Monday, 18 August 2014

গীবত ও গীবতকারীর পরিণতি



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

অনুলিখন : মুহাম্মাদ আলী শান্ত
ইসলাম ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্বারোপ করেছে। ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বিনষ্টকারী সমুদয় কর্ম হতে বিরত থাকতে সকলকে তাগীদ দিয়েছে। সমাজে যেসব বিষয়ে ফাটল ধরাতে এবং ঐক্যের সুরম্য প্রাসাদকে ভেঙ্গে তছনছ করে দিতে সক্ষম এমন বিষয়গুলির অন্যতম হল পরনিন্দা বা গীবত। এর মাধ্যমেই শয়তান সমাজে ফাটল ধরিয়ে থাকে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ। [সূরা হুমাযাহ – ০১] কুরআন ও হাদিসে এই আচরণ সম্পর্কে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
গীবত-এর সংজ্ঞাঃ ‘গীবত’ অর্থ বিনা প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির দোষ অপরের নিকটে উল্লেখ করা। ইবনুল আছীর বলেনঃ “গীবত হল কোন মানুষের এমন কিছু বিষয় যা তার অনুপস্থিতিতে উল্লেখ করা, যা সে অপছন্দ করে, যদিও তা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে”। এসব সংজ্ঞা মূলত হাদিস হতে নেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) গীবতের পরিচয় দিয়ে বলেনঃ “গীবত হল তোমার ভাইয়ের এমন আচরণ বর্ণনা করা, যা সে খারাপ জানে”।[1]

কত দিন পর্যন্ত কসর করা যাবে



সহিহ আত্ তিরমিজি :: কত দিন পর্যন্ত কসর করা যাবে? অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৬ :: হাদিস ৫৪৯
ইবনু ‘আবাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে গিয়ে উনিশ দিন থাকলেন। এ কয়দিন তিনি দুই রাক’আত দুই রাক’আত করে নামায আদায় করলেন (চার রাক’আত ফরযের পরিবর্তে) ইবনু ‘আবাস (রাঃ) বলেন, আমরাও আমাদের (মাদীনার ও মক্কার) মধ্যেকার উনিশ দিনের পথে দুই রাক’আত দুই রাক’আত করে নামায আদায় করে থাকি। যখন এর চেয়ে বেশী দিন থাকি তখন চার রাক’আতই আদায় করে থেকি। -সহীহ্। ইবনু মাজাহা- (১০৭৫), বুখারী।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব হাসান সহীহ্।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About How Long The Prayer Is Shortened
Part 6 :: Hadith 549
Ibn Abbas narrated:

"The Messenger of Allah traveled on a journey and he prayed two Rak'ah for nineteen days." Ibn Abbas said: "So when we would stay somewhere for nineteen (days) we would pray two Rak'ah , and if we stayed longer than that we would complete the Salat." (Sahih)

কত দিন পর্যন্ত কসর করা যাবে?

সহিহ আত্ তিরমিজি :: কত দিন পর্যন্ত কসর করা যাবে? অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৬ :: হাদিস ৫৪৮
আনাস ইবনু মালিক ( রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে মাদীনা হতে রওয়ানা হলাম। তিনি দুই রাক’আত সামায আদায় করলেন। ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইসহাক বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতদিন মক্কায় ছিলেন? তিনি বললেন, দশ দিন। -সহীহ্। ইবনু মাজাহা- (১০৭৭), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘আবাস ও জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
“ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন সফরে ঊনিশ দিন থাকলেন। তিনি বরাবর (চার রাক’আত ফরযের স্থলে) দুই রাক’আতই আদায় করতে থাকলেন। ইবনু ‘আবাস (রাঃ)বলেন, এজন্য আমরাও ঊনিশ দিন থাকলে দুই রাক’আতই আদায় করে থাকি। যদি এরপর আরো বেশী দিন থাকতে হয় তবে আমরা পূর্ণ নামায আদায় করি।”
‘আলী (রাঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি সফরে দশ দিন থাকেন তবে সে পূর্ণ নামায আদায় করবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পনের দিন থাকবে সে পূর্ণ নামায আদায় করবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর অপর মতে বার দিনের কথা উল্লেখ আছে। সা’ঈদ ইবনুল সুদায়্যাব (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি চার দিন থাকবে সে চার রাক’আত আদায় করবে। কাতাদা ও আতা তাঁর এ মত বর্ননা করেছেন। দাঊদ ইবনু আবূ হিন্দ তাঁর নিকট হতে এর বিপরীত বর্ননা করেছেন।
এ ব্যাপারে ‘আলিমদের মধ্যে যথেস্ট মতের অমিল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ পনের দিনের সময়সীমা ঠিক করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যদি কমপক্ষে পনের দিন (সফর একই এলাকায়) থাকার নিয়াত করা হয় তবে পূর্ণ নামায আদায় কর। মালিক, শাফিঈ অ আহমদ বলেন, যদি চার দিন একই জায়গায় থাকার নিয়াত করা হয় তবে পূর্ণ নামায আদায় করতে হবে। ইসহাক বলেন, শক্তিশালী মত হল ইবনু ‘আব্বাসের হাদীসে বর্ণিত মত। তিনি এ হাদীসই অনুসরন করেছেন। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণিত তাঁর নিজের হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন । এ হাদীসের মর্ম অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি সফরে কোথাও উনিশ দিন থাকার নিয়াত করে তবে সে পূর্ন নামায আদায় করবে।
বহুবিধ মত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিদ্বানগণ একটি বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছেন। তা হল, মুসাফির ব্যক্তি কোন স্থানে নির্দিষ্ট কতদিন থাকবে তা যদি নির্ধারণ না করা থাকে বা তাঁর নিয়াত না করে থাকে তবে সে কসরই আদায় করতে থাকবে, তা যত বছরই হোক না কেন।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About How Long The Prayer Is Shortened
Part 6 :: Hadith 548
Yahya bin Abi Ishaq Al-Hadrami narrated :
that Anas bin Malik said: "We went with the Messenger of Allah from Al-Madinah to Makkah, and he prayed two Rak'ah." He said: "I said to Anas: 'How long did Messenger of Allah stay in Makkah?' He said: 'Ten (days).'" (Sahih)


আল-আদাবুল মুফরাদ (অনন্য শিষ্টাচার)-ফ্রী ডাউনলোড


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে,যিনি পরম করুনাময় অসীম দয়ালু।
islamicsheba
লেখকঃ ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রঃ)  অনুবাদঃ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী
সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ ইমাম বুখারী (রহঃ) সংকলিত সহীহ আল বুখারীর পর তার যে কিতাবটি মুসলিম সমাজে সর্বাধিক পরিচিত তা হচ্ছে ‘ আল আদাবুল  মুফরাদ’।
এটি মূলত শিষ্টাচার সংক্রান্ত হাদিসের সংকলন। ইসলামি সমাজে মু’আমিলা তথা পারস্পরিক সম্পর্কের উপর অত্যন্ত  গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যারা ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত তাদের শিষ্টাচারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহার, আচার-আচরণ, নৈতিকতা ইত্যাদি দেখেই মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে। যে নসিহত প্রদান করা হয় এবং সে অনুযায়ী তা অর্জনের শিক্ষা দেওয়া হয়। তাছাড়া মানব সম্প্রদায়কে অন্যান্য প্রাণী জগত থেকে স্বতন্ত্র করার পেছনে যে কয়টি কারণ  কার্যকর রয়েছে তার মধ্যে শিষ্টাচার  অন্যতম। তাই মানব সভ্যতার  বিকাশেও শিষ্টচারের  ভূমিকা  অনন্য। এ দিক থেকেএ গ্রন্থের  ভূমিকা অসাধারণ। এতে ১৩৩৯ খানা হাদিস  ৬৪৫টি শিরোনামে বর্ণনা কড়া হয়েছে । আদাব ও নৈতিকতা সংক্রান্ত হাদিসের এতো বড় সমাহার আর দ্বিতীয়টি নেই।
বইগুলো স্ক্যান করে পিডিএফ ভার্সনে প্রদান করা হয়েছে। তাই এগুলো পড়তে আপনার কম্পিউটারে‘এডোব রিডার’ সফটোওয়্যারটি থাকা অপরিহার্য। এটি আপনার কম্পিউটারে আগে থেকে না থাকলেhttp://get.adobe.com/reader/ লিংকে ক্লিক করে এখনই তা ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।
বইটি ডাউনলোড করুন।

আল-আদাবুল মুফরাদ (অনন্য শিষ্টাচার)-ফ্রী ডাউনলোড


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে,যিনি পরম করুনাময় অসীম দয়ালু।
islamicsheba
লেখকঃ ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রঃ)  অনুবাদঃ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী
সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ ইমাম বুখারী (রহঃ) সংকলিত সহীহ আল বুখারীর পর তার যে কিতাবটি মুসলিম সমাজে সর্বাধিক পরিচিত তা হচ্ছে ‘ আল আদাবুল  মুফরাদ’।
এটি মূলত শিষ্টাচার সংক্রান্ত হাদিসের সংকলন। ইসলামি সমাজে মু’আমিলা তথা পারস্পরিক সম্পর্কের উপর অত্যন্ত  গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যারা ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত তাদের শিষ্টাচারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহার, আচার-আচরণ, নৈতিকতা ইত্যাদি দেখেই মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে। যে নসিহত প্রদান করা হয় এবং সে অনুযায়ী তা অর্জনের শিক্ষা দেওয়া হয়। তাছাড়া মানব সম্প্রদায়কে অন্যান্য প্রাণী জগত থেকে স্বতন্ত্র করার পেছনে যে কয়টি কারণ  কার্যকর রয়েছে তার মধ্যে শিষ্টাচার  অন্যতম। তাই মানব সভ্যতার  বিকাশেও শিষ্টচারের  ভূমিকা  অনন্য। এ দিক থেকেএ গ্রন্থের  ভূমিকা অসাধারণ। এতে ১৩৩৯ খানা হাদিস  ৬৪৫টি শিরোনামে বর্ণনা কড়া হয়েছে । আদাব ও নৈতিকতা সংক্রান্ত হাদিসের এতো বড় সমাহার আর দ্বিতীয়টি নেই।
বইগুলো স্ক্যান করে পিডিএফ ভার্সনে প্রদান করা হয়েছে। তাই এগুলো পড়তে আপনার কম্পিউটারে‘এডোব রিডার’ সফটোওয়্যারটি থাকা অপরিহার্য। এটি আপনার কম্পিউটারে আগে থেকে না থাকলেhttp://get.adobe.com/reader/ লিংকে ক্লিক করে এখনই তা ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।
বইটি ডাউনলোড করুন।

ইত্তেবায়ে রাসূল



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

559426_326322267436320_2034527550_n
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের | সম্পাদনা : ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
ইত্তেবার অর্থ:
আভিধানিক অর্থে ইত্তেবা অর্থ হল; কারো পদচিহ্ন দেখে দেখে চলা। এ শব্দটি অনুসরণ, অনুকরণ, মান্যকরণ, আদর্শ জ্ঞান করণ ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
শরিয়তের পরিভাষায় ইত্তেবা:
দ্বীনের সকল বিষয় তথা ‘আক্বিদা-বিশ্বাস, কথা, কাজ, গ্রহণ- বর্জন সহ সর্বক্ষেত্রে রাসূলের পরিপূর্ণ অনুসরণ করাকে ইত্তেবা বলে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজটি যেভাবে করেছেন সেটি ঠিক সেভাবে করাই হল রাসূলের ইত্তেবা বা অনুসরণ। রাসূলের ইত্তেবা ছাড়া কোন ইবাদত শুদ্ধ হয় না। এ কারণেই ইবাদতের ক্ষেত্রে রাসূলের ইত্তেবার কোন বিকল্প নাই। আর রাসূলের ইত্তেবা সম্পর্কে এবং আল্লাহর রাসূল কোন কাজ কিভাবে করেছেন সে সম্পর্কে জানতে হলে হাদিস বা সূন্নাহ অধ্যয়ন ছাড়া আর কোন পথ নাই। কেবল হাদিস বা সূন্নাহের অধ্যয়নের মাধ্যমে রাসূলের ইত্তেবা সম্পর্কে জানা যাবে।

কিছু প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে?



লিখেছেনঃ সাইফ

l

নিজেকে করার কিছু প্রশ্ন , যদি পারেন তো জবাব দিন , না পারলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুনঃ

১/ আপনি শুধু জুমআ’র নামাজই পড়েন কেন? আপনাকে কি আল্লাহ্‌ শুধু জুমার দিনেই আলো, বাতাস, পানি খাবার দিয়ে থাকেন? শনিবার দেন না? রবি, সোম, মঙ্গল সব দিনই তো দেন, সবদিন পরিপূর্ণ আল্লাহর নেয়মত ভোগ করেন, কিন্তু আল্লাহ্‌কে শুধু একদিনই স্মরণ করেন। এবার বলুন আপনি কি ঠিক পথে আছেন? এটা কি স্পষ্টত অপরাধ নয়? জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন।

Sunday, 17 August 2014

যাদের সাথে বিবাহ হারাম নয়, এ ধরনের নারীদের সাথে মুসাফাহা করার বিধান


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে,যিনি পরম করুনাময় অসীম দয়ালু।
xx
অনুবাদ :জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের । সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
হে আমার প্রাণ প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! তোমরা যারা আল্লাহর দ্বীন পালন করা ও হারাম থেকে বেঁচে থাকতে প্রবল আগ্রহী, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন, তা পরিহার করা এবং যা করার জন্য আদেশ দিয়েছেন তা পালন করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি তালাশে ঈর্ষান্বিত, তোমাদের সামনে কয়েকটি বিশুদ্ধ হাদিস পেশ করা হচ্ছে, যেগুলো খারাপ অভ্যাস যা অধিকাংশ মূর্খ ও অজ্ঞ লোকেরা করে থাকে তা হারাম হওয়ার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে। আর তা হল, নারীরা পুরুষের সাথে এবং পরুষরা নারীদের সাথে করমর্দন করা এবং যাদের সাথে বিবাহ বৈধ তাদের সাথে করর্মদন করার মত খারাপ অভ্যাস।

কবর খনন করার পদ্ধতি ও ফযীলত এবং লাশ রাখার নিয়ম


শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে,যিনি পরম করুনাময় অসীম দয়ালু।

প্রশ্নঃ কবর খনন করার পদ্ধতি ও ফযীলত এবং লাশ রাখার নিয়ম বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : কবর খনন করা নিঃসন্দেহে নেকীর কাজ। এজন্য ঐ ব্যক্তি অশেষ ছওয়াবের অধিকারী হবেন। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘নেকীর কাজে তোমরা পরস্পরে সহযোগিতা কর…’ (মায়েদাহ ২)
কবর প্রশস্ত, গভীর ও সুন্দর হ’তে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমরা কবর খননকর এবং প্রশস্ত, গভীর ও সুন্দর কর’ (আহমাদতিরমিযীমিশকাত হা/১৭০৩সনদ ছহীহ, ‘জানাযা’ অধ্যায়)।গভীরতার পরিমাণ সম্পর্কে ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হ’তে মুছান্নাফ ইবনুআবী শায়বাহ্তে একটি রেওয়ায়াত এসেছে, যেখানে মানুষের দৈর্ঘ্য পরিমাণ গভীর করতে বলা হয়েছে। ইমাম শাফেঈও সেকথা বলেন। খলীফা ওমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ)থেকে ‘নাভী’ পর্যন্ত গভীর করার কথা এসেছে। ইমাম ইয়াহ্ইয়া ‘বুক’ পর্যন্ত বলেন। তিনি বলেন, এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হ’ল যাতে লাশ ঢাকা পড়ে এবংহিংস্র জন্তু থেকে হেফাযত হয়। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, কবরের গভীরতার কোন সীমা নেই’ (শাওকানীনায়লুল আওত্বার ৫/৯৪ পৃঃ)। উপরের আলোচনা শেষে বলা চলেযে, কবর উত্তর-দক্ষিণে লম্বা, গভীর, প্রশস্ত, সুন্দর ও মধ্যস্থলে বিঘত খানেক উঁচু করে দু’দিকে ঢালু হওয়া বাঞ্ছনীয়। অধিক উঁচু করা নাজায়েয। ‘লাহদ’ ও ‘শাক্ব’ দু’ ধরনের কবর জায়েয আছে। যাকে এদেশে যথাক্রমে ‘পাশখুলি’ ও ‘বাক্স কবর’ বলা হয়। তবে ‘লাহদ’ উত্তম।
মাইয়েতকে কবরে নামানোর দায়িত্ব পুরুষদের। মাইয়েতের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিকটবর্তীগণ ও সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিগণ এই দায়িত্ব পালন করবেন, যিনি পূর্বরাতে (বা দাফনের পূর্বে) স্ত্রী সহবাস করেননি।পায়ের দিক দিয়ে মোর্দা কবরে নামাবে (অসুবিধা হ’লে যেভাবে সুবিধা সেভাবে নামাবে)। মোর্দাকে ডান কাতে ক্বিবলামুখী করে শোয়াবে। এই সময় কাফনের কাপড়ের গিরাগুলি খুলে দেবে(বুখারীমিশকাত হা/১৬৯৫ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৯০)
কবরে শোয়ানোর সময় ‘বিসমিল্লা-হি ওয়া আলা মিল্লাতে রাসূলিল্লা-হ (অর্থ: ‘আল্লাহ্র নামে ওআল্লাহ্র রাসূলের দ্বীনের উপরে’) বলবে। এই সময় কোন সুগন্ধি বা গোলাপ পানি ছিটানো বিদ‘আত। কবর বন্ধ করার পরে উপস্থিত সকলে (বিসমিল্লাহ বলে) তিন মুঠি করে মাটি কবরের মাথার দিক থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে দেবে। এ সময় ‘মিনহা খালাক্বনা-কুম ওয়া ফীহানুঈদুকুম ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা(ত্বোয়াহা ২০/৫৫)পড়ার কোন ছহীহ দলীল নেই(আহমাদ হা/২২২৪১সনদ যঈফ)। অনুরূপ ভাবেআল্লা-হুম্মা আজিরহা মিনাশ শায়ত্বা-নিওয়া মিন আযা-বিল ক্বাবরে...পড়ার কোন ছহীহ ভিত্তি নেই(ইবনু মাজাহ হা/১৫৫৩সনদযঈফ)
ht
দাফনের পরে মাইয়েতের ‘তাছবীত’ অর্থাৎ মুনকার ও নাকীর (দু’জন অপরিচিত ফেরেশতা)-এর সওয়ালের জওয়াব দানের সময় যেন তিনি দৃঢ় থাকতে পারেন, সেজন্য ব্যক্তিগত ভাবে সকলের দো‘আ করা উচিত। যেমন এসময়‘আল্লা-হুম্মাগফির লাহূ ওয়া ছাবিবতহু’ (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি তাকেক্ষমা করুন ও তাকে দৃঢ় রাখুন’) বলবে(আবুদাঊদ হা/৩২২১)। এছাড়া আললাহুম্মাগফিরলাহু ওয়ার হামহু.. মর্মে বর্ণিত দো‘আটিও পড়তে পারে(মুসলিমহা/৩৩৬)।কিন্তু দাফনের পরে একজনের নেতৃত্বে সকলে সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে দো‘আ করাও সকলের সমস্বরে ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলার প্রচলিত প্রথার কোন ভিত্তিনেই (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল(ছাঃ) ২৩০-৩২ পৃঃ
source.at tahreek

‘ঈদুল ফিতরের দিন নামায আদায় করতে যাওয়ার পুর্বে কিছু খাওয়া



সহিহ আত্ তিরমিজি :: ‘ঈদুল ফিতরের দিন নামায আদায় করতে যাওয়ার পুর্বে কিছু খাওয়া অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৫ :: হাদিস ৫৪২
আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত আছ, তিনি (বুরাইদা) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খাওয়া পর্যন্ত নামাযে বের হতেন না এবং ‘ঈদুল আযহার দিন নামায না আদায় করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। -সহীহ্। ইবনু মাজাহা-(১৭৫৬)
এ অনুচ্ছেদে ‘আলী ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ বুরাইদা হাদিসটি গারীব। ইমাম বুখারি বলেছেন, এ হাদীসটি ছাড়া সাওয়াব ইবনু ‘উতবার সূত্রে বর্ণিত আর কোন হাদীস আমার জানা নেই। একদল মনীষী ‘ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে ঘর হতে বের হওয়া মুস্তাহাব বলেছেন। তাঁরা খেজুর খাওয়া পছন্দ করেছেন। তাদের মতে ‘ঈদুল আযহার দিন নামায হতে আসার পর পানাহার করা মুস্তাহাব।

Jami at-Tirmidhi ::   [What Has Been Related] About Eating On The Day Of Fitr Before Going Out
Part 5 :: Hadith 542
Abdullah bin Buraidah narrated from his father:

"The Prophet would not leave on the Day of Fitr until he ate, and he would not eat on the day of Adha until he prayed." (Hasan)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাস্তা দিয়ে ‘ঈদের মাঠে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন



সহিহ আত্ তিরমিজি :: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাস্তা দিয়ে ‘ঈদের মাঠে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৫ :: হাদিস ৫৪১
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের দিন এক পথ দিয়ে যেতেন এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসতেন। -সহীহ্। ইবনু মাজাহা-(১৩০১)
অপর এক সনদসূত্রে এ হাদীসটি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত (বুখারি)। এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার ও আবূ রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে।
আবূ ‘ঈসা বলেঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। কিছু বিদ্বান এ হাদীসের উপর ‘আমল করার জন্য ইমামের এক পথ দিয়ে ‘ঈদের মাঠে যাওয়া এবং অন্য পথ দিয়ে আসাকে মুস্তাহাব বলেছেন। ইমাম শাফিঈ এই মত দিয়েছেন। জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি বেশী সহীহ্।

Jami at-Tirmidhi ::  What Has Been Related About the Prophet Going To The Eid By One Route, And Returning By Another
Part 5 :: Hadith 541
Abu Hurairah narrated:

"When Allah's Messenger would go out on the day of Eid by one route, he would return by another." (Sahih)

দুই ‘ঈদের নামাযের পূর্বে এবং পরে কোন নামায নেই



সহিহ আত্ তিরমিজি :: দুই ‘ঈদের নামাযের পূর্বে এবং পরে কোন নামায নেই অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৫ :: হাদিস ৫৩৭
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতরের দিন নামায আদায় করতে বের হলেন । তিনি দুই রাক’আত নামায আদায় করালেন এবং তার পূর্বে তিনি কোন (নফল) নামায আদায় করেন নি এবং পরেও আদায় করেননি ।        -সহীহ । ইবনু মাজাহ- (১২৯১), বুখারী ও মুসলিম ।
এ অনুচ্ছেদে আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে ।
আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদিসটি হাসান সহীহ । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তাবিঈ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন । ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক এই মতের পক্ষে (ঈদের নামাযের আগে-পরে কোন নফল নামায নেই) । অপর একদল বিদ্যানের মতে, ‘ঈদের নামাযের আগে বা পরে নফল নামায আদায় করা যায় । এ দুইটি মতের মধ্যে প্রথমোক্ত মতই বেশি সহীহ ।

Jami at-Tirmidhi :: What Has Been Related About 'There Is No Salat Before The Two Eid And No Salat After Them'
Part 5 :: Hadith 537
Ibn Abbas narrated:

"The Prophet went out on the day of Al-Fitr, so he prayed two Rak'ah, then he did not pray before it nor after it." (Sahih)

ঈদের নামাযে আযান ও ইকামাত নেই



সহিহ আত্ তিরমিজি :: ঈদের নামাযে আযান ও ইকামাত নেই অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৫ :: হাদিস ৫৩২
‘জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুই ঈদের নামায আযান এবং ইকামাত ব্যতিত একবার দু’বার নয় একাধিকবার আদায় করেছি (আহমাদ, মুসলিম, আবূ দাঊদ) ।-হাসান সহীহ । সহীহ আবূ দাঊদ- (১০৪২), মুসলিম ।
       এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু সামূরার হাদিসটি হাসান সহীহ । নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবীগণ ও অন্যরা এ হাদীস অনুযায়ী দুই ‘ঈদের নামায ও নফল নামাযের জন্য আযান দিতেন না ।

Jami at-Tirmidhi ::  [What Has Been Related] About The Salat For The Two Eid Is Without An Adhan Nor An Iqamah
Part 5 :: Hadith 532
Jabir bin Samurah narrated:

"I prayed the two Eid prayers with the Prophet - not one time, not two times - without and Adhan nor an Iqamah." (Sahih)

খুতবার পূর্বে দুই ‘ঈদের নামায আদায়



সহিহ আত্ তিরমিজি :: খুতবার পূর্বে দুই ‘ঈদের নামায আদায় করবে অনূচ্ছেদ
অধ্যায় ৫ :: হাদিস ৫৩১
‘ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) খুতবা দেওয়ার পূর্বে দুই ঈদের নামায আদায় করতেন, তারপর খুতবা দিতেন । - সহীহ । ইবনু মাজাহ – (১২৭৬), বুখারী ও মুসলিম ।
       এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু ‘উমারের হাদিসটি হাসান সহীহ । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অন্যরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন । তারা বলেছেন, খুতবা দেওয়ার আগে নামায আদায় করতে হবে । কথিত আছে মারওয়ান ইবনুল হাকামই সর্বপ্রথম নামযের আগে খুতবা দিয়েছিলেন । - মুসলিম ।

Jami at-Tirmidhi ::  [What Has Been Related] About The Eid Prayers Before The Khutbah
Part 5 :: Hadith 531
Ibn Umar narrated:

"Allah's Messenger, Abu Bakr, and Umar would pray during the two Eid before the Khutbah, then they would give the Khutbah." (Sahih)

Saturday, 16 August 2014

জিলহজের প্রথম দশদিনের ফযীলত এবং ঈদ ও কুরবানীর বিধান



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

জিলহজের প্রথম দশদিনের ফযীলত এবং ঈদ ও কুরবানীর বিধান

লেখকঃ আব্দুল মালেক আল-কাসেম । অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
জিলহজ মাসের দশদিনের ফযীলত :
আল্লাহ তা‌’আলার অশেষ মেহেরবানী যে, তিনি নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু মৌসুম করে দিয়েছেন, যেখানে তারা প্রচুর নেক আমল করার সুযোগ পায়, যা তাদের দীর্ঘ জীবনে বারবার আসে আর যায়। এসব মৌসুমের সব চেয়ে বড় ও মহত্বপূর্ণ হচ্ছে জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...