যাবে।” (বাইহাকী ১৩২৫৬নং)
এমন নারীদের ভাগ্যে তওবার সুযোগ কমই ঘটে। তাই অনুরূপ বিরল কাকের মতো বিরল সংখ্যক মুনাফিক নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে; যদি তাদের ঈমান ও আমলে তওহীদ থাকে, শির্ক না থাকে এবং বিশ্বাসগত মুনাফিকী না থাকে। এমন নারী বেপর্দা ও তারা নিজেদের দেহ বা দেহাংশ এমন পুরুষকে দেখায়, যার জন্য দেখা বৈধ নয়। দেহাঙ্গে ঠিকমতো কাপড় রাখে না। অথবা এমন কাপড় রাখে, যার উপর থেকে ভিতরের সব কিছু দেখা যায়। এমন নারী অহংকারী ও মানুষকে তুচ্ছ করে। কথা ও কর্মে গর্ব প্রকাশ করে। নিজ অলংকার-পোশাক, ঘর-বাড়ি, মায়ের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি বা স্বামী-সন্তান নিয়ে ফখর ও ফুটানি করে। বিশেষ করে নিজ ভর্তা ও কর্তা (স্বামী)কে ছোট করে। কথা ও আচরণে তাকে হেনস্থা করে। তাকে ভেড়া বানিয়ে রাখে। তার আচরণিক শ্লোগান থাকে, স্বামী আমি জানি না, পরের ছেলে মানি না।
শ্বশুরবাড়ির লোককেও কোন পরোয়া করে না। কারো কথা শোনেনা, হক গ্রহণ করে না, কারো উপদেশ মেনে নেয় না। কথায় কথায় তর্ক ও ঝগড়া করে, বড়দেরকে কোন পাত্তাই দেয় না।
আর হাদীসে এসেছে, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (মুসলিম ২৭৫নং)
এমন নারী মুনাফিকঃ আর কর্মগত মুনাফিকের গুণ হল পাঁচটি। (১) তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। (২) কথা বললে মিথ্যা বলে। (৩) ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে। (৪) চুক্তি করলে ভঙ্গ করে। এবং (৫) ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে। (বুখারী, মুসলিম)
এমন অহংকারী মেয়ে কথায় কথায় স্বামীর কাছে তালাক চায়। পান থেকে চুন খসতেই বলে ওঠে, ‘আমাকে তালাক দাও!’ হাদীসে এসেছে,
((الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ)).
“খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।” (আহমাদ ৯৩৫৮, নাসাঈ ৩৪৬১, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৩২নং)
আর অকারণে তালাক চায়, এমন মেয়েরা জান্নাতের নিকট থেকে ৪০, ৭০ বা ৫০০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থানে থাকবে,
মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
((أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ)).
“যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে, সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।” (আহমাদ ২২৩৭৯, আবু দাউদ ২২২৬, তিরমিযী ১ ১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫নং, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩ ১৬, সহীহুল জামে' ২৭০৬নং)।

সংগ্রহেঃ আব্দুল হামীদ আল-ফাইজী আল-মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।

Monday, 4 February 2019

নামায/স্বলাত, এক পৃষ্ঠায়


কালিমার সাক্ষীর পর নামায ইসলামের সর্বাধিক তাগিদপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ইসলামের সবচেয়ে বড় ও সব্বোর্ত্তম প্রতীক। নামাযকে অবহেলা ও তুচ্ছ মনে করে না কিন্তু যে ইসলামকে তুচ্ছ মনে করে। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি যে নামাযকে হাল্কা মনে করে সেই হচ্ছে নামায তুচ্ছকারী, ইসলামকে হেয়কারী ও অবমাননাকারী।
ইসলামের সাথে তাদের অংশীদারিত্ব, তাদের নামাযের অংশীদারিত্ব অনুপাতে নির্ণয় হবে, ইসলাম সম্পর্কে তাদের আগ্রহ তাদের নামাযের আগ্রহ হিসাবে বিবেচিত হবে। তাই হে বান্দা! একটু নিজের সম্পর্কে চিন্তা করো। জেনে রাখো, ইসলামে তোমার অংশীদারিত্ব এবং তোমার নিকট ইসলামের মর্যাদা, তোমার নামাযের অংশীদারিত্ব ও তার মর্যাদা অনুপাতে হবে।
ইসলামে নামাযের সুমহান মর্যাদা রয়েছে, যার গুরুত্ব ও মর্যাদা নিম্নে বর্ণিত দলীদাদির মাধ্যমে অনুধাবন করা যেতে পারেঃ
১-নামায ইসলামের স্তম্ভ, যা ব্যতীত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না। মুআয (রাযিঃ) এর হাদীসে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, “সব বিষয়ের মুন্ডু হচ্ছে ইসলাম, তার খুঁটি হচ্ছে নামায এবং তার সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে জিহাদ”। [ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ বলেছেন] আর যদি স্তম্ভ ভেঙ্গে যায়, তাহলে তার উপর নির্মিত বস্তুও ভেঙ্গে যায়।
২-বান্দার আমলের প্রথম হিসাব নামায দ্বারা শুরু হবে, আমলের সঠিকতা ও বেঠিকতা নামাযের সঠিক ও বেঠিক হওয়ার উপর নির্ভর করবে। আনাস বিন মালেক নবী (সাঃ) হতে বর্ণনা করেনঃ“কিয়ামত দিবসে বান্দার প্রথম হিসাব হবে নামাযের হিসাব। যদি তা সঠিক হয় তো সব আমল সঠিক হবে আর যদি তা বাতিল হয় তো সব আমল বাতিল হয়ে যাবে”। [হাদীসটিকে ত্বাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]
৩-নামায হচ্ছে দ্বীনের ঐ বিধান যা, সব শেষে বিলুপ্ত হবে। আর যখন দ্বীনের শেষাংশ বিদায় নিবে, তখন কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আবু উমামা হতে মরফূ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, “অবশ্যই ইসলামের হাতল এক এক করে ভেঙ্গে যাবে। যেমন যেমন একটি হাতল ভাংবে তেমন তেমন লোকেরা তার পরেরটি ধারন করবে। প্রথম হাতল যেটি নষ্ট হবে সেটি হবে বিধানের হাতল আর শেষেরটি হবে নামায”। [হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেন এবং আলবানী সহীহ বলেন]
৪-নামায হচ্ছে, উম্মতের উদ্দেশ্যে নবীজীর শেষ উপদেশ। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) এর শেষ উপদেশের মধ্যে ছিল, “ নামায নামায এবং তোমাদের দাস-দাসীদের” (হেফাযত করবে)। [হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেন এবং আলবানী সহীহ বলেন]
৫-নামায কায়েমকারীদের আল্লাহ প্রসংশা করেন এবং তাদের প্রশংসা করেন যারা তাদের পরিবারকে নামাযের আদেশ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (এ কিতাবে উল্লেখিত ইসমাঈলের কথা স্মরন কর, সে ছিল ওয়াদা রক্ষায় সত্যবাদী, আর ছিল একজন রসূল ও নবী। সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের হুকুম দিত আর সে ছিল তার প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্টির পাত্র)। [সূরা মারইয়াম, ৫৪-৫৫]
৬-আল্লাহ তাআলা নামায নষ্টকারী এবং তা থেকে অলসতাকারীদের তিরস্কার করেছেন। তিনি বলেনঃ (অতঃপর তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীরা, তারা নামায হারালো, আর লালসার বসবর্তী হল। তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।) [মারইয়াম-৫৯] আল্লাহ মুনাফেকদের সম্পর্কে বলেনঃ (তারা যখন নামাযের জন্য দাঁড়ায়, তখন শৈথিল্যভরে দাঁড়ায়, লোক দেখানোর জন্য, তারা আল্লাহকে সামান্যই স্মরণ করে)। [আন্ নিসা-১৪২]
৭-নামাযের মর্যাদা এতেও অনুমান করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তা যমীনে জিবরিলের মাধ্যমে ফরয করেন নি; বরং মেরাজের রাতে সপ্তাকাশে কোন মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ফরয করেন।
৮-প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়, যা নামাযের সাথে মহান আল্লাহর ভালবাসার পরিচয়। অতঃপর বান্দাদের সহজার্থে দিবা-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত করা হয়। তাই আল্লাহর পরিমাপে এটা ৫০ ওয়াক্তের সমান কিন্তু পালনের ক্ষেত্রে তা পাঁচ ওয়াক্ত যা, নামাযের বড় মর্যাদার প্রমাণ।
৯-আল্লাহ তাআলা সফলকামদের কাজের বর্ণনা নামাযের মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং তাদের কাজের শেষ নামাযের বর্ণনার মাধ্যমেই শেষ করেছেন, যা এই বিধানের গুরুত্ব বুঝায়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করে। যারা অসার কথাবার্তা এড়িয়ে চলে। যারা যাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজের যৌনাঙ্গের সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, কারণ এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত।……. আর যারা নিজের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান। তারাই হল উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউস জান্নাতের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে)। [মুমিনূন,১-১১]
১০-নামায ভুলে যাওয়া কিংবা নামায ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়া ব্যক্তিকেও নামায কাযা করার আদেশ করা হয়েছে, যা এই বিধানের অধিক গুরুত্ব বুঝায়। নবী (সাঃ) বলেনঃ “যে নামায হতে ঘুমিয়ে যায় কিংবা নামায ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ আসার সাথে সাথে তা পড়ে নেয়, এ ছাড়া এর কোন অন্য কাফ্ফারা নেই”। [বুখারী-মুসলিম]

প্রস্তুতকারকঃ দাওয়াহ অফিস, রাওদা, রিয়াদ। (মূল, আরবী)।
অনুবাদেঃ শায়খ আব্দুর রাকীব মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।

Sunday, 20 January 2019

মহান আল্লাহর স্বার্থপর বান্দা

বেনামাযী মহান আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু তার আনুগত্য করে না, সুস্থ ও সুখী থাকলে তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ে না। অবশ্য কোন কাতে পড়লে, বিপদে পড়লে, মরণের মুখে পতিত হলে ভয়ে নামায পড়ে। এমন নামাযীর উদ্দেশ্যে বিদ্রুপ করে বলা হয়, “গুঁতোয় পড়লে ছুঁচোয় নামায পড়ে!” যেমন বলা হয়, “কুঁদের মুখে বাঁশ বাঁকা থাকে না, সোজা হয়ে যায়।“ অবশ্য অনেকে সোজা হয়ে বিপদ কাটার পর আবার বাঁকা হয়ে যায়। হাসপাতালে তওবা করে এবং ওয়াদা করে, আর নামায ছাড়বে না। তারপর সুস্থ হয়ে ফিরে এসে দিন কতক নামায পড়ে। কিন্তু ওয়াদা ভুলে আবার নামায ছেড়ে দেয়। চাকরি হয় না, রুযী-রুটীর টানাটানি। মা-বোন ভাত পায় না, সংসারে বড় অভাব। একটা চাকরি চাইই। আল্লাহর কাছে কাঁদাকাটি করে, দাড়ি রাখে, নামায পড়ে, মুনাজাত করে। তারপর? চাকরি হয়। সংসারে সুখের বাগানে নানা রঙের ফুল ফোটে। তারপর ধীরে-ধীরে নামায-রোযা বাদ চলে যায়। দাড়ির চেহারা নারীর চেহারায় পরিবর্তিত হয়! “কি এক আশে পড়ছিল নামায, আশা পুরিল তার,  আর রোযা নেই তাহার পরে নামায হইল ভার!” কেউ দুঃখ পেলে আল্লাহমুখী হয়। সুখ পেলে ভুলে যায়। কেউ সুখ পেলে আল্লাহর প্রতি খোশ থাকে, আর দুঃখ এলে তার প্রতি নাখোশ হয়। 

এ কেমন দ্বিমুখী মানুষ এরা? সুখে-দুঃখে সর্বদা সুমহান স্রষ্টার সন্তোষজন থাকতে পারে না এরা?
 মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} (11) سورة الحـج “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধার সাথে; তার কোন মঙ্গল হলে তাতে সে প্রশান্তি লাভ করে এবং কোন বিপর্যয় ঘটলে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়; সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইহকালে ও পরকালে; এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।” (হাজ্জঃ ১১)। উক্ত আয়াতে উল্লিখিত “হার্ফ” মানে প্রান্ত, কিনারা। কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি স্থিতিশীল ও নির্বিচল হয় না। এ রকমই যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহ, সংশয়, দ্বিধা ও অমূলক ধারণার শিকার, সেও বিচলিত ও অস্থির হয়; দ্বীনের উপর দৃঢ়তা অবলম্বন তার ভাগ্যে জোটে না। কারণ তার উদ্দেশ্য হয় শুধু পার্থিব স্বার্থ। যদি তা অর্জিত হয়, তাহলে ভাল। নচেৎ পুর্বধর্মে, অর্থাৎ কুফরী ও শির্কের দিকে ফিরে যায়। এর বিপরীত যারা সত্যিকার মুসলিম, ঈমান ও ইয়াকীনে সুদৃঢ়, তারা সুখ-দুঃখ না দেখেই দ্বীনের উপর অটল থাকে। আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং দুঃখ-দুর্দশায় ধৈর্য ধারণ করে। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসাবে এক দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির অনুরূপ আচরণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। (বুখারী, সুরা হাজ্জের তফসীর, আহসানুল বায়ান) কোন কোন মানুষ কেবল বিপদের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে। স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বিস্মৃত হয়! 
এমন মানুষদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,  {وَإِذَا غَشِيَهُم مَّوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ فَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُورٍ } (32) سورة لقمان “পর্বত (বা মেঘমালা সম তরঙ্গমালা যখন ওদেরকে ঢেকে নিতে চায়, তখন ওরা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ-চিত্ত হয়ে তাঁকে ডাকে। কিন্তু তিনি যখন ওদেরকে কুলে ভিড়িয়ে উদ্ধার করেন, তখন ওদের কেউ কেউ সরল পথে থাকে। কেবল বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে।” (লুক্বমানঃ ৩২)।

Friday, 21 December 2018

মাতৃভাষায় জুমার খুতবা দেয়ার বিধান

মাতৃভাষায় জুমার খুতবা দেয়ার বিধানঃ
▬▬▬▬ 🔹🔸🔹▬▬▬▬
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার খুতবায় আল্লাহর তারীফ করতেন, দরুদ পড়তেন, কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতেন এবং কিছু ওয়াজ-নছীহত ও করতেন। নবীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ
“আমি সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪)
রসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতৃভাষা যেহেতু আরবী ছিল এবং ছাহাবীদেরও ভাষা আরবী ছিল, তাই তিনি আরবীতেই তাদেরকে নছীহত করতেন। এখন যারা নবীজির নায়েব হয়ে জুমার খুতবা দিবেন তাদেরকেও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছ অনুসারে তাদের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরীয়ত সম্মত এবং যুক্তি সংগত।
💠 • এই কারণেই ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: প্রত্যেক খতীবকে জুমার সময় তাঁর মাতৃভাষায় ওয়াজ করা ওয়াজিব বা অবশ্য কর্তব্য। (তানক্বীহুর রুওয়াত ১/২৬৪)
💠 • আল্লামা তাহাভী হানাফী বলেন: জুমার খুতবা আরবী জানলেও ফারসী ভাষায়ও চলবে। (হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাক্বিল ফালাহ ২৭)
💠 • আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী হানাফী (রহ.) বলেন: শ্রোতাদেরকে তাদের মাতৃভাষায় খুতবা বুঝিয়ে দেয়া জায়েজ। (মাজমূআহ ফাতাওয়া ১/২৪৫)
💠 • হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ নিহায়া, মুজতাবা, ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ, মুহীত প্রভৃতি গ্রন্থে আছে যে, ইমাম আবূ হানীফার মতে, ফারসী ভাষাতে জুমার খুতবা দেয়া জায়েজ।
💠 • হানাফী ফতোয়ার কিতাব শামীতে আছে, আরবী ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত নয়।
💠 • হানাফী ফিকহ গ্রন্থ হিদায়ায় আছে, প্রত্যেক ভাষায় খুতবার নছীহত চলতে পারে। (কিতাবুল জুমআহ ৫৫-৫৬) (আলোচনা দ্র: আইনী তোহফা সলাতে মুস্তফা ১/৯৮-৯৯)
💠 খুতবারা আগে বয়ান একটি বিদআত:
নিজ ভাষায় খুতবা না দেয়ার কারণে যেহেতু তা মানুষের বোধগম্য হয় না এজন্যই এই খুতবার আগে খতীবগণ বয়ানের ব্যবস্থা রেখেছেন, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি জঘন্যতম বিদআত। কারণ খুতবা দানের পূর্বে বয়ান দেয়া এবং ইহাকে এভাবে স্থায়ী রূপ দেয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আদৌ প্রমাণিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবার পূর্বে কখনো এ ধরণের বয়ান দেন নি। দিতে বলেছেন বলে ও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
এজন্যই এ সঊদী আরবের বরেণ্য মুফতী শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ:)কে মাতৃভাষায় খুতবা প্রদান সম্পর্কে সওয়াল করা হলে তিনি তা সরাসরি জায়েজ বলে মন্তব্য করেন এবং একথা স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, খতীবকে নিজ ভাষায় খুতবা দিতে হবে। (দেখুন: শাইখ ইবনে উসাইমীনের ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম)
বর্তমানে আমাদের দেশের বেশ কিছু জামে মসজিদে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়া হয়ে থাকে। বস্তুত: এটাই সুন্নত। এর বিপরীত সুন্নত বিরোধী কাজ যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক ইলম দান করুন এবং যাবতীয় বিদআত পরিত্যাগ করার তাওফীক দিন (আমীন)
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
লেখক: শাইখ আখতারুল আমান বিস আব্দুস সালাম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

Thursday, 11 October 2018

সাইয়েদ কুতুব

আস'সালামু আ'লাইকুম ওয়া রাহ'মাতুল্লাহি ওয়া বারা"কাত্বহ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা-র জন্য এবং অসংখ্য সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা,
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি ইখোয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড), জামাতে ইসলামী, বা এমন অন্যান্য চরমপন্থী দলগুলোর আদর্শ গুরুদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যক্তিত্ব " সাইয়েদ কুতুবের "আকিদা, মানহাজ এবং তার সম্পর্কে যুগ শ্রেষ্ঠ উলামাদের মতামত সম্বলিত প্রবন্ধ নিয়ে!
দ্বীন কায়েম, খিলাফত প্রতিষ্ঠা, ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কথিত ‘ইসলামিক আন্দোলন’ এর মতাদর্শ প্রচারকারী এবং খাওয়ারিজদের ধর্মীয় গুরু হিসেবে পরিচিত "সাইয়েদ কুতুবের" নাম টা শুনে নি এমন মানুষ কম ই পাওয়া যাবে! কেউ কেউ তাকে "শহিদ কুতুব " বলেও অভিহিত করেন!
যাইহোক, "কে এই কুতুব "সেই সম্পর্কে আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব (ওয়া'মা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ)
❒ কুতুবের জন্ম ও শৈশবঃ
-------------------------------------
সাইয়েদ কুতুব ১৯০৬ সালে মিসরের উসইউত জেলার মুশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন! সাইয়েদ কুতুবের মূল নাম হলো সাইয়েদ" এবং "কুতুব" হল তার বংশীয় উপাধি!যতটুকু জানা যায় তার পূর্বপুরুষরা আরব উপদ্বীপ থেকে এসে মিসরের উত্তরাঞ্চলে বসবাস শুরু করেন।পিতার হাজী ইবরাহীম কুতুব ছিলেন একজন কৃষক! দুই ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে "সাইয়েদ কুতুব "ই ছিলেন সবার বড়"! অন্য ভাই হলেন মুহাম্মাদ কুতুব আর বোনেরা হলেন হামিদা কুতুব এবং আমিনা কুতুব আরেকজনের নাম জানা যায়নি!
❒ শিক্ষা ও কর্মজীবন:
---------------------------------
প্রথমেই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইয়েদ কুতুবের শিক্ষাজীবন শুরু হয়।তারপর কায়রোর বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৩৩ সালে সেখান থেকে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন এবং সেখানেই অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
কিছুকাল অধ্যাপনা করার পর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুল ইন্সপেক্টর নিযুক্ত হন। মিসরে এই পদটিকে অত্যন্ত সম্মানজনক বিবেচনা করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই তাকে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি পড়াশোনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
দু’বছরের কোর্স শেষ করে আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর পরই ইখওয়ানুল মুসলিমিন দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলেন এবং ১৯৪৫ সালে তিনি ওই দলের সদস্য হয়ে যান। তারপরেই একে একে ভিবিন্ন কিতাবাদি রচনা শুরু করেন!
❒ সাইয়েদ কুতুবের আকিদাঃ
-----------------------------------------

Wednesday, 10 October 2018

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (৩য় পর্ব)



১ম পর্ব ২য় পর্ব ৩য় পর্ব

জুম'আ

জুমআর নামায
জুমআর নামায প্রত্যেক সাবালক জ্ঞান-সম্পন্ন পুরুষের জন্য জামাআত সহকারে ফরয।

মহান আল্লাহ বলেন,

(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِذَا نُوْدِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ، ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ)

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর দিন নামাযের জন্য আহবান করা হবে, তখন তোমরা সত্বর আল্লাহর স্মরণের জন্য উপস্থিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন কর। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (কুরআন মাজীদ ৬২/৯)


মহানবী (সাঃ) বলেন, “দুনিয়াতে আমাদের আসার সময় সকল জাতির পরে। কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা সকলের অগ্রবর্তী। (সকলের আগে আমাদের হিসাব-নিকাশ হবে।) অবশ্য আমাদের পূর্বে ওদেরকে (ইয়াহুদী ও নাসারাকে) কিতাব দেওয়া হয়েছে। আমরা কিতাব পেয়েছি ওদের পরে। এই (জুমআর) দিনের তা’যীম ওদের উপর ফরয করা হয়েছিল। কিন্তু ওরা তাতে মতভেদ করে বসল। পক্ষান্তরে আল্লাহ আমাদেরকে তাতে একমত হওয়ার তওফীক দান করেছেন। সুতরাং সকল মানুষ আমাদের থেকে পশ্চাতে। ইয়াহুদী আগামী দিন (শনিবার)কে তা’যীম করে (জুমআর দিন বলে মানে) এবং নাসারা করে তার পরের দিন (রবিবার)কে।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত)

মহানবী (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেক সাবালক পুরুষের জন্য জুমআয় উপস্থিত হওয়া ওয়াজেব।” (নাসাঈ, সুনান ১৩৭১নং)

হযরত ইবনে মসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “আমি ইচ্ছা করেছি যে, এক ব্যক্তিকে লোকেদের ইমামতি করতে আদেশ করে ঐ শ্রেণীর লোকেদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিই, যারা জুমআতে অনুপস্থিত থাকে।” (মুসলিম ৬৫২নং,হাকেম)

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) ও ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তাঁরা শুনেছেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাঁর মিম্বরের কাঠের উপর বলেছেন যে, “কতক সম্প্রদায় তাদের জুমুআহ ত্যাগ করা হতে অতি অবশ্যই বিরত হোক, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে অবশ্যই মোহ্‌র মেরে দেবেন। অতঃপর তারা অবশ্যই অবহেলাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” (মুসলিম, সহীহ ৮৬৫ নং, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

হযরত আবুল জা’দ যামরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি বিনা ওজরে তিনটি জুমুআহ ত্যাগ করবে সে ব্যক্তি মুনাফিক।” (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ, সহিহ তারগিব ৭২৬নং)

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী (সাঃ) জুমআর দিন খাড়া হয়ে খুতবা দানকালে বললেন, “সম্ভবত: এমনও লোক আছে, যার নিকট জুমুআহ উপস্থিত হয়; অথচ সে মদ্বীনা থেকে মাত্র এক মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাযির হয় না।” দ্বিতীয় বারে তিনি বললেন, “সম্ভবত: এমন লোকও আছে  যার নিকট জুমুআহ উপস্থিত হয়; অথচ সে মদ্বীনা থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাজির হয় না।” অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি বললেন, “সম্ভবত: এমন লোকও আছে যে মদ্বীনা থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাজির হয় না তার হৃদয়ে আল্লাহ মোহ্‌র মেরে দেন।” (আবূ য়্যা’লা, সহিহ তারগিব ৭৩১নং)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি পরপর ৩ টি জুমুআহ ত্যাগ করল, সে অবশ্যই ইসলামকে নিজের পিছনে ফেলে দিল।” (ঐ, সহিহ তারগিব৭৩২নং)

জুমুআহ যাদের উপর ফরয নয়
১-২-৩। মহিলা, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি।

নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জামাআত সহকারে জুমুআহ ফরয। অবশ্য ৪ ব্যক্তির জন্য ফরয নয়; ক্রীতদাস, মহিলা, শিশু ও অসুস্থ।” (আবূদাঊদ, সুনান ১০৬৭নং)

৪। যে ব্যক্তি (শত্রু, সম্পদ বিনষ্ট, সফরের সঙ্গী ছুটে যাওয়ার) ভয়ে, অথবা বৃষ্টি, কাদা বা অত্যন্ত শীত বা গ্রীষ্মের কারণে মসজিদে উপস্থিত হতে অক্ষম।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি মুআযযিনের (আযান) শোনে এবং কোন ওজর (ভয় অথবা অসুখ) তাকে জামাআতে উপস্থিত হতে বাধা না দেয়, তাহলে যে নামায সে পড়ে, তার সে নামায কবুল হয় না।” (আবূদাঊদ, সুনান ৫৫১নং)

একদা ইবনে আব্বাস (রাঃ) এক বৃষ্টিময় জুমআর দিনে তাঁর মুআযযিনকে বললেন, ‘তুমি যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌’ বলবে তখন বল, ‘তোমরা তোমাদের ঘরে নামায পড়ে নাও।’ এ কথা শুনে লোকেরা যেন আপত্তিকর মনোভাব ব্যক্ত করল। কিন্তু তিনি বললেন, ‘এরুপ তিনি করেছেন যিনি আমার থেকে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ, আল্লাহর রসূল (সাঃ) এরুপ করেছেন। আর আমিও তোমাদেরকে এই কাদা ও পিছল জায়গার মাঝে বের হওয়াকে অপছন্দ করলাম।’ (বুখারী ৯০১, মুসলিম, সহীহ ৬৯৯নং)

প্রকাশ থাকে যে, যারা দূরের মাঠে অথবা জঙ্গলে অথবা সমুদ্রে কাজ করে এবং আযান শুনতে পায় না, তাছাড়া কাজ ছেড়ে শহর বা গ্রামে আসাও সম্ভব নয়, তাদের জন্য জুমুআহ ফরয নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৪১৪, ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/৩৯৯)

৫। মুসাফির :

মহানবী (সাঃ) জুমআর দিন সফরে থাকলে, জুমআর নামায না পড়ে যোহরের নামায পড়তেন। বিদায়ী হজ্জের সময় তিনি আরাফাতে অবস্থানকালে জুমআর নামায পড়েননি। বরং যোহ্‌র ও আসরের নামাযকে অগ্রিম জমা করে পড়েছিলেন। অনুরুপ আমল ছিল খুলাফায়ে রাশেদ্বীন (রাঃ) দেরও।

উপর্যুক্ত ব্যক্তিবর্গের জন্য জুমআর নামায ফরয নয়। কিন্তু যোহরের নামায অবশ্যই ফরয। পরন্তু যদি তারাও জুমআর মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআতে জুমুআহ পড়ে নেয়, তাহলে তা বৈধ। এ ক্ষেত্রে তাদের জুমুআহ হয়ে যাবে এবং যোহরের নামায মাফ হয়ে যাবে।

একাধিক হাদীস এ কথা প্রমাণ করে যে, মহানবী (সাঃ) এবং খুলাফায়ে রাশেদ্বীন (রাঃ) দের যুগে মহিলারা জুমুআহ ও জামাআতে উপস্থিত হয়ে নামায আদায় করত।

উল্লেখ্য যে, কোন মুসাফির জুমুআহ খুতবা দিলে ও ইমামতি করলে তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৫/২৩)

জুমআর জামাআতে কোন মুসাফির যোহরের কসর আদায় করার নিয়ত করতে পারে না। কারণ, যোহ্‌র অপেক্ষা জুমআর ফযীলত অনেক বেশী। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫৭৪)

জুমআর সময়
অধিকাংশ সাহাবা, তাবেঈন ও ইমামগণের নিকট জুমআর সময় যোহরের সময় একই। অর্থাৎ, সূর্য ঢলার পর থেকে নিয়ে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া (আসরের আগে) পর্যন্ত।

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, ‘নবী (সাঃ) জুমুআহ তখন পড়তেন, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশেঢলে যেত।’ (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, বায়হাকী)

ইমাম বুখারী বলেন, ‘জুমআর সময় সূর্য ঢলার পরই শুরু হয়। হযরত উমার, আলী, নু’মান বিন বাশীর এবং আম্‌র বিন হুয়াইরিষ কর্তৃক এ ব্যাপারে বর্ণনা পাওয়া যায়।’ (বুখারী)

হযরত সালামাহ্‌ বিন আকওয়া’ (রাঃ) বলেন, ‘আমরা যখন নবী (সাঃ)-এর সাথে জুমআর নামায পড়ে ঘরে ফিরতাম, তখন দেওয়ালের কোন ছায়া থাকত না।’ (বুখারী, মুসলিম,  আবূদাঊদ, সুনান)

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, ‘ঠান্ডা খুব বেশী হলে নবী (সাঃ) জুমআর নামায সকাল সকাল পড়তেন এবং গরম খুব বেশী হলে দেরী করে পড়তেন।’ (বুখারী)

অবশ্য সূর্য ঢলার পূর্বেও জুমুআহ পড়া বৈধ। (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য আল-আজবিবাতুন নাফেআহ্‌, আন আসইলাতি লাজনাতি মাসজিদিল জামেআহ্‌, মুহাদ্দিস আলবানী ২২-২৫পৃ:) তবে সূর্য ঢলার পরই জুমুআহর (খুতবার) আযান হওয়া উত্তম। কারণ, প্রথমত: এতে অধিকাংশ উলামার সাথে সহ্‌মত প্রকাশ হয়। দ্বিতীয়ত: যারা জুমআয়হাজির হয় না এবং সময়ের খবর না রেখে আযান শুনে নামায পড়তে অভ্যাসী (ওযরগ্রস্ত ও মহিলারা) সময় হওয়ার পূর্বেই নামায পড়ে ফেলে না। (লিকাউবাবিল মাফতূহ্‌, ইবনে উষাইমীন ৫/৩৪)

প্রকাশ থাকে যে, সকাল সকাল মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ সহ্‌ অন্যান্য নফল পড়া সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকার সময়ে হলেও তা নিষেধের আওতাভুক্ত নয়। (ঐ)

জুমআর জন্য নিম্নতম নামাযী সংখ্যা

জুমআর নামায যেহেতু জামাআত সহকারে ফরয, সেহেতু যে কয় জন লোক নিয়ে জামাআত হবে, সে কয় জন লোক নিয়ে জুমআহও প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট লোক সংখ্যা হাদীস থেকে প্রমাণিত নয়।

জুমআর স্থান
জুমুআহ যেমন শহরবাসীর জন্য ফরয, তেমনি ফরয গ্রামবাসীর জন্যও। এর জন্য খলীফা হওয়া, শহর হওয়া, জামে মসজিদ হওয়া বা ৪০ জন নামাযী হওয়া শর্ত নয়। বরং যেখানেই স্থানীয় স্থায়ী বসবাসকারী জামাআত পাওয়া যাবে, সেখানেই জুমুআহ ফরয। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২২/৭৫, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৪২৪)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘নবী (সাঃ)-এর মসজিদে জুমুআহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইসলামে সর্বপ্রথম যে জুমুআহ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হল বাহ্‌রাইনের জুয়াষা নামক এক গ্রামে।’ (বুখারী ৮৯২, ৪৩৭১, আবূদাঊদ, সুনান ১০৬৮নং)

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (২য় পর্ব)


১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব

দরুদ

তাশাহহুদের পর নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) নিজের উপর দরুদ পাঠ করতেন। (আহমাদ, মুসনাদ ৫/৩৭৪, হাকেম, মুস্তাদরাক) আর উম্মতের জন্যও তাঁর উপরের সালামের পর দরুদ পড়াকে বিধিবদ্ধ করেছেন। মহান আল্লাহর সাধারণ আদেশ রয়েছে, “--- হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর দরুদ পাঠ কর এবং উত্তমরুপে সালাম পেশ কর।” (কুরআন মাজীদ ৩৩/৫৬)

আর মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহ্‌মত বর্ষণ করবেন।” (মুসলিম,  মিশকাত ৯২১ নং)


অন্য এক বর্ণনায় আছে, “---এবং তার ১০টি পাপ মোচন হবে ও সে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত হবে।” (নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/৫৫০, মিশকাত ৯২২নং)

সাহাবাগণ তাঁকে বললেন, ‘আমরা আপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করব?’ তখন তিনি তাঁদেরকে দরুদ শিক্ষা দিলেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৯১৯-৯২০নং)

দরুদের শব্দবিন্যাস কয়েক প্রকার:-

১।اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
 উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ:- হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্‌মত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হযরত ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্‌মত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।

হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হযরত ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (বুখারী, মিশকাত ৯১৯নং)

২।  اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى أَزْوَاجِهِ وَ ذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلىآلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
  উচ্চারণ:- আল্লাহুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আযওয়া-জিহী অ যুরিয়্যাতিহী কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, অ বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আযওয়া-জিহী অ যুরির্য়াতিহী কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ:- হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের  উপর রহ্‌মত বর্ষণ কর যেমন তুমি হযরত ইবরাহীমের বংশধরের উপর রহ্‌মত বর্ষণ করেছ। এবং তুমি হযরত মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের  উপর বর্কত বর্ষণ কর যেমন তুমি হযরত ইবরাহীমের বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত  গৌরবান্বিত। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৯২০নং)

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ
كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ،
 উচ্চারণ:- আল্লা- হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মা দিঁ উঅআলা আহ্‌লি বাইতিহি অআলা আযওয়া-জিহি অযুরিGয়্যাতিহি কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আহ্‌লি বাইতিহি অআলা আযওয়া-জিহি অযুরির্য়াতিহী কামা বারাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। (আহমাদ, মুসনাদ ৫/৩৭৪, ত্বাহাকেম, মুস্তাদরাক)

Tuesday, 9 October 2018

স্বালাতে মুবাশ্‌শির

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (১ম পর্ব) 




শুরুর কথা 

শুরুর কথা সমূহ
মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ‘স্বালাতে মুবাশ্‌শির’-এর দ্বিতীয় খন্ড পাঠকের হাতে উপস্থিত হল। তার জন্য তাঁর দরবারে লাখো শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। দ্বীনের অন্যতম খুঁ টির একটি কাঠামো পেশ করতে পেরে আমি নিজেকে যেমন ধন্য মনে করছি, তেমনি আশা করছি দুআ ও সওয়াব লাভের।

কেবল সহীহ হাদীসকে ভিত্তি করেই, অধিক ক্ষেত্রে কে কি বলেছেন তা উল্লেখ না করেই কেবল সহীহ দিকটা তুলে ধরেছি আমার এই পুস্তিকায়। মানুষের মনে সহীহ শিক্ষার চেতনা ও বাসনার কথা খেয়াল রেখেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আল্লাহ যেন তা কবুল করেন, তাই আমার কামনা।

বিভিন্ন বিতর্কিত মাসায়েলে আমি বর্তমান বিশ্বের প্রধান ৩টি রত্ন; বর্তমান বিশ্বের অদ্বিতীয় মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দ্বীন আলবানী, আল্লামা শায়খ ইবনে বায এবং আল্লামা ও ফকীহ্‌ শায়খ ইবনে উষাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহু জামীআন)গণের হাদীস লব্ধ ও সহীহ দলীল ভিত্তিক মতকে প্রাধান্য দিয়েছি। আর এ কথা অবশ্যই প্রমাণ করে যে, আমি তাঁদের প্রত্যেকের; বরং প্রত্যেক হ্‌ক-সন্ধানী রব্বানী আলেমের ভক্ত ও অনুরক্ত। তা বলে কারো অন্ধভক্ত নই। পক্ষান্তরে প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য অধিকারীর অধিকার সঠিকরুপে আদায় করা। উলামার যথার্থ কদর করা। প্রত্যেক হ্‌ক-সন্ধানীর অনুরক্ত হওয়া; যদিও বা তাঁদের কোন কোন অভিমত আমার-আপনার বুঝের অনুকূল নয়। বলা বাহুল্য, খাঁটি সোনা স্বর্ণকারই চিনতে পারে; স্বর্ণ-ব্যবসায়ী নয়।

‘নামায’ ইসলামের প্রধান ইবাদত। ‘নামায’ শব্দটি ফারসী, উর্দু , হিন্দী ও আমাদের বাংলা ভাষায় আরবী ‘সালাত’ অর্থেই পরিপূ র্ণ রুপে ব্যবহৃত বলেই আমি ‘সালাত’-এর স্থানে ‘নামায’ই ব্যবহার করেছি। তাছাড়া বাংলাভাষীর অধিকাংশ মানুষ ‘সালাত’ শব্দটির সাথে পরিচিত নয়। তাই পরিচিত ও প্রসিদ্ধ শব্দই ব্যবহার করতে আমি প্রয়াস পেয়েছি। আর এতে শরয়ী কোন বাধাও নেই। সুতরাং এ বিষয়ে সুহৃদ পাঠকের কাছে আমার ইজতিহাদী  কৈফিয়ত পেশ করে সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিনীত
আব্দুল হামীদ আল-মাদানী
আল-মাজমাআহ সঊদীআরব

প্রয়োজনের তাকীদে যা কিছু লিখি, সবই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আল্লাহ যেন তা আমাকে দান করেন এবং কাল কিয়ামতে এরই অসীলায় আমাকে, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতা ও ওস্তাযগণকে, আর এ বই-এর উদ্যোক্তা, প্রকাশক ও সকল আমলকারী পাঠককে তাঁর মেহ্‌মান-খানা বেহেশ্তে স্থান দেন। আমীন।


নিয়ত

নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত

আমল ও ইবাদত শুদ্ধ-অশুদ্ধ এবং তাতে সওয়াব পাওয়া-না পাওয়ার কথা নিয়তের উপর নির্ভরশীল। নিয়ত শুদ্ধ হলে আমল শুদ্ধ; নচেৎ না। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়ত করে থাকে। যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব কোন বিষয় লাভের উদ্দেশ্যে হয়, সে ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়। যার হিজরত কোন মহিলাকে বিবাহ্‌ করার উদ্দেশ্যে হয়, তার প্রাপ্যও তাই। যে যে নিয়তে হিজরত করবে সে তাই পেয়ে থাকবে।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১নং)

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...