Tuesday, 17 September 2019

কুরআন তিলাওয়াতে উদ্দেশ্যে ওযু করা হলে সে ওযু দ্বারা কি ফরয সালাত আদায় করা বৈধ হবে?


উত্তর:
কুরআন তিলাওয়াত বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে ওযু করা হলে উক্ত ওযু দ্বারা ফরয, সুন্নত, নফল ইত্যাদি সালাত আদায় করা বৈধ। কেননা, সালাতের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করা শর্ত। আর এখানে তা বিদ্যমান রয়েছে।
সুতরাং কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য কৃত ওযু দ্বারা সালাত আদায় করতে কোনো বাধা নেই। আল হামদুলিল্লাহ।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

বিয়েতে কাজি (ম্যারেজ রেজিস্ট্রার) এর উপস্থিতি কি জরুরি?


▬▬▬◄❖►▬▬▬
প্রশ্ন: আমি এক জায়াগায় পড়েছিলাম যে, “বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে কাজি উপস্থিত থাকা জরুরি নয়। তার কাজটা অন্য কেউ করলেও চলে।” এ কথাটা কি সঠিক?
উত্তর:
বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কাজি তথা ম্যারেজ রেজিস্ট্রার এর উপস্থিতি জরুরি নয়-এ কথা ঠিক। বরং বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি, দেনমোহর নির্ধারণ ও দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) এর মাধ্যমে আকদ সম্পন্ন হলেই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে পড়ানোর যোগ্যতা সম্পন্ন যে কোনও মুসলিম তা করতে পারে।
তবে বর্তমান যুগে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল রোধে কাজির মাধ্যমে সরকারীভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর প্রদান:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

ফেরেশতা ও জিনের মধ্যে পার্থক্য কি? ইবলিস শয়তান কি ফেরেশতা ছিল?


▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
প্রশ্ন: জিন এবং ফেরেশতার মধ্যে পার্থক্য কি? কেউ কেউ বলে থাকে যে, ইবলিস শয়তান জিন ছিল; ফেরেশতা নয়। এটা কতটুকু সত্য?
উত্তর:
ফেরেশতা ও জিনের মাঝে অনেক দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। সেগুলোর মধ্যে মৌলিক চারটি পার্থক্য উপস্থাপন করা হল:
1⃣ ১ম পার্থক্য: ফেরেশতাগণ সৃষ্টি হয়েছে নূর বা আলো থেকে। আর জিন সৃষ্টির হয়েছে আগুন থেকে।
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خُلِقَتِ المَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ»
"ফিরিশতাদেরকে জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। [অর্থাৎ মাটি থেকে]।" মুসলিম)
ইবলিস শয়তান ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে বলেছে:
قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ ۖ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ
“সে (ইবলিস) বলল: আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।”
2⃣ ২য়: ফেরেশতাগণ কখনো আল্লাহর আনুগত্য করেন। তারা কখনও তাঁর অবাধ্যতা করেন না। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন:
لَّا يَعْصُونَ اللَّـهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
“তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।” (সূরা আত তাহরীম: ৬)
পক্ষান্তরে জিন জাতির মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার আর কিছু আছে কাফের। কিছু আছে নেককার এবং কিছু আছে পাপিষ্ঠ -যেমন রয়েছে মানুষের মধ্যে।
জিনদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন: (জিনরা বলেছিল)
وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَـٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا - وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا
“আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে। আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।” সূরা জিন: ১৪ ও ১৫)
ফেরেশতাগণ মানুষকে সর্বদা ভালো কাজের আদেশ করেন; কখনও খারাপ কাজের আদেশ করেন না। পক্ষান্তরে ভালো ও সৎ জিনরা মানুষকে ভালো কাজের আর খারাপ জিনরা পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের নির্দেশ দেয়।
3⃣ ৩য়: ফেরেশতাদের মধ্যে জৈবিক চাহিদা নাই। পক্ষান্তরে জিনদের মাঝে জৈবিক চাহিদা আছে।
4⃣ ৪র্থ: ফেরেশতা ও জিন উভয়েই বিভিন্ন আকার-আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম কিন্তু ফেরেশতারা কখনও খারাপ ও ভয়ঙ্কর জিনিসের রূপ ধারণ করেন না বরং তারা কখনও কখনও সুন্দর ও ভালো জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষের সামনে হাজির হয়। যেমন, বিখ্যাত হাদিসে জিবরাঈল। জিবরাঈল ফেরেশতা একজন সুদর্শন যুবকের আকৃতিতে দ্বীন ইসলাম শিখানোর জন্য সাহাবীদের সামনে উপস্থিত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কতিপয় প্রশ্নের মাধ্যমে তাদেরকে দ্বীন শিখিয়েছেন।
পক্ষান্তরে জিনরা ভালো-মন্দ উভয় জিনিসের আকার ধারণ করে। খারাপ জিনগুলো কখনও কখনো ভয়ঙ্কর ও নোংরা জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষকে ভয় দেখায়।
 ইবলিস শয়তান কি জিন ছিল না কি ফেরেশতা ছিল?
এর উত্তরে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীটি যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ
“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলিস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল।”
(সূরা কাহফ: ৫০)
আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
fb id: AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

নির্যাতনে মৃত ব্যক্তির শহিদি মর্যাদা লাভ, অন্যায়ভাবে হত্যা করার ভয়াবহ পরিণতি এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম হত্যাকাণ্ড


▬▬▬◄❖►▬▬▬
প্রশ্ন: কোনও ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করে তাহলে সে কি শহিদ হিসেবে গণ্য হবে? অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার ভয়াবহতা কতটুকু? পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কে হত্যাকাণ্ডের সূচনা করেছিলো এবং তার পরিণতি কী হবে?
উত্তর:
নিন্মে উপরোক্ত প্রশ্নসমূহের সংক্ষেপে উত্তর প্রদান করা হল: و بالله التوفيق
🌀 ক. কোনও ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করে তাহলে সে কি শহিদ হিসেবে গণ্য হবে?
হ্যাঁ, যে ব্যক্তি বিনা অপরাধে অন্যায়ভাবে নির্যাতিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে সে আখিরাতে আল্লাহর নিকট শহিদি মর্যাদা লাভ করবে। কেননা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ : صَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى " أُحُدٍ " وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرَجَفَ بِهِمْ ، فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ ، قَالَ : (اثْبُتْ أُحُدُ ، فَمَا عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ ، أَوْ صِدِّيقٌ ، أَوْ شَهِيدَان- رواه البخاري
আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম আবু বকর রা. উমর রা. ও উসমান রা. সহকারে ওহুদ পাহাড়ে উঠলে তা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। তখন তিনি পাহাড়ের গায়ে পদাঘাত করে বললেন:
“হে ওহুদ, তুমি স্থির হও। কারণ তোমার উপরে আছে একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং দু জন শহিদ।” (সহিহ বুখারী হা/ ৩৪৮৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম আল্লাহর ওহির মারফতে অগ্রিম ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন যে, সে দিন ওহুদ পাহাড়ে তাঁর সাথে থাকা তিন জন অতি সম্মানিত সাহাবীর মধ্যে দু জন শহিদ হবেন।
ইতিহাস সাক্ষী, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সালাম এর ভবিষ্যতবাণী সত্যে পরিণত হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর তিরোধানের পর মুসলিম জাহানের ২য় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রা. ফজর সালাতে ইমামতি করা অবস্থায় আবু লুলু নামক এক অগ্নিপূজক ঘাতক কর্তৃক পেছন থেকে অতর্কিত বর্শাঘাতে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। আর ৩য় খলিফা উসমান বিন আফফান রা. তাঁর খিলাফতকালে একদল খারেজী বিদ্রোহী জঙ্গিদের হাতে মাজলুম অবস্থায় শাহাদত বরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আমীন।

জিন ও শয়তান: পরিচয়, প্রকারভেদ ও পার্থক্য




▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: জিন ও শয়তান কি একই না কি তাদের মাঝে পার্থক্য আছে?
উত্তর:
নিন্মে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শয়তানের পরিচয়, প্রকারভেদ এবং জিন ও শয়তানের মাঝে পার্থক্য তুলে ধরা হল:
🌀 শয়তান কাকে বলে?
শয়তান বলতে কী বুঝায় সে ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্য তুলে ধরা হল:
◈ বিশিষ্ট ভাষাবিদ, ফিকাহ বিদ ও হাদিস বিদ আবু উবাইদ কাসেম বিন সাল্লাম [জন্ম: ১৫৭ হি:-২২৪ হি:] বলেন:
الشيطان كل عات متمرد من إنس, أو جن
“প্রত্যেক অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘণকারীকে শয়তান বলা হয়।” (বাহরুল উলুম লিস সামারকান্দি ১/২৭৭)
◈ আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক [জন্ম ৮৫ হি:-মৃত্যু: ১৫১ হি;] বলেন:
إنما سمي شيطاناً لأنه شطن عن أمر ربه، والشطون البعيد النازح
“শয়তানকে এই জন্যই শয়তান বলা হয় যে, সে আল্লাহর নির্দেশ পালন থেকে দূরে থাকে। কেননা আরবিতে الشطون-শাতূন শব্দের অর্থ হল, দূরে অবস্থানকারী ও পলাতক।” [আয যীনাহ ফিল কালিমাতুল ইসলামিয়্যাতিল আরাবিয়াহ ২/১৭৯]
◈ কোন কোনো আলেম বলেন: যে নিজে আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং নানা অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত থাকার পাশাপাশি অন্যকে আল্লাহর আনুগত্য করতে বাধা দেয় এবং দ্বীন ও কল্যাণের পথ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে তাকেই ইসলামের পরিভাষায় শয়তান বলা হয়-চাই সে জিনের মধ্য থেকে হোক অথবা মানুষের মধ্য থেকে হোক।
🌀 শয়তান দু প্রকার। যথা:

ইসলামের দৃষ্টিতে হিজড়াদের সাথে মেলামেশা, লেনদেন, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদির বিধান


▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: হিজড়াদের সংগে মেলামেশা, খাওয়া-দাওয়া করা যাবে কি?
এবং তাদের কাছে টাকা ধার নিয়ে হালাল ব্যবসা করা যাবে কি?
উত্তর:
প্রথমত: আমাদের জানা আবশ্যক যে, একজন হিজড়া এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মৌলিক কোন পার্থক্য নাই যৌন সংক্রান্ত তারতম্য এবং এ বিষয় সংক্রান্ত কিছু বিধিবিধান ছাড়া। তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান-কুফরি, আল্লাহর আনুগত্য-নাফরমানি, ইবাদত-বন্দেগী, ইসলামের বিধিবিধান পালন এবং সামাজিক সম্মান-মর্যাদার ক্ষেত্রে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতই। তারাও ইসলাম, ঈমান, তাকওয়া-পরহেযগারিতা, হালাল-হারাম ইত্যাদি বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশিত। তারা যদি নেকির কাজ করে তাহলে আখিরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার প্রাপ্ত হবে এবং যদি কোন অন্যায় করে আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য হল, হিজড়াদেরকে আমাদের সমাজে ভিন্ন চোখে দেখা হয় এবং সামাজিকভাবে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয় না। যার কারণে তারাও জীবন-জীবিকার তাগিদে এমন কিছু কাজ করে যা অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়-জুলুম এবং অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতকর।
সুতরাং তাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে, তাদেরকে সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে এবং তাদের প্রতি সব ধরণের বৈষম্য দূর করতে হবে। তবে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকাও জরুরি যে, বর্তমানে হিজড়া হিসেবে পরিচিত কিছু মানুষ প্রকৃত হিজড়া নয় বরং তারা কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে হিজড়া বেশ ধারণ করে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে আবার কিছু মানুষকে দুষ্কৃতিকারীরা বাধ্য করে হিজড়া বানিয়ে রেখেছে বিশেষ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।
যাহোক, যারা সৃষ্টিগতভাবে প্রকৃতই হিজড়া ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের সাথে সাধারণ মেলামেশা, উঠবস, লেনদেন, খাওয়া- দাওয়া করতে কোন আপত্তি নেই এবং তাদের নিকট টাকা ধার নিয়ে হালাল ব্যবসা করতেও কোন বাধা নেই। আল্লাহু আলাম।
http://bit.ly/2kgnrt2
আরও পড়ুন:
হিজড়াদের অশালীন আচরণের ক্ষেত্রে করণীয় এবং তাদেরকে দান করার বিধান
http://bit.ly/2kLrlKM

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

হিজড়াদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য এবং তাদের পক্ষ থেকে অন্যায় আচরণের শিকার হলে করণীয়


▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: বর্তমানে আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ হিজড়া দেখা যায়। এরা ট্রেনে চলাচলের সময় যাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে সমস্যা করে থাকে এবং অনেক সময় শরীরেও হাত দিয়ে দেয়। এর জন্য কী আমাদের গুনাহ হবে? এদের কবল থেকে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করব?
হিজড়াদের প্রতি আমাদের কী দায়িত্ব-কতর্ব্য আছে দয়া করে জানাবেন।
উত্তর:
মনে রাখতে হবে, হিজড়ারা আর দশজন মানুষের মতই মানুষ-আশরাফুল মাখলুকাত-সৃষ্টির সেরা জীব। তারাও আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান, সৎকর্ম, ইবাদত-বন্দেগি ও হালাল-হারাম মেনে চলার ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশপ্রাপ্ত। কারণ আল্লাহ তাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। তারা আল্লাহর বিধান পালন করলে যেভাবে সওয়াব অর্জন করবে তেমনি আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করলে গুনাহগার হবে।
অত:এব তারা যদি কারো উপর জুলুম-অবিচার করে বা কারো সাথে অন্যায় আচরণ করে তাহলে তাদেরকে আখিরাতে আল্লাহর কাঠগড়ায় বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। (আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমীন)
🌀 হিজড়া এবং আমাদের সামাজিক বাস্তবতা:
দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে হিজড়ারা মারাত্মক অবহেলা, অনাদর ও বৈষম্যের শিকার। তারা অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে জ্ঞানার্জন ও পড়ালেখার সুযোগ পায় না। ইসলাম শিক্ষার সুযোগ পায় না। সামাজিক মর্যাদা পায় না। মানুষ তাদেরকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার কারণে তারা মনে কষ্ট পায়। মানুষের আচার-আচরণে বৈষম্যের শিকার হয়। এ সব কারণে তারা তারা পরিবার ও সমাজ থেকে দূরে সরে যায়। ফলশ্রুতিতে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মানুষে তাদেরকে একত্রিত করে সমাজে তাদের মাধ্যমে নানা অপরাধ মূলক কার্যক্রম করে থাকে।
🌀 হিজড়াদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য:
তারা ইসলামের দাওয়াত পাওয়ার হকদার। তাদের মধ্যে বিপথগামীদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। তাদেরকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে সমাজে অন্যান্য মানুষের মতই সুন্দরভাবে জীবনযাপনের সুযোগ দিতে হবে। কোনোভাবেই তাদের প্রতিপন্ন করা যাবে না। সর্বোপরি হিজড়াদের প্রতি সর্বস্তরের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
যা হোক, রাস্তা-ঘাট, বাস, ট্রেন, লঞ্চ ইত্যাদিতে চলার সময় কখনো যদি তাদের পক্ষ থেকে অনাকাঙ্খীতভাবে খারাপ আচরণের সম্মুখীন হতে হয় তাহলে যথাসাধ্য প্রতিবাদ করতে হবে, তা সম্ভব না হলে সাধ্যানুযায়ী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে তৎসঙ্গে সম্ভব হলে পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরণের খারাপি ও অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন। আমীন
http://bit.ly/2lQBoOQ
আরও পড়ুন:
👇👇👇
- ইসলামের দৃষ্টিতে হিজড়াদের সাথে মেলামেশা, লেনদেন, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদির বিধান
http://bit.ly/2kgnrt2
- হিজড়াদের অশালীন আচরণের ক্ষেত্রে করণীয় এবং তাদেরকে দান করার বিধান
http://bit.ly/2kLrlKM
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

হঠাৎ মৃত্যু: ভালো না কি খারাপ?


▬▬▬◄◉►▬▬▬
প্রশ্ন: একজন মুসলিমের জন্য হঠাৎ মৃত্যু ভালো না কি খারাপ?
উত্তর:
হঠাৎ মৃত্যু ভালো ও মন্দ উভয়টাই হতে পারে। তা নির্ভর করছে ব্যক্তির অবস্থার উপরে।
➤ সে যদি দ্বীনদার, সৎকর্মশীল ও তাকওয়াবান হয় তাহলে যে অবস্থায়ই মৃত্যু হোক না এটি তার জন্য কল্যাণকর। বরং হঠাৎ মৃত্যু (যেমন: দুর্ঘটনা বশত: মৃত্যু) তার জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। কারণ এতে তাকে মৃত্যুর যন্ত্রণা ও কষ্ট পোহাতে হল না, রোগ-ব্যাধিতে পড়ে বিছানায় কাতরাতে হল না, অবস্থা নাজেহাল হল না, কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হল না। এতে আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, গুনাহ মোচন হয় এবং দুনিয়ার সকল কষ্ট-ক্লেশকে বিদায় জানিয়ে সে রবের সন্তুষ্টি ও জান্নাতের দিকে এগিয়ে যায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا،
“মুমিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করে এখন সে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পায়।” (সুনানে নাসাঈ, অধ্যায়: জানাযা, অনুচ্ছেদ: মৃত্যুতে মুমিনের নিষ্কৃতি প্রাপ্তি. হা/১৯৩০-সহিহ)
➤ পক্ষান্তরে সে যদি আল্লাহর নাফরমান ও পাপিষ্ঠ হয় তাহলে যে অবস্থায় মৃত্যু হোক কেন তা তার জন্য মহা বিপদের কারণ। বিশেষ করে হঠাৎ মৃত্যুর কারণে সে পাপাচার থেকে তওবা করার সুযোগ পেলো না, নিজের অবস্থা সংশোধন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল, মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারলো না এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ক্রোধ ও আযাবের দিকে ধাবিত হল।
আয়েশা রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত আছে তারা বলেন:
أسف على الفاجر وراحة للمؤمن
“(হঠাৎ মৃত্যু) পাপীর জন্য আফসোস আর মুমিনের জন্য নিষ্কৃতির কারণ।” (মুসাননাফে ইবনে আবি শায়বা ৩/৩৭০ ও বায়হাকী ৩/৩৭৯)
উল্লেখ্য যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হঠাৎ মৃত্যু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন মর্মে বর্ণিত হাদিসের সনদ সহিহ নয়।
ফিরোযাবাদি রহ. বলেন: “এ বিষয়ে কোন সহিহ হাদিস নেই।” (সাফারুস সাআদাহ, পৃষ্ঠা নং ৩৫৩)
উল্লেখ্য যে, হঠাৎ মৃত্যু কিয়ামতের একটি আলামত। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
حديث أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي -صلى الله عليه وسلم- قال : (إن من أمارات الساعة أن يظهر موت الفجأة)، رواه الطبراني وحسّنه الألباني.
আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“কিয়ামতের একটি আলামত হল, ‘হঠাৎ মৃত্যু’ প্রকাশ পাওয়া।” (ত্বাবারানী, শাইখ আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) আ্ল্লাহু আলাম।
পরিশেষে আল্লাহর নিকট দুআ করি, তিনি যেন, আমাদেরকে এমন ঈমান ও আমলের উপর মৃত্যু দান করেন যা দ্বারা আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জন করতে পারি। নিশ্চয় তিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় ক্ষমাশীল।
▬▬▬◄◉►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

পাপ থেকে বাঁচার ১০ উপায়: যা সকল মুসলিমের জানা আবশ্যক


▬▬▬◄◉►▬▬▬
প্রশ্ন: যখন মনের মধ্যে পাপ করার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হয় তখন তা দমন করার জন্য কী করণীয়?
উত্তর:
মানুষ সৃষ্টিগতভাবে পাপ প্রবণ। শয়তান ও কু প্রবৃত্তি তাকে প্রায়ই পাপাচার, অন্যায় ও আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজের দিকে তাড়িত করে। সব মানুষের মধ্যেই এমন পাপের মনোবৃত্তি জাগ্রত হয়। কিন্তু সফল তো সে ব্যক্তি যে সুযোগ থাকার পরও আল্লাহর আযাবের ভয়ে পাপ ও অন্যায় থেকে আত্ম সংবরণ করে আর হতভাগ্য ও ধ্বংস প্রাপ্ত তো সে ব্যক্তি যে শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে কিংবা কামনা-বাসনার ডাকে সাড়া দিয়ে পাপ-পঙ্কিলতার অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا - وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
"যে নিজের আত্মাকে (পাপ-পঙ্কিলতা থেকে) পবিত্র করে সেই সফল হয় আর যে তাকে কলুষিত করে ধ্বংস হয়।" (সূরা শামস: ও ১০)
যা হোক যখন অন্তরে অন্যায় ও পাপকাজের চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তখন কী করণীয় সে ব্যাপারে কিছু আইডিয়া পেশ করা হল। এগুলো থেকে এক বা একাধিক আইডিয়া কাজে লাগালে আশা করা যায় যে, মহান আল্লাহ পাপ পঙ্কিলতায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাকে সহ প্রতিটি মুসলিমকে আল্লাহর নাফরমানী ও পাপাচার থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
১) মনে পাপের চিন্তা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ “বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি” পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা এ মর্মে বলেন:
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّـهِ ۚ
"আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো।" (সূরা আ'রাফ: ২০০)
২) মনে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করা। অর্থাৎ এই চিন্তা করা যে, আল্লাহর অবাধ্যতা করলে তিনি ক্রোধান্বিত হবেন এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।
আমাদের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয় যে, পৃথিবীর কোনও মানুষ না দেখলেও আল্লাহর চোখকে কোনোভাবেই ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়। তিনি অবশ্যই বান্দার গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছু দেখেন এবং প্রতিটি কর্ম সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
তাছাড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত আমাদের কাঁধের ফেরেশতা দ্বয় আমাদের প্রতিটি কর্ম দিনরাত অবিরামভাবে লিখে চলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ كِرَامًا كَاتِبِينَ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
“অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর।" (সূর ইনফিতার: ১০, ১১ ও ১২)

শালী-দুলাভাই, দেবর-ভাবী, বেয়াই-বেয়াইন ইত্যাদির মাঝে পারস্পারিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও পর্দা


▬▬▬◄◉►▬▬▬
প্রশ্ন: আমি জানি, আমার ছোট বোনের স্বামী আমার জন্য নন মাহরাম। তার সাথে আমার মেসেঞ্জারে কথা বলা জায়েজ আছে কি? তার সাথে কথা না বলার কারণে সে আমার বোনের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চায় এবং কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এটা কি ঠিক? এ ক্ষেত্রে আমার কী করণীয়?
উত্তর:
শালী-দুলাভাই, দেবর-ভাবী, বেয়াই-বেয়াইন ইত্যাদি শ্বশুর গোষ্ঠির নন মহরাম নিকটাত্মীয়কে হাদিসের ভাষায় ‘মৃত্যু’ সমতুল্য বলা হয়েছে। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ ‏"‏ الْحَمْوُ الْمَوْتُ ‏"‏
উকবা ইবনে আমির রা. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাবধান! মহিলাদের সাথে তোমরা কেউ অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করবে না।
আনসারদের এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, শ্বশুর গোষ্ঠির নিকটাত্মীয় (যেমন: দেবর-ভাবী, শালী-দুলাভাই, বেয়ায়-বেয়াইন ইত্যাদি ব্যক্তিগণ যারা পরষ্পরের জন্য মাহরাম নয়) সম্পর্কে আপনার মত কি?
তিনি বললেন: “সে তো মৃত্যু (সমতুল্য)।”
(বুখারী ও মুসলিম। সুনান আত তিরমিজী [তাহকীক কৃত] হাদিস নম্বর: [1171] অধ্যায়ঃ ১০/ শিশুর দুধ পান (كتاب الرضاع) পরিচ্ছদ: ১৬. যার স্বামী অনুপস্থিত তার সাথে দেখা করা নিষেধ)
ইমাম নওবী রাহ. বলেন:
فمعناه: أن الخوف منه أكثر من غيره، والشر يُتوقع منه والفتنة أكثر لتمكُّنه من الوصول إلى المرأة والخلوة من غير أن يُنكَر عليه بخلاف الأجنبي
(স্বামীর নন মাহরাম নিকটাত্মীয়কে ‘মৃত্যু সমতুল্য’ বলার) অর্থ হল: অন্যদের তুলনায় তার ব্যাপারে ভয় বেশি। তার মাধ্যমে ক্ষতি ও ফেতনার সম্ভাবনা অধিক। কারণে সে বিনা বাদ-প্রতিবাদে যেভাবে একজন নারীর কাছে পৌঁছুতে পারে এবং একাকী তার কাছে যেতে সক্ষম হয় বাইরের অন্য কারো দ্বারা তা সম্ভব নয়।” (শরহে মুসলিম-ইমাম নওবী রহ.)
সুতরাং এ সকল নন মাহরাম নিকটাত্মীয়দের মাঝে পর্দা বিহীনভাবে দেখা-সাক্ষাৎ, অবাধে উঠাবসা, হাসি-কৌতুক, দুষ্টুমি, নির্জনে বসে গল্প করা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোন, মেসেঞ্জার বা সরাসরি কথা বলা বৈধ নয়। প্রয়োজনে কথা বললেও কোমল ও আকর্ষণীয় কণ্ঠ পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
“যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না। ফলে কুবাসনা করবে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। আর তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।”(সূরা আহযাব: ৩২)
আপনি তার সাথে মেসেঞ্জারে কথা না বলার কারণে যদি আপনার বোন (তার স্ত্রী) এর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চায় বা তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় তাহলে এটা নি:সন্দেহে আল্লাহর বিধান অমান্য করার শামিল। এতে সে দু দিক থেকে গুনাহগার হবে। যথা:
এক. বিনা প্রয়োজনে নন মাহরাম মেয়ের সাথে কথা বলা।
দুই. হালাল স্ত্রীর সাথে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কথা বন্ধ করা বা তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদের হুমকি দেয়া।
এগুলো স্পষ্ট ফাসেকি কাজ। সুতরাং এমন ব্যক্তির শরিয়া বিরোধী দাবী পূরণ করে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার সুযোগ নাই। অন্যের কারণে নিজে গুনাহগার হতে যাবেন না। বরং সে যদি আপনার সাথে ফোন বা মেসেঞ্জারে কথা বলার জন্য জোরাজোরি করতে চায় তাহলে বিষয়টি আপনার বাবা-মা, পরিবার বা যার মাধ্যমে সম্ভব তাকে জানিয়ে প্রতিকার করা উচিৎ।
আল্লাহ হেফাজত করুন। আমীন।
▬▬▬◄◉►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল, সৌদি আরব

Sunday, 15 September 2019

জিহাদ বিষয়ক ‘ইলম কাদের থেকে নিবেন? [খারিজীগুরু মাক্বদিসী’র মূর্খতা প্রকটন]


·
সৌদি ফতোয়া বোর্ড ও সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য এবং কিং সউদ ইউনিভার্সিটির অনুষদ সদস্য, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, আল-উসূলী, ড. সা‘দ বিন নাসির আশ-শিসরী (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৮৭ হি.] বলেছেন—
❝এখন আমার কাছে এই লেখকের প্রসঙ্গ এসেছে। যার কিছু গ্রন্থের নাম—সিলসিলাতু ইয়া সাহিবাইস সিযন (‘হে কারাগারের সঙ্গীদ্বয়’ সিরিজ), আল-‘ইবাদাহ মা‘নাহা সিফাতুহা (ইবাদতের বৈশিষ্ট্যই তার মর্মার্থ), তাম্বীহুল গাফিলাত (গাফিল নারীদের সতর্কীকরণ) প্রভৃতি। এটি একজন ‘আম্মীর কথা। মাক্বদিসী একজন ‘আম্মী (লেইম্যান, সোজা বাংলায় সাধারণ আম পাবলিক)। সে দলিলগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। সে কুরআনের আয়াতকে তার উদ্দিষ্ট অর্থ থেকে সরিয়ে দিয়ে অপাত্রে প্রয়োগ করে। আবূ মুহাম্মাদ আল-মাক্বদিসী নামের এই লোক উসূলুল ফিক্বহ (ফিক্বহের মূলনীতি) পড়েনি। এছাড়া তার বুঝের মধ্যেও গোলমাল আছে।
যখন তুমি একটি ব্যাপকার্থবোধক (আম) দলিল নিয়ে এসে তা দিয়ে ফায়সালা দিবে, আর ওই দলিলকে খাসকারী দলিলসমূহের দিকে লক্ষ করবে না, তখন তুমি বড়ো ধরনের ভুলের মধ্যে পতিত হবে। আমি তোমাদের কাছে একটি ফিক্বহী উপমা উপস্থাপন করব, এতে করে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ “তালাকপ্রাপ্ত নারীরা তিন হায়েজ (মাস) পর্যন্ত ইদ্দত [১] পালন করবে।” [২] আয়াত সুস্পষ্ট।
এই, তোমার নাম কী? [ছাত্র নিজের নাম বলছেন] হ্যাঁ? সালিহ! আচ্ছা, সালিহ কোনো মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিল এবং বিয়ের জন্য নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করল। পরবর্তীতে তার সাথে ফোনে কথা বলার সময় দেখল, ওই মেয়ের কিছু সমস্যা আছে। ফলে সে তাকে তালাক দিয়ে দিল। এখন এই মেয়ের ইদ্দত কতদিন? তিন হায়েজ, তাইনা?
আসলে তোমরা তো দলিল বোঝো না। তোমাদের কাছে সম্পূর্ণ দলিল নেই। মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا “হে ইমানদারগণ, যদি তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই (অর্থাৎ সহবাস করার পূর্বেই) তালাক দিয়ে দাও, তাহলে তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই, যা তোমরা গণনা করে থাক।” [৩]
তাহলে তোমরা কীভাবে বলছ যে, সালিহ যে মেয়েকে তালাক দিয়েছে, তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে?! কারণ তোমরা এক চোখ নষ্ট হওয়া কানার মতো। তোমরা একটি ব্যাপকার্থবোধক দলিল নিয়ে এসে আমভাবে বিধান দিয়ে দিচ্ছ, যদিও ওই আম দলিলকে খাসকারী দলিলসমূহ তোমাদের বোধগম্য হয়নি। এর দৃষ্টান্ত হলো—এই নিবন্ধ, যা এমন ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছে, যার দলিল বোঝার মতো সক্ষমতা নেই, এবং যে তাখরীজুল মানাত্ব, তানক্বীহুল মানাত্ব ও তাহক্বীকুল মানাত্বের মধ্যে পার্থক্য করে না, ফলে বড়ো ধরনের ভুলে পতিত হয়। [৪]
সুতরাং যদি এ ধরনের লেখা আসে, তাহলে মানুষকে তা পড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে না। কেননা এসব লেখা মানুষের আবেগ-অনুভূতির অনুকূলে থাকে, এবং তা এমন কারও বিরুদ্ধে আলোচনা করে, যাকে মানুষ পছন্দ করে না। ফলে এসব লেখা মানুষ গ্রহণ করে নেয়। এটি প্রকৃত মুসলিমের কাজ নয়। এটা এই শাস্ত্রের গুরুত্ব প্রমাণ করছে, যা আমরা শীঘ্রই পড়া শুরু করব।

Tuesday, 10 September 2019

মহিলাদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার শার‘ঈ নীতিমালা


আলজেরিয়ার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ড. মুহাম্মাদ ‘আলী ফারকূস (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৭৪ হি./১৯৫৪ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—
প্রশ্ন: “বাজারে যাওয়ার সময় মহিলার সাথে কি মাহরাম থাকা শর্ত? জাযাকুমুল্লাহু খাইরা।”
উত্তর: ❝যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ’র জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ, এবং দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার পরিজন, সঙ্গিবর্গ ও কেয়ামত অবধি আসতে থাকা তাঁর ভ্রাতৃমণ্ডলীর ওপর। অতঃপর:
যদি মহিলার এমন কোনো প্রয়োজন থাকে, যার ফলে তার বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়—যেমন: চিকিৎসা নেওয়া, বাজারসদাই করা, মসজিদে যাওয়া প্রভৃতি—তাহলে তার দ্বীন পালনের স্বার্থে ও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে বাড়ির বাইরে বের হওয়া জায়েজ। কেননা নাবী ﷺ সাওদাহ বিনতে যাম‘আহর উদ্দেশে বলেছেন, قَدْ أَذِنَ اللهُ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَوَائِجِكُنَّ “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।” [সাহীহ বুখারী, হা/৫২৩৭; সাহীহ মুসলিম, হা/২১৭০]
তবে প্রয়োজনের কারণে বৈধভাবে বাইরে যেতে হলে অবশ্যই তা শরিয়তের একগুচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে পরিবেষ্টিত হতে হবে। নিম্নে মহিলাদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার শার‘ঈ নীতিমালা ধারাবাহিকভাবে আলোকপাত করা হলো।
প্রথমত, মহিলাকে তার অভিভাবক কিংবা তার স্বামীর অনুমতি নিয়ে বের হতে হবে, এবং তার বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে স্বামীর সন্তুষ্টি থাকতে হবে। মূলত উক্ত শর্ত যাবতীয় ভালোকাজে স্বামীর আনুগত্য করার আওতাভুক্ত। যাতে করে তাদের দাম্পত্যজীবন হয় সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ও কলহমুক্ত। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ “পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে ওই বিষয়ের হেফাজত করে, যা আল্লাহ হেফাজত করেছেন।” [সূরাহ নিসা: ৩৪]
নাবী ﷺ বলেছেন, إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا؛ قِيلَ لَهَا: ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الجَنَّةِ شِئْتِ “যদি কোনো মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে খুশি সে দরজা দিয়ে তাতে প্রবেশ করো।” [মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৬১; সাহীহুল জামি‘, হা/৬৬১; সনদ: সাহীহ (তাহক্বীক্ব: আলবানী)]
নাবী ﷺ আরও বলেছেন, إِذَا اسْتَأْذَنَكُمْ نِسَاؤُكُمْ بِاللَّيْلِ إِلَى المَسْجِدِ فَأْذَنُوا لَهُنَّ “তোমাদের স্ত্রীগণ রাত্রিবেলায় তোমাদের কাছে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তোমরা তাদের অনুমতি দাও।” [সাহীহুল বুখারী, হা/৮৬৫; সাহীহ মুসলিম, হা/৪৪২]

আপনি কি মনে করেন, 'ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার?



আপনিও কি বিজাতীয় পরব বা শির্কী ও বিদআতী উৎসবে শরীক হওয়ার নিয়ত করেছেন?
তাহলে পড়ুন,
বহু মুসলমানই বিজাতির শির্কী ঈদ-পরবে (মেলা-উরসে) স্ত্রী-পরিজন বা ছেলে-মেয়ে সহ উপস্থিত হয়ে থাকে এবং সেখানকার নানা মনোরঞ্জনমূলক অনুষ্ঠান দর্শন করে মনের তৃপ্তি অর্জন করে থাকে, সেখানে বিক্রিত জিনিসপত্র খরিদ করে থাকে, মিষ্টান্ন খেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য উপহার এনে থাকে।
অনেক ব্যবসায়ী দোকান দিয়ে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করে থাকে। অনেকে সেখানে হারাম ও শির্কী অনুষ্ঠান দেখতে হাযির হয়। অনেকে সেই মেলার মালিক, সেখানকার জায়গার মালিক, মেলার সভাপতি, সম্পাদক, সদস্য অথবা স্বেচ্ছাসেবক হয়ে থাকে।
অনেকে বিজাতির উৎসবের সময় নতুন পোশাক পরে এবং আরো অন্যান্য সাজ-সজ্জা করে থাকে। উত্তম খানাপিনার ব্যবস্থা করে থাকে।
অনেকে সেই উপলক্ষ্যে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে থাকে এবং ঐ দিনকে ছুটি মেনে থাকে।
অনেক মুসলমান বাড়ির আশেপাশের মেলাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য মেয়ে-জামাইকে খাস দাওয়াত দিয়ে থাকে এবং জামায়ের হাতে মেলা-খরচ দিয়ে মেলা দেখতে ও সেই সাথে শির্কী ও হারাম কাজে সহযোগিতা করে থাকে। মেলাতে না ডাকলে অনেক অভিমানী জামাই আবার গোসসাও করে থাকে।
এইভাবে জেনে না জেনে তওহীদবাদীর ছেলেরা বাতিল ও শির্কের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
পক্ষান্তরে উপর্যুক্ত অভ্যাস রহমানের বান্দাদের নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
ৎوَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًاঃ (৭২) سورة الفرقان
অর্থাৎ, যারা কোন বাতিলে অংশগ্রহণ করে না এবং কোন অসার ক্রিয়াকলাপের সম্মুখীন হলে ভদ্রের মত পার হয়ে যায়। (সূরা ফুরকান ৭২ আয়াত)

সাহাবাদিগকে গালমন্দকারীদের খণ্ডনে সালাফদের মূল্যবান উক্তি


ইসলামের সূত্র ন্যায়পরায়ণ সাহাবিদের সম্বন্ধে যারা কটূক্তি করে ও অপবাদ দেয়, তাদের ব্যাপারে আমাদের বিচক্ষণ সালাফগণ বহু মূল্যবান কথা বলেছেন। কারণ তারা এর ভয়াবহ পরিণাম বুঝতেন এবং এসব অপবাদ যে দ্বীনের মৌলিক বিধানের বিপরীত তাও তারা জানতেন। আমরা এ পর্বে তাদের সেই মূল্যবান উক্তি সমূহের কিছুটা উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ তা’আলা।
১- ইমাম মালিক রাহ. বলেন:
{ إنما هؤلاء اقوام أرادوا القدح في النبي صلى الله عليه وسلم، فلم يمكنهم ذلك، فقدحوا في اصحابه، حتى يقال رجل سوء ولو كان رجلا صالحا لكان أصحابه صالحون }. ( الصارم المسلول ص580 )
‘এরা এমন গোষ্ঠী যারা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুর্নাম করার ইচ্ছা রাখে কিন্তু তা সম্ভবপর না হওয়ায় তারা তাঁর সাহাবীদের দুর্নাম করে ও তাদের অপবাদ দেয় যেন বলা হয় যে, সে মন্দ ছিল। যদি তিনি সৎ ব্যক্তি হতেন, তাহলে তাঁর সাথীরাও সৎ হত’। [আস্ স্বরিম আল মাসলূল, ইবনু তায়মিয়া/৫৮০]
২- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহ. বলেন:
‘যদি কোনও ব্যক্তিকে দেখ সে কোনও সাহাবীর দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করছে, তাহলে তার ইসলামে সন্দেহ আছে’। [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনু কাছীর ৮/১৪২]
৩-আবু যুরআহ আর রাযী রহ. বলেন:
‘যদি কোনও ব্যক্তিকে দেখ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথীদের মধ্যে কারো দোষ বর্ণনা করছে, তাহলে জেনে নিও সে ইসলাম শত্রু নাস্তিক। কারণ আমাদের নিকট রাসূল সত্য এবং আল কুরআন সত্য। আর এই কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর সাহাবাগণ। ( অর্থাৎ তারা ইসলামের সূত্র ও সাক্ষী) ইসলাম শত্রুরা আমাদের সাক্ষীদের অভিযুক্ত করতে চায় যেন কিতাব ও সুন্নাহ বানচাল হয়ে যায়। প্রকৃতার্থে তারাই অভিযুক্ত। তারা হচ্ছে নাস্তিক’। [আল কিফায়া, খতীব বাগদাদী, পৃ: ৯৭]
৪- আবু আব্দুর রাহমান নাসাঈ রাহ. কে আল্লাহর রাসূলের সাহাবী মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
‘ইসলামের উপমা একটি দরজাযুক্ত ঘরের ন্যায়। আর ইসলামের দরজা হচ্ছে সাহাবাগণ। তাই যে সাহাবীকে কষ্ট দেয়, তার উদ্দেশ্য ইসলাম। ঐ ব্যক্তির মত যে দরজা ঠকঠকায় কারণ তার উদ্দেশ্য ঘরে প্রবেশ করা। তিনি বলেন: তাই যে মুয়াবিয়াকে উদ্দেশ্য করে আসলে তার উদ্দেশ্য সাহাবাগণ’। [তাহযিবুল কামাল,১/৩৩৯/ বুগইয়াতুর রাগিব পৃ: ১২৯]

Monday, 9 September 2019

আশুরার কতিপয় বিদ‘আত, যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক


·
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাসজিদে নাবাউয়ী’র সম্মানিত মুদার্রিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
❝আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন। তোমরা জেনে রেখ, আশুরার (মহরমের দশ তারিখের) দিনে রোজা ব্যতীত অন্য কোনো আমল করা শরিয়তসম্মত নয়। সুতরাং আশুরার দিনে রোজা ব্যতীত পালন করার মতো আর কোনো মুস্তাহাব আমল নেই। কিছু লোক আশুরার দিবসকে কেন্দ্র করে বিদ‘আতী ক্রিয়াকলাপ তৈরি করেছে। কেউ কেউ এই দিনকে শোকদিবস হিসেবে গ্রহণ করেছে, যে দিবসে মাতম করে গাল চাপড়ানো হয়, পরনের কাপড় ছেঁড়া হয় এবং জাহেলী যুগের মতো হাঁকডাক করা হয়। এগুলো সত্তাগতভাবেই মন্দকাজ।
তাহলে ওই সকল কাজ কত মন্দ ও কদর্য হতে পারে, যখন সেসবের সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাহাবীদেরকে গালি দেওয়ার মতো অপরাধ এবং উম্মতে মুহাম্মাদের ﷺ সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে অমর্যাদা করার মতো অন্যায় সংযুক্ত হয়?!
অপরদিকে উক্ত দলের বিরোধিতা করে আরেক দল লোক আশুরার দিবসকে উৎসবের দিন বানিয়ে নিয়েছে। তারা এই দিনে করণীয় কিছু আমলের কথা উল্লেখ করে, যেগুলোকে তারা ভালো মনে করে। তার মধ্যে অন্যতম হলো—আশুরার দিনে সুরমা ব্যবহার করা, আশুরার দিবসে গোসল করা, আশুরার দিনে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা করা, এবং এই দিবসকে উৎসবের দিন হিসেবে গ্রহণ করা। এগুলো সবই নবআবিষ্কৃত বিদ‘আতী কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
হাফিয ইবনু রজব এবং তাঁর পূর্বে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুমাল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, রোজা ব্যতীত আশুরার দিবসে পালনীয় অন্যান্য ফজিলতপূর্ণ আমলসমূহের ব্যাপারে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর সবই জাল ও মিথ্যা বর্ণনা; এগুলো রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত নয়।❞
·
তথ্যসূত্র:
https://youtu.be/mjoM7KX_xSE (অডিয়ো ক্লিপ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...