Friday, 20 February 2015

তাবিঈদের জীবনকথা ১ম-৩য় খন্ড একত্রে


ঈমানী শক্তি, দ্বীনি আবেগ, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক  উৎকর্ষ ও জ্ঞান ও কর্মগত সেবার দিক দিয়ে ইসলামের রয়েছে তিনটি ধারাবাহিক সর্বোত্তম যুগ। আর তা হলো সাহাবা, তাবিঈন ও তাবে তাবিঈনের যুগ। এ তিনি যুগে মুসলিম জাতি দ্বীন চর্চা, আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ,পার্থিব সৌভাগ্য ও সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে যায়। এর পরে যে উন্নতি ও উৎকর্ষ মুসলিমরা অর্জন করে তা ছিলো কেবল সভ্যতারুপী প্রাসাদের বাহ্যিক শোভা ও অলঙ্কার। এই তিনটি যুগে দ্বিতীয়গটি হলো তাবিঈন-দের যুগ। ইসলামী পরিভাষায়, তাবিঈ তাদের বলা হয় যারা রাসূল  (সা)-এর মৃত্যুর পর জন্মগ্রহণ করে বা আগে থেকে জন্মগ্রহণ করেও রাসুলের সাহাবাগণের যুগে ঈমান আনয়ন করেন এবং ঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
নাবী কারীম (সা) ও সাহাবাগণের জীবন নিয়ে আগে অনেক কিতাব লিখিত হয়েছে। সেই সাথে তা ইন্টারনেটেও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সাহাবীগণরে অনুসারী তাবিঈদের জীবনী নিয়ে তেমন বই নেই। অথচ তাদের জীবনের পরতে পরতে রয়েছে আমাদের জন্য উদ্দীপনা, আদর্শ ও অনুসরণের পাথেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ বিভিন্ন প্রামাণ্য গ্রন্থ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাবিঈদের জীবনকথা লিপিবদ্ধ করেছেনে। এই খন্ডগুলো প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার।
ধারাবাহিক রচনার এই সিরিজের তিনটি খন্ড প্রকাশ হয়েছে। তিনটি খন্ডই স্ক্যান করেছে আমার বই. অরগ। আমরা বই তিনিটিকে একত্র করে ইন্টারেকটিভ লিংক সহ প্রকাশ করছি।
Tabeyider JiboKotha
বইগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য:
  1. তাবিঈদের স্তর বিন্যাস অনুযাযী জীবনীগুলো রচিত। যেমন মদীনার সাত ফকীহর তাবেয়ীর জীবনী প্রথম খন্ডে আলোচিত হয়েছে।
  2. বইয়ের তথ্যসূত্রগুলো যেসব বই থেকে নেয়া হয়েছে তা টীকা আকারে সংযোজিত হয়েছে।
  3. বৃহৎ পরিসরে না লিখেও গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য সুন্দরভাবে ও সহজ সরলভাষায় লিখিত।
  4. প্রথম খন্ডে ২০জন তাবিঈ’র জীবনী  এবং তৃতীয় খন্ডে ৪২জন তাবিঈ’র জীবনী সংযোজিত হয়েছে।
  5. তাবিঈদের জীবনীগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশকে শিরোনাম আকারে লিখিত হয়েছে।
  6. দ্বিতীয় খন্ডে সম্পূর্ণটি বিখ্যাত খলীফা, তাবেয়ী, উমার ইবন আবদিল আযীয (রহ)-এর জীবন বিস্তারিতভাবে সংকলিত হয়েছে। যা বইটিকে অনন্য রূপ দিয়েছে।
  7. ইসলাম পঞ্চম খলীফা বলে পরিচিত উমার ইবন আবদিল আযীয (রহ)-এর জীবনীকে বিভিন্নভাগে ভাগ করে বিভাগ অনুসারে সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।
  8. বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কবিতা, শ্লোক আরবী ও বাংলা অর্থসহ বিদ্যমান।
বইটির ডাউনলোড লিংক
সবগুলো খন্ড একত্রে ডাউনলোড করতে   Mediafire Link      Google Drive Link
.
From: Way to Jannah Offiicial Page

Tuesday, 17 February 2015

আল্লাহ কি “নিজে নিজেই এসেছেন” যে তাঁকে খোদা নামে ডাকা যাবে?


খোদ + আ = খোদা ≠ আল্লাহ
“খোদা” একটি ফার্সি শব্দ যার সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে খোদ+আ। “খোদ” মানে নিজে, “আ” মানে এসেছে। সুতরাং, খোদা মানে- যে নিজে নিজেই এসেছে।
আল্লাহ কি “নিজে নিজেই এসেছেন” যে তাঁকে খোদা নামে ডাকা যাবে?
না, এই নামে আল্লাহকে ডাকা যাবেনা। কারণ আল্লাহকে যদি খোদা বলে মেনে নেওয়া হয় তাহলে বুঝানো হচ্ছে কোনো এক সময় আল্লাহ এসেছেন, আসার আগে ছিলেন না। এই ধারণা সম্পূর্ণ কুফুরী, কারণ আল্লাহ হচ্ছেন সেই মহান সত্ত্বা যিনি যখন কোনো কিছুই ছিলোনা তিনি তখনও ছিলেন, আবার যখন কোনো কিছুই থাকবেনা তখনো তিনি থাকবে। তাঁর আদি বা অন্ত নামক কোনো কিছু নাই।
এছাড়া এই নামটা কোরান-হাদীসের কোথাও উল্লেখ করা হয় নাই, আর আল্লাহ কোরানে বলেছেন তাঁকে তাঁর আসমা-উল-হুসনা বা সুন্দর নামসমূহ দিয়ে আহবান করতে। সুতরাং, আল্লাহকে আল্লাহ বা তাঁর অন্য নামসমূহ দিয়ে না ডেকে ভুল নামে ডাকা নিঃসন্দেহে অন্যায়।
-সংগ্রহঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও

Friday, 13 February 2015

কথিত ‘ভালবাসা দিবস’ উপলক্ষ্যে সকল প্রকার অনুষ্ঠান করা হারাম


ভালবাসা দিবস উপলক্ষ্যে সকল প্রকার অনুষ্ঠান করা হারাম
– সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের ফতোয়া
(ফতোয়া নং ২১২০৩ তারিখঃ ২৩-১১- ১৪২০ হি. )
ফতোওয়াটি সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদে বিশ্লেষণের পর এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে যে, কুরআন সুন্নাহর স্পষ্ট প্রমাণাদি দ্বারা এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামে ঈদ বা উৎসবের দিন মাত্র দু’টি। সালাফে সালেহীনগণও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইসলামে স্বীকৃত ঈদ দুটির একটি হল ঈদুল ফিতর, অপরটি হল ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। উল্লিখিত ঈদ দু’টি ব্যতীত যত ঈদ বা উৎসব আছে, হোক না তা কোন ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত বা কোন গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত বা কোন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তা বিদআত। মুসলমানদের তা পালন করা বা পালন করতে বলা বৈধ নয় এবং এ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা ও এ ব্যাপারে কিছু দিয়ে সাহায্য করাও নিষেধ। কেননা এ 

Tuesday, 10 February 2015

“ইস্তিখারা” নামায


প্রশ্নঃ ভাই, একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা, কনফিউশানের মাঝে আছি। কি করবো?
উত্তরঃ “ইস্তিখারা” করেন।
বিঃদ্রঃ ইস্তিখারা হচ্ছে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই রাকাত নফল নামায পড়ে, কারো সাথে কোনো কথা না বলে হাদীসে একটা দুয়া আছে সেটা পড়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়। এর পরে ধার্মিক ও জ্ঞানী ব্যক্তি যারা কাছের মানুষ ও কল্যানকামী, তাদের সাথে পরামর্শ করে আল্লাহর উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এইভাবে ইস্তিখারা করে যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে – তার ফল ভালো/মন্দ যাই হোক – সবসময় আল্লাহর রহমত ও বরকত থাকবে কাজের মধ্যে।
“ইস্তিখারা”
ইস্তেখারা শব্দের অর্থ: ইস্তেখারা শব্দটি আরবী। আভিধানিক অর্থ, কোন কোন বিষয়ে কল্যাণ চাওয়া।
ইসলামী পরিভাষায়: দুরাকাত নামায ও বিশেষ দুয়ার মাধ্যমে আল্লাহর তায়ালার নিকট পছন্দনীয় বিষয়ে মন ধাবিত হওয়ার জন্য আশা করা। অর্থাৎ দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনটি অধিক কল্যাণকর হবে এ ব্যাপারে আল্লাহর নিকট দু রাকায়াত সালাত ও ইস্তিখারার দুয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নামই ইস্তেখারা। (ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী)
ইস্তেখারা করার হুকুম: এটি সুন্নাত। যা সহীহ বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
ইস্তিখারা কখন করতে হয়?
মানুষ বিভিন্ন সময় একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনটিকে গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে দ্বিধা-দন্ধে পড়ে যায়। কারণ, কোথায় তার কল্যাণ নিহীত আছে সে ব্যাপারে কারো জ্ঞান নাই। তাই সঠিক সিদ্ধান্তে উপণিত হওয়ার জন্য আসমান জমীনের সৃষ্টিকর্তা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত সকল বিষয়ে যার সম্যক জ্ঞান আছে, যার হাতে সকল ভাল-মন্দের চাবী-কাঠি সেই মহান আল্লাহর তায়ালার নিকট উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়। যেন তিনি তার মনের সিদ্ধান্তকে এমন জিনিসের উপর স্থীর করে দেন যা তার জন্য উপকারী। যার ফলে তাকে পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয়। যেমন, বিয়ে, চাকরী, সফর ইত্যাদি সে বিষয়ে ইস্তেখারা করতে হয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন: “সে ব্যক্তি অনুতপ্ত হবে না যে স্রষ্টার নিকট ইস্তিখারা করে এবং মানুষের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার উপর অটল থাকে।” আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللّهِ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
“আর তুমি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের সাথে পরমর্শ কর। অত:পর আল্লাহর উপর ভরসা করে (সিদ্ধান্তে অটল থাক)।. আল্লাহ ভরসাকারীদেরকে পছন্দ করেন।“ (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
কাতাদা(রহ:) বলেন: “মানুষ যখন আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরষ্পরে পরামর্শ করে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সব চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার তওফীক দেন।”
ইমাম নওবী রহ. বলেন: “আল্লাহ তায়ালার নিকট ইস্তেখারা করার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভাল লোকদের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার। কারণ, মানুষের জ্ঞান-গরীমা অপূর্ণ। সৃষ্টিগতভাবে সে দূর্বল। তাই যখন তার সামনে একাধিক বিষয় উপস্থিত হয় তখন কি করবে না করবে, বা কি সিদ্ধান্ত নিবে তাতে দ্বিধায় পড়ে যায়।”
ইস্তিখারা করার নিয়ম:

Sunday, 8 February 2015

ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস (Valentine day)


ভালবাসার পরিচয় 

‘ভালবাসা’ এক পবিত্র জিনিস যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পক্ষ হতে আমরা পেয়েছি। ভালবাসা’ শব্দটি ইতিবাচক। আল্লাহ তা‘আলা সকল ইতিবাচক কর্ম-সম্পাদনকারীকে ভালবাসেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
‘‘এবং স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না। তোমরা সৎকর্ম কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুহসিনদের ভালবাসেন।’’(সূরা আল-বাকারা:১৯৫)
ভুলের পর ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং পবিত্রতা অবলম্বন করা এ দুটিই ইতিবাচক কর্ম। তাই আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদেরকেও ভালবাসেন। আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদেরকে ভালবাসেন।’’(সূরা আল-বাকারা:২২২)
তাকওয়া সকল কল্যাণের মূল। তাই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে খুবই ভালবাসেন। তিনি বলেন,
فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِين
‘‘আর নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন।’’(সূরা আল ইমরান:৭৬)
পবিত্র এ ভালবাসার সাথে অপবিত্র ও নেতিবাচক কোন কিছুর সংমিশ্রণ হলে তা আর ভালবাসা থাকে না, পবিত্রও থাকে না; বরং তা হয়ে যায় ছলনা,শঠতা ও স্বার্থপরতা।
ভালবাসা, হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য সুতোর টান। কোন দিন কাউকে না দেখেও যে ভালবাসা হয়; এবং ভালবাসার গভীর টানে রূহের গতির এক দিনের দূরত্ব পেরিয়েও যে দুই মুমিনের সাক্ষাত হতে পারে তা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার এক বর্ণনা থেকে আমরা পাই। তিনি বলেন,
النعم تكفر والرحم تقطع ولم نر مثل تقارب القلوب
‘‘কত নি‘আমতের না-শুকরি করা হয়, কত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হয়, কিন্তু অন্তরসমূহের ঘনিষ্ঠতার মত (শক্তিশালী) কোন কিছু আমি কখনো দেখি নি।’’(ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ :হাদীস নং২৬২)

Sunday, 1 February 2015

আপনার স্ত্রীকে ভালবাসুন ! ! !


সমস্ত বিবাহিত ভাইদের জন্য

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনার চায়ে ছোট একটি চুমুক দেয়। কারণ, সে নিশ্চিত হতে চায় চা টি আপনার পছন্দ মত হয়েছে কিনা।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে নামাজ পড়তে জোর করে। কারণ সে আপনারই সাথে জান্নাতে যেতে চায়।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে সন্তানদের সাথে খেলা করতে বলে। কারণ সন্তানদের অভিভাবক সে একা নয়।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপানাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়। কারণ, সে অন্য সমস্ত মানুষকে রেখে শুধুমাত্র আপনাকেই বেঁছে নিয়েছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার কিছু দোষ ত্রুটি আপনাকে বিরক্ত করে। কারণ, আপনারও এমন অনেক দোষ ত্রুটি রয়েছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার রান্না খারাপ হয়। কারণ, সে ভাল রান্নার চেষ্টা করেছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সকাল বেলায় তাকে উষ্কখুষ্ক দেখায়। কারণ, সে আবার আপানরই জন্য সাজগোজ করবে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে সন্তানের লেখাপড়ায় সাহায্য করতে বলে। কারণ সে চায় আপনাকে সংসারের অংশ হিসেবে পেতে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে জানতে চায় তাকে মোটা লাগছে কিনা। কারণ, আপনার মতামত তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ; এজন্য তাকে বলুন সে সুন্দর।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তাকে সুন্দর দেখায়। কারণ সে আপনারই, তাই প্রশংসা করুন।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে তৈরি হতে দীর্ঘ সময় পার করে দেয়। কারণ সে চায় তাকে আপনার চোখে সবচেয়ে সুন্দর লাগুক।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে এমন কোন উপহার দেয় যা আপনার পছন্দ হয়নি। কারণ সে আপনাকে খুশি করতে চায়, তাই তাকে বলুন, ঠিক এমন উপহারই আপনার প্রয়োজন ছিল।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার মধ্যে কোন বদঅভ্যাস গড়ে ওঠে। কারণ আপনারও এমন অনেক বদঅভ্যাস রয়েছে; প্রজ্ঞা আর কোমলতার সাথে তার সেই বদঅভ্যাস পরিবর্তন করানোর সময় এখনো আপনার আছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে অকারণেই কাঁদে। তাকে বলুন সব ঠিক হয়ে যাবে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে PMS বা মাসিক অবসাদ এ ভোগে। তার জন্য চকলেট আনুন, তার পায়ের পাতায় ও কোমরে মালিশ করে দিন, এবং তার সাথে নিছকই গল্প করুন (বিশ্বাস করুন এতে কাজ হয়!)

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যদি সে অসন্তোষজনক কিছু করে ফেলে। এরকম হতেই পারে এবং এর রেষ একসময় কেটেও যাবে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনার কাপড়ে ভুলবশতঃ দাগ লাগিয়ে ফেলে। একটি নতুন জামা আপানি এমনিতেও কিনতেন।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে বলে আপনার কিভাবে ড্রাইভ করা উচিৎ। সে শুধু চায় আপনি নিরাপদে থাকুন।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে তর্ক করে। সে তাই চায় যা আপানাদের দুইজনের জন্যই ভাল হয়।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...সে শুধু আপনারই। এটি ছাড়া তাকে ভালবাসার অন্য কোন বিশেষ কারণেরও প্রয়োজন নেই!!!

এই সবই নারীসুলভ স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আর স্ত্রী আপনার জীবনেরই একটি অংশ যাকে রানীর মত মর্যাদা দেওয়া উচিৎ।

মহানবী (সাঃ) নারীদের বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেনঃ

• তোমরা স্ত্রীদের জন্য মঙ্গলকামী হও (বুখারী ৩৩৩১, মুসলিম ৪৭)
• তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে তার স্ত্রীদের কাছে উত্তম (তিরমিজি ১১৬২)

বিদায় হজ্জ এ নবী (সাঃ) আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে উপদেশ ও নসিহত দান করে বলেনঃ

তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর।...তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, অনুরূপ তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের অধিকার হল, তারা যেন তোমাদের বিছানায় ওই সব লোককে আসতে না দেয় যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর এবং তারা যেন ওই সব লোককে তোমাদের বাড়ীতে প্রবেশ করার অনুমতি না দেয় যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর। তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তাদেরকে ভালরূপে খেতে-পরতে দেবে। [তিরমিজি ১১৬৩, ইবনু মাজাহ ১৮৫১; তাহকীক রিয়াযুস স্বালেহীন পৃষ্ঠা ১৬০]


সূত্র : কুর'আনের আলো

মুসলমান-অমুসলমান সম্পর্ক সংক্রান্ত নীতিমালা



প্রশ্ন: 
আমরা ইসলামি শরিয়ার আলোকে সুস্পষ্টভাবে জানতে চাই মুসলমানেরা অমুসলমানের প্রতি কোন দৃষ্টিতে তাকাবে এবং অমুসলমানদের সাথে কী ধরনের আচরণ করবে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। 
১. ইসলাম রহমত ও ন্যায়ের ধর্ম। ইসলাম মানুষের হেদায়েতের জন্য এবং মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনার জন্য চেষ্টা করে। 
২. হেকমত, সুন্দর উপদেশ ও উত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে অমুসলমানদেরকে দাওয়াত দেয়ার জন্য মুসলমানদেরকে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না। তবে তাদের মধ্যে ওরা ছাড়া, যারা জুলুম করেছে।”[সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৬] 
৩. ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫] 
৪. মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে- যে কোন কাফেরকে আল্লাহর কালাম শুনার সুযোগ করে দেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে। অতঃপর তাকে পৌঁছিয়ে দাও তার নিরাপদ স্থানে।”[সূরা তওবা, আয়াত: ৬] 

Friday, 30 January 2015

পুরুষদের জন্য জামাতে নামায পড়া ওয়াজিবঃ



অনেক ভাই মনে করি কিপুরুষদের জন্য জামাতে নামায পড়া ওয়াজিবনয় সুন্নত!

তাই তারা জামাতের প্রতি উদাসীনইচ্ছা হলে পড়েননা হলে অনেক দেরীকরে ওয়াক্তের শেষের দিকে পড়েন। অনেক সুযোগ থাকা সত্বেও জামাতেশরীক হন না। অথবা সবসময় চেষ্টা করেন না জামাত ধরার জন্য

এইগুলো মারাত্বক ভুল!

প্লিজ আপনারা এমন করবেন নাআর হক্ক কথা হচ্ছে পুরুষদের জন্যজামাতে নামায পড়া ওয়াজিবযদিনা শরীয়তসম্মত কোনো ওযর থাকে(অসুস্থতাসফর ইত্যাদি)
নিচের হাদীসটা দেখুনএকজন অন্ধ সাহাবীকেও রাসুলুল্লাহ (সাঃজামাতত্যাগ করার অনুমতি দেন নাইআর আপনি সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষআপনার কি অনুমতি আছেজামাত ছাড়ার?

Thursday, 29 January 2015

নারীর হজ ও উমরা




সূচীপত্র
ভূমিকা 

হজের অর্থ : 
হজের গুরুত্ব ও ফজিলত : 
মহিলাদের হজের গুরুত্ব: 
হজের শর্তসমূহ: 
এক. আর্থিক সক্ষমতা 
আর্থিক সংগতি বলতে কি বুঝায়? তার পরিমাণ কত ?

মাহরাম কারা?
এক. বংশীয় মাহরাম 
দুই. দুধ খাওয়া জনিত মাহরাম 
তিন. বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম 
মাহরাম-এর কিছু শর্ত: 

হজের আদবসমূহ: 
আল্লাহর দরবারে আমল কবুল হওয়ার জন্য শর্ত সমূহ 
হজ শুরু করার আগে যা করণীয় 
এক. হজ শুরু করার আগে আপনাকে কয়েকটি কাজ করতে হবে 
দুই. হজের সফরে আপনাকে কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হবে 
তিন. হজের সফরে যাওয়ার সময় আপনার বিশেষ করণীয় 
মহিলা হাজী সাহেবার জন্য যা বর্জনীয় 
এহরামের আগে ও পরে সর্বাবস্থায় বর্জনীয় বিষয়সমূহ 

হজ, উমরা ও যিয়ারতের পদ্ধতি (মাসনূন দো‘আ সহ)




ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। পবিত্র ও বরকতময় অগণিত স্ত্ততি আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা যিনি সম্মানিত ঘরকে মানুষের মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে পরিণত করেছেন, যে ঘরের প্রতি রয়েছে আল্লাহর মু’মিন বান্দাদের হৃদয়ের আকর্ষণ।
দরূদ ও সালাম প্রিয় নবী মুস্তাফার উপর যিনি ঔ সকল ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোত্তম যারা আল্লাহর ঘরে হজ ও উমরা পালন করেছেন, যাকে সারা জগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আমানতের দায়িত্ব আদায় করেছেন, উম্মাতকে নসীহত করেছেন, আল্লাহর পথে সর্বাত্মক জিহাদ করেছেন, আল্লাহ তাঁকে দ্বীন ইসলাম সহকারে পাঠিয়েছেন। তা দিয়ে তিনি বান্দাহদেরকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন এবং কুফর ও শির্কের অন্ধকার থেকে তাদেরকে মুক্ত করে ইসলামের প্রদীপ্ত সূর্যালোকে নিয়ে এসেছেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেন :
﴿ وَكَذَٰلِكَ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ رُوحٗا مِّنۡ أَمۡرِنَاۚ مَا كُنتَ تَدۡرِي مَا ٱلۡكِتَٰبُ وَلَا ٱلۡإِيمَٰنُ وَلَٰكِن جَعَلۡنَٰهُ نُورٗا نَّهۡدِي بِهِۦ مَن نَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِنَاۚ وَإِنَّكَ لَتَهۡدِيٓ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٥٢ ﴾ [الشورى: ٥٢] 
‘‘আর এভাবে আমি আপনার কাছে অহী প্রেরণ করেছি যা আমার নির্দেশের অন্তর্গত। আপনি তো জানতেন না কিতাব কি এবং ঈমান কি ! কিন্তু আমি একে এমনই এক আলোকবর্তিকায় পরিণত করেছি যদ্বারা আমার বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর আপনিতো নিশ্চয়ই সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শনই করেন।’’[সুরা আশ্ শুরা: ৫২]
হে আল্লাহ আপনি যে শরীয়ত প্রদান করেছেন সে জন্য আপনার প্রশংসা। আপনি যে নির্দেশ দিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রশংসা। আপনি যা সহজ করেছেন এবং নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রশংসা।

প্রিয় মুসলিম ভাই! মক্কা সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যেখানে রয়েছে মাসজিদুল হারাম ও সম্মানিত কাবা ঘর। সকল স্থানেই মুসলিমদের ক্বিবলারূপে আল্লাহ্ একে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহর অনুগত হয়ে ও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে তারা প্রতিদিন পাঁচবার সে ঘর অভিমুখী হয়। মক্কা নবীগণের লালনভূমি, আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের অবস্থানস্থল ও আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির স্থান।

ফতোওয়া হজ্জ: হজ্জ সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি প্রশ্নোত্তর



ফতোওয়া হজ্জ: হজ্জ সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি প্রশ্নোত্তর
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.)
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী 

প্রশ্নঃ (৪৪৯) বেনামাযীর হজ্জের বিধান কি? যদি এ ব্যক্তি তওবা করে, তবে সমস্ত ইবাদত কি কাযা আদায় করতে হবে?
উত্তরঃ নামায পরিত্যাগ করা কুফরী। নামায ছেড়ে দিলে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। একথার দলীল হচ্ছে কুরআন, সুন্নাহ্‌ ও ছাহাবায়ে কেরামের উক্তি। অতএব যে লোক নামায পড়ে না তার জন্য মক্কা শরীফে প্রবেশ করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন,
]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا[
“হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা হচ্ছে একেবারেই অপবিত্র, অতএব তারা যেন এ বছরের পর মসজিদুল হারামের নিকটেও আসতে না পারে।” (সূরা তাওবাঃ ২৮)

যে ব্যক্তি নামায পড়ে না, তার হজ্জ বিশুদ্ধ হবেনা এবং কবূলও হবেনা। কেননা কাফেরের কোন ইবাদতই সঠিক নয়। আল্লাহ্‌ বলেন,
]وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلَا يُنفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ[
“আর তাদের দান খায়রাত গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এজন্যে যে, তারা আল্লাহ্‌র সাথে ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, তারা শৈথিল্যের সাথে ছাড়া ছালাত আদায় করে না। আর তারা দান করে না, কিন্তু অনিচ্ছার সাথে করে।” (সূরা তাওবাঃ ৫৪)

যে সমস্ত আমল তারা পূর্বে পরিত্যাগ করেছে তা কাযা আদায় করা আবশ্যক নয়। কেননা আল্লাহ বলেন,
]قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ[
“(হে নবী ব!) আপনি কাফেরদেরকে বলে দিন, তারা যদি অনাচার থেকে বিরত থাকে (এবং আল্লাহর দ্বীনে ফিরে আসে) তবে পূর্বে যা হয়েছে তা আল্লাহ্‌ ক্ষমা করবেন।” (সূরা আনফালঃ ৩৮)

সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ অন্যায় করেছে সে যেন আল্লাহর কাছে খাঁটিভাবে তওবা করে। নেক কাজ চালিয়ে যায়। বেশী বেশী তওবা ইসে-গফার ও অধিকহারে ভাল কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। আল্লাহ্‌ বলেন,
]قُلْ يَاعِبَادِي الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ[
“বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছো তোমরা আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সমস্ত গুণাহ্‌ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সূরা যুমারঃ ৫৩)

যারা তওবা করতে চায় আল্লাহ্‌ তাদের জন্য এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন। সুতরাং বান্দা যে পাপই করে না কেন্ত যদি শির্কও হয় এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহই সরল সঠিক পথে হেদায়াতদানকারী।

প্রশ্নঃ (৪৫০) ব্যাপকভাবে দেখা যায় অনেক মুসলমান বিশেষ করে অনেক যুবক ফরয হজ্জ আদায় করার ব্যাপারে শীথিলতা প্রদর্শন করে। এবছর নয় ঐ বছর এভাবে বিলম্ব করে। কখনো কর্ম ব্যস্ততার ওযর পেশ করে। এদেরকে আপনার নছীহত কি? কখনো দেখা যায় কোন কোন পিতা যুবক ছেলেদেরকে ফরয হজ্জ আদায় করতে বাধা দেয় এই যুক্তিতে যে, এখনো তাদের বয়স হয়নি, হজ্জের ক্লান্তি সহ্য করতে পারবে না। অথচ হজ্জের পূর্ণ শর্ত তাদের মধ্যে পাওয়া যায়। পিতার এ কাজের বিধান কি? এধরণের পিতার আনুগত্য করার বিধান কি?

প্রশ্নোত্তরে হজ্জ ও উমরা (২য় পর্ব)




১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

১৭শ অধ্যায়
বিবিধ মাস্‌আলা

প্রঃ ১৮২- আমরা জানি যে, শিশুদের উপর হজ্জ ফরজ নয়। কিন্তু তারা হজ্জ করলে তা কি শুদ্ধ হবে?
উঃ- হাঁ। শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সাওয়াব পাবে শিশুর মাতা-পিতা। তবে বালেগ হওয়ার পর যদি পূর্বে বর্ণিত চারটি শর্ত (প্রশ্ন নং-১০) পূরণ হয় তবে তাকে আবার ফরজ হজ্জ আদায় করতে হবে।
প্রঃ ১৮৩- মেয়েরা কি একাকী হজ্জে যেতে পারবে?
উঃ- না। মেয়েলোক হলে তার সাথে পিতা, স্বামী, ভাই, ছেলে বা অন্য মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। দুলাভাই, দেবর, চাচাতো-মামাতো-খালাতো-ফুফাতো ভাই তথা গায়রে মাহরাম হলে চলবে না।
প্রঃ ১৮৪- মৃত ব্যক্তি যার উপর হজ্জ ফরজ ছিল বা মান্নতী হজ্জ ছিল এমন ব্যক্তির হজ্জ পালনের বিধান কি?
উঃ- মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়েই তার পরিবারের লোকেরা কাযা হজ্জ করিয়ে নিবে।
প্রঃ ১৮৫- সুস্থ অবস্থায় হজ্জ ফরজ হওয়ার পর বিলম্ব করার কারণে পরে যদি অসুস্থ বা রোগাগ্রস্ত হয়ে অক্ষম হয়ে যায় তাহলে কিভাবে হজ্জ করবে?
উঃ- অন্য কাউকে পাঠিয়ে ফরজ হজ্জ কাযা করিয়ে নিতে হবে।
প্রঃ ১৮৬- নিজে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই এমন অবস্থায় কাউকে পাঠিয়ে বদলী হজ্জ করিয়ে নেয়ার পর যদি আবার সুস্থতা ফিরে আসে তাহলে কি নিজে আবার হজ্জে যাওয়া লাগবে?
উঃ- না, আর যেতে হবে না। কেননা, ফরজ তার আদায় হয়ে গেছে।
প্রঃ ১৮৭- যে কেউ কি বদলী হজ্জ করতে পারবে?
উঃ- না। যে ব্যক্তি কারোর বদলী হজ্জে যাবে তার নিজের হজ্জ আগে করে নিতে হবে। (আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ)
প্রঃ ১৮৮- বদলী হজ্জ হলে কোনটি উত্তম-তামাত্তু, কিরান, নাকি ইফ্‌রাদ?
উঃ- যিনি বদলী হজ্জ করাবেন তাঁর পক্ষ থেকে কোন শর্ত না থাকলে যেকোনটি করা যায়।

প্রঃ ১৮৯- কর্জ করে হজ্জ করা কেমন?
উঃ- স্বচ্ছলতা না থাকলে কর্জ করে হজ্জ করার অনুমতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি। (বাইহাকী)
প্রঃ ১৯০- হারাম টাকা দিয়ে হজ্জ করলে তা আদায় হবে কিনা?
উঃ- অধিকাংশ আলেমের মতে হজ্জের ফরয আদায় হয়ে যাবে, তবে মাল হারাম হওয়ার কারণে গোনাহ হবে। তবে হাম্বলী মাযহাবে হারাম টাকা দিয়ে হজ্জ হবে না।
প্রঃ ১৯১- হজ্জে গিয়ে ব্যবসা করা কেমন?
উঃ- এটা জায়েয আছে।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...