Saturday, 9 August 2025

হামাছ-ইজ্রিল সিরিজ- ২

 

[শুধু শেষ প্যারাটি পড়লেও চলবে]

 ইজ্রিলের জনসংখ্যার ৪৫% হচ্ছে আশকেনাজি (পশ্চিম ইউরোপ থেকে আগত) ইয়াহু। দেশের ক্ষমতার সকল দিকে এদের আধিপত্য চলে। রাষ্ট্রের প্রতিটি উপাদান, যেমন- হাগানা (প্রতিরক্ষা), নেসেট (সংসদ), জুইশ এজেন্সি (দখলদারি) ও হিস্টাড্রুট (অর্থনীতি) এই ইয়াহু শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত।

 জনসংখ্যার অবশিষ্ট ৫৫% হলো সেফার্দি ও মিজরাহি ইয়াহু, যারা Filiস্তিন দখল করে ইজ্রিল প্রতিষ্ঠার পরে এসেছে। ততক্ষণে, আশকেনাজি আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তাদের ভাষা রাষ্ট্রভাষা হয়েছে, ইকোনো-পলিটিক এস্টাবলিশমেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে; তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সকল স্থানে বসে গেছে।

 অভিজাত আশকেনাজিদের দল হচ্ছে লেবার পার্টি। আর, নীচুজাত সেফার্ডিকদের দল হচ্ছে লিকুদ পার্টি। কিন্তু নীচুজাত হলেও তাদের সংখ্যা বেশি। তাই, ১৯৭৩ সালে দল গঠন করেই ১৯৭৭ সালে তারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। রাষ্ট্র গঠনে লিকুদের কোনো ভূমিকা ছিল না; শ্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে ক্ষমতা পেয়ে গেল।

 ক্ষমতা উদ্ধারের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শিমন পেরেস এর লেবার পার্টি ৪৭টি আসন লাভ করে কিন্তু মেনাকেম বেগিন এর লিকুদ পার্টি ৪৮টি আসন লাভ করে আবারও ক্ষমতায়। তখন থেকে উভয় দলের মধ্যেকার মনস্ত্বাত্বিক বিভেদ স্পষ্টতর হতে থাকে।

 লিকুদ পার্টি নোংরা রাজনীতি শুরু করে। ফিলি#তিনের নতুন নতুন এলাকা দখল ও অবৈধ বসতি স্থাপন করতে থাকে এবং কিন্তু সেখানকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ও তহবিল বৃদ্ধি করা হতে থাকে। কিন্তু দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, শিন বেট- এর উপর আশকেনাজি আধিপত্র একচেটিয়াভাবে অব্যাহত থাকে।

 কিন্তু তারপর ৩ নির্বাচনে (১৯৮৪, ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে) লিকুদ পার্টি চরম ধরাশায়ী হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল- লিকুদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ। এদিকে, ১৯৮৮ সালে পার্টিতে যোগদান করে ১৯৯৩ সালে পার্টির প্রধান হওয়া নেতা#য়াহু কঠিন এক খেলা নিয়ে আসেন। লিকুদের সহায়তায় গড়ে ওঠা হা/মাছ ভূমিকা পালন করে।

 ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে হা/মাছ দেশজুড়ে লিকুদের অফিসসমূহে সিরিজ বোমা হামলা করতে থাকে। এতে করে দলটির পতিত জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়তে থাকে এবং ধুরন্দর নেতা/ইয়াহু অবিশ্বাস্যভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এভাবে, ক্ষমতায় আসতে তিনি প্রতিবার নির্বাচনে নতুন নতুন কৌশল হাজির করতে থাকেন।

 ২০২১-২০২২ সাল নাগাদ তিনি তিনি আশকেনাজি প্রভাব স্থায়ীভাবে খর্ব করার জন্য ডেসপারেট হয়ে ওঠেন। ২০২৩ সালের মার্চে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধাচারণ করেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করতে চেষ্টা করেন। তখন দেশজুড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিক্ষোভ শুরু হয় এবং মাসের পর মাস তা চলতে থাকে।

 ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর এই বিক্ষোভ হ্রাস পাবে বা স্থগিত হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভ চলতে থাকে। এতে নেতা/ইয়াহু উন্মাদ হয়ে ওঠেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করতে সচেষ্ট হন এবং হা/মাছকে নির্মূল করার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ফেরাবার ব্যার্থ চেষ্টা করে চলেছেন।

 নেতা/ইয়াহু এখনও বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার মাধ্যমে লিকুদ পার্টিকে রক্ষার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। লেবার পার্টির রাজনৈতিক ক্ষমতা যদিও খর্ব হচ্ছে, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক এস্টাব্লিশমেন্ট মোটা দাগে এখনও আশকেনাজিদের হাতে রয়ে গেছে। আর, আশকেনাজি শক্তির সাথে নেতা/ইয়াহু আপোষরফার পথও বন্ধ।

 হা/মাছের হাতে আটক জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। নেতা#য়াহু গা#যা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন আর হা/মাছও জিম্মিদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। তাই, দেশে বা বিদেশে নেতা/ইয়াহুর আপোষের পথ খোলা নেই। লিবারেল ও আশকেনাজি শক্তি তার বিরুদ্ধে একাট্টা। তার পতন মানে সেফার্ডিকদের রাজনীতির চরম পতন।

 তার সামনে যে অপশনগুলো রয়েছে তা হলো- ১. গৃহযুদ্ধ [কেননা, কোণঠাসা হলেও সেফার্দিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ]; ২. পদত্যাগ করা [তাহলে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে]; ৩. পালিয়ে যাওয়া [ইউক্রেন ছাড়া যাওয়ার জায়গা নেই]; ৪. স্বয়ং মালাকুল মউত (আঃ) তার সামনে হাজির হওয়া।

 ১৯৮২ সালে সিআইএ'র প্রণীত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখতে পারেন- https://www.cia.gov/.../CIA-RDP06T00412R000200840001-6.pdf

 আগের পোস্টটি এখানে- https://www.facebook.com/Salim.85/posts/pfbid02wF5Zq81B4t2Pn9GU2ytzAaVhgNwcwXoFn3YwEgRkqRyv5EudH83L8sBbypHJmPbfl

Mohammad Salimullah

No comments:

Post a Comment

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...