Tuesday, 9 October 2018

স্বালাতে মুবাশ্‌শির

স্বালাতে মুবাশ্‌শির (১ম পর্ব) 




শুরুর কথা 

শুরুর কথা সমূহ
মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ‘স্বালাতে মুবাশ্‌শির’-এর দ্বিতীয় খন্ড পাঠকের হাতে উপস্থিত হল। তার জন্য তাঁর দরবারে লাখো শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। দ্বীনের অন্যতম খুঁ টির একটি কাঠামো পেশ করতে পেরে আমি নিজেকে যেমন ধন্য মনে করছি, তেমনি আশা করছি দুআ ও সওয়াব লাভের।

কেবল সহীহ হাদীসকে ভিত্তি করেই, অধিক ক্ষেত্রে কে কি বলেছেন তা উল্লেখ না করেই কেবল সহীহ দিকটা তুলে ধরেছি আমার এই পুস্তিকায়। মানুষের মনে সহীহ শিক্ষার চেতনা ও বাসনার কথা খেয়াল রেখেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আল্লাহ যেন তা কবুল করেন, তাই আমার কামনা।

বিভিন্ন বিতর্কিত মাসায়েলে আমি বর্তমান বিশ্বের প্রধান ৩টি রত্ন; বর্তমান বিশ্বের অদ্বিতীয় মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দ্বীন আলবানী, আল্লামা শায়খ ইবনে বায এবং আল্লামা ও ফকীহ্‌ শায়খ ইবনে উষাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহু জামীআন)গণের হাদীস লব্ধ ও সহীহ দলীল ভিত্তিক মতকে প্রাধান্য দিয়েছি। আর এ কথা অবশ্যই প্রমাণ করে যে, আমি তাঁদের প্রত্যেকের; বরং প্রত্যেক হ্‌ক-সন্ধানী রব্বানী আলেমের ভক্ত ও অনুরক্ত। তা বলে কারো অন্ধভক্ত নই। পক্ষান্তরে প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য অধিকারীর অধিকার সঠিকরুপে আদায় করা। উলামার যথার্থ কদর করা। প্রত্যেক হ্‌ক-সন্ধানীর অনুরক্ত হওয়া; যদিও বা তাঁদের কোন কোন অভিমত আমার-আপনার বুঝের অনুকূল নয়। বলা বাহুল্য, খাঁটি সোনা স্বর্ণকারই চিনতে পারে; স্বর্ণ-ব্যবসায়ী নয়।

‘নামায’ ইসলামের প্রধান ইবাদত। ‘নামায’ শব্দটি ফারসী, উর্দু , হিন্দী ও আমাদের বাংলা ভাষায় আরবী ‘সালাত’ অর্থেই পরিপূ র্ণ রুপে ব্যবহৃত বলেই আমি ‘সালাত’-এর স্থানে ‘নামায’ই ব্যবহার করেছি। তাছাড়া বাংলাভাষীর অধিকাংশ মানুষ ‘সালাত’ শব্দটির সাথে পরিচিত নয়। তাই পরিচিত ও প্রসিদ্ধ শব্দই ব্যবহার করতে আমি প্রয়াস পেয়েছি। আর এতে শরয়ী কোন বাধাও নেই। সুতরাং এ বিষয়ে সুহৃদ পাঠকের কাছে আমার ইজতিহাদী  কৈফিয়ত পেশ করে সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিনীত
আব্দুল হামীদ আল-মাদানী
আল-মাজমাআহ সঊদীআরব

প্রয়োজনের তাকীদে যা কিছু লিখি, সবই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আল্লাহ যেন তা আমাকে দান করেন এবং কাল কিয়ামতে এরই অসীলায় আমাকে, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতা ও ওস্তাযগণকে, আর এ বই-এর উদ্যোক্তা, প্রকাশক ও সকল আমলকারী পাঠককে তাঁর মেহ্‌মান-খানা বেহেশ্তে স্থান দেন। আমীন।


নিয়ত

নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত

আমল ও ইবাদত শুদ্ধ-অশুদ্ধ এবং তাতে সওয়াব পাওয়া-না পাওয়ার কথা নিয়তের উপর নির্ভরশীল। নিয়ত শুদ্ধ হলে আমল শুদ্ধ; নচেৎ না। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়ত করে থাকে। যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব কোন বিষয় লাভের উদ্দেশ্যে হয়, সে ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়। যার হিজরত কোন মহিলাকে বিবাহ্‌ করার উদ্দেশ্যে হয়, তার প্রাপ্যও তাই। যে যে নিয়তে হিজরত করবে সে তাই পেয়ে থাকবে।” (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১নং)

Tuesday, 2 October 2018

শিয়াদের ঈমান-আকীদা

অনেক ভাইয়েরা শিয়াদের ঈমান কেমন জানার জন্য প্রশ্ন করেন। জেনে নিন,
.
শিয়াদের ঈমান-আকীদাঃ

শিয়া ইসনা আশারিয়াদের আকীদা-বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিন্মে তুলে দেওয়া হলো। সাথে আরো ঈমান ও ইসলাম ভঙ্গের কারণগুলো দেওয়া হলো। যাতে করে পাঠক তার নিজ বিবেচনায় শিয়াদের নাস্তিক ও মুরতাদ হওয়ার বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন।
.
(১) আল্লাহ আলী রাঃ এর কাছে ওয়াহী নাযিল করেছিলেন, কিন্তু জিব্রাইল ভুলে সেই ওয়াহী নিয়ে আসে মুহাম্মাদ সঃ এর কাছে। (আল মুনিয়া ওয়াল আমালঃ ৩০ পৃ)।
(২) আল ক্বুরআন সম্পূর্ণ নয়। আসল ক্বুরআন আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তখন, যখন সাহাবারা মুরতাদ হয়ে গেছে। (আত-তানবিহ অররাদ্দ-আল মুলিতিঃ ২৫ পৃ)।
(৩) ক্বুরআনের অনেক আয়াত আসলে আয়াত নয়, তা বাজে কথা (নাউজুবিল্ললাহ)। (আল-অসীকা/২২১ পৃ)।
(৪) রাসুল সঃ নিজেই আংশিক শিয়া দর্শন প্রচার করে গেছেন। বাকিটা হজরত আলী প্রচার করেছেন। (এহকাকুল হক- তাসাত্তুরী/২-৮৮ পৃ)।
(৫) শিয়া ইমামরা আল্লাহ ও তার সৃষ্টির মাঝখানে মধ্যস্থতা কারী। (বেহারুল আনোয়ার/৯৯ঃ২৩)।
(৬) শিয়া ইমামদের কবর জিয়ারত কা’বায় হজ্জ করার চাইতে উত্তম। (সাওয়াবুল আ’মাল/১২১ পৃ)।
(৭) যে হুসাইন রাঃ এর কবর জিয়ারত করে সে যেন আল্লাহর আরশ জেয়ারত করে। (আল-মাজার আল-মুফিদ/৫১ পৃ)।
(৮) হুসাইন রাঃ এর কবরের মাটি সকল রোগের ঔসুধ। (আল-আমালি/৯৩ঃ ৩১৮)।
(৯) আল্লাহ ও শিয়া ইমামদের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই (নাউজুবিল্লাহ)। (মাসাবিহুল আনোয়ার/২ঃ ৩৯৭ পৃ)।
(১০) নক্ষত্র ও তারকা রাজি মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবন-মরনের উপর হস্তক্ষেপ করে। (রাওদা মিনাল কাফি/৮ঃ ২১০৩ পৃ)।
(১১) আলী রাঃ গায়েব জানেন। (মের’আতুল আনোয়ার/ ৫৯)। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে হস্থক্ষেপ করেন। (ওসুল আল-কাফি/১ঃ৩০৮)। তিনি মৃত কে জেন্দা করেন-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৩৪৭)।
১২) যে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ জমীনে আসেন সে কাফের-( ওসুল আল-কাফি/১ঃ৯০ পৃ)।
১৩) কালেমা শাহাদাতের সাথে আরো বলতে হবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী রাঃ আল্লাহর অলী। তারা এমন কালেমা নব জাতকের কানে বলে এবং মৃত ব্যক্তির শয্যায় শিয়রে উচ্চারন করে-( ফুরুউল কাফি/৩ঃ৮২)।
১৪) যারা আবু বকর, ওমর, ওসমান,‌ মুয়া্বিয়া, আয়েশা ও হাফসা রাঃ কে প্রত্যেক নামাজের পর গালি দিবে তারা আল্লাহকে সব চাইতে বড় উপহার প্রদান করিবে। (ফুরুউল কাফি/ ৩ঃ২২৪)।
১৫) শিয়া ইমামরা অন্যের জন্যে জান্নাতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারে। ( রিজালুল কাশি/৫ঃ৪৯০)।
১৬) মুতা বিয়ে না করলে তার ইমান পূর্ণতা লাভ করেনা। আর মুতা বিয়ে হল অলি ও সাক্ষী ছাড়াই কোন মহিলাকে চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্যে যৌন সঙ্গী করা। যে কোন মুমিনা নারীর সাথে মুতা করলো সে ৭০ বার কা’বা ঘর জেয়ারত করার সমান সাওয়াব পায় ( নাউজুবিল্লাহ)। (মিসবাহুত তাহাজ্জুদ- আত তুরসি/২৫২ পৃ)।
১৭) শিয়াদের ইমাম খোমেনী বলেছে, মুতা ছাড়া যত রকমের নষ্টামি আছে তাতে কোনই দোষ নাই যদিও তা শিশুর সাথে হোক না কেন ( নাউজুবিল্লাহ)! -( তাহরিরুল অসিলা/২ঃ২২১)।
১৮) আল্লাহ শিয়া ইমামদের নুর থেকে ফেরেস্তা সৃষ্টি করেছেন। ৪০০০ ফেরেস্তা এ কারনে হুসাইন রাঃ’র কবরে কেয়ামত পর্যন্ত কান্না রত আছেন-( জামিউল ফাওয়ায়েদ-কারাস্কি/৩৩৪ পৃ)।
১৯) ফেরেস্তাদের মধ্যে গোলযোগ হলে আল্লাহ আলী রাঃ কে ফেরেস্তা পাঠিয়ে আসমানে তুলে নিয়ে যান মিমাংশা করার জন্যে-(এখতেসাস/২১৩)।

Sunday, 23 September 2018

সালমান আল-আওদাহ

সালমান আল-আওদাহ, সফর আল-হাওয়ালি ও অন্যান্য তাকফিরি নেতাদের ব্যপারে শায়খ বিন বাজ ও কিবার আল-ওলামাদের বক্তব্যঃ
আব্দুল আজীজ ইবনে বাজ এর পক্ষে থেকে প্রিন্স নায়েফ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর) কাছেঃ
“সালমান আল-আওদাহ ও সফর আল-হাওয়ালীর বেশকিছু বক্তব্য ও বই সবদিক থেকে বিবেচনা করার পর ওলামারা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদেরকে ২ জন আলেমের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। যদি তারা তাদের ভুলগুলো স্বীকার করে এবং পুনরায় এই ভুলগুলো না করার জন্য রাজি হয় তাহলে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এতোটুকুই যথেষ্ঠ হবে।
আর যদি তারা ভুল সংশোধন করতে রাজি না হয় তাহলে, তাদেরকে সমস্ত প্রকার লেকচার, সেমিনার, খুতবাহ দেওয়া, জনসাধারণের মাঝে ওয়াজ মাহফিল বা ক্যাসেট বিতরণ করতে নিষিদ্ধ করা হবে।
আল্লাহ এই ২ জনকে হেদায়েত করুন ও সঠিক আমলের দিকে পরিচালিত করুন।
৩/৪/১৪১৪ হিজরী।
কিবার আল-ওলামাদের সচিবালয়ঃ ৯৫১/২।
সালমান আল-আওদাহ ও সফর আল-হাওয়ালী শায়খ আলবানীকে মুর্জিয়া আকীদার বললে, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমি রহিমাহুল্লাহকে এই ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হয়। উত্তরে শায়খ ইবনে উসাইমিন বলেন,
“শায়খ আলবানী একজন আলেম, মুহাদ্দিস ও ফকীহ। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন ফকীহর থেকে বড় মুহাদ্দিস। আমার জানা মতে শায়খ আলবানীর এমন কোন বক্তব্য নেই যা মুর্জিয়ারা বলে থাকে। যাই হোক, যেই সমস্ত লোকেরা মানুষকে #কাফের বলে ফতোয়া দিতে চাই তারাই শায়খ আলবানীকে মুর্জিয়া বলে থাকে এবং বিভিন্ন আজেবাজে নামে গালি দেয়। আমি শায়খ আলবানীর, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন ইস্তিকামাহ, সঠিক আকীদাহ ও ইখলাসের স্বাক্ষ্য দিচ্ছি।”
তিনি আরো বলেন, “শায়খ আলবানী সালাফী আকীদাহ ও বিশুদ্ধ মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিছু মানুষ আল্লাহর বান্দাদেরকে এমন বিষয় নিয়ে কাফের ফতোয়া দিতে চায় যেই বিষয়ে আল্লাহ তাদেরকে কাফের বলেন নি। অতঃপর, যারা এইরকম অন্যায়ভাবে কাফের বলার বিরোধীতা করে তাঁদেরকে তারা মুর্জিয়া বলে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, জঘন্য অপবাদ এবং মিথ্যা রচনা। এই ধরণের কথা যেই বলে থাকুক না কেনো, তাদের কথা শুনবেনা।”
মাকাল্লামাত মা মাশায়িখ আদ-দাওয়া আস-সালাফিয়্যা, পর্ব-৪, ২০০১।

Saturday, 22 September 2018

সৌদি আরব কি আলেম-উলামাদেরকে গ্রেফতার করে?


উত্তরঃ হ্যা করে, ভ্রষ্ট পথের দিকে আহবানকারী আলেমদেরকে গ্রেফতার করে।
যেমন সুলায়মান আল-উলওয়ান, সালমান আল-আওদাহ প্রমুখ।
=> প্রশ্নঃ সুলায়মান আল-উলওয়ান কে?
উত্তরঃ সুলায়মান আল-উলওয়ানঃ
(১) বিংশ শতাব্দীতে তাকফীর ও খুরুজের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
(২) আত্মঘাতী বোমা হামলার উস্কানিদাতা।
(৩) সাউদী আরবের আলেমদেরকে "স্কলারস অফ রুলারস" বলে অপবাদ দানকারী।
(৪) উম্মাহকে আলিম-উলামা বাদ দিয়ে উসামা বিন লাদিনের মতো ব্যক্তিদের দিকে মুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য আহবানকারী।
(৫) তাকফীর ও খুরুজের ব্যাপারে মুহাম্মদ আল-সুরুর, সফর আল-হাওয়ালী, সালমান আল-আওদাহর মতো চরমপন্থী বরং, তাদের চাইতেও নিকৃষ্ট।
(৬) সাউদী আরবের শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য আহবানকারী।
(৭) আরব বসন্তের সমর্থনকারী, আরব বসন্তের দুই পক্ষকে ইসলাম ও কুফরের যুদ্ধের সমতুল্য বলে তুলনাকারী।
=> সালমান আল-আওদাহ কে?
ইখোয়ানুল মুসলিমিন, আল-কায়েদাহ, আনোয়ার আল-আওলাকি, ইয়াসির ক্বাদী এমন আরো অনেকের তাত্ত্বিক গুরু। ডা. জাকির নায়েক সালমান আল-আওদাহর দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলে তার লেকচারে উল্লেখ করেছিল।
ফেইসবুক জিহাদীরা কিছুদিন পরপরই মায়াকান্না আরম্ভ করে, সৌদি আরব prominent muslim scholar সালমান আল-আ'ওদাহকে গ্রেফতার করেছে!
সালমান আল-আওদাহ prominent scholar, তবে ইখোয়ানুল মুসলিমিন এবং তাদের brain child আল-কায়েদার অনুসারীদের কাছে। আলহা'মদুলিল্লাহ অনেক দেরীতে হলে সৌদি আরব তাদের ভুলগুলো বুঝতে পারছে এবং এই দলগুলোকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করেছে। সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে যারা এই দলগুলোতে ভর্তি করে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

Tuesday, 28 August 2018

আয়াতুল কুরসী ও তাওহীদের প্রমাণাদি

শাইখ আব্দুর রায্‌যাক ইবন আব্দুল মুহসিন আল-বদর
অনুবাদ: আবদুর রাকীব (মাদানী)
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
 সূচীপত্র
ক্রশিরোনামপৃষ্ঠা
ভূমিকা
আয়াতুল কুরসীর মাহাত্ম্য
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে আয়াতুল কুরসী পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন১৬

আয়াতুল কুরসী শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদে রাখে

২৫
আয়াতুল কুরসী পড়ার উদ্দেশ্য২৯
আয়াতুল কুরসীর সংক্ষিপ্ত বিষয়াদি৩১
আয়াতটির শুরু কথা৩৯
কালেমার উদ্দেশ্য শুধু মুখে উচ্চারণ করা নয়৪১
একটি মহান মূল নীতি১০১
১০উপসংহার১০৯
১১আন্তরিক আহ্বান১১১

ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ সুমহান এবং একচ্ছত্র উচ্চতার অধিকারী আল্লাহর জন্য, যিনি মহত্ব, মহিমা এবং অহংকারের মালিক। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। পূর্ণাঙ্গ বিশেষণসমূহে তিনি একক এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা এবং রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর সহচরবৃন্দ ও পরিবার পরিজনের প্রতি বর্ষিত হউক দুরূদ-রহমত এবং শান্তি।
অতপর….
কুরআন মাজীদের সর্বমহান আয়াত ‘আয়াতুল কুরসী’ এবং তাতে উল্লিখিত মহৎ, স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল দলীল প্রমাণসমূহের সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা ও আলোচনা, যা মহত্ত্ব, বড়ত্ব এবং পূর্ণতার ব্যাপারে মহান আল্লাহর একত্বের প্রমাণ বহন করে এবং বর্ণনা করে যে, তিনি আল্লাহ পবিত্র। তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। নেই কোনো সত্য উপাস্য। তাঁর নাম বরকতপূর্ণ। মহান তাঁর মহিমা। তিনি ছাড়া নেই কোনো মা‘বুদ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥﴾ [البقرة: ٢٥٥]
“আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী, তন্দ্রা ও ঘুম তাঁকে স্পর্শ করে না, আকাশসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তারই; এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনের ও পিছনের সবকিছুর ব্যাপারে তিনি অবগত। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি আছে এবং এসবের সংরক্ষণে তাঁকে বিব্রত হতে হয় না এবং তিনি সমুন্নত মহীয়ান।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫]
[আয়াতুল কুরসীর মাহাত্ম্য]
এই বরকতপূর্ণ আয়াতটির বড় মাহাত্ম্য এবং উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। কারণ মাহাত্ম্য, সম্মান এবং মর্যাদার বিবেচনায় কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহের মধ্যে এটি সর্বমহান, সর্বোত্তম এবং সুউচ্চ আয়াত। এর চেয়ে সুমহান আয়াত কুরআনে আর নেই। হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটিকে সর্বোত্তম বলেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর স্বীয় সহীহ গ্রন্থে উবাই ইবন কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল তাঁকে বলেন,

Wednesday, 15 August 2018

যারা শুধু সফর অবস্থায় শরীকানায় কুরবানী করা বৈধ মনে করেন তাদের দলীল নির্ভর প্রতিবাদ


আল হামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ:
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কুরবানী করা একটি প্রমাণিত ইবাদত, যাকে অধিকাংশ উলামা সুন্নতে মুআক্কাদাহ (তাগিদী সুন্নত) বলেছেন এবং ক্ষমতাবানদের তা পরিত্যাগ করা অনুচিত মনে করেছেন। [আল্ মুগনী, ইবনু কুদামাহ, ১৩/৩৬০, ফিকহুস্ সুন্নাহ, সাইয়্যেদ সাবেক,৩/১৯৫]
তাই প্রতি বছর যখন কুরবানীর সময় উপস্থিত হয়, তখন মুসলিম সমাজে এই ইবাদতটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। মুসলিম ভাইয়েরা তাদের সাধ্যানুযায়ী ছাগল, ভেড়া, গরু ও উট দ্বারা কুরবানী দিয়ে থাকেন। অনেকে গরু বা উটে শরীক হয়ে ৭ ভাগের এক-দুই ভাগেও কুরবানী দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই সময় একটি প্রসঙ্গ প্রায় প্রায় উঠে আসে যে, এই রকম শরীকানায় কুরবানী দেওয়া বৈধ না অবৈধ? অনেকের ধারণা, মুকীম ব্যক্তি [মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি] উট-গরুর সাত ভাগের কোন এক ভাগে অংশী হয়ে কুরবানী দিতে পারে না। কারণ স্বরূপ তারা মনে করেন, শরীকানায় কুরবানী দেয়াটা মুসাফির বা সফরের সাথে সম্পৃক্ত; মুকীমের সাথে নয়। তাই এই বিষয়টির শারয়ী সমাধানার্থে কিছু আলোকপাত করার মনস্থ করেছি। ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।
এ বিষয়ের দুটি পরিভাষা: আমরা শুরুতে কুরবানী সংক্রান্ত দুটি পরিভাষা জেনে নিব যা, আমাদের আলোচ্য বিষয়টি ভাল ভাবে জানতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
উযহিয়া: (আমাদের সমাজে যা কুরবানী নামে পরিচিত) সেই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা কুরবানীর দিন সমূহে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বাড়িতে যবাই করা হয়। [আল্ মুলাখ্খাস আল্ ফিকহী/২১৩]হাদ্ঈ: সেই চতুষ্পদ জন্তুকে বলা হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানীর দিনগুলিতে হারামে (মক্কায়) যবাই করা হয় ‘তামাত্তু’ কিংবা ‘কিরান’ হজ্জ করার কারণে কিংবা হজ্জ বা উমরার কোন ওয়াজিব কাজ ছুটে যাওয়ার কারণে কিংবা ইহরাম অবস্থার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার কারণে। [ফিক্হ বিশ্বকোষ,৫/৭৪, শব্দ উয্হিয়্যাহ] যেহেতু এই পশুকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাদীয়া করা হয়, তাই তাকে হাদ্ঈ বলে। [আল্ মুলাখ্খাস আল ফিকহী, ড.ফাউযান,৩১৩]
উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যটি হচ্ছে, হাদ্ঈ হজ্জ বা উমরা পালনকারীর পক্ষ থেকে মক্কায় যবাই করা হয় এবং উযহিয়া হজ্জ বা উমরা পালনকারী নয়, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজ বাসস্থানে যবাই করা হয়।
হজ্জ ও উমরায় হাদ্ঈতে শরীক হওয়ার প্রমাণ: হজ্জ কিংবা উমরা করার সময় একটি হাদ্ঈতে সাত ব্যক্তি শরীক হয়ে কুরবানী দেয়ার একাধিক প্রমাণ সহীহ হাদীসে বিদ্যমান। আমরা এখানে তারই কয়েকটি উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।
عن جابرٍ، قال: خرجنا مع رسولِ الله صلى الله عليه و سلم مُهِلِّيْنِ بالحَجِّ فأمرنا رسول الله صلى الله عليه و سلم أن نشترِكَ في الإبل والبقرِ، كل سبعةٍ منا في بَدَنَةٍ. رواه مسلم
“জাবের (রাযি:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সা:) এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অতঃপর তিনি (সা:) আমাদের উট ও গরুতে শরীক হওয়ার আদেশ দেন। আমাদের মধ্যে প্রত্যেক সাত জনকে একটি উটে”। [মুসলিম, অধ্যায়, হাজ্জ, অনুচ্ছেদ নং ৬২, হাদীস নং ৩৫১]
عن جابر بن عبد الله، قال: حججنا مع رسول الله صلى الله عليه و سلم، فنحرنا البعير عن سبعة، والبقرة عن سبعة. رواه مسلم
আবদুল্লার পুত্র জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হজ্জ করলাম। অতঃপর সাত জনের পক্ষে একটি উট নহর করলাম এবং সাত জনের পক্ষে একটি গাভী। [মুসলিম, অধ্যায়, হাজ্জ, অনুচ্ছেদ নং৬২, হাদীস নং ৩৫১]
এ প্রসঙ্গে জাবের (রাযি:) কর্তৃক বর্ণিত আরো কয়েকটি হাদীস সহীহ মুসলিমের উপরোক্ত অনুচ্ছেদে দেখা যেতে পারে।

Thursday, 9 August 2018

যিল হজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ পাঠ করার নিয়মঃ


ঈদুল আযহার তাকবীর পাঠ করার সময় দুই ভাগে বিভক্ত; এক . মুতলাক বা সর্বসময়। অর্থাৎ যিল হজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে আরম্ভ করে আইয়্যামে তাশরীক তথা ১৩ই যিল হজ্জের সূর্য্য ডুবা পর্যন্ত সব সময়। দুই. মুকায়য়্যিদ বা নির্দিষ্টযুক্ত সময়। আর এটা হল; শুধুমাত্র ফরজ নামাযের পর পর। অর্থাৎ আরাফার দিন ফজরের ফরয নামাযের পর থেকে আরম্ভ করে আইয়্যামে তাশরীক তথা ১৩ই যিল হজ্জের আসরের নামায পর্যন্ত প্রত্যেক নামাযের পরপর তা পাঠ করা। তাকবীরের শব্দাবলীঃ ১. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা। ২. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, ইরওয়াউল গালীল) ৩. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ, আল্লাহু আকবার ওয়া আজাল, আল্লাহু আকবার আলা মা হাদানা। ( বায়হাকী ও ইরওয়াউল গালীল) ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আব্দুল্লাহ বিন ওমার ও আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে বাজারে গেলে তাকবীর পাঠ করতেন, ফলে (তাদের তাকবীর ধ্বনি শুনে) বাজারের মানুষেরাও তাদের সাথে তাকবীর পাঠ করতেন। তিনি আরও বলেনঃ ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ঐ দিনগুলিতে মিনাতে তাঁর তাঁবুর ভিতর তাকবীর পাঠ করতেন, ফলে তাঁর তাকবীর ধ্বনি মসজিদের সবাই শুনতে পেতেন এবং তারাও তাকবীর পাঠ করতেন। আর তখন বাজরের সবাই এমনভাবে তাকবীর পাঠ করা আরম্ভ করতেন যে সমস্ত মিনা তাকবীর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠতো। আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা ঐ দিনগুলিতে মিনাতে সব সময় তাকবীর পাঠ করতেন। এমনকি ফরয নামাজের পরে, বিছানাতে, তাঁবুতে, আসনে এবং পথ চলার সময়ও তাকবীর পাঠ করতেন। তাকবীর পাঠ করার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে; পুরুষেরা তাকবীর পাঠ করবে উচ্চ আওয়াজে, যেমনটি ওমর, আব্দুল্লাহ বিন ওমর এবং আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহুম করতেন। আর মহিলারা আস্তে আস্তে তথা নীচু আওয়াজে তাকবীর পাঠ করবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলারাও তাকবীর পাঠ করতেন। উম্মে আতিয়্যা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে নিয়ে যায়। তবে তারা নামাযের স্থান থেকে দূরে থাকবে (নামাযে শরীক হবে না ) । কিন্তু তারা অন্যান্য মঙ্গল ও মুসলিমদের দুআয় শরীক হবে। তারা পুরুষদের পিছনে অবস্থান করবে এবং পুরুষদের সাথে তারাও তাকবীর পাঠ করবে। (সহীহ বুখারী:৩২৪ ও ৯৭৪ এবং সহীহ মুসলিম: ৮৯০ নং পৃষ্ঠা)। লিখেছেনঃ শায়খ Mohammad Saiful Islam হাফিযাহুল্লাহ।

Tuesday, 3 July 2018

সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াতের ফযীলত, আরবী, উচ্চারণ ও বাংলা অর্থঃ



সুরা বাক্বারার শেষ দুটি আয়াত (২৮৫+ ২৮৬,আমানার রাসূলু...থেকে শেষ পর্যন্ত) তেলাওয়াত করার অনেক উপকারের কথা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। শেষ আয়াতে অত্যন্ত জরুরি কয়েকটি দুয়া রয়েছে। এসব দুয়া কবুল হওয়ার ওয়াদাও করা হয়েছে।

প্রিয় নবীজী (সাঃ) একদিন বললেনএই মাত্র আকাশের একটি দরজা খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এ দরজাটি খোলা হয়নিএ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করছেন। এর আগে তিনি কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। এ ফেরেশতা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সালাম করে বলেন,সুসংবাদ গ্রহণ করুন আপাদমস্তক দুটি নূরেরযা আপনার আগে কোন নবীকে দেয়া হয়নি
১. ফাতেহাতুন কিতাব অর্থাৎ সুরা ফাতেহা এবং
২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।

Thursday, 28 June 2018

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর ব্যাখ্যা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم ِ এর ব্যাখ্যা

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِপরম করুণাময় এবং দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া (রঃ) আল্লাহ তাআলার কিতাবের অনুসরণ করে বিসমিল্লাহ দ্বারা পুস্তকটি লিখা শুরু করেছেন। সূরা তাওবা ব্যতীত প্রত্যেক সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লিখা রয়েছে। বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতেরও অনুসরণ হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাজা-বাদশাহদের কাছে পত্র লিখতেন তখন শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লিখতেন।

بسم اللهবিসমিল্লাহ এর ব্যাখ্যা: এখানে با হরফে জারটি استعانة (ইস্তেআনা) তথা সাহায্য প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আভিধানিক অর্থে যে শব্দ কোনো ব্যক্তি, বস্ত্ত বা বিষয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করে, তাকে ইসম বলা হয়। আরবী ব্যাকরণ বিদদের পরিভাষায় যে শব্দ কোন কালের সাথে যুক্ত না হয়েই সরাসরি নিজের অর্থ প্রকাশ করে, তাকে اسم (ইসম) বলা হয়।

جر (জার) এবং مجرور মাজরুর মিলে একটি উহ্য বিষয়ের সাথে متعلق (সম্পৃক্ত) হয়েছে। সেই উহ্য বিষয়টি ‘আল্লাহ’ শব্দের পরে হওয়া উচিত। যাতে করে এটি ‘হাসর’ তথা সীমিত অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ অর্থটি যেন এমন হয় যে, আমি আল্লাহর নামেই শুরু করছি, অন্য কারো নামে নয় এবং তাঁর কাছেই কাজটি সম্পাদনের ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছি, অন্য কারো কাছে নয়।

কেউ কেউ বলেছেনঃ এখানে উহ্য শব্দটি হচ্ছে فعل বা ক্রিয়া। অর্থাৎ بسم الله أقرأ أو أكتب ‘‘আমি আল্লাহর নামে পড়ছি বা লিখছি। এমনি যখন যে কাজ শুরু করা হবে, তখন সেই কাজের অর্থবোধক একটি فعل (ক্রিয়া) উহ্য থাকবে।

আবার কেউ কেউ মাসদার উহ্য মেনে থাকেন। অথাৎ بسم الله ابتدائي তথা আল্লাহ তাআলার নামেই আমার শুরু।

الله আল্লাহ এর ব্যাখ্যা

শব্দটি মহান পবিত্র সত্তার জন্য নির্দিষ্ট একটি নাম। এর অর্থ হচ্ছে, তিনিই সমস্ত মাখলুকের এবাদত ও উলুহীয়াতের একমাত্র অধিকারী ও হকদার। এই মহান নামটি أله يأله ألوهة থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে عُبِدَ يُعْبَدُ عبادة অর্থাৎ তার এবাদত ও দাসত্ব করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ বা মাবুদ।

الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ আর্ রাহমান আর রাহীম
আল্লাহ্ তাআলার পবিত্র ও অতি সুন্দর নামসমূহের মধ্য হতে রাহমান ও রাহীম দু’টি সম্মানিত নাম। এই নাম দু’টি প্রমাণ করে, যেমন রহমত আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয়, তিনি তেমন রহমত ও দয়ার গুণেই গুণান্বিত।
আল্লাহ্ তাআলার الرحمن‘রাহমান’ নামটি সমস্ত সৃষ্টির উপর তাঁর ব্যাপক রহমতের প্রমাণ বহন করে। আর الرحيم ‘রাহীম’ নামটির মধ্যে এমন রহমত রয়েছে, যা শুধু মুমিনদের জন্যই নির্দিষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ﴾ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا ﴿ ‘‘এবং তিনি মুমিনদের প্রতি খুবই দয়াবান’’। (সূরা আহযাব: ৪৩)

শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া।
ডঃ সালেহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ।
অনুবাদ: শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী।

Monday, 25 June 2018

খারেজী কারা? বর্তমানে কি কোন খারেজী আছে?


উত্তরঃ “খারেজী” হচ্ছে ৭২টি বেদাতী জাহান্নামী তরীকার একটা তরীকা। এরা অত্যন্ত চরমপন্থী একটি দল যারা সাহাবা রাঃ ও মুসলিম শাসকদেরকে কাফের ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অনেক মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত আমলের দিক থেকে তারা হচ্ছে এই উম্মতের মাঝে সবচাইতে বেশী ইবাদত করনেওয়ালা ফেরকা – তারা সবচাইতে বেশী নামায পড়তো, সবচাইতে বেশি রোযা রাখতো, সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়তো, কুরান পড়তো – এইগুলো রাসুল সাঃ আগেই বলেছিলেন তাদের গুণাবলী সম্পর্কে। কিন্তু তাদের ভ্রান্ত আকীদা (ধর্মীয় বিশ্বাস) ও চরমপন্থা অবলম্বনের কারণে তারা এতো নামায রোযা করেও এতোটাই নিকৃষ্ট যে, রাসুল সাঃ তাদেরকে “কিলাবু আহলিন-নার’’ জাহান্নামের কুকুর বলেছেন। তাই কোন দলের লোক অনেক আমল করলেই তারা হক্ক হয়ে যায়না, দেখতে হবে তাদের আকীদা কি, তাদের মানহাজ (চলার পথ বা পদ্ধতি/উসূল বা মূলনীতি) কি? তারা যদি আহলে সুন্নতের অনুসারী হয় তাহলেই সে নাজাত পাবে, আর আহলে সুন্নতের বিপরীত চললে যতই আমল করুক, জাহান্নামে যাবে।
বর্তমান যুগেও এমন কিছু খারেজী লক্ষ্য করা যায়, বা এমন অনেক ব্যক্তি বা দল আছে যাদের মাঝে খারেজীদের গুণ দেখা যায়। যেমন, ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবের সরকারের বিরুদ্ধে “জুহাইমান আল-ওতাইবি” নামে এক লোক বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। আনুমানিক ৩০০-৪০০ লোক নিয়ে সে প্রথম কাবা দখল করে এবং সেখানে তাদের মধ্য থেকে একজনকে “ইমাম মাহদী” দাবী করে তার হাতে বায়াত করে তাকে শাসক হিসেবে মেনে নিতে দাবী করে। এরা “মসজিদুল হারাম” যেখানে কেয়ামত পর্যন্ত রক্তপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেখানে অনেক মানুষদেরকে হত্যা করে। অবস্থা এতো সংকটময় দেখে ইমাম বিন বাজ রহঃ সহ তখনকার বড় আলেমরা ফতোয়া দেন – এ খারেজী হয়ে গেছে – এর ক্ষতি থেকে মুসলিমদের বাচানোর জন্য কাবাঘরে এদের উপর আক্রমন করা জায়েজ হবে, যদিও হারামে রক্তপাত চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু সংকটপূর্ণ অবস্থায় মাসয়ালা পরিবর্তন হয়ে যায়, আর এর মতো লোককে না সরালে সে আরো ফেতনা ছড়াবে, তাই এইক্ষেত্রে হারামে তাদের উপর আক্রমন করলে গুনাহ হবেনা। যাইহোক তাদের উপর আক্রমন করা হলে তারা একটা টানেলে আশ্রয় নেয় যেখান থেকে তাদেরকে ধরা যাচ্ছিলোনা, তাদেরকে ধরতে কোন সৈন্য গেলে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করতো। পরে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে ও টানেলে পানি ঢেলে তাতে কারেন্ট দিয়ে তাদেরকে আহত করে জুহাইমানসহ তার প্রায় ৭৭জন সাথীকে গ্রেফতার করা হয়। কথিত ইমাম মাহদী আগেই মারা গিয়েছিল আক্রমনের সময়। গ্যাসে জুহাইমানের চেহারা কালো হয়ে যায়, পরে শরিয়াহ মোতাবেক জুহাইমানসহ অনেককে প্রকাশ্যে কতল করে হত্যা করা হয়। জুহাইমানকে এই ভিডিওতে দেখতে পারবেন।

Tuesday, 29 May 2018

কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ, শর্তসমূহ এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবন


الحمد لله رب العالمين و العاقبة للمتقين والصلاة و السلام على رسوله الأمين وعلى آله و صحبه أجمعين و بعد ،
বর্তমান পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ মানুষ মুসলিম হলেও প্রকৃত মুসলিম ও ঈমানদারের সংখ্যা উল্লেখিত অংকের যে বহুগুণ নীচে তা অস্বীকার করার উপায় নেই; কারণ অনেক লোক নামধাম দিয়ে ইসলাম ও ঈমানের দাবী করলেও প্রকৃত অর্থে তারা শির্কের বেড়াজাল থেকে নিজদের মুক্ত করতে পারেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَمَا يُؤۡمِنُ أَكۡثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشۡرِكُونَ ١٠٦ ﴾ [يوسف: ١٠٦]
‘‘অনেক মানুষ আল্লাহর উপর ঈমান আনলেও তারা কিন্তু মুশরিক’’। (সূরা ইউসূফ, আয়াত ১০৬)

অনেক মানুষ তাদের জীবনে কোনো এক সময় ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ এ কালেমার মৌখিক স্বীকৃতি দান করেই নিজদেরকে খাটি ঈমানদার মনে করে থাকে, যদিও তাদের কাজ কর্ম ঈমান আক্বীদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী হোক না কেন। এর কারণ হলো ঐ ব্যক্তিরা কেন আল্লাহ্‌র উপর ঈমান এনেছে, অথবা তাদের নিকট ঈমান কি দাবী করে এবং কি কাজ করলে ঈমানের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাবে এসম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয়।
 গনেশ নামে কোনো ব্যক্তি একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করার পরেও কালি পূজা করে বলে অথবা লক্ষ্ণীর নিকট কল্যাণ কামনা করে বলে তাকে মুশরিক বলা হয়। আবার ‘আবদুল্লাহ্ নামক কোনো ব্যক্তি আল্লাহ্‌র একত্ববাদে বিশ্বাস করার পর যদি গোর পূজা বা পীর পূজা করে অথবা খাজাকে সাজদা করে বা মৃত ব্যক্তির নিকট কল্যাণ কামনা করে তাহলে গনেশের মধ্যে ও এ আব্দুল্লার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? মূলতঃ এদের দুজনের নামে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের কর্ম এবং পথ কিন্তু একই। দ্বিতীয় ব্যক্তি তার জীবনের কোনো এক সময় ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’ এ কালেমা সাক্ষ্য দান করে থাকলেও তা ছিল একান্তই গতানুগতিকভাবেই সে তা করেছে, তাই সে তাওহীদের রাজপথকে পরিহার করে ঘুরপাক খাচ্ছে শির্কের অন্ধকার গলিতে। অন্তত মুসলিমদের জীবনে এমনটি যেন না ঘটে এ দৃষ্টিকে সামনে রেখে লেখক এই পুস্তিকাটিতে কালেমা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’ এর অর্থ এবং এর দাবী ইত্যাদি প্রসঙ্গে তথ্য ভিত্তিক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন। নির্ভেজাল ইসলামী আক্বীদাহ নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য বইটিকে মাইল ফলক হিসাবে ধরা যায়। বইটির অপরিসীম গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলা ভাষায় বইটি অনুবাদ করার জন্য আমি প্রয়াসী হই।
যথাসময়ে অনুবাদের কাজ শেষ করতে পেরে আমি আল্লাহ্‌র শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। বইটি পড়ে একজন পাঠক ও যদি সঠিক ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত হতে পারেন তাহলে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে মনে করি। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে খাঁটি ঈমানদার হয়ে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করার তাওফীক দান করুন। (আমীন)
মুহাম্মদ মতিউল ইসলাম ইবন আলী আহমাদ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। আমরা তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমাদের নাফসের সকল প্রকার বিপর্যয় ও কুকীর্তি হতে রক্ষা করার জন্য তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ্ যাকে হিদায়েত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথ প্রদর্শনকারী নেই।
অতঃপর আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্‌র বান্দাহ্ ও রাসুল। আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে কিয়ামত পর্যন্ত সালাত ও সালাম বর্ষিত হউক তাঁর রাসূল, আহলে বাইত এবং সমস্ত সাহাবারদের উপর আর ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের উপর যারা অনুসরণ করেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এবং আঁকড়ে ধরেছেন তাঁর সুন্নাতকে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর যিকির করার জন্য আদেশ করেছেন এবং তিনি তাঁর যিকিরকারীদের প্রশংসা করেছেন ও তাদের জন্য পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। তিনি আমাদেরকে সাধারণভাবে সর্বাবস্থায় তাঁর যিকির করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন ইবাদত সম্পন্ন করার পর তাঁর যিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
﴿ فَإِذَا قَضَيۡتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمۡۚ﴾ [النساء: ١٠٣]
“অতঃপর তোমরা যখন সালাত সমাপ্ত কর তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহর যিকির কর’’। (সূরা আন্ নিসা, ১০৩) আল্লাহ্ আরো বলেন,
﴿ فَإِذَا قَضَيۡتُم مَّنَٰسِكَكُمۡ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَذِكۡرِكُمۡ ءَابَآءَكُمۡ أَوۡ أَشَدَّ ذِكۡرٗاۗ﴾ [البقرة: ٢٠٠]
‘‘আর যখন তোমরা হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে, যেমন করে স্মরণ করতে তোমাদের পিতৃপুরুষদেরকে, বরং (আল্লাহকে) এর চেয়েও বেশী স্মরণ করবে’’। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২০০)
বিশেষ করে হজ্জ পালনের সময় তাঁর যিকির করার জন্য বলেন,
﴿فَإِذَآ أَفَضۡتُم مِّنۡ عَرَفَٰتٖ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ عِندَ ٱلۡمَشۡعَرِ ٱلۡحَرَامِۖ﴾ [البقرة: ١٩٨]
“অতঃপর যখন আরাফাত থেকে তোমরা ফিরে আসবে তখন (মুযদালেফায়) মাশ্আরে হারাম এর নিকট আল্লাহ্‌র যিকির কর। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ১৯৮)
তিনি আরো বলেন,

Saturday, 12 May 2018

নিয়ত কিভাবে করতে হবে?




নিয়ত শব্দের অর্থ হচ্ছে “কোন কাজ করতে ইচ্ছা করা” বা “সংকল্প করা”। নিয়ত করতে হবে অন্তরে, মুখে উচ্চারণ করে দোয়া পড়ে নয়। নিয়ত করার জন্য কোনো দুয়া পড়তে হবেনা বা মুখে উচ্চারণ করে কিছু বলতে হবেনা।
সালাতের নিয়ত করার জন্যেঃ 
আপনি কোন ওয়াক্তের কত রাকাত (২/৩/৪), কি সালাত (ফরয, সুন্নত নাকি নফল সালাত) পড়ছেন, অন্তরে শুধুমাত্র এই ধারণা বা ইচ্ছাটুকু থাকলেই আপনার নিয়ত করা হয়ে যাবে। প্রত্যেক কাজের শুরুতে এইরকম অন্তরে নিয়ত করে নেওয়া “ফরয”।
যে কোনো ইবাদত বা আমলের পূর্বে এইভাবে নিয়ত না করলে, সেটা ইবাদত হিসেবে কবুল করা হয়না। কিন্তু নিয়তের জন্যে মুখে “নাওয়াইতুআন উসালিল্লাহি তাআ’লা...” এই দোয়া পড়ে বা মুখে উচ্চারণ করে যে নিয়ত পড়া হয়, সেটা হচ্ছে বেদাত। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এইভাবে দুয়া করতেন না। মনে রাখবেন, আমলের পূর্বে অন্তরে নিয়ত “করা” ফরয, কিন্তু মুখে উচ্চারণ করে নাওয়াইতু দুয়া “পড়া” নিয়ত করা বেদাত।
ধরুন কেউ একজনকে টাকা-পয়সা দান করলো, কিন্তু এই টাকা দেওয়ার পূর্বে সে আল্লাহর কাছে কোনো সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়ার আশা করলোনা, তার মানে হলো সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য “নিয়ত” (ইচ্ছা) করে নাই। তাই আল্লাহ তাআ’লা তাকে কোনো সওয়াব দেবেন না। কিন্তু সে যদি দান করা বা যেকোনো নেক আমলের পূর্বে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিয়ত করে, তাহলেই কেবলমাত্র সে এর বিনিময়ে সওয়াব বা প্রতিদান পাবে। আবার সে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অন্য কাউকে খুশি করা, মানুষের মাঝে নিজের সুনাম ছড়ানো, এমন উদ্দেশ্যে করে, সেটা হচ্ছে ‘রিয়া’ এবং এটা এক প্রকার শিরক। রিয়ার কারণে আল্লাহ ঐ আমল কবুল করেন না, বরং এই পাপের কারণে সে তোওবা না করলে শাস্তি পাবে। 

Sunday, 26 November 2017

সউদী আরবে উচ্চশিক্ষা

উচ্চ শিক্ষার্থে সৌদি আরব এশিয়া ও বিশ্বের মধ্যে এক অন্যতম অবস্থানে রয়েছে । আরবী ও ইসলামী শিক্ষা অর্জনের জন্য সৌদি আরব গোটা পৃথিবীর মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় দেশ।
বিজ্ঞান ও সাধারণ শিক্ষায়ও সৌদি আরব পিছিয়ে নেই । রাজধানী রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, দাম্মাম কিং ফাহাদ পেট্রোল SPamp মিনারেল বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিং এ শীর্ষ সারির মধ্যে রয়েছে । বৃত্তিতে অধ্যয়ন রত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অবস্থান শীর্ষে।
নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও সৌদি আরব পিছিয়ে নয় বরং সমগ্র পৃথিবীতে যেখানে নারীরা স্বাধীনতার নামে, আধুনিক শিক্ষার নামে নির্যাতিত, ধর্ষিত সেখানে সৌদি আরব নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে বিপ্লব! নিশ্চিত করেছে নারীর নিরাপত্তা, আধুনিক উচ্চ শিক্ষা ও স্বাধীনতা।
সৌদি আরবেই রয়েছে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও পর্দার ব্যবস্থা, উন্নত ও আধুনিক সকল সুবিধা সম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । যার নাম “প্রিন্সেস নূরা বিনতে আব্দুর রহমান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন”। এ ছাড়াও সৌদি আরবের প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েরই রয়েছে মহিলাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন সম্পূর্ণ পৃথক ক্যাম্পাস ।ছাড়াও শিক্ষাঙ্গনের ‘সহশিক্ষা’ নামক সবচেয়ে বড় ব্যাধি হতেও প্রায় সৌদি আরব মুক্ত। 
১৩৯৫হি: মোতাবেক ১৯৭৫ সালে সৌদি আরবে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । যার অধীনে প্রায় ২৫ টি সরকারি উঁচু মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে । এর মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সৌদি সরকার সর্ব স্তরের বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে উঁচু মানের ও আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে বেশ কিছু লক্ষে বৃত্তি প্রদান করে আসছে । লক্ষ্যগুলো হল:
• ইসলামের সুমহান বিশ্ব শান্তির বাণীকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে একদল যোগ্য বাহিনী গড়ে তোলা ।
• আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে নিয়ে আসা ।
• একদল যোগ্য ক্যাডার বাহিনী গঠন করা, যারা প্রশাসনিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করবে.. ইত্যাদি ।

Sunday, 15 October 2017

হাদীস স্বহীহ ও যয়ীফ হওয়ার বাস্তবতাএবং যয়ীফ বর্ণনা থেকে সতর্কতাঃ


সালাফীদের এটি একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য যে, তারা আহলুল হাদীসের নিয়মানুযায়ী হাদীসকে স্বহীহ ও যয়ীফে বিভক্ত মনে করেন এবং নিজ আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে স্বহীহাইন ছাড়া অন্য সূত্রে বর্ণিত হাদীস পৌঁছালে তা যাঁচাই বাছাই এর আওতায় মনে করেন ; কারণ হাদীস স্বহীহ হয় আবার দূর্বলও হয়। তারা অজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে এমন মন্তব্য করেন না যে, আবু হুরাইরা (রাযিঃ) এর হাদীস কি ভাবে দূর্বল হয়? ইবনুমাজাহ ও তিরিমিযীর হাদীস কি ভাবে যয়ীফ হয়? কিংবা এমন অজ্ঞতাপূর্ণ অযৌক্তিক মন্তব্য করেন না যে, আমরাই বড় আহলে হাদীস; কারণ আমরা স্বহীহ হাদীস মানি, হাসান হাদীসও মানি, মুরসাল হাদীসও মানি, মুনক্বাত্বা ও মুআল্লাক হাদীসও মানি। এমন মন্তব্য তাঁরাই করতে পারে, যারা হাদীসের তাস্বহীহ ও তাযয়ীফের জ্ঞান থেকে অজ্ঞ কিংবা মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম, গভীর এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার বিনিময়ে অর্জিত স্বহীহ হাদীসের ভান্ডারকে হীন দৃষ্টিতে দেখে এবং তা যয়ীফ বর্ণনার সাথে মিশ্রিত করে সুকৌশলে যয়ীফ ও দূর্বল হাদীসকে মুসলিম উম্মার মাঝে ছাড়িয়ে দিতে চায়। যারা জ্ঞাত বা অজ্ঞতা স্বরূপ এমন করে তাদের জন্য ইমাম মুসলিমের এই মুকাদ্দামা থেকে জ্ঞান নেওয়া উচিৎ এবং স্বহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার মাঝে পার্থক্য করা আর স্বহীহ বর্ণনাকে আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দূর্বল বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করার নীতি শেখা উচিৎ।
ইমাম মুসলিম স্বীয় সনদে তাবেয়ী ইবনু সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ
“إنّ هذا العلمَ دينٌ، فانظروا عمن تأخذون دينكم”
“এই জ্ঞান (হাদীসের সূত্রের জ্ঞান) হচ্ছে দ্বীন, তাই তোমারা চিন্তা করো কার থেকে দ্বীন গ্রহণ করছো? [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম, ইমাম নবভীর শারহ সহ ১/৪৪]
অর্থাৎ যার তার থেকে হাদীস বর্ণনা করা যাবে না; বরং জেনে বুঝে সৎ বর্ণনাকারী কর্তৃক হাদীস বর্ণনা করা কাম্য। সৎ হলে গ্রহণীয় নচেৎ নয়।
ইমাম মালেক (রাহেঃ) বলেনঃ চার প্রকার লোক থেকে ইলম গ্রহণ অবৈধঃ বোকা যার বোকামি স্পষ্ট, নিজ প্রবৃত্তির দিকে আহব্বায়ক, যে আপসের কথা-বার্তায় মিথ্যা বলে যদিও সে হাদীসের ব্যাপারে মিথ্যুক না হয় এবং এমন সম্মানিত সৎ পরহেযগার ব্যক্তি যে নিজে বুঝে না যা সে বলে।
ইবনু সীরীনের বরাতে ইমাম মুলিম আরও বলেনঃ “ইতিপূর্বে লোকেরা হাদীসের সনদ/সূত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন না কিন্তু যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন তারা বলতেনঃ তোমরা তোমাদের হাদীসের সূত্রের বর্ণনা দাও (কার থেকে শুনেছো) অতঃপর দেখা হত, বর্ণনাকারী যদি সে আহলুস সুন্নার অন্তর্ভুক্ত হত, তাহলে তার হাদীস নেওয়া হত। আর যদি সে বিদআতপন্থী হত, তাহলে তার হাদীস গ্রহণ করা হত না।” [ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম ১/৪৪]
বুঝা গেল, হাদীসের সনদ যাঁচাই-বাছাই এর আওতায় এবং আহলুল বিদআর হাদীস প্রত্যাখ্যাত।

Download AsPDF

Print Friendly and PDFPrint Friendly and PDFPrint Friendly and PDF
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...