Saturday, 28 March 2020

সম্মিলিত আজান' প্রসঙ্গে বিদআতিদের পেশকৃত হাদিস সমূহের পর্যালোচনা এবং খণ্ডন


আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি যে, মহামারী, মহা দুর্যোগ, ভাইরাস ইত্যাদি থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে আজান দেয়া দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত-বিদআত। ইসলামি শরিয়তে এর নূন্যতম কোন ভিত্তি নাই। মহামারীর সময় সাহাবিগণও কখনো এমনটি করেন নি। কিন্তু বিদআতিরা তাদের বিদআত ঠিক রাখার জন্য এর সপক্ষে কয়েকটি হাদিস পেশ করে সহজ-সরল মুসলিমদেরকে ভুল বুঝিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। আর কিছু নিতান্ত জাহেল শ্রেণীর মানুষ এসব হাদিস অন্ধের যষ্টির মতো একমাত্র সম্বল হিসেবে পেয়ে মহাখুশিতে ফেসবুকের যত্রতত্র শেয়ার করে চলেছে!

সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাস ও মহামারী থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে আজানের পক্ষে বিদআতিরা যে সকল হাদিস দলিল হিসেবে পেশ করেছে সেগুলো আসলে কতটুক সঠিক বা গ্রহনযোগ্য সে সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া আমাদের সকলের জন্য খুবই জরুরি।

তাহলে এবার মূল আলোচনায় আসা যাক।

মূলত: মহামারী, রোগ-ব্যাধি বা ব্যাপক দুর্যোগে সম্মিলিত অথবা একাকী আজানের পক্ষে একটিও সহিহ হাদিস নাই। এ প্রসঙ্গে তারা মৌলিকভাবে চারটি হাদিস পেশ করে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এগুলোর মধ্যে দুটি জঈফ (দুর্বল) পাশাপাশি অপব্যাখ্যার শিকার আর দুটি বানোয়াট বা জাল।

নিম্নে উক্ত চারটি হাদিস সম্পর্কে জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের মতামতের আলোকে হাদিসের মান এবং প্রাসঙ্গিক সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা তুলে ধরা হল:

▮ ১ম হাদিস: জঈফ (দুর্বল)

Monday, 23 March 2020

রমাদানের মাঝে একটি বিকট শব্দে অনেক মানুষ মারা যাওয়ার হাদিস টির তাহকিক জানতে চাই



এ হাদিস সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মতামত:
◉ শাইখ আলবানী বলেন: হাদিসটি موضوع বা বানোয়াট।
◉ ইবনুল জাওযী তার আল মাউযুআত বা বানোয়াট হাদিস সংকলন গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। (৩/১৯১)
তিনি বলেন: "هذا حديث لا يصح এ হাদিসটি সহিহ নয়। কারণ এর সনদে আব্দুল ওয়াহাব নামক একজন বর্ণনাকারী আছে, তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ শক্ত আপত্তি করেছেন। যেমন:
○ ক. উকাইলী বলেন: عبد الوهاب ليس بشيء “আব্দুল ওয়াহাব কিছুই নয়।” (এ বাক্যটি দ্বারা বর্ণনাকারীর প্রতি কঠোর সমালোচনা বুঝায়।)
○ খ. ইবনে হিব্বান বলেন: كان يسرق الحديث ؛ لا يحل الاحتجاج به “সে হাদিস চুরি করত। তার বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়।”
○ গ. দারাকুতনী বলেন: منكر الحديث মুনকারুল হাদিস। এ ছাড়াও সনদে আরও সমস্যা আছে।
(শাইখ আলবানী রহ. এর সিলসিলা যঈফার ৬০৭৮ ও ৬০৭৯ নং হাদিস পর্যালোচনা থেকে সংক্ষেপিত)
◉ ইমাম যাহাবী বলেন: :باطل এ হাদিসটি বাতিল। (তারতীবুল মাউযুআত, ২৭৮)
◉ হাইসামী বলেন, এই হাদিসের বর্ণনা সূত্রে আব্দুল ওহাব ইবনুয যাহহাক নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে যে মুহাদ্দিসীনদের দৃষ্টিতে মাতরূক বা পরিত্যাজ্য। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/৩১৩)
◯ ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন:
في أحاديث لا تصح في التواريخ المستقبلية
“অগ্রিম তারিখ নির্ধারণ করে বিভিন্ন ঘটনার ঘটার বেশ কিছু হাদিস পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো সহিহ নয়।” সে সব হাদিসের মধ্যে একটি হল:
يكون صوت في رمضان إذا كانت ليلة النصف منه ليلة جمعة ، يصعق له سبعون ألفا ، ويصم سبعون ألفا
“অর্ধ রমজানের জুমার রাতে একটি আওয়াজ হবে। এতে সত্তর হাজার মানুষ বেহুশ হয়ে পড়ে যাবে....সত্তর হাজার মানুষ বোবা হয়ে যাবে.....।” (আল মানারুল মুনীফ ৯৬ পৃষ্ঠা)
সুতরাং পরিশেষে বলব, আমাদের কর্তব্য, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং মিথ্যা, বানোয়াট বা বিশুদ্ধ সূত্রে অপ্রমানিত হাদিস থেকে সাবধান হওয়া। কেননা বানোয়াট, জাল-জঈফ হাদিস দ্বারা ইসলামের লাভ হয় না বরং ক্ষতি হয়। পরিণতিতে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জেনেশুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করে তার পরিণত হয় জাহান্নাম।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং হকের পথে অবিচল রাখুন। আমীন।
▬▬▬▬▬●●●▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Tuesday, 17 March 2020

উসমানী আজানকে বিদ‘আত আখ্যানে ‘উলামায়ে সুন্নাহর অবস্থান


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি।
পর সমাচার এই যে, অধুনা বঙ্গদেশের প্রখ্যাত দা‘ঈ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের একটি বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। যে বক্তব্যে তিনি তৃতীয় সুপথপ্রাপ্ত খলিফা ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) প্রবর্তিত জুমু‘আহর প্রথম আজানকে বিদ‘আত আখ্যা দিয়েছেন। এরপর এ নিয়ে তালিবুল ‘ইলম দা‘ঈ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। ফলে বিন ইউসুফ সাহেব তাঁর বক্তব্যের ক্ল্যারিফিকেশন দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে নতুন বক্তব্য দেন। যেখানে তিনি ‘উসমানী আজানকে বিদ‘আত বলার ব্যাপারটি অস্বীকার করে বলেন, তিনি বর্তমানে প্রচলিত হিশামী ও হাজ্জাজী আজানকে বিদ‘আত বলেছেন, ‘উসমানী আজানকে নয়।
এদিকে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক ভাইয়া বিভিন্ন জায়গায় কমেন্ট করে স্বীয় পিতার কর্মকে ডিফেন্ড করেন এবং বলেন, তাঁর পিতা আসলে উসমানী আজানকে বিদ‘আত বলেননি। কিন্তু বিন ইউসুফ সাহেব সম্প্রতি সুরিটোলা মসজিদে জুমু‘আহর খুতবায় আবার বলেন, ‘উসমানী আজান বিদ‘আত। এটাই তিনি গত ত্রিশ বছর থেকে বলে আসছেন বলে দাবি করেন। কারণ তিনি এবার সাহাবী ইবনু ‘উমার থেকে একটি দুর্বল হাদীস পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে, জুমু‘আহর প্রথম আজান বিদ‘আত। যদিও প্রথমবার এ আজানকে বিদ‘আত বলার সময় তিনি তা জানতেন বলে মনে হয় না।
মজার ব্যাপার হলো, তাঁর পুত্র শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ ভাইয়া আবার পরবর্তী যুগের কিছু ‘উলামার ভুল মত প্রচার করে বলেছেন, ‘উসমানী আজান বিদ‘আত। তিনি যাদের নাম নিয়েছেন, তাদের একজন আবার হাজুরী নামক হাদ্দাদী বিদ‘আতী। মানে নিজের মতের পক্ষে কাউকে পাওয়া গেলেই তার ব্যাপারে আর খোঁজখবর না নিয়ে তাকে দিয়ে নিজেকে ডিফেন্ড করার মতো মানসিকতা তাঁর মধ্যে আছে। ভোজবাজির মতো তাঁদের এমন দ্বিমুখী মত ব্যক্ত করার ঘটনাটি থেকে আরেকটি বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া যায় যে, তাঁদের মধ্যে সততার অভাব আছে, বিশেষ করে দা‘ওয়াতী কথাবার্তার ক্ষেত্রে।

Saturday, 7 March 2020

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে শাইখ সুদাইসের নির্দেশনা


বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন সবার মাঝে এক মহা আতংক ও আশংকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মঙ্গলবার পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে সাপ্তাহিক পাঠদানে মক্কা ও মদিনাবিষয়ক অধিদফতরের প্রধান এবং মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস এ বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ।' (সূরা বাকারা: ১৫৫)
আল্লাহ মানুষকে নানা মুসিবত দিয়ে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় ফেলেন। এটি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের বিপরীত কিছু নয়।
অন্যত্র আল্লাহর ইরশাদ হয়েছে, (হে নবী) আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না। কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন; তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত। (সূরা তওবা: ৫১) একজন মুসলিম সদা আল্লাহর সিদ্ধান্ত এবং ফয়সালার প্রতি ঈমান রাখে।
ভয়াবহ এই করোনাভাইরাস ব্যাধিতে মানুষ আজ তিন ভাগে বিভক্ত। দুই পক্ষ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির দু’প্রান্তে। তৃতীয় একটি পক্ষ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। একপক্ষ শুধু ভরসা করে কিন্তু বাহ্যিক কোনো উপায় অবলম্বন করে না। আরেক পক্ষ নানাপন্থা অবলম্বন করলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে না। (যা সম্পূর্ণ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি)।
অপরদিকে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের বৈশিষ্ট্য হল, তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার পাশাপাশি সুরক্ষার নিমিত্তে পূর্ণ সতর্কতা নিয়ে নানা উপায় অবলম্বন করে। এ ব্যাধিটি ছড়িয়ে না পড়তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে সৌদি রাষ্ট্রের পরিচালিত বাস্তবসম্মত নীতি এটিই।

Friday, 6 March 2020

করোনা ভাইরাস

জুমআর খুতবাহঃ
মূলঃ শাইখ ডঃ আব্দুল ওয়াহিদ হাফিযাহুল্লাহ
অনুবাদঃ শাইখ মুখলিসুর রহমান মাদানী

বিষয়ঃ করোনা ভাইরাস।

মৃত্যুর পদ্ধতি ও উপায় যতই ভিন্ন হোক না কেন মৃত্যু কিন্তু একই এবং তার সময়ও পরিবর্তন হয় না। কবি বলেনঃ
من لم يمت بالسيف مات بغيره *** تعددت الأسباب والموت واحد
অর্থঃ যে তরবারীতে মরে না সে অন্যভাবে মৃত্যু বরণ করে, মৃত্যুর কারণ ভিন্ন হলেও মৃত্যু কিন্তু একই। (মরণ তো মরণি)। এর চেয়েও উত্তম হল আল্লাহর বাণীঃ
(فإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلا يَسْتَقْدِمُونَ(
অর্থঃ যখন কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন এক মূহুর্ত বিলম্ব এবং আগে মৃত্যু দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়েই প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকে।
এ বাস্তবতা সকলেরই জানা। কিন্তু খুব কম লোকই সে অনুযায়ী আমল করে। আর এ বাস্তবতা না জানার সবচেয়ে বড় কারণ হলঃ আল্লাহর উপরে আস্থার অভাব ও দূর্বলতা। যে ব্যক্তি জানে যে, তক্বদীর লিখিত হয়ে আছে, আর আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত কোন বিষয়ই সংঘটিত হয় না, আল্লাহ্ যা নির্ধারণ করেছেন তা সংঘটিত হবেই সেখান থেকে কারও পালানোর কোন সুযোগ বা উপায় নেই।
যখন কোন ব্যক্তির হৃদয়ে ইহা গেঁথে যায়, সে এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে যায়, তখন তার হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে। তক্বদীরের ব্যাপারে তার চিন্তা ও টেনশন দূর হয়ে যায়। তার হৃদয় থেকে যাবতীয় সংশয় ও বাতিল চিন্তা বিদায় নেই।
তাই আমাদের সকলের উপর আবশ্যক হলঃ অন্তরে আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা তৈরী করা। আর ইহাকে কুরআন ও হাদীস দ্বারা সুশোভিত করা যাতে আমরা প্রশান্তিময় জীবন যাপন করতে পারি।
বর্তমানে সময়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে সকলে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। আজকের খুতবায় এ সম্পর্কে আমরা গুরুপত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্।

Tuesday, 3 March 2020

করোনা ভাইরাস


.
[এটি একটি আরবি নিবন্ধের অনুবাদ। নিবন্ধটির প্রণেতা সম্মানিত শাইখ ‘আল্লামাহ ড. ‘আব্দুর রাযযাক্ব বিন ‘আব্দুল মুহসিন আল-বদর (হাফিযাহুল্লাহ)। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়ায়, আমরা সম্পূর্ণ নিবন্ধের সরল বঙ্গানুবাদ বাঙালি মুসলিম পাঠকবর্গের করকমলে পেশ করছি। – অনুবাদক]
·
সম্প্রতি লোকদের মজলিসে একটি রোগ নিয়ে খুব আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে, যে রোগকে লোকেরা ভয় পাচ্ছে, আর তা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ার এবং তাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে। যারা এসব নিয়ে আলোচনা করছে, তাদের কেউ কেউ ঠাট্টা ও রসিকতা করছে, আবার কেউ কেউ লোকদেরকে হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বিষয়টি বর্ণনা করছে। অনুরূপ আরও উদ্দেশ্য রয়েছে, যার ফলে এই ব্যাধিকে ঘিরে চলছে নানাবিধ আলোচনা। প্রকৃতপ্রস্তাবে সর্বক্ষণ ও সর্বাবস্থায় এবং প্রতিটি দুর্যোগ ও বিপদে মুসলিমের ওপর আবশ্যিক দায়িত্ব হলো মহান আল্লাহকে আঁকড়ে ধরা। পাশাপাশি ওই দুর্যোগ সম্পর্কে আলোচনা, কিংবা তার চিকিৎসা-প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে শার‘ঈ নীতিমালা, সংরক্ষিত মৌলনীতি এবং মহান আল্লাহর প্রতি ভীতি ও শঙ্কার ওপর ভিত্তি করে পথ চলা অত্যাবশ্যক।
অধুনা যে বিষয়টি মানবজীবনে অভাবনীয় গুরুত্বের রূপ পরিগ্রহণ করেছে, সে সম্পর্কে এখানে ছয়টি পয়েন্টে আলোচনা করা হলো।
·
প্রথম পয়েন্ট:
সকল মুসলিমের ওপর অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে সে তাঁর মহান প্রতিপালককে আঁকড়ে ধরবে, তাঁর ওপর ভরসা করবে এবং এই বিশ্বাস রাখবে যে, সকল কিছু তাঁর ওপরই ন্যস্ত রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلاَّ بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ “আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো বিপদই আপতিত হয় না এবং যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন।” [সূরাহ তাগাবূন: ১১]

করোনা ভাইরাস Coronaviruses (CoV): বিশ্বমানবতার সামনে করণীয় এবং আত্মরক্ষার ৬টি দুআ


▬▬▬◄❖►▬▬▬
এ পৃথিবীতে যত বিপদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তার মূল কারণ মানুষের সীমালঙ্ঘন এবং অন্যায় কৃতকর্ম। তাই আল্লাহ তাআলা মাঝেমধ্যে সৃষ্টির মধ্যে তার শিক্তমত্তার প্রকাশ ঘটান যেন, আল্লাহর অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘণকারী মানুষ সচেতন হয় এবং তাঁর পথে ফিরে আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
“স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।” (সূরা রুম: ৪১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا
“যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী এবং এমন সব রোগ-ব্যাধির ছড়িয়ে পড়ে যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ৩০/ কলহ-বিপর্যয় (كتاب الفتن) হা/৪০১৯, সনদ হাসান)
যাহোক, বর্তমানে কারো অজানা নেই যে, চীন থেকে উৎপত্তি আল্লাহর এক অদৃশ্য সেনাবাহিনী তথা ‘করোনা’ নামক ভাইরাস আক্রমণে সমগ্র বিশ্ব ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। এতে আবারও প্রমাণিত হল, সত্যি মানুষ আল্লাহর অতিশয় দুর্বল সৃষ্টি। যারা কারণে তারা আল্লাহর খুব সামান্য এক ভাইরাস (যা খালি চোখে দেখা যায় না) এর কাছে আজ পর্যদুস্ত ও অসহায়। অথচ তারা মনে করে, তারা বিজ্ঞান, টেকনলোজি, আবিষ্কার ও শক্তিমত্তায় বহুদূর পৌঁছে গেছে! যথার্থই আল্লাহর ভাষায় মানুষ "অতীব অবিচারী এবং মূর্খ।" (সূরা আহযাব: ৭২)
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।
এখন এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য মানব জাতির সামনে কী করণীয় রয়েছে তা সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
◯◯ ‘করোনা’ নামক ধেয়ে আসা এক মহা বিপর্যের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানবজাতির করণীয় হল:
◉ ১. সব ধরণের কুফরি, শিরক, নাস্তিকতা, অশ্লীলতা, হারাম ও অন্যায়-অপকর্ম পরিত্যাগ করে মহান স্রষ্টার একমাত্র মনোনীত জীবনাদর্শ ইসলামের পথে ফিরে আসা।
◉ ২. নিজেদের পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
◉ ৩. বিপদ-বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য মহাশক্তিধর আল্লাহ কাছে দুআ ও আরোধনা করা।
◉ ৪. মহামারি আক্রান্ত এলাকায় গমন না করা এবং সেখানকার অধিবাসীগণ সেখান থেকে বের না হওয়া।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "যখন তোমরা কোনো অঞ্চলে মহামারী বিস্তারের সংবাদ শোন, তখন সে এলাকায় প্রবেশ করো না। আর তোমরা যেখানে অবস্থান কর, সেখানে মহামারী বিস্তার ঘটলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেও না"। (সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ ৭৬/ চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৮)
◉ ৫. এ বিশ্বাস রাখা যে, মহামারি মুমিনদের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। সে যদি এতে মারা যায় তাহলে সে শহিদের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। যেমন: হাাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَنِ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي: أَنَّه عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللّهُ عَلى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللّهَ جَعَلَه رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِيْنَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّه لَا يُصِيْبُه إِلَّا مَا كَتَبَ اللّهُ لَه إِلَّا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِ شَهِيْدٍ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন, এটা একটি আজাব (শাস্তি)। তিনি যার উপর চান পাঠান। কিন্তু মু’মিনদের জন্য তা তিনি রহমত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে, তাছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শাহীদের সাওয়াব। (সহিহ বুখারী)
মুসনাদে আহমদে আবূ আসীব থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
فَالطَّاعُوْنُ شَهَادَةٌ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَرَحْمَةٌ لَهُمْ وَرِجْسٌ عَلَى الْكَافِرِ.
“মহামারি হল মু’মিনদের জন্য শাহাদাত এবং রহমত স্বরূপ আর কাফিরদের জন্য শাস্তি স্বরূপ।” (সহিহ তারগিব, হা/১৪০১)

Monday, 2 March 2020

দায়েশ-ইখওয়ান সম্পর্ক ও তাকফীরী উৎপাদনের ইতিহাস


·
মদিনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আল-হাফিযুল মুতক্বিন, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ড. মুহাম্মাদ বিন হাদী আল-মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রদত্ত ফতোয়া:
প্রশ্ন: ❝ইনি জিজ্ঞেস করছেন, তানযীমুদ দায়েশ (ISIS) এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের মতাদর্শের মধ্যে সম্পর্ক কী?❞
উত্তর: ❝তারা (দায়েশ) তাদেরই (ব্রাদারহুডের) অন্তর্ভুক্ত। তারা তাদের একটি অংশ। দায়েশ জামা‘আতুন নুসরা (নুসরা ফ্রন্ট) থেকে এসেছে। জামা‘আতুন নুসরা হলো প্রাক্তন দল, যেটা আফগানিস্তানে উপস্থিত ছিল, যার নাম আল-কায়েদা। আর আল-কায়েদা হলো ‘আব্দুল্লাহ ‘আযযাম ও উসামা বিন লাদেনের দল। তারা সবাই সাইয়্যিদ কুতুবের মানহাজের অনুসারী, এবং সাইয়্যিদ কুতুব হাসান আল-বান্নার দাওয়াতের ফলস্বরূপ (তাদের সাথে) সংযুক্ত হয়েছে। এটা হলো সনদ, আপনারা যদি চান তাহলে নিজেরা গবেষণা করুন তাদের কিতাব থেকে। মাহমুদ ‘আব্দুল হালীমের “ইখওয়ান আল-মুসলিমীন : আহদাসুন সান‘আতিত তারীখ” পড়ুন; তিনি ছিলেন (ব্রাদারহুড) সংগঠনের একজন নেতা এবং হাসান আল-বান্নার সহকর্মী। তিনি এই বিষয়ে চার খণ্ড লিখেছেন।
তারা হলো শ্রেষ্ঠ মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমি আপনাদেরকে একটা কাহিনী শোনাব, যেটা এই কিতাবের মধ্যে পাওয়া যায়। আপনারা এই কিতাবে খুঁজে দেখতে পারেন। যেহেতু আমি ইতোমধ্যে এর রেফারেন্স দিয়েছি। এবং আপনি (এই কিতাবে) খুঁজে দেখার আগ পর্যন্ত মুহাম্মাদ ইবনু হাদী থেকে কিছু গ্রহণ করিয়েন না। সে বলেছে, “যখন আমরা, এবং যখন মুসলিম ব্রাদারহুড কোনো আর্থিক সংকটে পড়ত, আমরা ফিলিস্তিনের জন্য চাঁদা ওঠানোর স্লোগান দেওয়া শুরু করতাম।”
মানে তারা ফিলিস্তিনের জন্য চাঁদা চাইত। কিন্তু আসলে চাঁদা কাদের জন্য ছিল? আসলে এগুলো ছিলো তাদের ও তাদের পকেটের জন্য। আপনারা কয়েক বছর আগে দেখেছেন—বেশি আগে নয়—(তারা টাকা ওঠাচ্ছে) অন্যদের হিফয করানোর জন্য এবং এই ছোটো বাক্সগুলো, তারা এগুলো চাঁদার জন্য চালনা করত। তারা এগুলো সংগ্রহ করত আর এগুলো কোথায় যেত? এগুলো সন্ত্রাসীদের কাছে যেত। এটা বিদ্যমান আছে, গুগলে দেখুন, আপনারা এগুলো অডিয়ো ও ভিডিয়ো-সহ পাবেন।

Wednesday, 26 February 2020

ওয়াক্ত শুরুর পূর্বেই আজান দেওয়ার বিধান


·
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দা’ইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রদত্ত ফতোয়া—
س:‏ ما حكم من أذن قبل دخول الوقت بعشر دقائق، وهل عليه الإعادة، أرجو الجواب‏؟‏ جزاكم الله خير الجزاء‏.‏
جـ‏:‏ لا يجوز الأذان قبل دخول الوقت، ومن أذن وتبين له أن أذانه وقع قبل دخول وقت الصلاة التي أذن لها وجب عليه أن يعيد الأذان بعد دخول الوقت، إلا صلاة الفجر فإنه يؤذن لها الأذان الأول قبل دخول الوقت، ثم يؤذن لها بعد دخول الوقت‏.‏ وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم‏.‏
প্রশ্ন: “ওয়াক্ত শুরু হওয়ার মিনিট দশেক আগেই যে ব্যক্তি আজান দিয়েছে, তার বিধান কী? তাকে কি পুনরায় আজান দিতে হবে? আমি (এ ব্যাপারে) উত্তর আশা করছি। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম পারিতোষিক দান করুন।”
উত্তর: “ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে আজান দেওয়া জায়েজ নয়। যে ব্যক্তি আজান দিয়েছে, এবং তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, যেই নামাজের জন্য সে আজান দিয়েছে, সেই নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই তার আজান সম্পন্ন হয়েছে, তাহলে ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পরে পুনরায় আজান দেওয়া তার জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক)। কেবল ফজরের নামাজ ব্যতীত। ফজরের নামাজের জন্য ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে প্রথম আজান দিতে পারবে, এরপর ওয়াক্ত শুরু হলে (দ্বিতীয়) আজান দিবে। [১]
আর আল্লাহই তৌফিকদাতা। হে আল্লাহ, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আপনি দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
ফতোয়া প্রদান করেছেন—
চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)।
ডেপুটি চেয়ারম্যান: শাইখ ‘আব্দুর রাযযাক্ব ‘আফীফী (রাহিমাহুল্লাহ)।
মেম্বার: শাইখ ‘আব্দুল্লাহ বিন ক্বা‘ঊদ (রাহিমাহুল্লাহ)।
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. যেহেতু হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “বিলালের আজান যেন তোমাদেরকে সেহরি খাওয়াতে বাধা না দেয়।” (আবূ দাঊদ, হা/২৩৪৬; সনদ: সাহীহ) রাসূল ﷺ আরও বলেন, “ইবনে উম্মে মাকতূমের আজান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করো। কারণ সে ফজর উদয় না হলে আজান দেয় না।” (সাহীহ বুখারী, হা/১৯১৮)
·
তথ্যসূত্র:
ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ, ফতোয়া নং: ৫৯৫৩; প্রশ্ন নং: ২০; গৃহীত: আল-ইমান ডট কম।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

Tuesday, 25 February 2020

একটি বিভ্রান্তি ও তার অপনোদন


ইমাম ইসহাক (রহ।) কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল সালাতে কয়টা ফরজ? জবাবে তিনি বলেছিলেন: ‘সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবই অপরিহার্য। যেটা আমরা বলি সালাতে তাকবির থেকে সালাম পর্যন্ত সবই অপরিহার্য।’ তারপর তিনি বলেছেন –‘কোন ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে বলবে সালাতের ৭টি কিংবা ৮টি ফরজ, অনুরুপ সুন্নাতও!’ অতপর তিনি বলেছেন –‘কোন ব্যক্তি যদি সালাতে ফরজ সুন্নাত ভাগ করে তবে জেনে রাখ এটা একটা বিদ’আত এবং সে ব্যক্তি বিদ’আতি।’ ক্ষমাসায়েলে ইমাম আহম্মদ ও ইসহাক -১৯১ পৃষ্টাঁ
অনুরূপ উক্ত ভাগাভাগিকে ইমাম ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) 'যিনদীক' (নাস্তিক)দের কথা বলেছেন। (সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' ৮/১১৪)
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'নামাযের প্রত্যেকের কর্ম আমাদের নিকট ফরয।' (মানাক্বিবুশ শাফেয়ী)
আর এখান থেকেই অনেকে ধারণা করেন, যাঁরা নামাযের কর্মাবলীকে ফরয-সুন্নত ভাগাভাগি ক'রে উল্লেখ করেছেন, তাঁরা কাফের বা বিদআতী। অনেকে ধারণা করেন, নামাযে রফয়ে-য়্যাদাইন ইত্যাদি (সুন্নতী আমল) না করলে নামায বাতিল!
জ্ঞানীরা প্রশ্ন করেন, তাহলে নামাযে ভুল হলে কোন ভুলের জন্য নামায বাতিল হয়ে যায়, কোন ভুলের জন্য সহু সিজদা করলে নামায শুদ্ধ হয়ে যায়, আবার কোন কোন ভুলের জন্য সহু সিজদাও দিতে হয় না এবং নামায শুদ্ধ হয়ে যাও। এ কথাও তো ইমাম ও উলামাগণ উল্লেখ করেছেন। তাহলে এর মানে কী?
ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ)ও স্পষ্ট বলেছেন, 'নামাযে যা কিছু (কথা ও কর্ম) আছে, সবই ওয়াজেব। অবশ্য তার কিছু বর্জন করলে নামায ফিরিয়ে পড়তে হয় এবং কিছু বর্জন না করলে নামায ফিরিয়ে পড়তে হয় না। (নামায শুদ্ধ হয়ে যায়।)'
তাহলে কেন তাঁরা এমন ঢালাও কথা বলে গেলেন?
এর উত্তরে ইবনে রজব হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত, যেহেতু (নামাযের কোন অংশকে) 'সুন্নত' বললে এই পরিভাষা অনেক সময় তার প্রতি শৈথিল্য, অবজ্ঞা বা বর্জনের দিকে ঠেলে দেয়। আর সেটা হবে শরীয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যাতে আছে এমন বহু পদ্ধতিতে উৎসাহ প্রদান ও অনুপ্রেরণা দান, যার ফলে কর্ম করতে ও তার সওয়াব অর্জন করতে নামাযী উদ্বুদ্ধ হয়। আর 'ওয়াজেব' (বা ফরয) শব্দ প্রয়োগ করলে সেই কর্ম করতে এবং তাতে আগ্রহী হতে বেশি উদ্বুদ্ধ হওয়া যায়। (যদিও প্রকৃতপ্রস্তাবে সে কর্ম ওয়াজেব নয়।)
শরীয়তের পরিভাষায় এমন কর্মের ব্যাপারে 'ওয়াজেব' শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা বর্জন করলে গোনাহ হয় না এবং অধিকাংশের মতে তার বর্জনকর্তা শাস্তিযোগ্য নয়। যেমন জুমআর গোসল এবং অনেক অথবা অধিকাংশ উলামার নিকট অর্ধ রাতের গোসল (উদ্দেশ্য অজানা)। এই গোসল ওয়াজেব বলার উদ্দেশ্য, তা করার উপর উৎসাহ ও তাকীদ প্রদান করা।' (জামেউল উলূমি ওয়াল-হিকাম ১/২৭৯)
এ মর্মে শায়খ মুহাম্মাদ বিন উষাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'কোন মানুষের জন্য সঙ্গত নয়, যখন সে রসূল ﷺ-এর নির্দেশ শুনবে, তখন জিজ্ঞাসা করবে, তা ওয়াজিব না মুস্তাহাব? যেহেতু তিনি বলেছেন,
(( فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيءٍ فَأتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَن شَيْءٍ فَدَعُوهُ ))।

Tuesday, 18 February 2020

প্রেসিডেন্ট এর্দোগান : এক রূপকথার খলীফা!


.
প্রারাম্ভিকা,
বর্তমানে একদল লোক বিপর্যস্ত উম্মাহর আহাজারিতে উপায়ান্তর না দেখে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে উম্মাহর খলিফা, সুলতান হিসেবে এমনসব ব্যক্তিদের বেছে নিচ্ছেন যাদের গন্তব্য পথই উম্মাহর চাহিদার বিপরীত!
যাদের কার্যকলাপগুলো মুসলিম উম্মাহর সাথে উপহাস, ধোঁকাবাজি,বেইমানির নামান্তর!
.
অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর ত্রাণকর্তা হিসেবে কখনো মাহথির, কখনো আহমেদিনেজাদ,কখনো মুরসি অথবা এর্দোগানকে সপ্নদ্রস্টা বানিয়ে একের পর এক প্রবন্ধ, বই, আর্টিকেল যে হারে প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে তাতে শুধু আমি কেন, যেকোন সচেতন মুসলিমের আপত্তি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়! তাই পাঠকদের কাছে বিষয়টি খোলাসা করত: আমরা আজ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এর্দোগানকে নিয়ে সামান্য আলোচনা করব। ওয়া বিল্লাহীত তাওফ্বীক।
.
জন্ম ও পরিচিত :
১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি ইস্তাম্বুলে জন্মগ্রহণ করেন এযুগের কথিত সুলতান,তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এর্দোগান! বাবা ছিলেন তুর্কি কোস্টগার্ডের একজন সদস্য হওয়াতে তেমন সচ্ছলতা ছিল না পরিবারে! ছাত্রজীবনে এরদোগান National Turkish Student Uninon নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, তিনি ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কাসিমপাসা ক্লাবের সেমি-প্রফেশনাল ফুটবলার ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। তার আগ পর্যন্ত তিনি ফুটবলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
.
রাজনৈতিক জীবন :
.
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে প্রেসিডেন্ট এরর্দোগান নাজিমুদ্দিন এরবাকানের দল 'সাদত পার্টির' সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০০১ সালে প্রকাশ্যে সাদত পার্টি বাদ দিয়ে নিজেই "জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একেপি" নামে একটি দল গঠন করেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আজ থেকে আমার পূর্বের পোশাকটি (আগের ইসলামীক দলের পোশাক) খুলে ফেললাম।’

Wednesday, 12 February 2020

হারাম মাল-সম্পদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার এবং তাওবা করার উপায়:



এটি জানা বিষয় যে, যে পাপের সম্পর্ক আল্লাহর অধিকার নষ্ট করার সাথে রয়েছে, তা থেকে তাওবা করার জন্য তিনটি শর্ত আছে: সেই পাপ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা, সেই পাপের কারণে লজ্জাবোধ করা এবং ভবিষ্যতে তা আর না করার সংকল্প নেওয়া। কিন্তু পাপের সম্পর্ক যদি মানুষের অধিকারের সাথে থাকে (অর্থাৎ মানুষের অধিকার নষ্ট করে থাকে যেমন চুরি করা, ডাকাতি করা, অন্যায়ভাবে কারো মাল আত্মসাৎ করা, গীবত করা, গালি দেওয়া ইত্যাদি) তাহলে সেই পাপ ক্ষমার জন্য উপরোক্ত তিনটি শর্তের সাথে সাথে আরো একটি শর্ত যোগ হবে। আর তা হচ্ছে, সে অধিকার তার মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া আর যদি অধিকার হরণ কারো সম্ভ্রমে আঘাত করার মাধ্যমে হয় তাহলে তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। এ কারণে হারাম ভক্ষণকারীর জন্য তাওবার তিনটি শর্ত যথেষ্ট নয় কারণ এর পরেও তার নিকট হারাম মাল রয়ে যায়। তাই তা থেকেও নিষ্কৃতি জরুরি। সে হারাম মাল যদি সুদি মাল হয়, তাহলে তা থেকে মুক্তির পথ মহান আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন।
 اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ  [البقرة: 278، 279].
(হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন কর; যদি তোমরা মুমিন হও। আর যদি তোমরা সূদ বর্জন না কর, তাহলে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ সুনিশ্চিত জানো। কিন্তু যদি তোমরা তাওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা কারো উপর অত্যাচার করবে না এবং নিজেরাও অত্যাচারিত হবে না।) [বাকারাহ/২৭৮-২৭৯]
আর তা যদি প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি কিংবা এই ধরণের উপায়ে গৃহীত অর্থ হয়, তাহলে জরুরি ভিত্তিক তা অর্থের মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি সেই অর্থের মালিক এমন হয় যে, সে মারা গেছে তাহলে সেই অর্থ তার ওয়ারিসদের ফিরিয়ে দিবে। আর চেষ্টার পরেও যদি সেই অর্থের মালিকের সন্ধান না মিলে তাহলে উলামাগণ বলেছেন যে, তা যেন সেই মালিকের পক্ষ হতে দান করে দেওয়া হয়; এমন নয় যে, সে তার জন্য দান করবে। কারণ মহান আল্লাহ পবিত্র তিনি পবিত্রতা ব্যতীত কোনো কিছু কবুল করেন না। বরং সে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এমন করবে। এ নিয়তে যে, অর্থের মালিক যেন সওয়াব পায় এবং তার নিজের তাওবা যেন কবূল হয়। আর সে অন্যের আর্থিক অধিকারের দায়বদ্ধতা হতে নিষ্কৃতি পায়; ঐ দিন আসার পূর্বে যে দিন দীনার দিরহাম হবে না। সে দিনের অবস্থা তো শুধু এমন হবে যে, পুন্য সমূহ নিয়ে নেওয়া হবে নচেৎ অত্যাচারিত ব্যক্তির পাপরাশী তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«أتدرون من المفلس؟» قالوا: المفلس فينا من لا درهم له ولا متاع. فقال: « إن المفلس من أمتي من يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة ويأتي وقد شتم هذا وقذف هذا وأكل مال هذا وسفك دم هذا وضرب هذا فيعطى هذا من حسناته وهذا من حسناته؛ فإن فنيت حسناته قبل أن يقضي ما عليه أخذ من خطاياهم وطرحت عليه ثم طرح في النار» [رواه مسلم].
“তোমরা জানো কী? দরিদ্র কে? সাহাবাগণ বললেন: আমাদের মধ্যে দরিদ্র সে যার টাকা-কড়ি নেই। নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমার উম্মতে দরিদ্র তারা যারা কিয়ামত দিবসে স্বলাত, সিয়াম ও যাকাত নিয়ে আসবে কিন্তু তার অবস্থা এমন হবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি অপবাদ দিয়েছে, অন্যায় ভাবে কারো মাল আত্মসাৎ করেছে, কারো রক্ত প্রবাহ করেছে এবং কাউকে মারধর করেছে। তাই তখন তার নেকীগুলো নিয়ে একে ওকে দিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে দিতে দিতে ফয়সালা শেষ হবার পূর্বে যদি তার নেকী সমূহ শেষ হয়ে যায়, তখন তাদের পাপ সমূহ এই ব্যক্তির উপর চাপানো হবে অত:পর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”। [মুসলিম]
তাই হে ভাই! যে হারামের সাথে জড়িত সে যেন মৃত্যু আসার পূর্বে এর সমাধান করে নেয়; নচেৎ তা জাহান্নামের পাথেয় হবে। অন্যায় ভাবে যাদের মাল-সম্পদ গ্রাস করেছো কিয়ামতের মাঠে তাদের দাবি করার পূর্বে এর সমাধান করে নাও, নাহলে তোমার নেকী সমূহ তাদের দিয়ে দেওয়া হবে কিংবা তাদের পাপসমূহ তোমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে। তাই হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আল্লাহকে ভয় করো!

Shaykh Abdur Raquib

Wednesday, 15 January 2020

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের গালিদাতাকে হত্যা করতে হবে, কিন্তু যদি সে তাওবাহ করে?


.
বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل تقبل توبة من سب الله عز وجل أو سب الرسول صلى الله عليه وسلم؟
الإجابة: اختلف في ذلك على قولين:
القول الأول: أنها لا تقبل توبة من سب الله، أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم، وهو المشهور عند الحنابلة، بل يقتل كافراً، ولا يصلى عليه، ولا يدعى له بالرحمة، ويدفن في محل بعيد عن قبور المسلمين.
القول الثاني: أنها تقبل توبة من سب الله أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم، إذا علمنا صدق توبته إلى الله، وأقر على نفسه بالخطأ، ووصف الله تعالى بما يستحق من صفات التعظيم، وذلك لعموم الأدلة الدالة على قبول التوبة كقوله تعالى: {قل يا عبادي الذين أسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا من رحمة الله إن الله يغفر الذنوب جميعاً}، ومن الكفار من يسب الله ومع ذلك تقبل توبتهم، وهذا هو الصحيح إلا أن ساب الرسول، عليه الصلاة والسلام تقبل توبته ويجب قتله، بخلاف من سب الله فإنها تقبل توبته ولا يقتل؛ لأن الله أخبرنا بعفوه عن حقه إذا تاب العبد، بأنه يغفر الذنوب جميعاً.
أما ساب الرسول صلى الله عليه وسلم، فإنه يتعلق به أمران:
أحدهما: أمر شرعي، لكونه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا يقبل إذا تاب.
الثاني: أمر شخصي، وهذا لا تقبل التوبة فيه لكونه حق آدمي لم يعلم عفوه عنه، وعلى هذا فيقتل ولكن إذا قتل، غسلناه، وكفناه، وصلينا عليه، ودفناه مع المسلمين.
وهذا اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وقد ألف كتاباً في ذلك اسمه: «الصارم المسلول في تحتم قتل ساب الرسول»، وذلك لأنه استهان بحق الرسول صلى الله عليه وسلم، وكذا لو قذفه صلى الله عليه وسلم فإنه يقتل ولا يجلد.
فإن قيل: أليس قد ثبت أن من الناس من سب الرسول صلى الله عليه وسلم، في حياته وقبل النبي صلى الله عليه وسلم، توبته؟
أجيب بأن هذا صحيح، لكن هذا في حياته صلى الله عليه وسلم، والحق الذي له قد أسقطه، وأما بعد موته فإنه لا يملك أحد إسقاط حقه صلى الله عليه وسلم، فيجب علينا تنفيذ ما يقتضيه سبه صلى الله عليه وسلم، من قتل سابه، وقبول توبة الساب فيما بينه وبين الله تعالى.
فإن قيل: إذا كان يحتمل أن يعفو عنه لو كان في حياته، أفلا يوجب ذلك أن نتوقف في حكمه؟
أجيب: بأن ذلك لا يوجب التوقف لأن المفسدة حصلت بالسب، وارتفاع أثر هذا السب غير معلوم والأصل بقاؤه.
فإن قيل: أليس الغالب أن الرسول صلى الله عليه وسلم، يعفو عمن سبه؟
أجيب: بلى، وربما كان العفو في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، متضمناً المصلحة وهي التأليف، كما كان صلى الله عليه وسلم يعلم أعيان المنافقين ولم يقتلهم، «لئلا يتحدث الناس أن محمداً يقتل أصحابه»، لكن الآن لو علمنا أحداً بعينه من المنافقين لقتلناه، قال ابن القيم رحمه الله: «إن عدم قتل المنافق المعلوم إنما هو في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم فقط».
প্রশ্ন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ (عَزَّ وَجَلَّ) কিংবা রাসূল ﷺ কে গালি দিয়েছে, তার তাওবাহ কি কবুল করা হবে?”
উত্তর: “এ ব্যাপারে ‘আলিমগণ দুটি মতে মতদ্বৈধতা করেছেন। যথা:
১ম মত: যে ব্যক্তি আল্লাহ কিংবা রাসূল ﷺ কে গালি দিয়েছে, তার তাওবাহ কবুল করা হবে না। এটি হাম্বালীদের প্রসিদ্ধ অভিমত। বরং গালিদাতাকে (মুসলিম শাসক কর্তৃক) কাফির হিসেবে হত্যা করতে হবে। তার জানাযাহ’র নামাজ পড়া হবে না, তার জন্য রহমতের দু‘আ করা হবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থান থেকে দূরের কোনো স্থানে তাকে কবর দিতে হবে।
২য় মত: যে ব্যক্তি আল্লাহ কিংবা রাসূল ﷺ কে গালি দিয়েছে, তার তাওবাহ কবুল করা হবে, যখন আমরা জানব যে, সে সত্যিকারার্থেই আল্লাহ’র কাছে তাওবাহ করেছে, ভুল করেছে বলে স্বীকার করেছে এবং মহান আল্লাহকে তাঁর প্রকৃত সিফাতে তা‘যীম (সম্মানসূচক বিশেষণ) দ্বারা বিশেষিত করেছে। যেহেতু ব্যাপকার্থবোধক দলিলসমূহ প্রমাণ করছে যে, তার তাওবাহ কবুল করা হবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহ’র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’।” (সূরাহ যুমার: ৫৩)

আনুগত্যের ক্ষেত্রে শির্ক


পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি। অতঃপর:
শির্কের অন্যতম একটি প্রকার হলো আনুগত্যের শির্ক। আনুগত্য পাওয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার কেবল আল্লাহর। এক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে অন্যের আনুগত্য করা শির্কের আওতাভুক্ত। ‘উলামা ও পীর-দরবেশের অন্যায় আনুগত্য যেমন শির্কের অন্তর্ভুক্ত, আমীর-উমারা ও শাসকদের অন্যায় আনুগত্যও তেমনি শির্কের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ বলেছেন, وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَىٰ أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ ۖ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ “আর শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্ররোচনা দেয়, যাতে তারা তোমাদের সাথে বিবাদ করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয় তোমরা মুশরিক।” (সূরাহ আন‘আম: ১২১)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ‘আদী বিন হাতেম (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত আছে, একদা তিনি শুনলেন, রাসূল ﷺ পাঠ করছেন, اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ “তারা (ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির লোকেরা) আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ধর্মীয় নেতা ও পুরোহিতদেরকে রব হিসেবে বরণ করে নিয়েছিল।” (সূরাহ তাওবাহ: ৩১) তখন আমি নবীজিকে বললাম, ‘আমরা তো তাদের ইবাদত করি না।’ তিন বললেন, ‘আচ্ছা আল্লাহর হালাল ঘোষিত জিনিসকে তারা হারাম বললে, তোমরা কি তা হারাম হিসেবে গ্রহণ করো না? আবার আল্লাহর হারাম ঘোষিত জিনিসকে তারা হালাল বললে, তোমরা কি তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করো না? তখন আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন বললেন, ‘এটাই তাদের ইবাদত।’ [তিরমিযী, হা/৩০৯৫; সনদ: হাসান]
কিন্তু এই শির্কের মানদণ্ড কী, আর কখন অন্যায় আনুগত্য বড়ো শির্ক হয়, কখনই বা ছোটো শির্ক হয়—তা জানা খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আমরা ‘উলামাদের থেকে তিনটি বক্তব্য পেশ করছি।
·
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন—

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কী?


ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
— মাদীনাহ ইউনিভার্সিটির হাদীস ফ্যাকাল্টির সাবেক ডিন এবং ‘আক্বীদাহ ডিপার্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান, আল-ইমাম, আল-‘আল্লামাহ ড. মুহাম্মাদ আমান ইবন ‘আলী আল-জামী (রাহিমাহুল্লাহ):
.❝বর্তমানে এই শ্রেণির লোকদের সংখ্যা অনেক। বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা, যারা তাদের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ব্যাপারে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলে, “ইসলামের বিধিবিধান বর্তমান যুগের জন্য উপযোগী নয়।”
প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কাফির এবং মুরতাদ (ধর্মত্যাগী), চাই সে প্রাচ্যবাসী হোক কিংবা পাশ্চাত্যবাসী। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইহুদি-ধর্ম ও খ্রিষ্টধর্মের চেয়ে ভয়ংকর কুফুরি। কেননা ইসলাম কিতাবধারী ইহুদি-খ্রিষ্টানদের প্রাক-কিতাব তাওরাত ও ইনজীলকে মর্যাদা দিয়েছে এবং মুসলিমদের জন্য তাদের জবেহকৃত পশু ভক্ষণ করা হালাল করেছে।
আল্লাহ বলেছেন, وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ “যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, তাদের খাবার তোমাদের জন্য বৈধ।” (সূরাহ মাইদাহ: ৫) মুসলিমদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাদের জবেহ বৈধ। উক্ত আয়াতে ‘খাবার’ বলার মাধ্যমে তাদের জবেহকৃত পশু উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
ইসলাম তাদের মধ্যকার সতী মহিলাদের সাথে আমাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে হালাল করেছে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর জবেহ হালাল নয়। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী নারী কোনো মুসলিমের জন্য হালাল নয়। কেননা তারা মুরতাদ।
মুরতাদ, অগ্নিপূজক ও মূর্তিপূজকদের সাথে হিন্দু ও বৌদ্ধদের কোনো পার্থক্য নেই। যারা ভূপৃষ্ঠের (মানবরচিত) ধর্মে বিশ্বাস করে। তাদের কোনো আসমানী ধর্ম নেই। তারা সবাই কুফফার। ইসলামের অনুযায়ী ইহুদি-খ্রিষ্টানদের চেয়েও কঠোর আচরণ করা হবে তাদের সাথে।
আমাদের জেনে রাখা উচিত, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সবাই মুরতাদ ও কুফফার। আমাদের আরও জানা উচিত যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হলো—সকল ধর্মকে অস্বীকার করা এবং কোনো ধর্মের সাথে সম্পৃক্ততা না রাখা। তারা এটাকে বলে স্বাধীনতা! অথচ তা পশুর মতো স্বাধীনতা।❞
উৎস: @alandalussalafe
অনুবাদক: আব্দুর রহমান মৃধা

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...