পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
অধুনা দ্বীনী পরিমণ্ডলে একটি ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয় হলো—ওই ব্যক্তির ব্যাপারে শারী‘আহর হুকুম, যে আল্লাহর আইন দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করে না। আর এই বিতর্কিত বিষয়ে রয়েছে দুটি পক্ষ—সালাফী বা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ, আর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত বিভিন্ন গাইরে-সালাফী দল এবং তাদের নেতৃবর্গ ও অনুসারীবৃন্দ। এই বিষয়ে সালাফীদের অবস্থান যথারীতি সালাফদের মানহাজেই রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
তাদের অবস্থান হলো—যে আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার করবে না সে কাফির, যদি তা হয় আল্লাহর আইনকে অস্বীকার করার মাধ্যমে, অথবা আল্লাহর আইন দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করতে নিজেকে বাধ্য মনে না করার কারণে, অথবা আল্লাহর আইনকে যুগের জন্য অনুপযোগী মনে করার কারণে, বা আল্লাহর আইনকে অপছন্দ করার কারণে, অথবা মানবরচিত কোনো আইনকে আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম বা সমপর্যায়ের মনে করার কারণে, বা আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য কোনো আইন দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করা হালাল মনে করার মাধ্যমে। আর এসব কারণ ছাড়াই যদি কেউ আল্লাহর আইন দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকে, তাহলে সালাফীরা তাকে কাফির ঘোষণা করে না, বরং সালাফীদের মতে তারা জালেম, অথবা ফাসিক্ব।
তবে এই বিষয়ের বিতর্কে সালাফীদের বিরোধী পক্ষ তথা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত বিভিন্ন গাইরে-সালাফী দল, তাদের নেতৃবর্গ এবং অনুসারীবৃন্দ—আল্লাহর আইন দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করে না এমন ব্যক্তিকে সরাসরি কাফির ঘোষণা করে থাকে। আবার অনেক সময় তারা বলে থাকে, আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার না করলে শুধু তখনই কাফির হবে না, যখন এটি করা হবে দুএকটা বা সামান্য কিছু বিষয়ে।
এই ধরনের মত পোষণকারীদের দা‘ঈ পর্যায়ের লোকেরা তাদের লেকচার, কিতাব, আর্টিকেল, দারস প্রভৃতির মাধ্যমে এই বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করে আসছে। আর সালাফীদের দা‘ঈ পর্যায়ের লোকেরাও একই কাজ করে আসছেন। এসব বিষয়ে দুই পক্ষের প্রধান ব্যক্তিবর্গের সামনাসামনি আলোচনা হয়নি বললেই চলে। তবে ব্যতিক্রম একটি ঘটনা ঘটে নব্বই দশকের প্রায় মাঝামাঝি সময়ের এক দিনে।
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একদল শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আহলুস সুন্নাহর ইমাম, শাইখুল ইসলাম ‘আব্দুল আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)। শাইখ তাঁর বক্তব্যে তাঁর শিক্ষক এবং তাঁর পূর্বে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতী পদে আসীন আহলুস সুন্নাহর এক যুগশ্রেষ্ঠ ‘আলিম ও ফাক্বীহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলুশ শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) স্মৃতিচারণ করেন এবং তা করতে গিয়ে তিনি তাঁর প্রিয় শিক্ষককে স্মরণ করে কাঁদতে শুরু করেন। একারণে বক্তব্য রেকর্ডকারী এই বক্তব্যের অডিয়ো ক্লিপটির নামকরণ করেন—