Friday, 26 August 2016

উট-গরুতে শরীকানায় কুরবানী দেয়া প্রসঙ্গ


লেখক: আব্দুর রাকীব (মাদানী)
দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার, খাফজী, সউদী আরব।
সম্পাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী
আল হামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ:
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কুরবানী করা একটি প্রমাণিত ইবাদত, যাকে অধিকাংশ উলামা সুন্নতে মুআক্কাদাহ (তাগিদী সুন্নত) বলেছেন এবং ক্ষমতাবানদের তা পরিত্যাগ করা অনুচিত মনে করেছেন। [আল্ মুগনী, ইবনু কুদামাহ, ১৩/৩৬০, ফিকহুস্ সুন্নাহ, সাইয়্যেদ সাবেক,৩/১৯৫]
তাই প্রতি বছর যখন কুরবানীর সময় উপস্থিত হয়, তখন মুসলিম সমাজে এই ইবাদতটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। মুসলিম ভাইয়েরা তাদের সাধ্যানুযায়ী ছাগল, ভেড়া, গরু ও উট দ্বারা কুরবানী দিয়ে থাকেন। অনেকে গরু বা উটে শরীক হয়ে ৭ ভাগের এক-দুই ভাগেও কুরবানী দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই সময় একটি প্রসঙ্গ প্রায় প্রায় উঠে আসে যে, এই রকম শরীকানায় কুরবানী দেওয়া বৈধ না অবৈধ? অনেকের ধারণা, মুকীম ব্যক্তি [মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি] উট-গরুর সাত ভাগের কোন এক ভাগে অংশী হয়ে কুরবানী দিতে পারে না। কারণ স্বরূপ তারা মনে করেন, শরীকানায় কুরবানী দেয়াটা মুসাফির বা সফরের সাথে সম্পৃক্ত; মুকীমের সাথে নয়। তাই এই বিষয়টির শারয়ী সমাধানার্থে কিছু আলোকপাত করার মনস্থ করেছি। ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।
এ বিষয়ের দুটি পরিভাষা: আমরা শুরুতে কুরবানী সংক্রান্ত দুটি পরিভাষা জেনে নিব যা, আমাদের আলোচ্য বিষয়টি ভাল ভাবে জানতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
  • উযহিয়া: (আমাদের সমাজে যা কুরবানী নামে পরিচিত) সেই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা কুরবানীর দিন সমূহে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বাড়িতে যবাই করা হয়। [আল্ মুলাখ্খাস আল্ ফিকহী/২১৩]
  • হাদ্ঈ: সেই চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানীর দিনগুলিতে হারামে (মক্কায়) যবাই করা হয় ‘তামাত্তু’ কিংবা ‘কিরান’ হজ্জ করার কারণে কিংবা হজ্জ বা উমরার কোন ওয়াজিব কাজ ছুটে যাওয়ার কারণে কিংবা ইহরাম অবস্থার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার কারণে। [ফিক্হ বিশ্বকোষ,৫/৭৪, শব্দ উয্হিয়্যাহ] যেহেতু এই পশুকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাদীয়া করা হয়, তাই তাকে হাদ্ঈ বলে। [আল্ মুলাখ্খাস আল ফিকহী, ড.ফাউযান,৩১৩]
উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যটি হচ্ছে, হাদ্ঈ হজ্জ বা উমরা পালনকারীর পক্ষ থেকে মক্কায় যবাই করা হয় এবং উযহিয়া হজ্জ বা উমরা পালনকারী নয়, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজ বাসস্থানে যবাই করা হয়।

Thursday, 25 August 2016

তাবলিগ জামাতের কিতাব "ফাজায়েলে হজ্জে" বুজুর্গদের কেরামতিঃ


“এমন অনেক লোক আছে, স্বয়ং কাবা ঘর যাদের জিয়ারত করতে যায়!”
পোস্ট লিখেছেনঃ Anisur Rahman.
______________________________
ফাজায়েলে হজ্জঃ শাইখুল হাদিস যাকারিয়া সাহারনপুরি সাহেব কর্তৃক লিখিত বিখ্যাত একটি কিতাব। কিতাবটি তাবলিগী ভাইদের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি প্রতি বছর হজের সময় এই বইয়ের তালিম দেয়া হয় এবং হাজীদেরকে এই বই পাঠ করার ও হৃদয়ঙ্গম করা এবং সে অনুযায়ী হজ সম্পাদন করার জন্য উৎসাহ ও (ক্ষেত্রবিশেষে) নির্দেশ দেয়া হয়।
ক্ষুদ্র এই কিতাবে তিনি হজের ফজিলত সম্পর্কে কুরআনের আয়াত এবং বিভিন্ন হাদীস উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে সহীহ হাদীসের পাশাপাশি জাল, যইফ ও বানোয়াট হাদীসেরও বিশাল সমাহার ঘটিয়েছেন। এছাড়া অনেক আজগুবি কিসসা-কাহিনী ও ঈমান বিধ্বংসী গল্পগুজব উপস্থাপন করেছেন।
এমন একটি ঘটনা নিয়ে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। শাইখুল হাদিস যাকারিয়া সাহারনপুরি সাহেব তার ‘ফাজায়েলে হজ্জ’ নামক কিতাবের ১০৯ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেনঃ
“অনেক লোক তো এমনও আছে, স্বয়ং বাইতুল্লাহ জেয়ারতের জন্য তাহাদের নিকট যায়।”
রেফারেন্সঃ ফাজায়েলে হজ্জ, মূল লেখকঃ যাকারিয়া সাহারানপুরি। বংলা অনুবাদকঃ মাওলানা মোহাম্মদ ছাখাওয়াত উল্লাহ; দিল্লী ও কাকরাইলের মুরুব্বিদের অনুমতিতে লিখিত। প্রকাশনীঃ তাবলীগী কুতুবখানা, ৫০ বাংলাবাজার; সংশোধিত সংস্করন, অক্টোবর ২০০২ ই; পৃষ্ঠা নঃ ১০৯ [আপনারা পোস্টে বইয়ের পৃষ্ঠার স্ক্যান করা অংশের ছবি দেখুন]।
হয়তো অনেক পাঠকের চোখ কপালে উঠে গেছে! এরকম আজগুবি কথা কেউ কি বলতে পারে! জ্বী হা। এরকম আজগুবি কথা যারা বলতে পারে, তারা আমাদের উপমহাদেশে ‘শাইখুল হাদিস’ নামে পরিচিতি। এবং তাদের কিতাব সমগ্র উপমহাদেশে ওয়াহীর মতো পাঠ করা হয়, যেন এর মধ্যে কোনো ভুল থাকতেই পারে না।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “আল্লাহ্র জন্য উক্ত ঘরের হাজ্জ করা লোকদের উপর অবশ্য কর্তব্য। যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে অতঃপর যে ব্যাক্তি তা অস্বীকার করবে, সে জেনে রাখুক! নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।’’ [আলে ইমরানঃ ৯৭]
হে সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা! 

আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী


islamic-book-fair-ibf-2013আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১৯১৪-১৯৯৯ খৃষ্টাব্দ) 
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
descarga
সূচীপত্র
  • সূচীপত্র/২
  • ভূমিকা/৩
  • সংক্ষিপ্ত জীবনী/৫
  • জন্ম ও পরিচয়/৫
  • শিক্ষা জীবন/৬
  • শায়খ আলবানীর শিক্ষকগণ/৭
  • কর্ম জীবন/৮
  • হাদীস অধ্যয়নের প্রতি মনোনিবেশ/৮
  • শাইখ আলবানীর দাওয়াহ কার্যক্রম/১১
  • কষ্টে ধৈর্য ধারণ ও হিজরত/১৩
  • কার্যক্রম ও অবদান/১৪
  • ইমাম আলবানীর কতিপয় ছাত্র/১৭
  • তাঁর লিখিত কিতাবাদী ও গবেষণা/১৮
  • আন্তর্জাতিক বাদশাহ ফায়সাল পুরস্কার/২৮
  • তাঁর ব্যাপারে আলেমগণের ভূয়সী প্রশংসা/২৮
  • শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম রহ./২৮
  • শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ./২৮
  • আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রহ./২৯
  • খ্যাতনামা মুফাসসির আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ আল আমীন আশ শানকীতী/৩০
  • শাইখ মুকবিল আল ওয়াদাঈ/৩০
  • শাইখের স্ত্রী-পরিবার/৩১
  • আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. এর অন্তিম ওসিয়ত/৩২
  • আখিরাতের পথে যাত্রা/৩৪
  • দুটি কারণে শাইখের দাফন তাড়াতাড়ি দেয়া হয়/৩৫
  • উৎস/৩৬

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
ভূমিকা:
إنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ-أمَّا بَعْدُ
আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ.। এক আলোকোজ্জ্বল জীবনের প্রতিবিম্ব। ইলমী জগতে বিংশ শতাব্দীর এক বিস্ময়। আধুনিক যুগে মুসলিম জাহানের একজন স্বনামধন্য আলেমে দ্বীন। প্রবল ইচ্ছা শক্তি, অসীম সাহস, সুদৃঢ় মনোবল আর ইখলাস ভরা প্রত্যয় থাকলে আল্লাহর রহমতে কিভাবে একজন সাধারণ মানুষ ‘শতাব্দীর ‘শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস’ এ পরিণত হতে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছেন আল্লামা আলাবানী।
আধুনিক বিশ্বে শাইখ আলবানীকে ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইলমুল জারহে ওয়াত তাদীলের[1] ক্ষেত্রে এক স্বতন্ত্র প্রতিভাধারী আলেম হিসেবে গণ্য করা হয়। ইলমে মুস্তালাহুল হাদীসের[2] ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বক্তিত্ব। তাই তো মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, “আল্লামা আলবানী যেন ইবনে হাজার আসকালানী, হাফেয ইবনে কাসীর প্রমুখ ইলমুল জারহে ওয়াত তাদীলের আলেমদের যুগকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন!”
তাই আসুন, হাদীসে নববীর এই নিরলস খাদেম, সালফে সালেহীনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি, মুহাদ্দিস, ফকীহ, দাঈ, ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. এর সাথে পরিচিত হই।

Tuesday, 23 August 2016

তাবলীগ জামাতঃ


• অহমিকা আর আত্ম-প্রবঞ্চনা তাদের মুল সম্পদ।
• কোরআন- হাদিসকে এক পাশে রেখে মুরুব্বী দেরকে রাহবার বানিয়েছে।
• মাথার ধারনা, সপ্ন, যুক্তি এদের দলীল।
• তাব্লীগ করে তাব্লীগের অর্থই জানেনা।
• হাওয়া থেকে পাওয়া কল্প-কাহিনীর উপরই তাদের দাওয়াতের ভিত্তি।
• তারা ঈমান ও আমলের ধারনা পোষণ করেন তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমান ও আমল নয়।
• তারা কুরআন-হাদিস শিক্ষা করেন না শিক্ষা দেনও না। অথচ কোরআন হাদিসই দ্বীন।
• কিসসা কাহিনী, স্বপ্ন, রুহানী ফয়েজ, বুজুর্গী, ফানাফিল্লাহ ইত্যাদি কল্পিত ডগমায় বিশ্বাস করেন।
• তাওহীদ ও আকীদা ইসলামের মূল অথচ এর শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করেন। যারা তাওহীদ এর কথা বলেন তাদেরকে তারা ওহাবী বলে গালি দেয়।
• আলেম ওলামাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখেন, অথচ প্রকৃত আলেমগণই অন্ধকারের আলো।
• ফাজায়েল ( অতিরিক্ত) আমলের উপরই তারা বেশী গুরুত্ব দেন, ফারায়েজ (মুসল বিষয়) কে অবহেলা করেন।
• তারা অনেক শিরক-বিদআতের জন্ম দাতা ও পৃষ্ঠপোষক,। শিরক বেদাত কি তারা জানতে রাজী নন।
• তাদের মুরুব্বিদের কথাকে তারা ওহীর মত মনে করেন। কোরআনের অহীর খবর রাখেন না।
• অলৌকিক কেসসা কাহানীই তাদের মুল চর্চা। শয়তানের ভেল্কি বাজি কে তারা কারামত ভাবেন।
• শুধু ইবাদাতের জন্যে মসজিদে আহবান করেন। কি ভুল কি শুদ্ধ তা মোটেও জানতে চান না।
• তাদের মুরুব্বিরা বলেছেনঃ নবীগন যে সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে হা করে তাকিয়ে থেকেছেন আমরা সেই সাগরে সাঁতার কাটি।- নাউজুবিল্লাহ।
• তাঁদের বুজুর্গরা বলেছেনঃ যে বেহেশতে নামাজ নাই সে বেহেশত দিয়ে কি হবে?
• আল্লাহ্‌ বলেনঃ হে নবী যা তোমার উপর নাজেল হয়েছে তাই প্রচার কর(মায়েদাহ-৬৭) অথচ তারা এই হকের বাইরে থেকেই দীন শেখেন এবং প্রচার করেন।
-শায়খ মুজাম্মেল হক্ক

Sunday, 7 August 2016

যাদু ও বদনযর- চিকিৎসা



মূলঃ ফাহাদ বিন সুলাইমান আল্ কাজী,

অনুবাদঃ মুহাঃ আবদুল্লাহ্ আল্ কাফী,

দাঈজুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টারসঊদী আরব।
 السحر والعين والرقية منهما
بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশংসা মাত্রই আল্লাহ্ তায়ালার তায়ালা জন্য। দরূদ ও সালাম তার রাসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গ ও ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি নাযিল হোক। অত:পর আল্লাহ্ তায়ালা বিশেষ হিকমতে মানুষকে সৃষ্টি করে তার জন্য নানারকম বিপদাপদবালা-মুছিবত নাযিল করেছেনযাতে করে তার মাধ্যমে মুমিনদের পাপের প্রায়াশ্চিত্য হয়তাদের মর্যদা উন্নীত হয়আর কাফেরদেরকে শাস্তি দেয়া যায়।
কিছু কিছু মানুষ যে সকল বালা-মুছিবতে আক্রান্ত হয় তম্মধ্যেযাদু এবং বদনযর অন্যতম। এদুটির অস্তিত্ব শরীয়ত এবং অনুভবের মাধ্যমে প্রমাণিত। বিশেষ করে ইদানিংকালে এদুটি বালা মানুষ সমাজে অধিকহারে প্রসার লাভ করেছে। কিন্তু কেনকি-ই বা তার চিকিসা?মুসলিম ব্যক্তি যদি আল্লাহ্র কুরআন নিয়ে গবেষণা করে তবেই বুঝতে পারবে এর কারণ কিআর তা থেকে মুক্তির পথই বা কিদুটি
আসুন! আমরা সমাধান নেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে। আল্লাহ্র কালামে আছে সমস্ত রোগের পূর্ণ আরোগ্য। আল্লাহ্ তায়ালা এরশাদ করেন,
وَنُنَزِّلُ مِنْ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
আর আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করেছি যা হচ্ছে আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য রহমত। (সূরা বানী ইসরাঈল- ৮২)
তিনি আরো বলেন,
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِي
আর যখন আমি অসুস্থ হইতখন শুধু তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। (সূরা শুআরা- ৮০)

যাদুবদনযর প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ সমূহঃ


১) পাপচারে লিপ্ত থাকাঃ আল্লাহ্ বলেনঃ
وَماَ أصاَبَكُمْ مِنْ مُصِيْبَةٍ فَبِماَ كَسَبَتْ أيْدِيْكُمْ وَيَعْفُوا عَنْ كَثِيْرٍ
তোমাদেরকে যে মুসিবতেই স্পর্শ করুক না কেন তা তোমাদের কৃতকর্মের কারণেই হয়ে থাকে। আর তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করেন। (শূরা- ৩০) সুতরাং এসকল মুছিবতের প্রধান কারণ হল আমাদের পাপকর্ম।

Sunday, 31 July 2016

ওসামা বিন লাদেন এবং আল-কায়েদাহর ‘ধ্বংসাত্মক মানহাজের’ ব্যপারে আলেমদের ফতোয়া



.
১. “ওসামা বিন লাদেন মুসলিমদের মাঝে অনেক বড় ফিতনা সৃষ্টিকারী একজন ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে মুসলিমদেরকে সতর্ক করা ওয়াজিব।”
- শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরব তথা বর্তমান বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন ও মুফতি।
.
২. “ওসামা বিন লাদেন এবং তার মতো যারা এমন (মুসলিম দেশে বোমা হামলা করার মতো) দাওয়াত দিচ্ছে (বক্তব্য, লেখনী কিংবা বই-পুস্তক এর মাধ্যমে), তাদের চিন্তা-ভাবনা নষ্ট ও বাতিল। এইগুলো (এ ধরণের লেখা ও বক্তব্যের রেকর্ডিংগুলো) ধ্বংস করে ফেলতে হবে। (ওসামা বিন লাদেন এবং তার সাথে যারা ছিলো) তাদেরকে উপদেশ দেওয়া ওয়াজিব, তাদেরকে সাহায্য করা জায়েজ নয়। আমি তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন এমন ধ্বংসাত্মক রাস্তা থেকে ফিরে আসে এবং যেই অপকর্ম তারা করেছে, সে ব্যপারে আল্লাহকে ভয় করে।”
- ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ, সৌদি আরবের বিগত গ্র্যান্ড মুফতি।
.
৩. “ওসামা বিন লাদেন এবং তার মতো লোকেরা (আল-কায়েদাহ) পথভ্রষ্ট।”
- শায়খ আব্দুল আজিজ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরবের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি।

Sunday, 24 July 2016

বই: ইসলামের সৌন্দর্য


মূল: আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন নসের সাদী রহ.
(জন্ম: ১৮৮৯, মৃত্যু: ১৯৫৬ খৃষ্টাব্দ)
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
সম্পদক: শাইখ আবদুল্লাহ আল কাফী বিন আব্দুল জলীল
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেশুরু করছি
সূচীপত্র
  • সূচীপত্র/২
  • লেখক পরিচিতি/৪
  • অনুবাদকের ভূমিকা/৮
  • লেখকের ভূমিকা/১১
  • ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করার মর্যাদা/১৪
  • ইসলামের সৌন্দর্যের কয়েকটি উদাহরণ/১৮
  • ১ম উদাহরণ: বিশ্বাসগতভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত কতিপয় মূলনীতির উপর/১৮
  • ২য় উদাহরণ: ইসলামের রোকন বা মূল ভিত্তি সমূহ/২১
  • ক. সালাত থেকে শিক্ষা/২১
  • খ. যাকাত থেকে শিক্ষা/২২
  • গ. সিয়াম থেকে শিক্ষা/২২
  • ঘ. হজ্জ থেকে শিক্ষা/২৩
  • ৩য় উদাহরণ: একতাবদ্ধবভাবে জীবন যাপনের নির্দেশ/২৪
  • ৪র্থ উদাহরণ: দয়া, করুণা, সদাচার ও মানব কল্যাণের নির্দেশ দেয় ইসলাম/২৫
  • ৫ম উদাহরণ: ইসলামের বিধি-বিধানগুলো বিজ্ঞান ও যুক্তি সম্মত/২৬
  • ৬ষ্ঠ উদাহরণ: জিহাদ ও আমর বিল মারূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার (সৎ কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ)/২৭
  • ৭ম উদাহরণ: ব্যবসা-বানিজ্য ও লেনদেন/২৯
  • ৮ম উদাহরণ: খাদ্য-পানীয় ও বিয়ে-শাদী/৩০
  • ৯ম উদাহরণ: ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে পারস্পারিক অধিকার/৩২
  • ১০ম উদাহরণ: উত্তরাধিকার আইন ও সম্পদ বণ্টন/৩৩
  • ১১তম উদাহরণ: ফৌজদারি দণ্ডবিধি/৩৫
  • ১২তম উদাহরণ: সম্পদ ব্যবহারের অযোগ্য ব্যক্তি/৩৫
  • ১৩তম উদাহরণ: দলিল,চুক্তিপত্র ও সাক্ষী/৩৬
  • ১৪তম উদাহরণঃ অর্থ ঋণ দেয়া বা ব্যবহারিক জিনিস-পত্র ধার দেয়া/৩৭
  • ১৫তম উদাহরণ: মামলা-মোকদ্দমা ও বিবাদ মীমাংসা/৩৮
  • ১৬তম উদাহরণ: শুরা ব্যবস্থা/৪০
  • ১৭তম উদাহরণ: দ্বীন ও দুনিয়া, দেহ ও আত্মার সমন্বয়/৪১
  • ১৮তম উদাহরণ: রাষ্ট্র ব্যবস্থা/৪২
  • ১৯তম উদাহরণ: ইসলাম বিজ্ঞান সম্মত ও যৌক্তিক/৪৩
  • ২০তম উদাহরণ: বাঁধার প্রাচীর মাড়িয়ে ইসলামের বিজয় অভিযাত্রা/৪৩
  • ২১তম উদাহরণ: পূর্ণাঙ্গ জীবনার্দশের নাম ইসলাম/৪৭
  • শেষকথা/৪৭

লেখক পরিচিতি
  • নাম: আব্দুর রহমান বিন নাসের আস সাদী। তিনি সংক্ষেপে বিন সাদী নামে সুপরিচিত।
  • জন্মস্থান: উনাইযা,আল কাসীম,সউদী আরব।
  • জন্ম তারিখ: ১৩০৭ হিজরি,১২ মুহররম,মোতাবেক ১৮৮৯ খৃষ্টাব্দ।

Friday, 22 July 2016

চাশতের সালাতের (সালাতুল দুহা) ফজিলত



রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

إن الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد

অনুবাদঃ মোছতানছের বিল্লাহ | সম্পাদনাঃ আবদ্‌ আল-আহাদ 
বুরাইদা (রা) বলেন,
রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বলেছেন, মানুষের শরীরে ৩৬০ টি জোড় রয়েছে অতএব মানুষের কর্তব্য হল প্রত্যেক জোড়ের জন্য একটি করে সদাকা করা সাহাবায়ে কেরাম (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! কার শক্তি আছে এই কাজ করার? তিনি (সা) বললেন, মসজিদে কোথাও কারোর থুতু দেখলে তা ঢেকে দাও অথবা রাস্তায় কোন ক্ষতিকারক কিছু দেখলে সরিয়ে দাও তবে এমন কিছু না পেলে, চাশতের দুই রাকাআত সালাতই এর জন্য যথেষ্ট [আবু দাউদ; কিতাবুল ‘আদাব’, অধ্যায়ঃ ৪১, হাদীস নং:৫২২২]
উপরিউক্ত হাদীসটি মুলত চাশতের সালাত বা সালাতুদ্‌ দুহা’র অপরিসীম গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের কথাই তুলে ধরে। এর থেকে আরো বোঝা যায় যে,চাশতের সালাত তথা সালাতুদ্‌ দুহা ৩৬০ টি সাদাকার সমতুল্য।
আবু হোরাইরা (রা) বলেন,
আমার বন্ধু [মুহাম্মাদ (সা)] আমাকে তিনটি বিষয় আমল করার উপদেশ দিয়েছেনঃ প্রতি মাসের প্রথম তিন দিন রোজা রাখা; চাশতের সালাত (সালাতুদ্‌ দুহা) আদায় করা এবং ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে বিতরের সালাত আদায় করা” [সহীহ্‌ আল বুখারী; “তাহাজ্জুদ” অনুচ্ছেদ, অধ্যায়ঃ ২, হাদীস নং:২৭৪ এবং সহীহ্‌ মুসলিম; কিতাবুস্‌ সালাত, অধ্যায়ঃ ৪, হাদীস নং:১৫৬০]
 চাশতের সালাত (সালাতুদ্‌ দুহা) একটি উপহার স্বরূপ এবং যে এই উপহার পাওয়ার আশা করে,সে যেন এই সালাত আদায় করে। তবে এই সালাত আদায় না করলে কেউ গুনাহ্‌গার হবেনা।
আবু সাঈদ (রা) হতে বর্ণিত,

Thursday, 21 July 2016

তাগুত কী???


আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু।
:
আল্লাহ বলেন:— “আমরা (আল্লাহ) প্রত্যেক জাতিতে একজন রসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।” [সূরা নাহল : আয়াত ৩৬]
:
আল্লাহ কুরআনে এভাবে বহুস্থানে “তাগুত” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তো এখন প্রশ্ন হলো তাগুতটা কী? আসুন তাগুত সম্পর্কে জেনে নিই। 
:
তাগুত শব্দটি দিয়ে অনেক অর্থ বুঝায়। এর অর্থ আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কারো ইবাদত করা বুঝায়। হতে পারে তা শয়তান, দেবদেবী, মূর্তি, সূর্য, নক্ষত্র, ফেরেশতা, মানুষ……ইত্যাদি ইত্যাদি যাদের ইবাদত করা হয় যা বাতিল, যা হলো তাগুত। একইভাবে সূফী, মাজার, শাসক, নেতা……ইত্যাদি যাদেরকে ভ্রান্তভাবে অনুসরণ করা হয়। তাগুত মানে মিথ্যা বিচারকও বুঝায় যে মিথ্যার সাথে বিচারকার্য করে থাকে। 
এই পর্যন্ত দেয়া হলো তাকিউদ্দীন হিলালী ও মুহসিন খান (রহিমাহুমুল্লা-হ)-এর “The Noble Quran” থেকে।

এছাড়া সালাফী মানহাজের নির্ভরযোগ্য ইংলিশ ওয়েবসাইট থেকে তাগুত সম্পর্কে সালাফদের ও আহলুল ‘ইলমদের উক্তিসমূহ থেকে নিম্নে অল্পকিছু অনুবাদ করা হলো (সাথে কিঞ্চিত পরিমার্জিত),
:

Wednesday, 20 July 2016

জিহাদ, কিতাল ও খিলাফাহ ( পর্ব – ৬ ) - শেষ পর্ব!

শায়খ মুজাম্মেল হক্ক

প্রথম পর্বের লিংক – এখানে ক্লিক করুন
দ্বিতীয় পর্বের লিংক – এখানে ক্লিক করুন
তৃতীয় পর্বের লিংক – এখানে ক্লিক করুন
চতুর্থ পর্বের লিংক - এখানে ক্লিক করুন
পঞ্চম পর্বের লিংক - এখানে ক্লিক করুন

১১. খেলাফাত ও দ্বীনের স্থায়িত্ব আল্লাহ দান করে দিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেনঃ
وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ ۗ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ- الأعراف/10

“তোমাদেরকে জমিনের বুকে স্থায়িত্ব দান করেছি, তোমাদের জন্যে জীবন ধারণের সকল উপকরণ সৃষ্টি করে দিয়েছি অথচ তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।”
সুরা আ’রাফঃ ১০।

ثُمَّ جَعَلْنَاكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ مِنْ بَعْدِهِمْ لِنَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ – يونس/14

“তাদের স্থলে তোমাদেরকে জমিনে খলীফা বানিয়েছি; উদ্দেশ্য এই যে, আমি দেখতে চাই তোমরা কি করো ও কিভাবে করো।”
সুরা ইউনুসঃ ১৪।

তাইত আমরা দেখছি আজ ইসলাম ও মুসলমানদেরকে জমিনের কোন স্থান থেকে কেউ উঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেনা, যেমনটি রাখতো অতীতে। তবে আমরা যা করি তা ঠিক কিনা, তাতে আল্লাহ খুশী কিনা এ পরীক্ষাতে নিমজ্জিত রয়েছি। এতে পাশের হার বৃদ্ধির চেষ্টা করাই আমাদের একমাত্র কাজ।

১২. তবে খেফাত ও স্থায়িত্ব দান করলেও শান্তি ও নিরাপত্তার বেলায় কিছুটা শর্ত আরোপ করে রেখেছন। সেই শর্ত মুসলমান যতদিন যেখানে পূর্ণ করবে তত দিন সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। অন্যথা হলে সেখানে আল্লাহর অনুমতিতে অশাস্তির দাবানল জ্বলে উঠতে পারে। এমন দাবানল থেকে বাঁচতে হলে শর্ত হলঃ

(ক)
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ- الأنعام/82

“যারা ইমান আনবে, ইমানের সাথে কোন রূপ যুলম করবেনা, শুধু তাদের জন্যেই থাকবে নিরাপত্তা, তারা হবে সত্য পথের পথিক।”
সুরা আন’আমঃ ৮২।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’উদ রাঃ বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল সঃ কে জিজ্ঞাসা করে বললাম, এমন কে আছে যে কিছুনা কিছু জুলুম বা অন্যায় করেনা? আর তাহলে আমাদের কি হবে? রাসুল সঃ বললেন, এই ظُلْمٍ এর অর্থ সেই জুলুম নয় যা তোমরা মনে করো। বরং এটা সেই জুলুম সে সম্পর্কে লোকমান তাঁর ছেলেকে সাবধান করে বলেছিল্লেঃ
يَا بُنَيَّ لا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ- لقمان/13
“হে বৎস, তুমি শিরক করোনা, নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম বা অন্যায়।”
সুরা লোকমানঃ ১৩।

(খ)
يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ- النور/55

“(নিরাপত্তাপ্রাপ্ত এই ইমানদারগণের প্রধান গুণাবলি হতে হবে এই যে,) তারা শিরক থেকে দূরে থেকে এবং একমাত্র আমার এবাদাত করবে।”
সুরা নুরঃ ৫৫।

Tuesday, 19 July 2016

জিহাদ, কিতাল ও খিলাফাহ ( পর্ব – ৫ )


শায়খ মুজাম্মেল হক্ক

প্রথম পর্বের লিংক – এখানে ক্লিক করুন
দ্বিতীয় পর্বের লিংক –এখানে ক্লিক করুন
তৃতীয় পর্বের লিংক –এখানে ক্লিক করুন
চতুর্থ পর্বের লিংক -এখানে ক্লিক করুন
ষষ্ঠ পর্বের লিংক - এখানে ক্লিক করুন
গ) খিলাফত বা ইসলামি হুকুমাত (রাষ্ট্রব্যবস্থা)
الخلافة لغة النيابة أو ما يجيئ من بعد (يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ- ص/26)، وفي الأصطلاح رئاسة عامة في أمور الدين والدنيا ( اخلفني في قومي- الأعراف/142)
আরবি অভিধানে খেলাফার অর্থ ‘পরে আসা’ বা কারো স্থলাভিষিক্ত হওয়া। যেমন আল্লাহ বলেন, “হে দাউদ তোমাকে জমিনে খলিফা বানিয়েছি, সুতরাং মানুষের মধ্যে ন্যায়ভাবে সুরাহা করবে।”
সুরা সাদঃ ২৬।
ইসলামের পরিভাষায় খলিফার অর্থ “এমন জন প্রতিনিধিত্ত যা জনগণের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে কাজ করে”।
যেমন মুসা আঃ হারুন আঃ কে বলেছিলেনঃ “জনগণের কাছে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাকবে।”
সুরা আ’রাফঃ ১৪২।
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ- النور/55
“আল্লাহ ওয়াদা করেছেন ইমানদার ও সৎ আমল কারীগনের প্রতি, তিনি অবশ্যই তাদেরকে খলিফা করবেন যেমন পুর্ববর্তীগনকে করেছিলেন। এবং অবশ্যই তাদেরকে দ্বীনের প্রতিষ্ঠা দান করবেন যে দ্বীন তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। আর ভীতি দূর করে নিরাপত্তা দান করবেন; তবে তাদের প্রধান গুণাবলি হবে এই যে তারা শিরক থেকে দূরে থেকে আমার এবাদাত করবে।”
সুরা নুরঃ ৫৫।
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাঃ বলেন, রাসূল সঃ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে নবুয়ত থাকবে ততদিন যতদিন আল্লাহ চাইবেন। অতঃপর উঠিয়ে নেবেন যখন চাইবেন। অতঃপর নবুয়তের আদলে খেলাফা প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহ যত দিন চাইবেন ততদিন তা প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তারপর উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর সমঝোতার মধ্যে দিয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহ যত দিন ইচ্ছা করবেন তা থাকবে, তার পর উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর জোর-জবরদস্তিমূলক ভাবে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, আল্লাহ যতদিন চাইবেন তা চলবে। অতঃপর নবুয়তের আদলে খেলাফা প্রতিষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত বলেই তিনি চুপ হয়ে যান।”
মুসনাদে আহমাদ ও বাজ্জার।
উল্লেখ্য যে, হাদিসটিতে পাঁচটি পট পরিবর্তনের কথা বলে আল্লাহর নবী চুপ হয়ে গেছেন। আর কিছুই বলেননি।
যারা খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলেন তাদের মুখে মুখে উক্ত আয়াত ও হাদিস গুলকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। প্রকৃত অর্থে তাদের যুক্তির স্বপক্ষে এসব আয়াত ও হাদিস দলীল হতে পারেনা। কারণঃ
১. অনেকে মনে করেন রাসূল সঃ খেলাফতের বিষয়ে যে ভবিষ্যৎবাণী করে পাঁচটি স্তরের কথা উল্লেখ করেছেণ তা সবই বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে ও অতিবাহিত হয়ে গেছে। এর প্রমাণঃ
সাফিনাহ রাঃ বলেন, রাসূল সঃ বলেছেন,
“খেলাফা আমার উম্মতের মধ্যে ৩০ বছর থাকবে, অতপর হবে রাজ তন্ত্র।”
মুসনাদে আহমাদ, শায়খ আরনাউত হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
قال معاوية رضي الله عنه بعد انقضاء الخلافة ثلاثين سنة: أنا أول الملوك ( رسالة أبي زيد القيرواني ج1/ص 96).
খেলাফতের ৩০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর মূয়াবিয়া রাঃ বলেছেন, “আমিই প্রথম রাজা”।
রেসালা যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী।
২. কোরান ও হাদিসে আল্লাহ ও তার রাসূল কোথায়ও খেলাফা প্রতিষ্ঠা করার কোন আদেশ করেন নাই। তাই কোন রাষ্ট্রের নাম খলিফা বা ইসলামী হুকুমাহ রাখার কোনই প্রয়োজন করেনা। বরং মানুষকে আল্লাহর আইন মেনে চলার উপর অভ্যস্ত করাই মুসলিম রাষ্ট্রের কাজ, অন্য কিছু নয়।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...