·
সৌদি ফতোয়া বোর্ড ও সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য এবং কিং সউদ ইউনিভার্সিটির অনুষদ সদস্য, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, আল-উসূলী, ড. সা‘দ বিন নাসির আশ-শিসরী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৮৭ হি.] বলেছেন—
❝এখন আমার কাছে এই লেখকের প্রসঙ্গ এসেছে। যার কিছু গ্রন্থের নাম—সিলসিলাতু ইয়া সাহিবাইস সিযন (‘হে কারাগারের সঙ্গীদ্বয়’ সিরিজ), আল-‘ইবাদাহ মা‘নাহা সিফাতুহা (ইবাদতের বৈশিষ্ট্যই তার মর্মার্থ), তাম্বীহুল গাফিলাত (গাফিল নারীদের সতর্কীকরণ) প্রভৃতি। এটি একজন ‘আম্মীর কথা। মাক্বদিসী একজন ‘আম্মী (লেইম্যান, সোজা বাংলায় সাধারণ আম পাবলিক)। সে দলিলগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। সে কুরআনের আয়াতকে তার উদ্দিষ্ট অর্থ থেকে সরিয়ে দিয়ে অপাত্রে প্রয়োগ করে। আবূ মুহাম্মাদ আল-মাক্বদিসী নামের এই লোক উসূলুল ফিক্বহ (ফিক্বহের মূলনীতি) পড়েনি। এছাড়া তার বুঝের মধ্যেও গোলমাল আছে।
যখন তুমি একটি ব্যাপকার্থবোধক (আম) দলিল নিয়ে এসে তা দিয়ে ফায়সালা দিবে, আর ওই দলিলকে খাসকারী দলিলসমূহের দিকে লক্ষ করবে না, তখন তুমি বড়ো ধরনের ভুলের মধ্যে পতিত হবে। আমি তোমাদের কাছে একটি ফিক্বহী উপমা উপস্থাপন করব, এতে করে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ “তালাকপ্রাপ্ত নারীরা তিন হায়েজ (মাস) পর্যন্ত ইদ্দত [১] পালন করবে।” [২] আয়াত সুস্পষ্ট।
এই, তোমার নাম কী? [ছাত্র নিজের নাম বলছেন] হ্যাঁ? সালিহ! আচ্ছা, সালিহ কোনো মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিল এবং বিয়ের জন্য নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করল। পরবর্তীতে তার সাথে ফোনে কথা বলার সময় দেখল, ওই মেয়ের কিছু সমস্যা আছে। ফলে সে তাকে তালাক দিয়ে দিল। এখন এই মেয়ের ইদ্দত কতদিন? তিন হায়েজ, তাইনা?
আসলে তোমরা তো দলিল বোঝো না। তোমাদের কাছে সম্পূর্ণ দলিল নেই। মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا “হে ইমানদারগণ, যদি তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই (অর্থাৎ সহবাস করার পূর্বেই) তালাক দিয়ে দাও, তাহলে তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই, যা তোমরা গণনা করে থাক।” [৩]
তাহলে তোমরা কীভাবে বলছ যে, সালিহ যে মেয়েকে তালাক দিয়েছে, তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে?! কারণ তোমরা এক চোখ নষ্ট হওয়া কানার মতো। তোমরা একটি ব্যাপকার্থবোধক দলিল নিয়ে এসে আমভাবে বিধান দিয়ে দিচ্ছ, যদিও ওই আম দলিলকে খাসকারী দলিলসমূহ তোমাদের বোধগম্য হয়নি। এর দৃষ্টান্ত হলো—এই নিবন্ধ, যা এমন ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছে, যার দলিল বোঝার মতো সক্ষমতা নেই, এবং যে তাখরীজুল মানাত্ব, তানক্বীহুল মানাত্ব ও তাহক্বীকুল মানাত্বের মধ্যে পার্থক্য করে না, ফলে বড়ো ধরনের ভুলে পতিত হয়। [৪]
সুতরাং যদি এ ধরনের লেখা আসে, তাহলে মানুষকে তা পড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে না। কেননা এসব লেখা মানুষের আবেগ-অনুভূতির অনুকূলে থাকে, এবং তা এমন কারও বিরুদ্ধে আলোচনা করে, যাকে মানুষ পছন্দ করে না। ফলে এসব লেখা মানুষ গ্রহণ করে নেয়। এটি প্রকৃত মুসলিমের কাজ নয়। এটা এই শাস্ত্রের গুরুত্ব প্রমাণ করছে, যা আমরা শীঘ্রই পড়া শুরু করব।