Sunday, 10 February 2019

সবচেয়ে খারাপ মেয়ে


কাকের একাধিক প্রকার আছে। কিছু কাক আছে বিরল, সাধারণতঃ সব দেশে দেখা যায় না। সেই কাকের উপমা দিয়ে বিরলতা প্রকাশ করা হয়। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
« خَيْرُ نِسَائِكُمُ الْوَدُودُ الْوَلُودُ الْمَوَاتِيَةُ الْمُوَاسِيَةُ إِذَا اتَّقَيْنَ اللَّهَ، وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلاَتُ وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلاَّ مِثْلُ الْغُرَابِ الأَعْصَمِ ».
“তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদে-শোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে। আর তোমাদের সবচেয়ে খারাপ মেয়ে তারা, যারা বেপর্দা, অহংকারী, তারা কপট নারী, তাদের মধ্যে লাল রঙের ঠোট ও পা-বিশিষ্ট কাকের মত (বিরল) সংখ্যক বেহেস্তে যাবে।” (বাইহাকী ১৩২৫৬নং)
এমন নারীদের ভাগ্যে তওবার সুযোগ কমই ঘটে। তাই অনুরূপ বিরল কাকের মতো বিরল সংখ্যক মুনাফিক নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে; যদি তাদের ঈমান ও আমলে তওহীদ থাকে, শির্ক না থাকে এবং বিশ্বাসগত মুনাফিকী না থাকে। এমন নারী বেপর্দা ও তারা নিজেদের দেহ বা দেহাংশ এমন পুরুষকে দেখায়, যার জন্য দেখা বৈধ নয়। দেহাঙ্গে ঠিকমতো কাপড় রাখে না। অথবা এমন কাপড় রাখে, যার উপর থেকে ভিতরের সব কিছু দেখা যায়। এমন নারী অহংকারী ও মানুষকে তুচ্ছ করে। কথা ও কর্মে গর্ব প্রকাশ করে। নিজ অলংকার-পোশাক, ঘর-বাড়ি, মায়ের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি বা স্বামী-সন্তান নিয়ে ফখর ও ফুটানি করে। বিশেষ করে নিজ ভর্তা ও কর্তা (স্বামী)কে ছোট করে। কথা ও আচরণে তাকে হেনস্থা করে। তাকে ভেড়া বানিয়ে রাখে। তার আচরণিক শ্লোগান থাকে, স্বামী আমি জানি না, পরের ছেলে মানি না।
শ্বশুরবাড়ির লোককেও কোন পরোয়া করে না। কারো কথা শোনেনা, হক গ্রহণ করে না, কারো উপদেশ মেনে নেয় না। কথায় কথায় তর্ক ও ঝগড়া করে, বড়দেরকে কোন পাত্তাই দেয় না।
আর হাদীসে এসেছে, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (মুসলিম ২৭৫নং)
এমন নারী মুনাফিকঃ আর কর্মগত মুনাফিকের গুণ হল পাঁচটি। (১) তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। (২) কথা বললে মিথ্যা বলে। (৩) ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে। (৪) চুক্তি করলে ভঙ্গ করে। এবং (৫) ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে। (বুখারী, মুসলিম)
এমন অহংকারী মেয়ে কথায় কথায় স্বামীর কাছে তালাক চায়। পান থেকে চুন খসতেই বলে ওঠে, ‘আমাকে তালাক দাও!’ হাদীসে এসেছে,
((الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ)).
“খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।” (আহমাদ ৯৩৫৮, নাসাঈ ৩৪৬১, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৩২নং)
আর অকারণে তালাক চায়, এমন মেয়েরা জান্নাতের নিকট থেকে ৪০, ৭০ বা ৫০০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থানে থাকবে,
মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
((أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ)).
“যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে, সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।” (আহমাদ ২২৩৭৯, আবু দাউদ ২২২৬, তিরমিযী ১ ১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫নং, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩ ১৬, সহীহুল জামে' ২৭০৬নং)।

সংগ্রহেঃ আব্দুল হামীদ আল-ফাইজী আল-মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।

Monday, 4 February 2019

নামায/স্বলাত, এক পৃষ্ঠায়


কালিমার সাক্ষীর পর নামায ইসলামের সর্বাধিক তাগিদপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ইসলামের সবচেয়ে বড় ও সব্বোর্ত্তম প্রতীক। নামাযকে অবহেলা ও তুচ্ছ মনে করে না কিন্তু যে ইসলামকে তুচ্ছ মনে করে। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি যে নামাযকে হাল্কা মনে করে সেই হচ্ছে নামায তুচ্ছকারী, ইসলামকে হেয়কারী ও অবমাননাকারী।
ইসলামের সাথে তাদের অংশীদারিত্ব, তাদের নামাযের অংশীদারিত্ব অনুপাতে নির্ণয় হবে, ইসলাম সম্পর্কে তাদের আগ্রহ তাদের নামাযের আগ্রহ হিসাবে বিবেচিত হবে। তাই হে বান্দা! একটু নিজের সম্পর্কে চিন্তা করো। জেনে রাখো, ইসলামে তোমার অংশীদারিত্ব এবং তোমার নিকট ইসলামের মর্যাদা, তোমার নামাযের অংশীদারিত্ব ও তার মর্যাদা অনুপাতে হবে।
ইসলামে নামাযের সুমহান মর্যাদা রয়েছে, যার গুরুত্ব ও মর্যাদা নিম্নে বর্ণিত দলীদাদির মাধ্যমে অনুধাবন করা যেতে পারেঃ
১-নামায ইসলামের স্তম্ভ, যা ব্যতীত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না। মুআয (রাযিঃ) এর হাদীসে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, “সব বিষয়ের মুন্ডু হচ্ছে ইসলাম, তার খুঁটি হচ্ছে নামায এবং তার সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে জিহাদ”। [ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ বলেছেন] আর যদি স্তম্ভ ভেঙ্গে যায়, তাহলে তার উপর নির্মিত বস্তুও ভেঙ্গে যায়।
২-বান্দার আমলের প্রথম হিসাব নামায দ্বারা শুরু হবে, আমলের সঠিকতা ও বেঠিকতা নামাযের সঠিক ও বেঠিক হওয়ার উপর নির্ভর করবে। আনাস বিন মালেক নবী (সাঃ) হতে বর্ণনা করেনঃ“কিয়ামত দিবসে বান্দার প্রথম হিসাব হবে নামাযের হিসাব। যদি তা সঠিক হয় তো সব আমল সঠিক হবে আর যদি তা বাতিল হয় তো সব আমল বাতিল হয়ে যাবে”। [হাদীসটিকে ত্বাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ বলেছেন]
৩-নামায হচ্ছে দ্বীনের ঐ বিধান যা, সব শেষে বিলুপ্ত হবে। আর যখন দ্বীনের শেষাংশ বিদায় নিবে, তখন কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আবু উমামা হতে মরফূ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, “অবশ্যই ইসলামের হাতল এক এক করে ভেঙ্গে যাবে। যেমন যেমন একটি হাতল ভাংবে তেমন তেমন লোকেরা তার পরেরটি ধারন করবে। প্রথম হাতল যেটি নষ্ট হবে সেটি হবে বিধানের হাতল আর শেষেরটি হবে নামায”। [হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেন এবং আলবানী সহীহ বলেন]
৪-নামায হচ্ছে, উম্মতের উদ্দেশ্যে নবীজীর শেষ উপদেশ। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) এর শেষ উপদেশের মধ্যে ছিল, “ নামায নামায এবং তোমাদের দাস-দাসীদের” (হেফাযত করবে)। [হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেন এবং আলবানী সহীহ বলেন]
৫-নামায কায়েমকারীদের আল্লাহ প্রসংশা করেন এবং তাদের প্রশংসা করেন যারা তাদের পরিবারকে নামাযের আদেশ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (এ কিতাবে উল্লেখিত ইসমাঈলের কথা স্মরন কর, সে ছিল ওয়াদা রক্ষায় সত্যবাদী, আর ছিল একজন রসূল ও নবী। সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের হুকুম দিত আর সে ছিল তার প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্টির পাত্র)। [সূরা মারইয়াম, ৫৪-৫৫]
৬-আল্লাহ তাআলা নামায নষ্টকারী এবং তা থেকে অলসতাকারীদের তিরস্কার করেছেন। তিনি বলেনঃ (অতঃপর তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীরা, তারা নামায হারালো, আর লালসার বসবর্তী হল। তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।) [মারইয়াম-৫৯] আল্লাহ মুনাফেকদের সম্পর্কে বলেনঃ (তারা যখন নামাযের জন্য দাঁড়ায়, তখন শৈথিল্যভরে দাঁড়ায়, লোক দেখানোর জন্য, তারা আল্লাহকে সামান্যই স্মরণ করে)। [আন্ নিসা-১৪২]
৭-নামাযের মর্যাদা এতেও অনুমান করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তা যমীনে জিবরিলের মাধ্যমে ফরয করেন নি; বরং মেরাজের রাতে সপ্তাকাশে কোন মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ফরয করেন।
৮-প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়, যা নামাযের সাথে মহান আল্লাহর ভালবাসার পরিচয়। অতঃপর বান্দাদের সহজার্থে দিবা-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত করা হয়। তাই আল্লাহর পরিমাপে এটা ৫০ ওয়াক্তের সমান কিন্তু পালনের ক্ষেত্রে তা পাঁচ ওয়াক্ত যা, নামাযের বড় মর্যাদার প্রমাণ।
৯-আল্লাহ তাআলা সফলকামদের কাজের বর্ণনা নামাযের মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং তাদের কাজের শেষ নামাযের বর্ণনার মাধ্যমেই শেষ করেছেন, যা এই বিধানের গুরুত্ব বুঝায়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করে। যারা অসার কথাবার্তা এড়িয়ে চলে। যারা যাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজের যৌনাঙ্গের সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, কারণ এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত।……. আর যারা নিজের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান। তারাই হল উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউস জান্নাতের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে)। [মুমিনূন,১-১১]
১০-নামায ভুলে যাওয়া কিংবা নামায ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়া ব্যক্তিকেও নামায কাযা করার আদেশ করা হয়েছে, যা এই বিধানের অধিক গুরুত্ব বুঝায়। নবী (সাঃ) বলেনঃ “যে নামায হতে ঘুমিয়ে যায় কিংবা নামায ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ আসার সাথে সাথে তা পড়ে নেয়, এ ছাড়া এর কোন অন্য কাফ্ফারা নেই”। [বুখারী-মুসলিম]

প্রস্তুতকারকঃ দাওয়াহ অফিস, রাওদা, রিয়াদ। (মূল, আরবী)।
অনুবাদেঃ শায়খ আব্দুর রাকীব মাদানী হাফিযাহুল্লাহ।

Sunday, 20 January 2019

মহান আল্লাহর স্বার্থপর বান্দা

বেনামাযী মহান আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু তার আনুগত্য করে না, সুস্থ ও সুখী থাকলে তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ে না। অবশ্য কোন কাতে পড়লে, বিপদে পড়লে, মরণের মুখে পতিত হলে ভয়ে নামায পড়ে। এমন নামাযীর উদ্দেশ্যে বিদ্রুপ করে বলা হয়, “গুঁতোয় পড়লে ছুঁচোয় নামায পড়ে!” যেমন বলা হয়, “কুঁদের মুখে বাঁশ বাঁকা থাকে না, সোজা হয়ে যায়।“ অবশ্য অনেকে সোজা হয়ে বিপদ কাটার পর আবার বাঁকা হয়ে যায়। হাসপাতালে তওবা করে এবং ওয়াদা করে, আর নামায ছাড়বে না। তারপর সুস্থ হয়ে ফিরে এসে দিন কতক নামায পড়ে। কিন্তু ওয়াদা ভুলে আবার নামায ছেড়ে দেয়। চাকরি হয় না, রুযী-রুটীর টানাটানি। মা-বোন ভাত পায় না, সংসারে বড় অভাব। একটা চাকরি চাইই। আল্লাহর কাছে কাঁদাকাটি করে, দাড়ি রাখে, নামায পড়ে, মুনাজাত করে। তারপর? চাকরি হয়। সংসারে সুখের বাগানে নানা রঙের ফুল ফোটে। তারপর ধীরে-ধীরে নামায-রোযা বাদ চলে যায়। দাড়ির চেহারা নারীর চেহারায় পরিবর্তিত হয়! “কি এক আশে পড়ছিল নামায, আশা পুরিল তার,  আর রোযা নেই তাহার পরে নামায হইল ভার!” কেউ দুঃখ পেলে আল্লাহমুখী হয়। সুখ পেলে ভুলে যায়। কেউ সুখ পেলে আল্লাহর প্রতি খোশ থাকে, আর দুঃখ এলে তার প্রতি নাখোশ হয়। 

এ কেমন দ্বিমুখী মানুষ এরা? সুখে-দুঃখে সর্বদা সুমহান স্রষ্টার সন্তোষজন থাকতে পারে না এরা?
 মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} (11) سورة الحـج “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধার সাথে; তার কোন মঙ্গল হলে তাতে সে প্রশান্তি লাভ করে এবং কোন বিপর্যয় ঘটলে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়; সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইহকালে ও পরকালে; এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।” (হাজ্জঃ ১১)। উক্ত আয়াতে উল্লিখিত “হার্ফ” মানে প্রান্ত, কিনারা। কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি স্থিতিশীল ও নির্বিচল হয় না। এ রকমই যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহ, সংশয়, দ্বিধা ও অমূলক ধারণার শিকার, সেও বিচলিত ও অস্থির হয়; দ্বীনের উপর দৃঢ়তা অবলম্বন তার ভাগ্যে জোটে না। কারণ তার উদ্দেশ্য হয় শুধু পার্থিব স্বার্থ। যদি তা অর্জিত হয়, তাহলে ভাল। নচেৎ পুর্বধর্মে, অর্থাৎ কুফরী ও শির্কের দিকে ফিরে যায়। এর বিপরীত যারা সত্যিকার মুসলিম, ঈমান ও ইয়াকীনে সুদৃঢ়, তারা সুখ-দুঃখ না দেখেই দ্বীনের উপর অটল থাকে। আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং দুঃখ-দুর্দশায় ধৈর্য ধারণ করে। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসাবে এক দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির অনুরূপ আচরণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। (বুখারী, সুরা হাজ্জের তফসীর, আহসানুল বায়ান) কোন কোন মানুষ কেবল বিপদের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে। স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বিস্মৃত হয়! 
এমন মানুষদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,  {وَإِذَا غَشِيَهُم مَّوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ فَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُورٍ } (32) سورة لقمان “পর্বত (বা মেঘমালা সম তরঙ্গমালা যখন ওদেরকে ঢেকে নিতে চায়, তখন ওরা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ-চিত্ত হয়ে তাঁকে ডাকে। কিন্তু তিনি যখন ওদেরকে কুলে ভিড়িয়ে উদ্ধার করেন, তখন ওদের কেউ কেউ সরল পথে থাকে। কেবল বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে।” (লুক্বমানঃ ৩২)।

Friday, 21 December 2018

মাতৃভাষায় জুমার খুতবা দেয়ার বিধান

মাতৃভাষায় জুমার খুতবা দেয়ার বিধানঃ
▬▬▬▬ 🔹🔸🔹▬▬▬▬
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার খুতবায় আল্লাহর তারীফ করতেন, দরুদ পড়তেন, কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতেন এবং কিছু ওয়াজ-নছীহত ও করতেন। নবীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ
“আমি সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪)
রসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতৃভাষা যেহেতু আরবী ছিল এবং ছাহাবীদেরও ভাষা আরবী ছিল, তাই তিনি আরবীতেই তাদেরকে নছীহত করতেন। এখন যারা নবীজির নায়েব হয়ে জুমার খুতবা দিবেন তাদেরকেও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছ অনুসারে তাদের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরীয়ত সম্মত এবং যুক্তি সংগত।
💠 • এই কারণেই ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: প্রত্যেক খতীবকে জুমার সময় তাঁর মাতৃভাষায় ওয়াজ করা ওয়াজিব বা অবশ্য কর্তব্য। (তানক্বীহুর রুওয়াত ১/২৬৪)
💠 • আল্লামা তাহাভী হানাফী বলেন: জুমার খুতবা আরবী জানলেও ফারসী ভাষায়ও চলবে। (হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাক্বিল ফালাহ ২৭)
💠 • আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী হানাফী (রহ.) বলেন: শ্রোতাদেরকে তাদের মাতৃভাষায় খুতবা বুঝিয়ে দেয়া জায়েজ। (মাজমূআহ ফাতাওয়া ১/২৪৫)
💠 • হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ নিহায়া, মুজতাবা, ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ, মুহীত প্রভৃতি গ্রন্থে আছে যে, ইমাম আবূ হানীফার মতে, ফারসী ভাষাতে জুমার খুতবা দেয়া জায়েজ।
💠 • হানাফী ফতোয়ার কিতাব শামীতে আছে, আরবী ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত নয়।
💠 • হানাফী ফিকহ গ্রন্থ হিদায়ায় আছে, প্রত্যেক ভাষায় খুতবার নছীহত চলতে পারে। (কিতাবুল জুমআহ ৫৫-৫৬) (আলোচনা দ্র: আইনী তোহফা সলাতে মুস্তফা ১/৯৮-৯৯)
💠 খুতবারা আগে বয়ান একটি বিদআত:
নিজ ভাষায় খুতবা না দেয়ার কারণে যেহেতু তা মানুষের বোধগম্য হয় না এজন্যই এই খুতবার আগে খতীবগণ বয়ানের ব্যবস্থা রেখেছেন, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি জঘন্যতম বিদআত। কারণ খুতবা দানের পূর্বে বয়ান দেয়া এবং ইহাকে এভাবে স্থায়ী রূপ দেয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আদৌ প্রমাণিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবার পূর্বে কখনো এ ধরণের বয়ান দেন নি। দিতে বলেছেন বলে ও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
এজন্যই এ সঊদী আরবের বরেণ্য মুফতী শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ:)কে মাতৃভাষায় খুতবা প্রদান সম্পর্কে সওয়াল করা হলে তিনি তা সরাসরি জায়েজ বলে মন্তব্য করেন এবং একথা স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, খতীবকে নিজ ভাষায় খুতবা দিতে হবে। (দেখুন: শাইখ ইবনে উসাইমীনের ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম)
বর্তমানে আমাদের দেশের বেশ কিছু জামে মসজিদে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়া হয়ে থাকে। বস্তুত: এটাই সুন্নত। এর বিপরীত সুন্নত বিরোধী কাজ যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক ইলম দান করুন এবং যাবতীয় বিদআত পরিত্যাগ করার তাওফীক দিন (আমীন)
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
লেখক: শাইখ আখতারুল আমান বিস আব্দুস সালাম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

Thursday, 11 October 2018

সাইয়েদ কুতুব

আস'সালামু আ'লাইকুম ওয়া রাহ'মাতুল্লাহি ওয়া বারা"কাত্বহ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা-র জন্য এবং অসংখ্য সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা,
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি ইখোয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড), জামাতে ইসলামী, বা এমন অন্যান্য চরমপন্থী দলগুলোর আদর্শ গুরুদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যক্তিত্ব " সাইয়েদ কুতুবের "আকিদা, মানহাজ এবং তার সম্পর্কে যুগ শ্রেষ্ঠ উলামাদের মতামত সম্বলিত প্রবন্ধ নিয়ে!
দ্বীন কায়েম, খিলাফত প্রতিষ্ঠা, ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কথিত ‘ইসলামিক আন্দোলন’ এর মতাদর্শ প্রচারকারী এবং খাওয়ারিজদের ধর্মীয় গুরু হিসেবে পরিচিত "সাইয়েদ কুতুবের" নাম টা শুনে নি এমন মানুষ কম ই পাওয়া যাবে! কেউ কেউ তাকে "শহিদ কুতুব " বলেও অভিহিত করেন!
যাইহোক, "কে এই কুতুব "সেই সম্পর্কে আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব (ওয়া'মা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ)
❒ কুতুবের জন্ম ও শৈশবঃ
-------------------------------------
সাইয়েদ কুতুব ১৯০৬ সালে মিসরের উসইউত জেলার মুশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন! সাইয়েদ কুতুবের মূল নাম হলো সাইয়েদ" এবং "কুতুব" হল তার বংশীয় উপাধি!যতটুকু জানা যায় তার পূর্বপুরুষরা আরব উপদ্বীপ থেকে এসে মিসরের উত্তরাঞ্চলে বসবাস শুরু করেন।পিতার হাজী ইবরাহীম কুতুব ছিলেন একজন কৃষক! দুই ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে "সাইয়েদ কুতুব "ই ছিলেন সবার বড়"! অন্য ভাই হলেন মুহাম্মাদ কুতুব আর বোনেরা হলেন হামিদা কুতুব এবং আমিনা কুতুব আরেকজনের নাম জানা যায়নি!
❒ শিক্ষা ও কর্মজীবন:
---------------------------------
প্রথমেই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইয়েদ কুতুবের শিক্ষাজীবন শুরু হয়।তারপর কায়রোর বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৩৩ সালে সেখান থেকে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন এবং সেখানেই অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
কিছুকাল অধ্যাপনা করার পর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুল ইন্সপেক্টর নিযুক্ত হন। মিসরে এই পদটিকে অত্যন্ত সম্মানজনক বিবেচনা করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই তাকে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি পড়াশোনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
দু’বছরের কোর্স শেষ করে আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর পরই ইখওয়ানুল মুসলিমিন দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলেন এবং ১৯৪৫ সালে তিনি ওই দলের সদস্য হয়ে যান। তারপরেই একে একে ভিবিন্ন কিতাবাদি রচনা শুরু করেন!
❒ সাইয়েদ কুতুবের আকিদাঃ
-----------------------------------------

Wednesday, 10 October 2018

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (৩য় পর্ব)



১ম পর্ব ২য় পর্ব ৩য় পর্ব

জুম'আ

জুমআর নামায
জুমআর নামায প্রত্যেক সাবালক জ্ঞান-সম্পন্ন পুরুষের জন্য জামাআত সহকারে ফরয।

মহান আল্লাহ বলেন,

(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِذَا نُوْدِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ، ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ)

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর দিন নামাযের জন্য আহবান করা হবে, তখন তোমরা সত্বর আল্লাহর স্মরণের জন্য উপস্থিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন কর। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (কুরআন মাজীদ ৬২/৯)


মহানবী (সাঃ) বলেন, “দুনিয়াতে আমাদের আসার সময় সকল জাতির পরে। কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা সকলের অগ্রবর্তী। (সকলের আগে আমাদের হিসাব-নিকাশ হবে।) অবশ্য আমাদের পূর্বে ওদেরকে (ইয়াহুদী ও নাসারাকে) কিতাব দেওয়া হয়েছে। আমরা কিতাব পেয়েছি ওদের পরে। এই (জুমআর) দিনের তা’যীম ওদের উপর ফরয করা হয়েছিল। কিন্তু ওরা তাতে মতভেদ করে বসল। পক্ষান্তরে আল্লাহ আমাদেরকে তাতে একমত হওয়ার তওফীক দান করেছেন। সুতরাং সকল মানুষ আমাদের থেকে পশ্চাতে। ইয়াহুদী আগামী দিন (শনিবার)কে তা’যীম করে (জুমআর দিন বলে মানে) এবং নাসারা করে তার পরের দিন (রবিবার)কে।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত)

মহানবী (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেক সাবালক পুরুষের জন্য জুমআয় উপস্থিত হওয়া ওয়াজেব।” (নাসাঈ, সুনান ১৩৭১নং)

হযরত ইবনে মসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “আমি ইচ্ছা করেছি যে, এক ব্যক্তিকে লোকেদের ইমামতি করতে আদেশ করে ঐ শ্রেণীর লোকেদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিই, যারা জুমআতে অনুপস্থিত থাকে।” (মুসলিম ৬৫২নং,হাকেম)

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) ও ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তাঁরা শুনেছেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাঁর মিম্বরের কাঠের উপর বলেছেন যে, “কতক সম্প্রদায় তাদের জুমুআহ ত্যাগ করা হতে অতি অবশ্যই বিরত হোক, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে অবশ্যই মোহ্‌র মেরে দেবেন। অতঃপর তারা অবশ্যই অবহেলাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” (মুসলিম, সহীহ ৮৬৫ নং, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

হযরত আবুল জা’দ যামরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি বিনা ওজরে তিনটি জুমুআহ ত্যাগ করবে সে ব্যক্তি মুনাফিক।” (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ, সহিহ তারগিব ৭২৬নং)

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী (সাঃ) জুমআর দিন খাড়া হয়ে খুতবা দানকালে বললেন, “সম্ভবত: এমনও লোক আছে, যার নিকট জুমুআহ উপস্থিত হয়; অথচ সে মদ্বীনা থেকে মাত্র এক মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাযির হয় না।” দ্বিতীয় বারে তিনি বললেন, “সম্ভবত: এমন লোকও আছে  যার নিকট জুমুআহ উপস্থিত হয়; অথচ সে মদ্বীনা থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাজির হয় না।” অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি বললেন, “সম্ভবত: এমন লোকও আছে যে মদ্বীনা থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাজির হয় না তার হৃদয়ে আল্লাহ মোহ্‌র মেরে দেন।” (আবূ য়্যা’লা, সহিহ তারগিব ৭৩১নং)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি পরপর ৩ টি জুমুআহ ত্যাগ করল, সে অবশ্যই ইসলামকে নিজের পিছনে ফেলে দিল।” (ঐ, সহিহ তারগিব৭৩২নং)

জুমুআহ যাদের উপর ফরয নয়
১-২-৩। মহিলা, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি।

নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জামাআত সহকারে জুমুআহ ফরয। অবশ্য ৪ ব্যক্তির জন্য ফরয নয়; ক্রীতদাস, মহিলা, শিশু ও অসুস্থ।” (আবূদাঊদ, সুনান ১০৬৭নং)

৪। যে ব্যক্তি (শত্রু, সম্পদ বিনষ্ট, সফরের সঙ্গী ছুটে যাওয়ার) ভয়ে, অথবা বৃষ্টি, কাদা বা অত্যন্ত শীত বা গ্রীষ্মের কারণে মসজিদে উপস্থিত হতে অক্ষম।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি মুআযযিনের (আযান) শোনে এবং কোন ওজর (ভয় অথবা অসুখ) তাকে জামাআতে উপস্থিত হতে বাধা না দেয়, তাহলে যে নামায সে পড়ে, তার সে নামায কবুল হয় না।” (আবূদাঊদ, সুনান ৫৫১নং)

একদা ইবনে আব্বাস (রাঃ) এক বৃষ্টিময় জুমআর দিনে তাঁর মুআযযিনকে বললেন, ‘তুমি যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌’ বলবে তখন বল, ‘তোমরা তোমাদের ঘরে নামায পড়ে নাও।’ এ কথা শুনে লোকেরা যেন আপত্তিকর মনোভাব ব্যক্ত করল। কিন্তু তিনি বললেন, ‘এরুপ তিনি করেছেন যিনি আমার থেকে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ, আল্লাহর রসূল (সাঃ) এরুপ করেছেন। আর আমিও তোমাদেরকে এই কাদা ও পিছল জায়গার মাঝে বের হওয়াকে অপছন্দ করলাম।’ (বুখারী ৯০১, মুসলিম, সহীহ ৬৯৯নং)

প্রকাশ থাকে যে, যারা দূরের মাঠে অথবা জঙ্গলে অথবা সমুদ্রে কাজ করে এবং আযান শুনতে পায় না, তাছাড়া কাজ ছেড়ে শহর বা গ্রামে আসাও সম্ভব নয়, তাদের জন্য জুমুআহ ফরয নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৪১৪, ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/৩৯৯)

৫। মুসাফির :

মহানবী (সাঃ) জুমআর দিন সফরে থাকলে, জুমআর নামায না পড়ে যোহরের নামায পড়তেন। বিদায়ী হজ্জের সময় তিনি আরাফাতে অবস্থানকালে জুমআর নামায পড়েননি। বরং যোহ্‌র ও আসরের নামাযকে অগ্রিম জমা করে পড়েছিলেন। অনুরুপ আমল ছিল খুলাফায়ে রাশেদ্বীন (রাঃ) দেরও।

উপর্যুক্ত ব্যক্তিবর্গের জন্য জুমআর নামায ফরয নয়। কিন্তু যোহরের নামায অবশ্যই ফরয। পরন্তু যদি তারাও জুমআর মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআতে জুমুআহ পড়ে নেয়, তাহলে তা বৈধ। এ ক্ষেত্রে তাদের জুমুআহ হয়ে যাবে এবং যোহরের নামায মাফ হয়ে যাবে।

একাধিক হাদীস এ কথা প্রমাণ করে যে, মহানবী (সাঃ) এবং খুলাফায়ে রাশেদ্বীন (রাঃ) দের যুগে মহিলারা জুমুআহ ও জামাআতে উপস্থিত হয়ে নামায আদায় করত।

উল্লেখ্য যে, কোন মুসাফির জুমুআহ খুতবা দিলে ও ইমামতি করলে তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৫/২৩)

জুমআর জামাআতে কোন মুসাফির যোহরের কসর আদায় করার নিয়ত করতে পারে না। কারণ, যোহ্‌র অপেক্ষা জুমআর ফযীলত অনেক বেশী। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫৭৪)

জুমআর সময়
অধিকাংশ সাহাবা, তাবেঈন ও ইমামগণের নিকট জুমআর সময় যোহরের সময় একই। অর্থাৎ, সূর্য ঢলার পর থেকে নিয়ে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া (আসরের আগে) পর্যন্ত।

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, ‘নবী (সাঃ) জুমুআহ তখন পড়তেন, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশেঢলে যেত।’ (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, বায়হাকী)

ইমাম বুখারী বলেন, ‘জুমআর সময় সূর্য ঢলার পরই শুরু হয়। হযরত উমার, আলী, নু’মান বিন বাশীর এবং আম্‌র বিন হুয়াইরিষ কর্তৃক এ ব্যাপারে বর্ণনা পাওয়া যায়।’ (বুখারী)

হযরত সালামাহ্‌ বিন আকওয়া’ (রাঃ) বলেন, ‘আমরা যখন নবী (সাঃ)-এর সাথে জুমআর নামায পড়ে ঘরে ফিরতাম, তখন দেওয়ালের কোন ছায়া থাকত না।’ (বুখারী, মুসলিম,  আবূদাঊদ, সুনান)

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, ‘ঠান্ডা খুব বেশী হলে নবী (সাঃ) জুমআর নামায সকাল সকাল পড়তেন এবং গরম খুব বেশী হলে দেরী করে পড়তেন।’ (বুখারী)

অবশ্য সূর্য ঢলার পূর্বেও জুমুআহ পড়া বৈধ। (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য আল-আজবিবাতুন নাফেআহ্‌, আন আসইলাতি লাজনাতি মাসজিদিল জামেআহ্‌, মুহাদ্দিস আলবানী ২২-২৫পৃ:) তবে সূর্য ঢলার পরই জুমুআহর (খুতবার) আযান হওয়া উত্তম। কারণ, প্রথমত: এতে অধিকাংশ উলামার সাথে সহ্‌মত প্রকাশ হয়। দ্বিতীয়ত: যারা জুমআয়হাজির হয় না এবং সময়ের খবর না রেখে আযান শুনে নামায পড়তে অভ্যাসী (ওযরগ্রস্ত ও মহিলারা) সময় হওয়ার পূর্বেই নামায পড়ে ফেলে না। (লিকাউবাবিল মাফতূহ্‌, ইবনে উষাইমীন ৫/৩৪)

প্রকাশ থাকে যে, সকাল সকাল মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ সহ্‌ অন্যান্য নফল পড়া সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকার সময়ে হলেও তা নিষেধের আওতাভুক্ত নয়। (ঐ)

জুমআর জন্য নিম্নতম নামাযী সংখ্যা

জুমআর নামায যেহেতু জামাআত সহকারে ফরয, সেহেতু যে কয় জন লোক নিয়ে জামাআত হবে, সে কয় জন লোক নিয়ে জুমআহও প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট লোক সংখ্যা হাদীস থেকে প্রমাণিত নয়।

জুমআর স্থান
জুমুআহ যেমন শহরবাসীর জন্য ফরয, তেমনি ফরয গ্রামবাসীর জন্যও। এর জন্য খলীফা হওয়া, শহর হওয়া, জামে মসজিদ হওয়া বা ৪০ জন নামাযী হওয়া শর্ত নয়। বরং যেখানেই স্থানীয় স্থায়ী বসবাসকারী জামাআত পাওয়া যাবে, সেখানেই জুমুআহ ফরয। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২২/৭৫, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৪২৪)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘নবী (সাঃ)-এর মসজিদে জুমুআহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইসলামে সর্বপ্রথম যে জুমুআহ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হল বাহ্‌রাইনের জুয়াষা নামক এক গ্রামে।’ (বুখারী ৮৯২, ৪৩৭১, আবূদাঊদ, সুনান ১০৬৮নং)

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (২য় পর্ব)


১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব

দরুদ

তাশাহহুদের পর নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) নিজের উপর দরুদ পাঠ করতেন। (আহমাদ, মুসনাদ ৫/৩৭৪, হাকেম, মুস্তাদরাক) আর উম্মতের জন্যও তাঁর উপরের সালামের পর দরুদ পড়াকে বিধিবদ্ধ করেছেন। মহান আল্লাহর সাধারণ আদেশ রয়েছে, “--- হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর দরুদ পাঠ কর এবং উত্তমরুপে সালাম পেশ কর।” (কুরআন মাজীদ ৩৩/৫৬)

আর মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহ্‌মত বর্ষণ করবেন।” (মুসলিম,  মিশকাত ৯২১ নং)


অন্য এক বর্ণনায় আছে, “---এবং তার ১০টি পাপ মোচন হবে ও সে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত হবে।” (নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/৫৫০, মিশকাত ৯২২নং)

সাহাবাগণ তাঁকে বললেন, ‘আমরা আপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করব?’ তখন তিনি তাঁদেরকে দরুদ শিক্ষা দিলেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৯১৯-৯২০নং)

দরুদের শব্দবিন্যাস কয়েক প্রকার:-

১।اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
 উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ:- হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্‌মত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হযরত ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্‌মত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।

হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হযরত ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (বুখারী, মিশকাত ৯১৯নং)

২।  اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى أَزْوَاجِهِ وَ ذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلىآلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
  উচ্চারণ:- আল্লাহুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আযওয়া-জিহী অ যুরিয়্যাতিহী কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, অ বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আযওয়া-জিহী অ যুরির্য়াতিহী কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ:- হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের  উপর রহ্‌মত বর্ষণ কর যেমন তুমি হযরত ইবরাহীমের বংশধরের উপর রহ্‌মত বর্ষণ করেছ। এবং তুমি হযরত মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের  উপর বর্কত বর্ষণ কর যেমন তুমি হযরত ইবরাহীমের বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত  গৌরবান্বিত। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৯২০নং)

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ
كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ،
 উচ্চারণ:- আল্লা- হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মা দিঁ উঅআলা আহ্‌লি বাইতিহি অআলা আযওয়া-জিহি অযুরিGয়্যাতিহি কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আহ্‌লি বাইতিহি অআলা আযওয়া-জিহি অযুরির্য়াতিহী কামা বারাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। (আহমাদ, মুসনাদ ৫/৩৭৪, ত্বাহাকেম, মুস্তাদরাক)

Tuesday, 9 October 2018

স্বালাতে মুবাশ্‌শির

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (১ম পর্ব) 




শুরুর কথা 

শুরুর কথা সমূহ
মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ‘স্বালাতে মুবাশ্‌শির’-এর দ্বিতীয় খন্ড পাঠকের হাতে উপস্থিত হল। তার জন্য তাঁর দরবারে লাখো শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। দ্বীনের অন্যতম খুঁ টির একটি কাঠামো পেশ করতে পেরে আমি নিজেকে যেমন ধন্য মনে করছি, তেমনি আশা করছি দুআ ও সওয়াব লাভের।

কেবল সহীহ হাদীসকে ভিত্তি করেই, অধিক ক্ষেত্রে কে কি বলেছেন তা উল্লেখ না করেই কেবল সহীহ দিকটা তুলে ধরেছি আমার এই পুস্তিকায়। মানুষের মনে সহীহ শিক্ষার চেতনা ও বাসনার কথা খেয়াল রেখেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আল্লাহ যেন তা কবুল করেন, তাই আমার কামনা।

বিভিন্ন বিতর্কিত মাসায়েলে আমি বর্তমান বিশ্বের প্রধান ৩টি রত্ন; বর্তমান বিশ্বের অদ্বিতীয় মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দ্বীন আলবানী, আল্লামা শায়খ ইবনে বায এবং আল্লামা ও ফকীহ্‌ শায়খ ইবনে উষাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহু জামীআন)গণের হাদীস লব্ধ ও সহীহ দলীল ভিত্তিক মতকে প্রাধান্য দিয়েছি। আর এ কথা অবশ্যই প্রমাণ করে যে, আমি তাঁদের প্রত্যেকের; বরং প্রত্যেক হ্‌ক-সন্ধানী রব্বানী আলেমের ভক্ত ও অনুরক্ত। তা বলে কারো অন্ধভক্ত নই। পক্ষান্তরে প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য অধিকারীর অধিকার সঠিকরুপে আদায় করা। উলামার যথার্থ কদর করা। প্রত্যেক হ্‌ক-সন্ধানীর অনুরক্ত হওয়া; যদিও বা তাঁদের কোন কোন অভিমত আমার-আপনার বুঝের অনুকূল নয়। বলা বাহুল্য, খাঁটি সোনা স্বর্ণকারই চিনতে পারে; স্বর্ণ-ব্যবসায়ী নয়।

‘নামায’ ইসলামের প্রধান ইবাদত। ‘নামায’ শব্দটি ফারসী, উর্দু , হিন্দী ও আমাদের বাংলা ভাষায় আরবী ‘সালাত’ অর্থেই পরিপূ র্ণ রুপে ব্যবহৃত বলেই আমি ‘সালাত’-এর স্থানে ‘নামায’ই ব্যবহার করেছি। তাছাড়া বাংলাভাষীর অধিকাংশ মানুষ ‘সালাত’ শব্দটির সাথে পরিচিত নয়। তাই পরিচিত ও প্রসিদ্ধ শব্দই ব্যবহার করতে আমি প্রয়াস পেয়েছি। আর এতে শরয়ী কোন বাধাও নেই। সুতরাং এ বিষয়ে সুহৃদ পাঠকের কাছে আমার ইজতিহাদী  কৈফিয়ত পেশ করে সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিনীত
আব্দুল হামীদ আল-মাদানী
আল-মাজমাআহ সঊদীআরব

প্রয়োজনের তাকীদে যা কিছু লিখি, সবই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আল্লাহ যেন তা আমাকে দান করেন এবং কাল কিয়ামতে এরই অসীলায় আমাকে, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতা ও ওস্তাযগণকে, আর এ বই-এর উদ্যোক্তা, প্রকাশক ও সকল আমলকারী পাঠককে তাঁর মেহ্‌মান-খানা বেহেশ্তে স্থান দেন। আমীন।


নিয়ত

নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত

আমল ও ইবাদত শুদ্ধ-অশুদ্ধ এবং তাতে সওয়াব পাওয়া-না পাওয়ার কথা নিয়তের উপর নির্ভরশীল। নিয়ত শুদ্ধ হলে আমল শুদ্ধ; নচেৎ না। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়ত করে থাকে। যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব কোন বিষয় লাভের উদ্দেশ্যে হয়, সে ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়। যার হিজরত কোন মহিলাকে বিবাহ্‌ করার উদ্দেশ্যে হয়, তার প্রাপ্যও তাই। যে যে নিয়তে হিজরত করবে সে তাই পেয়ে থাকবে।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১নং)

Tuesday, 2 October 2018

শিয়াদের ঈমান-আকীদা

অনেক ভাইয়েরা শিয়াদের ঈমান কেমন জানার জন্য প্রশ্ন করেন। জেনে নিন,
.
শিয়াদের ঈমান-আকীদাঃ

শিয়া ইসনা আশারিয়াদের আকীদা-বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিন্মে তুলে দেওয়া হলো। সাথে আরো ঈমান ও ইসলাম ভঙ্গের কারণগুলো দেওয়া হলো। যাতে করে পাঠক তার নিজ বিবেচনায় শিয়াদের নাস্তিক ও মুরতাদ হওয়ার বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন।
.
(১) আল্লাহ আলী রাঃ এর কাছে ওয়াহী নাযিল করেছিলেন, কিন্তু জিব্রাইল ভুলে সেই ওয়াহী নিয়ে আসে মুহাম্মাদ সঃ এর কাছে। (আল মুনিয়া ওয়াল আমালঃ ৩০ পৃ)।
(২) আল ক্বুরআন সম্পূর্ণ নয়। আসল ক্বুরআন আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তখন, যখন সাহাবারা মুরতাদ হয়ে গেছে। (আত-তানবিহ অররাদ্দ-আল মুলিতিঃ ২৫ পৃ)।
(৩) ক্বুরআনের অনেক আয়াত আসলে আয়াত নয়, তা বাজে কথা (নাউজুবিল্ললাহ)। (আল-অসীকা/২২১ পৃ)।
(৪) রাসুল সঃ নিজেই আংশিক শিয়া দর্শন প্রচার করে গেছেন। বাকিটা হজরত আলী প্রচার করেছেন। (এহকাকুল হক- তাসাত্তুরী/২-৮৮ পৃ)।
(৫) শিয়া ইমামরা আল্লাহ ও তার সৃষ্টির মাঝখানে মধ্যস্থতা কারী। (বেহারুল আনোয়ার/৯৯ঃ২৩)।
(৬) শিয়া ইমামদের কবর জিয়ারত কা’বায় হজ্জ করার চাইতে উত্তম। (সাওয়াবুল আ’মাল/১২১ পৃ)।
(৭) যে হুসাইন রাঃ এর কবর জিয়ারত করে সে যেন আল্লাহর আরশ জেয়ারত করে। (আল-মাজার আল-মুফিদ/৫১ পৃ)।
(৮) হুসাইন রাঃ এর কবরের মাটি সকল রোগের ঔসুধ। (আল-আমালি/৯৩ঃ ৩১৮)।
(৯) আল্লাহ ও শিয়া ইমামদের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই (নাউজুবিল্লাহ)। (মাসাবিহুল আনোয়ার/২ঃ ৩৯৭ পৃ)।
(১০) নক্ষত্র ও তারকা রাজি মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবন-মরনের উপর হস্তক্ষেপ করে। (রাওদা মিনাল কাফি/৮ঃ ২১০৩ পৃ)।
(১১) আলী রাঃ গায়েব জানেন। (মের’আতুল আনোয়ার/ ৫৯)। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে হস্থক্ষেপ করেন। (ওসুল আল-কাফি/১ঃ৩০৮)। তিনি মৃত কে জেন্দা করেন-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৩৪৭)।
১২) যে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ জমীনে আসেন সে কাফের-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৯০ পৃ)।
১৩) কালেমা শাহাদাতের সাথে আরো বলতে হবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী রাঃ আল্লাহর অলী। তারা এমন কালেমা নব জাতকের কানে বলে এবং মৃত ব্যক্তির শয্যায় শিয়রে উচ্চারন করে-( ফুরুউল কাফি/৩ঃ৮২)।
১৪) যারা আবু বকর, ওমর, ওসমান,‌ মুয়া্বিয়া, আয়েশা ও হাফসা রাঃ কে প্রত্যেক নামাজের পর গালি দিবে তারা আল্লাহকে সব চাইতে বড় উপহার প্রদান করিবে। (ফুরুউল কাফি/ ৩ঃ২২৪)।
১৫) শিয়া ইমামরা অন্যের জন্যে জান্নাতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারে। ( রিজালুল কাশি/৫ঃ৪৯০)।
১৬) মুতা বিয়ে না করলে তার ইমান পূর্ণতা লাভ করেনা। আর মুতা বিয়ে হল অলি ও সাক্ষী ছাড়াই কোন মহিলাকে চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্যে যৌন সঙ্গী করা। যে কোন মুমিনা নারীর সাথে মুতা করলো সে ৭০ বার কা’বা ঘর জেয়ারত করার সমান সাওয়াব পায় ( নাউজুবিল্লাহ)। (মিসবাহুত তাহাজ্জুদ- আত তুরসি/২৫২ পৃ)।
১৭) শিয়াদের ইমাম খোমেনী বলেছে, মুতা ছাড়া যত রকমের নষ্টামি আছে তাতে কোনই দোষ নাই যদিও তা শিশুর সাথে হোক না কেন ( নাউজুবিল্লাহ)! -( তাহরিরুল অসিলা/২ঃ২২১)।
১৮) আল্লাহ শিয়া ইমামদের নুর থেকে ফেরেস্তা সৃষ্টি করেছেন। ৪০০০ ফেরেস্তা এ কারনে হুসাইন রাঃ’র কবরে কেয়ামত পর্যন্ত কান্না রত আছেন-( জামিউল ফাওয়ায়েদ-কারাস্কি/৩৩৪ পৃ)।
১৯) ফেরেস্তাদের মধ্যে গোলযোগ হলে আল্লাহ আলী রাঃ কে ফেরেস্তা পাঠিয়ে আসমানে তুলে নিয়ে যান মিমাংশা করার জন্যে-(এখতেসাস/২১৩)।

Sunday, 23 September 2018

সালমান আল-আওদাহ

সালমান আল-আওদাহ, সফর আল-হাওয়ালি ও অন্যান্য তাকফিরি নেতাদের ব্যপারে শায়খ বিন বাজ ও কিবার আল-ওলামাদের বক্তব্যঃ
আব্দুল আজীজ ইবনে বাজ এর পক্ষে থেকে প্রিন্স নায়েফ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর) কাছেঃ
“সালমান আল-আওদাহ ও সফর আল-হাওয়ালীর বেশকিছু বক্তব্য ও বই সবদিক থেকে বিবেচনা করার পর ওলামারা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদেরকে ২ জন আলেমের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। যদি তারা তাদের ভুলগুলো স্বীকার করে এবং পুনরায় এই ভুলগুলো না করার জন্য রাজি হয় তাহলে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এতোটুকুই যথেষ্ঠ হবে।
আর যদি তারা ভুল সংশোধন করতে রাজি না হয় তাহলে, তাদেরকে সমস্ত প্রকার লেকচার, সেমিনার, খুতবাহ দেওয়া, জনসাধারণের মাঝে ওয়াজ মাহফিল বা ক্যাসেট বিতরণ করতে নিষিদ্ধ করা হবে।
আল্লাহ এই ২ জনকে হেদায়েত করুন ও সঠিক আমলের দিকে পরিচালিত করুন।
৩/৪/১৪১৪ হিজরী।
কিবার আল-ওলামাদের সচিবালয়ঃ ৯৫১/২।
সালমান আল-আওদাহ ও সফর আল-হাওয়ালী শায়খ আলবানীকে মুর্জিয়া আকীদার বললে, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমি রহিমাহুল্লাহকে এই ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হয়। উত্তরে শায়খ ইবনে উসাইমিন বলেন,
“শায়খ আলবানী একজন আলেম, মুহাদ্দিস ও ফকীহ। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন ফকীহর থেকে বড় মুহাদ্দিস। আমার জানা মতে শায়খ আলবানীর এমন কোন বক্তব্য নেই যা মুর্জিয়ারা বলে থাকে। যাই হোক, যেই সমস্ত লোকেরা মানুষকে #কাফের বলে ফতোয়া দিতে চাই তারাই শায়খ আলবানীকে মুর্জিয়া বলে থাকে এবং বিভিন্ন আজেবাজে নামে গালি দেয়। আমি শায়খ আলবানীর, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন ইস্তিকামাহ, সঠিক আকীদাহ ও ইখলাসের স্বাক্ষ্য দিচ্ছি।”
তিনি আরো বলেন, “শায়খ আলবানী সালাফী আকীদাহ ও বিশুদ্ধ মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিছু মানুষ আল্লাহর বান্দাদেরকে এমন বিষয় নিয়ে কাফের ফতোয়া দিতে চায় যেই বিষয়ে আল্লাহ তাদেরকে কাফের বলেন নি। অতঃপর, যারা এইরকম অন্যায়ভাবে কাফের বলার বিরোধীতা করে তাঁদেরকে তারা মুর্জিয়া বলে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, জঘন্য অপবাদ এবং মিথ্যা রচনা। এই ধরণের কথা যেই বলে থাকুক না কেনো, তাদের কথা শুনবেনা।”
মাকাল্লামাত মা মাশায়িখ আদ-দাওয়া আস-সালাফিয়্যা, পর্ব-৪, ২০০১।

Saturday, 22 September 2018

সৌদি আরব কি আলেম-উলামাদেরকে গ্রেফতার করে?


উত্তরঃ হ্যা করে, ভ্রষ্ট পথের দিকে আহবানকারী আলেমদেরকে গ্রেফতার করে।
যেমন সুলায়মান আল-উলওয়ান, সালমান আল-আওদাহ প্রমুখ।
=> প্রশ্নঃ সুলায়মান আল-উলওয়ান কে?
উত্তরঃ সুলায়মান আল-উলওয়ানঃ
(১) বিংশ শতাব্দীতে তাকফীর ও খুরুজের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
(২) আত্মঘাতী বোমা হামলার উস্কানিদাতা।
(৩) সাউদী আরবের আলেমদেরকে "স্কলারস অফ রুলারস" বলে অপবাদ দানকারী।
(৪) উম্মাহকে আলিম-উলামা বাদ দিয়ে উসামা বিন লাদিনের মতো ব্যক্তিদের দিকে মুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য আহবানকারী।
(৫) তাকফীর ও খুরুজের ব্যাপারে মুহাম্মদ আল-সুরুর, সফর আল-হাওয়ালী, সালমান আল-আওদাহর মতো চরমপন্থী বরং, তাদের চাইতেও নিকৃষ্ট।
(৬) সাউদী আরবের শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য আহবানকারী।
(৭) আরব বসন্তের সমর্থনকারী, আরব বসন্তের দুই পক্ষকে ইসলাম ও কুফরের যুদ্ধের সমতুল্য বলে তুলনাকারী।
=> সালমান আল-আওদাহ কে?
ইখোয়ানুল মুসলিমিন, আল-কায়েদাহ, আনোয়ার আল-আওলাকি, ইয়াসির ক্বাদী এমন আরো অনেকের তাত্ত্বিক গুরু। ডা. জাকির নায়েক সালমান আল-আওদাহর দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলে তার লেকচারে উল্লেখ করেছিল।
ফেইসবুক জিহাদীরা কিছুদিন পরপরই মায়াকান্না আরম্ভ করে, সৌদি আরব prominent muslim scholar সালমান আল-আ'ওদাহকে গ্রেফতার করেছে!
সালমান আল-আওদাহ prominent scholar, তবে ইখোয়ানুল মুসলিমিন এবং তাদের brain child আল-কায়েদার অনুসারীদের কাছে। আলহা'মদুলিল্লাহ অনেক দেরীতে হলে সৌদি আরব তাদের ভুলগুলো বুঝতে পারছে এবং এই দলগুলোকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করেছে। সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে যারা এই দলগুলোতে ভর্তি করে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

Tuesday, 28 August 2018

আয়াতুল কুরসী ও তাওহীদের প্রমাণাদি

শাইখ আব্দুর রায্‌যাক ইবন আব্দুল মুহসিন আল-বদর
অনুবাদ: আবদুর রাকীব (মাদানী)
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
 সূচীপত্র
ক্রশিরোনামপৃষ্ঠা
ভূমিকা
আয়াতুল কুরসীর মাহাত্ম্য
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে আয়াতুল কুরসী পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন১৬

আয়াতুল কুরসী শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদে রাখে

২৫
আয়াতুল কুরসী পড়ার উদ্দেশ্য২৯
আয়াতুল কুরসীর সংক্ষিপ্ত বিষয়াদি৩১
আয়াতটির শুরু কথা৩৯
কালেমার উদ্দেশ্য শুধু মুখে উচ্চারণ করা নয়৪১
একটি মহান মূল নীতি১০১
১০উপসংহার১০৯
১১আন্তরিক আহ্বান১১১

ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ সুমহান এবং একচ্ছত্র উচ্চতার অধিকারী আল্লাহর জন্য, যিনি মহত্ব, মহিমা এবং অহংকারের মালিক। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। পূর্ণাঙ্গ বিশেষণসমূহে তিনি একক এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা এবং রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর সহচরবৃন্দ ও পরিবার পরিজনের প্রতি বর্ষিত হউক দুরূদ-রহমত এবং শান্তি।
অতপর….
কুরআন মাজীদের সর্বমহান আয়াত ‘আয়াতুল কুরসী’ এবং তাতে উল্লিখিত মহৎ, স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল দলীল প্রমাণসমূহের সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা ও আলোচনা, যা মহত্ত্ব, বড়ত্ব এবং পূর্ণতার ব্যাপারে মহান আল্লাহর একত্বের প্রমাণ বহন করে এবং বর্ণনা করে যে, তিনি আল্লাহ পবিত্র। তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। নেই কোনো সত্য উপাস্য। তাঁর নাম বরকতপূর্ণ। মহান তাঁর মহিমা। তিনি ছাড়া নেই কোনো মা‘বুদ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥﴾ [البقرة: ٢٥٥]
“আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী, তন্দ্রা ও ঘুম তাঁকে স্পর্শ করে না, আকাশসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তারই; এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনের ও পিছনের সবকিছুর ব্যাপারে তিনি অবগত। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি আছে এবং এসবের সংরক্ষণে তাঁকে বিব্রত হতে হয় না এবং তিনি সমুন্নত মহীয়ান।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫]
[আয়াতুল কুরসীর মাহাত্ম্য]
এই বরকতপূর্ণ আয়াতটির বড় মাহাত্ম্য এবং উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। কারণ মাহাত্ম্য, সম্মান এবং মর্যাদার বিবেচনায় কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহের মধ্যে এটি সর্বমহান, সর্বোত্তম এবং সুউচ্চ আয়াত। এর চেয়ে সুমহান আয়াত কুরআনে আর নেই। হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটিকে সর্বোত্তম বলেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর স্বীয় সহীহ গ্রন্থে উবাই ইবন কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল তাঁকে বলেন,

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...