Wednesday, 15 January 2020

যার জন্য তাক্বলীদ বৈধ, আর যার জন্য বৈধ নয়


·
মক্কাস্থ উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং মাসজিদুল হারামের সম্মানিত মুদার্রিস, বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ড. ওয়াসিউল্লাহ বিন মুহাম্মাদ ‘আব্বাস (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৬৭ হি./১৯৪৮ খ্রি.] বলেছেন—
❝আমরা এ ব্যাপারে বলি, মহান আল্লাহ কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন। যাঁরা তাঁর দ্বীনের প্রতি ইমান আনয়ন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাহাবীবর্গ ছিলেন প্রথম সারির অগ্রণী। যাঁরা ইসলাম ও ইমানকে সাদরে বরণ করে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সাহাবীগণই ছিলেন সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। তাঁরা ইমামুল আইম্মাহ ﷺ ব্যতীত অন্য কারও তাক্বলীদ (অনুসরণ) করতেন না।
তারপরে তাবি‘ঈ ও তাঁদের পরবর্তীগণকে কিতাব, সুন্নাহ ও সাহাবীবর্গের আসার (বর্ণনা) থেকে যে ফতোয়া দেওয়া হতো, তাঁরা কেবল তারই অনুসরণ করতেন। তখন উম্মতের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাক্বলীদ করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রশ্নই ছিল না।
তাক্বলীদের ইতিহাস থেকে এটা সুবিদিত হয়েছে যে, উক্ত কথা (নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাক্বলীদ করা ওয়াজিব মর্মের বক্তব্য) সোনালী (তিন) যুগ সমাপ্ত হওয়ার পরে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিভিন্ন দলিলের ভিত্তিতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ‘ইলমের ক্ষেত্রে মানুষ নিম্নোক্ত কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
১. বড়ো ‘উলামা, যাঁরা উম্মতের মধ্যে মুজতাহিদ হিসেবে পরিচিত। তাঁদেরকে ‘উলামা ও তালিবুল ‘ইলমরা চিনতে পারেন।

সংবিধান প্রণয়ন করা কি বড়ো কুফর?


·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
এটি আমাদের কাছে সুবিদিত যে, আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান বাদ দিয়ে অন্য বিধান দিয়ে ফায়সালা করা কঠিন গুনাহের কাজ। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তা বড়ো কুফরের পর্যায়েও পৌঁছে, যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর আইন দিয়ে ফায়সালা করার আবশ্যকতা অস্বীকার করে, কিংবা অন্য আইন দিয়ে ফায়সালা করা বৈধ মনে করে, অথবা অন্য আইনকে আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম বা সমপর্যায়ের মনে করে, কিংবা অন্য আইনকে আল্লাহর আইন বলে চালিয়ে দেয়, তাহলে উক্ত কাজের কাজি নিঃসন্দেহে কাফির হয়ে যাবে।
কিন্তু কেউ যদি সেসব না করে স্রেফ অন্য আইন দিয়ে ফায়সালা করে, তাহলে সে কাফির হবে না। তবে উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোর মতো আরেকটি ক্ষেত্র আছে, যাকে বলা হয় তাক্বনীন বা তাশরী‘। এর অর্থ—বিধান রচনা করা বা আইন প্রণয়ন করা। কোনো ব্যক্তি যদি বিধান রচনা করে সেই বিধান দিয়ে ফায়সালা করে, তাহলে সে কাফির হবে কিনা তা নিয়ে ‘উলামাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। আমি আবারও বলছি, এই মাসআলাহয় ‘উলামাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে।
·
সৌদি আরবের প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলুশ শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)’র মতে সংবিধান প্রণয়নকারী শাসক কাফির হয়ে যাবে। কেননা তিনি মনে করেন, তার দ্বারা সংবিধান প্রণীত হওয়াই প্রমাণ করে, সে এই কাজ বৈধ মনে করে। পক্ষান্তরে আইম্মায়ে সালাসাহ তথা সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম ইবনু বায, ইমাম আলবানী ও ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহ)’র মতে সংবিধান প্রণয়নকারী কাফির হবে না।
খারিজীদের সাথে ইমাম মুহাম্মাদের বিশাল পার্থক্যটি এখানেই যে, তিনি সংবিধান প্রণয়ন করাকে বড়ো কুফর মনে করলেও সরাসরি শাসককে ‘কাফির’ আখ্যা দেন না। কিন্তু খারিজীরা সংবিধান প্রণেতা শাসককে তাকফীরের শর্তাবলি পূরণ না হতেই এবং তাকফীরের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিলীন না হতেই ‘কাফির’ ফতোয়া দিয়ে বসে।
·
প্রিয় পাঠক, এখন কথা হলো, এই মাসআলাহয় দুটো মতের মধ্যে সঠিক কোনটি। শরিয়তের দলিলপ্রমাণ থেকে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সংবিধান প্রণয়ন করা ছোটো কুফর—এই মতটিই সঠিক। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা সৌদি আরবের প্রখ্যাত দা‘ঈ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ বুনদার বিন নায়িফ আল-‘উতাইবী (হাফিযাহুল্লাহ)’র লেখা নান্দনিক গ্রন্থ ‘আল-হুকমু বি গাইরি মা আনযালাল্লাহ’ থেকে একটি অধ্যায় অনুবাদ করে পেশ করছি। যে গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সদস্য ‘আল্লামাহ মুহাম্মাদ বিন হাসান আলুশ শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ)।
শাইখ বুনদার (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের আলোচ্য অধ্যায়ে সংবিধান প্রণয়ন করা যে বড়ো কুফর নয়—তা খুবই চমৎকারভাবে অনেক দলিলপ্রমাণ দিয়ে তুলে ধরেছেন। তাহলে চলুন, পড়ে ফেলি প্রামাণ্য নিবন্ধখানি। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।

মুফাউয়্যিদ্বাহ ও সুন্নী-রাফিদ্বী ঐক্যকামী মুফতি থেকে ফতোয়া নেওয়ার বিধান


·
সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—
প্রশ্ন: “সম্মানিত শাইখ, আল্লাহ আপনাকে সৎকর্মের তৌফিক দিন। কতিপয় আশ‘আরী, যারা তাফউয়ীদ্ব [১] করার ‘আক্বীদাহকে সালাফদের দিকে সম্পৃক্ত করে, আর মনে করে যে, আশ‘আরী ‘আক্বীদাহই হলো বিশুদ্ধ ‘আক্বীদাহ, এবং যারা রাফিদ্বী শিয়াদের সাথে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা বৈধ মনে করে—তাদের থেকে ফিক্বহ সংক্রান্ত ফতোয়া নেওয়া কি জায়েজ হবে?”
উত্তর: “না। এরকম লোক হলো নিজে ভ্রষ্ট এবং অপরকে ভ্রষ্টকারী। যে পথভ্রষ্ট ব্যক্তিবর্গের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, আবার আল্লাহর সিফাতকে তা’উয়ীল করার দিকে মানুষকে আহ্বান করে। এ ধরনের ব্যক্তির নিকট থেকে ‘ইলম নেওয়া যাবে না এবং তাকে ফতোয়াও জিজ্ঞেস করা যাবে না; যতক্ষণ সেখানে মুহাক্বক্বিক্ব ‘উলামা রয়েছেন, সালাফী মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘উলামা রয়েছেন। কেবল তাঁদের কাছে প্রশ্ন করতে হবে এবং তাঁদের কাছেই ফতোয়া চাইতে হবে।”
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. তাফউয়ীদ্ব শব্দের অর্থ ন্যস্ত করা, সোপর্দ করা প্রভৃতি। আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এর পারিভাষিক অর্থ—সিফাতের শব্দাবলির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, আর শব্দের অর্থ ও প্রকৃতত্বের ব্যাপারে স্বীকৃতি-অস্বীকৃতি কোনোটাই না করে এরূপ বলা যে, এগুলো আমি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম।
[২]. তা’উয়ীল শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করা। আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এর পারিভাষিক অর্থ—কোনো সিফাতের প্রকাশ্য অর্থকে অগ্রহণীয় কোনো অর্থে রূপান্তর করা। যেমন: আল্লাহর সিফাত ‘ইয়াদ’—যার অর্থ ‘হাত’—এর তা’উয়ীল করে এরূপ বলা যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুদরত বা ক্ষমতা।
·
তথ্যসূত্র:
https://www.youtube.com/watch?v=76PoZMll2GY (অডিয়ো ক্লিপ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

যারা রাফিদ্বী শিয়াদেরকে ‘কাফির’ বলে না—তাদের বিধান


·
সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—
প্রশ্ন: “হে সম্মাননীয়, আল্লাহ আপনার ওপর অনুগ্রহ করুন। রাফিদ্বী শিয়া, যারা সাহাবীদের গালিগালাজ করে, মুমিনদের মা ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) কে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, এবং বলে, ‘কুরআন অসম্পূর্ণ’—তাদেরকে যে ব্যক্তি ‘কাফির’ আখ্যা দেয় না, অথচ সে জানে যে তারা এগুলো সবই করে থাকে, সেই ব্যক্তির বিধান কী?”
উত্তর: “এটি ইসলাম বিনাশী কর্মাবলির মধ্যে অন্যতম একটি কর্ম। যারা আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং আল্লাহ যে দোষ থেকে ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) কে মুক্ত ঘোষণা করেছেন, সে দোষে তাঁকে অভিযুক্ত করে, তারা কাফির। কেননা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, তাঁরা মুসলিমদের ইজমা‘কে (মতৈক্যকে) অস্বীকার করছে। আর তা ব্যাপারে যে, মুনাফিক্বরা ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) কে যে অপবাদ দিয়েছিল, তা থেকে আল্লাহ তাঁকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি তাঁকে উক্ত দোষ থেকে মুক্ত মনে করে না, সে কাফির।
কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং সে মুসলিমদের ইজমা‘কে অস্বীকার করছে। আর যারা বলে, ‘কুরআন অসম্পূর্ণ’, অথবা বলে, ‘এটা সেই কুরআন নয়, যেটা মুহাম্মাদের ﷺ ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল’, অথবা বলে, ‘নবুয়ত মূলত আলীর জন্যই বরাদ্দ ছিল, কিন্তু জিবরীল ভুল করে তা মুহাম্মাদের ﷺ ওপর অবতীর্ণ করেছে’, অথবা বলে, ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) হলেন উপাস্য’—তাদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অনুরূপভাবে যে সাহাবীদেরকে কাফির আখ্যা দেয়, সেও কাফির। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ “নিশ্চয় মুমিনরা যখন বৃক্ষতলে তোমার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল, তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।” [১] তিনি আরও বলেছেন, لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ “আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন নাবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতিও, যারা (তাদের) সংকটকালেও নাবীর অনুগামী হয়েছিল।” [২]
তিনি আরও বলেছেন, وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ “আর যে সব মুহাজির ও আনসার (ইমান আনায়) প্রথম সারির অগ্রণী, আর যে সব লোক যথাযথভাবে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।” [৩] নাবী ﷺ বলেছেন, لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِيْ “তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিয়ো না।” [৪]
সুতরাং যে ব্যক্তি সাহাবীদেরকে কাফির আখ্যা দেয়, সে কাফির। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং সে মুসলিমদের ইজমা‘কে অস্বীকার করেছে।”
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. সূরাহ ফাতহ: ১৮।
[২]. সূরাহ তাওবাহ: ১১৭।
[৩]. সূরাহ তাওবাহ: ১০০।
[৪]. সাহীহ বুখারী, হা/৩৬৭৩; সাহীহ মুসলিম, হা/২৫৪০।
·
তথ্যসূত্র:
https://m.youtube.com/watch?v=Y9Nmt5IXYmI (অডিয়ো ক্লিপ)।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা

শিয়া-সুন্নি ঐক্য কি আদৌ সম্ভব?

·
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
পর সমাচার এই যে, অধুনা জনপ্রিয় এক ‘সুন্নি দাবিদার’ মুফতি সাহেবকে বলতে শোনা গেছে, তিনি শিয়া সম্প্রদায়কে মুসলিম মনে করেন এবং তিনি শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মত পোষণ করেন। আমরা ইতোমধ্যে শিয়াদের মৌলিক কুফরি ‘আক্বীদাহ সম্পর্কে জেনেছি এবং ইরানের শিয়ারা মুসলিম কি না সে সম্পর্কেও অবগত হয়েছি। ফালিল্লাহিল হামদ। তারপরেও যাঁরা জানেন না, তাঁরা “ইরানেরা শিয়ারা কি মুসলিম”– শীর্ষক নিবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন। নিবন্ধের লিংক: https://tinyurl(ডট)com/tfzoctf।
এখন কথা হচ্ছে, শিয়া-সুন্নির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কি না, অথবা এর বাস্তবতা কতটুকু, আর যারা এরকম ঐক্য কামনা করে তাদের বিধানই বা কী—তা জানা দরকার। আসুন দেখি, যুগশ্রেষ্ঠ ‘আলিমগণ কী বলেন।
·
সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন,
التقريب بين الرافضة وبين أهل السنة غير ممكن؛ لأن العقيدة مختلفة، فعقيدة أهل السنة والجماعة توحيد الله وإخلاص العبادة لله سبحانه وتعالى، وأنه لا يدعى معه أحد لا ملك مقرب ولا نبي مرسل، وأن الله سبحانه وتعالى هو الذي يعلم الغيب، ومن عقيدة أهل السنة محبة الصحابة رضي الله عنهم جميعا والترضي عنهم، والإيمان بأنهم أفضل خلق الله بعد الأنبياء، وأن أفضلهم أبو بكر الصديق، ثم عمر، ثم عثمان، ثم علي، رضي الله عن الجميع، والرافضة خلاف ذلك فلا يمكن الجمع بينهما، كما أنه لا يمكن الجمع بين اليهود والنصارى والوثنيين وأهل السنة، فكذلك لا يمكن التقريب بين الرافضة وبين أهل السنة لاختلاف العقيدة التي أوضحناها.
“রাফিদ্বী শিয়া এবং আহলুস সুন্নাহকে পরস্পরের কাছে আনা অসম্ভব। কেননা (এদের) ‘আক্বীদাহ আলাদা আলাদা। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘আক্বীদাহ হলো আল্লাহকে এক বলে গণ্য করা, ইবাদতকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা, এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, দু‘আর ক্ষেত্রে তাঁর সাথে আর কাউকে শরিক করা যাবে না, না কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতাকে, আর না কোনো প্রেরিত নাবীকে এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলাই গায়েব জানেন।
আহলুস সুন্নাহর ‘আক্বীদাহর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে—সকল সাহাবীকে (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) ভালোবাসা এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, আর এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তাঁরা হলেন নাবীগণের পরে আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি, আর তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবূ বাকার আস-সিদ্দীক্ব, তারপর ‘উমার, তারপর ‘উসমান, তারপর ‘আলী। আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। পক্ষান্তরে রাফিদ্বীরা এর বিপরীত। তাই রাফিদ্বী এবং আহলুস সুন্নাহর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব নয়। যেমনভাবে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মূর্তিপূজারীদের সাথে আহলুস সুন্নাহর সমন্বয় করা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে রাফিদ্বী সম্প্রদায় এবং আহলুস সুন্নাহকে পরস্পরের কাছে আনা সম্ভব নয় ‘আক্বীদাহর ভিন্নতার কারণে, যে ‘আক্বীদাহ আমরা বর্ণনা করলাম।” [মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুম মুতানাওয়্যা‘আহ; খণ্ড: ২৭; পৃষ্ঠা: ৩২৫]
·
ইয়েমেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং সালাফী দা‘ওয়াতের মুজাদ্দিদ, ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন,

ইরানের শিয়ারা কি মুসলিম?

·
সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—
السؤال: ما تقولون في رجل قال: ليس هناك فرق بين سني وشيعي، بل كلهم مسلمون وهو مفت في إحدى ديار المسلمين، حيث إنهم أجريت معه مقابلة في إحدى المجلات منذ شهر ويقول: حرام علينا أن نقول هذا سني وهذا شيعي، فهل هذا الكلام لا بأس به أو ما ترون فيه؟
الجواب: هذا الكلام فيه إجمال خطأ، فإن الشيعة أقسام وليسوا قسمًا واحدًا، الشيعة أقسام، ذكر الشهرستاني أنهم اثنتان وعشرون فرقة، وهم يختلفون فيهم من بدعته تكفره، وفيهم من بدعته لا تكفره، مع أنهم في الجملة مبتدعون، الشيعة في الجملة مبتدعون، وأدناهم من فضل عليًّا على الصديق وعمر قد أخطأ وخالف الصحابة. ولكن أخطرهم الرافضة -أصحاب الخميني- هؤلاء أخطرهم، وهكذا النصيرية أصحاب حافظ الأسد وجماعته في سوريا، فالباطنية الذين في سوريا والباطنية الذين في إيران والباطنية في الهند وهم الإسماعيلية هذه الطواف الثلاثة هم أشدهم وأخطرهم، وهم كفرة، هؤلاء كفرة لأنهم والعياذ بالله يضمرون الشر للمسلمين ويرون المسلمين أخطر عليهم من الكفرة، ويبغضون المسلمين أكثر من بغضهم الكفرة، ويرون أهل السنة حل لهم دماءهم وأموالهم، وإن جاملوا في بعض المواضع التي يجاملون فيها ويرون أن أئمتهم يعلمون الغيب وأنهم معصومون ويعبدون من دون الله بالاستغاثة والذبح لهم والنذر لهم، هذه حالهم مع أئمتهم.
فالرافضة الذين هم الطائفة الاثنا عشرية ويقال لهم: الجعفرية ويقال لهم الآن: الخمينية الذين يدعون إلى الباطل الآن وهم من شر الطوائف، وهكذا طائفة النصيرية من شر الطوائف، هكذا طائفة الإسماعيلية هؤلاء باطنية .. يرون إمامة الصديق وعمر وعثمان يرونها باطلة، ويرون الصحابة كفارًا ارتدوا عن الإسلام إلا نفرًا قليلا منهم كعلي والحسن والحسين وعمار بن ياسر واثنين أو ثلاثة أو أربعة من بقية الذين يرون أنهم يوالون عليًّا فقط، وأما بقية الصحابة فعندهم أنهم مرتدون قد خرجوا عن الإسلام وظلموا عليًّا إلى غير هذا مما يقولون، نسأل الله العافية.
مع ما عندهم من غلو في أهل البيت ودعواهم أنهم يعلمون الغيب، وأن الواجب إمامتهم، وأن هذه الإمامات التي بعد علي وقبل علي كلها باطلة، وأن ما عندهم ولاية حق إلا ولاية علي والحسين فقط، أما الولايات التي من عهد النبي ﷺ إلى يومنا كلها باطلة عند الرافضة، نسأل الله السلامة.
المقصود: أن الشيعة أقسام ليسوا قسمًا واحدًا، ومنهم الزيدية المعروفون في اليمن هؤلاء عندهم التفضيل ليسوا بكفار إلا من عبد الأوثان منهم وغلا في أهل البيت ودعاهم من دون الله، أما مجرد تفضيل عليّ على الصديق وعلى عمر لا يكون كفرا ولكنه بدعة وغلط، الواجب تفضيل الصديق ثم عمر ثم عثمان على علي، علي هو الرابع رضي الله عنه وأرضاه هذا هو الحق الذي أجمع عليه الصحابة رضي الله عنهم وأرضاهم.
فالذي يفضل عليًّا عليهم يكون أخطأ ولا يكون كافرًا وإنما الكفار منهم الرافضة والنصيرية والإسماعيلية الذين يغلون في أهل البيت ويعبدونهم من دون الله ويرون أن عبادتهم جائزة وأن أئمتهم يعلمون الغيب إلى غير هذا مما يقولون نسأل الله السلامة. فالحاصل: أنهم ينظر في عقائدهم بالتفصيل ولا يقال الشيعة كلهم كفار لا، بل فيهم تفصيل وهم أقسام كثيرة.
প্রশ্ন: “ওই ব্যক্তির ব্যাপারে আপনি কী বলেন, যে বলে, সুন্নি ও শিয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই? এই ব্যক্তি একটি মুসলিম রাষ্ট্রের মুফতি। এমনকি একটি পত্রিকার সাথে তাঁর একমাস ধরে সাক্ষাৎকার চলেছে, যেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের জন্য একথা বলা হারাম যে, এই লোক সুন্নি, আর এই লোক শিয়া। এই কথা কি ঠিক? এই কথার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?”
উত্তর: “এটা সংক্ষিপ্ত কথা এবং এতে ভুল রয়েছে। কেননা শিয়া সম্প্রদায়ের বেশ কিছু শ্রেণি রয়েছে, তারা স্রেফ এক শ্রেণিভুক্ত নয়। শিয়া সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি শ্রেণি বা উপদল রয়েছে। শাহরাস্তানী উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ২২টি উপদল রয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্নতা রয়েছে। তাদের কারও বিদ‘আত তাকে কাফির করে দেয়, আবার কারও বিদ‘আত তাকে কাফির করে না। এতৎসত্ত্বেও তারা সবাই বিদ‘আতী। শিয়ারা সবাই বিদ‘আতী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো বিদ‘আতী সে, যে আস-সিদ্দীক্ব এবং ‘উমারের ওপর ‘আলীকে প্রাধান্য দিয়েছে। বস্তুত সে ভুল করেছে এবং সাহাবীদের বিরোধিতা করেছে।
কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো রাফিদ্বীরা, যারা হলো খোমেনীর সাঙ্গপাঙ্গ। তারা সবচেয়ে বিপজ্জনক শিয়া। অনুরূপভাবে নুসাইরিয়াহ সম্প্রদায়, যারা হলো সিরিয়ার হাফিজ আসাদের সাঙ্গপাঙ্গ ও তার দলের ব্যক্তিবর্গ। আর সিরিয়া, ইরান ও ভারতের বাত্বিনী সম্প্রদায়, যারা হলো ইসমা‘ঈলী সম্প্রদায়। এই তিনটি উপদল সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর শিয়া। তারা কাফির সম্প্রদায়। তারা কাফির। কেননা তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অনিষ্টকে লুকিয়ে রাখে এবং নিজেদের ওপর মুসলিমদেরকে কাফিরদের চেয়েও বিপজ্জনক মনে করে। তারা কাফিরদের চেয়ে মুসলিমদেরকে বেশি ঘৃণা করে। তারা আহলুস সুন্নাহ’র জান ও মাল নিজেদের জন্য হালাল মনে করে। যদিও তারা কিছু ক্ষেত্রে মোসাহেবি করে থাকে। তারা মনে করে, তাদের ইমামরা গায়েব (অদৃশ্য) জানে, তাদের ইমামরা নিষ্পাপ, আল্লাহকে ব্যতিরেকে ইমামদেরও ইবাদত করা যায় ফরিয়াদ, জবেহ ও মানত করার মাধ্যমে। তাদের ইমামদের ব্যাপারে এই হলো তাদের অবস্থান।
আর রাফিদ্বীরা হলো ইসনা ‘আশারিয়াহ তথা বারো ইমামিয়াহ নামক উপদল। তাদেরকে ‘জা‘ফারিয়্যাহ’-ও বলা হয়। অবশ্য এখন তাদেরকে ‘খুমাইনিয়্যাহ’ (খোমেনীর মতাদর্শের লোকজন) বলা হয়, যারা এখনও মানুষকে বাতিলের দিকে আহ্বান করে। তারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপদল। অনুরূপভাবে ‘নুসাইরিয়াহ’-ও নিকৃষ্ট উপদলগুলোর অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে ইসমা‘ঈলী শিয়ারাও নিকৃষ্ট, যারা হলো বাত্বিনী শিয়া। তারা গুটিকয়েক সাহাবী ছাড়া সমস্ত সাহাবীকে ইসলাম থেকে খারিজ—মুরতাদ কাফির মনে করে। আর সেই গুটিকয়েক সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত হলেন ‘আলী, হাসান, হুসাইন, ‘আম্মার বিন ইয়াসার এবং আরও দুই, তিন বা চারজন সাহাবী, যাদেরকে তারা মনে করে যে, কেবল তারাই ‘আলীর সাথে মিত্রতা পোষণ করেছিল। পক্ষান্তরে বাকি সাহাবী তাদের কাছে মুরতাদ। তাঁরা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছেন এবং ‘আলীর ওপর জুলুম করেছেন, ইত্যাদি আরও কথাবার্তা তারা বলে থাকে। আমরা আল্লাহ’র কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করছি।

Tuesday, 26 November 2019

মিজানুর রাহমান আল আযহারী (হাদাহুল্লাহ) নামক এক ব্যক্তির কয়েকটি বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পর্যালোচনা

আমরা আজকে সুরেলা কণ্ঠের বক্তা মিজানুর রাহমান আল আযহারী (হাদাহুল্লাহ) নামক এক ব্যক্তির কয়েকটি বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পর্যালোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
.
▶️ বক্তব্য - (এক)
"বিতির নামায তিনটি নিয়মে পড়া যায়। আমরা হানাফিরা যে পদ্ধতিতে বিতির নামায পড়ি তার আম দলিল রয়েছে। মৌলিক তিনটি পদ্ধতির যেকোনো একটি দিয়ে বিতির নামায পড়ুন, কিন্তু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবেনা। আমরা কেউ তাবলীগ জামাত করি, কেউ জামাআতে ইসলামী করি, কেউ চরমোনাই পীরের মুরিদ, কেউ হেফাজতে ইসলাম, কেউ কওমী, কেউবা আলিয়া। কিন্তু এই ভূখণ্ডে আমাদের দাড়িওয়ালা, টুপিওয়ালাদের মাঝে রয়েছে শতবছরের ঐক্য। এজন্যই দাওয়াতের নামে, সহিহ হাদিসের নামে, ইসলামের নামে এদেশের ঐক্য আপনারা নষ্ট করবেন না। এই ঐক্য নষ্ট করার কোনো অধিকার আপনাদের নাই। অতএব, এই ভূখণ্ডে কঠিন ইসলাম প্রচার করা আপনাদের দরকার নেই!
► লিংকঃ
https://www.youtube.com/watch?v=FMKgSZTO1p4&t=9s
[মুলভাব সংক্ষেপিত]
.
এই বক্তব্যের পর্যালোচনাঃ
প্রথমত, বিতির নামায তিনটি নয়, দুইটি নিয়মে পড়ার বিশুদ্ধ বর্ণনা পাওয়া যায় হাদিসে। এদেশের হানাফিরা যে পদ্ধতিতে বিতির নামায আদায় করেন তার পক্ষে কোনো গ্রহনযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, বক্তা অভিযোগ করেন, সহিহ হাদিসের নামে নাকি সমাজে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে, বিশুদ্ধ দ্বীনের দাওয়াতের কারণেই নাকি তাদের শতবছরের কথিত ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে!
আমি পাঠকদের কাছে জানতে চাই, কখন, কবে, কোথায় এদেশীয় বিভিন্ন ফিরকাবন্দী ওয়ালাদের ঐক্য ছিলো? দেওবন্দীদের একাংশের কাছে পীরপন্থীরা সবসময়ই ভ্রান্ত ছিলো। আবার মূলধারার দেওবন্দীদের কাছে জামাআতীরা পথভ্রষ্ট। এমনকি মওদুদী সাহেবকে রদ্দ করে তারা শত শত বই পর্যন্ত রচনা করেছেন। কওমীদের একাংশ ফুলতলীদের পিছনে নামাজ পড়ে না। আর জামাতীদের কাছে চরমোনাই হলো পথভ্রষ্ট। দেওয়ানবাগী সর্বমহলে গোমরাহ, কওমী আর আলিয়ার দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। এইতো গতবছরই ব্রেরলভীদের সাথে দেওবন্দীদের খুনাখুনির ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগেও তাবলীগের দুই গ্রুপের খুনাখুনির ঘটনাগুলি জাতীয় পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল!
হ্যায়াতিদের কাছে মামাতিরা বিভ্রান্ত, আবার মামাতিদের কাছে হ্যায়াতি! এবার আপনিই বলুন, এ সমাজে ঐক্য কখন ছিল?
মোদ্দা কথা হলো, বক্তা সাহেবকে তার জাহালতের উপর ক্রন্দন করা উচিত এইজন্য যে, তিনি আজও ঐক্যের মানদণ্ড সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল নন! কেনোনা ফিক্বহি মাসআলা মাসায়েল কখনো ঐক্যের ভিত্তি হতে পারেনা।
পাঠকদের জেনে রাখা জরুরী যে, এই বক্তা সাহেবগণ কিছু ভালো কথার আড়ালে বিভিন্ন মনভোলানো যুক্তি ও বচন দ্বারা আহলে সুন্নাহর বিরোধীতা। অতঃপর নিজ হস্তের কলম কিংবা মুখের বচন দ্বারা আহলে সুন্নাহর গর্দান উড়িয়ে দিয়ে বাতিলপন্থীদের রসদ জোগায়!

Sunday, 10 November 2019

বড় বিপজ্জনক একটি বিষয়


আপনি কি জানেন ও মানেন যে, অনেক সময় আপনি নিজেকে অভিশাপ ও গালি দেন?
আপনি যদি নিরপরাধ অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে লানত দেন, তাহলে জানবেন আপনি নিজে মালঊন।
আপনি যদি এমন কাউকে অভিশাপ দিয়ে বলেন, 'তুই জাহান্নামে যা, ধ্বংস হ', নির্বংশ হ', কবরে যা, তোর মরণ হোক ইত্যাদি, আর সে যদি সেই অভিশাপের উপযুক্ত না হয়, তাহলে তা আপনার উপর এসে লাগে।
আপনি যদি কাউকে অন্যায়ভাবে গালি দেন, তাহলে সে গালি আপনাকে লাগে।
আপনি যদি কাউকে 'জানোয়ার' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে জানোয়ার।
আপনি যদি কাউকে 'কুকুর' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে কুকুর।
আপনি যদি কাউকে 'গাধা' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে গাধা।
আপনি যদি কাউকে 'বলদ' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে বলদ।
আপনি যদি কাউকে 'জারজ' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে জারজ।
আপনি যদি কাউকে 'খবীস' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে খবীস।
আপনি যদি কাউকে 'কাফের' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে কাফের।
আপনি যদি কাউকে 'আল্লাহর দুশমন' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে আল্লাহর দুশমন।
আপনি যদি কাউকে 'নবীর দুশমন' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে নবীর দুশমন।
আপনি যদি কাউকে 'শয়তান' বলেন, আর সে যদি তা না হয়, তাহলে আপনি নিজে শয়তান।
মহানবী ﷺ বলেছেন,
“বান্দা যখন কোন কিছুকে অভিশাপ করে, তখন অভিশাপ আকাশের প্রতি উঠে যায়, কিন্তু তাকে বাইরে রেখেই আকাশের দ্বারসমূহ বন্ধ করা হয়। অতঃপর তা পৃথিবীর প্রতি অবতরণ করে কিন্তু তাকে বাইরে রেখেই পৃথিবীর দ্বারসমূহও বন্ধ করা হয়। অতঃপর ডানে বামে ফিরতে থাকে, পরিশেষে যখন তা কোন যথার্থ স্থান পায় না, তখন অভিশপ্ত বস্তু বা ব্যক্তির প্রতি ফিরে যায়, যদি সে এর (অভিশাপের) উপযুক্ত হয়, তাহলে (তাকে অভিশাপ লেগে যায়)। নচেৎ অভিশাপকারীর নিকট তা প্রত্যাবৃত্ত হয়।” (আবূ দাঊদ ৪৯০৭, সহীহুল জামে ১৬৭২নং)
“তোমরা হাওয়াকে অভিশাপ দিও না। যেহেতু হাওয়া তো আদেশপ্রাপ্ত, (আল্লাহর) আজ্ঞাবহ। আর যে ব্যক্তি কোন নির্দোষ নিরপরাধ বস্তুকে অভিশাপ করে, তার প্রতিই সেই অভিশাপ প্রত্যাবৃত্ত হয়।” (আবু দাউদ ৪৭০৮, তিরমিযী ১৯৭৮, সহীহুল জামে ৭৪৪৭নং)
“যখন কেউ তার ভাইকে কাফের বলে, তখন তাদের উভয়ের মধ্যে একজনের উপর তা বর্তায়। যা বলেছে, তা যদি সঠিক হয় তো ভালো; নচেৎ তার (বক্তার) উপর ঐ কথা ফিরে যায়।” (বুখারী ৬১০৩-৬১০৪, মুসলিম ২২৫নং)
“যে কাউকে 'কাফের' বলে ডাকে অথবা 'আল্লাহর দুশমন' বলে অথচ বস্তুতঃ যদি সে তা না হয়, তবে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।” (মুসলিম ২২৬নং)
সুতরাং খুব সাবধান! নিজের মুখে নিজে অভিশপ্ত হবেন না এবং নিজের মুখে নিজেকে গালি দেবেন না। 'নিজেরে করিতে গৌরব দান, নিজেরে কেবলই করি অপমান' যেন না হয়।
----আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

Tuesday, 5 November 2019

আল্লাহর জন্য দেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাব্যস্ত করার বিধান

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি। অতঃপর:
আল্লাহর আসমা ও সিফাত তথা নাম ও গুণাবলির প্রতি বিশ্বাস পোষণ করা ইমানের একটি অন্যতম মৌলিক বিষয়। ব্যক্তির ‘আক্বীদাহর শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ণীত হয় এই মৌলিক বিষয়ের মাধ্যমে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত কোনো অপব্যাখ্যা, সাদৃশ্যদান, ধরন বর্ণনা ও নিস্ক্রীয়করণ ছাড়াই আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে।
যেমন একটি মূলনীতি হলো—আল্লাহর নাম ও গুণাবলি তাওক্বীফিয়্যাহ তথা বিলকুল কুরআন-হাদীসের দলিলনির্ভর, এতে বিবেকের কোনো স্থান নেই। অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যেসব নাম ও গুণ বর্ণনা করেছে, আমরা কেবল সেসবই সাব্যস্ত করব, কোনোরূপ কমবেশি করব না। যে ব্যক্তি এক্ষেত্রে কমবেশি করে, সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে বক্রপথ অবলম্বনকারী বিদ‘আতী। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বক্তব্য, এবং এটাই তাদের মূলনীতি।
·
দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য, সালাফিয়্যাহর দিকে নিজেকে সম্পৃক্তকারী কিছু দা‘ঈ এই মূলনীতি লঙ্ঘন করে আল্লাহর জন্য ‘দেহ’ ও ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ সাব্যস্ত করেছে। আমরা মনে করি, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাপারে গভীর জ্ঞান অর্জন না করেই এসব বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া এবং ‘উলামায়ে সুন্নাহর বক্তব্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেরাই কুরআন-হাদীস পড়ে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করার নিন্দার্হ প্রবণতা থেকেই এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের ﷺ সুন্নাহয় আল্লাহর ‘দেহ’ ও ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ আছে নাকি নেই—তা বর্ণিত হয়নি। তাই আমাদেরকে এ বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা বলব না, এসব বিষয় আল্লাহর আছে। আবার এও বলব না যে, এসব বিষয় আল্লাহর নেই। আল্লাহর ওপর খবরদারি করে আল্লাহর জন্য ‘দেহ’ ও ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ সাব্যস্ত করা হলো কঠিন বিদ‘আত এবং ভয়াবহ কাবীরাহ গুনাহ। মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর সে বিষয়ের পেছনে ছুটো না (কোরো না, বলো না, সাক্ষ্য দিয়ো না), যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই। কান, চোখ, আর অন্তর—এগুলোর প্রত্যেকের বিষয়ে অবশ্যই তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” [সূরাহ ইসরা: ৩৬]
·
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ “বল, ‘আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরিক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না’।” [সূরাহ আ‘রাফ: ৩৩]
সম্মানিত পাঠক, হাত (ইয়াদ), চোখ (‘আইন), পা (ক্বাদাম) আল্লাহর সিফাত তথা গুণ। কিন্তু এসব গুণ থেকে আল্লাহর ‘দেহ’ ও ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ সাব্যস্ত করা যায় না। এরকম কাজ সালাফদের কেউ করেননি। তাই যারা এরকম করছেন, তারা বড়ো ধরনের ভুল করছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অবলোকন করে আমরা বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি তাওক্বীফী হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর মহান ইমামদের বক্তব্য পেশ করেছি। তারপর আল্লাহর শানে ‘দেহ’ ও ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ প্রভৃতি শব্দাবলি ব্যবহার করার ব্যাপারে আইম্মায়ে সুন্নাহর বক্তব্য পেশ করেছি। ওয়া বিল্লাহিত তাওফীক্ব।

Wednesday, 23 October 2019

বুধবার যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময় দুয়া কবুলের বিশেষ একটি সময়


জাবির বিন আ’বদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আল ফাতহ’ মসজিদে তিন দিন দুয়া করেছেন। সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার। কিন্তু, বুধবার দিবসের দুয়া দুই সালাত (যোহর ও আসরের) মধ্যবর্তী সময়ে কবুল হয়েছে। ফলে তাঁর চেহারা মোবারকে আনন্দের উজ্জলতা দেখা গেছে।”
জাবের রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “এরপর থেকে আমি যখনই কোন কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতাম, আমি উক্ত (বুধবার) দিবসের ঐ (যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী) সময়কে দুয়ার জন্য নির্বাচন করতাম এবং দুয়া করতাম। অতঃপর আমি বুঝতে পারতাম যে, আমার দুয়া কবুল হয়েছে।”
ইমাম বুখারী রাহি’মাহুল্লাহ ‘আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আরো বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ও বাযযার। ইমাম আলবানী রাহি’মাহুল্লাহ হাদীটিকে ‘হাসান’ বলেছেন, সহীহ আদাবুল মুফরাদঃ ১/২৪৬, হাদীস নং-৭০৪, সহীহ তারগীব ও তারহীবঃ ১১৮৫।
শায়খ আলবানী রাহি’মাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “সম্মানিত সাহাবী (জাবির বিন আ’বদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু) আমাদেরকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন যে, দুয়ার জন্য বুধবার দিবসের সেই সময়টি ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে উদ্দেশিত সময়। উপস্থিত ব্যক্তি যা দেখতে ও জানতে পারে, অনুপস্থিত ব্যক্তি তা দেখতে ও জানতে পারে না। আর স্বচক্ষে দেখা সংবাদের মত সঠিক ও সত্য অন্য কোন সংবাদ হতে পারে না। এই সাহাবী যদি আমাদেরকে সংবাদটি না জানাতেন, তবে হয়তো আমরা বলতাম যে, ঘটনাক্রমে ঐ দিনের ঐ সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দুয়া করেছেন এবং তাঁর দুয়া কুবল হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, উক্ত সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে যা করতে দেখেছেন, সেই দিন ও সময় অনুযায়ী নিজে আমল করেছেন এবং তিনি-ও তার ফলও পেয়েছেন। অতএব, এই সাহাবীর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে, এটা একটা সুন্নাতী আমল।”
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়া রাহি’মাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের একদল আলেম এই হাদীসের প্রতি আমল করে বুধবার দিনের এই সময়ে দুয়া করতে প্রয়াস চালাতেন। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে জাবির রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে। কিন্তু জাবির রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে একথা বর্ণিত হয়নি, যে তিনি দুয়ার জন্য স্থানটিকে (ফাতহ মসজিদ) উদ্দেশ্য করতেন। বরং তিনি শুধু ঐ সময়টিকেই অনুসন্ধান করতেন।” ইক্বতেদা সিরাতুল মুসতাকীমঃ ১/ ৪৩৩।
ইমাম বায়হাক্বী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “দুয়ার জন্য উপযুক্ত সময়, অবস্থা ও স্থান অনুসন্ধান করা উচিত। যাতে করে দুয়া কবুল হওয়ার আশা পূর্ণরূপে করা যায়। আর দুয়া কবুল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে বুধবার দিনে যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়।” শুআ’বুল ঈমানঃ ২/৪৬।
ফুটনোটঃ
(১) লেখাটির জন্য কৃতজ্ঞতা শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী ও আবুল আলিয়া ব্লগ, এড্রেস
http://www.abuaaliyah.com/
(২) বুধবার দুয়া কবুল সংক্রান্ত হাদীসটিকে কিছু আলেম সহীহ বলে গ্রহণ করেন নি, আবার অনেক আলেম হাদীসটিক ‘হাসান’ বলে কবুল করছেন, যাদের মাঝে রয়েছে ইমাম বায়হাক্বী, ইমাম আলবানী, আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন। এছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহি’মাহুল্লাহ “একদল আলেম এই হাদীসের প্রতি আমল করেছেন” বলে এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সুতরাং, দুয়া কবুলের আশা নিয়ে বুধবার উক্ত সময়ে দুয়া করা করা যাবে, বিদআ’ত হবে না। তবে কেউ যদি ভিন্ন মত পোষণকারী আলেমদের উপরে নির্ভর করে উক্ত হাদীসকে ‘জইয়ীফ’ বা এই আমলকে সঠিক মনে না করেন, তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। অনেক ফিক্বহী মাসলা-মাসায়েলে আলেমরা দ্বিমত করেন, সেই সমস্ত বিষয়ে একজন আরেকজনকে কোন মত চাপিয়ে দেওয়া বা বাধ্য করার সুযোগ নেই।

Courtesy facebook page তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও

Monday, 21 October 2019

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের গালিদাতাকে হত্যা করতে হবে, কিন্তু যদি সে তাওবাহ করে?


.
বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] প্রদত্ত ফাতওয়া—
السؤال: هل تقبل توبة من سب الله عز وجل أو سب الرسول صلى الله عليه وسلم؟
الإجابة: اختلف في ذلك على قولين:
القول الأول: أنها لا تقبل توبة من سب الله، أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم، وهو المشهور عند الحنابلة، بل يقتل كافراً، ولا يصلى عليه، ولا يدعى له بالرحمة، ويدفن في محل بعيد عن قبور المسلمين.
القول الثاني: أنها تقبل توبة من سب الله أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم، إذا علمنا صدق توبته إلى الله، وأقر على نفسه بالخطأ، ووصف الله تعالى بما يستحق من صفات التعظيم، وذلك لعموم الأدلة الدالة على قبول التوبة كقوله تعالى: {قل يا عبادي الذين أسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا من رحمة الله إن الله يغفر الذنوب جميعاً}، ومن الكفار من يسب الله ومع ذلك تقبل توبتهم، وهذا هو الصحيح إلا أن ساب الرسول، عليه الصلاة والسلام تقبل توبته ويجب قتله، بخلاف من سب الله فإنها تقبل توبته ولا يقتل؛ لأن الله أخبرنا بعفوه عن حقه إذا تاب العبد، بأنه يغفر الذنوب جميعاً.
أما ساب الرسول صلى الله عليه وسلم، فإنه يتعلق به أمران:
أحدهما: أمر شرعي، لكونه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا يقبل إذا تاب.
الثاني: أمر شخصي، وهذا لا تقبل التوبة فيه لكونه حق آدمي لم يعلم عفوه عنه، وعلى هذا فيقتل ولكن إذا قتل، غسلناه، وكفناه، وصلينا عليه، ودفناه مع المسلمين.
وهذا اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وقد ألف كتاباً في ذلك اسمه: «الصارم المسلول في تحتم قتل ساب الرسول»، وذلك لأنه استهان بحق الرسول صلى الله عليه وسلم، وكذا لو قذفه صلى الله عليه وسلم فإنه يقتل ولا يجلد.
فإن قيل: أليس قد ثبت أن من الناس من سب الرسول صلى الله عليه وسلم، في حياته وقبل النبي صلى الله عليه وسلم، توبته؟
أجيب بأن هذا صحيح، لكن هذا في حياته صلى الله عليه وسلم، والحق الذي له قد أسقطه، وأما بعد موته فإنه لا يملك أحد إسقاط حقه صلى الله عليه وسلم، فيجب علينا تنفيذ ما يقتضيه سبه صلى الله عليه وسلم، من قتل سابه، وقبول توبة الساب فيما بينه وبين الله تعالى.
فإن قيل: إذا كان يحتمل أن يعفو عنه لو كان في حياته، أفلا يوجب ذلك أن نتوقف في حكمه؟
أجيب: بأن ذلك لا يوجب التوقف لأن المفسدة حصلت بالسب، وارتفاع أثر هذا السب غير معلوم والأصل بقاؤه.
فإن قيل: أليس الغالب أن الرسول صلى الله عليه وسلم، يعفو عمن سبه؟
أجيب: بلى، وربما كان العفو في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، متضمناً المصلحة وهي التأليف، كما كان صلى الله عليه وسلم يعلم أعيان المنافقين ولم يقتلهم، «لئلا يتحدث الناس أن محمداً يقتل أصحابه»، لكن الآن لو علمنا أحداً بعينه من المنافقين لقتلناه، قال ابن القيم رحمه الله: «إن عدم قتل المنافق المعلوم إنما هو في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم فقط».
প্রশ্ন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ (عَزَّ وَجَلَّ) কিংবা রাসূল ﷺ কে গালি দিয়েছে, তার তাওবাহ কি কবুল করা হবে?”
উত্তর: “এ ব্যাপারে ‘আলিমগণ দুটি মতে মতদ্বৈধতা করেছেন। যথা:
১ম মত: যে ব্যক্তি আল্লাহ কিংবা রাসূল ﷺ কে গালি দিয়েছে, তার তাওবাহ কবুল করা হবে না। এটি হাম্বালীদের প্রসিদ্ধ অভিমত। বরং গালিদাতাকে (মুসলিম শাসক কর্তৃক) কাফির হিসেবে হত্যা করতে হবে। তার জানাযাহ’র নামাজ পড়া হবে না, তার জন্য রহমতের দু‘আ করা হবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থান থেকে দূরের কোনো স্থানে তাকে কবর দিতে হবে।
২য় মত: যে ব্যক্তি আল্লাহ কিংবা রাসূল ﷺ কে গালি দিয়েছে, তার তাওবাহ কবুল করা হবে, যখন আমরা জানব যে, সে সত্যিকারার্থেই আল্লাহ’র কাছে তাওবাহ করেছে, ভুল করেছে বলে স্বীকার করেছে এবং মহান আল্লাহকে তাঁর প্রকৃত সিফাতে তা‘যীম (সম্মানসূচক বিশেষণ) দ্বারা বিশেষিত করেছে। যেহেতু ব্যাপকার্থবোধক দলিলসমূহ প্রমাণ করছে যে, তার তাওবাহ কবুল করা হবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহ’র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’।” (সূরাহ যুমার: ৫৩)

Monday, 14 October 2019

#অযু #শিক্ষা (বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা দিন)

#অযু #শিক্ষা (বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা দিন)
=====================
অযু শিক্ষা
অযু একটি ইবাদত যা ছাড়া নামায হয় না। নামায ছাড়াও বহু এমন ইবাদত রয়েছে যা অযুর উপর নির্ভশীল। অযু যেমন একটি ইবাদত তেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ারও এটি একটি সুন্দর শারঈ উপায়। মহান আল্লাহ বলেন:
)يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ(
অর্থ: (হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করবে এবং পা গিঁঠ পর্যন্ত ধুয়ে নিবে।) [সূরা মায়িদাহ/৬)
নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বায়ু নির্গত হলে তার নামায হয় না যতক্ষণে সে অযু না করে”। [বুখারী]
অযু করার নিয়ম:
১-মনে মনে অযু করার ইচ্ছা করবে।
২-তারপর বিসমিল্লাহ বলবে।
৩-তারপর দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তিন বার ধৌত করবে। দু’বার কিংবা এক বারও ধৌত করতে পারো।
৪-অত:পর মুখে পানি নিয়ে তিনবার কুল্লি করবে। ঠিক তেমনি নাকের ভিতর পানি টেনে নিয়ে বাইরে ঝেড়ে ফেলে দিবে তিন বার। এই দুটি কাজের জন্য এক সাথে পানি নেওয়া যায় কিংবা উভয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পানি ব্যবহার করা যায়। কুল্লি করা ও নাক ঝাড়ার কাজটি দুইবার কিংবা একবার করলেও তা বৈধ হবে।
৫-অত:পর মুখমন্ডল তিন বার ধৌত করবে। দু’বার কিংবা এক বার ধোয়াও বৈধ। মুখমন্ডলের সীমা হচ্ছে, কপালের উপরিভাগ যেখান থেকে চুল গজায় সেখান থেকে নিয়ে থুতিনর নিম্নভাগ পর্যন্ত। আর এক কানপট্টি থেকে অপর কানপট্টি পর্যন্ত।

Saturday, 5 October 2019

বিদ‘আতীদের মৃত্যুতে খুশি হওয়া সালাফী মানহাজের অন্তর্ভুক্ত


পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
বিদ‘আতী ও বাতিলপন্থিরা ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতি করে। তাদের দ্বারা হকপন্থি মুসলিমরা কষ্ট পায়। তাই তারা যখন মারা যায়, তখন হকপন্থি মু’মিনের হৃদয় প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ করে। আহলুস সুন্নাহ’র লোকেরা বিদ‘আতীদের মৃত্যুসংবাদ শুনে খুশি হয়। কারণ তারা এই আশ্বাস লাভ করে যে, ওই সদ্য প্রয়াত বিদ‘আতীর দ্বারা মানুষের আর বিপথগামী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, অথবা সুযোগ থাকলেও তা অচিরেই দুর্বল ও ম্রিয়মাণ হয়ে যাবে।
·
অনিষ্টকারী বিদ‘আতীদের মৃত্যুতে মু’মিনের অন্তর যে প্রশান্তি লাভ করে, তা বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। ক্বাতাদাহ ইবনু রিব‘ঈ আল-আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণনা করেছেন, أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَقَالَ مُسْتَرِيحٌ وَمُسْتَرَاحٌ مِنْهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ مَا الْمُسْتَرِيحُ وَالْمُسْتَرَاحُ مِنْهُ قَالَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا إِلَى رَحْمَةِ اللهِ وَالْعَبْدُ الْفَاجِرُ يَسْتَرِيحُ مِنْهُ الْعِبَادُ وَالْبِلاَدُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ “একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পাশ দিয়ে একটি জানাযাহ নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি বললেন, সে শান্তিপ্রাপ্ত অথবা (অন্য লোকেরা) তার থেকে শান্তি লাভকারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহ’র রাসূল, ‘শান্তিপ্রাপ্ত’ আর ‘(অন্য লোকেরা) তার থেকে শান্তি লাভকারী’—এর অর্থ কী? তিনি বললেন, মু’মিন বান্দা মারা গেলে, দুনিয়ার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহ’র রহমতের দিকে পৌঁছে শান্তি প্রাপ্ত হয়। আর গুনাহগার বান্দা মারা গেলে, তার অনিষ্ট থেকে (মুক্তি পেয়ে) সকল বান্দা, শহর-বন্দর, বৃক্ষলতা ও জীবজন্তু শান্তি লাভ করে।” [সাহীহ বুখারী, হা/৬৫১২; সাহীহ মুসলিম, হা/৯৫০]
সালাফগণ বিদ‘আতী ও বাতিলপন্থিদের মৃত্যুতে খুশি হতেন। আমরা নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু দলিল পেশ করব। আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।
·
১. সাহাবী ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) এক খারিজী বিদ‘আতীর মৃত্যুতে খুশি হয়ে সিজদা দিয়েছিলেন। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন, وقاتل أمير المؤمنين علي بن أبى طالب رضي الله عنه الخوارجَ، وذكر فيهم سنَّة رسول الله المتضمنة لقتالهم، وفرح بقتلهم، وسجد لله شكراً لما رأى أباهم مقتولاً وهو ذو الثُّدَيَّة “আমীরুল মু’মিনীন ‘আলী বিন ত্বালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) খারিজীদের সাথে স্বশস্ত্র জিহাদ করেছেন। তাদের ব্যাপারে তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ’র কথা আলোচনা করেছেন, যেখানে খারিজীদের সাথে স্বশস্ত্র জিহাদের কথা শামিল রয়েছে। তিনি তাদেরকে হত্যা করে খুশি হয়েছেন। এমনকি তিনি যখন তাদের নেতাকে—সে ছিল যুস সুদাইয়্যাহ—নিহত অবস্থায় দেখেন, তখন তিনি শোকরানা সিজদা দিয়েছিলেন।” [মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, খণ্ড: ২০; পৃষ্ঠা: ৩৯৫]
অনুরূপভাবে ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন, وقد سجد أبو بكر الصِّدِّيق لما جاءه قتلُ مُسَيْلِمة الكذَّاب، وسجد علىُّ بن أبى طالب لما وجد ذا الثُّديَّةِ مقتولاً فى الخوارج “আবূ বাকার আস-সিদ্দীক্বের নিকট যখন মুসাইলামাতুল কাযযাবের নিহত হওয়ার সংবাদ পৌঁছেছিল, তখন তিনি সিজদা দিয়েছিলেন। একইভাবে ‘আলী বিন আবূ ত্বালিব যখন খারিজীদের মধ্যে যুস সুদাইয়্যাহকে নিহত অবস্থায় দেখেন, তখন তিনি সিজদা দিয়েছিলেন।” [যাদুল মা‘আদ, পরিচ্ছেদ: শোকরানা সিজদা সাহাবীদের আদতের অন্তর্ভুক্ত (فصل في سجود الشكر من عادة الصحابة)]
·

Wednesday, 2 October 2019

লেখাচুরি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।
যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের মহান প্রভু আল্লাহ’র জন্য। যিনি নিজে মহাপবিত্র, আর পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া তিনি গ্রহণও করেন না। [সাহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; যাকাত অধ্যায়; পরিচ্ছেদ- ১৯]
অজস্র দয়া ও শান্তি অবতীর্ণ হোক প্রাণপ্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি। যিনি বলেছেন, “যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দু’প্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরিধান করেছে।”
[সাহীহ বুখারী, হা/৫২১৯; সাহীহ মুসলিম, হা/২১৩০]
·
প্রারম্ভিকা:
লেখা, ভাব, ভাষা, চিন্তা, গবেষণা প্রভৃতি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি), যা অনুমতি ছাড়া নিজের নামে চালানো সম্পূর্ণরূপে ক্রাইম এবং অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ ও চুরি করার শামিল। এটাও এক ধরণের চৌর্যবৃত্তি বা তস্করবৃত্তি, যা শরী’আহর দৃষ্টিতে হারাম। অথচ বর্তমানে অনেকেই নির্দ্বিধায় এই গর্হিত কাজটি করে যাচ্ছেন। এমনকি অনেকে নিতান্তই অজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে এটাকে বৈধ পর্যন্ত মনে করছেন।
মনে পড়ে, এক সালাফী দাবিদার ভাই বলেছিলেন, ফেসবুকে অন্যের গবেষণালব্ধ পোস্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বৈধ, যেহেতু এতে দা’ওয়াতী কাজ হচ্ছে! লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। ইসলামী দা’ওয়াহ কি তবে নিকৃষ্ট চৌর্যবৃত্তির মুখাপেক্ষী?! আল ‘ইয়াযু বিল্লাহ। অনেক সালাফী ভাইয়ের দ্বারাও জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে এহেন অন্যায় কাজ সঙ্ঘটিত হচ্ছে। অথচ এক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেহেতু এটা একটা আমানাত, ‘ইলমী আমানাত। প্রিয় পাঠক, বক্ষমান ছোট্ট আর্টিকেলটিতে আমরা উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ‘আলিমদের ক্বওল উল্লেখপূর্বক এই বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করার প্রয়াস পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন, পুরো বিষয়টি আপনার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনার উপর দয়া বর্ষণ করুন।

Sunday, 22 September 2019

যদি তিনি (আল্লাহ্‌) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, তাহলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায় ? পারে অনুসন্ধান না করা। এবং যে আমাকে এই প্রশ্নটি করেছে তাকে বলছি, তুমি একজন বিদ‘আতী

বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আল ইমাম, আল 'আল্লামাহ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়,
"যদি তিনি (আল্লাহ্‌) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, তাহলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায় ?"
উত্তর: “আমি বলছি: প্রশ্ন করার আদবের একটি দিক হলো, এই ব্যাপারে অনুসন্ধান না করা। এবং যে আমাকে এই প্রশ্নটি করেছে তাকে বলছি, তুমি একজন বিদ‘আতী, আমি তোমাকে একজন বিদ‘আতী ব্যতীত অন্য কিছু মনে করি না। আর তোমার রব্ব-এর প্রশংসা করো এজন্য যে, আমি (এখনো) তোমাকে এই দারসে অবস্থান করতে দিচ্ছি। অন্যথায় তোমাকে আমি বের করে দিতাম, যেমনটা মালিক (ইমাম মালিক) করেছিলেন ঐ লোকের সাথে যে তাঁকে আল্লাহ’র (‘আরশের উপর) সমুন্নত হওয়া ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলো। কারণ নাবী যখন সাহাবাদের এই ব্যাপারে বলেছিলেন, তাঁরা কি বলেছিলেন, “আল্লাহ’র (অবতরণের) ফলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায়, হে আল্লাহর রাসূল?”
আমি বিস্মিত যে, (এমনকি) শাইখুল ইসলাম (ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ)-ও এসব ব্যাপারে কথা বলেছেন ও গবেষণা করেছেন। কিন্তু তিনি এরূপ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ লোকেরা এই ব্যাপারে কথা বলছিলো, সুতরাং যারা এই ব্যাপারে কথা বলছিলো, মূলত তিনি তাদের অনুসরণ করেন। তাছাড়া তুমি সাহাবীগণ কর্তৃক উচ্চারিত একটি অক্ষরও পাবেনা যে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছেন, “আল্লাহ’র (অবতরণের) ফলে ‘আরশ কি শূন্য হয়ে যায়?” এটা জানা কি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে? যদি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক করা হতো, তাহলে আল্লাহ্‌ অথবা তাঁর রাসূল আমাদের শিখিয়ে দিতেন। সুতরাং (আমাদের ওপর) জরুরি হলো এই ব্যাপারে চুপ থাকা।
কিন্তু আমাদের যদি এই ব্যাপারে টেনে আনা হয়, তাহলে আমরা এই বলে উত্তর দিই যে, ‘উলামারা এই বিষয়ে তিনটি অবস্থান নিয়েছেন। প্রথম বক্তব্য হলো ‘আরশ শূন্য হয়ে যায়, দ্বিতীয় বক্তব্য হলো ‘আরশ শূন্য হয় না, আর তৃতীয় মতটি হলো এই ব্যাপারে কথা বলা হতে বিরত থাকা এবং (এরূপ) বলা যে, আল্লাহ্‌ ভালো জানেন। আর শাইখুল ইসলাম এই মতের দিকে ধাবিত হয়েছেন যে, এর (আল্লাহ’র অবতরণ) কারণে ‘আরশ শূন্য হয় না। কারণ আল্লাহ্‌ (তাঁর সম্পর্কে) এর (‘আরশ) ওপরে সমুন্নত হওয়ার কথা বলেছেন, কোন নির্দিষ্ট সময়ে এর ব্যতিক্রম অবস্থার কথা বলা ছাড়াই। এবং তিনি (শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ) বলেন আল্লাহ্‌র জন্য এর (‘আরশের) ওপরে সমুন্নত হওয়া এবং অবতরণ করা সম্ভব যা মাখলুক্বের বিপরীত। কারণ মাখলুক্ব সীমাবদ্ধ, এটি যদি কোন দিকে ঘোরে অথবা কোন অবস্থান নেয় তাহলে অন্য অবস্থান থেকে প্রস্থিত হয়ে যাবে। আর রাব্ব এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হলো, তাঁকে মাখলুক্বের সাথে তুলনা করা হবে না। তবে আমার মত হলো ব্যক্তির জন্য উচিৎ প্রথমেই প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা।”
উৎস: abdalla508 (সালাফী ইউটিউব চ্যানেল)
অনুবাদক: রিফাত রাহমান সিয়াম
সম্পাদক: মুহাম্মাদ 'আবদুল্লাহ মৃধা

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...