Sunday, 4 October 2015

হিস্‌নুল মুস্‌লিম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

হিস্‌নুল মুস্‌লিম
কুর’আন ও হাদীস থেকে সংকলিত দৈনন্দিন যিকর ও দু’আর সমাহার।সম্মানিত লেখক এই সংক্ষিপ্ত পুস্তকে ঐ সমস্ত কিতাব থেকে দু’আ সংকলন করেছেন যা সকল মুসলমানের নিকট গ্রহনীয়।আর এই বইটি একজন আলেম থেকে শুরু করে একজন সাধারণ মুসলিম পর্যন্ত সকলেরই প্রয়োজন।এই বইয়ের মূল আরবী বইটি সৌদি আরবে ছাপানো হয়। তারপর এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে বাংলা ভাষা সহ বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ করা হয়।







বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) - প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড



অনুবাদ: শেইখ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | প্রকাশনায়ঃ কিং ফাহাদ হোলি কমপ্লেক্স, সৌদি আরব
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে । ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক মহান আল্লাহ তা’আলার, যিনি তার পবিত্র কুরআনে এই মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন,
قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ
“তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সুস্পষ্ট গ্রন্থ”
আল্লাহর কিতাবের প্রতি গুরুত্বারোপ ও এর প্রচার সহজ করা এবং প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে এর বিতরণ নিশ্চিত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ ও তাফসীর করা সম্বলিত খাদেমুল হারামাইন আশ-শারফাইন বাদশাহ সালমান ইবন আব্দুল আযীয আলে সাউদ-এর নির্দেশনা বাস্তবায়ন কল্পে, সর্বোপরি আমাদের বাংলা ভাষাভাষীদের সেবা প্রদানার্থে, মদীনাস্থ বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স সানন্দে সম্মানিত পাঠক সমীপে এই বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর উপস্থাপন করেছে।
মূলতঃ রাজকীয় সৌদি সরকারের ওয়াকফ, দাওয়াহ্, ইরশাদ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল ভাষায় কুরআনুল কারীমের অনুবাদ করা, যাতে অনারব মুসলিমদের জন্য তা বুঝা সহজ হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদিষ্ট “বালাগ” তথা পৌছে দেয়ার আহবান (অর্থাৎ, “আমার পক্ষ থেকে পৌছে দাও, তা একটি আয়াত হলেও”)-এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য এটিই সবোত্তম প্রচেষ্টা । এর অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর করেছেন, ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া । আর কমপ্লেক্স-এর পক্ষে তা পূনপাঠ করেছেন, শাইখ কাউছার এরশাদ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইলিয়াছ ইবনে সালেহ আহমাদ । মহান আলাহ্ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি এই মহৎ কাজ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন যা শুধুমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই এবং যা দ্বারা সবাই উপকৃত হবে বলে আমরা আশা রাখি । অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি পবিত্র কুরআনুল কারীমের অনুবাদ (যতই সুনিপূণ হোক না কেন) তা আল্লাহর অমীয় বাণীর মর্মার্থ পুরোপুরি আদায়ে সমর্থ নয়; কেননা অনুবাদ হলো অনুবাদকের মেধাশক্তি দিয়ে কুরআনকে বুঝার প্রয়াস মাত্র, যার মধ্যে মানবীয় ভুল-ত্রুটি, অপূর্ণতা থাকা বিচিত্র কিছু নয় । কুরআনটি স্ক্যান করেছে সত্যান্বেষী টিম।
আল-কুরআনের অনুবাদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
আল-কুরআনের সহজ সরল অনুবাদ
অনুবাদের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও ব্যাখ্যা
প্রতিটি সূরার শুরুতে সূরার বৈশিষ্ট্য ও শানে নূযুল বর্ণিত।
কুরআনের সূরাগুলোর সহীহ হাদীসের আলোকে ফযীলত এর বিস্তারিত বিবরণ
কুরআনের তাফসীরকে সহজবোধ্য করার জন্য টীকা প্রদান ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকে সংকলিত।
আল্লাহ সিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোর অবিকৃত অনুবাদ।
কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে হাদীসকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবং হাদীসগুলোর রেফারেন্সসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান।
ডাঊনলোড লিঙ্ক ঃ ১ম খণ্ড এখানে

Tuesday, 22 September 2015

কুরআনুল কারীম বাংলা অনুবাদ ২য় খন্ড,ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া


قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ
অর্থাৎ, “তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সুস্পষ্ট গ্রন্থ” ।
আল্লাহর কিতাবের প্রতি গুরুত্বারোপ ও এর প্রচার সহজ করা এবং প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে এর বিতরণ নিশ্চিত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ ও তাফসীর করা সম্বলিত খাদেমুল হারামাইন আশ-শারফাইন বাদশাহ সালমান ইবন আব্দুল আযীয আলে সাউদ-এর নির্দেশনা বাস্তবায়ন কল্পে, সর্বোপরি আমাদের বাংলা ভাষাভাষীদের সেবা প্রদানার্থে, মদীনাস্থ বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স সানন্দে সম্মানিত পাঠক সমীপে এই বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর উপস্থাপন করেছে।
মূলতঃ রাজকীয় সৌদি সরকারের ওয়াকফ, দাওয়াহ্, ইরশাদ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল ভাষায় কুরআনুল কারীমের অনুবাদ করা, যাতে অনারব মুসলিমদের জন্য তা বুঝা সহজ হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদিষ্ট “বালাগ” তথা পৌছে দেয়ার আহবান (অর্থাৎ, “আমার পক্ষ থেকে পৌছে দাও, তা একটি আয়াত হলেও”)-এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য এটিই সবোত্তম প্রচেষ্টা । এর অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর করেছেন, ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া । আর কমপ্লেক্স-এর পক্ষে তা পূনপাঠ করেছেন, শাইখ কাউছার এরশাদ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইলিয়াছ ইবনে সালেহ আহমাদ । মহান আলাহ্ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি এই মহৎ কাজ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন যা শুধুমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই এবং যা দ্বারা সবাই উপকৃত হবে বলে আমরা আশা রাখি । অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি পবিত্র কুরআনুল কারীমের অনুবাদ (যতই সুনিপূণ হোক না কেন) তা আল্লাহর অমীয় বাণীর মর্মার্থ পুরোপুরি আদায়ে সমর্থ নয়; কেননা অনুবাদ হলো অনুবাদকের মেধাশক্তি দিয়ে কুরআনকে বুঝার প্রয়াস মাত্র, যার মধ্যে মানবীয় ভুল-ত্রুটি, অপূর্ণতা থাকা বিচিত্র কিছু নয় ।
Quranul Kareem
আল-কুরআনের অনুবাদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
  • আল-কুরআনের সহজ সরল অনুবাদ
  • অনুবাদের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও ব্যাখ্যা
  • প্রতিটি সূরার শুরুতে সূরার বৈশিষ্ট্য ও শানে নূযুল বর্ণিত।
  • কুরআনের সূরাগুলোর সহীহ হাদীসের আলোকে ফযীলত এর বিস্তারিত বিবরণ
  • কুরআনের তাফসীরকে সহজবোধ্য করার জন্য টীকা প্রদান ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকে সংকলিত।
  • আল্লাহ সিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোর অবিকৃত অনুবাদ।
  • কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে হাদীসকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবং হাদীসগুলোর রেফারেন্সসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান।
এক নজরে বইটি
কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) ১ম খন্ড
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
প্রকাশনায়ঃ  কিং ফাহাদ হোলি কমপ্লেক্স
ফাইল টাইপঃ  পি.ডি.এফ
পৃষ্ঠা: ১৪৯৯
সাইজ: ৫৪ মেগাবাইট
ডাউনলোড
এখানে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন
কৃতজ্ঞতায়  সত্যান্বেষী টিম।

Saturday, 12 September 2015

বেশি বেশি হজ্জ করবে; নাকি একবার হজ্জ আদায় করাই যথেষ্ট



প্রশ্ন: একাধিকবার হজ্জ করা উত্তম; নাকি একবার হজ্জ করাটাই উত্তম?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
ফরজ হওয়ার দিক থেকে হজ্জ জীবনে একবার করাই ফরজ। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার খোতবা দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল, আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরজ করেছেন; অতএব আদায় কর। এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, প্রতি বছর? তিনি চুপ করে থাকলেন। এমনকি সে লোক কথাটি তিনবার উচ্চারণ করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি যদি হ্যাঁ বলি তাহলে ফরজ হয়ে যাবে; কিন্তু তোমরা আদায় করতে পারবে না। এরপর বললেন: আমি যদি কোন বিষয় এড়িয়ে যাই তোমরা সে বিষয়ে প্রশ্ন করো না। তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং নবীদের সাথে মতভেদ করার কারণে ধ্বংস হয়েছে। আমি যখন তোমাদেরকে কোন নির্দেশ প্রদান করি তখন যতদূর সম্ভব সেটা বাস্তবায়ন কর; আর যা কিছু থেকে তোমাদেরকে বারণ সেটা থেকে বিরত থাক।[সহিহ মুসলিম (১৩৩৭)]
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আকরা বিন হাবেস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামক জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ, হজ্জ কি প্রতিবছর; নাকি একবার মাত্র? তিনি বললেন: একবার মাত্র। যে ব্যক্তি একাধিকবার করবে সেটা নফল।”[সুনানে আবু দাউদ (১৭২১) আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
আর উত্তমতার প্রশ্নে মুসলমান যতবেশি হজ্জ করতে পারে সেটা উত্তম। এমনকি কেউ যদি প্রতিবছর হজ্জ করতে পারে সেটাও ভাল। বেশি বেশি হজ্জ আদায় করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যেমন-

হজ্জ বা উমরাতে নিয়ত উচ্চারণ



প্রশ্ন: নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত হলে হজ্জ ও উমরার ক্ষেত্রে নিয়ত উচ্চারণ করার গূঢ় রহস্য কি?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
নিয়তের স্থান হচ্ছে- কলব বা অন্তর। নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীবর্গ থেকে সাব্যস্ত হয়নি যে, তারা কোন ইবাদতের পূর্বে নিয়ত উচ্চারণ করেছেন। হজ্জ ও উমরার তালবিয়া নিয়ত নয়।
শাইখ বিন বায (রহঃ) বলেন:
নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত। সজোরে নিয়ত পড়া কঠিন গুনাহ। সুন্নাহ হচ্ছে- মনে মনে নিয়ত করা। কারণ আল্লাহ তাআলা গোপন ও সঙ্গোপনের সবকিছু জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুনঃ তোমরা কি তোমাদের ধার্মিকতা আল্লাহকে অবহিত করছ? অথচ ভূমণ্ডলে ও নভোমণ্ডলে যা কিছু আছে সব আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।”[সূরা হুজুরাত, আয়াত: ১৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কিংবা তাঁর সাহাবীবর্গ কিংবা অনুসরণযোগ্য ইমামদের থেকে ‘নিয়ত উচ্চারণ করা’ সাব্যস্ত হয়নি। সুতরাং জানা গেল যে, এটি শরিয়তে সিদ্ধ নয়। বরং নবপ্রচলিত বিদআত। আল্লাহই তাওফিকদাতা।[ইসলামী ফতোয়াসমগ্র (২/৩১৫)]
শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নামায, তাহারাত (পবিত্রতা), রোজা কিংবা অন্য কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত উচ্চারণ করা বর্ণিত হয়নি। এমনকি হজ্জ-উমরার ক্ষেত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন না যে, ‘আল্লাহু্ম্মা ইন্নি উরিদু কাযা ওয়া কাযা...’ (অর্থ- হে আল্লাহ, আমি অমুক অমুক আমল করার সংকল্প করেছি...)।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়াবলী



প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় মুহরিমকে কোন কোন বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়াবলী: ইহরামের কারণে ব্যক্তিকে যে বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হয়। যেমন:
১. মাথার চুল মুণ্ডন করা। দলিল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণী: “আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবানীর পশু যথাস্থানে পৌঁছে যাবে।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯৬] আলেমগণ মাথার চুলের সাথে শরীরের সমস্ত চুলকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে নখ কাটা ও ছোট করাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
২. ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা; কাপড়ে হোক কিংবা শরীরে  হোক; খাবারদাবারে হোক কিংবা গোসলের সামগ্রীতে হোক কিংবা অন্য যে কোন কিছুতে হোক। অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। দলিল হচ্ছে- যে ব্যক্তিকে একটি উট পায়ের নীচে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে সে ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও। দুই কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তার মাথা ঢাকবে না। তাকে হানুত দিবে না”। হানুত হচ্ছে- এক জাতীয় সুগন্ধির মিশ্রণ যা মৃত ব্যক্তির গায়ে লাগানো হয়।
৩. সহবাস করা: দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “অর্থ- হজ্বের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে নিজের উপর হজ্ব অবধারিত করে নেয় সে হজ্বের সময় কোন যৌনাচার করবে না, কোন গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না।”[সূরা বাকারা, আয়াত ২: ১৯৭]
৪. উত্তেজনাসহ স্ত্রীকে ছোঁয়া। যেহেতু এটি আল্লাহ তাআলার বাণী: فَلَا رَفَثَ (অর্থ- যৌনাচার নেই) এর অধীনে পড়বে। কারণ মুহরিম ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেয়া জায়েয নেই। সুতরাং ছোঁয়া জায়েয না হওয়াটা আরও স্বাভাবিক।
৫. কোন শিকার হত্যা করা। দলিল আল্লাহ তাআলার বাণী: “অর্থ- হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার বধ করো না”[সূরা মায়েদা, আয়াত: ৯৫] গাছ কর্তন করা মুহরিম ব্যক্তির জন্য হারাম নয়; তবে মক্কার হারামের সীমানার ভেতরের কোন গাছ হলে হারাম হবে এবং সেটি মুহরিম ব্যক্তি, মুহরিম নয় এমন ব্যক্তি- সবার জন্য হারাম। তাই আরাফার মাঠে মুহরিম ব্যক্তির জন্যেও গাছ উপড়ানো জায়েয। কারণ গাছ কর্তনের বিষয়টি হারাম এলাকার সাথে সম্পৃক্ত; ইহরামের সাথে নয়।

অন্যের খরচে হজ্জ আদায় করা



প্রশ্ন: আমি আমার ছেলের সাথে হজ্জ আদায় করেছি। হজ্জের যাবতীয় খরচ সে বহন করেছে। আমার ইচ্ছা ছিল আমার নিজ খরচে হজ্জ আদায় করব। এটা কি হজ্জের শুদ্ধতার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
অন্যের খরচে কারো হজ্জ আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। সেই অন্য ব্যক্তি তার ছেলে হোক, ভাই হোক অথবা বন্ধু হোক...। এটি হজ্জের শুদ্ধতার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। হজ্জ শুদ্ধ হওয়ার জন্য এমন কোন শর্ত নেই যে, ব্যক্তি তার নিজের অর্থ থেকেই খরচ করতে হবে।
স্থায়ী কমিটিকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যার নিমন্ত্রণকারী তার হজ্জের যাবতীয় খরচ বহন করেছে।

কিভাবে আপনার হজ্জটি মকবুল হজ্জ হবে?



প্রশ্ন: আল্লাহ চাহেত কারো হজ্জ মকবুল হওয়ার জন্য একজন হাজীসাহেবের যে বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন
উত্তর: 
আলহামদুলিল্লাহ।
হজ্জটি হজ্জে মকবুল হওয়ার জন্য একজন হাজীসাহেবের যে বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন: হজ্জের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করা। এটাই হচ্ছে- ইখলাস। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী হজ্জ আদায় করা। এটাকে বলা হয়- মুতাবাআ (অনুসরণ)। যে কোন নেক কাজ এ দুটি র্শত পূর্ণ হওয়া ছাড়া কবুল হয় না: ইখলাস ও মুতাবাআ (রাসূলের অনুসরণ)। দলিল হচ্ছে- আল্লাহর বাণী: “তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা শিরকমুক্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।[সূরা আল-বাইয়্যেনা, আয়াত: ৫] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “সকল আমল নিয়্যত অনুযায়ী হয়ে থাকে। এবং প্রত্যেক ব্যক্তির যা নিয়ত করেন তিনি সেটাই পাবেন” এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করবে যার অনুমোদন আমাদের শরিয়তে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত।”
সুতরাং একজন হাজী সাহেব যার উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবেন সেটা হচ্ছে- ইখলাস ও নবীর অনুসরণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায়ী হজ্জকালে বলতেন: “তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজ্জের পদ্ধতি জেনে নাও।”

Friday, 11 September 2015

কুরআনুল কারীম বাংলা অনুবাদ ১ম খন্ড,ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া


قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ
অর্থাৎ, “তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সুস্পষ্ট গ্রন্থ” ।
আল্লাহর কিতাবের প্রতি গুরুত্বারোপ ও এর প্রচার সহজ করা এবং প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে এর বিতরণ নিশ্চিত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ ও তাফসীর করা সম্বলিত খাদেমুল হারামাইন আশ-শারফাইন বাদশাহ সালমান ইবন আব্দুল আযীয আলে সাউদ-এর নির্দেশনা বাস্তবায়ন কল্পে, সর্বোপরি আমাদের বাংলা ভাষাভাষীদের সেবা প্রদানার্থে, মদীনাস্থ বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স সানন্দে সম্মানিত পাঠক সমীপে এই বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর উপস্থাপন করেছে।
মূলতঃ রাজকীয় সৌদি সরকারের ওয়াকফ, দাওয়াহ্, ইরশাদ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল ভাষায় কুরআনুল কারীমের অনুবাদ করা, যাতে অনারব মুসলিমদের জন্য তা বুঝা সহজ হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদিষ্ট “বালাগ” তথা পৌছে দেয়ার আহবান (অর্থাৎ, “আমার পক্ষ থেকে পৌছে দাও, তা একটি আয়াত হলেও”)-এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য এটিই সবোত্তম প্রচেষ্টা । এর অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর করেছেন, ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া । আর কমপ্লেক্স-এর পক্ষে তা পূনপাঠ করেছেন, শাইখ কাউছার এরশাদ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইলিয়াছ ইবনে সালেহ আহমাদ । মহান আলাহ্ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি এই মহৎ কাজ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন যা শুধুমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই এবং যা দ্বারা সবাই উপকৃত হবে বলে আমরা আশা রাখি । অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি পবিত্র কুরআনুল কারীমের অনুবাদ (যতই সুনিপূণ হোক না কেন) তা আল্লাহর অমীয় বাণীর মর্মার্থ পুরোপুরি আদায়ে সমর্থ নয়; কেননা অনুবাদ হলো অনুবাদকের মেধাশক্তি দিয়ে কুরআনকে বুঝার প্রয়াস মাত্র, যার মধ্যে মানবীয় ভুল-ত্রুটি, অপূর্ণতা থাকা বিচিত্র কিছু নয় ।
Quranul Kareem
আল-কুরআনের অনুবাদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
  • আল-কুরআনের সহজ সরল অনুবাদ
  • অনুবাদের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও ব্যাখ্যা
  • প্রতিটি সূরার শুরুতে সূরার বৈশিষ্ট্য ও শানে নূযুল বর্ণিত।
  • কুরআনের সূরাগুলোর সহীহ হাদীসের আলোকে ফযীলত এর বিস্তারিত বিবরণ
  • কুরআনের তাফসীরকে সহজবোধ্য করার জন্য টীকা প্রদান ও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকে সংকলিত।
  • আল্লাহ সিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোর অবিকৃত অনুবাদ।
  • কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে হাদীসকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবং হাদীসগুলোর রেফারেন্সসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান।
এক নজরে বইটি
কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) ১ম খন্ড
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
প্রকাশনায়ঃ  কিং ফাহাদ হোলি কমপ্লেক্স
ফাইল টাইপঃ  পি.ডি.এফ
পৃষ্ঠা: ১৪৯৯
সাইজ: ৫৪ মেগাবাইট
ডাউনলোড
Mobile Version

উৎসঃ waytojannah

Saturday, 5 September 2015

বই কালেকশন - শায়খ আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আল-মাদানী (ফ্রি ডাউনলোড)



বই কালেকশন - শায়খ আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আল-মাদানী (ফ্রি ডাউনলোড)

লেখক: শায়খ আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আল-মাদানী
লিসান্স: মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদিআরব
(সৌদী আরবের আল-মাজমাআ অঞ্চলের দাওয়াত সেন্টারে কর্মরত দাওয়াত-কর্মী এবং বাংলা ভাষার প্রসিদ্ধ লেখক ও অনুবাদক।)  

বইগুলো ডাউনলোড করুন (পিডিএফ ভার্সন)

• অধিকারীর অধিকার - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বইটিতে সকল হকদারের হক বা অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন স্রষ্টার অধিকার, বান্দার অধিকার, আত্মীয় ও প্রতিবেশির অধিকার, পিতামাতা ও সন্তানের অধিকার, স্বামী ও স্ত্রীর অধিকার, রাজা ও প্রজার অধিকার, অতিম ও অতিথির অধিকার ইত্যাদি। অধিকার বিষয়ে সত্যিই এ এক অনবদ্য বই।)

• আদর্শ ছাত্র জীবন
• আদর্শ পরিবার ও পরিবেশ
• আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ বইয়ে লেখক কনে দেখা, দেন মোহর, বিবাহ বন্ধন, অলীমাহ, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর অধিকার, তালাক, ইদ্দত, ইস্তিহাযা, নিফাস, গর্ভ-ধারণ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বৈবাহিক ও দাম্পত্য জীবনের যাবতীয় বিষয়ে খুব সুন্দর আলোচনা করেছেন।)
• আদর্শ রমণী - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বইটিতে গ্রন্থকার কুরআন, সুন্নাহর আলোকে আদর্শ রমণীর বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি এবং কিভাবে একজন নারী আদর্শ নারী হয়ে উঠবেন ছোট ছোট অধ্যায়ে ও নানা উপশিরোনামে তা তুলে ধরেছেন। অভিজ্ঞতা, জ্ঞানীদের উক্তি, প্রবাদ ও নানা কবিতার সন্নিবেশে তিনি বইটিকে সুখপাঠ্য ও জীবনঘনিষ্ঠ বানিয়েছেন।)
• আমানত ও খিয়ানত
• ইসলামী জীবন-ধারা - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ বইয়ে লেখক সাজ-সজ্জা ও সুগন্ধি গ্রহণ করার ইসলামী পদ্ধতি ও সীমারেখা, প্রাকৃতিক প্রয়োজন যেমন পানাহার ও পেশাব-পায়খানার ইসলামী আদব, মসজিদে যাওয়ার আদব, সফরের আদব, রাস্তার হক, অপরের ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি প্রার্থনা, সালামের আদব, দেখা-সাক্ষাত করার আদব, রোগী দেখার আদব, মেহমানদারি ও বন্ধুত্বের আদব, মসলিজের আদব, শয়ন নিদ্রা যাপনের আদব, অমুসলিমদের সাথে সদ্ব্যবহার, জীব-জন্তুর সাথে আচরণ এবং সর্বোপরি একজন আল্লাহ-ভীরু মুসলিম ইবাদতকারীর প্রাত্যহিক আদব-আমল ও জীবন-ধারা কেমন হবে তার ওপর বিশদ আলোচনা করেছেন।)
• ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাহ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান
• কুইজ প্রশ্নোত্তর
• কাফির বলার মূলনীতি 
• ঘরকুনো নামাজি
• জানাযা দর্পণ - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: মৃত্যুর আগে রোগীর করণীয় এবং মৃত্যুর আগে-পরে মৃতের প্রতি করণীয় তথা গোসল, কাফন-দাফন, কবর যিয়ারতের বিধানাবলিসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় জরুরী জ্ঞাতব্য সযত্নে স্থান পেয়েছে বইটিতে। বইটি প্রতিটি মুসলিমের পড়া উচিত।)
• জিভের আপদ - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: যেসব পাপ ও গুনাহের মূল কারণ জিভ, অথবা জিভ দ্বারা যেসব পাপ প্রকাশ পায়, লেখক এ বইয়ে তার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।)
• জীবন-দর্পণ (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থকার এ বইয়ে মানবজীবনের নানা অনুষঙ্গ, বিচিত্র্য অবস্থা, আবেগ-অনুভূতি ও সুখ-দুঃখের বয়ান তুলে ধরেছেন তাঁর শিল্পিত বর্ণনায়। নিজের অভিজ্ঞতা, কাব্যরস ও কুরআন-হাদীস নিংড়ে তিনি যা সংকলন করেছেন তা যে কোনো মানুষের জীবনচলার বন্ধুর পথের বিশ্বস্ত সঙ্গী হতে পারে।)
• তফসীর আহসানুল বায়ান - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদের বিশুদ্ধ তাফসীরের সহজবোধ্য ও মানসম্মত বাংলা অনুবাদ। তাফসীরটি রচনা করেন শাইখ সালাহুদ্দিন ইউসুফ; আর বাংলা অনুবাদের তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনা করেছেন আল-মাজমা‘আ দাওয়া সেন্টারের সম্মানিত দা‘ঈ শাইখ আবদুল হামীদ ফাইযী মাদানী সাহেব। 
- উর্দু তাফসীরটি সম্পাদনা করেছেন রাহীকুল মাখতুমের বিশ্বখ্যাত লেখক শাইখ সফিউর রহমান আল-মুবারকপুরীসহ বেশ কয়েকজন আলেম; যা পরবর্তীতে মদীনাস্থ বাদশা ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং প্রেস কর্তৃক প্রিন্ট হয়েছে। 
- তাফসীরটি উর্দু ভাষায় প্রথম ছাপা হয়েছিল সুবিখ্যাত দারুস সালাম লাইব্রেরীর তত্ত্বাবধানে। তাদের কাছ থেকে বঙ্গানুবাদ ও ছাপার অনুমতি নিয়ে বাংলাভাষী সাউদী বিভিন্ন দাওয়া সেন্টারে কর্মরত বেশ কয়েকজন দা‘ঈ অনুবাদ কর্মটি সম্পন্ন করেন। তারা হলেন, 
সফিউর রহমান আর-রিয়াদী, মিরাটস্থ দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
মুহাম্মাদ হাশেম মাদানী, আয-যুলফী দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
মুহাম্মাদ ইসমাঈল মাদানী, রিমাহ দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ ।
যাকির হোসেন মাদানী, রাবওয়া দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
মুসলেহুদ্দীন বুখারী, হারিমলা দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
শামসুজ্জোহা রহমানী, তামীর দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
হাবীবুর রহমান ফাইযী, আল-মাজমা‘আ দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
- তাফসীরটি ভারতে দু’বার ও বাংলাদেশে একবার ছাপা হয়েছে এবং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।)
• তাওহীদ - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থটিতে লেখক তাওহীদের উপর বিস্তারিত দলীলভিত্তিক আলোচনা করেছেন, তারপর ঈমানের অন্যান্য রুকনেরও আলোচনা করেছেন। সাথে সাথে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন বিদ‘আত ও কুসংস্কার সম্পর্কে সাবধান করেছেন।)
• দিক দর্শন
• দেনা-পাওনা - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ বইয়ে লেখক দেনা-পাওনা তথা ঋণ দেওয়া ও নেওয়ার পদ্ধতি ছাড়াও সুদ, সোনা-রূপা বাকিতে ক্রয়-বিক্রয়, ঋণের বন্ধকী, দাদন ব্যবসা, দাদন ব্যবসার শর্তাবলী, ফুল থাকা অবস্থায় ফল-ফসল ক্রয়-বিক্রয়, কিস্তি-চুক্তি ও বেশী দরে বাকি-ব্যবসা, বাকিতে স্বর্ণ ব্যবসা, শস্যের বদলে শস্য বাকিতে ব্যবসা ইত্যাদির ওপর খুব সুন্দর আলোচনা করেছেন।
• দ্বীনী প্রশ্নোত্তর
• দ্বীনে ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ গ্রন্থে ইসলামের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রামাণিকভাবে আলোচিত হয়েছে। ইসলামের সৌন্দর্যের নানাদিক, বিভিন্ন আঙ্গিক তুলে ধরে এতেই যে মানুষের ইহ ও পরকালীন জীবনের একমাত্র সাফল্যের গ্যারান্টি তাও প্রমাণিত হয়েছে আলোচ্য গ্রন্থে।)
• ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও গোঁড়ামি
• নজরুল সংগীতে আক্বীদাগত ভুল
• নবী নিয়ে ব্যঙ্গ, কুফরীর অঙ্গ - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বইটিতে গ্রন্থকার কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা‘র আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার বিধান এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর ভয়ংকর শাস্তির কথা তুলে ধরেছেন।)
• পর্দার বিধান
• পথের সন্ধান - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: পৃথিবীর মানুষ অধিকাংশই পথ ও দিক-দিশাহারা। নিরীশ্বরবাদ, বহুশ্বরবাদ ও সর্বেশ্বরবাদের বেড়াজালে পড়ে সঠিক পথহারা। বহু মানুষ রয়েছেন যারা পথের দিশা পেতে চান। সাড়া দিতে চান সত্যের আহ্বানে। কিন্তু ভুল করে বসেন পথ চিনতে। বিভ্রান্তিতে পড়েন সত্য জানতে গিয়ে। আর কিছু মানুষ আছেন যারা সত্য উপলব্ধি করেও কোনো কারণবশত তার অপলাপ করেন। তাদের জ্ঞানের ওপর বিভ্রান্তির প্রলেপ থাকায় তাদের এ অবস্থা। এমন কিছু প্রলেপ দূর করতেই এ পুস্তিকা। আশা করি জ্ঞানী ও চিন্তাশীল মাত্রই এতে জ্ঞান ও চিন্তার খোরাক এবং সত্যের তথা সৎপথের সন্ধান পাবেন।)
• পথের সম্বল - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থটিতে লেখক দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যিকিরসমূহ, নামাযের বিভিন্ন মাসআলা ও আরও কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়াদি উল্লেখ করেছেন।)
• ফাযায়েলে আমাল - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থকার এ গ্রন্থে সহীহ হাদীস দ্বারা যে সকল আমালে সালেহ এর ফযীলত সাব্যস্ত হয়েছে তা আলোচনা করেছেন। এটি একটি অনবদ্য গ্রন্থ।)
• ফির্কা নাজিয়া বা মুক্তিপ্রাপ্তদল - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বইটিতে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মৌলিক ধারণা, চিন্তাধারা, প্রকরণ-উপকরণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শ্রেষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য করা হয়।)
• বিতর্কিত মুনাজাত
• বিতর নামায
• বিনা পণের বউ
• বর্কতময় দিনগুলি - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বইটিতে গ্রন্থকার কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যিলহজের প্রথম দশদিনের ফযীলত ও করণীয়, ঈদুল আযহার করণীয়-বর্জনীয়, আইয়ামে তাশরীকের আমলসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।)
• বারো মাসে তেরো পরব - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: আমাদের দেশে বারো মাস জুড়ে বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান, বিশেষ ইবাদত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে যার অধিকাংশই বিদআত ও পরিত্যাজ্য। সেসব অনুষ্ঠানের কোনটি সুন্নত ও কোনটি বিদআত লেখক এ বইয়ে তার বিস্তারিত আলোচনা পেশ করেছেন।)
• বড় হওয়ার স্বপ্ন
• বিদআত দর্পণ - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ বইয়ে লেখক বিদআত ও বিদআতীর নিন্দা, বিদআতের সংজ্ঞা, বিদআতের বিভিন্ন প্রকার, বিদআতীর সঙ্গ, বিদআতীর প্রতি পূর্বপুরুষদের ভূমিকা, বিদআত সৃষ্টির কারণ, বিদআত ও বিদআতীর পরিণাম, বিদআত চেনার নীতিমালা, প্রচলিত বিদআতের কিছু নমুনা ও বিদআত প্রতিরোধ করার বিভিন্ন বিষয়ে খুব সুন্দর আলোচনা করেছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বইটি ধৈর্যসহ পাঠ করে পাঠকগণ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।)
• ব্যাংকের সূদ কি হালাল - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এইপুস্তিকায় ব্যাংকের সুদ হারাম হওয়া এবং কুরআন ও হাদীস থেকে সুদের অবৈধতা বর্ণনা করা হয়েছে। অতপর সুদ ও ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য এবং প্রাক ইসলামী জাহেলীযুগের সুদের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুদের চারিত্রিক, সামাজিক, আর্থসামাজিক তথা জীবন ও জীবিকা-নির্বাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কোম্পানি এবং তার লেনদেন পদ্ধতি, ব্যাংক ও তার ঐতিহাসিক পটভূমিকা, ব্যাংকের শ্রেণীভেদ এবং বিভিন্ন ফাংশন এবং বীমা ও বীমা সংক্রান্ত নানা বিষয় সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে।)
• মুনাফেকি আচরণ
• মনিমালা – (কুরআন সুন্নাহর অনুসরণ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ)
• মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী
• মহানবীর আদর্শ জীবন - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: সীরাত ও নবী-জীবনীর ওপর লিখিত বই-পুস্তক অনেক আছে; যার মধ্যে কিছু বিস্তারিত এবং কিছু সংক্ষিপ্ত। এ পুস্তিকায় অতি সংক্ষিপ্ত আকারে নবীজীবনীর প্রধান ও প্রসিদ্ধ দিকগুলোর শিরোনাম তুলে ধরা হয়েছে মাত্র। এর দ্বারা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীকে মহানবীর আদর্শ জীবনের সার-সংক্ষেপ ও তার প্রসিদ্ধি ঘটনাবলি ও ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এ পুস্তিকা পবিত্র জীবনী প্রসঙ্গে অধিক জানা ও গভীর অধ্যয়নের আগ্রহ ও সুযোগ সৃষ্টি করবে ইনশাআল্লাহ।)
• মহিলার নামায
• যাকাত ও খয়রাত - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থে লেখক যাকাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কোন কোন সম্পদের কী পরিমান যাকাত দিতে হবে তা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন।)
• যুবসমস্যা ও তার শরয়ী সামাধান  - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থটিতে যুবসমাজের নানা সমস্যা ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বেকারত্ব, চারিত্রিক অধঃপতন, সামাজিক অবক্ষয়, খেলাধুলা, গান-বাজনা, প্রেম-ভালোবাসা ও বিকৃত যৌনাচার প্রভৃতি সমস্যা অনুপুঙ্ক্ষ তুলে ধরে তার ধর্মীয় সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে।)
• যুল হজ্জের তের দিন - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বক্ষমাণ পুস্তিকায় যিলহজের প্রথম তের দিনের করণীয় ও বিধি-বিধান সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রথম দশ দিন, আইয়ামে তাশরীক ও হজ-উমরা সংক্রান্ত বহু প্রয়োজনীয় বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে।)
• রমযান স্বাগতম - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: সহীহ দলীলকে ভিত্তি করে রমযানের ফাযায়েল ও রোযার মাসায়েল জানার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বই। মুসলিমদের জন্য রমযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। এতে একজন মুসলিম রমযান মাসকে কিভাবে ফলপ্রসূ করবে তার মাসআলা-মাসায়েল ও ফাযায়েল সংক্রান্ত যে সকল বিষয়াদির প্রয়োজন অনুভব করে সেগুলো খুব সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে।)
• রমযানের ফাযায়েল ও রোযার মাসায়েল - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: লেখক বলেন, রোযা ও রমযানের মত একটি মহান উৎসাহ ও উদ্দীপনা তথা আনন্দমুখর মৌসুমকে ঘিরে যে সকল জানা ও মানার কথা এতে পরিবেশিত হয়েছে- তার সবই মুসলিমের জন্য প্রয়োজনীয়। হয়তো নতুন কথা কিছু নয় তবে অনেক কথা জানার আছে, মানার আছে। বইটির কলেবর বৃহৎ হলেও কোনো কথা ফেলনার নয়; নয় অপ্রাসঙ্গিক। আশা করি পাঠকমাত্রই অলসতা ছেড়ে পড়ে নেবেন আর ইমাম সাহেবান পারলে মুসল্লিদের শুনিয়ে দেবেন, এতে করে অনেক উপকার হবে ইনশাআল্লাহ।)
• রাযায়েলে আমাল - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: ফাযায়েলে আমাল বিষয়ে যেমন নানা পুণ্যকর্মের বিবরণ সম্বলিত বই আমরা পড়ে থাকি, তেমনি রাযায়েলে আমাল তথা পাপকর্মসমূহের বিবরণ নিয়ে এই গ্রন্থ। আমরা অহরহ যেসব জঘণ্য পাপকাজ করি এ গ্রন্থে সেসবের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে কুরআন-সুন্নাহের আলোকে।)
• রিয়াদুস সালেহীন (১ম পর্ব) - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ গ্রন্থটিতে একজন মুসলিমের ইবাদতের ক্ষেত্রে ও তার ব্যক্তিগত জীবনে যা যা প্রয়োজন তা –মুষ্টিমেয় কিছু ছাড়া - সহীহ হাদীসের আলোকে সংক্ষিপ্ত ও সহজ-সাবলীলভাবে বিবৃত হয়েছে।)
• রিয়াদুস সালেহীন (২য় পর্ব)
• শিশু প্রতিপালন
• শিশুর নাম
• সুখের সন্ধান - (দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হওয়ার উপায়)
• সহীহ দুআ ও যিকর - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বইটিতে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহে বর্ণিত দুআ ও যিকরসমূহ সংকলন করা হয়েছে। বাংলাভাষায় সংশ্লিষ্ট অনেক গ্রন্থে যঈফ ও জাল দুআর ছড়াছড়ি লক্ষ্য করে লেখক এ সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে তিনি দুআ ও যিকরের অর্থের পাশাপাশি উচ্চারণও লিখে দিয়েছেন তবে জায়েয না থাকায় কেবল কুরআনের আয়াতসমূহের উচ্চারণ দেয়া হয়নি।)
• সালাতে মুবাশ্বির - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: আলোচ্য গ্রন্থে লেখক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাজের পদ্ধতি ও নামাযের কিছু বিধি-বিধান আলোচনা করেছেন।)
• হাদীস ও সুন্নাহর মূল্যমান
• হারাম রুযী ও রোযগার - (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: গ্রন্থটিতে হারাম রুযী ও রোযগারের বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করে সেগুলোর বিধান কুরআন ও হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

সংগৃহীত পোস্ট 

Sunday, 16 August 2015

উমরা করার পদ্ধতি



প্রশ্ন: আমি উমরা করার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে জানতে চাই।
উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ।

দুইটি শর্ত পূরণ হওয়া ছাড়া কোন ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না:

১. আল্লাহর জন্য মুখলিস (একনিষ্ঠ) হওয়া। অর্থাৎ সে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালকে উদ্দেশ্য করা; প্রদর্শনেচ্ছা বা প্রচারপ্রিয়তার উদ্দেশ্যে না করা অথবা অন্য কোন দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে না করা।

২. কথা ও কাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ বা আদর্শ জানা ছাড়া তাঁকে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি উমরা, হজ্ব বা অন্য কোন ইবাদত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায় তার কর্তব্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ শিখে নেয়া; যাতে তার আমল রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক হয়। নিম্নে আমরা সুন্নাহর আলোকে উমরা আদায়ের পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরব। উমরার কাজ চারটি:

এক: ইহরাম

ইহরাম মানে হচ্ছে- নুসুকে তথা হজ্ব বা উমরাতে প্রবেশের নিয়ত।

কেউ যদি ইহরাম করতে চায় তখন সুন্নত হচ্ছে- সে ব্যক্তি কাপড়-চোপড় ছেড়ে ফরজ গোসলের মত গোসল করবে, মাথা বা দাঁড়িতে মিসক বা অন্য যে সুগন্ধি তার কাছে থাকে সেটা লাগাবে। সুগন্ধির আলামত যদি ইহরাম করার পরেও থেকে যায় তাতে কোন অসুবিধা নেই। যেহেতু সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইহরাম করতে চাইতেন তখন নিজের কাছে সবচেয়ে ভাল যে সুগন্ধিটা আছে সেটা ব্যবহার করতেন। ইহরাম করার পরে আমি তাঁর মাথা ও দাঁড়িতে সে সুগন্ধির ঝিলিক দেখতে পেতাম।[সহিহ বুখারি (২৭১) ও সহিহ মুসলিম (১১৯০)] নর-নারী উভয়ের ক্ষেত্রে ইহরামের জন্য গোসল করা সুন্নত। এমনকি হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত নারীদের ক্ষেত্রেও। কেননা আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ) নিফাসগ্রস্ত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইহরামের জন্য গোসল করার ও রক্ত প্রবাহের স্থান একটি কাপড় দিয়ে বেঁধে নিয়ে ইহরাম করার নির্দেশ দিয়েছেন।[সহিহ মুসলিম (১২০৯)]

যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করেনি তার হজ্জ কি শুদ্ধ হবে?



প্রশ্ন: আমি ১৪২২হিঃ সালে হজ্জ আদায় করেছি। তবে আমার নিকট কিছু মানুষের ঋণ আছে। কারণ হচ্ছে- আমি কিছু মানুষকে কর্জে হাসানা (ঋণ) দিয়েছিলাম; তারা আমার সাথে প্রতারণা করেছে, এখন এ অর্থ পরিশোধ করার দায় আমার উপর। আমি একজন শাইখকে জিজ্ঞেস করেছিলাম: আমি তো ঋণ পরিশোধ করিনি; এমতাবস্থায় হজ্জ করা জায়েয হবে কিনা? শাইখ বলেছেন: জায়েয হবে। কারণ আপনি জানেন যে, আপনি অচিরেই ঋণ পরিশোধ করে দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
একই বিষয়ে আপনাদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিপরীত তথ্য পেলাম। এমতাবস্থায় আমার হজ্জ কি কবুল হয়েছে? কারণ আমি ঋণ পরিশোধ না করে হজ্জে গেছি, পাওনাদারদের কাছ থেকে অনুমতি নেইনি। যদি আমার হজ্জ মাকবুল না হয়; তাহলে আমার করণীয় কি? আমার প্রথম হজ্জ কি ফরজ এবং দ্বিতীয় হজ্জ কি সুন্নত?

 উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।

কোন প্রশ্নকারীর ইবাদত কবুল হওয়া সম্পর্ক প্রশ্ন করা এবং উত্তরদাতার এ সম্পর্কে উত্তর দেয়া উচিত নয়। কারণ ইবাদত কবুল হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর নিকট। বরং প্রশ্ন করতে হবে ও উত্তর দিতে হবে ইবাদত শুদ্ধ হওয়া সম্পর্কে, ইবাদতের শর্তাবলি ও রুকনগুলো পরিপূর্ণ হওয়া সম্পর্কে।

যে ব্যক্তি হজ্জ আদায় করল কিন্তু তার জিম্মাদারিতে অন্যদের পাওনা ঋণ রয়ে গেছে তার হজ্জ সহিহ হবে; যদি হজ্জের রুকন ও শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হয়। সম্পদের সাথে বা ঋণের সাথে হজ্জের শুদ্ধতার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যে ব্যক্তির ঋণ আছে সে ব্যক্তির জন্য হজ্জ না করা উত্তম। যে অর্থ সে হজ্জ আদায়ে খরচ করবে সে অর্থ ঋণ আদায়ে খরচ করা উত্তম এবং শরয়ি বিবেচনায় সে সামর্থ্যবান নয়। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির আলেমগণের ফতোয়া নিম্নরূপ:

Wednesday, 15 July 2015

ঈদের বিধিবিধান



بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد:
ভূমিকা: অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে যখন ঈদের এক ফাঁলি চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে উঠে তখন সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। শিশু-কিশোরগণ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে প্রজাবতীর মত ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। এই ঈদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নে’য়ামত। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, 
প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় আগমন করে দেখলেন, মদীনাবাসী খেলা-ধূলার মধ্য দিয়ে দুটি দিবস উদযাপন করে থাকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিবস কি? তারা বলল, এ দুটি দিবস জাহেলী যুগে আমরা খেলা-ধুলার মধ্যদিয়ে উদযাপন করতাম। তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একটি হল, ঈদুল আযহা এবং অপরটি হল, ঈদুল ফিতর।” (সুনান আবূদাঊদ, হাদীস নং ৯৫৯ সনদ-সহীহ, আলবানী রহঃ) 
ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যদি আমরা ঈদ ঊদ্যাপন করি তবে একদিকে যেমন ঈদের অনাবিল আনন্দে ভরে উঠবে আমাদের পার্থিব জীবন অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে আমাদের পরকালিন জিন্দেগী।

ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর ছাড়া অন্য কোন ঈদ-উৎসব পালন করা: 
উপরোল্লিখিত হাদীস থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, ইসলামী শরীয়তে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর ব্যতিরেকে তৃতীয় কোন ঈদ বা উৎসব পালন করার সুযোগ নেই। অথচ আমাদের মুসলিম সমাজে বর্তমানে কত ধরণের ঈদ ও ঊৎসব জমজমাট ভাবে পালন করা হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। যেমন, ঈদে মিলাদুন নবী বা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্ম উৎসব। বরং এটাকে ‘সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ’ বলে জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে। যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীসের সুস্পষ্ট বিরোধী। অনুরূপভাবে তথাকথিত পহেলা বৈশাখ, খৃষ্ট নববর্ষ, এপ্রিল ফুল, বড় দিন (Xmas Day), ইত্যাদি অগণিত উৎসব আমদের মুসলানগণ অবলিলায় পালন করে যাচ্ছে কিন্তু একবারও চিন্তা করে দেখে না যে, আসলে এগুলোর উৎস কোথায়? এসব মূলত: হিন্দু ও খৃষ্টানদের থেকে আমদানিকৃত সংষ্কৃতি যার সাথে মুসলমানের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলে গেছেন, 
“যে ব্যক্তি অন্য কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করল সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবূদাউদ হাদীস নং ৩৫১২, সনদ-সহীহ, আলবানী)
ইসলাম স্বীকৃত দুটি ঈদ ছাড়া অন্য কোন ঈদ বা উৎসব পালন করা, তাতে অংশগ্রহণ করা বা সে উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করা মুসলমানদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে ইসলামের সরল-সোজা, সুন্দর ও আলোকময় পথ ধরে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন!

ঈদের প্রকৃত অর্থ কি: 
শুধু দামী পোশাক, রঙ্গিন জামা, হরেক রকম সুস্বাদু খাবার আর নানা ধরণের আনন্দ-উৎসবের নাম ঈদ নয়। ঈদের উদ্দেশ্য কি তা আল্লাহ তা’আলা নিন্মোক্ত আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন:
﴿وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
”আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা আল্লাহর মমত্ব প্রকাশ কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা হও ।” (সূরা বাকারাঃ ১৮৫) 
এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, ঈদের উদ্দেশ্য হল দুটি:
১) আল্লাহর বড়ত্ব মমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা।
২) আল্লাহ যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...