Thursday, 19 January 2023

আক্বীদার স্পর্শকাতরতা এবং তা অনুধাবনে আমাদের অক্ষমতা:

আব্দুর রাকীব বুখারী-মাদানী হাফিজাহুল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ: 

সম্মানিত পাঠকমন্ডলী! মুসলিম জীবনে আক্বীদা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার সারমর্ম হচ্ছে, দ্বীন ইসলামের এমন কিছু বিষয় যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা জরুরি। অর্থাৎ ইসলামের বিশ্বাসগত বিষয়াদিকে আক্বীদা বলা হয়, যা মূলত: ছয়টি বিষয়ের সমষ্টি। ১- মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। ২-মহান আল্লাহর ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস। ৩-মহান আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ গ্রন্থাদির প্রতি বিশ্বাস। ৪-মহান আল্লাহ প্রদত্ত রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস। ৫-শেষ দিন তথা কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস। ৬-ভাগ্য এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস এবং এ সবের আনুসাঙ্গীক বিষয়াদির প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের নাম হচ্ছে আক্বীদা। 

আক্বীদার সম্পর্ক অন্তরের সাথে যা, দেখার বা মাপ করার বাহ্যত কোন যন্ত্র নেই। তবে মানুষ যা বিশ্বাস করে, যা আস্থা রাখে, তার ফলাফল সাধারণত: তার কথা ও কাজে ফুটে উঠে। তাই মানব সমাজ যাকে উপাস্য বিশ্বাস করে, সে তার উপাসনা করে। অর্থাৎ তার এই বিশ্বাসটি যদিও তার অন্তরের ব্যাপার কিন্তু তার ফলাফল তার উপাসনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। 

এই বিশ্বাসের কারণেই কিন্তু জগতের মানুষ মুমিন এবং মুশরিক দুই দলে বিভক্ত। এই বিশ্বাসের কারণেই কিন্তু জান্নাত কিংবা জাহান্নাম। এই বিশ্বাসের কারণেই কিন্তু মানুষ ভাল ও মন্দ দুই ভাগে বিভক্ত। মানব সমাজ বাহ্যত দেখতে একই রকমের হলেও এই বিশ্বাসের কারণেই কিন্তু জগতবাসীর মধ্যে পার্থক্য ও তফাৎ বিরাজমান।

আক্বীদার স্পর্শকাতরতার উদাহারণ: 

১-ইসলামী আক্বীদার মৌল বিষয়াদির একটি হচ্ছে, আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এর বহু দিক রয়েছে তন্মধ্যে ধরুন: যে সব নবীগণের নাম কুরআনে উল্লেখ হয়েছে সে সমস্ত নবীগণকে তাঁদের নাম সহ বিশ্বাস করা। এ মর্মে যে, তারা সকলে নবী এবং রাসূল ছিলেন। আর যে সব নবীদের নাম বর্ণনা হয়নি সে সব নবীগণকে সাধারণভাবে বিশ্বাস করা যে, কুরআনে উল্লেখিত নবীগণ ছাড়াও আরোও যে সমস্ত নবী এই ধরাধমে এসেছিলেন আমরা তাদেরকেও নবী হিসাবে বিশ্বাস করি। অত:পর তাদের প্রথম ছিলেন আদম আলাইহিস সালাম এবং তাদেঁর শেষ হচ্ছেন প্রিয়নবী মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এখন যদি কেউ বলে, আমি এ সকল নবীগণের প্রতি বিশ্বাস রাখি শুধু এতটুকু ছাড়া যে, শেষ নবী মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি শেষ নবী আমি এটা বিশ্বাস করি না; বরং শেষ নবী আরো কেউ হতে পারে, তাহলে সে আর মুসলিম হতে পারে না। এটাই ইসলামের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এখানে আক্বীদার স্পর্শকাতরতা লক্ষণীয়। সে সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস রাখার পর শুধু এই বিশ্বাস পরিত্যাগ করায় ইসলামের গন্ডী থেকে বের হয়ে গেল। এমন নয় যে, সে কোনো পাপ করল বরং এটি অমার্জনীয় অপরাধ।

এখানে এতটুকু আক্বীদার বিচ্যুতিতে বহু বড় বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে বাধ্য যা,  ইসলামের মূল উদ্দেশ্যে আঘাত হানবে এবং ইসলাম বিধ্বংস হয়ে যাবে। যেমন এই বিচ্যুতির ফলে আরো নবীর আগমণের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এবং নবী মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর নবুওতের ভন্ড দাবীদার প্রকাশ পাবে। তাদেরও অনেকে নবী হিসাবে স্বীকার করবে। তারাও কিছু বাণী তথা বিধান প্রনয়ণ করবে এবং সে সবকে আল্লাহর বাণী আখ্যা দিবে অথচ তা হবে ডাহা মিথ্যা। এভাবে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ হয়ে মূল উদ্দেশ্য ধ্বংস হবে। আর জগতবাসী পথহারা হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে। যে উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ নবী ও রাসূলগণ প্রেরণ করেছিলেন তাই ধ্বংস হয়ে যাবে।  

২-ইসলামী আক্বীদার মৌলিক বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এ মর্মে বিশ্বাস রাখা যে তিনি এক। তিনিই একমাত্র সত্য উপাস্য। তিনি ছাড়া অন্যের উপাসনা নিষিদ্ধ। তিনি জগতের পরিচালক, ব্যবস্থাপক এবং নিয়ন্ত্রক। তিনি যা চান তাই হয় আর যা চান না তা হয় না। তাঁর বহু নাম ও গুণ রয়েছে যেমন তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর ধারক, ক্ষমতাবান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ইত্যাদি। এখন যদি কেউ বলে, আমি আল্লাহর সমস্ত গুণ স্বীকার করি কিন্তু এটা বিশ্বাস করি না যে, তিনি বাক্যালাপ করেন, কথা বলেন। এই গুণ আমি মানি না। আমি এটা বিশ্বাস করি না। তাহলে সে আর মুসলিম থাকতে পারে না। 

প্রশ্ন করতে পারেন: কেন সে আর মুলিম থাকতে পারে না? কারণ ইসলামী বিশ্বাসে তার এতটুকু বিচ্যুতির ফলে বহু বড় বড় সমস্যা সৃষ্টি হবে। যেমন, মহান আল্লাহ যদি বাক্যালাপের গুণে গুণান্বিত না হন, তাহলে কুরআন আল্লাহর বাণী বা আল্লাহর কথা সাব্যস্ত হতে পারে না। আর তা না হলে কুরআন অকাট্ট প্রমাণ হতে পারে না এমনকি মর্যাদাবান গ্রন্থ ও হতে পারে না। তার তিলাওয়াতে অক্ষরে অক্ষরে সওয়াবও হতে পারে না, তা পড়তে পাক-পবিত্রতারও প্রয়োজন হতে পারে না। নবী-রাসূলদের প্রতি প্রদত্ত অহী গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে কারণ তা তাদের নিজের বাণী আল্লাহর নয়, ইত্যদি। 

আর এখানেই রয়েছে আক্বীদার স্পর্শকাতরতা, যা আমরা অনেকে বুঝি না বা বুঝতে চাই না।   

উল্লেখ্য, আক্বীদা ত্বহাভিয়ার ব্যাখ্যায় জাআদ বিন দিরহাম নামক এক জাহমী ব্যক্তির হত্যার ঘটনা উল্লেখ হয়েছে। সে মহান আল্লাহর বাক্যালাপ করা অস্বীকার করলে ইরাক এবং পূর্ব প্রদেশের গভর্ণর খালেদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাসরী তাকে মৃত্যুদন্ড দেন। কুরবানীর দিনে গভর্ণর প্রথমে খুত্ববা দেন। তারপর বলেন: “হে লোকেরা তোমরা কুরবানী করো, আল্লাহ তাআ’লা তোমাদের কুরবানী কবুল করুক। আর আমি কুরবানী করতে যাচ্ছি জাআদ বিন দিরহামকে। সে বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ নবী ইবরাহীম আ: কে খলীল অর্থাৎ পরম বন্ধু বানান নি এবং তিনি মুসা আ: এর সাথে বাক্যালাপ করেন নি। একথা বলার পর তিনি মেম্মাবর থেকে নেমে সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড দেন। এই দন্ড সেই সময়কার তাবেঈনদের বড় বড় উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়”। [শারহুল আক্বীদা আত্বহাভিয়্যা ১/২৭৩]

৩-স্বহীহ মুসলিমে ইয়াহইয়া বিন ইয়া’মুর এবং হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান হিময়ারী দুই জন তাবেয়ীর একটি সুন্দর ঘটনা উল্লেখ হয়েছে। তারা উভয়ে হজ্জ কিংবা উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কা রওয়ানা দেন। যে সময় বাসরায় তক্বদীর অস্বীকারকারী লোক প্রকাশ পেয়েছিল। তারা দুজনে মক্কায় পৌঁছানোর পর রাসূলুল্লাহর কোনো সাথী অর্থাৎ সাহাবীর সাক্ষাতের আকাংখা করেন। যেন এই কাদারী সম্প্রদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। ইতিমধ্যে উমার বিন খাত্তাবের পুত্র আব্দুল্লাহর সাথে তাদের মসজিদে সাক্ষাৎ ঘটে। তারা অধীর আগ্রহের সাথে তাঁর সান্নিধ্যে বসে প্রশ্ন করেন: হে আবু আব্দুর রহমান! (উব্দুল্লার উপনাম) আমাদের দিকে কিছু এমন লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুরআন পড়ে এবং শরীয়তের খুব সুক্ষ্ম বিষয়গুলির অনুসন্ধান করে। অত:পর বললেন: তারা মনে করে তকদীর বলে কোনো কিছু নেই। বিষয়াদি এমনি এমনি হয়ে থাকে। তখন আব্দুল্লাহ তাদের বললেন: ওদের সাথে সাক্ষাৎঘটলে তাদের বলে দিবে: আমি তাদের থেকে সম্পর্ক বিচ্ছেদের ঘোষণা করছি এবং তাদের সম্পর্ক আমার থেকে বিচ্ছিন্ন। উমারের পুত্র আব্দুল্লাহ কসম খাচ্ছে, তাদের কারো নিকট যদি উহুদ পর্বত সমতুল্য স্বর্ণ থাকে আর সে তা আল্লাহর রাহে খরচ করে দেয়, তবুও আল্লাহ তার কোনো দান কবুল করবেন না; যতক্ষণে সে ভাগ্যের প্রতি ঈমান না আনে। অত:পর তিনি তাদের হাদীসে জিবরীল বয়ান করেন। [স্বহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং ৯৩] 

এখানে আক্বীদার স্পর্শকাতরতা লক্ষ্য করুন, ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস ঈমানের অঙ্গ। আর তা অস্বীকারকারী রাসূলের যুগে ছিল না। তাবেয়ীদের যুগে বাসরায় এর প্রথম প্রকাশ ঘটে। এর ফলে সেখানকার লোকেরা কত চিন্তিত ছিলেন যে, তারা মক্কায় এসে সাহাবীয়ে রাসূল খোঁজ করেন এবং সাক্ষাৎ হলে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। অত:পর সাহাবীর উত্তর এবং উত্তরের কঠোরতা লক্ষ্য করুন। কি ভাষায় এই ভ্রান্ত আক্বীদার তিনি কঠোর খন্ডন করেন এবং হুশিয়ারি দেন। 

৪-মুসলিম জামাআত হতে প্রথম বিচ্ছিন্ন ফেরকার নাম হচ্ছে, খাওয়ারিজ। তাদের বিশ্বাস যে, কাউকে ততক্ষণে মুমিন বলা যেতে পারে না, যতক্ষণে সে ইসলামের সমস্ত ওয়াজিব কাজ না করে এবং সমস্ত বড় পাপ থেকে দূরে না থাকে। তাই যদি কেউ কোনো একটি বড় পাপ করে ফেলে তাহলে সে তৎক্ষণাত ঈমান হতে বের হয়ে যায়। তাদের মন্তব্যসমূহের সারাংশ হচ্ছে, আল্লাহ এবং তার রাসূল যা আদেশ করেছেন তার সমষ্টির নাম ঈমান তা বিভক্তযোগ্য নয়। যদি ঈমানের কিছু অংশ চলে যায় তাহলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সে ব্যাক্তি কাফেরে পরিণত হয়। [মাওসূআতুল ফিরাক আল মুন্তাসাবাহ লিল্ ইসলাম, মাকতাবা শামেলা হতে গৃহীত ৩/৫৩]

উল্লেখ্য, এটিও একটি আক্বীদা কিন্তু তা ভ্রান্ত আক্বীদা। এর ফলাফল এত মারাত্বক যে, কালিমা পাঠকারী এবং বিভিন্ন আমলকারী এক জন মুসলিমকে তারা কোনো একটি বড় পাপের ফলে ইসলাম হতে বিচ্ছিন্ন মনে করে এবং তাকে কাফির গণ্য করে। 

এই আক্বীদা কত স্পর্শকাতর বিষয় তা, খারেজীদের এই আক্বীদা থেকে অনুমান করা যেতে পারে।

৫-ইসলামের নামে আত্বপ্রকাশকারী আর এক ফেরকার নাম হচ্ছে, মুরজিয়া ফেরকা। তারা মনে করে, ঈমান কেবল আল্লাহকে বিশ্বাস করার নাম বা তার পরিচয় লাভ করার নাম। আর তাদের কেউ কেউ আবার এমনও বলেছে যে, ঈমান কেবল আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং মুখে স্বীকার করার নাম। এর সাথে সাথে আমল করার দরকার নেই। অর্থাৎ তারা ঈমান কেবল মুখে স্বীকার করাকে মনে করে, আমল করাকে ঈমানের অংশ মনে করে না। [আল কাদারিয়া ওয়াল মুরজিয়া, নাসের আল আক্বল পৃ: ৭৭]

এটি সেই ভ্রান্ত দলের আক্বীদা। আপনি এখানে আক্বীদার স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করুন। যদি শুধু আল্লাহর পরিচয় লাভ করা কিংবা আল্লাহকে অন্তরে স্বীকার করার নাম ঈমান হয়, তাহলে এর ফলাফল দাঁড়ায় যে, ইবলিশ শয়ত্বান এবং আল্লাহর বড় শত্রু ফিরআউন ও মুমিন; কারণ ইবলিশ আল্লাহকে স্বীকার করে এবং ফেরাউন উপরে উপরে আল্লাহকে অস্বীকার করলেও অন্তরে সে আল্লাহকে বিশ্বাসকারী ছিল যেমনটি আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন। [ সূরা নামল/১৪ ] এমনকি মক্কার মুশরিকরা এবং এ যুগের হিন্দু বৌদ্ধ ও অন্যান্য গোষ্ঠিরাও মুমিন কারণ এরা সকলে আল্লাহকে স্বীকার করে, তাঁকে অন্তরে মানে। তাইতো তারা কোনো না কোনোরূপে ঈশ্বরের আরাধনা করে।

অন্তরে আল্লাহর পরিচয় এবং মুখে তা স্বীকার করাই যদি ঈমান হয়ে যায়, তাহলে স্বলাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত সহ ইসলামের বহু মৌল বিধানের কোনো প্রয়োজন থাকে না! 

৬-এবার বর্তমান যুগের কিছু লোকের আক্বীদার একটি উদাহরণ পেশ করবো। অনেকে বলে থাকে: “আল্লাহর নূরে নবী সৃষ্টি আর নবীর নূরে সারা জগত সৃষ্টি”। অর্থাৎ তারা নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহান আল্লাহর নূর বিশ্বাস করেন। এখন আক্বীদার স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করুন। যদি মহান আল্লাহর নূরে নবী সৃষ্টি হন, তাহলে নূরী নবী আল্লাহর অংশ হয়ে যান। অত:পর যদি নবীর নূরে সারা জগৎ সৃষ্টি হয়, তাহলে যমিন-আসমান, গাছ-গছালি, পশু-পাখি এমনকি মানব সম্প্রদায়ও নবীর নূরে সৃষ্টি হবে। ফলে কাফের মুশরিক, গরু ছাগল, কুকুর-বেড়াল এমনকি শুকরও নবীর নূরের অংশ গণ্য হবে। আর গভীরভাবে চিন্তা করলে স্পষ্ট হবে যে, পৃথিবী ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর অংশ। কারণ আল্লাহর নূরে নবী সৃষ্টি আর নবীর নূরে জগত সৃষ্টি। ফলাফল স্বরূপ মহান আল্লাহর সত্ত্বা আর একক অদ্বিতীয় থাকে না; বরং তাঁর সত্ত্বা হতে সবকিছু সৃষ্টি হলে তাঁর সত্ত্বায় অংশী করা হয়। আর এর চেয়েও জঘন্য ফলাফল দাঁড়ায় যে, জগতের সবকিছু আল্লাহর অংশ আর এটিই তো হচ্ছে, সর্বেশ্বরবাদের কুফরি আক্বীদা!  

৭- ইসলামের মৌলিক আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, মহান আল্লাহ জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়কে তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: (আমি জ্বিন এবং ইনসানকে কেবল আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি) [যারিয়াত/৫৬] অনুরূপ ইসলামে এটিও একটি মৌল আক্বীদা যে, মহান আল্লাহ সমস্ত নবী ও রাসূলগণকে এ কারণে প্রেরণ করেছিলেন যেন, তারা জগতবাসীকে কেবল তাঁর ইবাদত করার জন্য আহব্বান করে। মহান আল্লাহ বলেন: ([হে নবী] তোমার পূর্বে আমি যত রাসূল প্রেরণ করেছি, তাদের এটাই প্রত্যাদেশ করেছি যে, আমি ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ (উপাস্য) নেই তাই তোমরা সকলে আমার ইবাদত করো) [আম্বিয়া/২৫] এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহব্বান হচ্ছে, তাওহীদের আহব্বান এবং একমাত্র তাঁর ইবাদত করা হচ্ছে তাওহীদ বাস্তবায়ন করা।

এখন যদি কেউ এমন বিশ্বাস করে যে, নবী এবং রাসূলগণ পৃথিবীতে তাওহীদ নয় বরং ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করতে এসেছিলেন এবং এই কাজটিই ছিল তাদের বড় দায়িত্ব। আর এটিই হচ্ছে, সব ফরযের বড় ফরয। যেমন জনকৈ লেখক বলেছেন: “সব ফরযের বড় ফরয হিসেবে ইক্বামতে দ্বীনের দায়িত্বকে বুঝবার পর কারো পক্ষেই ইসলামের কতক মূল্যবান খেদমত করেই সন্তুষ্ট থাকা সম্ভব নয়”। [ইকামতে দ্বীন, অধ্যাপক গোলাম আযম পৃ: ৩০] তাহলে এটা আক্বীদায় বিচ্যুতি নয় কি? নবী এবং রাসূলগণের প্রেরণের উদ্দেশ্যের অপব্যাখ্যা নয় কি? এটা স্পর্শকাতর বিষয় নয় কি?  তাই এই আক্বীদারও কিছু স্পর্শকাতর দিক রয়েছে যেমন উপরুল্লিখিত বিভিন্ন আক্বীদার স্পর্শকাতর দিকের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। নিম্নে এই বিচ্যুত আক্বীদার স্পর্শকাতর দিকগুলি অবলোকন করুন:

ক-এই আক্বীদার ফলে নবী ও রাসূলগণের মিশন তাওহীদ তথা এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহব্বান করা না হয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়ে যায় এবং তাদের প্রেরণের মুখ্য উদ্দেশ্য তাওহীদ না হয়ে ইসলামী হুকুমত কায়েম করা হয়ে যায়  যা, উপরুল্লিখিত কুরআনের আয়াতের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে বিচ্যুতি। 

খ-অত:পর রাসূলগণ যদি হুকুমতে ইসলামিয়া কায়েমের জন্য এসে থাকেন, তাহলে তাদের রাষ্ট্র তৈরির জন্য প্রচেষ্টা করা হবে মৌল দায়িত্ব আর বাকি বিধান প্রচারের প্রচেষ্টা হয়ে পড়বে গৌণ কাজ। ফলে যে সমস্ত নবীগণ মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতা পান নি, তাদের মিশনের ফলাফল দাঁড়াবে, তারা তাদের মৌল দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হয়েছিলেন এবং তাদের অধিকাংশই কেবল গৌণ দায়িত্ব পালনকারী ছিলেন; অথচ সম্মানিত নাবী ও রাসূলগণের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা একটি গর্হিত অপরাধ। আমাদের বিশ্বাস হবে যে, তারা তাদের দায়িত্বে কোনো ঘাটতি করেন নি।

গ-একজন সাধারণ মুসলিম যখন সে তার পরিসরে দ্বীনের কাজ করে, যেমন স্বলাত আদায় করে, সাউম পালন করে, যাকাত দেয়, কুরআন শিখে ও শিক্ষা দেয়, মানুষকে শিরক থেকে সতর্ক করে তাওহীদের আহব্বান করে, সন্তানদের ইসলামী তরবিয়ত দেয়, পিতা-মাতার সেবা করে, বিভিন্ন দ্বীনের কাজ করে, তখন সে যেন একগুচ্ছ দ্বীনের গৌণ কাজ করে কিন্তু মৌল কাজ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের কোনো প্রচেষ্টা তার জীবনে নেই বলে তার এসব কাজ উপরোক্ত আক্বীদা পোষণকারীদের দৃষ্টিতে শুধু মাত্র দ্বীনের সেবা করা হিসাবে গণ্য হয়, ইকামতে দ্বীন হয় না। জনৈক লেখক বলেন: “একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, মাদ্রাসা, ওয়ায, খানকাহ ও তাবলীগ দ্বারা দ্বীনের বড় বড় খেদমত হচ্ছে। এসব খেদমতই ইকামতে দ্বীনের জন্য বিশেষ সহায়ক। কিন্তু খেদমতগুলো দ্বারা আপনা আপনিই দ্বীন কায়েম হতে পারে না”। [ইকামতে দ্বীন পৃ ৩০]

ঘ-সব ফরযের বড় ফরয যদি ইকামতে দ্বীন বা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা হয়, তাহলে বলা সঙ্গত হবে যে, আক্বীদার মূলনীতিতে বর্ণিত হয়েছে, মুসলিম ব্যক্তি তখন পূর্ণ মুমিন হয়, যখন সে ইসলামের ফরজ-ওয়াজিব ও মুস্তাহাব কাজসমূহ সম্পাদন করে এবং হারাম ও মাকরুহ কাজগুলি পরিত্যাগ করে। কিন্তু এই প্রকার লোকেরাও তাদের দৃষ্টিতে পূর্ণ মুমিন নয়; কারণ সে সব ফরযের বড় ফরয ইকামতে দ্বীনের কাজ করে নি। ফলে, তাদের সংগঠনের সাথে জড়িত হয়ে তাদের কাজ-কর্ম না করলে পৃথিবীতে কেউ পাকা মুমিন হতেই পারে না!

ঙ-বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম এবং অমুসলিম দেশে বসবাসকারী মুসলিমগণ যদি তারা ইকামতে দ্বীন ছাড়া বাকি ইসলামের সকল বিধান পালন করে মারা যান; তারপরেও হয়তো তারা জান্নাতবাসী হতে পারবেন না; কারণ তারা সব ফরযের বড় ফরয ইকামতে দ্বীন পরিত্যাগকারী। আর বড় ফরযই যদি ছুটে যায়, তাহলে কেবল ছোট ফরয পালনকারী কি করে জান্নাতে যেতে পারে??

চ-তাওহীদ নয় বরং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে দ্বীনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। এই ভ্রান্ত আক্বীদারই প্রভাব হচ্ছে, একজন নিষ্ঠাবান দাঈ যখন সে তার সমাজে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং নবী-রাসূলগণের মহৎ কাজ তাওহীদের প্রচার করে এবং সবচেয়ে বড় পাপ শিরক থেকে সতর্ক করে তখন, তার এই মহান কাজসমূহ ছোট কাজে পরিণত হয়। এমনকি এসব কাজকে চুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়; কারণ সে গৌণ কাজ করছে সব ফরযের বড় ফরয পালন করছে না। হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর বহু প্রান্তে এবং বিশেষ করে সউদী আরবে যে সমস্ত দাওয়াতী অফিসের মাধ্যমে সম্মানিত দাঈগণ দ্বীনের তাবলীগ বিশেষ করে তাওহীদের প্রচার এবং শির্ক ও বিদআত হতে সমাজকে সতর্ক করার দায়িত্বে নিয়োজিত,তাদের এমন মহৎ কাজকে তারা গুরুত্ব দেয় না আর না তাদের সম্পূর্ণ সমর্থন করে। বরং ভিন্নভাবে তারা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের সংগঠন করে এবং নিজ কাজকে প্রাধান্য দেয়। আর কখনও কিছুটা সমর্থন দেখা গেলে সেটা হয় সেই নিজ ইকামতে দ্বীনের সংগঠনের স্বার্থে। [এটা আমি আমার ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় বিনা কোনো সংকোচে বলতে পারি]    

ছ-ইসলামের মূল কথা, একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত নয় বরং তা হচ্ছে, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা। এই বিচ্যুত আক্বীদার কারণে এই প্রকার লোকদের দৃষ্টি কেবল সরকারী কার্যকলাপ এবং রাজনীতির উপর থাকে। উঠতে বসতে, চলতে ফিরতে, দোকান পাটে, অফিস আদালতে এমনকি রাস্তা-ঘাটেও শুধু সরকারের সমালোচনা চলে। কারণ এমন করার মাধ্যমে তাদের মতে ইসলামী হকুমতের রাস্তা প্রশস্ত হয়। শুধু তাই নয় বরং এমন করাটা তারা ইবাদত মনে করে কারণ তাদের মতে তারা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের প্রচেষ্টা করছে। আর এটা তাদের সেই আক্বীদারই প্রভাব যে, সব ফরযের বড় ফরয ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা।

জ-একটি প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে মিটিং, মিছিল, হরতাল, বিদ্রোহ ইত্যাদি করা বড় ইবাদত হয়ে যায়। কারণ তারা সবচেয়ে বড় ফরযের জন্য আন্দোলনকারী। এ কারণেই হয়তো তারা এসব কার্যকলাপে নিহত ব্যক্তিকে শহীদী মর্যাদা প্রদান করে; কারণ সে বড় ইবাদত করতে করতে মৃত্যু বরণ করেছে!  

ঝ-আল্লাহর রাহে খরচ করা মানে তাদের দৃষ্টিতে এক পর্যায়ে কেবল ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমকারী সংগঠনের যাবতীয় কার্যকলাপের জন্য খরচ করা হয়ে পড়ে। মিটিং, মিছিল, হরতাল এবং এসব করতে গিয়ে যেমন গাড়ি ভাড়া, চা-নাস্তা করার খরচ, ব্যানার লেখার খরচ, দেওয়াল লেখার খরচ, হোটেলের বিল, স্ট্যেজ সাজানোর খরচ ইত্যাদি কাজে ব্যায় করা আল্লাহর রাহে খরচ করার সমতুল্য হয়ে যায়। কারণ যদি একটি ফকির কিংবা মিসকিনকে দান করা ইবাদত হয়, তাহলে বড় ফরয রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য খরচ করা ইবাদত হবে না কেন? তাই এই প্রকার ভাইয়েরা সংগঠনের জন্য মাসিক চাঁদা দিতে যত আগ্রহী মসজিদ, মাদ্রাসা এবং গরিব-দু:খীকে দিতে তত আগ্রহী নয়।  

ঞ-ইসলামে দাওয়াতী নীতি, ইসলাহী নীতি এবং পরিশুদ্ধির নীতি হচ্ছে, নিজেকে দিয়ে শুরু করা। অত:পর নিজ পরিবার। তারপর স্থান, কাল এবং পাত্র ভেদে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে পরিসর বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কারো আক্বীদা যদি এই হয় যে, সবচেয়ে বড় ফরয ও বড় দায়িত্ব হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা, তাহলে নিজ, নিজ পরিবার এবং নিজ পাড়া প্রতিবেশীর উপর দ্বীন কায়েম করার তুলনায় দেশে দ্বীন কায়েমের চিন্তা-ফিকির বেশী হয়। আর সে কারণে আমরা এমন ভাইদের দেখতে পাই তারা নিজ দেহে এবং নিজ পরিবারে এখনও দ্বীন কায়েম করেনি কিন্তু সে দেশে ইসলাম কায়েম নিয়ে চিন্তা করছে; বরং সারা বিশ্বে ইসলাম কায়েম নিয়ে চিন্তিত রয়েছে!


সুচিন্তাশীল পাঠক মহোদয়! হয়তো আপনারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, আক্বীদার বিষয় কতখানি স্পর্শকাতর বিষয় এবং এর প্রভাব কত গভীর এবং গম্ভীর। ইসলামের ইতিহাসে খারেজী, রাফেযী, কাদারী, মুরজিয়া, মুতাযেলী বিভিন্ন বিদআতী ফেরকার আবির্ভাব আক্বীদার কোনো একটি মৌল বিষয়কে কেন্দ্র করে হয়েছিল। এর ফলে তারা ইসলামী পন্ডিতগণের নিকট বিদআতী দল হিসাবে পরিচিত। আজও যদি কেউ ইসলামের মৌলিক আক্বীদা তাওহীদ তথা এক আল্লাহর ইবাদতের আক্বীদার অপব্যাখা দিয়ে দল ও সংগঠণ তৈরি করে। আর সেই দলের নবাবিষ্কৃত আক্বীদার কুপ্রভাব যদি সঠিক আক্বীদা ও আমলের উপর পড়ে এবং প্রকৃত ইসলামকে কলুষিত করে, তাহলে তারা পূর্বের ফেরকাদের মত বিদআতী ফেরকার অন্তর্ভুক্ত হবে না কি? তাদের সেই ভ্রান্ত নীতি থেকে সতর্ক করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি নয় কি? মনে রাখা উচিৎ, আমলগত বিদআতের প্রভাব এবং আক্বীদাগত বিদআতের প্রভাব এক নয়। যেটা হয়তো অনেকটা আপনারা এই লেখায় উপলব্ধি করতে পেরেছেন। 

এ ক্ষেত্রে এমন বিচ্যুত আক্বীদার দলের সাধারণ সমর্থকদের তুলনায় এই আক্বীদার প্রবর্তক ও পন্ডিতদের দোষ অনেক বেশী। ইবনু আবিল ইয্ আল্ হানাফী বলেন: “কিছু সংখ্যক সালাফ বলেছেন: বিচ্যুত উলামাদের মাঝে ঈহুদীদের ধরণ রয়েছে। আর বিচ্যুত আবেদগণের মধ্যে খৃষ্টানদের ধরণ রয়েছে। একারণে অধিকাংশ যুক্তিবাদী দল যেমন মুতাযিলা ইত্যদির মধ্যে ঈহুদীদের সদৃশ রয়েছে। তাই ঈহুদী পন্ডিতরা মুতাযিলা পন্ডিতদের গ্রন্থ পড়ে এবং তাদের প্রশংসা করে। এভাবে মুতাযেলী পন্ডিতরা ঈহুদীদের সমর্থন করে এবং তাদের খৃষ্টানদের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আর অধিকাংশ আবেদ সূফী ইত্যাদির মধ্যে খৃষ্টানদের সাদৃশ্য রয়েছে। একারণে তারা সন্যসবাদ, সর্বেশ্বরবাদ এবং অনুপ্রবেশবাদের দিকে আকৃষ্ট। এদের পন্ডিতরা যুক্তিবাদীদের অপছন্দ করে। আর তাদের পন্ডিতরা এদের নিয়ম-নীতিকে অপছন্দ করে এবং বৈরাগ্যবাদ, সামা, ওয়াজদ (সূফী সাধকদের এক প্রকার গান নাচ) ইত্যদির নিন্দায় গ্রন্থ রচনা করে যা এই সম্প্রদায় আবিষ্কার করেছে”। [শারহুল আক্বীদা আতত্বহাবিয়্যা ২/৮০১] 

লেখার শেষে একটি আবশ্যিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি মনে করছি। প্রশ্নটি হল, তাহলে আমরা কি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দ্বীন কায়েমের চেষ্টা করবো না? এর বিধান কি ইসলামে নেই?

আমরা বলবো, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দ্বীন কায়েম করাকে দ্বীনের মৌল বিষয় মনে করা এবং দ্বীনের পরিপুরক বিষয় মনে করা দুটি ভিন্ন যিনিস। এটি দ্বীনের মূল বিষয় নয় বরং পরিপূরক বিষয়। আপনি তা কায়েমের চেষ্টা করবেন কিন্তু তাওহীদ ও ইসলামের স্তম্ভগুলি সর্বাধিক প্রাধান্য পাবে। আর এর ধরণ হবে, আপনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে প্রথমে নিজের মধ্যে, অত:পর নিজ পরিবারের মধ্যে অর্থাৎ নিজ পরিসরে তা কায়েম করার চেষ্টা করবেন। যেমনটি প্রিয় নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছিলেন। আর এভাবে সবাই নিজ পরিসরে দায়িত্ব পালন করলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে ইন শা’আল্লাহ।

ওয়া স্বল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ তাসলীমান মাযীদা।

Saturday, 13 August 2022

খলীফাগণের সময়কালে মুআবিয়া (রায:) এর গ্রহণযোগ্যতা

==============================

নবুওতের যুগেই মুআবিয়ার উৎকর্ষতা প্রকাশ পায়; যদিও ইসলাম গ্রহণের দিক দিয়ে তিনি বহু মুহাজির ও আনসারের পিছনে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল অহীর লেখক হিসাবে তার উপর আস্থা করেন। তাই তিনি আকাশ হতে অবতীর্ণ অহী লেখকের একজন। গর্বের জন্য এটাই যথেষ্ট।
মুআবিয়া রাসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হুনাইনের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ হতে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেন যা স্বহীহাইন, সুনান সহ মাসানীদ গ্রন্থে বিদ্যমান এবং তার থেকে সাহাবা ও তাবেঈনদের একদল হাদীস বর্ণনা করেছেন। দুই হিদায়েতপ্রাপ্ত খলীফার যুগে তিনি আস্থা ও সম্মানের পাত্র ছিলেন এবং জিহাদ ও অন্য দায়িত্বভার প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু বাকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে –যদিও এই খেলাফতকাল সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ছিল- তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ইবনু আসাকির বলেন: অনেকের ধারনা তিনিই মুসায়লামাকে হত্যা করেছিলেন। ইবনু কাসীর উক্ত ঘটনায় এই বলে টিপ্পনি করেছেন যে, হতেপারে তার হত্যায় তার সাথে অন্য কেউ শরীক ছিল। মুসায়লামাকে আঘাত করে একজন ওয়াহশী ব্যক্তি এবং তার মরদেহকে ঢেকে দেয় আবু দাজানা। [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৮/১২৭]
ফারুক (রাযিয়াল্লাহু আনহুর) যুগে খলিফা তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণ অনুভব করেন; যদিও তার বয়স কম ছিল। তিনি একটি এমন প্রদেশের নেতৃত্বের যোগ্য ছিলেন যেই প্রদেশটির বিশেষ গুরুত্ব ছিল। উমার (রাযি:) তাকে তার ভাই ইয়াযীদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেন । আর মানুষেরা যখন এ সম্বন্ধে সমালোচনামূলক কথা-বার্তা বলেছিল, তখন উমার (রাযি:) বলেন: তার নেতৃত্বের ব্যাপারে আমাকে দোষারোপ করো না; কেন না আমি রাসূলুল্লাহর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন: (হে আল্লাহ! তাকে সঠিক পথ প্রদর্শক ও হিদায়েতপ্রাপ্ত করো এবং তার দ্বারা অন্যকে হিদায়েত দাও)। [ইবনু কাসীর বলেন: এটি সূত্র বিচ্ছিন্ন বর্ণনা ইতিপূর্বের বর্ণনাটি এটিকে শক্তিশালী করে। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/১৩২, কিন্তু হাদীসটি আহমাদ তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ৪/২১৬, তিরমিযী তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন ৫/৬৭৮, ত্বাবারানী আল মুজাম আল আউসাতে বর্ণনা করেছেন ১/৩৮০, সহীহ হাদীস সিরিজে শাইখ আলবানী স্বহীহ বলেছেন ৪/৬১৫, দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ আল খারআন কর্তৃক লিখিত আছারুল উলামা ফিল হায়াতিস সিয়াসিয়্যাহ ফিদ্ দাউলাহ আল্ উমাভিয়্যাহ, পৃ ৬২]
উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুর) যুগে রোম সম্রাজ্যকে ভীত ও শঙ্কিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে মুআবিয়ার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ত্বাবারী ২৩ তম বছরের উল্লেখ্য ঘটনাবলীর আলোকে বর্ণনা করেছেন যে, মুআবিয়া সাইফার যুদ্ধ করেন এমনকি আমুরিয়া পর্যন্ত পৌছেঁ যান। সেই সময় তার সাথে ছিল সাহাবী উবাদাহ বিন সামিত, আবু আইয়্যুব আনসারী, আবু যার এবং শাদ্দাদ বিন আউস রাযিয়াল্লাহু আনহুম।
তার থেকে সম্মানিত ব্যক্তি কে হতে পারে, যাকে উমার (রাযি:) নেতৃত্ব দান করেন এবং যার নেতৃত্বে মর্যাদাবান সাহাবাদের এক দল উপস্থিত ছিলেন। বরং উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন যখন মুআবিয়া সিরিয়া প্রদেশের সীমান্তের গভর্নর হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। উমার (রাযি:) তাকে এতই ভালবাসতেন যে তিনি তাকে এই উপাধি দ্বারা সম্বোধন করতেন যে, এ হচ্ছে আরব সম্রাট। [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৮/১৩৬]
আর যতদূর উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর যুগের কথা তো সেই সময় তার মর্যাদা অন্যরকম ছিল। তিনি ইসলামী রাজত্বের সবচেয়ে বড় গভর্নর নিযুক্ত হোন। সেই সময় তার রাজত্বের সীমা বৃদ্ধি পায় এবং তার ক্ষমতাও উন্নিত হয়। ফলে সমগ্র সিরিয়ায় তার রাজত্ব কায়েম হয়। বরং খলীফা উসমান সিরিয়া প্রদেশের সাথে সাথে তাকে ফুরাত উপদ্বীপ এবং উভয় প্রদেশের সীমান্তেরও দায়িত্ব প্রদান করেন। [বেলাযুরী, ফতুহুল বুলদান: পৃ ১৮৭-১৮৮]

Monday, 28 February 2022

মহিলাদের মুখে নিকাব পরিধান করার বিধান কী এবং এ ক্ষেত্রে চোখের কী পরিমাণ খোলা রাখা জায়েজ?

 


প্রশ্ন: অনেক সময় দেখা যায়, ফরসা বা সুন্দর চোখ বিশিষ্ট নারী কালো বোরখা পরিধান করে শুধু দুটি চোখ খোলা রাখে। এমন নারীকে খুব আকর্ষণীয় লাগে। এতে তার সৌন্দর্য যেন আরও বেশি প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে নারীদের নিকাব পরিধান করার বিধান কী এবং রাস্তা চলাচলের জন্য চোখের কতটুকু খোলা রাখা জায়েজ?
উত্তর:
নিম্নে দুটি পয়েন্টের উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হল:
◯ ক. ইসলামের দৃষ্টিতে মহিলাদের মুখে নিকাব পরিধান করার বিধান কী?
ইসলামের দৃষ্টি মহিলাদের মুখে নিকাব পরিধান করা জায়েজ। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, হজ ও ওমরার ইহরাম অবস্থায় মহিলারা মুখে নিকাব পরিধান করবে না। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا تَنْتَقِبْ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ ، وَلَا تَلْبَسْ الْقُفَّازَيْنِ
“ইহরাম কারীনী মুখে নিকাব এবং হাতে হাত মোজা পরিধান করবে না।” [সহিহ বুখারি, অধ্যায়: ২২/ হজ, পরিচ্ছেদ: ১১৫৫. মুহরিম পুরুষ ও মহিলার জন্য নিষিদ্ধ সুগন্ধি সমূহ। আয়েশা রা. বলেন, মুহরিম নারী ওয়ারস কিংবা জাফরানে রঞ্জিত কাপড় পরিধান করবে না]
উল্লেখ্য যে, এ অবস্থায় তারা নেকাব ও হাত মোজা পরিধান না করলেও মাথার ওড়না উপর থেকে ফেলে মুখমণ্ডল এবং হাতের লম্বা আস্তিন দ্বারা হাতের কব্জি দ্বয় পরপুরুষ থেকে ঢেকে রাখবে।
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল, ইহরাম ছাড়া অন্য অবস্থায় নিকাব পরিধান করা জায়েজ।
◯ খ. নিকাব কাকে বলে এবং চোখের কী পরিমাণ খোলা রাখা জায়েজ?
● বিশিষ্ট ভাষাবিদ, ফকিহ, মুহাদ্দিস ও ইলমুর রিজাল শাস্ত্রবীদ আবু উবায়েদ আল কাসেম বিন সাল্লাম (মৃত্যু: ২২৪ হি.) আরবের নিকাবের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,
هو الذي يبدو منه محجر العين
“(আরবি মহিলাদের) নিকাব হল, এমন জিনিস যা পরিধান করলে চোখের পাতা দ্বয় প্রকাশিত হয়।”
● ইমাম রামলি আশ শাফেয়ী বলেন,
حرم النظر إلى المنتقبة التي لا يبين منها غير عينيها ومحاجرها
“এমন নিকাব ধারী মহিলার দিকে তাকানো জায়েজ নাই যার কেবল চোখ ও চোখের পাতা দ্বয় ছাড়া আর কিছু প্রকাশিত নয়।” [নিহায়াতুল মুহতাজ ৬/১৮৮]
আর নিকাব পরিধান করা হলে, রাস্তা চলাচলের স্বার্থে দু চোখ (ভ্রূ’র নিম্নাংশ ও গালের উপরিভাগ) খোলা রাখা জায়েজ আছে। তবে শর্ত হল, ইচ্ছাকৃত ভাবে যেন চোখের ভ্রূ দ্বয় কিংবা চোখের নিচে গালের কোনও অংশ অতিরিক্ত প্রকাশ না করা হয়।

Sunday, 13 February 2022

ভালবাসা দিবস উপলক্ষে সকল প্রকার অনুষ্ঠান করা হারাম



– সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের ফতোয়া

▬▬▬▬◈♡◈▬▬▬▬
সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদে বিশ্লেষণের পর এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট প্রমাণাদি দ্বারা এ কথা অকাট্য ভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামে ঈদ বা উৎসবের দিন মাত্র দুটি। সালাফে সালেহীনগণও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইসলামে স্বীকৃত ঈদ দুটির একটি হল ঈদুল ফিতর, অপরটি হল ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ।
উল্লিখিত ঈদ দুটি ব্যতীত যত ঈদ বা উৎসব আছে, হোক না তা কোন ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত বা কোন গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত বা কোন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তা বিদআত। মুসলমানদের তা পালন করা বা পালন করতে বলা বৈধ নয় এবং এ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা ও এ ব্যাপারে কিছু দিয়ে সাহায্য করাও নিষেধ। কেননা এ ধরণের কাজ আল্লাহ তা’আলার সীমা লঙ্ঘন বৈ অন্য কিছু হবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করবে সে নিজের উপর অত্যাচার করবে। এ ধরণের কালচার বিধর্মীদের অনুসরণের কল্পে গ্রহণ করা হলে অপরাধ আরও মারাত্মক হবে। কারণ এর মাধ্যমে তাদের সদৃশ্যতা গ্রহণ করা এবং তাদেরকে এক ধরণের বন্ধু বানানো হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে এ থেকে বারণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من تشبه بقوم فهو منهم
“যে ব্যক্তি কোনও সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করল সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য। ভালবাসা দিবস পালন করাও এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি খৃষ্টানদের উৎসব। যে মুসলমান আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার জন্য এ কাজ করা বা এই দিনে কাউকে ফুল বা অন্যকোনো উপহার দেয়া বৈধ নয়। বরং তার কর্তব্য হল আল্লাহ এবং তার রাসূলের হুকুম পালন করা এবং আল্লাহর শাস্তি ও গযব আসে এমন কাজ থেকে নিজে দূরে থাকা ও অন্যদের দূরে রাখা।
অতএব এ দিবসকে কেন্দ্র করে পানাহার করা, ক্রয়-বিক্রয় করা, কোন কিছু প্রস্তুত করা বা উপঢৌকন দেয়া, চিঠি-পত্র চালাচালি করা ও প্রচার-পত্র বিলি করা অবৈধ। এ সমস্ত কাজের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করা হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَاب
“সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” (সূরা মায়িদাহ: ২)
▬▬▬▬◈♡◈▬▬▬▬
সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ:
১) চেয়ারম্যান: আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আলে শেখ
২)সদস্য: সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
৩) সদস্য: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-গুদাইয়ান
৪) সদস্য: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু জায়েদ
[ফতোয়া নং ২১২০৩ তারিখঃ ২৩-১১- ১৪২০ হি.]

Saturday, 12 February 2022

অশ্লীল সংস্কৃতি ও ভ্যালেন্টাইন ডে



শা হ্ আ ব্দু ল হা ন্না ন
---------------------
ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস নামে বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে একটি নতুন দিবস পালনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এটি এখন বিশেষ বিশেষ মহলে পালন করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ ও মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশায় একটি ব্যবসায়িক মহল এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা এর সাথে যুক্ত হয়ে এটি পালনকে উৎসাহিত করছে। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন ডে’র ইতিহাস ও ভিত্তি কী? এ সম্পর্কে আমি ইমপ্যাক্ট ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকায় প্রকাশিত প্রখ্যাত স্কলার ড. খালিদ বেগের একটি লেখার অংশ এখানে তুলে ধরলাম।
‘‘আজকাল অনেক মুসলিমই প্রকৃত বিষয়টি না জেনে নানা রকম বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করে থাকে। তারা কেবল তাদের সাংস্কৃতিক নেতাদের মতোই এসব ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসারী। তারা এটি খুবই কম উপলব্ধি করে যে, তারা যা নির্দোষ বিনোদন হিসেবে করে তার শিকড় আসলে পৌত্তলিকতায়, যা তারা লালন করে তা হল অবিশ্বাসেরই প্রতীক। তারা যে ধারণা লালন করে তা কুসংস্কার থেকেই জন্ম। এমনকি ইসলাম যা পোষণ করে এসব তার প্রত্যাখ্যান। ভালোবাসা দিবস আমেরিকা ও ব্রিটেন বাদে গোটা ইউরোপে মৃত হলেও হঠাৎ করেই তা মুসলিম দেশগুলোয় আবার প্রবেশ করছে। কিন্তু কার ভালোবাসা? কেন এ দিবস পালিত হবে?
অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে তারা যেমন করে, এ বিষয়েও কথিত আছে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে উর্বরতা ও পশুর দেবতা বলে খ্যাত লুপারকাসের (Lupercus) সম্মানে পৌত্তলিক রীতিনীতির একটি অংশ হিসেবে রোমানরা ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন শুরু করে। এর মূল আকর্ষণ হল পরবর্তী বছরের লটারির আগ পর্যন্ত বর্তমান বছরে লটারির মাধ্যমে যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টন করে দেয়া। এ দিন উদযাপনে অন্যান্য ঘৃণ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে একটি ছিল, এক টুকরো ছাগলের চামড়ায় আবৃত যুবতীদের দু’জন যুবক কর্তৃক উৎসর্গীকৃত ছাগল ও কুকুরের রক্তে ভেজা চাবুক দিয়ে প্রহার করা। মনে করা হতো ‘পবিত্র যুবক’দের প্রতিটি ‘পবিত্র’ আঘাত দ্বারা ওই সব যুবতী ভালোভাবে সন্তান ধারণে সক্ষম হবে।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায় যথারীতি লুপারকালিয়ার (Lupercalia) এ ঘৃণ্য রীতিকে বন্ধ করার বৃথা চেষ্টা করল। প্রথমে তারা মেয়েদের নামে লটারির বদলে ধর্মযাজকদের নামে লটারির ব্যবস্থা চালু করল। এর উদ্দেশ্য হল, যে যুবকের নাম লটারিতে উঠবে সে যেন পরবর্তী একটি বছর যাজকের মতো পবিত্র হতে পারে। কিন্তু খ্রিষ্টানরা খুব কম স্থানেই এ কাজে সফল হল।
একটি জনপ্রিয় খারাপ কাজকে কিছু পরিবর্তন করে তাকে ভালো কাজে লাগানোর প্রবণতা বহু পুরনো। তাই খ্রিষ্টানরা শুধু লুপারকালিয়া থেকে এ উৎসবের নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন করতে পারল। পোপ গ্যালাসিয়াস (Gellasius) ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের সম্মানে এটি করল। তথাপি খ্রিষ্টান কিংবদন্তিতে ৫০-এরও বেশি বিভিন্ন রকম ভ্যালেন্টাইন আছে। এদের মধ্যে মাত্র দু’জন সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যদিও তাদের জীবন ও চরিত্র এখনো রহস্যাবৃত। একটি কিংবদন্তি হল, যেটি বেশি প্রকৃত ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন হলেন ‘প্রেমিকদের যাজক’- যে নিজেকে কারাগারের প্রধানের মেয়ের প্রেমে জড়িয়ে ফেলেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে ---বি শ্ব ভা ল বা সা দি ব স

 



♥♥♥♥♥♥♥♥♥

ভালবাসার পরিচয় :
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
‘ভালবাসা’ এক পবিত্র জিনিস যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পক্ষ হতে আমরা পেয়েছি। ভালবাসা’ শব্দটি ইতিবাচক। আল্লাহ তা‘আলা সকল ইতিবাচক কর্ম-সম্পাদনকারীকে ভালবাসেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

‘‘এবং স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না। তোমরা সৎকর্ম কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুহসিনদের ভালবাসেন।’’(সূরা আল-বাকারা:১৯৫)

ভুলের পর ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং পবিত্রতা অবলম্বন করা এ দুটিই ইতিবাচক কর্ম। তাই আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদেরকেও ভালবাসেন। আল্লাহ বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদেরকে ভালবাসেন।’’(সূরা আল-বাকারা:২২২)

তাকওয়া সকল কল্যাণের মূল। তাই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে খুবই ভালবাসেন। তিনি বলেন,

فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِين

‘‘আর নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন।’’(সূরা আল ইমরান:৭৬)

পবিত্র এ ভালবাসার সাথে অপবিত্র ও নেতিবাচক কোন কিছুর সংমিশ্রণ হলে তা আর ভালবাসা থাকে না, পবিত্রও থাকে না; বরং তা হয়ে যায় ছলনা,শঠতা ও স্বার্থপরতা।

ভালবাসা, হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য সুতোর টান। কোন দিন কাউকে না দেখেও যে ভালবাসা হয়; এবং ভালবাসার গভীর টানে রূহের গতির এক দিনের দূরত্ব পেরিয়েও যে দুই মুমিনের সাক্ষাত হতে পারে তা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার এক বর্ণনা থেকে আমরা পাই। তিনি বলেন,

النعم تكفر والرحم تقطع ولم نر مثل تقارب القلوب

‘‘কত নি‘আমতের না-শুকরি করা হয়, কত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হয়, কিন্তু অন্তরসমূহের ঘনিষ্ঠতার মত (শক্তিশালী) কোন কিছু আমি কখনো দেখি নি।’’(ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ :হাদীস নং২৬২)

♥→ভালবাসার মানদণ্ড :

কাউকে ভালবাসা এবং কারো সাথে শত্রুতা রাখার মানদণ্ড হলো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসতে হবে এবং শত্রুতাও যদি কারো সাথে রাখতে হয়, তাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই। এটাই শ্রেষ্ঠ কর্মপন্থা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

إِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ

‘‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কারো সাথে শত্রুতা রাখা।’’(আহমদ, মুসনাদুল আনসার, হাদিস নং২০৩৪১)

ঈমানের পরিচয় দিতে হলে, কাউকে ভালবাসবার আগে আল্লাহর জন্য হৃদয়ের গভীরে সুদৃঢ় ভালবাসা রাখতে হবে। কিছু মানুষ এর ব্যতিক্রম করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ

‘‘আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যকে আল্লাহ্‌র সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে এবং আল্লাহকে ভালবাসার মত তাদেরকে ভালবাসে; কিন্তু যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র প্রতি ভালবাসায় তারা সুদৃঢ়।’’(সূরা আল-বাকারা:১৬৫)

শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসতে হবে, নতুবা কোন ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পাবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ

‘‘তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে সে ঈমানের স্বাদ পায়। ১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে প্রিয় হওয়া। ২. শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসা। ৩. কুফুরীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।’’(বুখারী,কিতাবুল ঈমান,হাদিস নং:১৫)

♥→আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালবাসার ফযীলত :

আল্লাহ রাব্বুল ইয্‌যতের মহত্ত্বের নিমিত্তে যারা পরস্পর ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপন করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে তিনি তাঁর রহমতের ছায়ায় জায়গা দেবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي

‘‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার মহত্ত্বের নিমিত্তে পরস্পর ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপনকারীরা কোথায় ? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া দান করব। আজ এমন দিন,যে দিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই।’’ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস-সিলাহ, হাদিস নং৪৬৫৫)

আব্দুল লাত্বীফ জামে' মসজিদ লাইব্রেরী কমপ্লেক্স এর জন্য চারজন শায়খ এর পক্...

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস : শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি



পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। যিনি বলেছেন, “প্রকাশ্য বা গোপন কোনো অশ্লীলতার কাছেও যেও না।” [সুরা আনআম: ১৫১]
শতসহস্র সালাত ও সালাম ধার্য হোক প্রিয় নবি মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহর জন্য। যিনি বলেছেন, “যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমনসব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনও দেখা যায়নি।” [ইবনু মাজাহ, হা/৪০১৯; সনদ: হাসান]
·
প্রাক্‌কথন:
সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে তথা ভালোবাসা দিবস একটি খ্রিষ্টীয় বার্ষিক উৎসবের নাম, যা প্রতি বছর ১৪ ফ্রেব্রুয়ারিতে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। এই দিন মানুষ তার ভালোবাসার মানুষকে চিঠি, কার্ড, ফুল, গহনা-সহ নানাবিধ উপহার সামগ্রী গিফট করে পাশ্চাত্য উচ্ছৃংখলতা, নোংরামি, বেলেল্লাপনা ও বেহায়াপনার নোংরা স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়। বিভিন্ন মুসলিম ও অমুসলিম দেশে তথাকথিত মুসলিমরাও এই নোংরা খ্রিষ্টীয় উৎসবে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে প্রেম ও প্রণয়লীলার অবৈধ সরোবরে ডুব দেয়। তারাও উদ্‌যাপন করে কথিত ভালোবাসা দিবস নামের এই হারাম খ্রিষ্টীয় উৎসবটি। আল-ইয়াযু বিল্লাহ।
এই দিনে ভালোবাসা প্রদানের নামে বহু নারী নিজের সতীত্ব বিসর্জন দেয়। নিজের আদর্শকে ভুলে, স্বীয় ভূষণকে বর্জন করে বহু মুসলিম এই দিন বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণে অবাধ ও উন্মত্ত ভালোবাসায় মেতে উঠে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের হাত ধরে আসা এই দিবসটি ১৯৯৩ সাল থেকে এদেশেও উদযাপিত হয়। কথিত সুশীল সমাজের মোড়লরা দেশের উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীদেরকে নোংরামি ও অশ্লীলতায় উসকে দেয়। কিন্তু এ থেকে উত্তরণ প্রয়োজন, প্রয়োজন মুক্তির।
প্রিয় পাঠক, বক্ষ্যমাণ নিবন্ধটিতে আমরা এই দিবসটির উৎপত্তি এবং এ ব্যাপারে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি দলিলপ্রমাণ সহকারে আলোচনা করেছি। ফালিল্লাহিল হামদ। তাহলে আসুন, জেনে নেই এই উৎসবের ব্যাপারে ইসলামী বিধিবিধান। ওয়াল্লাহুল মুওয়াফফিকু ওয়াল মুয়িন।
·
ইতিহাস:
ভ্যালেন্টাইনস ডে তথা ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তিগত ইতিহাস নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। [বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: দৈনিক সংগ্রাম; সম্পাদকীয় পাতা; রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ; (অনলাইন ভার্শন)]
তার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘটনাটি আমরা উল্লেখ করছি। ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন নামে একজন খ্রিষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্মপ্রচারের অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন।
এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। কথিত আছে, ওই দিনই এক চিঠিতে তিনি মেয়েটিকে তাঁর ভালোবাসার কথা জানান। চিঠির নিচে লেখেন, ‘ইতি, তোমারই ভ্যালেন্টাইন’ (Your Valentine)। বলা হয়ে থাকে, এটাই সর্বপ্রথম ভ্যালেন্টাইন কার্ড, যা স্বয়ং সেন্ট ভ্যালেন্টাইন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে প্রদান করেছিলেন। বর্তমানে প্রচলিত আধুনিক ভ্যালেন্টাইন কার্ডগুলোতে “ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন” কথাটি লেখা থাকে। [দ্র.: en(ডট)m(ডট)wikipedia(ডট)org/wiki/Valentine's_Day]
তারপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন এর স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস ঘোষণা করেন। খ্রিষ্টান জগতে পাদ্রী ও সাধুদের স্মরণে এ ধরনের অনেক দিবস তৈরি হয়েছে। যেমন: ২৩শে এপ্রিল সেন্ট জর্জ ডে, ১১ই নভেম্বর সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪শে আগস্ট সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১লা নভেম্বর আল সেইন্টম ডে, ৩০শে নভেম্বর সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ই মার্চ সেন্ট প্যাট্রিক ডে।

Sunday, 30 January 2022

নেক সন্তান লাভ করার দোয়া সমূহ-




رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ
রব্বি হাবলী মিল্ লাদুন্কা যুর রিয়্যাতান ত্বইয়্যিবাতান ইন্নাকা সামিউদ দোয়া ।
হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
সূরা আল ইমরান ৩৮।

رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ
রব্বি হাবলী মিনাস সালিহীন।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান কর।
সূরা আস সাফ্ফাত ১০০।

ٗ رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ
রব্বি লা তাযারনী ফরদাও ওয়া আন্তা খাইরুল ওয়ারিসীন ।
হে আমার রব! আমাকে একা রেখো না, তুমি তো শ্রেষ্ঠ মালিকানার অধিকারী’।
সূরা আল আম্বীয়া ৮৯।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুর রিয়্যাতিনা ক্বুর রাতা আ’ইউনিও ওয়াজ আল্না লিল মুত্বাক্বীনা ইমামা ।
হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
সূরা আল ফুরক্বান ৭৪।

স্বামী- স্ত্রী সহবাস করার সময়ে যেনো এই দোয়াটি পড়ে নেয়ঃ

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শয়তান ওয়া জান্নিবিশ শয়তানা মা রযাক্বতানা ।
হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি, তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে, তা হতেও শয়তানকে দূরে রাখ।
বলেছেন বিশ্বনবী (ﷺ) ।
ছহীহুল বোখারি ৬৩৮৮
ছহীহ মুসলিম ১৪৩৪

উত্তম সন্তান লাভ করার জন্য পবিত্র কুরআনে বর্ণিত দোয়া ও মহানবী সাঃ’র শিখিয়ে দেয়া দোয়ার কোন বিকল্প নেই ।

লিখেছেন শায়খ Mqm Saifullah Mehruzzaman হাফিযাহুল্লাহ।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...