Saturday, 1 July 2017

আমি সালাফী, অমুক সালাফী নয়!



(১) সালাফদের আকিদাহর সাথে সম্পর্কিত করার জন্য নিজেকে “আমি সালাফী” বলা যাবে। তবে “আমি সালাফী হয়ে গেছি”, এমন কথা বলে আত্মপ্রশংসা করার জন্য নয়।
(২) সালাফী নামে ফেইসবুক, অনলাইনে যেই সমস্ত যুবকদের পাওয়া যায়, এরা মূলত হয় কোন সংগঠন, কোন টিভি, সেলেব্রিটি বক্তা অথবা কোন পাবলিকেশানের অনুসারী। এদের প্রত্যেক গ্রুপের অনুসারীরা নিজেদেরকে “দুধে ধোঁয়া সালাফী” বলে দাবী করে এবং অন্য গ্রুপের লোকদেরকে হিজবী, বিদআ’তী বলে আখ্যা দেয়। এইভাবে আওয়াম (সাধারণ মুসলমানদের) আপোষে একজন আরেকজনকে সালাফী বলে পরিচয় দেওয়া বা সালাফী বলে ডাকা এবং অন্যদেরকে বিদআ’তী আখ্যা দেওয়া মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই না।
(৩) সালাফদের আদর্শ জানা উচিত, সালাফদের আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। আমি সালাফী, অমুক সালাফী নয় বলে ঘোষণা করা বর্তমান যুগে যুবকদের মাঝে একটা ব্যাধি এবং ভয়ংকর ফিতনাহ।
(৪) শায়খ সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাউজান হা'ফিজাহুল্লাহ বলেছেন,
"আজকাল এক শ্রেণীর মুসলিম বিশেষ করে যুবকদের মাঝে ইসলামের বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত আবেগ ও অতি উৎসাহ দেখা যায়। অথচ ইসলামের হাকীকত সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান নেই। তাদের মধ্যে আশংকাজনক হারে মানুষকে কাফের, ফাসেক কিংবা বিদআ'তী বলে মন্তব্য করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এসব যুবকের জীবনের অন্যতম ব্রতই যেন কারো ছিদ্রান্বেষণ ও দোষ-ত্রুটি আবিস্কার করা এবং সেগুলো প্রচার করে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া। এটা ফিৎনা ও অকল্যানের আলামত।
আল্লাহ সুবহা-নাহু ওয়া তাআলা'র নিকট দুআ' করি, মুসলিমদের যেন এই অকল্যান থেকে হেফাজত করেন এবং মুসলিম যুবকদের সঠিক পথের দিশা দান করেন। তাদেরকে সালাফে সালেহের নীতি ও পদ্ধতি মতো চলার তাউফীক দান করেন এবং অকল্যানের পথে আহবানকারীদের থেকে যেন তাদের দুরে রাখেন।"
উতসঃ তাকফীর ও তার নীতিমালা, পৃষ্ঠা ১১।
- শায়খ সালিহ আল-ফাউজান, সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ সদস্য, সৌদি আরব। পুস্তিকাটির শেষে আল্লামা বিন বায রাহিমাহুল্লাহর অভিমত এবং বইটির ভূয়সী প্রশংসাও রয়েছে।
(৫) ইমাম আয-যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আহলুল হাদীসের পরিচয় হচ্ছে ইলম ও ইবাদত দ্বারা। কিন্তু বর্তমানে (আহলে হাদীস নাম নিয়ে যা চলছে), তার মাঝে না আছে ইলম, না আছে ইবাদত। বরং (আহলুল হাদীস নামধারীদের মাঝে) মারাত্মক পদস্খলন, ব্যাকরণগত ভুল, বিকৃতির ছড়াছড়ি এবং খুব সামান্যই হিফজ (লক্ষ্য করা যায়)। (বর্তমানে যারা নিজেদের আহলুল হাদীস বলে দাবী করে), তারা যদি কবীরাহ গুনাহতে লিপ্ত না হয় এবং ফরয-ওয়াজিব কাজের ব্যপারে ঘাটতি না করে, তাহলে এটা-ই তাদের জন্য অনেক।” সিয়ার আ’লাম আন-নুবালাঃ ৮/২৯৯।
ইমাম আয-যাহাবী আজ থেকে কয়েকশ বছর পূর্বে তাঁর এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, বর্তমানে যে পূর্বের চাইতে অবস্থার অবনতি হয়েছে, একথা একজন সাধারণ আকল সম্পন্ন লোকেও বুঝতে পারবে।
.
Reference:
(1) Calling Yourself SALAFI By Shaykh Sulayman ar Ruhayli
.
(2) Calling Oneself Salafi - Shaikh Saalih Al-Fawzan
.
(3) Are you a Salafi - Sheikh Saleh Al-Fawzan
https://www.youtube.com/watch?v=ngGBfBWPn7w
.
(4) On Saying Such And Such Is Not Salafee - Sheikh Saleh Al-Fawzan

Courtesy Brother Shahab Babu

Thursday, 22 June 2017

কোথা থেকে এবং কি ভাবে ইসলাম জানবেন?



মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করে এমনিই ছেড়ে দেন নি; বরং তাদের গাইড লাইন স্বরূপ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং নবী-রাসূল প্রেরণ করে সেই বিধান পৌঁছে দিয়েছেন। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যাসহ বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই সহজে বলা যেতে পারে যে, ইসলাম জানার মূল উৎস হচ্ছে আল্লাহর কিতাব আল কুরআন এবং প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর হাদীস, যা তাঁর কথা, কাজ ও সম্মতির সমাহার। আর এ দুটিই হচ্ছে ইসলামী জ্ঞান ও বিধানের মূল উৎস। এছাড়াও সাহাবাগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং কুরআন ও সুন্নার আলোকে উম্মতের মুজতাহিদ উলামাগণের ঐক্যমতও ইসলামী জ্ঞানের অন্যতম উৎস হিসাবে পরিগণিত। তাই ইসলামের প্রকৃত বিধান জানতে হলে এসব উৎস থেকে গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনো নিরাপদ বিকল্প নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, তা জানবেন কিভাবে?
যেহেতু কিতাব এবং সুন্নাহর ভাষা আরবী এমনকি সাহাবা ও বিগত মুজতাদিগণের ভাষাও আরবী তাই কিতাব ও সুন্নাহকে নিজ ভাষায় বুঝাই হচ্ছে প্রকৃত বুঝা। আর এর যোগ্যতা অর্জন করার জন্য অনারবদের একটি দীর্ঘ সময় দিতে হয় এবং বিশেষ একাডেমিক নিয়মে তা শেখার জন্য ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। যারা এমন করার সাহস, সময় ও সুযোগ রাখেন, তাদের সেই নিয়মেই শেখা উচিৎ। আর যারা এমন করার ক্ষমতা রাখেন না, তাদের উদ্দেশ্যে বলবঃ আপনি এখন নিজ ভাষাতেও কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ পড়তে পারেন। তা যদিও আরবী ভাষা শিখে যেভাবে বুঝা যায় সেরকম বুঝা যাবে না; কিন্তু অনেকটাই প্রয়োজন পূরণে সহায়ক হবে। এই ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হচ্ছে, কুরআন, সুন্নাহ কিংবা সালাফদের লেখা অন্যান্য আরবী বইগুলোর অনুবাদ পড়া। তাই আপনার আবশ্যকর্তব্য হচ্ছে, নির্ভযোগ্য ও যোগ্য অনুবাদকের অনুবাদ পড়া, যারতারটা না পড়া। অনুরূপ অনুবাদক ও লেখকের দ্বীনী ধ্যান-ধারনা ও নিয়ম-নীতি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান রাখা। কারণ লেখক যদি বিদআতী হয়, সালাফদের সহীহ আক্বীদা ও মানহাজের অনুসারী না হয়, বিশেষ মতবাদ ও চিন্তাধারার হয়, নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে তার অনুবাদ ও ব্যাখ্যা নিরাপদ বা সঠিক হবে না এটাই স্বাভাবিক। আজকাল কুরআন মজীদের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ অনুবাদ, হাদীসের মুখ্য গ্রন্থগুলোর অনুবাদ এবং বিভিন্ন আরবী বইয়ের অনুবাদ পাওয়া দুঃসাধ্য নয়। তবে পরামর্শ স্বরূপ বলবো, এগুলো নিজ ভাষায় পড়ার সময় অনেক পরিভাষা, শব্দ ও বাক্য নিজে নিজে বুঝা সম্ভবপর নাও হতে পারে। এই কারণে কিছু বিশ্বস্ত ও যোগ্য আলেমের সাথে আপনার সম্পর্ক থাকা জরুরী, যাদের কাছে আপনি স্বশরীরে অথবা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিষয়গুলোর সমাধান জেনে নিতে সক্ষম হবেন।

মনে রাখা উচিৎ, নিজে নিজে বই পড়েই যদি সবকিছু বুঝা যেতো এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানী হওয়া যেত, তাহলে পৃথিবীতে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রয়োজন থাকতো না।

Courtesy Shaykh Abdur Raquib Bukhari Hafizahullah

Wednesday, 21 June 2017

মুসলিম আমীর বা শাসকদের অধিকারঃ



মুসলিম আমীর বা শাসকদের ব্যপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিত?
ইমাম তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যুঃ ৩২১ হিজরী), তার বিখ্যাত আহলে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদা” নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ
“আমীর ও শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে আমরা জায়েয মনে করি না, যদিও তারা যুলুম-অত্যাচার করে। আমরা তাদেরকে অভিশাপ দিব না, এবং তাদের আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিব না। তাদের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যের সাপেক্ষে ফরয, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যচরণের আদেশ দেয়। আমরা তাদের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য দুয়া করব।”
আকীদাহ আত-ত্বাহাবীয়া।

মুসলিম আমীর বা শাসক অত্যাচারী জালেম হলে তাদের ব্যপারে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধঃ
হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এক সময় আমরা অকল্যাণ ও মন্দের মধ্যে (কুফরীর মধ্যে) ডুবে ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদেরকে কল্যাণের (ঈমানের) মধ্যে নিয়ে এসেছেন। এখন আমরা সেই কল্যাণের মধ্যে বহাল আছি। তবে এই কল্যাণের পরে কি আবার অকল্যাণের যুগ আসবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি আবার বললাম, সেই অকল্যানের যুগের পর কি পুনরায় কল্যানের যুগ আসবে? তিনি বললেনঃ হাঁ, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, সেই কল্যানের পর কি আবার অকল্যানের যুগ আসবে? তিনি বললেনঃ আসবে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ “আমার পরে এমন কিছু ইমামের (শাসক) আগমন ঘটবে, তারা আমার প্রদর্শিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাত (জীবন বিধান) গ্রহন করবে না। (অর্থাৎ তারা নিজেদের খোয়াল-খুশী মত চলার পথ আবিষ্কার করে নেবে)। অচিরেই তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক সমাজের নেতৃত্ব নিয়ে দাঁড়াবে যাদের মানব দেহে থাকবে শয়তানের অন্তর”।
আমি (হুজাইফা রাঃ) জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই যুগে উপনীত হই তাহলে আমি কি করব?
তিনি (সাঃ) বললেনঃ “তুমি আমীরের নির্দেশ শোন এবং তার আনুগত্য কর। যদিও সে তোমার পিঠে আঘাত (নির্যাতন) করে এবং তোমার ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেয় তবুও তার কথা শোন এবং তার আনুগত্য কর”।
সহীহ মুসলিমঃ কিতাবুল ইমারাহ (প্রশাসন ও নেতৃত্ব) অধ্যায়, হাদীস নং- ৪৫৫৪।
এই হাদিসে রাসুল সাঃ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেনঃ

Sunday, 18 June 2017

ফিতরার হকদার কারা?



ফিতরা পাবার যোগ্য কারা বা ফিতরার হকদার কোন্ কোন্ প্রকারের লোকেরা ? এ বিষয়ে ইসলামী বিদ্বানগণের মতভেদ রয়েছে।
একদল বিদ্বান মনে করেন: যারা সাধারণ সম্পদের যাকাতের হকদার তারাই ফিতরের যাকাতের (ফিতরার) হকদার। আর তারা হল আট প্রকারের লোক:
১- ফকীর
২- মিসকিন
৩- সাদাকা আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী
৪- যাদের অন্তর ইসলামের পথে আকর্ষণ করা প্রয়োজন
৫-দাস-মুক্তির জন্যে
৬- ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে
৭- আল্লাহর রাস্তায়
৮- মুসাফিরদের সাহায্যার্থে ( সূরা তওবা /৬০]
🔊এই মত পোষণকারীদের দলীল হল : ফিতরের সাদাকাকে অর্থাৎ ফিতরাকে নবীজী যাকাত ও সাদাকা বলেছেন তাই যেটা মালের যাকাতের খাদ হবে, সেটাই ফিতরারও হবে। সাদাকার যেই খাদ আল্লাহ সূরা তওবায় উল্লেখ করেছেন সেই খাদ সাদাকাতুল ফিতরের জন্যও হবে।
অন্য এক দল বিদ্বান মনে করেন : সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা কেবল ফকীর মিসকিনদের হক, অন্যদের নয়।
📖এই মত পোষণকারীদের দলীল হল : ইবনে আব্বাস (রাযি:) এর হাদীস, তিনি বলেন :
আল্লাহর রাসূল ফিতরের যাকাত (ফিতরা) ফরয করেছেন রোজাদারের অশ্লীলতা ও বাজে কথা-বার্তা হতে পবিত্রতা এবং মিসকিনদের আহার স্বরূপ .. ’’ [আবু দাউদ, যাকাতুল ফিতর নং ১৬০৬/ হাদীস হাসান, ইরওয়াউল গালীল নং ৮৪৩]
এই মতকে সমর্থন জানিয়েছেন ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল ক্বাইয়্যূম, শাওকানী, আযীমাবাদী, ইবনু উসাইমীন সহ আরও অনেকে। [ দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ২৫/৭৩,যাদুল মাআদ ২/২২, নায়লুল আউত্বার ৩-৪/৬৫৭, আওনুল মা’বূদ ৫-৬/৩, শারহুল মুমতি ৬/১৮৪]
💰এই মতটিই অধিক সহীহ কারণ :

Saturday, 10 June 2017

ইখোয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসের ব্যপারে আলেমদের ফতোয়াঃ



আমাদের দেশে যেমন “জামাতে ইসলামী”, ঠিক তেমনি মিশরের একটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে “ইখোয়ানুল মুসলিমিন” বা ইংরেজীতে মুসলিম ব্রাদারহুড। তাদের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতা হচ্ছেন হাসান আল-বান্না, সাইয়েদ কুতুব, ইউসুফ কারযাভী, মুহাম্মদ হাসসান এবং অন্যান্যরা। ইখোয়ানুল মুসলিমিনের ব্যপারে আহলে সুন্নাহর আলেমদের ফতোয়াঃ
.
(১) শায়খ আব্দুল আ’জিজ বিন বাজ রাহি’মাহুল্লাহ বলেন, “ইখোয়ানুল মুসলিমীন ও তাবলীগ জামাত ৭২টা বিদআ’তী দলের অন্তর্ভুক্ত, যাদের ব্যপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছেন।”
.
(২) শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরউদ্দিন আল-আলবানী রাহি’মাহুল্লাহ বলেন, “ইখোয়ানুল মুসলিমিনকে আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মনে করা ঠিক নয়, বরং তারা আহলে সুন্নাহর সাথে যুদ্ধ করছে।”
.
(৩) শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন, “ইখওয়ানুল মুসলিমীন হচ্ছে হিজবী একটা দল, যাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতা দখল করা। তারা মানুষকে সঠিক আক্বিদাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য উৎসাহী নয় এবং তারা তাদের অনুসারীদের মাঝে সুন্নী এবং বিদআ’তির মাঝে কোন পার্থক্য করেনা।”
.
(৪) শায়খ মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদী রাহি’মাহুল্লাহকে ফিলিস্থিনে ইখোয়ানুল মুসলিমিনের অংগ সংগঠন “হামাস” সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিলোঃ “দখলকৃত ফিলিস্থিনের ভূমিতে হামাসের ‘ইসলামিক জিহাদ’ ও ‘আন্দোলন’ সম্পর্কে আপনি কি বলেন?”

Friday, 9 June 2017

শিয়া আকীদা তথা ধর্ম বিশ্বাসঃ



১-ইমামাহ বা নেতৃত্বঃ তাদের মতে নেতৃত্ব দলীল দ্বারা সাব্যস্ত হতে হবে। অর্থাৎ পূর্বের নেতা পরের নেতাকে নির্দিষ্টরূপে নির্ধারণ করবেন; তার গুণাগুণ বর্ণনার মাধ্যমে নয়। নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে নেতৃত্বহীন অবস্থায় ছেড়ে মারা যাবেন তা হয় না; বরং তাঁর জন্য কোনো এক ব্যক্তিকে নির্ধারণ করা জরুরি ছিল, যাঁর দিকে পরবর্তী লোকেরা প্রত্যাবর্তন করবে এবং তাঁর প্রতি ভরসা করবে।
তারা এই বিষয়ে বলে থাকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘গদীরে খাম’ দিবসে স্পষ্টই আলীর ইমামত নির্দিষ্ট করে দিয়ে ঘোষণা করেন যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরে ইমাম বা খলীফা হবেন। অবশ্য গদীরে খাম নামক ঘটনায় এমন নির্ধারণের বিষয়টি আহলে সুন্নাতের মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকদের নিকট অস্বীকৃত ও অসাব্যস্ত।
তারা মনে করে, আলী তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইনের নেতৃত নির্ধারণ করেছিলেন। এভাবে অন্য ইমামরাও। তাই প্রত্যেক ইমাম তার পরের ইমামকে নির্ধারণ করবে আর এটা হবে তার অসীয়ত স্বরূপ। তারা তাদের ‘আউস্বিয়া’ (অসিয়তকৃত ব্যক্তিবর্গ) নামে আখ্যায়িত করে থাকে।
২-ইসমত বা ইমামদের নিষ্পাপতায় বিশ্বাস:
তাদের বিশ্বাস যে, তাদের সকল ইমাম ছোট-বড় সকল প্রকার পাপ থেকে পবিত্র এবং নিস্পাপ।
৩-ইলমে লাদুন্নীর আক্বীদাঃ (আধ্যাতিক জ্ঞান)
তাদের প্রত্যেক ইমামকে ইলমে লাদুন্নী তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট থেকে আধ্যাতিক জ্ঞান দেওয়া হয়েছে যা দ্বারা তারা শরীয়ত পরিপূর্ণ করে থাকে। তারা ইলমে লাদুন্নীর অধিকারী, তাদের ও নবীদের মধ্যে এছাড়া কোনো পার্থক্য নেই যে, নবীদের কাছে অহী আসে আর তাদের কাছে অহী হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের শরীয়তের গোপন ভেদ দিয়ে গেছেন, যেন তারা সময়ের দাবী অনুযায়ী সাধারণ লোকদের বর্ণনা দেয়।
৪-ইমামের অলৌকিক শক্তির প্রতি বিশ্বাসঃ
ইমামের হাতে অলৌকিক কিছু প্রকাশ পাওয়া সম্ভব। এসব কে তারা মুজিযা বলে থাকে। যদি কোনো ক্ষেত্রে পূর্বের ইমাম পরের ইমামকে নির্ধারণ না করে থাকে তাহলে এমতাবস্থায় পরের ইমাম অলৌকিকতার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।

Wednesday, 31 May 2017

ইসলামী বিধান জানতে লজ্জা নেই-


🌸=======🍀=======🌻=====🌏
স্ত্রী-সঙ্গম ব্যতীত অন্য পদ্ধতিতে যৌন-স্বাধের সহিত বীর্যপাত করাঃ
যেমন যৌন-স্বাধের সহিত স্ত্রীর সাথে কোলাকুলি, আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করার সময় বীর্যপাত হওয়া। এই ভাবে সকাম হস্তমৈথুন করতঃ বীর্যপাত করা কিংবা যৌনচাহিদার সাথে যৌন (পর্ণ) ছবি সহ ইত্যাদি দেখার ফলে বীর্যপাত করা কিংবা আরো অন্য পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় কামভাবের সাথে বীর্যপাত করা। এসবই রোযা ভঙ্গের কারণ। কেউ এমন করলে তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে, তার উপর তাওবা সহ রোযা কাযা করা জরুরি হবে। কিন্তু তার উপর কাফ্ফারা নেই; কাফ্ফারা কেবল স্ত্রী সহবাসে জরুরি হয়।
হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে,
“সে আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের পানাহার ও যৌনাচার পরিহার করে”। [বুখারী, সাউম অধ্যায়, নং ১৮৯৪, মুসলিম, সিয়াম অধ্যায়, ১১৫১]
তাই রোযার জন্য যেমন পানাহার বর্জন করা জরুরি তেমন যৌনাচার পরিহার করাও জরুরি। আর যে ব্যক্তি যৌনস্বাধের সাথে উক্ত কাজগুলি করে সে, যৌনাচার পরিহার করে না ফলে তার রোযা হয় না।
উপরোক্ত ক্ষেত্রে বীর্যপাত না হয়ে যদি কেবল মযী বের হয়। অর্থাৎ উত্তেজনার সাথে বীর্যস্খলন না হয়ে কেবল যৌনাঙ্গে আঠা জাতীয় পানি বের হয়, যাকে শরীয়ার ভাষায় মযী বলে। তাহলে সঠিক মতানুযায়ী তার রোযা নষ্ট হবে না কিন্তু এর ফলে তার অযু নষ্ট হবে এবং যেই স্থানে তা লাগবে, তা ধৌত করতে হবে। [শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমীন,৬/৩৭৬]

Courtesy Shaykh Abdur Raquib Bukhari Hafizahullah

Tuesday, 30 May 2017

রোযাবস্থায় বীর্যপাত এবং স্বপ্নদোষের বিধান (কেবল প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)



আলহামদুলিল্লাহ্ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদঃ
রামাযান মাসে সাউম পালনকারী ভাইদের পক্ষ থেকে উপরোক্ত বিষয়ে প্রায় প্রায় প্রশ্ন করা হয়। এ সম্পর্কে শরীয়ার সঠিক বিধান না জানা থাকার কারণে অনেকে অনেক রকমের ধারণা করে। কেউ মনে করে তার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে, কেউ বলে রোযা মাকরূহ হয়ে গেছে, কেউ ভাবে তার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে আর কেউ সংশয়ে থাকে। তাই সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়টির শারঈ সমাধান উল্লেখ করার নিয়ত করেছি। আল্লাহই তাওফীকদাতা।
প্রথমতঃ আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে, রোযা/ সাউম হচ্ছে,  আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে ফজর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও যৌনসঙ্গম হতে বিরত থাকা। [ফাতহুল বারী, ৪/১৩২] তাই যৌন সঙ্গম হচ্ছে রোযা ভংগের একটি অন্যতম কারণ।
অতঃপর জানা উচিৎ যে, রোযাবস্থায় বীর্যপাতের দুটি অবস্থা রয়েছে। যথা:
  • (ক) রোযাদার স্বেচ্ছায় স্বয়ং তার বীর্যপাত ঘটায়। অর্থাৎ তার নিজের এখতিয়ারে বীর্যপাত করা হয়।
  • (খ) সে স্বেচ্ছায় বীর্যপাত ঘটায় না। অর্থাৎ তার এখতিয়ারে তা ঘটানো হয় না।
প্রথম অবস্থা আবার কয়েক শেণীতে বিভক্তঃ
১-রোযাবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম করা: স্ত্রী-সঙ্গম বলতে স্ত্রীর যোনীতে লিঙ্গের অগ্রভাগ (মাথা) প্রবেশ করা বুঝায়, তাতে বীর্যপাত হোক বা নাই হোক। স্ত্রীর পায়ু পথে লিঙ্গাগ্র প্রবেশ করানোও এরই অন্তর্ভুক্ত। এটা রোযাদারের এখতিয়ারভুক্ত কাজ। এমন হলে সেই ব্যক্তির রোযা তো নষ্ট হবেই হবে কিন্তু তার সাথে সাথে তার উপর কয়েকটি বিধান অর্পিত হবে। যথা:
  • (ক) তাকে এই পাপ থেকে তাওবা করতে হবে।
  • (খ) এই কাজ ঘটার পর দিনের বাকী সময় রোযাবস্থায় থাকতে হবে
  • (গ) রামাযান পর তাকে সেই রোযা কাযা করতে হবে
  • (ঘ) কাফ্ফারা দিতে হবে।
এই অপরাধের কাফ্ফারা হচ্ছে যথাক্রমেঃ

সিয়াম গাইডঃ


আলহামদুলিল্লাহ্‌ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ আম্মা বাদঃ
১- সিয়াম পালন একটি ফরয ইবাদত যা, প্রত্যেক সাবালক, সুস্থ ও মুকিম ( মুসাফির নয় ) মুসলিমের প্রতি জরুরি । যেহেতু প্রত্যেক ইবাদত কবুলের প্রথম শর্তই হচ্ছে সেই ইবাদতটি খাঁটি ভাবে আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে হওয়া তাই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই সিয়াম ( রোযা) পালন করুন ।
২ - সিয়ামের সময়সীমা হল, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এই সময় যাবতীয় পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও যৌন সঙ্গম থেকে বিরত থাকার নাম সাউম বা রোযা । আর বাকি অঙ্গ যেমন জিহব্বা, চোখ , কান, হাত-পা ইত্যাদিকে যাবতীয় মন্দ বলা, দেখা, শোনা এবং করা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে রোযাকে পূর্ণ করা , রোযার সংরক্ষণ করা এবং সিয়াকে কলুষিত না করা।
৩- ফজর পূর্বে নিয়ত করার মাধ্যমে সাউম শুরু হয়। এই সময় কিছু আহার করা ভাল, যাকে সাহুর বলা হয়। এই আহার মুসলিম ও অমুসলিমের সিয়ামের মাঝে পার্থক্যকারী, যা খাওয়া সুন্নাত জরুরি নয় । তাই রোযা রাখার নিয়ত ছিল কিন্তু যে কোন কারণে সাহুর খেতে পারেনি তার সাউম শুদ্ধ।
৪- চোখের সামনে সূর্য ডুবে গেলে রোযা ভঙ্গ করা তথা ইফতার করার নিয়ম । সূর্য ডুবার সাথে সাথে তাড়াতাড়ি ইফতার করা অর্থাৎ কল্যাণে থাকা। [ মুত্তাফাকুন আলাইহ ] ডাগর খেজুর দ্বারা ইফতারি করা সুন্নাহ, তার অবর্তমানে সাধারণ খেজুর দ্বারা আর তাও না হলে পানি দ্বারা। [ আবু দাউদ তিরমিযী]
৫- স্ত্রী সহবাস, হারাম সহবাস, হস্তমৈথুন, জাগ্রতবস্থায় যৌন চাহিদার সাথে বীর্যপাত, ইচ্ছাকৃত পানাহার, পানাহারের স্থানে স্লাইন-ইঞ্জেকশন গ্রহণ, ইচ্ছাকৃত বমি করা, স্ব ইচ্ছায় অধিক রক্তদান এসব কারণে সিয়াম ভেঙ্গে যায়। [ মুলাখখাস ফিকহি ১৮২-৮৩] স্বপ্ন দোষ, অনিচ্ছা ও ভুলে পানাহার, অনিচ্ছায় বমি করা, অনিচ্ছায় রক্তক্ষরণ এবং সামান্য রক্তদানে সাউম নষ্ট হয় না। 

Sunday, 28 May 2017

রামাযান মাসে মুমিনের দৈনন্দিন কর্মসূচীঃ



আল হামদু লিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ :
রহমতের মাস, বরকতের মাস, কল্যাণের মাস, ক্ষমার মাস, কুরআনের মাস মাহে রামাযান আমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কি রামাযানের এই মহামূল্যবান সময়গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি? আসুন না, আমরা একটি তালিকা তৈরি করি যেন, এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তে নেকী কুড়িয়ে আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারি।
🌠 *ফজর পূর্বে:*
🔹 ১) *আল্লাহর দরবারে তাওবা-ইস্তেগফার ও দুয়া:* কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করে বলেন: "কে আছে আমার কাছে দুআকারী, আমি তার দুআ কবুল করবো"। (মুসলিম)
🔹 ২) *সাহরী ভক্ষণ:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : "সাহরী খাও। কারণ সাহরীতে বরকত আছে"। (বুখারী মুসলিম)
🌅 *ফজর হওয়ার পর:*
🔸 ১) *ফজরের সুন্নত আদায়:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : "ফজরের দুই রাকাআত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা আছে তার থেকে উত্তম"। (মুসলিম )
🔸 ২) *ইকামত পর্যন্ত দুআ ও যিকিরে মশগুল থাকা:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :"আযান ও ইকামতের মাঝে দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না"। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ)
🔸 ৩) *ফজরের নামায আদায়:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :"তারা যদি ইশা ও ফজরের ফযীলত জানতো, তো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত"। (বুখারী ও মুসলিম)
🔸 ৪) *সূর্যোদয় পর্যন্ত সকালে পঠিতব্য দুআ-যিকর ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মসজিদে অবস্থান:* "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর নামাযের পর নিজ স্থানেই সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করতেন"। (মুসলিম )
🔸 ৫) *সূর্যোদয়েরে পর দু রাকাআত নামায:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :"যে ব্যক্তি জামায়াতের সহিত ফজরের নামায পড়লো, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকর করলো, তারপর দুই রাকাআত নামায আদায় করলো, তার জন্য এটা একটি পূর্ণ হজ্জ ও উমরার মত "। (তিরমিযী)
🔸 ৬) *নিজ নিজ কর্মে মনোযোগ দেয়া:* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "নিজ হাতের কর্ম দ্বারা উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাবার নেই"। (বুখারী)
*যোহরের সময়:*
১) জামায়াতের সহিত জহরের নামায আদায়। অতঃপর কিছুক্ষণ কুরআন কিংবা অন্যান্য দীনী বই পাঠ।
২) আসর পর্যন্ত বিশ্রাম, কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ( তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক আছে)।

Thursday, 25 May 2017

ইমাম তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ



তিনি হলেন আবু জা’ফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালামা আল আজদী আত্ তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি ছিলেন হাদীছের হাফেয, ইমাম, ফকীহ, প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ এবং মিশরের হানাফী ফকীহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম। ঐতিহাসিকদের বিশুদ্ধ মতে ২৩৯ হিজরী সালে তিনি মিশরের তাহা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ যেহেতু ইয়ামানের প্রখ্যাত আজদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাই তাকে আজদী বলা হয়। আর তিনি যেহেতু মিশরের তাহা নামক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন, তাই তাঁর জন্মস্থানের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে তাহাবী বলা হয়।
জন্ম ও শৈশব:
তিনি যেহেতু দ্বীনদার ও আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, সে হিসেবে শিশুকাল থেকে তিনি ধর্মীয় পরিবেশে প্রতিপালিত হন। শৈশবকাল থেকেই তার মধ্যে ইলম অর্জনের প্রতি অসাধারণ অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ বিন সালামার নিকট থেকে শাফেঈ ফিক্হ এর মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। সে সময় তাঁর মামা আবু ইবরাহীম আল-মুযানী ইমাম শাফেঈর সবচেয়ে বড় শিষ্য এবং শাফেঈ মাযহাবের সবচেয়ে বিচক্ষণ ফকীহ ছিলেন। তাঁর পরিবারের অন্যরাও শাফেঈ ফিক্হ এর অনুসারী ছিলেন। তাই তিনিও প্রথম জীবনে শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি শাফেঈ মাযহাব পরিত্যাগ করে হানাফী মাযহাবের অনুসারী হয়ে যান।
শিক্ষালাভ:

Thursday, 18 May 2017

দুর্বল ঈমান: আলামত, কারণ ও প্রতিকার


মূল: শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
-------------------------------------------------
☑ ১মত: দুর্বল ঈমানের কতিপয় আলামত
দুর্বল ঈমানের অনেক আলামত রয়েছে। তন্মধ্যে এখানে ১৮টি আলামত পেশ করা হল:
১) পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া:
কিছু মানুষ একই পাপ বারবার করে, কেউ আবার বিভিন্ন প্রকার পাপ করে। পাপ করতে করতে করতে যখন তা অভ্যাসে পরিণত হয় তখন পাপকে আর পাপ বলে মনে হয় না! পাপের কদর্যতা অন্তর থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে মানুষ প্রকাশ্যে পাপ করা শুরু করে বা গোপনে পাপ করার পর মানুষের কাছে তা প্রকাশ করে দেয়!
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
كُلُّ أُمَّتِى مُعَافًى إِلاَّ الْمُجَاهِرِينَ ، وَإِنَّ مِنَ الْمَجَاهرة أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً ، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ ، فَيَقُولَ يَا فُلاَنُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا ، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
“আমার উম্মতের সকলকেই ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঐ সকল লোককে ক্ষমা করা হবে না যারা পাপ করার পর তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে দেয়। অন্যের নিকট প্রকাশ করার একটি দিক হল, কোন ব্যক্তি রাতের আঁধারে কোন গুনাহ করল এবং মহান আল্লাহ তার পাপটা গোপন করে রাখলেন। কিন্তু ভোর হলে সে নিজেই অন্য মানুষের নিকট বলল, হে উমুক, জানো, রাতে আমি এই এই কাজ করেছি। সারা রাত আল্লাহ তার পাপটাকে ঢেকে রেখেছিলেন কিন্তু ভোর হলে নিজেই আল্লাহর ঢেকে রাখা বিষয়টি প্রকাশ করে দিল।” (সহীহু বুখারী) (1)
__________________________
(1) টিকা:
আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত কতিপয় প্রকাশ্য পাপাচারের উদাহরণ পেশ করা হল:
১) প্রকাশ্যে ধূমপান করা।
২) পুরুষদের টাখনুর নিচে ঝুলিয় কাপড় পড়া।
৩) দাড়ি মুণ্ডন করা বা কাটা।
৪) মহিলাদের টাইট-ফিট, পাতলা এবং পুরুষদের মত পোশাক পরিধান করে পরপুরুষের নিকট সৌন্দর্য প্রকাশ করা।
৫) মহিলাদের সুগন্ধি মেখে বাইরে বের হওয়া।
৬) পুরুষদের সোনার আংটি বা রেশমের পোশাক পরিধান করা।
৭) উচ্চ আওয়াজে মিউজিক বাজানো।
৮) পর নারী বা পর পুরুষের সাথে বাইরে বের হওয়া।
৯) পহেলা বৈশাখ, ভালবাসা দিবস, ক্রিসমাস (বড়দিন), ঈদে মীলাদুন্নবী,থার্টি ফাস্ট নাইট,জন্ম দিবস,মৃত্যু দিবস ইত্যাদি পালন করা।
১০) ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সোশাল নেটওয়ার্কে বা ব্লগ ও ওয়েব সাইটে গান-বাদ্য, ফিল্ম, অশ্লীল গল্প ইত্যাদি পোস্ট করা।
১১) বিলবোর্ড বা পোস্টারে বেপর্দা মহিলাদের এ্যাডভার্টাইজ দেয়া।
১২) কবর-মাযারপুজা,তথাকথিত অলি-আউলিয়াদের কবরের পাশে ওরস মাহফিল করা।
১৩) বিভিন্ন উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল করা।
১৪) কবর পাকা করা,কবরে চুনকাম করা এবং কবরে কিছু লেখা।
১৫)উচ্চ আওয়াজে সম্মিলিতভাবে জিকির করা ইত্যাদি।

২) অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া:
ঈমান দুর্বলতার একটি আলামত হল অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া। মনটা পাথরের মত এতটাই শক্ত হয় যে, তাতে কোন কিছুই প্রভাব সৃষ্টি করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً
“অতঃপর এ ঘটনা (তথা বিস্ময়কর মুজিযা দেখার পরে) তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন।” (সূরা বাকারা: ৭৪)
কঠিন অন্তরের মানুষের মনে মৃত্যু সম্পর্কিত নসিহত প্রভাব ফেলে না। মৃত্যু কিংবা জানাযা দেখেও মনে দাগ কাটে না। এমনকি কাঁধে লাশ বহন করলে বা লাশকে কবরের গর্তে রাখতে দেখেও কোন মনের মধ্যে ভাবান্তর ঘটে না। গোরস্থান দিয়ে হেঁটে গেলে তার কাছে মনে হয় যে, কতগুলো ইট-পাথরের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে!!
৩) মজবুতভাবে ইবাদত না করা: 

Tuesday, 16 May 2017

নারীদের (হায়েয-নেফাস থেকে) পবিত্রতার মাসয়ালা-মাসায়েল‍:


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি বিশ্ব জগতের পালনকর্তা। দরূদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের উপর বর্ষিত হোক।
ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কে জানা প্রত্যে মুসলিম নারীর উপর কর্তব্য। বিশেষ করে ইবাদত সংক্রান্ত বিধি-বিধান। কেননা তা না জানলে চলতেই পারবে না।
ঐ বিধানগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পবিত্রতার বিধান। যার অনেক কিছুই অনেকের জানা নেই। কখনো লজ্জার কারণে বিষয়গুলো জানতে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
নিম্নে হায়েয বা ঋতু সম্পর্কে শরীয়তের বিধি-বিধান আলোচনা করা হলঃ
হায়েয কাকে বলে? নারীর জরায়ু থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিনা কারণে প্রাকৃতিকভাবে নির্গত রক্ত স্রাবকে হায়েয বা ঋতুস্রাব বলা হয়। অতএব অসুস্থতা, আঘাত, পড়ে যাওয়া, সন্তান প্রসব ইত্যাদি কোন কারণ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে নির্গত রক্ত স্রাবই হচ্ছে হায়েয।
আল্লাহ্ বলেন, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى “আর তারা আপনাকে ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন উহা অসূচী বা নাপাক বস্তু।” (সূরা বাকারাঃ ২২২)
হায়েয সম্পর্কে কিছু নিয়ম-নীতি ও মাসআলা-মাসায়েলঃ
১- স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশী কখনো কখনো হায়েয হতে পারে। তখন বেশী দিনগুলোকে হায়েযের দিন হিসেবেই গণনা করতে হবে।
যেমনঃ জনৈক নারীর হায়েয ছিল পাঁচ দিন। এটা বৃদ্ধি হয়ে সাত হয়ে যায়। তখন তার হায়েযের সময় সাত দিন বলেই গণ্য করতে হবে।
২- কখনো নির্দিষ্ট দিনের চেয়ে কম হয়। তখন ঐ কম দিনই হায়েয হিসেবে গণনা করতে হবে।
যেমনঃ জনৈক নারীর ঋতু ছিল পাঁচ দিন। তা কমে গিয়ে হয়েছে চার দিন। তখন আর অপেক্ষা করতে হবে না। তার ঋতুর সময় শেষ হয়ে গেছে।
৩- হায়েযের সময় বৃদ্ধি হয় বিশেষ কোন কারণে। যেমন জন্মনিরোধক ঔষধ সেবন করার কারণে। তখন হায়েযের সময়টা বেড়ে যায়। যেমন পূর্বে পাঁচ দিন ছিল, ঔষধ সেবন করার কারণে তা বেড়ে গিয়ে আট দিন পর্যন্ত স্রাব চলতেই থাকল। তখন তার ঋতু আট দিন হয়েছে বলেই গণ্য করতে হবে। অবশ্য সে ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলা ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেক করে নিশ্চিত হতে হবে যে, ঔষধ যথাস্থানে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আঘাত, বা অন্য কোন অসুস্থতার কারণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে না।
৪- ঋতু কখনো সময় হওয়ার পূর্বেই হয়ে যেতে পারে। যেমন কারো ঋতু মাসের শেষে হওয়ার কথা, কিন্তু তা এক সপ্তাহ বা দশদিন পূর্বেই হয়ে গেল। এ অবস্থায় তা হায়েয বলে গণ্য করতে হবে।
৫- ঋতু কখনো দেরীতে আসে। যেমন, কারো ঋতু মাসের মাঝামাঝি সময়ে হয়ে থাকে, কিন্তু দেরী হয়ে তা মাসের শেষের দিকে হল। তখন তা হয়েয হিসেবে গণ্য করতে হবে।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...