Friday, 18 July 2014

রমজানের শেষ ১০ দিনে লাইলাতুল কদর অন্বেষণে চেষ্টা করা

সুধীপাঠকবৃন্দ! রমজানের শেষ ১০ দিনে রয়েছে বরকতপূর্ণ রাত, লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তাআলা এ মাসকে অন্য সব মাসের ওপর বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা এ উম্মতের প্রতি এ রাতের মর্যাদা ও কল্যাণ দান করে অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এ রাতের ব্যাপারে বলেন,
﴿ إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ٣ فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ ٤ أَمۡرٗا مِّنۡ عِندِنَآۚ إِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِينَ ٥ رَحۡمَةٗ مِّن رَّبِّكَۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ٦ رَبِّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَآۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ ٧ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ رَبُّكُمۡ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلۡأَوَّلِينَ ٨ ﴾ [الدخان: ٣، ٨]
‘নিশ্চয় আমি এটি নাজিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী। তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যিনি আসমানসমূহ, জমীন ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের রব’। {দুখান : ৩-৮}
মহান আল্লাহ এ রাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যেহেতু এতে অত্যধিক কল্যাণ, বরকত ও মর্যাদা রয়েছে। যথা এ বরকতময় রাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যে কুরআন সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণকারী। এ রাতের গুরুত্বের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,
﴿ إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ ١ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ ٢ لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣ تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ ٤ سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ ﴾ [القدر: ١، ٥]
‘নিশ্চয় আমি এটি আমি নাজিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে। তোমাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল কদর’ কী? ‘লাইলাতুল কদর’ হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত’।{সূরা কদর : ১-৫}

কদর শব্দটি সম্মান ও মর্যাদার অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার নির্ধারণ করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। লাইলাতুল কদর অত্যধিক সম্মানিত ও মহত্বপূর্ণ। এ রাতে আল্লাহ তাআলা যা কিছু হবে তা নির্ধারণ করেন এবং প্রত্যেকটি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন।
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম কথাটির অর্থ, এ রাতের মর্যাদা, সম্মান অত্যধিক, যা হাজার মাসের সম্মান ও মর্যাদার সমান। যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে এ রাতে নামাজ আদায় করবে তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
ফেরেশতা ও রুহ নাজিল হবার অর্থ : ফেরেশতারা আল্লাহর এক প্রকার বান্দা, তারা রাতে দিনে আল্লাহর ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে। তারা লাইলাতুল কদরে কল্যাণ, বরকত ও রহমত নিয়ে পৃথিবীর বুকে আগমন করে। রুহ বলতে জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে বুঝায়, এ রাতের বিষেশ মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাকেও অবতরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শান্তি বর্ষণ করার অর্থ : লাইলাতুল কদর এমন রাত, যে রাতে কোন ভীত সন্ত্রস্ত বান্দা যদি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশের শান্তির বাণী শুনান।
ফজর উদয় হবার পূর্ব পর্যন্তের অর্থ : ফজর উদয়ের মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের সমাপ্তি ঘটে।
মুদ্দাকথা, এ সূরার আলোকে আমরা লাইলাতুল কদরের নিচের বৈশিষ্ট্যসমূহ চি‎‎হ্নিত করতে পারি :
(১) আল্লাহ তাআলা এ রাতে কুরআন নাজিল করেছেন, যা মানুষের জন্য সঠিক পথ নির্দেশিকা এবং যাতে দুনিয়া ও আখিরাতের বিশেষ কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
(২) এ রাতের গুরুত্ব ও মহত্ব অত্যধিক যা অন্য কোন রাতের ব্যাপারে বলা হয়নি।
(৩) এ রাত এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ রাতে ইবাদত করার মাধ্যমে এক হাজার মাস ইবাদত করার সমান সাওয়াব অর্জন করা যায়।
(৪) এ রাতে ফেরেশতারা দুনিয়ার বুকে অবতরণ করে কল্যাণ, বরকত ও রহমত বর্ষণ করতে থাকে।
(৫) এটা শান্তি বর্ষণের রাত। যে বান্দা আল্লাহর ইবাদতে এ রাতটি অতিবাহিত করে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্ত করে শান্তির বাণী শুনিয়ে দেন।
(৬) আল্লাহ এ রাতে মদীনায় একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাজিল করেছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে।
এছাড়া এ রাতের ফজিলত সমন্ধে বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবূ হুরায়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَنْ قَامَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করেদেন। [বুখারী : ১৯০১; মুসলিম : ৭৬০]
ঈমানের অর্থ, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহ কদর রাতে নামাজ আদায়কারীর জন্য যে সাওয়াব নির্ধারণ করেছেন তার ওপর বিশ্বাস রাখা।
ইহতিসাবের অর্থ, পুরস্কারের আশা করা ও সওয়াব কামনা করা। তবে যে ব্যক্তি-ই এ রাতে ইবাদত করবে, সে-ই সওয়াব পাবে। তার সওয়াবের ধারণা থাক বা না-থাক। এ ধরনের নেকী অর্জনের জন্য সওয়াবে ধারণা থাকা শর্ত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿ شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ ﴾ [البقرة: ١٨٥]
‘রমজান এমন একটি মাস যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে’।{বাকারা : ১৮৫}
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লইলাতুল কদর সম্পর্কে বলুন, এটা কি রমজানে না অন্য কোন মাসে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা রমজান মাসেই। আবু যর আবার প্রশ্ন করলেন, এটা কি নবীগণ যতদিন জীবিত আছেন ততদিন অবশিষ্ট থাকবে? নাকি এটা কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। তবে এ রাতের মর্যাদা ও পুরস্কার আল্লাহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে দিয়ে থাকেন।
লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ ১০ দিনে নিহিত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
تَحَرُّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
‘রমাযানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর’।[বুখারী : ২০২০; মুসলিম : ১১৬৯]
তবে বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
تَحَرُّوْا لَيْلَةُ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
‘তোমরা রমাযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ [বুখারী : ২০১৭]

এটা রমজানের ২৭ তারিখ রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কতক সাহাবি রমজানের শেষ ১০ রাতের ২৭ তারিখ রাতে লাইলাতুল কদর হিসেবে স্বপ্নে দেখেছিল। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের মত ২৭ তারিখ রাতকেই লাইলাতুল কদর হিসেবে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট করতে চায় সে যেন ২৭ তারিখ রাতকে নির্বাচন করে নেয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ – يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ – فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ، فَلَا يُغْلَبَنَّ عَلَى السَّبْعِ الْبَوَاقِي»
তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর। যদি তোমাদের কেউ দুর্বল থাকে অথবা অক্ষম হয় তাহলে সে যেন ২৭ তারিখ রাতে ইবাদত করে’। [মুসলিম : ১১৬৫]
উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কদর জ্ঞান করে যে রাতে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছেন, তা হচ্ছে রমজানের ২৭তম রাত।

প্রশ্নঃ পা ছুঁয়ে সালাম করা যাবে?

সাবধান ! মুসলমানদের মাঝে হিন্দুদের আকীদা ও আমল ঢুকে গেছে !!
প্রশ্নঃ পা ছুঁয়ে সালাম করা যাবে? বিয়ের পরে অনেক শ্বশুর-শাশুরি বাধ্য করে পা ছুঁয়ে সালাম করার জন্য, কি করবো?
উত্তরঃ পা ছুঁয়ে সালাম করা, কদমবুসি করা বা পায়ে চুমু খাওয়া, পদধূলি নেওয়া - এ সবগুলো হচ্ছে মুশরেক জাতি হিন্দুদের অনুকরণে নিকৃষ্ট বিদআ’ত। মূলত কবর মাযার পূজারী আর পীর পূজারীরা মুসলমানদের মাঝে এই কুপ্রথা ঢুকিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, এই বেদাতীরা কবর মাযার ও তাদের পীর বুজুর্গদেরকে সেজদাহ পর্যন্ত করে (নাউযুবিল্লাহ), সুতরাং পা ছুঁয়ে সালাম করা এদের কাছে কোন ব্যপারই না।
আফসোস ! আজ পর্যন্ত কোনো হিন্দু বা কাফেরকে দেখলামনা মুসলমানদের কোনো কিছু অনুকরণ করতে। মুসলমান জাতি কেনো হিন্দুয়ানি কালচার ফলো করার জন্য এতো দিওয়ানা হবে?
বিঃ দ্রঃ পা ছুঁয়ে সালাম করতে গেলে মাথা কোনো মানুষের সামনে ঝুঁকানো হয়, যা শিরক। মুসলমানদের মাথা শুধুমাত্র এক আল্লাহর সামনেই নত হয় - নামাযের রুকু ও সিজদাতে, অন্য কারো জন্য না।

সমস্যা হচ্ছে, সমাজের অজ্ঞ লোকদেরকে নিয়ে – জানেনা ইসলাম একফোটা, ক্বুরান হাদীস না জেনেই বড় বড় ফতোয়া ছাড়ে আর নিরিহ বউদেরকে বাধ্য করে এই হারাম কাজ করার জন্য। দেবদাস মার্কা স্বামী খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকে – তার বউকে হারাম কাজে বাধ্য করা হচ্ছে, বাঁধা না দিয়ে বোবা শয়তান সেজে বসে থাকে। মোস্ট প্রবাবলি, এই ধরণের লোকগুলো মানুষকে খুশি করার জন্য নিজেও শ্বশুড়বাড়ি গিয়ে পায়ের ধূলা নেওয়ার জন্য অন্যের পায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এদেরকে ইসলাম শেখানো জরুরী, এদের মূর্খতার কারণে পুরো সমাজে বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, নিজে ইসলাম জানেনা – অন্যদের ইসলাম পালনে বাঁধা সৃষ্টি করে। সমাজের লোকেরা পাপ কাজে লিপ্ত থাকলে যদি আযাব আসে, সেটা কিন্তু ভালো-মন্দ সবাইকে স্পর্শ করে। তাই আমাদের মুসলমানদেরকে জমীন থেকে শিরক ও বেদাত উৎখাত করার জন্য ক্বুরান ও সুন্নাতের দাওয়াত ও তাবলীগে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।
যেই প্রসংগে কথাগুলো বলাঃ
শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি আশা করলেই যে সব আশা পূরণ করতে হবে এমন না, হারাম কাজে তাদের কেন, স্বামীর আদেশও মান্য করা যাবেনা। ইসলামের বিধান হচ্ছেঃ জায়েজ কাজে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে, যদিও সেটা কোনো স্ত্রীর ভালো না লাগে বা সে ঐ বিষয়ের সাথে একমত না হয়।
কিন্তু, স্বামী যদি এমন কোনো কথা বলে, যা কুরআন ও সুন্নাহর বিপরীত তাহলে সেটা মানা যাবেনা। আজকাল অনেক মুসলিম(!) পুরুষ তার স্ত্রী পর্দা করুক পছন্দ করেনা, এই ব্যাপারে স্বামীর অনুগত্য করা চলবেনা। এ প্রসংগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“খালিক (সৃষ্টিকর্তার) অবাধ্য হয়ে কোনো মাখলুকের (সৃষ্টির) আনুগত্য নেই।”
মুসনাদে আহমাদ ও হাকিম।

আর কেউ যদি মানুষকে খুশি করার জন্য আল্লাহর আদেশ অমান্য করে তাহলে তার পরিণতি সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি মানুষকে সন্তুষ্ট করার আল্লাহ তাআ’লাকে অসন্তুষ্ট করে, তাহলে আল্লাহ তাআ’লা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। পরিণতিতে আল্লাহ তাআ’লাকে অসন্তুষ্ট করিয়া যাদেরকে সে সন্তুষ্ট করিয়াছিল, তারাও অসন্তুষ্ট হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে মানুষকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাআ’লা তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং আল্লাহ তাআ’লাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে যাহাদেরকে সে অসন্তুষ্ট করেছিলো, তাদেরকেও আল্লাহ তাআ’লা সন্তুষ্ট করেন। সেই সব অসন্তুষ্ট লোকদের দৃষ্টিতে আল্লাহ তাআ’লা তাকে উত্তম করে দেন, সেই ব্যাক্তির কথা ও কাজকে তাহাদের দৃষ্টিতে শোভণীয় করে দেন।”
সুনানে আত-তিরমিযী।

বিক্ষোভ মিছিল/প্রটেস্ট/ডেমনস্ট্রেশান/সরকার বিরোধী সমাবেশ


প্রশ্নকর্তা শামীমঃ শায়খ আমার আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে বিক্ষোভ মিছিল বা প্রটেস্ট/ডেমনস্ট্রেশান নিয়ে। বর্তমান সময়ে আমাদের ওলামাদের মাঝে ইজমা বা ঐক্যমত আছে মিছিল করা ভুল। কিন্তু কিছু মানুষ IslamQA এর শায়খ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ এর ফতোয়া কোট করে বলে, কিছু শর্তসাপেক্ষে মিছিল করা জায়েজ. অথবা ডা. জাকির নায়েকের কথা নিয়ে আসে যেখানে তিনি ফতোয়া দিয়েছেন - শান্তিপূর্ণ মিছিল করলে কোনো সমস্যা নেই. এই ব্যাপারে কি বলা হবে?
শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাসঃ কিসের কথা বলা হচ্ছে? (শায়খ পরিষ্কার করতে চাচ্ছেন বিষয়টা), মানে কিছু মানুষ জমায়েত হবে আর সম্মিলিতভাবে সরকারের বিপক্ষে স্লোগান দিবে?
প্রশ্নকর্তাঃ হ্যা, হ্যা।
শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাসঃ কোনো সন্দেহ নেই - এইরকম বিশ্বাস করা ভুল, এইরকম বিশ্বাস করা ভুল। এই কথা যেই বলে থাকুক না কেনো, মুনাজ্জিদ বা অন্যকেউ এটা ভুল. দেখুন যেখানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে আছে, মানুষকে দ্বীন পালন করতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছেনা, মানুষকে নামায, রোযা ও অন্য ফরয কাজে বাঁধা দেওয়া হচ্ছেনা, এমন অবস্থায় যখন আমাদের শক্তি-সামর্থ্য নেই (অর্থাত মুসলিমরা দুর্বল), তখন একটা কাফির সরকারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করা জায়েজ নয়। মুসলিমরা দুর্বল অবস্থায় যদি বিদ্রোহ করে বসে তাহলে আরো বেশি বিপদের সম্ভাবনা আছে, মানুষের জীবন যাবে, সম্মান নষ্ট হবে। এটাই হলো প্রকৃত বাস্তবতা। আর যারা ফতোয়া দেয় মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া এইগুলো জায়েজ, তারা (ক্ষতির জন্য) রাস্তা খুলে দিচ্ছে। এই সবকিছু (বর্তমানে এই ধরণের বিক্ষোভ মিছিলের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, মুসলমানদের জীবন যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে) হয়েছে এই মিছিলের কারণেই। প্রথমে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মিশরের জামাতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক একটা দল) এটা শুরু করে এবং পরে (মিশরীয়) সালাফী একটা দল এতে অংশগ্রহণ করে। আর এইজন্য ইখওয়ানের যে ভাগ্য একই ভাগ্য বরণ করেছে মিশরীয় সালাফী এই দলটি, রক্তপাত ও হত্যা। একারণে আর্মি ও পুলিশ এর মাঝে আসে। এই ধরণের বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, সরকার উচ্ছেদ এইগুলো শরীয়তের মাঝে নেই। একটা সরকার সরিয়ে আরেকটাকে আনবে, কয়েক মাস পরে সেই সরকারও একই রকম করবে, আবার তারা বিদ্রোহ করবে...আল্লাহ বলেছেনঃ   
আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক ঈমানদার নয়।
সুরা ইউসুফঃ ১০৩।
আল্লাহ বলছেন বেশিরভাগ মানুষ ঈমানই আনেনা, তাই আবার যখন বেশিরভাগ মানুষ একবার একটা সরকার উতখাত করে পরে নতুন একটাকে এনে আবার সেটাকেও সরাতে চাইবে। আর এইরকম কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। একারণে শরীয়তে এই ধরণের বিক্ষোভ মিছিল মোটেও জায়েজ না। কাফের সরকারের বিরুদ্ধ যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে সেটাকে সরানোর জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি ক্ষমতা না থাকে আর তারা যদি দ্বীন পালন করতে বাঁধা না দেয়, কারো দ্বীন ও ঈমান নিরাপদ থাকে, যেইরকম ছিলো বাদশাহ নাজ্জাশীর সময়ে, তখন এইরকম সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করা জায়েজ নয়।
সরকার ভুল করতেছে, কিন্তু এটার জন্য তারা এই ধরণের কাজে জড়িয়ে পড়বেনা, বিক্ষোভ মিছিল করে স্লোগান দিবেনা।
বিক্ষোভ মিছিলের পক্ষে ফতোয়া যেই দিয়ে থাকুক থাকুক না কেনো, মুনাজ্জিদ বা অন্যকেউ এটা ভুল. আর জাকির নায়েক কোনো মুফতি না, সে মুনাজ্জিদ এবং অন্যদের কথা তাকলিদ (অন্ধভাবে বিশ্বাস) করেছে এবং মানুষের মাঝে প্রচার করছে। জাকির নায়েক কোনো আলেম না।
ফতোয়া দিয়েছেনঃ শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস (হাফিজাহুল্লাহ)।
মসজিদুল হারাম (কাবার) ডেপুটি মুফতি।
মূল ফতোয়ার লিংক, ইংরেজী অনুবাদসহঃ (৬:২০ থেকে ৯:৩০ মিনিট)
http://www.youtube.com/watch?v=1TBpJLQtjew

হে মুমিনগণ,তোমরা ইহুদী ও খ্রীস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
হে মুমিনগণ,তোমরা ইহুদী ও খ্রীস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না।তারা একে অপরের বন্ধু।তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে,সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।আল্লাহ্ জালিমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।(৫১)তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ,তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে,জাকাত দেয় এবং বিনম্র।(৫৫)আর যারা আল্লাহ্,তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে,তারাই আল্লাহর দলে এবং তারাই বিজয়ী।(৫৬)
[সূরা আল মায়েদাহ্]
এখানে প্রথম আয়াতে আমাদেরকে নির্দেশ করা হয়েছে যে,আমরা যেন ইহুদী ও খ্রীস্টানদের সাথে সামঞ্জস্য ও গভীর বন্ধুত্ব না করি।এরপর যদি কেউ এ নির্দেশ অমান্য করে,তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে গণ্য না হয়ে যে সম্প্রদায়ের বন্ধু গ্রহণ করবে,সে সম্প্রদায়ের লোক বলে গণ্য হওয়ার যোগ্য।
মধ্যবর্তী আয়াতগুলো উল্লেখ না করে শেষ দুটি আয়াত উল্লেখ করলাম এই জন্য যে,যাতে আমরা আমাদের বন্ধুদেরকে চিনতে পারি।
আল্লাহ,তাঁর রসূল ও মুমিনবৃন্দ পারস্পরিক বন্ধু হলেই মুসলিমগণ বিজয় অর্জন করবে।

হাদিস অ্যালবাম ২


























হাদিস অ্যালবাম











২৭ শের রাত্রি শবে ক্বদর এই ধারণা ঠিকনা, বরং শেষ দশকের যেকোন বেজোড় রাত্রিতেই হতে পারেঃ


আমাদের দেশের মানুষ মনে করে, শবে ক্বদর হলো রমযানের ২৭ তারিখ রাতে। এটা একটা ভুল ধারণ। বিভিন্ন হাদীস একত্রে করে যে মতটা সবচাইতে শক্তিশালী সেটা হলো, রমযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত্রির যেকোনো একদিন (২১/২৩/২৫/২৭/২৯) শবে ক্বদর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।”
সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সোয়াবের আশায় রোযা রাখে।
তবে শেষ সাত দিনের বেজোড় রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেমন, নিম্নোক্ত হাদীসটিঃ
ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবী রামাযানের শেষ সাত রাত্রিতে স্বপ্ন মারফত শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রিতে। অতঃএব কেউ চাইলে শেষ সাত রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে পারে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম। এ মর্মে আরও হাদীস রয়েছে।
কোন কোন সালাফে-সালেহীন সাতাইশ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবীগণের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) এর মতামত থেকে এটাই বুঝা যায়।
কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এভাবে নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর হওয়ার কোন হাদীস নাই। তাই উপরোক্ত সাহবীদের কথার উপর ভিত্তি করে বড় জোর সাতাইশে রাতে শবে কদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
সঠিক কথা হলঃ শবে কদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।
সুতরাং শুধু সাতাইশ তারিখ নয়, বরং কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে।
কিন্তু শুধু সাতাইশ রাত জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধু সাতাইশ রাত উদযাপন করা বিদআতের অন্তর্ভূক্ত। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেভাবে শুধু সাতাইশ তারিখ নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়েছে সেটা বিদআত ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাই বিদআত বর্জন করে সুন্নতী পন্থায় আমল করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

শবে কদরের বিশেষ দুয়াঃ
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বলঃ
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى
“হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অতঃএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।” তিরমিযী, অনুচ্ছেদ, কোন দুয়াটি শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন হাদীসটি হাসান, সহীহ।
যেই আমলগুলো করতে হবেঃ-
১. নামায – ২ রাকাত ২ রাকাত করে নফল নামায পড়বেন, যতটুকু সম্ভব। সুরা ক্বদর বা সুরা ইখলাস এতোবার পড়তে হবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, অন্য যেকোনো নফল নামাযের মতোই ২ রাকাত নফল নামায পড়তে হয়।

ইসলামে মাতা-পিতার অধিকার



মাতা-পিতার অনেক অধিকার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধিকার নিম্নে উলে­খ করা হল :

মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার : আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে ভাল আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন―
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا. (سورة بني إسرائيل : 23)

তোমার পালনকর্তা আদেশ করছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর।[1]

রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম পিতা-মাতার আনুগত্যকে সর্বোত্তম আমল এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় আমলের মাঝে গণ্য করেছেন।

সাহাবি ইবনে মাসঊদ রা. নবী করিম সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­ামকে জিজ্ঞেস করলেন―

أيّ العمل أحب إلى الله؟ قال الصلاة على وقتها، قال ثم أيّ؟ قال بر الوالدين قال ثم أيّ؟ قال الجهاد في سبيل الله. (رواه البخاري : ৫৫১৩)

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন, সময় মত নামাজ পড়া। তিনি বললেন, অত:পর কোনটি? বললেন, পিতা-মাতার আনুগত্য করা। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।[2]

পবিত্র কোরআন এবং রাসূলের হাদিস পিতা-মাতার প্রতি সুন্দর আচরণের নির্দেশ দেয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন―

وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا. (سورة لقمان : 15)

এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহ অবস্থান করবে।[3]


নবী সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­ামকে প্রশ্ন করা হল―

من أحق الناس بحسن صحابتي؟ قال أمّك قال ثم من؟ قال أمّك، قال ثم من؟ قال أمّك، قال ثم من؟ قال أبوك.(رواه البخاري : ৫৫১৪)

আমার উত্তম ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কে ? তিনি বললেন, তোমার মা। অত:পর কে ? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর কে ? তিনি বললেন: তোমার মা, তিনি আবারো জিজ্ঞেস করলেন : তারপর কে? রাসূলুল­াহ বললেন: তোমার পিতা।[4]

নবী সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম মাতা-পিতার অবাধ্য হতে বারণ করেছেন এবং বলেছেন এটি কবিরা গোনাহ। নবী সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেন:―

ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ قلنا بلى يا رسول الله، قال الإشراك بالله، وعقوق الوالدين وكان متكئاً فجلس فقال: ألا وقول الزور، وشهادة الزور… (رواه البخاري : ৫৫১৯)

আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না ? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! বলুন। তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া। রাসূল এতক্ষণ হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। অতঃপর সোজা হয়ে বসে বললেন, সাবধান ! আর মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া…।[5]

পিতা-মাতার অবাধ্যতা যেমন তাদের উপর রাগ করা, তাদের আনুগত্য না করা, তাদের কথায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, তাদেরকে ধমক দেওয়া, তাদের প্রয়োজন প্রকাশ করলে এবং কোন কথা বললে উফ বলে বিরক্তি প্রকাশ করা।

তাদের আনুগত্য করা : তাদের আদেশ-নিষেধ মানা। কিন্তু তা নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে :
ক) আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার নির্দেশ না দেয়া।

খ) আদেশ মান্য করার উপর সন্তানের সামর্থ্য এবং শক্তি থাকা।

তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলা : কোন অবস্থায় চিৎকার-চেচামেচি করা যাবে না। যখন তারা কথা বলবে অথবা কিছু চাইবে তখন উঁহু বলা যাবে না। পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে এই অধিকারটির প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হয়। আল্লাহ বলেন—
﴿إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴾ (سورة الإسراء : 23)

তাদের মধ্য কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিওনা বরং তাদেরকে শিষ্টচার পূর্ণ কথা বল ।[6]

পিতা-মাতার সাথে নম্র ব্যবহার এবং তাদের সামনে সংযত আচরণ : কোন বিশেষ জ্ঞান, সম্পদ অথবা কোন পদ লাভ করার কারণে নিজেকে তাদের থেকে উঁচু মনে না করা। বরং সর্বদা মনে করবে আমি সেই ছোট সন্তান যাকে তারা কোলে তুলে নিত এবং যার ময়লা পরিষ্কার করত এবং যাকে খাওয়াত যখন সে নিজে খেতে পারত না। সে কি করে তাদের উপর বড়ত্বের দাবি করতে পারে? আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন—
﴿وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ ﴾ (سورة الإسراء : 24)

তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও।[7]


পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা : সন্তানের কর্তব্য হল তাঁদের জন্য জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যুর পর দোয়া করা। আল্লাহ বলেন―
وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا. (سورة الإسراء : 24)

এবং বল : হে পালনকর্তা! তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম কর যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।[8]

আর নবী সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেন―

إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة: إلا من صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له. (رواه مسلم : ৩০৮৪)

মানুষ যখন মারা যায় তিনটি আমল ছাড়া সমস্ত আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। চলমান দান, অথবা উপকারী ইলম, অথবা সৎ সন্তান―যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে।[9]

পিতা-মাতাকে অভিশপ্তকরনের কারণ না হওয়া : কাউকে অভিশাপ দেয়া এমনিতেই হারাম ও অবৈধ আর এ অবৈধতার মাত্রা আরো বেড়ে যায় যদি এ অভিশাপ প্রদান , পিতা- মাতাকে অভিশপ্ত করণের কারণ হয়। নবী করিম সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেন―
إن من أكبر الكبائر أن يلعن الرجل والديه، قيل يا رسول الله كيف يلعن الرجل والديه؟ قال يسب أبا الرجل فيسب أباه و يسب أمه فيسب أمه. (رواه البخاري : ৫৫১৬)

সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ হল কোন ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেওয়া। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল ! কোন ব্যক্তি কীভাবে নিজ পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয় ? রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেন, কারো পিতাকে গালি দিল , আর সে তার পিতাকে গালি দিল । কারো মাতাকে গালি দিল আর সে তার মাকে গালি দিল।[10]

এ যদি হয় অবস্থা তাহলে সে ব্যক্তির অবস্থা কত মারাত্মক, যে সরাসরি নিজ পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

পিতা-মাতার আত্মীয়-স্বজন এবং সাথিদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখা, আর তাদেরকে সম্মান করা। পিতা-মাতার জীবদ্দশায় এবং তাদের মৃত্যুর পর: নবী সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেন―
إن من أبر البر صلة الولد أهل ود أبيه. (رواه مسلم : ৪৬৩১)

সবচেয়ে বড় সৎকর্ম হল সন্তান তার পিতার বন্ধুর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।[11]

তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া এবং প্রয়োজনে শিক্ষা দেওয়া : মানুষের মাঝে পিতা-মাতা সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখে উপদেশ এবং সাহায্য পাওয়ার। তাদের কোন অন্যায় যে দেখবে, সে নম্রতা ও আদবের সাথে তাদেরকে সাবধান করবে। কেননা এর দ্বারা তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে।
ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, যখন কোন সন্তান তার পিতাকে অপছন্দনীয় কোন কাজে দেখবে, তাকে কঠোরতা এবং খারাপ ব্যবহার ছাড়া বোঝাবে এবং কঠিন ভাষায় কথা বলবে না। নতুবা তিনি সন্তানের কথা শুনবেন না। তার সাথে অপরিচিত ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করা চলবে না।

তারপরও পিতা সন্তানের উপদেশ কখনও কখনও গ্রহণ না-ও করতে পারেন, সে জন্যে উত্তম হল, পরোক্ষভাবে অন্যের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া। যেমন, মসজিদের ইমামকে ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলতে অনুরোধ করবে , যার প্রয়োজন তার পিতার রয়েছে। অথবা পিতাকে এমন কিতাবের সন্ধান দেবে, যার মাঝে তার ভুল শুধরে দেবার উপাদান রয়েছে। অথবা বইটি তার সামনে মেলে ধরবে, কিন্তু তাকে সতর্ক করার কথা বুঝতে দেবে না। তাহলে তিনি হয়তো তা পড়া এবং গ্রহণ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এছাড়া অন্য যে কোন মাধ্যম অবলম্বন করতে পারে, যার দ্বারা তার উপকার হয়। কোন অবস্থায় সরাসরি তাকে উদ্দেশ্য করবে না। কেননা এর দ্বারা হতে পারে তিনি দূরে সরে যাবেন।

তাদের সংগ ও সাহচর্য লাভ করা : এটা সন্তান এবং পিতা-মাতার মাঝে সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির জন্যে কাম্য। এর অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। তার কিছু নিম্নে উলে­­খ করা হল।
ক) সর্বদা তাদের সাথে পরামর্শ করা এবং তাদের মতামত গ্রহণ করা।

খ) তাদেরকে উপহার দেওয়া। রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেন,

تهادوا تحابوا. (رواه مالك في المؤطأ : ১৪১৩)

তোমরা পরস্পর উপহার বিনিময় কর, তাতে ভালোবাসা সুদৃঢ় হবে।[12]

গ) ভ্রমণে তাদের সঙ্গ দেবে―ইত্যাদি। আর এটা আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের মাঝে শামিল―

وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا. (سورة لقمان : ১৫)

এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহ অবস্থান করবে।[13]

কতিপয় জরুরি আদব : সন্তানের উচিত পিতা-মাতার কাউকে নাম ধরে না ডাকা। তাঁদের বসার পূর্বে না বসা, তাদের সামনে দিয়ে না হাঁটা। তবে যদি তারা সামনে বাড়িয়ে দেয় তাদের কোন কষ্ট দূর করার জন্য, তাহলে কোন ক্ষতি নেই।
তাদের সেবা করবে, তাদের আহবানে সাড়া দেবে, তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলবে। তারা কথা বলার সময় কথা বলবে না, তাদের ভুল ধরবে না অথবা বলবে না আপনি জানেন না। প্রত্যেক শরিয়তসম্মত এবং বৈধ বিষয়ে সর্বদা পিতা-মাতাকে খুশী রাখার চেষ্টা করা উচিত। তারা সন্তানদেরকে নামাজি এবং সৎ হিসাবে ভালোবাসবে এবং সৎ লোকদের সঙ্গী হিসাবে ভালোবাসবে এবং সন্তানের শিক্ষা এবং উপরে উঠার মনোভাবকে ভালোবাসবে। বরং সন্তানকে নিয়ে গর্ববোধ করবে। অতএব, উলে­খিত গুণাবলি অর্জন করা পিতা-মাতার অনুগত হওয়ার শামিল।

মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার পরিণতি

অবাধ্য সন্তানের দুনিয়া আখেরাত দুটিই ধ্বংস হয়ে যায়।

মাতা-পিতার অবাধ্যতা দোজখে প্রবেশের কারণ।
এতে দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে যায়।
নিজ সন্তানও অনুরূপ অবাধ্য হয়।
সমস্ত কাজে ও নিজ বয়সের বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র :

[1]আল-ইসরা : ২৩

[2]বুখারী: ৫৫১৩

[3] লুকমান : ১৫

[4]বুখারী: ৫৫১৪

[5]বুখারী: ৫৫১৯

[6] আল-ইসরা : ২৩

[7] আল-ইসরা : ২৪

[8] আল-ইসরা : ২৪

[9] মুসলিম : ৩০৮৪

[10] বুখারী: ৫৫১৬

[11] মুসলিম : ৪৬৩১

[12] মুয়াত্তা মালেক : ১৪১৩

[13] লুকমান : ১৫

Thursday, 17 July 2014

জুমআর নামাযের শেষ তাশাহুদে ইমামের সাথে নামাযে শামিল হলে কি করবে?

কোনমানুষ যদি জুমআর দিন শেষ তাশাহুদে ইমামের সাথে নামাযে শামিল হয় তবে তারজুমআ ছুটে গেল। সে ইমামের সাথে নামাযে শামিল হবে ঠিকই কিন্তু চার রাকাআতযোহর আদায় করবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاةَ
যেব্যক্তি নামাযের এক রাকাআত পেয়ে গেলসে পূর্ণ ছালাত পেয়ে গেল এ হাদীছথেকে বুঝা যায় যে ব্যক্তি এক রাকআতের কম নামায পাবে সে নামায পেল না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনযেব্যক্তি জুমআর নামাযের এক রাকাত পেল সে জুমআর নামায পেয়ে গেলঅর্থাৎইমামের সালাম ফেরানোর পর দ্বিতীয় রাকআত আদায় করলে সে জুমআর নামায পেয়ে গেল

সালাত ত্যাগকারীর বিধান


প্রশ্ন ১: আমার বড় ভাই তিনি সালাত পড়েন না, এ কারণে আমি কি তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখব, না সম্পর্ক ছিন্ন করবো? প্রকাশ থাকে যে, তিনি আমার সৎ ভাই (বিমাতার ছেলে)।

উত্তর ১:
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করে, যদি সে সালাত ওয়াজিব হওয়ার (অপরিহার্যতার) বিষয়টি স্বীকার করে, তবে ওলামাদের -দু’টি মতের সবচেয়ে সহীহ- মত অনুযায়ী সে বড় কুফরী করবে। আর যদি সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারকারী-অবিশ্বাসী হয়, তা হলে ওলামাদের সর্বসম্মত মতে সে কাফের হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে নাবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদ হলো :
رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلاَمُ؛ وَعَمُوْدُهُ الصَّلاَةُ؛ وَذُرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ ِفيْ سَبِيْلِ اللَّهِ
“কর্মের মূল হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে সালাত এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বা সংগ্রাম করা।” [হাদীসটি ইমাম আহমাদ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন]
নাবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো এরশাদ হলো,
(( بَيْنَ الرَّجُلِ وَالْكُفْرِ وَالشِّرْكِ تَرْكُ الصَّلاَةِ ))
“ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ছেড়ে দেয়া।” [মুসলিম]
নাবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো এরশাদ করেন :
(( اَلْعَهْدُ الَّذِيْ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ))
“আমাদের এবং তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে প্রতিশ্রুতি, তা হলো সালাত। অতএব যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।” [হাদীসটি ইমাম আহমাদ এবং আহলে সুনান সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন]
সালাত ত্যাগ করা কুফরী, এর কারণ হলো যে, যে ব্যক্তি সালাত ওয়াজিব হওয়া অস্বীকার করে সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল, আহলে ইলম ও ঈমান এর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মিথ্যা প্রতিপন্নকারী। যে ব্যক্তি অলসতা করে সালাত ছেড়ে দিল তার থেকে উক্ত ব্যক্তির কুফরী খুবই মারাত্বক। উভয় অবস্থাতেই মুসলিম শাসকগণের প্রতি অপরিহার্য হলো যে, তারা সালাত ত্যাগকারীদেরকে তাওবাকরার নির্দেশ দিবে, যদি তওবাহ না করে,তা হলে এ’বিষয়ে বর্ণিত দলীলের ভিত্তিতে তাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ প্রদান করবে।
অতএব সালাত ত্যাগকারীকে বর্জন করা এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ওয়াজিব এবং সালাত ত্যাগ করা থেকে আল্লাহর কাছে তওবাহ না করা পর্যন্ত তার দা’ওয়াত গ্রহণ করা যাবে না। সাথে সাথে তাকে ন্যায়ের পথে আহ্বান ও নসিহত প্রদান করা ওয়াজিব এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সালাত ত্যাগ করার কারণে যে শাস্তি তার প্রতি নির্ধারিত আছে তা থেকে সাবধান করতে হবে। এর ফলে হয়তো বা সে তাওবা করতে পারে এবং আল্লাহ পাক তার তওবাহ কবুলও করতে পারেন।
ফাতওয়া প্রদানে : মাননীয় শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায, (রাহেমাহুল্লাহ) “ফাতাওয়া ওলামাইল বালাদিল হারাম” নামক কিতাব থেকে সংগৃহীত। পৃ – ১৪৫
 
প্রশ্ন ২: কোন ব্যক্তি যদি তার পরিবার-পরিজনকে সালাত পড়ার জন্য নির্দেশ দেয়, কিন্তু তারা তার নির্দেশের প্রতি যদি কোন গুরুত্ব না দেয়, তা হলে সে তার পরিজনের সাথে কি ধরনের ব্যবহার করবে? সে কি তাদের সাথে [এক সাথে] বসবাস এবং মিলে মিশে থাকবে, না কি সে বাড়ী থেকে অন্যত্র চলে যাবে ?

উত্তর ২:
এ সমস্ত পরিবার যদি একেবারেই সালাত না পড়ে, তা হলে তারা অবশ্যই কাফের, মুরতাদ (স্বধর্মত্যাগী) ও ইসলাম থেকে খারিজ-বহির্র্ভূত হয়ে যাবে এবং উক্ত ব্যক্তির জন্য তাদের সাথে একই সংগে অবস্থান এবং বসবাস করা জায়েয নয়। তবে তাদেরকে [সংশোধনের জন্য] দাওয়াত বা আহ্বান করা তার প্রতি ওয়াজিব। বিনয় এবং প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদেরকে বারবার সালাত পড়ার জন্য আহ্বান জানাতে হবে। এর ফলে হয়তো আল্লাহ পাক তাদেরকে হিদায়েত দান করতে পারেন, কারণ সালাত ত্যাগকারী কাফের। আল্লাহ পাক [এ'থেকে] রক্ষা করুন।
এ বিষয়ে আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাত বা হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের উক্তি এবং সঠিক বিবেচনা-পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হলো।
 
প্রথমে পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ :
 
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সম্পর্কে এরশাদ করেন :
] فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ الصَّلاَةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ[
"অতএব যদি তারা তাওবা করে নেয় এবং সালাত পড়তে থাকে ও যাকাত দিতে থাকে, তবে তারা তোমাদের ধর্মের দিক দিয়ে ভাই হয়ে যাবে; আর আমি জ্ঞানী লোকদের জন্যে বিধানাবলী বিস্তারিত বর্র্ণনা করে থাকি।" [সূরা আত তাওবাহ : ১১]
আয়াতের অর্থ থেকে বোঝা যায় যে, যদি তারা উক্ত কাজগুলো না করে, তা হলে তারা আমাদের [মুসলমানদের] ভাই নয়। তবে গোনাহ যত বড়ই হোক না কেন, গোনাহর কারণে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হবে না। কিন্তু ইসলাম থেকে খারিজ হওয়ার কারণে ঈমানী বন্ধন শেষ হয়ে যাবে।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...